মানভঞ্জন
Stories
রমানাথ শীলের ত্রিতল অট্টালিকায় সর্ব্বোচ্চ তলের ঘরে গোপীনাথ শীলের স্ত্রী গিরিবালা বাস করে। শয়নকক্ষের দক্ষিণ দ্বারের সম্মুখে ফুলের টবে গুটিকতক বেলফুল এবং গোলাপফুলের গাছ; ছাতটি উচ্চ প্রাচীর দিয়া ঘেরা-- বহিরদৃশ্য দেখিবার জন্য প্রাচীরের মাঝে মাঝে একটি করিয়া ইট ফাঁক দেওয়া আছে। শোবার ঘরে নানা বেশ এবং বিবেশ-বিশিষ্ট বিলাতি নারীমূর্তির বাঁধানো এন্‌গ্রেভিং টাঙানো রহিয়াছে; কিন্তু প্রবেশদ্বারের সম্মুখবর্তী বৃহৎ আয়নার উপরে ষোড়শী গৃহস্বামিনীর যে প্রতিবিম্বটি পড়ে তাহা দেয়ালের কোনো ছবি অপেক্ষা সৌন্দর্যে ন্যূন নহে।
গিরিবালার সৌন্দর্য অকস্মাৎ আলোকরশ্মির ন্যায়, বিস্ময়ের ন্যায়, নিদ্রাভঙ্গে চেতনার ন্যায়, একেবারে চকিতে আসিয়া আঘাত করে এবং এক আঘাতে অভিভূত করিয়া দিতে পারে। তাহাকে দেখিলে মনে হয়, ইহাকে দেখিবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না; চারি দিকে এবং চিরকাল যেরূপ দেখিয়া আসিতেছি এ একেবারে হঠাৎ তাহা হইতে অনেক স্বতন্ত্র।
আরো দেখুন
ব্যর্থ যৌবন
Verses
আজি       যে রজনী যায় ফিরাইব তায়
                    কেমনে?
কেন       নয়নের জল ঝরিছে বিফল
                    নয়নে!
            এ বেশভূষণ লহ সখী, লহ,
            এ কুসুমমালা হয়েছে অসহ--
            এমন যামিনী কাটিল বিরহ
                    শয়নে।
আজি       যে-রজনী যায় ফিরাইব তায়
                    কেমনে।
আমি       বৃথা অভিসারে এ যমুনাপারে
                    এসেছি।
বহি         বৃথা মনোআশা এত ভালোবাসা
                    বেসেছি।
            শেষে নিশিশেষে বদন মলিন,
            ক্লান্ত চরণ, মন উদাসীন,
            ফিরিয়া চলেছি কোন্‌ সুখহীন
                 ভবনে!
হায়,      যে-রজনী যায় ফিরাইব তায়
                 কেমনে?
কত        উঠেছিল চাঁদ নিশীথ-অগাধ
                 আকাশে!
বনে         দুলেছিল ফুল গন্ধব্যাকুল
                 বাতাসে।
            তরুমর্মর নদীকলতান
            কানে লেগেছিল স্বপ্নসমান,
            দূর হতে আসি পশেছিল গান
                 শ্রবণে।
আজি       সে রজনী যায়, ফিরাইব তায়
                 কেমনে।
মনে        লেগেছিল হেন, আমারে সে যেন
                 ডেকেছে।
যেন        চিরযুগ ধরে মোরে মনে করে
                 রেখেছে।
            সে আনিবে বহি ভরা অনুরাগ,
            যৌবননদী করিবে সজাগ,
             আসিবে নিশীথে, বাঁধিবে সোহাগ-
                 বাঁধনে।
আহা,      সে রজনী যায়, ফিরাইব তায়
                 কেমনে।
ওগো,      ভোলা ভালো তবে, কাঁদিয়া কী হবে
                 মিছে আর?
যদি         যেতে হল হায়, প্রাণ কেন চায়
                  পিছে আর?
            কুঞ্জদুয়ারে অবোধের মতো
            রজনীপ্রভাতে বসে রব কত!
            এবারের মতো বসন্ত গত
                  জীবনে।
হায়      যে রজনী যায় ফিরাইব তায়
                  কেমনে।
আরো দেখুন
পরিশিষ্ট
Stories
(ছোটো গল্প)
সাহিত্যে বড়ো গল্প ব'লে যে-সব প্রগল্‌ভ বাণীবাহন দেখা যায় তারা প্রাক্‌ভূতাত্ত্বিক যুগের প্রাণীদের মতো-- তাদের প্রাণের পরিমাণ যত দেহের পরিমাণ তার চার গুণ, তাদের লেজটা কলেবরের অত্যুক্তি।
আরো দেখুন
The Patriot
Stories
I AM SURE that Chitragupta, who keeps strict record at the gate of Death, must have noted down in big letters accusations against me, which had escaped my attention altogether. On the other hand many of my sins, that have passed unnoticed by others, loom large in my own memory. The story of my transgression, that I am going to relate, belongs to the latter kind, and I hope that a frank confession of it, before it is finally entered in the Book of Doom, may lessen its culpability.
It all happened yesterday afternoon, on a day of festival for the Jains in our neighbourhood. I was going out with my wife, Kalika, to tea at the house of my friend Nayanmohan.
আরো দেখুন
252
Verses
AROUND THE sunny island of Life swells day and night death's limitless song of the sea.
আরো দেখুন
ফেল
Stories
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না।
নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য।
আরো দেখুন
142
Verses
প্রেমের আদিম জ্যোতি আকাশে সঞ্চরে
           শুভ্রতম তেজে,
পৃথিবীতে নামে সেই নানা রূপে রূপে
           নানা বর্ণে সেজে।
আরো দেখুন
পুনরাবৃত্তি
Stories
সেদিন যুদ্ধের খবর ভালো ছিল না। রাজা বিমর্ষ হয়ে বাগানে বেড়াতে গেলেন।
দেখতে পেলেন, প্রাচীরের কাছে গাছতলায় বসে খেলা করছে একটি ছোটো ছেলে আর একটি ছোটো মেয়ে।
আরো দেখুন