ছাড়িস নে ধরে থাক এঁটে
Verses
       ছাড়িস নে ধরে থাক এঁটে,
                    ওরে  হবে তোর জয়।
       অন্ধকার যায় বুঝি কেটে,
                    ওরে  আর নেই ভয়।
       ওই দেখ্‌ পূর্বাশার ভালে
       নিবিড় বনের অন্তরালে
                    শুকতারা হয়েছে উদয়।
                    ওরে  আর নেই ভয়।
                    এরা যে কেবল নিশাচর--
                    অবিশ্বাস আপনার 'পর,
                           নিরাশ্বাস, আলস্য সংশয়,
                           এরা প্রভাতের নয়।
                    ছুটে আয়, আয় রে বাহিরে,
                    চেয়ে দেখ্‌, দেখ্‌ ঊর্ধ্বশিরে,
                           আকাশ হতেছে জ্যোতির্ময়।
                           ওরে  আর নেই ভয়।
আরো দেখুন
কর্মফল
Stories
আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন-- সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। 'এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।'
শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন।
আরো দেখুন
ত্যাগ
Stories
ফাল্গুনের প্রথম পূর্ণিমায় আম্রমুকুলের গন্ধ লইয়া নব বসন্তের বাতাস বহিতেছে। পুষ্করিণীতীরের একটি পুরাতন লিচুগাছের ঘন পল্লবের মধ্য হইতে একটি নিদ্রাহীন অশ্রান্ত পাপিয়ার গান মুখুজ্যেদের বাড়ির একটি নিদ্রাহীন শয়নগৃহের মধ্যে গিয়া প্রবেশ করিতেছে। হেমন্ত কিছু চঞ্চলভাবে কখনো তার স্ত্রীর একগুচ্ছ চুল খোঁপা হইতে বিশ্লিষ্ট করিয়া লইয়া আঙুলে জড়াইতেছে, কখনো তাহার বালাতে চুড়িতে সংঘাত করিয়া ঠুং ঠুং শব্দ করিতেছে, কখনো তাহার মাথার ফুলের মালাটা টানিয়া স্বস্থানচ্যুত করিয়া তাহার মুখের উপর আনিয়া ফেলিতেছে। সন্ধ্যাবেলাকার নিস্তব্ধ ফুলের গাছটিকে সচেতন করিয়া তুলিবার জন্য বাতাস যেমন একবার এপাশ হইতে একবার ওপাশ হইতে একটু-আধটু নাড়াচাড়া করিতে থাকে, হেমন্তের কতকটা সেই ভাব।
কিন্তু কুসুম সম্মুখের চন্দ্রালোকপ্লাবিত অসীম শূন্যের মধ্যে দুই নেত্রকে নিমগ্ন করিয়া দিয়া স্থির হইয়া বসিয়া আছে। স্বামীর চাঞ্চল্য তাহাকে স্পর্শ করিয়া প্রতিহত হইয়া ফিরিয়া যাইতেছে। অবশেষে হেমন্ত কিছু অধীরভাবে কুসুমের দুই হাত নাড়া দিয়া বলিল, 'কুসুম, তুমি আছ কোথায়? তোমাকে যেন একটা মস্ত দুরবীন কষিয়া বিস্তর ঠাহর করিয়া বিন্দুমাত্র দেখা যাইবে এমনি দূরে গিয়া পড়িয়াছ। আমার ইচ্ছা, তুমি আজ একটু কাছাকাছি এসো। দেখো দেখি কেমন চমৎকার রাত্রি।'
আরো দেখুন
মধ্যবর্তিনী
Stories
নিবারণের সংসার নিতান্তই সচরাচর রকমের, তাহাতে কাব্যরসের কোনো নামগন্ধ ছিল না। জীবনে উক্ত রসের যে কোনো আবশ্যক আছে, এমন কথা তাহার মনে কখনো উদয় হয় নাই। যেমন পরিচিত পুরাতন চটি-জোড়াটার মধ্যে পা দুটো দিব্য নিশ্চিন্তভাবে প্রবেশ করে, এই পুরাতন পৃথিবীটার মধ্যে নিবারণ সেইরূপ আপনার চিরাভ্যস্ত স্থানটি অধিকার করিয়া থাকে, সে সম্বন্ধে ভ্রমেও কোনোরূপ চিন্তা তর্ক বা তত্ত্বালোচনা করে না।
নিবারণ প্রাতঃকালে উঠিয়া গলির ধারে গৃহদ্বারে খোলাগায়ে বসিয়া অত্যন্ত নিরুদ্বিগ্নভাবে হুঁকাটি লইয়া তামাক খাইতে থাকে। পথ দিয়া লোকজন যাতায়াত করে, গাড়ি ঘোড়া চলে, বৈষ্ণব-ভিখারি গান গাহে, পুরাতন বোতল সংগ্রহকারী হাঁকিয়া চলিয়া যায়; এই সমস্ত চঞ্চল দৃশ্য মনকে লঘুভাবে ব্যাপৃত রাখে এবং যেদিন কাঁচা আম অথবা তপসি-মাছওয়ালা আসে, সেদিন অনেক দরদাম করিয়া কিঞ্চিৎ বিশেষরূপে রন্ধনের আয়োজন হয়। তাহার পর যথাসময়ে তেল মাখিয়া স্নান করিয়া আহারান্তে দড়িতে ঝুলানো চাপকানটি পরিয়া এক ছিলিম তামাক পানের সহিত নিঃশেষপূর্বক আর একটি পান মুখে পুরিয়া, আপিসে যাত্রা করে। আপিস হইতে ফিরিয়া আসিয়া সন্ধ্যেবেলাটা প্রতিবেশী রামলোচন ঘোষের বাড়িতে প্রশান্ত গম্ভীর ভাবে সন্ধ্যাযাপন করিয়া আহারান্তে রাত্রে শয়নগৃহে স্ত্রী হরসুন্দরীর সহিত সাক্ষাৎ হয়।
আরো দেখুন
The Victory
Stories
SHE WAS THE Princess Ajita. And the court poet of King Narayan had never seen her. On the day he recited a new poem to the king he would raise his voice just to that pitch which could be heard by unseen hearers in the screened balcony high above the hall. He sent up his song towards the star-land out of his reach, where, circled with light, the planet who ruled his destiny shone unknown and out of ken.
He would espy some shadow moving behind the veil. A tinkling sound would come to his ear from afar, and would set him dreaming of the ankles whose tiny golden bells sang at each step. Ah, the rosy red tender feet that walked the dust of the earth like God's mercy on the fallen! The poet had placed them on the altar of his heart, where he wove his songs to the tune of those golden bells. Doubt never arose in his mind as to whose shadow it was that moved behind the screen, and whose anklets they were that sang to the time of his beating heart.
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
কর্তার ভূত
Stories
বুড়ো কর্তার মরণকালে দেশসুদ্ধ সবাই বলে উঠল, 'তুমি গেলে আমাদের কী দশা হবে।'
শুনে তারও মনে দুঃখ হল। ভাবলে, 'আমি গেলে এদের ঠাণ্ডা রাখবে কে।'
আরো দেখুন
আমারে যদি জাগালে আজি নাথ
Verses
        আমারে যদি জাগালে আজি নাথ,
          ফিরো না তবে ফিরো না, করো
              করুণ আঁখিপাত।
                     নিবিড় বন-শাখার 'পরে
                    আষাঢ়-মেঘে বৃষ্টি ঝরে,
                    বাদলভরা আলসভরে
                          ঘুমায়ে আছে রাত।
                         ফিরো না তুমি ফিরো না, করো
                           করুণ আঁখিপাত।
          বিরামহীন বিজুলিঘাতে
                নিদ্রাহারা প্রাণ
          বরষা-জলধারার সাথে
              গাহিতে চাহে গান।
          হৃদয় মোর চোখের জলে
          বাহির হল তিমিরতলে,
          আকাশ খোঁজে ব্যাকুল বলে
              বাড়ায়ে দুই হাত।
          ফিরো না তুমি ফিরো না, করো
              করুণ আঁখিপাত।
আরো দেখুন
শুধু তোমার বাণী নয় গো
Verses
শুধু তোমার বাণী নয় গো
                 হে বন্ধু, হে প্রিয়,
মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার
                 পরশখানি দিয়ো।
সারা পথের ক্লান্তি আমার
                 সারা দিনের তৃষা
কেমন করে মেটাব যে
                  খুঁজে না পাই দিশা।
এ আঁধার যে পূর্ণ তোমায়
                সেই কথা বলিয়ো।
মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার
                  পরশখানি দিয়ো।              
হৃদয় আমার চায় যে দিতে,
                  কেবল নিতে নয়,
ব'য়ে ব'য়ে বেড়ায় সে তার
                  যা-কিছু সঞ্চয়।
হাতখানি ওই বাড়িয়ে আনো,
                  দাও গো আমার হাতে,
ধরব তারে, ভরব তারে,
                  রাখব তারে সাথে--
একলা পথের চলা আমার
                  করব রমণীয়।
মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার
                 পরশখানি দিয়ো।
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
40
Verses
তোমার ইঙ্গিতখানি দেখি নি যখন
ধূলিমুষ্টি ছিল তারে করিয়া গোপন।
যখনি দেখেছি আজ, তখনি পুলকে
নিরখি ভুবনময় আঁধারে আলোকে
জ্বলে সে ইংগিত; শাখে শাখে ফুলে ফুলে
ফুটে সে ইঙ্গিত; সমুদ্রের কূলে কূলে
ধরিত্রীর তটে তটে চিহ্ন আঁকি ধায়
ফেনাঙ্কিত তরঙ্গের চূড়ায় চূড়ায়
দ্রুত সে ইঙ্গিত; শুভ্রশীর্ষ হিমাদ্রির
শৃঙ্গে  শৃঙ্গে  ঊর্ধ্বমুখে জাগি রহে স্থির
স্তব্ধ সে ইংগিত।
তখন তোমার পানে
বিমুখ হইয়া ছিনু কি লয়ে কে জানে!
বিপরীত মুখে তারে পড়েছিনু, তাই
বিশ্বজোড়া সে লিপির অর্থ বুঝি নাই।
আরো দেখুন
দেবতা
Verses
দেবতা মানবলোকে ধরা দিতে চায়
      মানবের অনিত্য লীলায়।
          মাঝে মাঝে দেখি তাই--
                আমি যেন নাই,
      ঝংকৃত বীণার তন্তুসম দেহখানা
                হয় যেন অদৃশ্য অজানা;
      আকাশের অতিদূর সূক্ষ্ম নীলিমায়
                সংগীতে হারায়ে যায়;
                   নিবিড় আনন্দরূপে
               পল্লবের স্তূপে
      আমলকীবীথিকার গাছে গাছে
    ব্যাপ্ত হয় শরতের আলোকের নাচে।
               প্রেয়সীর প্রেমে
    প্রত্যহের ধূলি-আবরণ যায় নেমে
                দৃষ্টি হতে, শ্রুতি হতে;
                   স্বর্গসুধাস্রোতে
          ধৌত হয় নিখিলগগন--
যাহা দেখি যাহা শুনি তাহা যে একান্ত অতুলন
          মর্তের অমৃতরসে দেবতার রুচি
পাই যেন আপনাতে, সীমা হতে সীমা যায় ঘুচি।
                             দেবসেনাপতি
                নিয়ে আসে আপনার দিব্যজ্যোতি
                   যখন মরণপণে হানি অমঙ্গল।
                         ত্যাগের বিপুল বল
                   কোথা হতে বক্ষে আসে;
                             অনায়াসে
               দাঁড়াই উপেক্ষা করি প্রচণ্ড অন্যায়ে
                   অকুণ্ঠিত সর্বস্বের ব্যয়ে।          
                         তখন মৃত্যুর বক্ষ হতে
               দেবতা বাহিরি আসে অমৃত-আলোতে;
                         তখন তাহার পরিচয়
          মর্তলোকে অমর্তেরে করি তোলে অক্ষুণ্ন অক্ষয়।
আরো দেখুন