শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
বড়ো খবর
Stories
কুসমি বললে, তুমি যে বললে এখনকার কালের বড়ো বড়ো সব খবর তুমি আমাকে শোনাবে, নইলে আমার শিক্ষা হবে কী রকম ক'রে, দাদামশায়।
দাদামশায় বললে, বড়ো খবরের ঝুলি বয়ে বেড়াবে কে বলো, তার মধ্যে যে বিস্তর রাবিশ।
আরো দেখুন
34
Verses
যখন বীণায় মোর আনমনা সুরে
গান বেঁধেছিনু বসি একা
তখনো যে ছিলে তুমি দূরে,
দাও নাই দেখা;
কেমনে জানিব, সেই গান
অপরিচয়ের তীরে তোমারেই করিছে সন্ধান।
দেখিলাম, কাছে তুমি আসিলে যেমনি
তোমারি গতির তালে বাজে মোর এ ছন্দের ধ্বনি;
মনে হল, সুরের সে মিলে
উচ্ছ্বসিল আনন্দের নিশ্বাস নিখিলে।
বর্ষে বর্ষে পুষ্পবনে পুষ্পগুলি ফুটে আর ঝরে
এ মিলের তরে।
কবির সংগীতে বাণী অঞ্জলি পাতিয়া আছে জাগি
অনাগত প্রসাদের লাগি।
চলে লুকাচুরি খেলা বিশ্বে অনিবার
অজানার সাথে অজানার।
আরো দেখুন
বন্দী বীর
Verses
          পঞ্চনদীর তীরে
          বেণী পাকাইয়া শিরে
দেখিতে দেখিতে গুরুর মন্ত্রে
          জাগিয়া উঠেছে শিখড্ড
         নির্মম নির্ভীক।
হাজার কণ্ঠে গুরুজির জয়
          ধ্বনিয়া তুলেছে দিক্‌।
          নূতন জাগিয়া শিখ
নূতন উষার সূর্যের পানে
          চাহিল নির্নিমিখ।
          "অলখ নিরঞ্জন'
মহারব উঠে বন্ধন টুটে
          করে ভয়ভঞ্জন।
বক্ষের পাশে ঘন উল্লাসে
          অসি বাজে ঝন্‌ঝন্‌।
পঞ্জাব আজি গরজি উঠিল,
          "অলখ নিরঞ্জন!'
          এসেছে সে এক দিন
লক্ষ পরানে শঙ্কা না জানে
          না রাখে কাহারো ঋণ।
জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য,
          চিত্ত ভাবনাহীন।
পঞ্চনদীর ঘিরি দশ তীর
          এসেছে সে এক দিন।
          দিল্লিপ্রাসাদকূটে
হোথা বারবার বাদশাজাদার
          তন্দ্রা যেতেছে ছুটে।
কাদের কণ্ঠে গগন মন্থ,
          নিবিড় নিশীথ টুটে--
কাদের মশালে আকাশের ভালে
          আগুন উঠেছে ফুটে!
          পঞ্চনদীর তীরে
ভক্তদেহের রক্তলহরী
          মুক্ত হইল কি রে!
          লক্ষ বক্ষ চিরে
ঝাঁকে ঝাঁকে প্রাণ পক্ষীসমান
          ছুটে যেন নিজনীড়ে।
          বীরগণ জননীরে
রক্ততিলক ললাটে পরালো
          পঞ্চনদীর তীরে।
          মোগল-শিখের রণে
          মরণ-আলিঙ্গনে
কণ্ঠ পাকড়ি ধরিল আঁকড়ি
          দুইজনা দুইজনে।
দংশনক্ষত শ্যেনবিহঙ্গ
          যুঝে ভুজঙ্গ-সনে।
          সেদিন কঠিন রণে
"জয় গুরুজির' হাঁকে শিখ বীর
          সুগভীর নিঃস্বনে।
মত্ত মোগল রক্তপাগল
          "দীন্‌ দীন্‌' গরজনে।
          গুরুদাসপুর গড়ে
বন্দী যখন বন্দী হইল
         তুরানি সেনার করে,
সিংহের মতো শৃঙ্খল গত
          বাঁধি লয়ে গেল ধরে
          দিল্লিনগর-'পরে।
বন্দা সমরে বন্দী হইল
          গুরুদাসপুর গড়ে।
সম্মুখে চলে মোগল-সৈন্য
          উড়ায়ে পথের ধূলি,
ছিন্ন শিখের মুণ্ড লইয়া
          বর্শাফলকে তুলি।
শিখ সাত শত চলে পশ্চাতে,
          বাজে শৃঙ্খলগুলি।
রাজপথ-'পরে লোক নাহি ধরে,
          বাতায়ন যায় খুলি।
শিখ গরজয়, "গুরুজির জয়'
          পরানের ভয় ভুলি।
মোগলে ও শিখে উড়ালো আজিকে
          দিল্লিপথের ধূলি।
পড়ি গেল কাড়াকাড়ি,
আগে কেবা প্রাণ করিবেক দান
তারি লাগি তাড়াতাড়ি।
দিন গেলে প্রাতে ঘাতকের হাতে
          বন্দীরা সারি সারি
"জয় গুরুজির' কহি শত বীর
          শত শির দেয় ডারি।
সপ্তাহকালে সাত শত প্রাণ
          নিঃশেষ হয়ে গেলে
বন্দার কোলে কাজি দিল তুলি
          বন্দার এক ছেলে।
কহিল, "ইহারে বধিতে হইবে
          নিজহাতে অবহেলে।'
          দিল তার কোলে ফেলে
কিশোর কুমার, বাঁধা বাহু তার,
          বন্দার এক ছেলে।
          কিছু না কহিল বাণী,
বন্দা সুধীরে ছোটো ছেলেটিরে
         লইল বক্ষে টানি।
ক্ষণকালতরে মাথার উপরে
         রাখে দক্ষিণ পাণি,
শুধু একবার চুম্বিল তার
         রাঙা উষ্ণীষখানি।
তার পরে ধীরে কটিবাস হতে
         ছুরিকা খসায়ে আনি
         বালকের মুখ চাহি
"গুরুজির জয়' কানে কানে কয়,
         "রে পুত্র, ভয় নাহি।'
নবীন বদনে অভয় কিরণ
          জ্বলি উঠি উৎসাহি
কিশোর কণ্ঠে কাঁপে সভাতল
          বালক উঠিল গাহি
"গুরুজির জয়! কিছু নাহি ভয়'
          বন্দার মুখ চাহি।
বন্দা তখন বামবাহুপাশ
         জড়াইল তার গলে,
দক্ষিণ করে ছেলের বক্ষে
        ছুরি বসাইল বলেড্ড
"গুরুজির জয়' কহিয়া বালক
        লুটালো ধরণীতলে।
        সভা হল নিস্তব্ধ
বন্দার দেহ ছিঁড়িল ঘাতক
        সাঁড়াশি করিয়া দগ্ধ।
স্থির হয়ে বীর মরিল, না করি'
       একটি কাতর শব্দ।
দর্শনজন মুদিল নয়ন,
       সভা হল নিস্তব্ধ।
আরো দেখুন
দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন
রাজপুত্তুর
Stories
রাজপুত্তুর চলেছে নিজের রাজ্য ছেড়ে, সাত রাজার রাজ্য পেরিয়ে, যে দেশে কোনো রাজার রাজ্য নেই সেই দেশে।
সে হল যে কালের কথা সে কালের আরম্ভও নেই, শেষও নেই।
আরো দেখুন
রাত্রি এসে যেথায়
Songs
      রাত্রি এসে যেথায় মেশে দিনের পারাবারে
      তোমায় আমায় দেখা হল সেই মোহানার ধারে ॥
সেইখানেতে সাদায় কালোয়   মিলে গেছে আঁধার আলোয়--
      সেইখানেতে ঢেউ ছুটেছে এ পারে ওই পারে ॥
      নিতলনীল নীরব-মাঝে বাজল গভীর বাণী,
      নিকষেতে উঠল ফুটে সোনার রেখাখানি।
মুখের পানে তাকাতে যাই,  দেখি-দেখি দেখতে না পাই--
      স্বপন-সাথে জড়িয়ে জাগা, কাঁদি আকুল ধারে ॥
আরো দেখুন
চোরাই ধন
Stories
মহাকাব্যের যুগে স্ত্রীকে পেতে হত পৌরুষের জোরে; যে অধিকারী সেই লাভ করত রমণীরত্ন। আমি লাভ করেছি কাপুরুষতা দিয়ে, সে-কথা আমার স্ত্রীর জানতে বিলম্ব ঘটেছিল। কিন্তু, সাধনা করেছি বিবাহের পরে; যাকে ফাঁকি দিয়ে চুরি করে পেয়েছি তার মূল্য দিয়েছি দিনে দিনে।
দাম্পত্যের স্বত্ব সাব্যস্ত করতে হয় প্রতিদিনই নতুন করে, অধিকাংশ পুরুষ ভুলে থাকে এই কথাটা। তারা গোড়াতেই কাস্টম্‌ হৌসে মাল খালাস করে নিয়েছে সমাজের ছাড়চিঠি দেখিয়ে, তার পর থেকে আছে বেপরোয়া। যেন পেয়েছে পাহারাওয়ালার সরকারি প্রতাপ, উপরওয়ালার দেওয়া তকমার জোরে; উর্দিটা খুলে নিলেই অতি অভাজন তারা।
আরো দেখুন