মুনশি
Stories
আচ্ছা দাদামশায়, তোমাদের সেই মুনশিজি এখন কোথায় আছেন।
এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব তার সময়টা বুঝি কাছে এসেছে, তবু হয়তো কিছুদিন সবুর করতে হবে।
আরো দেখুন
আমি কারেও বুঝিনে
Songs
আমি কারেও বুঝি নে শুধু বুঝেছি তোমারে।
তোমাতে পেয়েছি আলো সংশয়-আঁধারে।
ফিরিয়াছি এ ভুবন, পাই নি তো কারো মন,
গিয়েছি তোমারি শুধু মনের মাঝারে।
এ সংসারে কে ফিরাবে, কে লইবে ডাকি,
আজিও বুঝিতে নারি ভয়ে ভয়ে থাকি।
কেবল তোমারে জানি, বুঝেছি তোমার বাণী,
তোমাতে পেয়েছি কূল অকূল পাথারে।
আরো দেখুন
পয়লা নম্বর
Stories
আমি তামাকটা পর্যন্ত খাই নে। আমার এক অভ্রভেদী নেশা আছে, তারই আওতায় অন্য সকল নেশা একেবারে শিকড় পর্যন্ত শুকিয়ে মরে গেছে। সে আমার বই-পড়ার নেশা। আমার জীবনের মন্ত্রটা ছিল এই--
              যাবজ্জীবেৎ নাই-বা জীবেৎ
আরো দেখুন
সম্পাদক
Stories
আমার স্ত্রী-বর্তমানে প্রভা সম্বন্ধে আমার কোনো চিন্তা ছিল না। তখন প্রভা অপেক্ষা প্রভার মাতাকে লইয়া কিছু অধিক ব্যস্ত ছিলাম।
তখন কেবল প্রভার খেলাটুকু হাসিটুকু দেখিয়া, তাহার আধো আধো কথা শুনিয়া এবং আদরটুকু লইয়াই তৃপ্ত থাকিতাম; যতক্ষণ ভালো লাগিত নাড়াচাড়া করিতাম, কান্না আরম্ভ করিলেই তাহার মার কোলে সমর্পণ করিয়া সত্বর অব্যাহতি লইতাম। তাহাকে যে বহু চিন্তা ও চেষ্টায় মানুষ করিয়া তুলিতে হইবে, এ-কথা আমার মনে আসে নাই।
আরো দেখুন
নামঞ্জুর গল্প
Stories
আমাদের আসর জমেছিল পোলিটিক্যাল লঙ্কাকাণ্ডের পালায়। হাল আমলের উত্তরকাণ্ডে আমরা সম্পূর্ণ ছুটি পাই নি বটে, কিন্তু গলা ভেঙেছে; তা ছাড়া সেই অগ্নিদাহের খেলা বন্ধ।
বঙ্গভঙ্গের রঙ্গভূমিতে বিদ্রোহীর অভিনয় শুরু হল। সবাই জানেন, এই নাট্যের পঞ্চম অঙ্কের দৃশ্য আলিপুর পেরিয়ে পৌঁছল আণ্ডামানের সমুদ্রকূলে। পারানির পাথেয় আমার যথেষ্ট ছিল, তবু গ্রহের গুণে এপারের হাজতেই আমার ভোগসমাপ্তি। সহযোগীদের মধ্যে ফাঁসিকাঠ পর্যন্ত যাদের সর্বোচ্চ প্রোমোশন হয়েছিল, তাদের প্রণাম করে আমি পশ্চিমের এক শহরের কোণে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় পসার জমিয়ে তুললেম।
আরো দেখুন
সিদ্ধি
Stories
স্বর্গের অধিকারে মানুষ বাধা পাবে না, এই তার পণ। তাই, কঠিন সন্ধানে অমর হবার মন্ত্র সে শিখে নিয়েছে। এখন একলা বনের মধ্যে সেই মন্ত্র সে সাধনা করে।
বনের ধারে ছিল এক কাঠকুড়নি মেয়ে। সে মাঝে মাঝে আঁচলে ক'রে তার জন্যে ফল নিয়ে আসে, আর পাতার পাত্রে আনে ঝরনার জল।
আরো দেখুন
কর্তার ভূত
Stories
বুড়ো কর্তার মরণকালে দেশসুদ্ধ সবাই বলে উঠল, 'তুমি গেলে আমাদের কী দশা হবে।'
শুনে তারও মনে দুঃখ হল। ভাবলে, 'আমি গেলে এদের ঠাণ্ডা রাখবে কে।'
আরো দেখুন
পুত্রযজ্ঞ
Stories
বৈদ্যনাথ গ্রামের মধ্যে বিজ্ঞ ছিলেন সেইজন্য তিনি ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া বর্তমানের সমস্ত কাজ করিতেন। যখন বিবাহ করিলেন তখন তিনি বর্তমান নববধূর অপেক্ষা ভাবী নবকুমারের মুখ স্পষ্টতররূপে দেখিতে পাইয়াছিলেন। শুভদৃষ্টির সময় এতটা দূরদৃষ্টি প্রায় দেখা যায় না। তিনি পাকা লোক ছিলেন সেইজন্য প্রেমের চেয়ে পিণ্ডটাকেই অধিক বুঝিতেন এবং পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা এই মর্মেই তিনি বিনোদিনীকে বিবাহ করিয়াছিলেন।
কিন্তু এ সংসারে বিজ্ঞ লোকও ঠকে। যৌবনপ্রাপ্ত হইয়াও যখন বিনোদিনী তাহার সর্বপ্রধান কর্তব্যটি পালন করিল না তখন পুন্নাম নরকের দ্বারা খোলা দেখিয়া বৈদ্যনাথ বড়ো চিন্তিত হইলেন। মৃত্যুর পরে তাঁহার বিপুল ঐশ্বর্যই বা কে ভোগ করিবে এই ভাবনায় মৃত্যুর পূর্বে তিনি সেই ঐশ্বর্য ভোগ করিতে বিমুখ হইলেন। পূর্বেই বলিয়াছি, বর্তমানের অপেক্ষা ভবিষ্যৎটাকেই তিনি সত্য বলিয়া জানিতেন।
আরো দেখুন
বাউল
Verses
                   দূরে অশথতলায়
পুঁতির           কণ্ঠিখানি গলায়
          বাউল            দাঁড়িয়ে কেন আছ?
                   সামনে আঙিনাতে
তোমার          একতারাটি হাতে
          তুমি              সুর লাগিয়ে নাচ!
                   পথে করতে খেলা
আমার           কখন হল বেলা
          আমায়           শাস্তি দিল তাই।
                   ইচ্ছে হোথায় নাবি
কিন্তু              ঘরে বন্ধ চাবি
          আমার           বেরোতে পথ নাই।      
                   বাড়ি ফেরার তরে
তোমায়          কেউ না তাড়া করে
          তোমার          নাই কোনো পাঠশালা।
                   সমস্ত দিন কাটে
তোমার          পথে ঘাটে মাঠে
          তোমার          ঘরেতে নেই তালা।
                   তাই তো তোমার নাচে
আমার           প্রাণ যেন ভাই বাঁচে,
          আমার           মন যেন পায় ছুটি,
                   ওগো তোমার নাচে
যেন              ঢেউয়ের দোলা আছে,
          ঝড়ে              গাছের লুটোপুটি।
                   অনেক দূরের দেশ
আমার           চোখে লাগায় রেশ,
          যখন              তোমায় দেখি পথে।
                   দেখতে পায় যে মন
যেন              নাম-না-জানা বন
          কোন্‌             পথহারা পর্বতে।
                   হঠাৎ মনে লাগে,
যেন              অনেক দিনের আগে,
          আমি             অমনি ছিলেম ছাড়া।
                   সেদিন গেল ছেড়ে,
আমার                     পথ নিল কে কেড়ে,
          আমার            হারাল একতারা।
                   কে নিল গো টেনে,
আমায়           পাঠশালাতে এনে,
          আমার           এল গুরুমশায়।
                   মন সদা যার চলে
যত               ঘরছাড়াদের দলে
          তারে        ঘরে কেন বসায়?
                   কও তো আমায়, ভাই,
তোমার          গুরুমশায় নাই?
          আমি             যখন দেখি ভেবে
                   বুঝতে পারি খাঁটি,
তোমার          বুকের একতারাটি,
          তোমায়          ঐ তো পড়া দেবে।
                   তোমার কানে কানে
ওরি              গুনগুনানি গানে
          তোমায়          কোন্‌ কথা যে কয়!
                   সব কি তুমি বোঝ?
তারি             মানে যেন খোঁজ
          কেবল            ফিরে' ভুবনময়।
                   ওরি কাছে বুঝি
আছে             তোমার নাচের পুঁজি,
          তোমার          খেপা পায়ের ছুটি?
                   ওরি সুরের বোলে
তোমার          গলার মালা দোলে,
          তোমার          দোলে মাথার ঝুঁটি।
                   মন যে আমার পালায়
তোমার          একতারা-পাঠশালায়,
          আমায়           ভুলিয়ে দিতে পার?
                   নেবে আমায় সাথে?
এ-সব            পণ্ডিতেরি হাতে
          আমায়           কেন সবাই মার?
                   ভুলিয়ে দিয়ে পড়া
আমায়           শেখাও সুরে-গড়া
          তোমার          তালা-ভাঙার পাঠ।
                   আর কিছু না চাই,
যেন              আকাশখানা পাই,
          আর              পালিয়ে যাবার মাঠ।
                   দূরে কেন আছ?
দ্বারের            আগল ধরে নাচ,
          বাউল            আমারি এইখানে।
                   সমস্ত দিন ধরে
যেন              মাতন ওঠে ভরে
          তোমার          ভাঙন-লাগা গানে।
আরো দেখুন