প্রশ্নের অতীত
Verses
হে সমুদ্র, চিরকাল কী তোমার ভাষা
সমুদ্র কহিল, মোর অনন্ত জিজ্ঞাসা।
কিসের স্তব্ধতা তব ওগো গিরিবর?
হিমাদ্রি কহিল, মোর চির-নিরুত্তর।
আরো দেখুন
তুমি
Verses
সূর্য যখন উড়ালো কেতন
              অন্ধকারের প্রান্তে,
তুমি আমি তার রথের চাকার
             ধ্বনি পেয়েছিনু জানতে।
সেই ধ্বনি ধায় বকুলশাখায়
প্রভাতবায়ুর ব্যাকুল পাখায়,
সুপ্ত কুলায়ে জাগায়ে সে যায়
                 আকাশপথের পান্থে।
                 অরুণরথের সে-ধ্বনি পথের
                     মন্ত্র শুনায়ে দিলে
তাই পায়ে-পায় দোঁহার চলায়
             ছন্দ গিয়েছে মিলে।
তিমিরভেদন আলোর বেদন
             লাগিল বনের বক্ষে,
নবজাগরণ পরশরতন
              আকাশে এল অলক্ষ্যে।
কিশলয়দল হল চঞ্চল,
শিশিরে শিহরি করে ঝলমল,
সুরলক্ষ্মীর স্বর্ণকমল
             দুলে বিশ্বের চক্ষে।
রক্তরঙের উঠে কোলাহল
               পলাশকুঞ্জময়,
তুমি আমি দোঁহে কণ্ঠ মিলায়ে
             গাহিনু আলোর জয়।
সংগীতে ভরি এ প্রাণের তরী
             অসীমে ভাসিল রঙ্গে,
চিনি নাহি চিনি চিরসঙ্গিনী
             চলিলে আমার সঙ্গে।
চক্ষে তোমার উদিত রবির
বন্দনবাণী নীরব গভীর,
                     অস্তাচলের করুণ কবির
             ছন্দ বসনভঙ্গে।
উষারুণ হতে রাঙা গোধূলির
             দূরদিগন্তপানে
বিভাসের গান হল অবসান
             বিধুর পূরবীতানে।
আমার নয়নে তব অঞ্জনে
              ফুটেছে বিশ্বচিত্র,
তোমার মন্ত্রে এ বীণাতন্ত্রে
              উদগাথা সুপবিত্র।
অতল তোমার চিত্তগহন,
মোর দিনগুলি সফেন নাচন,
তুমি সনাতনী আমিই নূতন,
                অনিত্য আমি নিত্য।
মোর ফাল্গুন হারায় যখন
                আশ্বিনে ফিরে লহ।
তব অপরূপে মোর নবরূপ
                দুলাইছ অহরহ।
আসিছে রাত্রি স্বপনযাত্রী,
             বনবাণী হল শান্ত।
জলভরা ঘটে চলে নদীতটে
               বধূর চরণ ক্লান্ত।
নিখিলে ঘনালো দিবসের শোক,
বাহির-আকাশে ঘুচিল আলোক,
উজ্জ্বল করি অন্তরলোক
               হৃদয়ে এলে একান্ত।
লুকানো আলোয় তব কালো চোখ
               সন্ধ্যাতারার দেশে
ইঙ্গিত তার গোপনে পাঠালো
             জানি না কী উদ্দেশে।
দেখেছি তোমার আঁখি সুকুমার
               নবজাগরিত বিশ্বে।
দেখিনু হিরণ হাসির কিরণ
               প্রভাতোজ্জ্বল দৃশ্যে।
হয়ে আসে যবে যাত্রাবসান
বিমল আঁধারে ধুয়ে দিলে প্রাণ,
দেখিনু মেলেছ তোমার নয়ান
               অসীম দূর ভবিষ্যে।
        অজানা তারায় বাজে তব গান
              হারায় গগনতলে।
বক্ষ আমার কাঁপে দুরু দুরু,
               চক্ষু ভাসিল জলে।
        প্রেমের দিয়ালি দিয়েছিল জ্বালি
             তোমারি দীপের দীপ্তি
মোর সংগীতে তুমিই সঁপিতে
             তোমার নীরব তৃপ্তি।
               আমারে লুকায়ে তুমি দিতে আনি
আমার ভাষায় সুগভীর বাণী,
চিত্রলিখায় জানি আমি জানি
              তব আলিপনলিপ্তি।
        হৃৎশতদলে তুমি বীণাপাণি
              সুরের আসন পাতি
দিনের প্রহর করেছ মুখর,
              এখন এল যে রাতি।
চেনা মুখখানি আর নাহি জানি,
              আঁধারে হতেছে গুপ্ত।
তব বাণীরূপ কেন আজি চুপ,
              কোথায় সে হায় সুপ্ত।
        অবগুণ্ঠিত তব চারি ধার,
মহামৌনের নাহি পাই পার,
হাসিকান্নার ছন্দ তোমার
গহনে হল যে লুপ্ত।
           শুধু ঝিল্লির ঘন ঝংকার
             নীরবের বুকে বাজে।
  কাছে আছ তবু গিয়েছ হারায়ে
             দিশাহারা নিশামাঝে।
  এ জীবনময় তব পরিচয়
             এখানে কি হবে শূন্য।
  তুমি যে বীণার বেঁধেছিলে তার
             এখনি কি হবে ক্ষুণ্ন।
  যে পথে আমার ছিলে তুমি সাথী
         সে পথে তোমার নিবায়ো না বাতি,
  আরতির দীপে আমার এ রাতি
            এখনো করিয়ো পুণ্য।
  আজো জ্বলে তব নয়নের ভাতি
            আমার নয়নময়,
  মরণসভায় তোমায় আমায়
            গাব আলোকের জয়।
আরো দেখুন
পাঁচদিন ভাত নেই, দুধ একরত্তি
Verses
  পাঁচদিন ভাত নেই, দুধ একরত্তি--
  জ্বর গেল, যায় না যে তবু তার পথ্যি।
সেই চলে জলসাবু,     সেই ডাক্তারবাবু,
  কাঁচা কুলে আমড়ায় তেমনি আপত্তি।
  ইস্কুলে যাওয়া নেই সেইটে যা মঙ্গল--
  পথ খুঁজে ঘুরিনেকো গণিতের জঙ্গল।
কিন্তু যে বুক ফাটে      দূর থেকে দেখি মাঠে
  ফুটবল-ম্যাচে জমে ছেলেদের দঙ্গল।
   কিনুরাম পণ্ডিত, মনে পড়ে, টাক তার--
   সমান ভীষণ জানি চুনিলাল ডাক্তার।
খুলে ওষুধের ছিপি     হেসে আসে টিপিটিপি--
   দাঁতের পাটিতে দেখি, দুটো দাঁত ফাঁক তার।
   জ্বরে বাঁধে ডাক্তারে, পালাবার পথ নেই;
   প্রাণ করে হাঁসফাঁস যত থাকি যত্নেই।
জ্বর গেলে মাস্টারে     গিঁঠ দেয় ফাঁসটারে--
   আমারে ফেলেছে সেরে এই দুটি রত্নেই।
আরো দেখুন
167
Verses
PERHAPS THE crescent moon smiles in doubt
at being told that it is a fragment
awaiting perfection.
আরো দেখুন
মিলন
Verses
সৃষ্টির প্রাঙ্গণে দেখি বসন্তে অরণ্যে ফুলে ফুলে
              দুটিরে মিলানো নিয়ে খেলা।
রেণুলিপি বহি বায়ু প্রশ্ন করে মুকুলে মুকুলে
              কবে হবে ফুটিবার বেলা।
তাই নিয়ে বর্ণচ্ছটা, চঞ্চলতা শাখায় শাখায়,
সুন্দরের ছন্দ বহে প্রজাপতি পাখায় পাখায়,
পাখির সংগীত সাথে বন হতে বনান্তরে ধায়
              উচ্ছ্বসিত উৎসবের মেলা।
সৃষ্টির সে রঙ্গ আজি দেখি মানবের লোকালয়ে
              দুজনায় গ্রন্থির বাঁধন।
অপূর্ব জীবন তাহে জাগিবে বিচিত্র রূপ লয়ে
              বিধাতার আপন সাধন।
ছেড়েছে সকল কাজ, রঙিন বসনে ওরা সেজে
চলেছে প্রান্তর বেয়ে, পথে পথে বাঁশি চলে বেজে,
পুরানো সংসার হতে জীর্ণতার সব চিহ্ন মেজে
              রচিল নবীন আচ্ছাদন।
যাহা সবচেয়ে সত্য সবচেয়ে খেলা যেন তাই,
              যেন সে ফাল্গুনকলোল্লাস।
যেন তাহা নিঃসংশয়, মর্তের ম্লানতা যেন নাই,
              দেবতার যেন সে উচ্ছ্বাস।
সহজে মিশিছে তাই আত্মভোলা মানুষের সনে
আকাশের আলো আজি গোধূলির রক্তিম লগনে,
বিশ্বের রহস্যলীলা মানুষের উৎসবপ্রাঙ্গণে
              লভিয়াছে আপন প্রকাশ।
বাজা তোরা বাজা বাঁশি, মৃদঙ্গ উঠুক তালে মেতে
              দুরন্ত নাচের নেশা পাওয়া।
নদীপ্রান্তে তরুগুলি ওই দেখ্‌ আছে কান পেতে,
              ওই সূর্য চাহে শেষ চাওয়া।
নিবি তোরা তীর্থবারি সে অনাদি উৎসের প্রবাহে
অনন্তকালের বক্ষ নিমগ্ন করিতে যাহা চাহে
বর্ণে গন্ধে রূপে রসে, তরঙ্গিত সংগীত উৎসাহে
              জাগায় প্রাণের মত্ত হাওয়া।
সহস্র দিনের মাঝে আজিকার এই দিনখানি
              হয়েছে স্বতন্ত্র চিরন্তন।
তুচ্ছতার বেড়া হতে মুক্তি তারে কে দিয়েছে আনি
              প্রত্যহের ছিঁড়েছে বন্ধন।
প্রাণদেবতার হাতে জয়টিকা পরেছে সে ভালে,
সূর্যতারকার সাথে স্থান সে পেয়েছে সমকালে,
সৃষ্টির প্রথম বাণী যে প্রত্যাশা আকাশে জাগালে
              তাই এল করিয়া বহন।
আরো দেখুন
সদর ও অন্দর
Stories
বিপিনকিশোর ধনীগৃহে জন্মিয়াছিলেন, সেইজন্যে ধন যে পরিমাণে ব্যয় করিতে জানিতেন তাহার অর্ধেক পরিমাণেও উপার্জন করিতে শেখেন নাই। সুতরাং যে গৃহে জন্ম সে গৃহে দীর্ঘকাল বাস করা ঘটিল না।
সুন্দর সুকুমারমূর্তি তরুণ যুবক, গানবাজনায় সিদ্ধহস্ত, কাজকর্মে নিরতিশয় অপটু; সংসারের পক্ষে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। জীবনযাত্রার পক্ষে জগন্নাথদেবের রথের মতো অচল; যেরূপ বিপুল আয়োজনে চলিতে পারেন সেরূপ আয়োজন সম্প্রতি বিপিনকিশোরের আয়ত্তাতীত।
আরো দেখুন
The Parrot`s Training
Stories
ONCE UPON A time there was a bird. It was ignorant. It sang all right, but never recited scriptures. It hopped pretty frequently, but lacked manners.
Said the Raja to himself: ‘Ignorance is costly in the long run. For fools consume as much food as their betters, and yet give nothing in return.’
আরো দেখুন
প্রায়শ্চিত্ত
Stories
স্বর্গ ও মর্তের মাঝখানে একটা অনির্দেশ্য অরাজক স্থান আছে যেখানে ত্রিশঙ্কু রাজা ভাসিয়া বেড়াইতেছেন, যেখানে আকাশকুসুমের অজস্র আবাদ হইয়া থাকে। সেই বায়ুদুর্গবেষ্টিত মহাদেশের নাম 'হইলে-হইতে-পারিত'। যাঁহারা মহৎ কার্য করিয়া অমরতা লাভ করিয়াছেন তাঁহারা ধন্য হইয়াছেন, যাঁহারা সামান্য ক্ষমতা লইয়া সাধারণ মানবের মধ্যে সাধারণভাবে সংসারের প্রাত্যহিক কর্তব্যসাধনে সহায়তা করিতেছেন তাঁহারাও ধন্য; কিন্তু যাঁহারা অদৃষ্টের ভ্রমক্রমে হঠাৎ দুয়ের মাঝখানে পড়িয়াছেন তাঁহাদের আর কোনো উপায় নাই। তাঁহারা একটা কিছু হইলে হইতে পারিতেন কিন্তু সেই কারণেই তাঁহাদের পক্ষে কিছু-একটা হওয়া সর্বাপেক্ষা অসম্ভব।
আমাদের অনাথবন্ধু সেই মধ্যদেশবিলম্বিত বিধিবিড়ম্বিত যুবক। সকলেরই বিশ্বাস, তিনি ইচ্ছা করিলে সকল বিষয়েই কৃতকার্য হইতে পারিতেন। কিন্তু কোনো কালে তিনি ইচ্ছাও করিলেন না এবং কোনো বিষয়ে তিনি কৃতকার্যও হইলেন না, এবং সকলের বিশ্বাস তাঁহার প্রতি অটল রহিয়া গেল। সকলে বলিল, তিনি পরীক্ষায় ফার্‌স্ট্‌ হইবেন; তিনি আর পরীক্ষা দিলেন না। সকলের বিশ্বাস চাকরিতে প্রবিষ্ট হইলে যে কোনো ডিপার্টমেন্টের উচ্চতম স্থান তিনি অনায়াসে গ্রহণ করিতে পারিবেন; তিনি কোনো চাকরিই গ্রহণ করিলেন না। সাধারণ লোকের প্রতি তাঁহার বিশেষ অবজ্ঞা, কারণ তাহারা অত্যন্ত সামান্য; অসাধারণ লোকের প্রতি তাঁহার কিছুমাত্র শ্রদ্ধা ছিল না, কারণ মনে করিলেই তিনি তাহাদের অপেক্ষা অসাধারণতর হইতে পারিতেন।
আরো দেখুন
ধ্বংস
Stories
দিদি, তোমাকে একটা হালের খবর বলি।--
প্যারিস শহরের অল্প একটু দূরে ছিল তাঁর ছোটো বাসাটি। বাড়ির কর্তার নাম পিয়ের শোপ্যাঁ। তাঁর সারা জীবনের শখ ছিল গাছপালার জোড় মিলিয়ে, রেণু মিলিয়ে, তাদের চেহারা, তাদের রঙ, তাদের স্বাদ বদল ক'রে নতুন রকমের সৃষ্টি তৈরি করতে। তাতে কম সময় লাগত না। এক-একটি ফুলের ফলের স্বভাব বদলাতে বছরের পর বছর কেটে যেত। এ কাজে যেমন ছিল তাঁর আনন্দ তেমনি ছিল তাঁর ধৈর্য। বাগান নিয়ে তিনি যেন জাদু করতেন। লাল হত নীল, সাদা হত আলতার রঙ, আঁটি যেত উড়ে, খোসা যেত খ'সে। যেটা ফলতে লাগে ছ মাস তার মেয়াদ কমে হত দু মাস। ছিলেন গরিব, ব্যবসাতে সুবিধা করতে পারতেন না। যে করত তাঁর হাতের কাজের তারিফ তাকে দামি মাল অমনি দিতেন বিলিয়ে। যার মতলব ছিল দাম ফাঁকি দিতে সে এসে বলত, কী ফুল ফুটেছে আপনার সেই গাছটাতে, চার দিক থেকে লোক আসছে দেখতে, একেবারে তাক লেগে যাচ্ছে।
আরো দেখুন