কৃতঘ্ন শোক
Stories
ভোরবেলায় সে বিদায় নিলে।
আমার মন আমাকে বোঝাতে বসল, 'সবই মায়া।'
আরো দেখুন
রাসমণির ছেলে
Stories
কালীপদর মা ছিলেন রাসমণি-- কিন্তু তাঁহাকে দায়ে পড়িয়া বাপের পদ গ্রহণ করিতে হইয়াছিল। কারণ, বাপ মা উভয়েই মা হইয়া উঠিলে ছেলের পক্ষে সুবিধা হয় না। তাঁহার স্বামী ভবানীচরণ ছেলেকে একেবারেই শাসন করিতে পারেন না।
তিনি কেন এত বেশি আদর দেন তাহা জিজ্ঞাসা করিলে তিনি যে উত্তর দিয়া থাকেন তাহা বুঝিতে হইলে পূর্ব ইতিহাস জানা চাই।
আরো দেখুন
প্রতিহিংসা
Stories
মুকুন্দবাবুদের ভূতপূর্ব দেওয়ানের পৌত্রী, বর্তমান ম্যানেজারের স্ত্রী ইন্দ্রাণী অশুভক্ষণে বাবুদের বাড়িতে তাঁহাদের দৌহিত্রের বিবাহে বউভাতের নিমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন।
তৎপূর্বকার ইতিহাস সংক্ষেপে বলিয়া রাখিলে কথাটা পরিষ্কার হইবে।
আরো দেখুন
শেষের রাত্রি
Stories
'মাসি !'
'ঘুমোও,যতীন,রাত হল যে ।'
আরো দেখুন
75
Verses
WE READ the world wrong and say that it deceives us.
আরো দেখুন
বাণী-বিনিময়
Verses
মা, যদি তুই আকাশ হতিস,
          আমি চাঁপার গাছ,
তোর সাথে মোর বিনি-কথায়
          হত কথার নাচ।
তোর হাওয়া মোর ডালে ডালে
          কেবল থেকে থেকে
কত রকম নাচন দিয়ে
          আমায় যেত ডেকে।
মা ব'লে তার সাড়া দেব
          কথা কোথায় পাই,
পাতায় পাতায় সাড়া আমার
          নেচে উঠত তাই।
তোর আলো মোর শিশির-ফোঁটায়
          আমার কানে কানে
টলমলিয়ে কী বলত যে
          ঝলমলানির গানে।
আমি তখন ফুটিয়ে দিতেম
          আমার যত কুঁড়ি,
কথা কইতে গিয়ে তারা
          নাচন দিত জুড়ি।
উড়ো মেঘের ছায়াটি তোর
          কোথায় থেকে এসে
আমার ছায়ায় ঘনিয়ে উঠে'
          কোথায় যেত ভেসে।
সেই হত তোর বাদল-বেলার
          রূপকথাটির মতো;
রাজপুত্তুর ঘর ছেড়ে যায়
          পেরিয়ে রাজ্য কত;
সেই আমারে বলে যেত
          কোথায় আলেখ-লতা,
সাগরপারের দৈত্যপুরের
          রাজকন্যার কথা;
দেখতে পেতেম দুয়োরানীর
          চক্ষু ভর-ভর,
শিউরে উঠে পাতা আমার
          কাঁপত থরথর।
হঠাৎ কখন বৃষ্টি তোমার
          হাওয়ার পাছে পাছে
নামত আমার পাতায় পাতায়
          টাপুর-টুপুর নাচে;
সেই হত তোর কাঁদন-সুরে
          রামায়ণের পড়া,
সেই হত তোর গুনগুনিয়ে
          শ্রাবণ-দিনের ছড়া।
মা, তুই হতিস নীলবরনী,
          আমি সবুজ কাঁচা;
তোর হত, মা, আলোর হাসি,
          আমার পাতার নাচা।
তোর হত, মা, উপর থেকে
          নয়ন মেলে চাওয়া,
আমার হত আঁকুবাঁকু
          হাত তুলে গান গাওয়া।
তোর হত, মা চিরকালের
          তারার মণিমালা,
আমার হত দিনে দিনে
          ফুল-ফোটাবার পালা।
আরো দেখুন
শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
দর্পহরণ
Stories
কী করিয়া গল্প লিখিতে হয়, তাহা সম্প্রতি শিখিয়াছি। বঙ্কিমবাবু এবং সার্‌ ওয়াল্‌টার স্কট পড়িয়া আমার বিশেষ ফল হয় নাই। ফল কোথা হইতে কেমন করিয়া হইল, আমার এই প্রথম গল্পেই সেই কথাটা লিখিতে বসিলাম।
আমার পিতার মতামত অনেকরকম ছিল; কিন্তু বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কোনো মত তিনি কেতাব বা স্বাধীনবুদ্ধি হইতে গড়িয়া তোলেন নাই। আমার বিবাহ যখন হয় তখন সতেরো উত্তীর্ণ হইয়া আঠারোয় পা দিয়াছি; তখন আমি কলেজে থার্ডইয়ারে পড়ি-- এবং তখন আমার চিত্তক্ষেত্রে যৌবনের প্রথম দক্ষিণবাতাস বহিতে আরম্ভ করিয়া কত অলক্ষ্য দিক হইতে কত অনির্বচনীয় গীতে এবং গন্ধে, কম্পনে এবং মর্মরে আমার তরুণ জীবনকে উৎসুক করিয়া তুলিতেছিল, তাহা এখনো মনে হইলে বুকের ভিতরে দীর্ঘনিশ্বাস ভরিয়া উঠে।
আরো দেখুন
হেরিয়া শ্যামল ঘন
Songs
          হেরিয়া শ্যামল ঘন নীল গগনে
সেই     সজল কাজল আঁখি পড়িল মনে॥
          অধর করুণা-মাখা,   মিনতিবেদনা-আঁকা
          নীরবে চাহিয়া থাকা বিদায়খনে॥
          ঝরঝর ঝরে জল, বিজুলি হানে,
          পবন মাতিছে বনে পাগল গানে।
          আমার পরানপুটে   কোন্‌খানে ব্যথা ফুটে,
          কার কথা জেগে উঠে হৃদয়কোণে॥
আরো দেখুন
একটি দিন
Stories
মনে পড়ছে সেই দুপুরবেলাটি। ক্ষণে ক্ষণে বৃষ্টিধারা ক্লান্ত হয়ে আসে, আবার দমকা হাওয়া তাকে মাতিয়ে তোলে।
ঘরে অন্ধকার, কাজে মন যায় না। যন্ত্রটা হাতে নিয়ে বর্ষার গানে মল্লারের সুর লাগালেম।
আরো দেখুন
মুক্তি
Stories
বিরহিণী তার ফুলবাগানের এক ধারে বেদী সাজিয়ে তার উপর মূর্তি গড়তে বসল। তার মনের মধ্যে যে মানুষটি ছিল বাইরে তারই প্রতিরূপ প্রতিদিন একটু একটু করে গড়ে, আর চেয়ে চেয়ে দেখে, আর ভাবে, আর চোখ দিয়ে জল পড়ে।
কিন্তু, যে রূপটি একদিন তার চিত্তপটে স্পষ্ট ছিল তার উপরে ক্রমে যেন ছায়া পড়ে আসছে। রাতের বেলাকার পদ্মের মতো স্মৃতির পাপড়িগুলি অল্প অল্প করে যেন মুদে এল।
আরো দেখুন