রবিবার
Stories
আমার গল্পের প্রধান মানুষটি প্রাচীন ব্রাহ্মণপণ্ডিত-বংশের ছেলে। বিষয়ব্যাপারে বাপ ওকালতি ব্যবসায়ে আঁটি পর্যন্ত পাকা, ধর্মকর্মে শাক্ত আচারের তীব্র জারক রসে জারিত। এখন আদালতে আর প্র্যাকটিস করতে হয় না। এক দিকে পূজা-অর্চনা আর-এক দিকে ঘরে বসে আইনের পরামর্শ দেওয়া, এই দুটোকে পাশাপাশি রেখে তিনি ইহকাল পরকালের জোড় মিলিয়ে অতি সাবধানে চলেছেন। কোনো দিকেই একটু পা ফসকায় না।
এইরকম নিরেট আচারবাঁধা সনাতনী ঘরের ফাটল ফুঁড়ে যদি দৈবাৎ কাঁটাওয়ালা নাস্তিক ওঠে গজিয়ে, তা হলে তার ভিত-দেয়াল-ভাঙা মন সাংঘাতিক ঠেলা মারতে থাকে ইঁটকাঠের প্রাচীন গাঁথুনির উপরে। এই আচারনিষ্ঠ বৈদিক ব্রাহ্মণের বংশে দুর্দান্ত কালাপাহাড়ের অভ্যুদয় হল আমাদের নায়কটিকে নিয়ে।
আরো দেখুন
অবুঝ মন
Verses
অবুঝ শিশুর আবছায়া এই নয়নবাতায়নের ধারে
আপনাভোলা মনখানি তার অধীর হয়ে উঁকি মারে।
        বিনাভাষার ভাবনা নিয়ে কেমন আঁকুবাঁকুর খেলা--
        হঠাৎ ধরা, হঠাৎ ছড়িয়ে ফেলা,
      হঠাৎ অকারণ
কী উৎসাহে বাহু নেড়ে উদ্দাম গর্জন।
      হঠাৎ দুলে দুলে ওঠে,
অর্থবিহীন কোন্‌ দিকে তার লক্ষ ছোটে।
      বাহির-ভুবন হতে
আলোর লীলায় ধ্বনির স্রোতে
      যে বাণী তার আসে প্রাণে
তারি জবাব দিতে গিয়ে কী-যে জানায় কেই তা জানে।
এই যে অবুঝ এই যে বোবা মন
প্রাণের 'পরে ঢেউ জাগিয়ে কৌতুকে যে অধীর অনুক্ষণ,
       সর্ব দিকেই সর্বদা উন্মুখ,
আপনারি চাঞ্চল্য নিয়ে আপনি সমুৎসুক,-
   নয় বিধাতার নবীন রচনা এ,
       ইহার যাত্রা আদিম যুগের নায়ে।
           বিশ্বকবির মানস-সরোবরে
               প্রাতঃস্নানের পরে
প্রাণের সঙ্গে বাহির হল, তখন অন্ধকার,
       নিয়ে এল ক্ষীণ আলোটি তার।
  তারি প্রথম ভাষাবিহীন কূজনকাকলি যে
বনে বনে শাখায় পাতায় পুষ্পে ফলে বীজে
              অঙ্কুরে অঙ্কুরে
      উঠল জেগে ছন্দে সুরে সুরে।
      সূর্য-পানে অবাক আঁখি মেলি
      মুখরিত উচ্ছল তার কেলি।
নানারূপের খেলনা যে তার নানা বর্ণে আঁকে,
          বারেক খোলে, বারেক তারে ঢাকে।
                  রোদবাদলে করুণ কান্না হাসি
                        সদাই ওঠে আভাসি উচ্ছ্বাসি।
ওই যে শিশুর অবুঝ ভোলা মন
তরীর কোণে বসে বসে দেখছি তারি আকুল আন্দোলন।
       মাঝে-মাঝে সাগর-পানে তাকিয়ে দেখি যত
       মনে ভাবি, ও যেন এই শিশু-আঁখির মতো,
             আকাশ-পানে আবছায়া ওর চাওয়া
                          কোন্‌ স্বপনে-পাওয়া,
      অন্তরে ওর যেন সে কোন্‌ অবুঝ ভোলা মন
এ তীর হতে ও তীর-পানে দুলছে অনুক্ষণ।
               কেমন কলভাষে
প্রলয়কাঁদন কাঁদে ও যে প্রবল হাসি হাসে
      আপ্‌নিও তার অর্থ আছে ভুলে--
               ক্ষণে ক্ষণে শুধুই ফুলে ফুলে
      অকারণে গর্জি উঠে শূন্যে শূন্যে মূঢ় বাহু তুলে।
বিরাট অবুঝ এই সে আদিম মন,
মানব-ইতিহাসের মাঝে আপ্‌নারে তার অধীর অন্বেষণ।
       ঘর হতে ধায় আঙন-পানে, আঙন হতে পথে,
পথ হতে ধায় তেপান্তরের বিঘ্নবিষম অরণ্যে পর্বতে;
               এই সে গড়ে, এই সে ভাঙে, এই সে কী আক্ষেপে
পায়ের তলায় ধরণীতে আঘাত করে ধুলায় আকাশ ব্যেপে;
                  হঠাৎ খেপে উঠে
      রুদ্ধ পাষাণভিত্তি-'পরে বেড়ায় মাথা কুটে।
                   অনাসৃষ্টি সৃষ্টি আপনগড়া
      তাই নিয়ে সে লড়াই করে, তাই নিয়ে তার কেবল ওঠাপড়া।
                                 হঠাৎ উঠে ঝেঁকে
              যায় সে ছুটে কী রাঙা রঙ দেখে
                          অদৃশ্য কোন্‌ দূর দিগন্ত-পানে;
আবছায়া কোন্‌ সন্ধ্যা-আলোয় শিশুর মতো তাকায় অনুমানে,
                         তাহার ব্যাকুলতা
     স্বপ্নে সত্যে মিশিয়ে রচে বিচিত্র রূপকথা।
আরো দেখুন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
Stories
রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল, বড়ো বড়ো চোখ, শ্যামচিক্কণ ছিপ্‌ছিপে বালক। জাতিতে কায়স্থ। তাহার প্রভুরাও কায়স্থ। বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল।
সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে, স্কুল ছাড়িয়া কলেজে, অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্‌সেফিতে প্রবেশ করিয়াছে। রাইচরণ এখনো তাঁহার ভৃত্য।
আরো দেখুন
4
Verses
SHE IS NEAR TO my heart as the meadow-flower to the earth; she is sweet to me as sleep is to tired limbs. My love for her is my life flowing in its fullness, like a river in autumn flood, running with serene abandonment.
My songs are one with my love, like the murmur of a stream, that sings with all its waves and currents.
আরো দেখুন
না, দেখবো না, আমি
Songs
         না, দেখব না আমি দেখব না,
                                   আমি শুনব--
                   মনের মধ্যে আমি শুনব,
                   ধ্যানের মধ্যে আমি শুনব,
                                   তাঁর চরণধ্বনি।
                       ওই দেখ্‌ এল ঝড়, এল ঝড়,
                                  তাঁর আগমনীর ওই ঝড়--
                            পৃথিবী কাঁপছে থরো থরো থরো থরো,
                                গুরু গুরু করে মোর বক্ষ।
আরো দেখুন
এখনো তারে চোখে
Songs
     এখনো তারে চোখে দেখি নি, শুধু বাঁশি শুনেছি--
          মন প্রাণ যাহা ছিল দিয়ে ফেলেছি॥
                   শুনেছি মুরতি কালো   তারে না দেখা ভালো।
          সখী, বলো আমি জল আনিতে যমুনায় যাব কি॥
শুধু স্বপনে এসেছিল সে,   নয়নকোণে হেসেছিল সে।
          সে অবধি, সই, ভয়ে ভয়ে রই-- আঁখি মেলিতে ভেবে সারা হই।
              কাননপথে যে খুশি সে যায়,   কদমতলে যে খুশি সে চায়--
                   সখী, বলো আমি আঁখি তুলে কারো পানে চাব কি॥
আরো দেখুন
চন্দনী
Stories
জানোই তো সেদিন কী কাণ্ড। একেবারে তলিয়ে গিয়েছিলেম আর-কি, কিন্তু তলায় কোথায় যে ফুটো হয়েছে তার কোনো খবর পাওয়া যায় নি। না মাথা ধরা, না মাথা ঘোরা, না গায়ে কোথাও ব্যথা, না পেটের মধ্যে একটুও খোঁচাখুঁচির তাগিদ। যমরাজার চরগুলি খবর আসার সব দরজাগুলো বন্ধ করে ফিস্‌ ফিস্‌ ক'রে মন্ত্রণা করছিল। এমন সুবিধে আর হয় না! ডাক্তারেরা কলকাতায় নব্বই মাইল দূরে। সেদিনকার এই অবস্থা।
সন্ধে হয়ে এসেছে। বারান্দায় বসে আছি। ঘন মেঘ ক'রে এল। বৃষ্টি হবে বুঝি। আমার সভাসদ্‌রা বললে, ঠাকুরদা, একসময় শুনেছি তুমি মুখে মুখে গল্প ব'লে শোনাতে, এখন শোনাও না কেন।
আরো দেখুন
প্রশ্ন
Stories
শ্মাশান হতে বাপ ফিরে এল।
তখন সাত বছরের ছেলেটি-- গা খোলা, গলায় সোনার তাবিজ--একলা গলির উপরকার জানলার ধারে।
আরো দেখুন
প্রবাহিনী
Verses
দুর্গম দূর শৈলশিরের
      স্তব্ধ তুষার নই তো আমি,
আপ্‌নাহারা ঝরনা-ধারা
      ধূলির ধরায় যাই যে নামি।
সরোবরের গম্ভীরতায়
      ফেনিল নাচের মাতন ঢালি,
অচল শিলার ভ্রূভঙ্গিমায়
      বাজাই চপল করতালি।
মন্দ্রসুরের মন্ত্র শুনাই
      গভীর গুহার আঁধার-তলে,
গহন বনের ভাঙাই ধেয়ান
      উচ্চহাসির কোলাহলে।
শুভ্র ফেনের কুন্দমালায়
      বিন্ধ্যগিরির বক্ষ সাজাই,
যোগীশ্বরের জটার মধ্যে
      তরঙ্গিণীর নূপুর বাজাই।
বৃদ্ধ বটের লুব্ধ শিকড়
      আমার বেণী ধরিতে চায়,
সূর্যকিরণ শিশুর মতন
      অঙ্ক আমার ভরিতে চায়।
নাই কোনো মোর ভয় ভাবনা,
      নাই কোনো মোর অচল রীতি।
গতি আমার সকল দিকেই,
      শুভ আমার সকল তিথি।
বক্ষে আমার কালোর ধারা,
      আলোর ধারা আমার চোখে--
স্বর্গে আমার সুর চলে যায়,
      নৃত্য আমার মর্তলোকে।
অশ্রুহাসির যুগল ধারা
       ছোটে আমার ডাইনে বামে।
অচল গানের সাগরমাঝে
       চপল গানের যাত্রা থামে।
আরো দেখুন
ল্যাবরেটরি
Stories
নন্দকিশোর ছিলেন লণ্ডন য়ুনিভার্সিটি থেকে পাস করা এঞ্জিনীয়ার। যাকে সাধুভাষায় বলা যেতে পারে দেদীপ্যমান ছাত্র অর্থাৎ ব্রিলিয়ান্ট, তিনি ছিলেন তাই। স্কুল থেকে আরম্ভ করে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার তোরণে তোরণে ছিলেন পয়লা শ্রেণীর সওয়ারী।
ওঁর বুদ্ধি ছিল ফলাও, ওঁর প্রয়োজন ছিল দরাজ, কিন্তু ওঁর অর্থসম্বল ছিল আঁটমাপের।
আরো দেখুন