আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া
Songs
          আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী করেছ দান--
      তুমি জান নাই, তুমি জান নাই,
তুমি জান নাই তার মূল্যের পরিমাণ।
            রজনীগন্ধা অগোচরে
যেমন রজনী স্বপনে ভরে
                  সৌরভে,
      তুমি জান নাই, তুমি জান নাই,
তুমি জান নাই, মরমে আমার ঢেলেছ তোমার গান।
      বিদায় নেবার সময় এবার হল--
            প্রসন্ন মুখ তোলো,
                  মুখ তোলো, মুখ তোলো--
মধুর মরণে পূর্ণ করিয়া সঁপিয়া যাব প্রাণ
                                          চরণে।
      যারে জান নাই, যারে জান নাই,
            যারে জান নাই,
তার    গোপন ব্যথার নীরব রাত্রি হোক আজি অবসান॥
আরো দেখুন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
Stories
রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল, বড়ো বড়ো চোখ, শ্যামচিক্কণ ছিপ্‌ছিপে বালক। জাতিতে কায়স্থ। তাহার প্রভুরাও কায়স্থ। বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল।
সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে, স্কুল ছাড়িয়া কলেজে, অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্‌সেফিতে প্রবেশ করিয়াছে। রাইচরণ এখনো তাঁহার ভৃত্য।
আরো দেখুন
মেঘদূত
Stories
মিলনের প্রথম দিনে বাঁশি কী বলেছিল।
সে বলেছিল, 'সেই মানুষ আমার কাছে এল যে মানুষ আমার দূরের।'
আরো দেখুন
কেন
Verses
     জ্যোতিষীরা বলে,
সবিতার আত্মদান-যজ্ঞের হোমাগ্নিবেদিতলে
     যে জ্যোতি উৎসর্গ হয় মহারুদ্রতপে
         এ বিশ্বের মন্দিরমণ্ডপে,
          অতিতুচ্ছ অংশ তার ঝরে
     পৃথিবীর অতিক্ষুদ্র মৃৎপাত্রের 'পরে।
         অবশিষ্ট অমেয় আলোকধারা
                   পথহারা,
              আদিম দিগন্ত হতে
         অক্লান্ত চলেছে ধেয়ে নিরুদ্দেশ স্রোতে।
     সঙ্গে সঙ্গে ছুটিয়াছে অপার তিমির-তেপান্তরে
     অসংখ্য নক্ষত্র হয়ে রশ্মিপ্লাবী নিরন্ত নির্ঝরে
                   সর্বত্যাগী অপব্যয়,
         আপন সৃষ্টির 'পরে বিধাতার নির্মম অন্যায়।
     কিংবা এ কি মহাকাল কল্পকল্পান্তের দিনে রাতে
     এক হাতে দান ক'রে ফিরে ফিরে নেয় অন্য হাতে।
         সঞ্চয়ে ও অপচয়ে যুগে যুগে কাড়াকাড়ি যেন--
                            কিন্তু, কেন।
     তার পরে চেয়ে দেখি মানুষের চৈতন্যজগতে
     ভেসে চলে সুখদুঃখ কল্পনাভাবনা কত পথে।
         কোথাও বা জ্ব'লে ওঠে জীবন-উৎসাহ,
              কোথাও বা সভ্যতার চিতাবহ্নিদাহ
         নিভে আসে নিঃস্বতার ভস্ম-অবশেষে।
                   নির্ঝর ঝরিছে দেশে দেশে--
     লক্ষ্যহীন প্রাণস্রোতে মৃত্যুর গহ্বরে ঢালে মহী
         বাসনার বেদনার অজস্র বুদ্বুদপুঞ্জ বহি।
                   কে তার হিসাব রাখে লিখি।
                   নিত্য নিত্য এমনি কি
              অফুরান আত্মহত্যা মানবসৃষ্টির
                        নিরন্তর প্রলয়বৃষ্টির
                               অশ্রান্ত প্লাবনে।
                           নিরর্থক হরণে ভরণে
                    মানুষের চিত্ত নিয়ে সারাবেলা
              মহাকাল করিতেছে দ্যূতখেলা
                            বাঁ হাতে দক্ষিণ হাতে যেন--
                                      কিন্তু, কেন।
     প্রথম বয়সে কবে ভাবনার কী আঘাত লেগে
                   এ প্রশ্নই মনে উঠেছিল জেগে--
              শুধায়েছি, এ বিশ্বের কোন্‌ কেন্দ্রস্থলে
                        মিলিতেছে প্রতি দণ্ডে পলে
                   অরণ্যের পর্বতের সমুদ্রের উল্লোল গর্জন,
                            ঝটিকার মন্দ্রস্বন,
                                        দিবসনিশার
         বেদনাবীণার তারে চেতনার মিশ্রিত ঝংকার,
                   পূর্ণ করি ঋতুর উৎসব
              জীবনের মরণের নিত্যকলরব,
                   আলোকের নিঃশব্দ চরণপাত
         নিয়ত স্পন্দিত করি দ্যুলোকের অস্তহীন রাত।
কল্পনায় দেখেছিনু, প্রতিধ্বনিমণ্ডল বিরাজে
         ব্রহ্মাণ্ডের অন্তরকন্দর-মাঝে।
                     সেথা বাঁধে বাসা
         চতুর্দিক হতে আসি জগতের পাখা-মেলা ভাষা।
সেথা হতে পুরানো স্মৃতিরে দীর্ণ করি
            সৃষ্টির আরম্ভবীজ লয় ভরি ভরি
         আপনার পক্ষপুটে ফিরে-চলা যত প্রতিধ্বনি।
                   অনুভব করেছি তখনি,
     বহু যুগযুগান্তের কোন্‌ এক বাণীধারা
                   নক্ষত্রে নক্ষত্রে ঠেকি পথহারা
         সংহত হয়েছে অবশেষে
                   মোর মাঝে এসে।
     প্রশ্ন মনে আসে আরবার,
         আবার কি ছিন্ন হয়ে যাবে সূত্র তার--
                   রূপহারা গতিবেগ প্রেতের জগতে
     চলে যাবে বহু কোটি বৎসরের শূন্য যাত্রাপথে?
                   উজাড় করিয়া দিবে তার
     পান্থের পাথেয়পত্র আপন স্বল্পায়ু বেদনার--
                   ভোজশেষে উচ্ছিষ্টের ভাঙা ভাণ্ড হেন?
                            কিন্তু, কেন।
আরো দেখুন
59
Verses
WHEN THE weariness of the road is upon me, and the thirst of the sultry day; when the ghostly hours of the dusk throw their shadows across my life, then I cry not for your voice only, my friend, but for your touch.
There is an anguish in my heart for the burden of its riches not given to you.
Put out your hand through the night, let me hold it and fill it and keep it; let me feel its touch along the lengthening stretch of my loneliness.
আরো দেখুন
দালিয়া
Stories
পরাজিত শা সুজা ঔরঞ্জীবের ভয়ে পলায়ন করিয়া আরাকান-রাজের আতিথ্য গ্রহণ করেন। সঙ্গে তিন সুন্দরী কন্যা ছিল। আরাকান-রাজের ইচ্ছা হয়, রাজপুত্রদের সহিত তাহাদের বিবাহ দেন। সেই প্রস্তাবে শা সুজা নিতান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করাতে একদিন রাজার আদেশে তাঁহাকে ছলক্রমে নৌকাযোগে নদীমধ্যে লইয়া নৌকা ডুবাইয়া দিবার চেষ্টা করা হয়। সেই বিপদের সময় কনিষ্ঠা বালিকা আমিনাকে পিতা স্বয়ং নদীমধ্যে নিক্ষেপ করেন। জ্যেষ্ঠা কন্যা আত্মহত্যা করিয়া মরে। এবং সুজার একটি বিশ্বাসী কর্মচারী রহমত আলি জুলিখাকে লইয়া সাঁতার দিয়া পালায়, এবং সুজা যুদ্ধ করিতে করিতে মরেন।
আমিনা খরস্রোতে প্রবাহিত হইয়া দৈবক্রমে অনতিবিলম্বে এক ধীবরের জালে উদ্‌ধৃত হয় এবং তাহারই গৃহে পালিত হইয়া বড়ো হইয়া উঠে।
আরো দেখুন
পুত্রযজ্ঞ
Stories
বৈদ্যনাথ গ্রামের মধ্যে বিজ্ঞ ছিলেন সেইজন্য তিনি ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া বর্তমানের সমস্ত কাজ করিতেন। যখন বিবাহ করিলেন তখন তিনি বর্তমান নববধূর অপেক্ষা ভাবী নবকুমারের মুখ স্পষ্টতররূপে দেখিতে পাইয়াছিলেন। শুভদৃষ্টির সময় এতটা দূরদৃষ্টি প্রায় দেখা যায় না। তিনি পাকা লোক ছিলেন সেইজন্য প্রেমের চেয়ে পিণ্ডটাকেই অধিক বুঝিতেন এবং পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা এই মর্মেই তিনি বিনোদিনীকে বিবাহ করিয়াছিলেন।
কিন্তু এ সংসারে বিজ্ঞ লোকও ঠকে। যৌবনপ্রাপ্ত হইয়াও যখন বিনোদিনী তাহার সর্বপ্রধান কর্তব্যটি পালন করিল না তখন পুন্নাম নরকের দ্বারা খোলা দেখিয়া বৈদ্যনাথ বড়ো চিন্তিত হইলেন। মৃত্যুর পরে তাঁহার বিপুল ঐশ্বর্যই বা কে ভোগ করিবে এই ভাবনায় মৃত্যুর পূর্বে তিনি সেই ঐশ্বর্য ভোগ করিতে বিমুখ হইলেন। পূর্বেই বলিয়াছি, বর্তমানের অপেক্ষা ভবিষ্যৎটাকেই তিনি সত্য বলিয়া জানিতেন।
আরো দেখুন
প্রশ্ন
Stories
শ্মাশান হতে বাপ ফিরে এল।
তখন সাত বছরের ছেলেটি-- গা খোলা, গলায় সোনার তাবিজ--একলা গলির উপরকার জানলার ধারে।
আরো দেখুন
মেঘ
Verses
আদি অন্ত হারিয়ে ফেলে
সাদা কালো আসন মেলে
     পড়ে আছে আকাশটা খোশ-খেয়ালি,
আমরা যে সব রাশি রাশি
মেঘের পুঞ্জ ভেসে আসি,
     আমার তারি খেয়াল, তারি হেঁয়ালি।
মোদের কিছু ঠিক-ঠিকানা নাই,
আমরা আসি, আমরা চলে যাই।
ওই-যে সকল জ্যোতির মালা
গ্রহতারা রবির ডালা
     জুড়ে আছে নিত্যকালের পসরা,
ওদের হিসেব পাকা খাতায়
আলোর লেখা কালো পাতায়,
     মোদের তরে আছে মাত্র খসড়া--
রঙ-বেরঙের কলম দিয়ে এঁকে
যেমন খুশি মোছে আবার লেখে।
আমরা কভু বিনা কাজে
ডাক দিয়ে যাই মাঝে মাঝে,
     অকারণে মুচকে হাসি হামেশা।
তাই বলে সব মিথ্যে নাকি।
বৃষ্টি সে তো নয়কো ফাঁকি,
     বজ্রটা তো নিতান্ত নয় তামাশা।
শুধু আমরা থাকি নে কেউ ভাই,
হাওয়ায় আসি হাওয়ায় ভেসে যাই।
আরো দেখুন
চোরাই ধন
Stories
মহাকাব্যের যুগে স্ত্রীকে পেতে হত পৌরুষের জোরে; যে অধিকারী সেই লাভ করত রমণীরত্ন। আমি লাভ করেছি কাপুরুষতা দিয়ে, সে-কথা আমার স্ত্রীর জানতে বিলম্ব ঘটেছিল। কিন্তু, সাধনা করেছি বিবাহের পরে; যাকে ফাঁকি দিয়ে চুরি করে পেয়েছি তার মূল্য দিয়েছি দিনে দিনে।
দাম্পত্যের স্বত্ব সাব্যস্ত করতে হয় প্রতিদিনই নতুন করে, অধিকাংশ পুরুষ ভুলে থাকে এই কথাটা। তারা গোড়াতেই কাস্টম্‌ হৌসে মাল খালাস করে নিয়েছে সমাজের ছাড়চিঠি দেখিয়ে, তার পর থেকে আছে বেপরোয়া। যেন পেয়েছে পাহারাওয়ালার সরকারি প্রতাপ, উপরওয়ালার দেওয়া তকমার জোরে; উর্দিটা খুলে নিলেই অতি অভাজন তারা।
আরো দেখুন