দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন
বাণী
Stories
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে আকাশের মেঘ নামে, মাটির কাছে ধরা দেবে ব'লে। তেমনি কোথা থেকে মেয়েরা আসে পৃথিবীতে বাঁধা পড়তে।
তাদের জন্য অল্প জায়গার জগৎ, অল্প মানুষের। ঐটুকুর মধ্যে আপনার সবটাকে ধরানো চাই-- আপনার সব কথা, সব ব্যথা, সব ভাবনা। তাই তাদের মাথায় কাপড়, হাতে কাঁকন, আঙিনায় বেড়া। মেয়েরা হল সীমাস্বর্গের ইন্দ্রাণী।
আরো দেখুন
গোরা
Novels
শ্রাবণ মাসের সকালবেলায় মেঘ কাটিয়া গিয়া নির্মল রৌদ্রে কলিকাতার আকাশ ভরিয়া গিয়াছে। রাস্তায় গাড়িঘোড়ার বিরাম নাই, ফেরিওয়ালা অবিশ্রাম হাঁকিয়া চলিয়াছে, যাহারা আপিসে কালেজে আদালতে যাইবে তাহাদের জন্য বাসায় বাসায় মাছ-তরকারির চুপড়ি আসিয়াছে ও রান্নাঘরে উনান জ্বালাইবার ধোঁওয়া উঠিয়াছে--কিন্তু তবু এত বড়ো এই-যে কাজের শহর কঠিন হৃদয় কলিকাতা, ইহার শত শত রাস্তা এবং গলির ভিতরে সোনার আলোকের ধারা আজ যেন একটা অপূর্ব যৌবনের প্রবাহ বহিয়া লইয়া চলিয়াছে।
এমন দিনে বিনা-কাজের অবকাশে বিনয়ভূষণ তাহার বাসার দোতলার বারান্দায় একলা দাঁড়াইয়া রাস্তায় জনতার চলাচল দেখিতেছিল। কালেজের পড়াও অনেক দিন চুকিয়া গেছে, অথচ সংসারের মধ্যেও প্রবেশ করে নাই, বিনয়ের অবস্থাটা এইরূপ। সভাসমিতি চালানো এবং খবরের কাগজ লেখায় মন দিয়াছে-- কিন্তু তাহাতে সব মনটা ভরিয়া উঠে নাই। অন্তত আজ সকালবেলায় কী করিবে তাহা ভাবিয়া না পাইয়া তাহার মনটা চঞ্চল হইয়া উঠিয়াছিল। পাশের বাড়ির ছাতের উপরে গোটা-তিনেক কাক কী লইয়া ডাকাডাকি করিতেছিল এবং চড়ুই-দম্পতি তাহার বারান্দার এক কোণে বাসা-নির্মাণ-ব্যাপারে পরস্পরকে কিচিমিচি শব্দে উৎসাহ দিতেছিল-- সেই সমস্ত অব্যক্ত কাকলি বিনয়ের মনের মধ্যে একটা কোন্‌ অস্পষ্ট ভাবাবেগকে জাগাইয়া তুলিতেছিল।
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়,
ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতেম পাখির পায়
"বোলো না কাতর স্বরে না করি বিচার
জীবন স্বপনসম মায়ার সংসার।"
দুখনিশীথিনী হল আজি ভোর।
কাটিল কাটিল অধীনতা ডোর।
চাঁদের অমিয়া-সনে চন্দন বাঁটিয়া গো
কে মাজিল গোরার দেহখানি--
আরো দেখুন
বোবার বাণী
Verses
আমার ঘরের সম্মুখেই
           পাকে পাকে জড়িয়ে শিমূলগাছে
                 উঠেছে মালতীলতা।
           আষাঢ়ের রসস্পর্শ
                        লেগেছে অন্তরে তার।
           সবুজ তরঙ্গগুলি হয়েছে উজ্জ্বল
                 পল্লবের চিক্কণ হিল্লোলে।
           বাদলের ফাঁকে ফাঁকে মেঘচ্যুত রৌদ্র এসে
               ছোঁয়ায় সোনার-কাঠি অঙ্গে তার,
                       মজ্জায় কাঁপন লাগে,
               শিকড়ে শিকড়ে বাজে আগমনী।
           যেন কত-কী-যে কথা নীরবে উৎসুক হয়ে থাকে
                         শাখাপ্রশাখায়।
                        এই মৌনমুখরতা
                        সারারাত্রি অন্ধকারে
           ফুলের বাণীতে হয় উচ্ছ্বসিত,
                   ভোরের বাতাসে উড়ে পড়ে।
                 আমি একা বসে বসে ভাবি
           সকালের কচি আলো দিয়ে রাঙা
                 ভাঙা ভাঙা মেঘের সমুখে;
           বৃষ্টিধোওয়া মধ্যাহ্নের
                 গোরু-চরা মাঠের উপর আঁখি রেখে,
           নিবিড় বর্ষণে আর্ত
                 শ্রাবণের আর্দ্র অন্ধকার রাতে;
           নানা কথা ভিড় করে আসে
                 গহন মনের পথে,
                       বিবিধ রঙের সাজ,
                 বিবিধ ভঙ্গিতে আসাযাওয়া, --
                       অন্তরে আমার যেন
                 ছুটির দিনের কোলাহলে
                       কথাগুলো মেতেছে খেলায়।
           তবুও যখন তুমি আমার আঙিনা দিয়ে যাও
                    ডেকে আনি, কথা পাই নে তো।
                কখনো যদি বা ভুলে কাছে আস
                       বোবা হয়ে থাকি।
                 অবারিত সহজ আলাপে
                       সহজ হাসিতে
                 হল না তোমার অভ্যর্থনা।
           অবশেষে ব্যর্থতার লজ্জায় হৃদয় ভরে দিয়ে
                       তুমি চলে যাও ,
                 তখন নির্জন অন্ধকারে
           ফুটে ওঠে ছন্দে-গাঁথা সুরে-ভরা বাণী;
                       পথে তারা উড়ে পড়ে-
           যার খুশি সাজি ভরে নিয়ে চলে যায়।
আরো দেখুন
116
Verses
SHE IS THE SPIRIT of an Autumn evening,
robed in the gleams of the vanished sunset,
carrying the promise of the immense peace of the star,
guiding with her speechless ministry
the languid steps of the long lingering hours of the reluctant night
into the neighbourhood of the morning star.
Her tresses touched by the gentle breeze of the dawn,
that smell of the morning worship,
her sad and sweet face of the day's end
becomes radiant with the blessedness of the morning light.
আরো দেখুন
আমি শ্রাবণ-আকাশে ওই
Songs
   আমি   শ্রাবণ-আকাশে ওই দিয়েছি পাতি
          মম   জল-ছলো-ছলো আঁখি মেঘে মেঘে।
বিরহদিগন্ত পারায়ে সারা রাতি   অনিমেষে আছে জেগে॥
যে   গিয়েছে দেখার বাহিরে   আছে তারি উদ্দেশে চাহি রে,
     স্বপ্নে উড়িছে তারি কেশরাশি   পুরবপবনবেগে॥
                   শ্যামল তমালবনে
যে পথে সে চলে গিয়েছিল   বিদায়গোধূলি-খনে
     বেদনা জড়ায়ে আছে তারি ঘাসে,   কাঁপে নিশ্বাসে--
সেই   বারে বারে ফিরে ফিরে চাওয়া   ছায়ায় রয়েছে লেগে॥
আরো দেখুন
20
Verses
          আনন্দ-গান উঠুক তবে বাজি
              এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে।
          অশ্রুজলের ঢেউয়ের 'পরে আজি
              পারের তরী থাকুক ভাসিতে।
          যাবার হাওয়া ওই যে উঠেছে--ওগো
              ওই যে উঠেছে,
          সারারাত্রি চক্ষে আমার
              ঘুম যে ছুটেছে।
          হৃদয় আমার উঠছে দুলে দুলে
              অকূল জলের অট্টহাসিতে,
          কে গো তুমি দাও দেখি তান তুলে
              এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে।
          হে অজানা, অজানা সুর নব
              বাজাও আমার ব্যথার বাঁশিতে,
          হঠাৎ এবার উজান হাওয়ায় তব
              পারের তরী থাক্‌ না ভাসিতে।
          কোনো কালে হয় নি যারে দেখা--ওগো
              তারি বিরহে
          এমন করে ডাক দিয়েছে,
              ঘরে কে রহে।
          বাসার আশা গিয়েছে মোর ঘুরে,
              ঝাঁপ দিয়েছি আকাশরাশিতে;
          পাগল, তোমার সৃষ্টিছাড়া সুরে
              তান দিয়ো মোর ব্যথার বাঁশিতে।
আরো দেখুন
4
Verses
কল্যাণীয় শ্রীমান অসিতকুমার হালদার
    
     আমার মূর্তি পূর্ণ করি
         মুক্তি পেল' তোমার শক্তি,
     রেখায় রেখায় নিত্য শিখায়
         দীপ্তি পেল তোমার ভক্তি।
     চক্ষে তোমার প্রাণের মন্ত্র,
         তাই তো তোমার ধ্যানের দৃষ্টি
     তোমার রসে আমার রূপে
         রচিল এই নূতন সৃষ্টি।
আরো দেখুন