20
Verses
   আসন দিলে অনাহূতে,
         ভাষণ দিলে বীণাতানে--
   বুঝি গো তুমি মেঘদূতে
         পাঠায়েছিলে মোর পানে।
   বাদল-রাতি এল যবে
         বসিয়াছিনু একা-একা--
   গভীর গুরু-গুরু রবে
         কী ছবি মনে দিল দেখা।
   পথের কথা পুবে হাওয়া
         কহিল মোরে থেকে থেকে--
   উদাস হয়ে চলে যাওয়া
         খ্যাপামি সেই রোধিবে কে!
   আমার তুমি অচেনা যে
         সে কথা নাহি মানে হিয়া,
   তোমারে কবে মনোমাঝে
         জেনেছি আমি না জানিয়া।
   ফুলের ডালি কোলে দিনু--
         বসিয়াছিলে একাকিনী।
   তখনি ডেকে বলেছিনু:
         তোমারে চিনি, ওগো, চিনি।
আরো দেখুন
গুপ্তধন
Stories
অমাবস্যার নিশীথ রাত্রি। মৃত্যুঞ্জয় তান্ত্রিক মতে তাহাদের বহুকালের গৃহদেবতা জয়কালীর  পূজায় বসিয়াছে। পূজা সমাধা করিয়া যখন  উঠিল তখন  নিকটস্থ  আমবাগান হইতে প্রত্যুষের প্রথম কাক ডাকিল।
মৃত্যুঞ্জয়  পশ্চাতে ফিরিয়া  চাহিয়া দেখিলেন মন্দিরের দ্বার রূদ্ধ রহিয়াছে।  তখন সে একবার দেবীর চরণতলে মস্তক  ঠেকাইয়া তাঁহার  আসন সরাইয়া দিল।  সেই আসনের নীচে হইতে  একটি  কাঁঠালকাঠের বাক্স  বাহির হইল।  পৈতায়  চাবি  বাঁধা  ছিল।  সেই চাবি লাগাইয়া  মৃত্যুঞ্জয়  বাক্সটি খুলিল।   খুলিবামাত্রই  চমকিয়া  উঠিয়া  মাথায়ে  করাঘাত করিল।
আরো দেখুন
16
Verses
আঁধারের লীলা আকাশে আলোক-লেখায়,
     ছন্দের লীলা অচল মৃদঙ্গে।
অরূপের লীলা রূপের রেখায় রেখায়,
     অতলের লীলা চপল তরঙ্গে।
আরো দেখুন
নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
বাধা
Verses
পূর্ণ করি নারী তার জীবনের থালি
          প্রিয়ের চরণে প্রেম নিঃশেষিয়া দিতে গেল ঢালি,
                             ব্যর্থ হল পথ-খোঁজা--
          কহিল, "হে ভগবান, নিষ্ঠুর যে এ অর্ঘ্যের বোঝা;
                   আমার দিবস রাত্রি অসহ্য পেষণে
          একান্ত পীড়িত আর্ত; তাই সান্ত্বনার অন্বেষণে
এসেছি তোমার দ্বারে--এ প্রেম তুমিই লও প্রভু!'
          "লও লও' বারবার ডেকে বলে, তবু
                   দিতে পারে না যে তাকে
          কৃপণের ধন-সম শিরা আঁকড়িয়া থাকে।
যেমন তুষাররাশি গিরিশিরে লগ্ন রহে,
          কিছুতে স্রোত না বহে,
                   আপন নিষ্ফল কঠিনতা
                             দেয় তারে ব্যথা,
                   তেমনি সে নারী
          নিশ্চল-হৃদয়ভারে-ভারী
কেঁদে বলে, "কী ধনে আমার প্রেম দামি
     সে যদি না বুঝেছিল, তুমি অন্তর্যামী,
          তুমিও কি এরে চিনিবে না?
                   মানবজন্মের সব দেনা
শোধ করি লও, প্রভু, আমার সর্বস্ব রত্ন নিয়ে।
     তুমি যে প্রেমের লোভী মিথ্যা কথা কি এ!'
          "লও লও' যত বলে খোলে না যে তার
                   হৃদয়ের দ্বার।
          সারাদিন মন্দিরা বাজায়ে করে গান,
                   "লও তুমি লও ভগবান!'
আরো দেখুন
রথযাত্রা
Stories
রথযাত্রার দিন কাছে।
তাই রানী রাজাকে বললে, 'চলো, রথ দেখতে যাই।'
আরো দেখুন
কী দিব তোমায়
Songs
              কী দিব তোমায়। নয়নেতে অশ্রুধার,
                 শোকে হিয়া জরজর হে।। 
                     দিয়ে যাব হে,  তোমারি পদতলে
                         আকুল এ হৃদয়ের ভার।।
আরো দেখুন
দুঃখের য্জ্ঞ-অনল-জ্বলনে
Songs
দুঃখের যজ্ঞ-অনল-জ্বলনে জন্মে যে প্রেম
দীপ্ত সে হেম—
নিত্য সে নিঃসংশয়, গৌরব তার অক্ষয়।
দুরাকাঙ্খার পরপারে বিরহতীর্থে করে বাস
যেথা জ্বলে ক্ষুব্ধ হোমাগ্নিশিখায় চিরনৈরাশ,
তৃষ্ণাদাহনমুক্ত অনুদিন অমলিন রয়।
গৌরব তার অক্ষয়—
অশ্রু-উৎস-জল-স্নান তাপস মৃত্যুঞ্জয়॥
আরো দেখুন
সে আমার জননী রে
Verses
ভৈরবী । রূপক
কে এসে যায় ফিরে ফিরে
আকুল নয়নের নীরে?
     কে বৃথা আশাভরে
     চাহিছে মুখ-'পরে?
সে যে আমার জননী রে!
কাহার সুধাময়ী বাণী
মিলায় অনাদর মানি?
     কাহার ভাষা হায়
     ভুলিতে সবে চায়?
সে যে আমার জননী রে!
ক্ষণেক স্নেহকোল ছাড়ি
চিনিতে আর নাহি পারি।
     আপন সন্তান
     করিছে অপমান--
সে যে আমার জননী রে!
পুণ্য কুটিরে বিষণ্ণ
কে ব'সে সাজাইয়া অন্ন?
     সে স্নেহ-উপহার
     রুচে না মুখে আর!
সে যে আমার জননী রে!
আরো দেখুন
ধ্বংস
Stories
দিদি, তোমাকে একটা হালের খবর বলি।--
প্যারিস শহরের অল্প একটু দূরে ছিল তাঁর ছোটো বাসাটি। বাড়ির কর্তার নাম পিয়ের শোপ্যাঁ। তাঁর সারা জীবনের শখ ছিল গাছপালার জোড় মিলিয়ে, রেণু মিলিয়ে, তাদের চেহারা, তাদের রঙ, তাদের স্বাদ বদল ক'রে নতুন রকমের সৃষ্টি তৈরি করতে। তাতে কম সময় লাগত না। এক-একটি ফুলের ফলের স্বভাব বদলাতে বছরের পর বছর কেটে যেত। এ কাজে যেমন ছিল তাঁর আনন্দ তেমনি ছিল তাঁর ধৈর্য। বাগান নিয়ে তিনি যেন জাদু করতেন। লাল হত নীল, সাদা হত আলতার রঙ, আঁটি যেত উড়ে, খোসা যেত খ'সে। যেটা ফলতে লাগে ছ মাস তার মেয়াদ কমে হত দু মাস। ছিলেন গরিব, ব্যবসাতে সুবিধা করতে পারতেন না। যে করত তাঁর হাতের কাজের তারিফ তাকে দামি মাল অমনি দিতেন বিলিয়ে। যার মতলব ছিল দাম ফাঁকি দিতে সে এসে বলত, কী ফুল ফুটেছে আপনার সেই গাছটাতে, চার দিক থেকে লোক আসছে দেখতে, একেবারে তাক লেগে যাচ্ছে।
আরো দেখুন