বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
পরী
Stories
কুসমি বললে, তুমি বড্ড বানিয়ে কথা বল। একটা সত্যিকার গল্প শোনাও-না।
আমি বললুম, জগতে দুরকম পদার্থ আছে। এক হচ্ছে সত্য, আর হচ্ছে--আরও-সত্য। আমার কারবার আরও-সত্যকে নিয়ে।
আরো দেখুন
জল
Verses
                                  ধরাতলে
                 চঞ্চলতা সব-আগে নেমেছিল জলে।
                       সবার প্রথম ধ্বনি উঠেছিল জেগে
                                        তারি স্রোতোবেগে।
                                  তরঙ্গিত গতিমত্ত সেই জল
                            কলোল্লোলে উদ্‌বেল উচ্ছল
                       শৃঙ্খলিত ছিল স্তব্ধ পুকুরে আমার,
                 নৃত্যহীন ঔদাসীন্যে অর্থহীন শূন্যদৃষ্টি তার।
                       গান নাই, শব্দের তরণী হোথা ডোবা,
                                        প্রাণ হোথা বোবা।
                 জীবনের রঙ্গমঞ্চে ওখানে রয়েছে পর্দা টানা,
                       ওইখানে কালো বরনের মানা।
                            ঘটনার স্রোত নাহি বয়,
                                  নিস্তব্ধ সময়।
                 হোথা হতে তাই মনে দিত সাড়া
                                  সময়ের বন্ধ-ছাড়া
                       ইতিহাস-পলাতক কাহিনীর কত
                            সৃষ্টিছাড়া সৃষ্টি নানামতো।
                                  উপরের তলা থেকে
                                           চেয়ে দেখে
                 না-দেখা গভীরে ওর মায়াপুরী এঁকেছিনু মনে।
                       নাগকন্যা মানিকদর্পণে
                            সেথায় গাঁথিছে বেণী,
                       কুঞ্চিত লহরিকার শ্রেণী
                            ভেসে যায় বেঁকে বেঁকে
                 যখন বিকেলে হাওয়া জাগিয়া উঠিত থেকে থেকে।
                       তীরে যত গাছপালা পশুপাখি
                    তারা আছে অন্যলোকে, এ শুধু একাকী।
                                        তাই সব
                       যত কিছু অসম্ভব
                             কল্পনার মিটাইত সাধ,
                 কোথাও ছিল না তার প্রতিবাদ।
                            তার পরে মনে হল একদিন,
                 সাঁতারিতে পেল যারা পৃথিবীতে তারাই স্বাধীন,
                            বন্দী তারা যারা পায় নাই।
                                  এ আঘাত প্রাণে নিয়ে চলিলাম তাই
                 ভূমির নিষেধগণ্ডি হতে পার।
                       অনাত্মীয় শত্রুতার
                            সংশয় কাটিল ধীরে ধীরে,
                                  জলে আর তীরে
                 আমারে মাঝেতে নিয়ে হল বোঝাপড়া।
                                  আঁকড়িয়া সাঁতারের ঘড়া
                       অপরিচয়ের বাধা উত্তীর্ণ হয়েছি দিনে দিনে,
                            অচেনার প্রান্তসীমা লয়েছিনু চিনে।
                                  পুলকিত সাবধানে
                            নামিতাম স্নানে,
                       গোপন তরল কোন্‌ অদৃশ্যের স্পর্শ সর্ব গায়ে
                                  ধরিত জড়ায়ে।
                            হর্ষ-সাথে মিলি ভয়
                                  দেহময়
                       রহস্য ফেলিত ব্যাপ্ত করি।
                       পূর্বতীরে বৃদ্ধ বট প্রাচীন প্রহরী
                 গ্রন্থিল শিকড়গুলো কোথায় পাঠাত নিরালোকে
                            যেন পাতালের নাগলোকে।
                       এক দিকে দূর আকাশের সাথে
                                  দিনে রাতে
                       চলে তার আলোকছায়ার আলাপন,
                 অন্য দিকে দূর নিঃশব্দের তলে নিমজ্জন
                                  কিসের সন্ধানে
                       অবিচ্ছিন্ন প্রচ্ছন্নের পানে।
                                  সেই পুকুরের
                       ছিনু আমি দোসর দূরের
                                  বাতায়নে বসি নিরালায়,
                 বন্দী মোরা উভয়েই জগতের ভিন্ন কিনারায়;
                       তার পরে দেখিলাম, এ পুকুর এও বাতায়ন--
                 এক দিকে সীমা বাঁধা, অন্য দিকে মুক্ত সারাক্ষণ।
                            করিয়াছি পারাপার
                                  যত শত বার
                       ততই এ তটে-বাঁধা জলে
                                  গভীরের বক্ষতলে
                       লভিয়াছি প্রতি ক্ষণে বাধা-ঠেলা স্বাধীনের জয়,
                                  গেছে চলি ভয়।
আরো দেখুন
সুয়োরানীর সাধ
Stories
সুয়োরানীর বুঝি মরণকাল এল।
তার প্রাণ হাঁপিয়ে উঠছে, তার কিছুই ভালো লাগছে না। বদ্দি বড়ি নিয়ে এল। মধু দিয়ে মেড়ে বললে, 'খাও।' সে ঠেলে ফেলে দিলে।
আরো দেখুন
সিদ্ধি
Stories
স্বর্গের অধিকারে মানুষ বাধা পাবে না, এই তার পণ। তাই, কঠিন সন্ধানে অমর হবার মন্ত্র সে শিখে নিয়েছে। এখন একলা বনের মধ্যে সেই মন্ত্র সে সাধনা করে।
বনের ধারে ছিল এক কাঠকুড়নি মেয়ে। সে মাঝে মাঝে আঁচলে ক'রে তার জন্যে ফল নিয়ে আসে, আর পাতার পাত্রে আনে ঝরনার জল।
আরো দেখুন
পরীর পরিচয়
Stories
রাজপুত্রের বয়স কুড়ি পার হয়ে যায়, দেশবিদেশ থেকে বিবাহের সম্বন্ধ আসে।
ঘটক বললে, 'বাহ্লীকরাজের মেয়ে রূপসী বটে, যেন সাদা গোলাপের পুষ্পবৃষ্টি।'
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন
বদনাম
Stories
ক্রিং ক্রিং ক্রিং সাইকেলের আওয়াজ; সদর দরজার কাছে লাফ দিয়ে নেমে পড়লেন ইন্‌স্‌পেক্টার বিজয়বাবু। গায়ে ছাঁটা কোর্তা, কোমরে কোমরবন্ধ, হাফ-প্যাণ্টপরা, চলনে কেজো লোকের দাপট। দরজার কড়া নাড়া দিতেই গিন্নি এসে খুলে দিলেন।
ইন্‌স্‌পেক্টার ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই ঝংকার দিয়ে উঠলেন--'এমন করে তো আর পারি নে, রাত্তিরের পর রাত্তির খাবার আগলে রাখি! তুমি কত চোর ডাকাত ধরলে, সাধু সজ্জনও বাদ গেল না, আর ঐ একটা লোক অনিল মিত্তিরের পিছন পিছন তাড়া করে বেড়াচ্ছ, সে থেকে থেকে তোমার সামনে এসে নাকের উপর বুড়ো আঙুল নাড়া দিয়ে কোথায় দৌড় মারে তার ঠিকানা নেই। দেশসুদ্ধ লোক তোমার এই দশা দেখে হেসে খুন, এ যেন সার্কাসের খেলা হচ্ছে।'
আরো দেখুন
ঘাটের কথা
Stories
পাষাণে ঘটনা যদি অঙ্কিত হইত তবে কতদিনকার কত কথা আমার সোপানে সোপানে পাঠ করিতে পারিতে। পুরাতন কথা যদি শুনিতে চাও, তবে আমার এই ধাপে বইস; মনোযোগ দিয়া জলকল্লোলে কান পাতিয়া থাকো, বহুদিনকার কত বিস্মৃত কথা শুনিতে পাইবে।
আমার আর-একদিনের কথা মনে পড়িতেছে। সেও ঠিক এইরূপ দিন। আশ্বিন মাস পড়িতে আর দুই-চারি দিন বাকি আছে। ভোরের বেলায় অতি ঈষৎ মধুর নবীন শীতের বাতাস নিদ্রোত্থিতের দেহে নূতন প্রাণ আনিয়া দিতেছে। তরু-পল্লব অমনি একটু একটু শিহরিয়া উঠিতেছে।
আরো দেখুন
শেষ কথা
Stories
জীবনের প্রবহমান ঘোলা রঙের হ-য-ব-র-লর মধ্যে হঠাৎ যেখানে গল্পটা আপন রূপ ধ'রে সদ্য দেখা দেয়, তার অনেক পূর্ব থেকেই নায়কনায়িকারা আপন পরিচয়ের সূত্র গেঁথে আনে। পিছন থেকে সেই প্রাক্‌গাল্পিক ইতিহাসের ধারা অনুসরণ করতেই হয়। তাই কিছু সময় নেব, আমি যে কে সেই কথাটাকে পরিষ্কার করবার জন্যে। কিন্তু নামধান ভাঁড়াতে হবে। নইলে জানাশোনা মহলের জবাবদিহী সামলাতে পারব না। কী নাম নেব তাই ভাবছি, রোম্যাণ্টিক নামকরণের দ্বারা গোড়া থেকেই গল্পটাকে বসন্তরাগে পঞ্চমসুরে বাঁধতে চাই নে। নবীনমাধব নামটা বোধ হয় চলে যেতে পারবে, ওর বাস্তবের শাম্‌লা রঙটা ধুয়ে ফেলে করা যেতে পারত নবারুণ সেনগুপ্ত; কিন্তু তা হলে খাঁটি শোনাত না, গল্পটা নামের বড়াই ক'রে লোকের বিশ্বাস হারাত, লোকে মনে করত ধার-করা জামিয়ার প'রে সাহিত্যসভায় বাবুয়ানা করতে এসেছে।
আমি বাংলাদেশের বিপ্লবীদলের একজন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মহাকর্ষশক্তি আণ্ডামানতীরের খুব কাছাকাছি টান মেরেছিল। নানা বাঁকা পথে সি.আই.ডি.-র ফাঁস এড়িয়ে এড়িয়ে গিয়েছিলুম আফগানিস্থান পর্যন্ত। অবশেষে পৌঁচেছি আমেরিকায় খালাসির কাজ নিয়ে। পূর্ববঙ্গীয় জেদ ছিল মজ্জায়, একদিনও ভুলি নি যে, ভারতবর্ষের হাতপায়ের শিকলে উখো ঘষতে হবে দিনরাত যতদিন বেঁচে থাকি। কিন্তু বিদেশে কিছুদিন থাকতেই একটা কথা নিশ্চিত বুঝেছিলুম, আমরা যে প্রণালীতে বিপ্লবের পালা শুরু করেছিলুম, সে যেন আতশবাজিতে পটকা ছোঁড়ার মতো, তাতে নিজের পোড়াকপাল পুড়িয়েছি অনেকবার, দাগ পড়ে নি ব্রিটিশ রাজতক্তে। আগুনের উপর পতঙ্গের অন্ধ আসক্তি। যখন সদর্পে ঝাঁপ দিয়ে পড়েছিলুম তখন বুঝতে পারি নি, সেটাতে ইতিহাসের যজ্ঞানল জ্বালানো হচ্ছে না, জ্বালাচ্ছি নিজেদের খুব ছোটো ছোটো চিতানল। ইতিমধ্যে য়ুরোপীয় মহাসমরের ভীষণ প্রলয়রূপ তার অতি বিপুল আয়োজন সমেত চোখের সামনে দেখা দিয়েছিল-- এই যুগান্তরসাধিনী সর্বনাশাকে আমাদের খোড়োঘরের চণ্ডীমণ্ডপে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে সে দুরাশা মন থেকে লুপ্ত হয়ে গেল; সমারোহ ক'রে আত্মহত্যা করবার মতোও আয়োজন ঘরে নেই। তখন ঠিক করলুম, ন্যাশনাল দুর্গের গোড়া পাকা করতে হবে। স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলুম, বাঁচতে যদি চাই আদিম যুগের হাত দুখানায় যে কটা নখ আছে তা দিয়ে লড়াই করা চলবে না। এ যুগে যন্ত্রের সঙ্গে যন্ত্রের দিতে হবে পাল্লা; যেমন-তেমন করে মরা সহজ, কিন্তু বিশ্বকর্মার চেলাগিরি করা সহজ নয়। অধীর হয়ে ফল নেই, গোড়া থেকেই কাজ শুরু করতে হবে-- পথ দীর্ঘ, সাধনা কঠিন।
আরো দেখুন
ঘোড়া
Stories
সৃষ্টির কাজ প্রায় শেষ হয়ে যখন ছুটির ঘণ্টা বাজে ব'লে, হেনকালে ব্রহ্মার মাথায় একটা ভাবোদয় হল।
ভাণ্ডারীকে ডেকে বললেন, 'ওহে ভাণ্ডারী, আমার কারখানাঘরে কিছু কিছু পঞ্চভূতের জোগাড় করে আনো, আর-একটা নতুন প্রাণী সৃষ্টি করব।'
আরো দেখুন