মীনু
Stories
মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব।
বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, 'এও বাঁচে কি না-বাঁচে।'
আরো দেখুন
ধ্বংস
Stories
দিদি, তোমাকে একটা হালের খবর বলি।--
প্যারিস শহরের অল্প একটু দূরে ছিল তাঁর ছোটো বাসাটি। বাড়ির কর্তার নাম পিয়ের শোপ্যাঁ। তাঁর সারা জীবনের শখ ছিল গাছপালার জোড় মিলিয়ে, রেণু মিলিয়ে, তাদের চেহারা, তাদের রঙ, তাদের স্বাদ বদল ক'রে নতুন রকমের সৃষ্টি তৈরি করতে। তাতে কম সময় লাগত না। এক-একটি ফুলের ফলের স্বভাব বদলাতে বছরের পর বছর কেটে যেত। এ কাজে যেমন ছিল তাঁর আনন্দ তেমনি ছিল তাঁর ধৈর্য। বাগান নিয়ে তিনি যেন জাদু করতেন। লাল হত নীল, সাদা হত আলতার রঙ, আঁটি যেত উড়ে, খোসা যেত খ'সে। যেটা ফলতে লাগে ছ মাস তার মেয়াদ কমে হত দু মাস। ছিলেন গরিব, ব্যবসাতে সুবিধা করতে পারতেন না। যে করত তাঁর হাতের কাজের তারিফ তাকে দামি মাল অমনি দিতেন বিলিয়ে। যার মতলব ছিল দাম ফাঁকি দিতে সে এসে বলত, কী ফুল ফুটেছে আপনার সেই গাছটাতে, চার দিক থেকে লোক আসছে দেখতে, একেবারে তাক লেগে যাচ্ছে।
আরো দেখুন
উপসংহার
Stories
ভোজরাজের দেশে যে মেয়েটি ভোরবেলাতে দেবমন্দিরে গান গাইতে যায় সে কুড়িয়ে-পাওয়া মেয়ে।
আচার্য বলেন, 'একদিন শেষরাত্রে আমার কানে একখানি সুর লাগল। তার পরে সেইদিন যখন সাজি নিয়ে পারুলবনে ফুল তুলতে গেছি তখন এই মেয়েটিকে ফুলগাছতলায় কুড়িয়ে পেলেম।'
আরো দেখুন
ভূমিকম্প
Verses
হায় ধরিত্রী, তোমার আঁধার পাতালদেশে
অন্ধ রিপু লুকিয়েছিল ছদ্মবেশে--
          সোনার পুঞ্জ যেথায় রাখ,
          আঁচলতলে যেথায় ঢাক
     কঠিন লৌহ, মৃত্যুদূতের চরণধূলির
                   পিণ্ড তারা, খেলা জোগায়
                             যমালয়ের ডাণ্ডাগুলির।
উপর তলায় হাওয়ার দোলায় নবীন ধানে
ধানশ্রীসুর মূর্ছনা দেয় সবুজ গানে।
          দুঃখে সুখে স্নেহে প্রেমে
          স্বর্গ আসে মর্তে নেমে,
ঋতুর ডালি ফুল-ফসলের অর্ঘ্য বিলায়,
                   ওড়না রাঙে ধূপছায়াতে
                             প্রাণনটিনীর নৃত্যলীলায়।
অন্তরে তোর গুপ্ত যে পাপ রাখলি চেপে
তার ঢাকা আজ স্তরে স্তরে উঠল কেঁপে।
          যে বিশ্বাসের আবাসখানি
          ধ্রুব ব'লেই সবাই জানি
     এক নিমেষে মিশিয়ে দিলি ধূলির সাথে,
                   প্রাণের দারুণ অবমানন
                             ঘটিয়ে দিলি জড়ের হাতে।
বিপুল প্রতাপ থাক্‌-না যতই বাহির দিকে
কেবল সেটা স্পর্ধাবলে রয় না টিঁকে।
          দুর্বলতা কুটিল হেসে
          ফাটল ধরায় তলায় এসে--
      হঠাৎ কখন দিগ্‌ব্যাপিনী কীর্তি যত
                   দর্পহারীর অট্টহাস্যে
                             যায় মিলিয়ে স্বপ্নমতো।
হে ধরণী, এই ইতিহাস সহস্রবার
যুগে যুগে উদঘাটিলে সামনে সবার।
          জাগল দম্ভ বিরাট রূপে,
          মজ্জায় তার চুপে চুপে
     লাগল রিপুর অলক্ষ্য বিষ সর্বনাশা--
                    রূপক নাট্যে ব্যাখ্যা তারি
                             দিয়েছ আজ ভীষণ ভাষায়।
যে যথার্থ শক্তি সে তো শান্তিময়ী,
সৌম্য তাহার কল্যাণরূপ বিশ্বজয়ী।
          অশক্তি তার আসন পেতে
          ছিল তোমার অন্তরেতে--
     সেই তো ভীষণ, নিষ্ঠুর তার বীভৎসতা,
                   নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠাহীন
                             তাই সে এমন হিংসারতা।
আরো দেখুন
আরো-সত্য
Stories
দাদামশায়, সেদিন তুমি যে আরও-সত্যির কথা বলছিলে, সে কি কেবল পরীস্থানেই দেখা যায়।
আমি বললুম, তা নয় গো, এ পৃথিবীতেও তার অভাব নেই। তাকিয়ে দেখলেই হয়। তবে কিনা সেই দেখার চাউনি থাকা চাই।
আরো দেখুন
ব্যাকুল প্রাণ কোথা
Songs
ব্যাকুল প্রাণ কোথা সুদূরে ফিরে--
ডাকি লহো, প্রভু, তব ভবনমাঝে
                   ভবপারে সুধাসিন্ধুতীরে ॥
আরো দেখুন
তোমার বীণায় গান
Songs
তোমার বীণায় গান ছিল আর আমার ডালায় ফুল ছিল গো।
একই দখিন হাওয়ায় সে দিন দোঁহায় মোদের দুল দিল গো ॥
     সে দিন সে তো জানে না কেউ   আকাশ ভরে কিসের সে ঢেউ,
     তোমার সুরের তরী আমার রঙিন ফুলে কূল নিল গো ॥
সে দিন আমার মনে হল, তোমার গানের তাল ধ'রে
আমার প্রাণে ফুল-ফোটানো রইবে চিরকাল ধ'রে।
     গান তবু তো গেল ভেসে,   ফুল ফুরালো দিনের শেষে,
     ফাগুনবেলার মধুর খেলায় কোন্‌খানে হায় ভুল ছিল গো ॥
আরো দেখুন
দিদি
Stories
পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, 'এমন স্বামীর মুখে আগুন।'
শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিলেন-- স্বামীজাতির মুখে চুরটের আগুন ছাড়া অন্য কোনো প্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না।
আরো দেখুন
ব্যাঘাত
Verses
কোলে ছিল সুরে-বাঁধা বীণা
     মনে ছিল বিচিত্র রাগিণী,
মাঝখানে ছিঁড়ে যাবে তার
     সে কথা ভাবি নি।
ওগো আজি প্রদীপ নিবাও,
     বন্ধ করো দ্বার--
সভা ভেঙে ফিরে চলে যাও
     হৃদয় আমার।
তোমরা যা আশা করেছিলে
     নারিনু পুরাতে--
কে জানিত ছিঁড়ে যাবে তার
     গীত না ফুরাতে।
ভেবেছিনু ঢেলে দিব মন,
     প্লাবন করিব দশদিশি--
পুষ্পগন্ধে আনন্দে মিশিয়া
     পূর্ণ হবে পূর্ণিমার নিশি।
ভেবেছিনু ঘিরিয়া বসিবে
     তোমরা সকলে,
গীতশেষে হেসে ভালোবেসে
     মালা দিবে গলে,
শেষ করে যাব সব কথা
     সকল কাহিনী--
মাঝখানে ছিঁড়ে যাবে তার
     সে কথা ভাবি নি।
আজি হতে সবে দয়া করে
     ভুলে যাও, ঘরে যাও চলে--
করিয়ো না মোরে অপরাধী
     মাঝখানে থামিলাম ব'লে।
আমি চাহি আজি রজনীতে
     নীরব নির্জন
ভূমিতলে ঘুমায়ে পড়িতে
     স্তব্ধ অচেতন--
খ্যাতিহীন শান্তি চাহি আমি
     স্নিগ্ধ অন্ধকার।
সাঙ্গ না হইতে সব গান
     ছিন্ন হল তার।
আরো দেখুন