রাজরানী
Stories
কাল তোমার ভালো লাগে নি চণ্ডীকে নিয়ে বকুনি। ও একটা ছবি মাত্র। কড়া কড়া লাইনে আঁকা, ওতে রস নাই। আজ তোমাকে কিছু বলব, সে সত্যিকার গল্প।
কুসমি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই বলো। তুমি তো সেদিন বললে, বরাবর মানুষ সত্যি খবর দিয়ে এসেছে গল্পের মধ্যে মুড়ে। একেবারে ময়রার দোকান বানিয়ে রেখেছে। সন্দেশের মধ্যে ছানাকে চেনাই যায় না।
আরো দেখুন
প্রভু আমার, প্রিয় আমার, পরমধন হে
Verses
প্রভু আমার, প্রিয় আমার, পরমধন হে।
চির পথের সঙ্গী আমার চিরজীবন হে।
     তৃপ্তি আমার অতৃপ্তি মোর,
     মুক্তি আমার বন্ধনডোর,
দুঃখসুখের চরম আমার জীবনমরণ হে।
আমার সকল গতির মাঝে পরম গতি হে।
নিত্য প্রেমের ধামে আমার পরম পতি হে।
     ওগো সবার, ওগো আমার,
     বিশ্ব হতে চিত্তে বিহার--
অন্তবিহীন লীলা তোমার নূতন নূতন হে।
আরো দেখুন
অধ্যাপক
Stories
কলেজে আমার সহপাঠীসম্প্রদায়ের মধ্যে আমার একটু বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। সকলেই আমাকে সকল বিষয়েই সমজদার বলিয়া মনে করিত।
ইহার প্রধান কারণ, ভুল হউক আর ঠিক হউক, সকল বিষয়েই আমার একটা মতামত ছিল। অধিকাংশ লোকেই হাঁ এবং না জোর করিয়া বলিতে পারে না, আমি সেটা খুব বলিতাম।
আরো দেখুন
চেয়ে থাকা
Verses
মনেতে সাধ  যে দিকে চাই
      কেবলি চেয়ে রব।
দেখিব শুধু, দেখিব শুধু,
       কথাটি নাহি কব।
পরানে শুধু জাগিবে প্রেম,
       নয়নে লাগে ঘোর,
জগতে যেন ডুবিয়া রব
       হইয়া রব ভোর।
তটিনী যায়, বহিয়া যায়,
       কে জানে কোথা যায়;
তীরেতে বসে রহিব চেয়ে,
       সারাটি দিন যায়।
সুদূর জলে ডুবিছে রবি
       সোনার লেখা লিখি,
সাঁঝের আলো জলেতে শুয়ে
        করিছে ঝিকিমিকি।
সুধীর স্রোতে তরণীগুলি
        যেতেছে সারি সারি,
বহিয়া যায়, ভাসিয়া যায়
        কত-না নরনারী।
না জানি তারা কোথায় থাকে
       যেতেছে কোন্‌ দেশে,
সুদূর তীরে কোথায় গিয়ে
        থামিবে অবশেষে।
কত কী আশা গড়িছে বসে
        তাদের মনখানি,
কত কী সুখ কত কী দুখ
        কিছুই নাহি জানি।
দেখিব পাখি আকাশে ওড়ে,
        সুদূরে উড়ে যায়,
মিশায়ে যায় কিরণমাঝে,
        আঁধাররেখাপ্রায়!
তাহারি সাথে সারাটি দিন
        উড়িবে মোর প্রাণ,
নীরবে বসি তাহারি সাথে
        গাহিব তারি গান।
তাহারি মতো মেঘের মাঝে
        বাঁধিতে চাহি বাসা,
তাহারি মতো চাঁদের কোলে
        গড়িতে চাহি আশা!
তাহারি মতো আকাশে উঠে,
        ধরার পানে চেয়ে,
ধরায় যারে এসেছি ফেলে
        ডাকিব গান গেয়ে।
তাহারি মতো, তাহারি সাথে
        উষার দ্বারে গিয়ে,
ঘুমের ঘোর ভাঙায়ে দিব
        উষারে জাগাইয়ে।
পথের ধারে বসিয়া রব
        বিজন তরুছায়,
সমুখ দিয়ে পথিক যত
        কত-না আসে যায়
ধুলায় বসে আপন-মনে
        ছেলেরা খেলা করে,
মুখেতে হাসি সখারা মিলে
        যেতেছে ফিরে ঘরে।
পথের ধারে ঘরের দ্বারে
        বালিকা এক মেয়ে,
ছোটো ভায়েরে পাড়ায় ঘুম
        কত কী গান গেয়ে।
তাহার পানে চাহিয়া থাকি
        দিবস যায় চলে
স্নেহেতে ভরা করুণ আঁখি--
        হৃদয় যায় গলে ,
এতটুকু সে পরানটিতে
        এতটা সুধারাশি!
কাছেতে তাই দাঁড়ায়ে তারে
        দেখিতে ভালোবাসি।
কোথা বা শিশু কাঁদিছে, পথে
        মায়েরে ডাকি ডাকি
আকুল হয়ে পথিক-মুখে
        চাইছে থাকি থাকি।
কাতর স্বর শুনিতে পেয়ে
        জননী ছুটে আসে
মায়ের বুক জড়ায়ে শিশু
        কাঁদিতে গিয়ে হাসে।
অবাক হয়ে তাহাই দেখি
        নিমেষ ভুলে গিয়ে,
দুইটি ফোঁটা বাহিরে জল
        দুইটি আঁখি দিয়ে।
যায় রে সাধ জগৎ-পানে
        কেবলি চেয়ে রই
অবাক হয়ে, আপনা ভুলে,
        কথাটি নাহি কই।
আরো দেখুন
চাতুরী
Verses
আমার খোকা করে গো যদি মনে
     এখনি উড়ে পারে সে যেতে
          পারিজাতের বনে।
          যায় না সে কি সাধে।
     মায়ের বুকে মাথাটি থুয়ে
     সে ভালোবাসে থাকিতে শুয়ে,
     মায়ের মুখ না দেখে যদি
          পরান তার কাঁদে।
আমার খোকা সকল কথা জানে।
     কিন্তু তার এমন ভাষা,
          কে বোঝে তার মানে।
          মৌন থাকে সাধে?
     মায়ের মুখে মায়ের কথা
     শিখিতে তার কী আকুলতা,
     তাকায় তাই বোবার মতো
          মায়ের মুখচাঁদে।
খোকার ছিল রতনমণি কত--
     তবু সে এল কোলের 'পরে
        ভিখারীটির মতো।
          এমন দশা সাধে?
     দীনের মতো করিয়া ভান
     কাড়িতে চাহে মায়ের প্রাণ,
     তাই সে এল বসনহীন
          সন্ন্যাসীর ছাঁদে।
খোকা যে ছিল বাঁধন-বাধা-হারা --
  যেখানে জাগে নূতন চাঁদ
       ঘুমায় শুকতারা।
       ধরা সে দিল সাধে?
  অমিয়মাখা কোমল বুকে
  হারাতে চাহে অসীম সুখে,
  মুকতি চেয়ে বাঁধন মিঠা
       মায়ের মায়া-ফাঁদে।
আমার খোকা কাঁদিতে জানিত না,
     হাসির দেশে করিত শুধু
          সুখের আলোচনা।
          কাঁদিতে চাহে সাধে?
     মধুমুখের হাসিটি দিয়া
     টানে সে বটে মায়ের হিয়া,
     কান্না দিয়ে ব্যথার ফাঁসে
   দ্বিগুণ বলে বাঁধে।
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
শুভদৃষ্টি
Stories
কান্তিচন্দ্রের বয়স অল্প, তথাপি স্ত্রীবিয়োগের পর দ্বিতীয় স্ত্রীর অনুসন্ধানে ক্ষান্ত থাকিয়া পশুপক্ষী-শিকারেই মনোনিবেশ করিয়াছেন। দীর্ঘ কৃশ কঠিন লঘু শরীর, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, অব্যর্থ লক্ষ্য, সাজসজ্জায় পশ্চিমদেশীর মতো; সঙ্গে সঙ্গে কুস্তিগির হীরা সিং, ছক্কনলাল, এবং গাইয়ে বাজিয়ে খাঁসাহেব, মিঞাসাহেব অনেক ফিরিয়া থাকে; অকর্মণ্য অনুচর-পরিচরেরও অভাব নাই।
দুই-চারিজন শিকারী বন্ধুবান্ধব লইয়া অঘ্রানের মাঝামাঝি কান্তিচন্দ্র নৈদিঘির বিলের ধারে শিকার করিতে গিয়াছেন। নদীতে দুইটি বড়ো বোটে তাঁহাদের বাস, আরো  গোটা-তিনচার নৌকায় চাকরবাকরের দল গ্রামের ঘাট ঘিরিয়া বসিয়া আছে। গ্রামবধূদের জল তোলা, স্নান করা প্রায় বন্ধ। সমস্ত দিন বন্দুকের আওয়াজে জলস্থল কম্পমান, সন্ধ্যাবেলায় ওস্তাদি গলায় তানকর্তবে পল্লীর নিদ্রাতন্দ্রা তিরোহিত।
আরো দেখুন
বাঁশি
Stories
বাঁশির বাণী চিরদিনের বাণী--শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা, প্রতি দিনের মাটির বুক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশু নেমে এল মর্ত্যের ধূলি দিয়ে স্বর্গ-স্বর্গ খেলতে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শুনি আর মন যে কেমন করে বুঝতে পারি নে। সেই ব্যথাকে চেনা সুখদুঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজ্জ্বল, চেনা চোখের জলের চেয়ে সে গভীর।
আরো দেখুন
তোতাকাহিনী
Stories
এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।
রাজা বলিলেন, 'এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।'
আরো দেখুন
ঠাকুরদা
Stories
নয়নজোড়ের জমিদারেরা এককালে বাবু বলিয়া বিশেষ বিখ্যাত ছিলেন। তখনকার কালের বাবুয়ানার আদর্শ বড়ো সহজ ছিল না। এখন যেমন রাজা-রায়বাহাদুর খেতাব অর্জন করিতে অনেক খানা নাচ ঘোড়দৌড় এবং সেলাম-সুপারিশের শ্রাদ্ধ করিতে হয়, তখনো সাধারণের নিকট হইতে বাবু উপাধি লাভ করিতে বিস্তর দুঃসাধ্য তপশ্চরণ করিতে হইত।
আমাদের নয়নজোড়ের বাবুরা পাড় ছিঁড়িয়া ফেলিয়া ঢাকাই কাপড় পরিতেন, কারণ পাড়ের কর্কশতায় তাঁহাদের সুকোমল বাবুয়ানা ব্যথিত হইত। তাঁহারা লক্ষ টাকা দিয়া বিড়ালশাবকের বিবাহ দিতেন এবং কথিত আছে, একবার কোনো উৎসব উপলক্ষে রাত্রিকে দিন করিবার প্রতিজ্ঞা করিয়া অসংখ্য দীপ জ্বলাইয়া সূর্যকিরণের অনুকরণে তাঁহারা সাচ্চা রুপার জরি উপর হইতে বর্ষণ করিয়াছিলেন।
আরো দেখুন