প্রাণমন
Stories
আমার জানলার সামনে রাঙা মাটির রাস্তা।
ওখান দিয়ে বোঝাই নিয়ে গোরুর গাড়ি চলে; সাঁওতাল মেয়ে খড়ের আঁটি মাথায় করে হাটে যায়, সন্ধ্যাবেলায় কলহাস্যে ঘরে ফেরে।
আরো দেখুন
যে-মাসেতে আপিসেতে
Verses
যে-মাসেতে আপিসেতে
     হল তার নাম ছাঁটা
স্ত্রীর শাড়ি নিজে পরে,
     স্ত্রী পরিল গামছাটা।
বলে, 'আমি বৈরাগী,
     ছেড়ে দেব শিগ্‌গির,
ঘরে মোর যত আছে
     বিলাস-সামিগ্‌গির।'
ছিল তার টিনে-গড়া
     চা-খাওয়ার চাম্‌চাটা,
কেউ তা কেনে না সেটা
     যত করে দাম-ছাঁটা।
আরো দেখুন
স্মৃতির ভূমিকা
Verses
আজি এই মেঘমুক্ত সকালের স্নিগ্ধ নিরালায়
     অচেনা গাছের যত ছিন্ন ছিন্ন ছায়ার ডালায়
                   রৌদ্রপুঞ্জ আছে ভরি।
               সারাবেলা ধরি
          কোন্‌ পাখি আপনারি সুরে কুতূহলী
আলস্যের পেয়ালায় ঢেলে দেয় অস্ফুট কাকলি।
                   হঠাৎ কী হল মতি,
               সোনালি রঙের প্রজাপতি
                        আমার রূপালি চুলে
                   বসিয়া রয়েছে পথ ভুলে।
          সাবধানে থাকি, লাগে ভয়,
                   পাছে ওর জাগাই সংশয়--
ধরা প'ড়ে যায় পাছে, আমি নই গাছের দলের,
          আমার বাণী সে নহে ফুলের ফলের।
     চেয়ে দেখি, ঘন হয়ে কোথা নেমে গেছে ঝোপঝাড়;
                    সম্মুখে পাহাড়
          আপনার অচলতা ভুলে থাকে বেলা-অবেলায়,
হামাগুড়ি দিয়ে চলে দলে দলে মেঘের খেলায়।
               হোথা শুষ্ক জলধারা
          শব্দহীন রচিছে ইশারা
     পরিশ্রান্ত নিদ্রিত বর্ষার। নুড়িগুলি
বনের ছায়ার মধ্যে অস্থিসার প্রেতের অঙ্গুলি
     নির্দেশ করিছে তারে যাহা নিরর্থক,
          নির্ঝরিণী-সর্পিণীর দেহচ্যুত ত্বক্‌।
                   এখনি এ আমার দেখাতে
     মিলায়েছে শৈলশ্রেণী তরঙ্গিত নীলিম রেখাতে
আপন অদৃশ্য লিপি। বাড়ির সিঁড়ির 'পরে
                   স্তরে স্তরে
     বিদেশী ফুলের টব, সেথা জেরেনিয়মের গন্ধ
                  শ্বসিয়া নিয়েছে মোর ছন্দ।
          এ চারিদিকের এই-সব নিয়ে সাথে
     বর্ণে গন্ধে বিচিত্রিত একটি দিনের ভূমিকাতে
এটুকু রচনা মোর বাণীর যাত্রায় হোক পার
     যে ক'দিন তার ভাগ্যে সময়ের আছে অধিকার।
আরো দেখুন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
Stories
রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল, বড়ো বড়ো চোখ, শ্যামচিক্কণ ছিপ্‌ছিপে বালক। জাতিতে কায়স্থ। তাহার প্রভুরাও কায়স্থ। বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল।
সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে, স্কুল ছাড়িয়া কলেজে, অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্‌সেফিতে প্রবেশ করিয়াছে। রাইচরণ এখনো তাঁহার ভৃত্য।
আরো দেখুন
কাবুলিওয়ালা
Stories
আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেকসময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা পারি না। মিনি চুপ করিয়া থাকিলে এমনি অস্বাভাবিক দেখিতে হয় যে, সে আমার বেশিক্ষণ সহ্য হয় না। এইজন্য আমার সঙ্গে তাহার কথোপকথনটা কিছু উৎসাহের সহিত চলে।
সকালবেলায় আমার নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে হাত দিয়াছি এমনসময় মিনি আসিয়াই আরম্ভ করিয়া দিল, 'বাবা, রামদয়াল দরোয়ান কাককে কৌয়া বলছিল, সে কিচ্ছু জানে না। না?'
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন