দেনাপাওনা
Stories
পাঁচ ছেলের পর যখন এক কন্যা জন্মিল তখন বাপমায়ে অনেক আদর করিয়া তাহার নাম রাখিল নিরুপমা। এ গোষ্ঠীতে এমন শৌখিন নাম ইতিপূর্বে কখনো শোনা যায় নাই। প্রায় ঠাকুরদেবতার নামই প্রচলিত ছিল-- গণেশ, কার্তিক, পার্বতী, তাহার উদাহরণ।
এখন নিরুপমার বিবাহের প্রস্তাব চলিতেছে। তাহার পিতা রামসুন্দর মিত্র অনেক খোঁজ করেন কিন্তু পাত্র কিছুতেই মনের মতন হয় না। অবশেষে মস্ত এক রায়বাহাদুরের ঘরের একমাত্র ছেলেকে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছেন। উক্ত রায়বাহাদুরের পৈতৃক বিষয়-আশয় যদিও অনেক হ্রাস হইয়া আসিয়াছে কিন্তু বনেদি ঘর বটে।
আরো দেখুন
সংস্কার
Stories
চিত্রগুপ্ত এমন অনেক পাপের হিসাব বড়ো অক্ষরে তাঁর খাতায় জমা করেন যা থাকে পাপীর নিজের অগোচরে। তেমনি এমন পাপও ঘটে যাকে আমিই চিনি পাপ বলে, আর-কেউ না। যেটার কথা লিখতে বসেছি সেটা সেই জাতের। চিত্রগুপ্তের কাছে জবাবদিহি করবার পূর্বে আগে-ভাগে কবুল করলে অপরাধের মাত্রাটা হাল্‌কা হবে।
ব্যাপারটা ঘটেছিল কাল শনিবার দিনে। সেদিন আমাদের পাড়ায় জৈনদের মহলে কী একটা পরব ছিল। আমার স্ত্রী কলিকাকে নিয়ে মোটরে করে বেরিয়েছিলুম-- চায়ের নিমন্ত্রণ ছিল বন্ধু নয়নমোহনের বাড়িতে।
আরো দেখুন
বাচস্পতি
Stories
দাদামশায়, তুমি তোমার চার দিকে যেসব পাগলের দল জমিয়েছিলে, গুণ হিসেব ক'রে তাদের বুঝি সব নম্বর দিয়ে রেখেছিলে?
হ্যাঁ, তা করতে হয়েছে বই-কি। কম তো জমে নি।
আরো দেখুন
মেঘলা দিনে
Stories
রোজই থাকে সমস্তদিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সেদিনকার কাজে, সেদিনকার আলাপে সেদিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।
আজ সকালবেলা মেঘের স্তবকে স্তবকে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে, ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত শেষ করে দেওয়া যায় না।
আরো দেখুন
মধ্যবর্তিনী
Stories
নিবারণের সংসার নিতান্তই সচরাচর রকমের, তাহাতে কাব্যরসের কোনো নামগন্ধ ছিল না। জীবনে উক্ত রসের যে কোনো আবশ্যক আছে, এমন কথা তাহার মনে কখনো উদয় হয় নাই। যেমন পরিচিত পুরাতন চটি-জোড়াটার মধ্যে পা দুটো দিব্য নিশ্চিন্তভাবে প্রবেশ করে, এই পুরাতন পৃথিবীটার মধ্যে নিবারণ সেইরূপ আপনার চিরাভ্যস্ত স্থানটি অধিকার করিয়া থাকে, সে সম্বন্ধে ভ্রমেও কোনোরূপ চিন্তা তর্ক বা তত্ত্বালোচনা করে না।
নিবারণ প্রাতঃকালে উঠিয়া গলির ধারে গৃহদ্বারে খোলাগায়ে বসিয়া অত্যন্ত নিরুদ্বিগ্নভাবে হুঁকাটি লইয়া তামাক খাইতে থাকে। পথ দিয়া লোকজন যাতায়াত করে, গাড়ি ঘোড়া চলে, বৈষ্ণব-ভিখারি গান গাহে, পুরাতন বোতল সংগ্রহকারী হাঁকিয়া চলিয়া যায়; এই সমস্ত চঞ্চল দৃশ্য মনকে লঘুভাবে ব্যাপৃত রাখে এবং যেদিন কাঁচা আম অথবা তপসি-মাছওয়ালা আসে, সেদিন অনেক দরদাম করিয়া কিঞ্চিৎ বিশেষরূপে রন্ধনের আয়োজন হয়। তাহার পর যথাসময়ে তেল মাখিয়া স্নান করিয়া আহারান্তে দড়িতে ঝুলানো চাপকানটি পরিয়া এক ছিলিম তামাক পানের সহিত নিঃশেষপূর্বক আর একটি পান মুখে পুরিয়া, আপিসে যাত্রা করে। আপিস হইতে ফিরিয়া আসিয়া সন্ধ্যেবেলাটা প্রতিবেশী রামলোচন ঘোষের বাড়িতে প্রশান্ত গম্ভীর ভাবে সন্ধ্যাযাপন করিয়া আহারান্তে রাত্রে শয়নগৃহে স্ত্রী হরসুন্দরীর সহিত সাক্ষাৎ হয়।
আরো দেখুন
ভালোমানুষ
Stories
ছিঃ, আমি নেহাত ভালোমানুষ।
কুসমি বললে, কী যে তুমি বল তার ঠিক নেই। তুমি যে ভালোমানুষ সেও কি বলতে হবে। কে না জানে, তুমি ও পাড়ার লোটনগুণ্ডার দলের সর্দার নও। ভালোমানুষ তুমি বল কাকে।
আরো দেখুন
লজ্জা
Verses
            আমার হৃদয় প্রাণ
            সকলই করেছি দান,
       কেবল শরমখানি রেখেছি।
            চাহিয়া নিজের পানে
            নিশিদিন সাবধানে
       সযতনে আপনারে ঢেকেছি।
            হে বঁধু, এ স্বচ্ছ বাস
            করে মোরে পরিহাস,
       সতত রাখিতে নারি ধরিয়া--
            চাহিয়া আঁখির কোণে
            তুমি হাস মনে মনে,
       আমি তাই লাজে যাই মরিয়া।
            দক্ষিণপবনভরে
            অঞ্চল উড়িয়া পড়ে
       কখন্‌ যে নাহি পারি লখিতে।
            পুলকব্যাকুল হিয়া
            অঙ্গে উঠে বিকশিয়া,
       আবার চেতনা হয় চকিতে।
            বদ্ধ গৃহে করি বাস
            রুদ্ধ যবে হয় শ্বাস
       আধেক বসনবন্ধ খুলিয়া
            বসি গিয়া বাতায়নে,
            সুখসন্ধ্যাসমীরণে
       ক্ষণতরে আপনারে ভুলিয়া।
পূর্ণচন্দ্রকররাশি
            মূর্ছাতুর পড়ে আসি
       এই নবযৌবনের মুকুলে,
            অঙ্গ মোর ভালোবেসে
            ঢেকে দেয় মৃদু হেসে
       আপনার লাবণ্যের দুকূলে--
            মুখে বক্ষে কেশপাশে
            ফিরে বায়ু খেলা-আশে,
       কুসুমের গন্ধ ভাসে গগনে--
            হেনকালে তুমি এলে
            মনে হয় স্বপ্ন ব'লে,
       কিছু আর নাহি থাকে স্মরণে।
            থাক্‌ বঁধু, দাও ছেড়ে,
            ওটুকু নিয়ো না কেড়ে,
       এ শরম দাও মোরে রাখিতে--
            সকলের অবশেষ
            এইটুকু লাজলেশ
       আপনারে আধখানি ঢাকিতে।
            ছলছল-দু'নয়ান
            করিয়ো না অভিমান,
       আমিও যে কত নিশি কেঁদেছি;
            বুঝাতে পারি নে যেন
            সব দিয়ে তবু কেন
       সবটুকু লাজ দিয়ে বেঁধেছি--
কেন যে তোমার কাছে
       একটু গোপন আছে,
একটু রয়েছি মুখ হেলায়ে।
       এ নহে গো অবিশ্বাস--
       নহে সখা, পরিহাস,
নহে নহে ছলনার খেলা এ।
       বসন্তনিশীথে বঁধু,
       লহ গন্ধ, লহ মধু,
সোহাগে মুখের পানে তাকিয়ো।
       দিয়ো দোল আশে-পাশে,
       কোয়ো কথা মৃদু ভাষে--
শুধু এর বৃন্তটুকু রাখিয়ো।
       সেটুকুতে ভর করি
       এমন মাধুরী ধরি
তোমাপানে আছি আমি ফুটিয়া,
       এমন মোহনভঙ্গে
       আমার সকল অঙ্গে
নবীন লাবণ্য যায় লুটিয়া--
       এমন সকল বেলা
       পবনে চঞ্চল খেলা,
বসন্তকুসুম-মেলা দুধারি।
       শুন বঁধু, শুন তবে,
       সকলই তোমার হবে,
কেবল শরম থাক্‌ আমারি।
আরো দেখুন
প্রতিহিংসা
Stories
মুকুন্দবাবুদের ভূতপূর্ব দেওয়ানের পৌত্রী, বর্তমান ম্যানেজারের স্ত্রী ইন্দ্রাণী অশুভক্ষণে বাবুদের বাড়িতে তাঁহাদের দৌহিত্রের বিবাহে বউভাতের নিমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন।
তৎপূর্বকার ইতিহাস সংক্ষেপে বলিয়া রাখিলে কথাটা পরিষ্কার হইবে।
আরো দেখুন
হৈমন্তী
Stories
কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন,মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই তাড়া।
আমি ছিলাম বর। সুতরাং, বিবাহসম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি, এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ, কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষ ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।
আরো দেখুন