নির্মল কান্ত, নমো
Songs
নির্মল কান্ত, নমো হে নমো, নমো হে, নমো হে।
     স্নিগ্ধ সুশান্ত, নমো হে নমো, নমো হে, নমো হে।
              বন-অঙ্গন-ময় রবিকররেখা
                   লেপিল আলিম্পনলিপি-লেখা,
              আঁকিব তাহে প্রণতি মম।
নমো হে নমো, নমো হে নমো, নমো হে নমো ॥
আরো দেখুন
মণিহারা
Stories
সেই জীর্ণপ্রায় বাঁধাঘাটের ধারে আমার বোট লাগানো ছিল। তখন সূর্য অস্ত গিয়াছে।
বোটের ছাদের উপরে মাঝি নমাজ পড়িতেছে। পশ্চিমের জ্বলন্ত আকাশপটে তাহার নীরব উপাসনা ক্ষণে ক্ষণে ছবির মতো আঁকা পড়িতেছিল। স্থির রেখাহীন নদীর জলের উপর ভাষাতীত অসংখ্য বর্ণচ্ছটা দেখিতে দেখিতে ফিকা হইতে গাঢ় লেখায়, সোনার রঙ হইতে ইস্পাতের রঙে, এক আভা হইতে আর-এক আভায় মিলাইয়া আসিতেছিল।
আরো দেখুন
সাধনা
Verses
দেবী,     অনেক ভক্ত এসেছে তোমার চরণতলে
               অনেক অর্ঘ্য আনি,
         আমি অভাগ্য এনেছি বহিয়া নয়নজলে
               ব্যর্থ সাধনখানি।
         তুমি জান মোর মনের বাসনা,
         যত সাধ ছিল সাধ্য ছিল না,
         তবু বহিয়াছি কঠিন কামনা
               দিবসনিশি।
         মনে যাহা ছিল হয়ে গেল আর,
         গড়িতে ভাঙিয়া গেল বারবার,
         ভালোয় মন্দে আলোয় আঁধার
               গিয়েছে মিশি।
         তবু ওগো, দেবী, নিশিদিন করি পরানপণ,
               চরণে দিতেছি আনি
         মোর জীবনের সকল শ্রেষ্ঠ সাধের ধন
               ব্যর্থ সাধনখানি।
      ওগো       ব্যর্থ সাধনখানি
         দেখিয়া হাসিছে সার্থকফল
               সকল ভক্ত প্রাণী।
         তুমি যদি, দেবী, পলকে কেবল
         কর কটাক্ষ স্নেহসুকোমল,
         একটি বিন্দু ফেল আঁখিজল
               করুণা মানি,
         সব হবে তবে সার্থক হবে
               ব্যর্থ সাধনখানি।
      দেবী,   আজি আসিয়াছে অনেক যন্ত্রী শুনাতে গান
               অনেক যন্ত্র আনি,
           আমি আনিয়াছি ছিন্নতন্ত্রী নীরব ম্লান
               এই দীন বীণাখানি।
           তুমি জান ওগো করি নাই হেলা,
           পথে প্রান্তরে করি নাই খেলা,
           শুধু সাধিয়াছি বসি সারাবেলা
               শতেক বার।
           মনে যে গানের আছিল আভাস,
           যে তান সাধিতে করেছিনু আশ,
            সহিল না সেই কঠিন প্রয়াস--
               ছিঁড়িল তার।
           স্তবহীন তাই রয়েছি দাঁড়ায়ে সারাটি ক্ষণ,
                 আনিয়াছি গীতহীনা
           আমার প্রাণের একটি যন্ত্র বুকের ধন
                 ছিন্নতন্ত্রী বীণা।
         ওগো      ছিন্নতন্ত্রী বীণা
           দেখিয়া তোমার গুণীজন সবে
                 হাসিছে করিয়া ঘৃণা।
           তুমি যদি এরে লহ কোলে তুলি,
           তোমার শ্রবণে উঠিবে আকুলি
           সকল অগীত সংগীতগুলি,
                 হৃদয়াসীনা।
           ছিল যা আশায় ফুটাবে ভাষায়
                 ছিন্নতন্ত্রী বীণা।
       দেবী, এ জীবনে আমি গাহিয়াছি বসি অনেক গান,
                 পেয়েছি অনেক ফল--
          সে আমি সবারে বিশ্বজনারে করেছি দান,
                 ভরেছি ধরণীতল।
          যার ভালো লাগে সেই নিয়ে যাক,
          যতদিন থাকে ততদিন থাক্‌,
          যশ-অপযশ কুড়ায়ে বেড়াক
                 ধুলার মাঝে।
          বলেছি যে কথা করেছি যে কাজ
          আমার সে নয় সবার সে আজ
          ফিরিছে ভ্রমিয়া সংসারমাঝ
                 বিবিধ সাজে।
          যা-কিছু আমার আছে অপনার শ্রেষ্ঠ ধন
                 দিতেছি চরণে আসি--
          অকৃত কার্য, অকথিত বাণী, অগীত গান,
                 বিফল বাসনারাশি।
           ওগো      বিফল বাসনারাশি
             হেরিয়া আজিকে ঘরে পরে সবে
                       হাসিছে হেলার হাসি।
             তুমি যদি, দেবী, লহ কর পাতি,
             আপনার হাতে রাখ মালা গাঁথি,
             নিত্য নবীন রবে দিনরাতি
                       সুবাসে ভাসি,
             সফল করিবে জীবন আমার
                       বিফল বাসনারাশি।
আরো দেখুন
গিন্নি
Stories
ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।
প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইত।
আরো দেখুন
কৃতঘ্ন শোক
Stories
ভোরবেলায় সে বিদায় নিলে।
আমার মন আমাকে বোঝাতে বসল, 'সবই মায়া।'
আরো দেখুন
হালদারগোষ্ঠী
Stories
এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না। অবস্থাও সচ্ছল, মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে, কিন্তু তবুও গোল বাধিল।
কেননা, সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত, একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না; যদি বা ঘটিত সেটাকে রবার দিয়া মুছিয়া সংশোধন করিলেই চলিয়া যাইত।
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
চার অধ্যায়
Novels
এলার মনে পড়ে তার জীবনের প্রথম সূচনা বিদ্রোহের মধ্যে। তার মা মায়াময়ীর ছিল বাতিকের ধাত, তাঁর ব্যবহারটা বিচার-বিবেচনার প্রশস্ত পথ ধরে চলতে পারত না। বেহিসাবি মেজাজের অসংযত ঝাপটায় সংসারকে তিনি যখন-তখন ক্ষুব্ধ করে তুলতেন, শাসন করতেন অন্যায় করে, সন্দেহ করতেন অকারণে। মেয়ে যখন অপরাধ অস্বীকার করত, ফস করে বলতেন, মিথ্যে কথা বলছিস। অথচ অবিমিশ্র সত্যকথা বলা মেয়ের একটা ব্যসন বললেই হয়। এজন্যেই সে শাস্তি পেয়েছে সব-চেয়ে বেশি। সকল রকম অবিচারের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতা তার স্বভাবে প্রবল হয়ে উঠেছে। তার মার কাছে মনে হয়েছে, এইটেই স্ত্রীধর্মনীতির বিরুদ্ধ।
একটা কথা সে বাল্যকাল থেকে বুঝেছে যে, দুর্বলতা অত্যাচারের প্রধান বাহন। ওদের পরিবারে যে-সকল আশ্রিত অন্নজীবী ছিল, যারা পরের অনুগ্রহ-নিগ্রহের সংকীর্ণ বেড়া-দেওয়া ক্ষেত্রের মধ্যে নিঃসহায়ভাবে আবদ্ধ তারাই কলুষিত করেছে ওদের পরিবারের আবহাওয়াকে, তারাই ওর মায়ের অন্ধ প্রভুত্বচর্চাকে বাধাবিহীন করে তুলেছে। এই অস্বাস্থ্যকর অবস্থার প্রতিক্রিয়ারূপেই ওর মনে অল্পবয়স থেকেই স্বাধীনতার আকাঙক্ষা এত দুর্দাম হয়ে উঠেছিল।
প্রহরশেষের আলোয় রাঙা
সেদিন চৈত্রমাস,
তোমার চোখে দেখেছিলাম
আমার সর্বনাশ।"
Upwards
Towards the peaks,
Towards the stars,
Towards the vast silence."
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন
গলি
Stories
আমাদের এই শানবাঁধানো গলি, বারে বারে ডাইনে বাঁয়ে এঁকে বেঁকে একদিন কী যেন খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সে যে দিকেই যায় ঠেকে যায়। এ দিকে বাড়ি, ও দিকে বাড়ি, সামনে বাড়ি।
উপরের দিকে যেটুকু নজর চলে তাতে সে একখানি আকাশের রেখা দেখতে পায়-- ঠিক তার নিজেরই মতো সরু, তার নিজেরই মতো বাঁকা।
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন