বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
মধ্যবর্তিনী
Stories
নিবারণের সংসার নিতান্তই সচরাচর রকমের, তাহাতে কাব্যরসের কোনো নামগন্ধ ছিল না। জীবনে উক্ত রসের যে কোনো আবশ্যক আছে, এমন কথা তাহার মনে কখনো উদয় হয় নাই। যেমন পরিচিত পুরাতন চটি-জোড়াটার মধ্যে পা দুটো দিব্য নিশ্চিন্তভাবে প্রবেশ করে, এই পুরাতন পৃথিবীটার মধ্যে নিবারণ সেইরূপ আপনার চিরাভ্যস্ত স্থানটি অধিকার করিয়া থাকে, সে সম্বন্ধে ভ্রমেও কোনোরূপ চিন্তা তর্ক বা তত্ত্বালোচনা করে না।
নিবারণ প্রাতঃকালে উঠিয়া গলির ধারে গৃহদ্বারে খোলাগায়ে বসিয়া অত্যন্ত নিরুদ্বিগ্নভাবে হুঁকাটি লইয়া তামাক খাইতে থাকে। পথ দিয়া লোকজন যাতায়াত করে, গাড়ি ঘোড়া চলে, বৈষ্ণব-ভিখারি গান গাহে, পুরাতন বোতল সংগ্রহকারী হাঁকিয়া চলিয়া যায়; এই সমস্ত চঞ্চল দৃশ্য মনকে লঘুভাবে ব্যাপৃত রাখে এবং যেদিন কাঁচা আম অথবা তপসি-মাছওয়ালা আসে, সেদিন অনেক দরদাম করিয়া কিঞ্চিৎ বিশেষরূপে রন্ধনের আয়োজন হয়। তাহার পর যথাসময়ে তেল মাখিয়া স্নান করিয়া আহারান্তে দড়িতে ঝুলানো চাপকানটি পরিয়া এক ছিলিম তামাক পানের সহিত নিঃশেষপূর্বক আর একটি পান মুখে পুরিয়া, আপিসে যাত্রা করে। আপিস হইতে ফিরিয়া আসিয়া সন্ধ্যেবেলাটা প্রতিবেশী রামলোচন ঘোষের বাড়িতে প্রশান্ত গম্ভীর ভাবে সন্ধ্যাযাপন করিয়া আহারান্তে রাত্রে শয়নগৃহে স্ত্রী হরসুন্দরীর সহিত সাক্ষাৎ হয়।
আরো দেখুন
ঠাকুরদা
Stories
নয়নজোড়ের জমিদারেরা এককালে বাবু বলিয়া বিশেষ বিখ্যাত ছিলেন। তখনকার কালের বাবুয়ানার আদর্শ বড়ো সহজ ছিল না। এখন যেমন রাজা-রায়বাহাদুর খেতাব অর্জন করিতে অনেক খানা নাচ ঘোড়দৌড় এবং সেলাম-সুপারিশের শ্রাদ্ধ করিতে হয়, তখনো সাধারণের নিকট হইতে বাবু উপাধি লাভ করিতে বিস্তর দুঃসাধ্য তপশ্চরণ করিতে হইত।
আমাদের নয়নজোড়ের বাবুরা পাড় ছিঁড়িয়া ফেলিয়া ঢাকাই কাপড় পরিতেন, কারণ পাড়ের কর্কশতায় তাঁহাদের সুকোমল বাবুয়ানা ব্যথিত হইত। তাঁহারা লক্ষ টাকা দিয়া বিড়ালশাবকের বিবাহ দিতেন এবং কথিত আছে, একবার কোনো উৎসব উপলক্ষে রাত্রিকে দিন করিবার প্রতিজ্ঞা করিয়া অসংখ্য দীপ জ্বলাইয়া সূর্যকিরণের অনুকরণে তাঁহারা সাচ্চা রুপার জরি উপর হইতে বর্ষণ করিয়াছিলেন।
আরো দেখুন
একটি চাউনি
Stories
গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে।
এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে।
আরো দেখুন
উপকথা
Verses
               মেঘের আড়ালে বেলা কখন যে যায়
               বৃষ্টি পড়ে সারাদিন থামিতে না চায়।
আর্দ্র-পাখা পাখিগুলি              গীতগান গেছে ভুলি,
          নিস্তব্ধে ভিজিছে তরুলতা।
বসিয়া আঁধার ঘরে                বরষার ঝরঝরে
          মনে পড়ে কত উপকথা।
কভু মনে লয় হেন                 এ সব কাহিনী যেন
          সত্য ছিল নবীন জগতে।
উড়ন্ত মেঘের মতো                ঘটনা ঘটিত কত,
          সংসার উড়িত মনোরথে।
রাজপুত্র অবহেলে                  কোন্‌ দেশে যেত চলে,
          কত নদী কত সিন্ধু পার।
সরোবর ঘাট আলা                মণি হাতে নাগবালা
বসিয়া বাঁধিত কেশভার।
সিন্ধুতীরে কত দূরে               কোন্‌ রাক্ষসের পুরে
          ঘুমাইত রাজার ঝিয়ারি।
হাসি তার মণিকণা                কেহ তাহা দেখিত না,
          মুকুতা ঢালিত অশ্রুবারি।
সাত ভাই একত্তরে                চাঁপা হয়ে ফুটিত রে
          এক বোন ফুটিত পারুল।
সম্ভব কি অসম্ভব                  একত্রে আছিল সব
          দুটি ভাই সত্য আর ভুল।
বিশ্ব নাহি ছিল বাঁধা               না ছিল কঠিন বাধা
          নাহি ছিল বিধির বিধান,
হাসিকান্না লঘুকায়া                শরতের আলোছায়া
          কেবল সে ছুঁয়ে যেত প্রাণ।
আজি ফুরায়েছে বেলা,           জগতের ছেলেখেলা
          গেছে আলো-আঁধারের দিন।
আর তো নাই রে ছুটি,           মেঘরাজ্য গেছে টুটি,
          পদে পদে নিয়ম-অধীন।
মধ্যাহ্নে রবির দাপে               বাহিরে কে রবে তাপে
          আলয় গড়িতে সবে চায়।
যবে হায় প্রাণপণ                  করে তাহা সমাপন
          খেলারই মতন ভেঙে যায়।
আরো দেখুন
চতুরঙ্গ
Novels
আমি পাড়াগাঁ হইতে কলিকাতায় আসিয়া কালেজে প্রবেশ করিলাম। শচীশ তখন বি. এ. ক্লাসে পড়িতেছে। আমাদের বয়স প্রায় সমান হইবে।
শচীশকে দেখিলে মনে হয় যেন একটা জ্যোতিষ্ক-- তার চোখ জ্বলিতেছে; তার লম্বা সরু আঙুলগুলি যেন আগুনের শিখা; তার গায়ের রঙ যেন রঙ নহে, তাহা আভা। শচীশকে যখন দেখিলাম অমনি যেন তার অন্তরাত্মাকে দেখিতে পাইলাম; তাই একমুহূর্তে তাহাকে ভালোবাসিলাম।
আরো দেখুন
আমরা খুঁজি খেলার
Songs
                আমরা খুঁজি খেলার সাথি--
ভোর না হতে জাগাই তাদের ঘুমায় যারা সারা রাতি॥
    আমরা ডাকি পাখির গলায়,    আমরা নাচি বকুলতলায়,
মন ভোলাবার মন্ত্র জানি,    হাওয়াতে ফাঁদ আমরা পাতি।
                মরণকে তো মানি নে রে,
কালের ফাঁসি ফাঁসিয়ে দিয়ে লুঠ-করা ধন নিই যে কেড়ে।
    আমরা তোমার মনোচোরা, ছাড়ব না গো তোমায় মোরা--
চলেছ কোন্‌ আঁধারপানে    সেথাও জ্বলে মোদের বাতি॥
আরো দেখুন
রাজপুত্তুর
Stories
রাজপুত্তুর চলেছে নিজের রাজ্য ছেড়ে, সাত রাজার রাজ্য পেরিয়ে, যে দেশে কোনো রাজার রাজ্য নেই সেই দেশে।
সে হল যে কালের কথা সে কালের আরম্ভও নেই, শেষও নেই।
আরো দেখুন
এই-যে কালো মাটির বাসা
Songs
এই-যে কালো মাটির বাসা শ্যামল সুখের ধরা--
এইখানেতে আঁধার-আলোয় স্বপন-মাঝে চরা ॥
এরই গোপন হৃদয় 'পরে   ব্যথার স্বর্গ বিরাজ করে
                   দুঃখে-আলো-করা ॥
বিরহী তোর সেইখানে যে একলা বসে থাকে--
হৃদয় তাহার ক্ষণে ক্ষণে নামটি তোমার ডাকে।
দুঃখে যখন মিলন হবে   আনন্দলোক মিলবে তবে
                   সুধায়-সুধায়-ভরা ॥
আরো দেখুন
325
Verses
RELEASE ME from my unfulfilled past clinging to me from behind making death difficult.
আরো দেখুন
সৃষ্টিরহস্য
Verses
সৃষ্টির রহস্য  আমি তোমাতে করেছি অনুভব,
          নিখিলের অস্তিত্বগৌরব।
                 তুমি আছ, তুমি এলে,
এ বিস্ময় মোর পানে আপনারে নিত্য আছে মেলে
          অলৌকিক পদ্মের মতন।
                 অন্তহীন কাল আর অসীম গগন
                        নিদ্রাহীন আলো
কী অনাদি মন্ত্রে তারা অঙ্গ ধরি তোমাতে মিলালো।
          যুগে যুগে কী অক্লান্ত সাধনায়,
                 অগ্নিময়ী বেদনায়,
          নিমেষে হয়েছে ধন্য শক্তির মহিমা
                        পেয়ে আপনার সীমা
ওই মুখে, ওই চক্ষে, ওই হাসিটিতে।
সেই সৃষ্টিতপস্যার সার্থক আনন্দ মোর চিতে
          স্পর্শ করে, যবে তব মুখে মেলি আঁখি
                 সম্মুখে তোমার বসে থাকি।
আরো দেখুন