মীনু
Stories
মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব।
বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, 'এও বাঁচে কি না-বাঁচে।'
আরো দেখুন
অনধিকার প্রবেশ
Stories
একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল 'পারিব', আর-একটি বালক বলিল 'কখনোই পারিবে না'।
কাজটি শুনিতে সহজ অথচ করিতে কেন সহজ নহে তাহার বৃত্তান্ত আর-একটু বিস্তারিত করিয়া বলা আবশ্যক।
আরো দেখুন
পাষাণী মা
Verses
হে ধরণী, জীবের জননী,
       শুনেছি যে মা তোমায় বলে,
তবে কেন তোর কোলে সবে
       কেঁদে আসে, কেঁদে যায় চলে।
তবে কেন তোর কোলে এসে
       সন্তানের মেটে না পিয়াসা।
কেন চায়, কেন কাঁদে সবে,
       কেন কেঁদে পায় না ভালোবাসা।
কেন হেথা পাষাণ-পরান,
       কেন সবে নীরস নিষ্ঠুর,
কেঁদে কেঁদে দুয়ারে যে আসে
       কেন তারে করে দেয় দূর।
কাঁদিয়া যে ফিরে চলে যায়
       তার তরে কাঁদিস নে কেহ,
এই কি মা, জননীর প্রাণ,
       এই কি মা, জননীর স্নেহ!
আরো দেখুন
১০২
Verses
১০২
আলোকের সাথে মেলে আঁধারের ভাষা,
       মেলে না কুয়াশা॥        
আরো দেখুন
গিন্নি
Stories
ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।
প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইত।
আরো দেখুন
চোখের আলোয় দেখেছিলেম
Songs
চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে।
অন্তরে আজ দেখব, যখন আলোক নাহি রে॥
ধরায় যখন দাও না ধরা         হৃদয় তখন তোমায় ভরা,
এখন তোমার আপন আলোয় তোমায় চাহি রে॥
তোমায় নিয়ে খেলেছিলেম খেলার ঘরেতে।
খেলার পুতুল ভেঙে গেছে প্রলয় ঝড়েতে।
থাক্‌ তবে সেই কেবল খেলা,    হোক-না এখন প্রাণের মেলা--
তারের বীণা ভাঙল, হৃদয়-বীণায় গাহি রে॥
আরো দেখুন
একরাত্রি
Stories
সুরবালার সঙ্গে একত্রে পাঠশালায় গিয়াছি, বউ-বউ খেলিয়াছি। তাহাদের বাড়িতে গেলে সুরবালার মা আমাকে বড় যত্ন করিতেন এবং আমাদের দুইজনকে একত্র করিয়া  আপনা-আপনি বলাবলি করিতেন,'আহা দুটিতে বেশ মানায়।'
ছোট ছিলাম কিন্তু কথাটার অর্থ একরকম বুঝতে পারিতাম। সুরবালার প্রতি যে সর্বসাধারণের অপেক্ষা আমার কিছু বিশেষ দাবি ছিল, সে ধারণা আমার মনে বদ্ধমূল হইয়া গিয়াছিল। সেই অধিকারমদে মত্ত হইয়া তাহার প্রতি যে আমি শাসন এবং উপদ্রব না করিতাম তাহা নহে। সেও সহিষ্ণুভাবে আমার সকলরকম  ফরমাশ খাটিত এবং শাস্তি বহন করিত। পাড়ায় তাহার রূপের প্রশংসা ছিল, কিন্তু বর্বর বালকের চক্ষে সে সৌন্দর্যের কোনো গৌরব ছিল না-- আমি কেবল জানিতাম, সুরবালা আমারই প্রভুত্ব স্বীকার করিবার জন্য পিতৃগৃহে জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, এইজন্য সে আমার বিশেষরূপ অবহেলার পাত্র।
আরো দেখুন
সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়
Verses
দেশশূন্য, কালশূন্য, জ্যোতিঃশূন্য, মহাশূন্য-'পরি
           চতুর্মুখ করিছেন ধ্যান,
মহা অন্ধ অন্ধকার সভয়ে রয়েছে দাঁড়াইয়া--
           কবে দেব খুলিবে নয়ান।
অনন্ত হৃদয়-মাঝে আসন্ন জগৎ-চরাচর
           দাঁড়াইয়া স্তম্ভিত নিশ্চল,
অনন্ত হৃদয়ে তাঁর ভূত ভবিষ্যৎ বর্তমান
           ধীরে ধীরে বিকাশিছে দল।
লেগেছে  ভাবের ঘোর,  মহানন্দে পূর্ণ তাঁর প্রাণ
           নিজের হৃদয়পানে চাহি,
নিস্তরঙ্গ রহিয়াছে অনন্ত আনন্দপারাবার
           কূল নাহি, দিগ্‌বিদিক নাহি।
           পুলকে পূর্ণিত তাঁর প্রাণ,
সহসা আনন্দসিন্ধু হৃদয়ে উঠিল উথলিয়া,
           আদিদেব খুলিলা নয়ান;
জনশূন্য জ্যোতিঃশূন্য অন্ধতম অন্ধকার-মাঝে
           উচ্ছ্বসি উঠিল বেদগান।
           চারি মুখে বাহিরিল বাণী
           চারিদিকে করিল প্রয়াণ।
           সীমাহারা মহা অন্ধকারে
           সীমাশূন্য ব্যোম-পারাবারে
           প্রাণপূর্ণ ঝটিকার মতো,
           ভাবপূর্ণ, ব্যাকুলতা-সম,
           আশাপূর্ণ অতৃপ্তির প্রায়,
           সঞ্চরিতে লাগিল সে ভাষা।
           দূর দূর যত দূর যায়
           কিছুতেই অন্ত নাহি পায়--
           যুগ যুগ যুগ  যুগান্তর
           ভ্রমিতেছে আজিও সে বাণী,
           আজও সে অন্ত নাহি পায়।
ভাবের আনন্দে ভোর,   গীতিকবি চারি মুখে
           করিতে লাগিলা বেদগান।
আনন্দের আন্দোলনে     ঘন ঘন বহে শ্বাস
           অষ্ট নেত্রে বিস্ফুরিল জ্যোতি ।
জ্যোতির্ময় জটাজাল     কোটিসূর্যপ্রভাসম,
           দিগ্‌বিদিকে পড়িল ছড়ায়ে,
মহান্‌ ললাটে তাঁর       অযুত তড়িৎ-স্ফূর্তি
           অবিরাম লাগিল খেলিতে।
অনন্ত ভাবের দল,       হৃদয়-মাঝারে তাঁর
           হতেছিল আকুল ব্যাকুল--
           মুক্ত হয়ে ছুটিল তাহারা,
           জগতের গঙ্গোত্রীশিখর হতে
           শত শত স্রোতে
           উচ্ছ্বসিল অগ্নিময় বিশ্বের নির্ঝর,
           বাহিরিল অগ্নিময়ী বাণী,
           উচ্ছ্বসিল বাষ্পময় ভাব।
           উত্তরে দক্ষিণে গেল,
           পুরবে পশ্চিমে গেল,
           চারি দিকে ছুটিল তাহারা,
আকাশের মহাক্ষেত্রে    শৈশব-উচ্ছ্বাস-বেগে
           নাচিতে লাগিল মহোল্লাসে।
শব্দশূন্য শূন্যমাঝে       সহসা সহস্র স্বরে
           জয়ধ্বনি উঠিল উথলি,
           হর্ষধ্বনি উঠিল ফুটিয়া,
           স্তব্ধতার পাষাণহৃদয়
           শত ভাগে গেল রে ফাটিয়া।
           শব্দস্রোত ঝরিল চৌদিকে
           এককালে সমস্বরে--
পুরবে উঠিল ধ্বনি,       পশ্চিমে উঠিল ধ্বনি,
           ব্যাপ্ত হল উত্তরে দক্ষিণে।
অসংখ্য ভাবের দল       খেলিতে লাগিল যত
           উঠিল খেলার কোলাহল।
           শূন্যে  শূন্যে মাতিয়া বেড়ায়--
           হেথা ছোটে, হোথা ছুটে যায়।
           কী করিবে আপনা লইয়া
           যেন তাহা ভাবিয়া না পায়,
           আনন্দে ভাঙিয়া যেতে চায়।
           যে প্রাণ অনন্ত যুগ রবে
           সেই প্রাণ পেয়েছে নূতন,
           আনন্দে অনন্ত প্রাণ যেন
           মুহূর্তে করিতে চায় ব্যয় ।
           অবশেষে আকাশ ব্যাপিয়া
           পড়িল প্রেমের আকর্ষণ ।
           এ ধায় উহার পানে
           এ চায় উহার মুখে,
           আগ্রহে ছুটিয়া কাছে আসে।
           বাষ্পে বাষ্পে করে ছুটাছুটি,
           বাষ্পে বাষ্পে করে আলিঙ্গন।
           অগ্নিময় কাতর হৃদয়
           অগ্নিময় হৃদয়ে মিশিছে।
           জ্বলিছে দ্বিগুণ অগ্নিরাশি
           আঁধার হতেছে চুর চুর।
           অগ্নিময় মিলন হইতে
           জন্মিতেছে আগ্নেয় সন্তান,
           অন্ধকার শূন্যমরুমাঝে
           শত শত অগ্নি-পরিবার
           দিশে দিশে করিছে ভ্রমণ।
           নূতন সে প্রাণের উল্লাসে
           নূতন সে প্রাণের উচ্ছ্বাসে
           বিশ্ব যবে হয়েছে উন্মাদ,
           চারি দিকে উঠিছে নিনাদ,
           অনন্ত আকাশে দাঁড়াইয়া
           চারি দিকে চারি হাত দিয়া
           বিষ্ণু আসি মন্ত্র পড়ি দিলা,
           বিষ্ণু আসি কৈলা আশীর্বাদ।
           লইয়া মঙ্গলশঙ্খ করে,
           কাঁপায়ে জগৎ চরাচরে
           বিষ্ণু আসি কৈলা শঙ্খনাদ।
           থেমে এল প্রচণ্ড কল্লোল
           নিবে এল জ্বলন্ত উচ্ছ্বাস,
           গ্রহগণ নিজ অশ্রুজলে
           নিবাইল নিজের হুতাশ।
           জগতের বাঁধিল সমাজ,
           জগতের বাঁধিল সংসার
           বিবাহে বাহুতে বাহু বাঁধি
           জগৎ হইল পরিবার।
বিষ্ণু আসি মহাকাশে,   লেখনী ধরিয়া করে
           মহান্‌ কালের পত্র খুলি
           ধরিয়া ব্রহ্মার ধ্যানগুলি
           একমনে পরম যতনে
           লিখি লিখি যুগ-যুগান্তর
           বাঁধি দিলা ছন্দের বাঁধনে।
           জগতের মহা-বেদব্যাস
           গঠিলা নিখিল উপন্যাস,
           বিশৃঙ্খল বিশ্বগীতি লয়ে
           মহাকাব্য  করিলা রচন।
           জগতের ফুলরাশি লয়ে
           গাঁথি মালা মনের মতন,
           নিজ গলে কৈলা আরোপণ।
জগতের মালাখানি       জগৎ-পতির গলে
           মরি কিবা সেজেছে অতুল
           দেখিবারে হৃদয় আকুল।
           বিশ্বমালা অসীম অক্ষয়,
কত চন্দ্র কত সূর্য       কত গ্রহ কত তারা
           কত বর্ণ কত গীতময়।
           নিজ নিজ পরিবার লয়ে
           ভ্রমে সবে নিজ নিজ পথে,
           বিষ্ণুদেব চক্র হাতে লয়ে,
           চক্রে চক্রে বাঁধিলা জগতে।
           চক্রপথে ভ্রমে গ্রহ তারা,
           চক্রপথে রবি শশী ভ্রমে,
           শাসনের গদা হস্তে লয়ে
           চরাচর রাখিলা নিয়মে।
           দুরন্ত প্রেমের মন্ত্র পড়ি
           বাঁধি দিলা বিবাহবন্ধনে।
           মহাকায় শনিরে ঘেরিয়া
           হাতে হাতে ধরিয়া ধরিয়া
           নাচিতে লাগিল এক তালে
           সুধামুখ চাঁদ শত শত।
           পৃথিবীর সমুদ্রহৃদয়
           চন্দ্রে হেরি উঠে উথলিয়া।
           পৃথিবীর মুখপানে চেয়ে
           চন্দ্র হাসে আনন্দে গলিয়া।
           মিলি যত গ্রহ ভাইবোন
           এক অন্নে হইল পালিত,
           তারা-সহোদর যত ছিল
           এক সাথে হইল মিলিত।
           কত কত শত বর্ষ ধরি
           দূর পথ অতিক্রম করি
           পাঠাইছে বিদেশ হইতে
           তারাগুলি আলোকের দূত
           ক্ষুদ্র ওই দূরদেশবাসী
           পৃথিবীর বারতা লইতে।
           রবি ধায় রবির চৌদিকে
           গ্রহ ধায় রবিরে ঘেরিয়া
           চাঁদ হাসে গ্রহমুখ চেয়ে,
           তারা হাসে তারায় হেরিয়া।
           মহাছন্দ মহা অনুপ্রাস
           চরাচরে বিস্তারিল পাশ।
           পশিয়া মানসসরোবরে
           স্বর্ণপদ্ম করিলা চয়ন,
           বিষ্ণুদেব প্রসন্ন আননে
           পদ্মপানে মেলিল নয়ন।
           ফুটিয়া উঠিল শতদল,
           বাহিরিল কিরণ বিমল,
           মাতিল রে দ্যুলোক ভূলোক
           আকাশে পুরিল পরিমল।
           চরাচরে উঠাইয়া গান
           চরাচরে জাগাইয়া হাসি
           কোমল কমলদল হতে
           উঠিল অতুল রূপরাশি।
           মেলি দুটি নয়ন বিহ্বল
           ত্যজিয়া সে শতদলদল
           ধীর ধীরে জগৎ-মাঝারে
           লক্ষ্মী আসি ফেলিলা চরণ--
           গ্রহে গ্রহে তারায় তারায়
           ফুটিল রে বিচিত্র বরন।
           জগৎ মুখের পানে চায়,
           জগৎ পাগল হয়ে যায়,
           নাচিতে লাগিল চারি দিকে--
           আনন্দের অন্ত নাহি পায়।
           জগতের মুখপানে চেয়ে
           লক্ষ্মী যবে হাসিলেন হাসি
           মেঘেতে ফুটিল ইন্দ্রধনু,
           কাননে ফুটিল ফুলরাশি--
           হাসি লয়ে করে কাড়াকাড়ি
           চন্দ্র সূর্য গ্রহ চারি ভিতে,
           চাহে তাঁর চরণছায়ায়
           যৌবনকুসুম ফুটাইতে।
           জগতের হৃদয়ের আশা
           দশ দিকে আকুল হইয়া
           ফুল হয়ে পরিমল হয়ে
           গান হয়ে উঠিল ফুটিয়া।
           একি হেরি যৌবন-উচ্ছ্বাস,
           একি রে মোহন ইন্দ্রজাল--
           সৌন্দর্যকুসুমে গেল ঢেকে
           জগতের কঠিন কঙ্কাল।
           হাসি হয়ে ভাতিল আকাশে
           তারকার রক্তিম নয়ান,
           জগতের হর্ষকোলাহল
           রাগিণীতে হল অবসান।
           কোমলে কঠিন লুকাইল,
           শক্তিরে ঢাকিল রূপরাশি,
           প্রেমের হৃদয়ে মহা বল
           অশনির মুখে দিল হাসি।
           সকলি হইল মনোহর
           সাজিল জগৎ-চরাচর।
মহাছন্দে বাঁধা হয়ে যুগ যুগ যুগ যুগান্তর
           পড়িল নিয়ম-পাঠশালে
           অসীম জগৎ-চরাচর।
           শ্রান্ত হয়ে এল কলেবর,
           নিদ্রা আসে নয়নে তাহার,
           আকর্ষণ হতেছে শিথিল,
           উত্তাপ হতেছে একাকার।
           জগতের প্রাণ হতে
           উঠিল রে বিলাপসংগীত,
           কাঁদিয়া উঠিল চারি ভিত ।
পুরবে বিলাপ উঠে,      পশ্চিমে বিলাপ উঠে,
           কাঁদিল রে উত্তর দক্ষিণ,
কাঁদে গ্রহ, কাঁদে তারা, শ্রান্তদেহে কাঁদে রবি--
           জগৎ হইল শান্তিহীন।
           চারি দিক হতে উঠিতেছে
           আকুল বিশ্বের কণ্ঠস্বর,
           "জাগো জাগো জাগো মহাদেব,
           কবে মোরা পাব অবসর?
           অলঙ্ঘ্য নিয়মপথে ভ্রমি
           হয়েছে হে শ্রান্ত কলেবর।
           নিয়মের পাঠ সমাপিয়া
           সাধ গেছে খেলা করিবারে,
           একবার ছেড়ে দাও, দেব,
           অনন্ত এ আকাশ-মাঝারে।"
           জগতের আত্মা কহে কাঁদি,
           "আমারে নূতন দেহ দাও--
           প্রতিদিন বাড়িছে হৃদয়,
           প্রতিদিন বাড়িতেছে আশা,
           প্রতিদিন টুটিতেছে দেহ,
           প্রতিদিন ভাঙিতেছে বল।
           গাও দেব মরণসংগীত
           পাব মোরা নূতন জীবন।"
           জগৎ কাঁদিল উচ্চরবে
           জাগিয়া উঠিল মহেশ্বর,
           তিন কাল ত্রিনয়ন মেলি,
           হেরিলেন দিক দিগন্তর।
প্রলয়বিষাণ তুলি      করে ধরিলেন শূলী,
           পদতলে জগৎ চাপিয়া,
জগতের আদি অন্ত     থরথর থরথর
           একবার উঠিল কাঁপিয়া।
           বিষাণেতে পুরিলা নিশ্বাস,
           ছিঁড়িয়া পড়িয়া গেল
           জগতের সমস্ত বাঁধন।
উঠিল রে মহাশূন্যে গরজিয়া তরঙ্গিয়া
ছন্দোমুক্ত জগতের উন্মত্ত আনন্দকোলাহল।
ছিঁড়ে  গেল রবি শশী গ্রহ তারা ধূমকেতু,
           কে কোথায় ছুটে গেল,
           ভেঙে গেল, টুটে গেল,
           চন্দ্রে সূর্যে গুঁড়াইয়া
           চূর্ণ চূর্ণ হয়ে গেল।
           মহা অগ্নি জ্বলিল রে,
           আকাশের অনন্ত হৃদয়
           অগ্নি, অগ্নি, শুধু অগ্নিময়।
           মহা অগ্নি উঠিল জ্বলিয়া
           জগতের মহা চিতানল।
খণ্ড খণ্ড রবি শশী, চূর্ণ চূর্ণ গ্রহ তারা
           বিন্দু বিন্দু আঁধারের মতো
           বরষিছে চারি দিক হতে,
           অনলের তেজোময় গ্রাসে
           নিমেষেতে যেতেছে মিশায়ে।
           সৃজনের আরম্ভসময়ে
           আছিল অনাদি অন্ধকার,
           সৃজনের ধ্বংসযুগান্তরে
           রহিল অসীম হুতাশন।
অনন্ত আকাশগ্রাসী অনলসমুদ্রমাঝে
           মহাদেব মুদি ত্রিনয়ান
           করিতে লাগিলা মহাধ্যান।
আরো দেখুন
জানি নাই গো
Songs
     জানি নাই গো সাধন তোমার বলে কারে।
আমি        ধুলায় বসে খেলেছি এই
                        তোমার দ্বারে ॥
অবোধ আমি ছিলেম বলে     যেমন খুশি এলেম চলে,
     ভয় করি নি তোমায় আমি অন্ধকারে ॥
তোমার     জ্ঞানী আমায় বলে কঠিন তিরস্কারে,
     "পথ দিয়ে তুই আসিস নি যে, ফিরে যা রে।'
ফেরার পন্থা বন্ধ করে     আপনি বাঁধো বাহুর ডোরে,
     ওরা আমায় মিথ্যা ডাকে বারে বারে ॥
আরো দেখুন
তৃষ্ণার শান্তি, সুন্দরকান্তি
Songs
তৃষ্ণার শান্তি,            সুন্দরকান্তি,
        তুমি এলে নিখিলের সন্তাপভঞ্জন॥
আঁকো ধরাবক্ষে          দিক্‌বধূচক্ষে
        সুশীতল সুকোমল শ্যামরসরঞ্জন।
এলে বীরছন্দে             তব কটিবন্ধে
        বিদ্যুৎ-অসিলতা বেজে ওঠে ঝঞ্ঝন॥
তব উত্তরীয়ে             ছায়া দিলে ভরিয়ে--
        তমালবনশিখরে নবনীল-অঞ্জন।
ঝিল্লির মন্দ্রে               মালতীর গন্ধে
        মিলাইলে চঞ্চল মধুকরগুঞ্জন।
নৃত্যের ভঙ্গে              এলে নবরঙ্গে,
        সচকিত পল্লবে নাচে যেন খঞ্জন॥
আরো দেখুন
রাসমণির ছেলে
Stories
কালীপদর মা ছিলেন রাসমণি-- কিন্তু তাঁহাকে দায়ে পড়িয়া বাপের পদ গ্রহণ করিতে হইয়াছিল। কারণ, বাপ মা উভয়েই মা হইয়া উঠিলে ছেলের পক্ষে সুবিধা হয় না। তাঁহার স্বামী ভবানীচরণ ছেলেকে একেবারেই শাসন করিতে পারেন না।
তিনি কেন এত বেশি আদর দেন তাহা জিজ্ঞাসা করিলে তিনি যে উত্তর দিয়া থাকেন তাহা বুঝিতে হইলে পূর্ব ইতিহাস জানা চাই।
আরো দেখুন
17
Verses
যেদিন চৈতন্য মোর মুক্তি পেল লুপ্তিগুহা হতে
নিয়ে এল দুঃসহ বিস্ময়ঝড়ে দারুণ দুর্যোগে
কোন্‌ নরকাগ্নিগিরিগহ্বরের তটে; তপ্তধূমে
গর্জি উঠি ফুঁসিছে সে মানুষের তীব্র অপমান,
অমঙ্গলধ্বনি তার কম্পান্বিত করে ধরাতল,
কালিমা মাখায় বায়ুস্তরে। দেখিলাম একালের
আত্মঘাতী মূঢ় উন্মত্ততা, দেখিনু সর্বাঙ্গে তার
বিকৃতির কদর্য বিদ্রূপ। এক দিকে স্পর্ধিত ক্রূরতা,
মত্ততার নির্লজ্জ হুংকার, অন্য দিকে ভীরুতার
দ্বিধাগ্রস্ত চরণবিক্ষেপ, বক্ষে আলিঙ্গিয়া ধরি
কৃপণের সতর্ক সম্বল-- সন্ত্রস্ত প্রাণীর মতো
ক্ষণিক-গর্জন-অন্তে ক্ষীণস্বরে তখনি জানায়
নিরাপদ নীরব নম্রতা। রাষ্ট্রপতি যত আছে
প্রৌঢ় প্রতাপের, মন্ত্রসভাতলে আদেশ-নির্দেশ
রেখেছে নিষ্পিষ্ট করি রুদ্ধ ওষ্ঠ-অধরের চাপে
সংশয়ে সংকোচে। এ দিকে দানবপক্ষী ক্ষুব্ধ শূন্যে
উড়ে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে বৈতরণীনদীপার হতে
যন্ত্রপক্ষ হুংকারিয়া নরমাংসক্ষুধিত শকুনি,
আকাশেরে করিল অশুচি। মহাকালসিংহাসনে
সমাসীন বিচারক, শক্তি দাও, শক্তি দাও মোরে,
কণ্ঠে মোর আনো বজ্রবাণী, শিশুঘাতী নারীঘাতী
কুৎসিত বীভৎসা-'পরে ধিক্কার হানিতে পারি যেন
নিত্যকাল রবে যা স্পন্দিত লজ্জাতুর ঐতিহ্যের
হৃৎস্পন্দনে, রুদ্ধকণ্ঠ ভয়ার্ত এ শৃঙ্খলিত যুগ যবে
নিঃশব্দে প্রচ্ছন্ন হবে আপন চিতার ভস্মতলে।
আরো দেখুন