প্রগতিসংহার
Stories
এই কলেজে ছেলেমেয়েদের মেলামেশা বরঞ্চ কিছু বাড়াবাড়ি ছিল। এরা প্রায় সবাই ধনী ঘরের--এরা পয়সার ফেলাছড়া করতে ভালোবাসে। নানা রকম বাজে খরচ করে মেয়েদের কাছে দরাজ হাতের নাম কিনত। মেয়েদের মনে ঢেউ তুলত, তারা বুক ফুলিয়ে বলত--'আমাদেরই কলেজের ছেলে এরা'। সরস্বতী পুজো তারা এমনি ধূম করে করত যে, বাজারে গাঁদা ফুলের আকাল পড়ে যেত। এ ছাড়া চোখটেপাটেপি ঠাট্টা তামাসা চলেইছে। এই তাদের মাঝখানে একটা সংঘ তেড়েফুঁড়ে উঠে মেলামেশা ছারখার করে দেবার জো করলে।
সংঘের হাল ধরে ছিল সুরীতি। নাম দিল 'নারীপ্রগতিসংঘ'। সেখানে পুরুষের ঢোকবার দরজা ছিল বন্ধ। সুরীতির মনের জোরের ধাক্কায় এক সময়ে যেন পুরুষ-বিদ্রোহের একটা হাওয়া উঠল। পুরুষরা যেন বেজাত, তাদের সঙ্গে জলচল বন্ধ। কদর্য তাদের ব্যায়ভার।
আরো দেখুন
শেষ হিসাব
Verses
চেনাশোনার সাঁঝবেলাতে
          শুনতে আমি চাই--
পথে পথে চলার পালা
          লাগল কেমন, ভাই।
দুর্গম পথ ছিল ঘরেই,
          বাইরে বিরাট পথ--
তেপান্তরের মাঠ কোথা-বা,
          কোথা-বা পর্বত।
কোথা-বা সে চড়াই উঁচু,
          কোথা-বা উতরাই,
                   কোথা-বা পথ নাই।
মাঝে-মাঝে জুটল অনেক ভালো--
          অনেক ছিল বিকট মন্দ,
                   অনেক কুশ্রী কালো।
ফিরেছিলে আপন মনের
          গোপন অলিগলি,
পরের মনের বাহির-দ্বারে
          পেতেছে অঞ্জলি।
আশাপথের রেখা বেয়ে
          কতই এলে গেলে,
পাওনা ব'লে যা পেয়েছ
          অর্থ কি তার পেলে।
                   অনেক কেঁদে-কেটে
ভিক্ষার ধন জুটিয়েছিলে
          অনেক রাস্তা হেঁটে।
পথের মধ্যে লুঠেল দস্যু
          দিয়েছিল হানা,
উজাড় করে নিয়েছিল
          ছিন্ন ঝুলিখানা।
অতি কঠিন আঘাত তারা
          লাগিয়েছিল বুকে--
ভেবেছিলুম, চিহ্ন নিয়ে
          সে সব গেছে চুকে।
হাটে-বাটে মধুর যাহা
          পেয়েছিলুম খুঁজি,
মনে ছিল, যত্নের ধন
          তাই রয়েছে পুঁজি।
হায় রে ভাগ্য, খোলো তোমার ঝুলি।
          তাকিয়ে দেখো, জমিয়েছিলে ধূলি।
নিষ্ঠুর যে ব্যর্থকে সে    
          করে যে বর্জিত,
দৃঢ় কঠোর মুষ্টিতলে
          রাখে সে অর্জিত
নিত্যকালের রতন-কণ্ঠহার;
          চিরমূল্য দেয় সে তারে
                   দারুণ বেদনার।
আর যা-কিছু জুটেছিল
          না চাহিতেই পাওয়া--
আজকে তারা ঝুলিতে নেই,
          রাত্রিদিনের হাওয়া
ভরল তারাই, দিল তারা
          পথে চলার মানে,
রইল তারাই একতারাতে
          তোমার গানে গানে।
আরো দেখুন
মুনশি
Stories
আচ্ছা দাদামশায়, তোমাদের সেই মুনশিজি এখন কোথায় আছেন।
এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব তার সময়টা বুঝি কাছে এসেছে, তবু হয়তো কিছুদিন সবুর করতে হবে।
আরো দেখুন
গল্প
Stories
ছেলেটির যেমনি কথা ফুটল অমনি সে বললে, 'গল্প বলো।'
দিদিমা বলতে শুরু করলেন, 'এক রাজপুত্তুর, কোটালের পুত্তুর, সদাগরের পুত্তুর--'
আরো দেখুন
হৃদয়যমুনা
Verses
যদি      ভরিয়া লইবে কুম্ভ, এসো ওগো, এসো মোর
                 হৃদয়নীরে।
     তলতল ছলছল     কাঁদিবে গভীর জল
            ওই দুটি সুকোমল চরণ ঘিরে।
     আজি বর্ষা গাঢ়তম,     নিবিড়কুন্তলসম
            মেঘ নামিয়াছে মম দুইটি তীরে।
         ওই যে শবদ চিনি     নূপুর-রিনিকিঝিনি,
            কে গো তুমি একাকিনী আসিছ ধীরে।
যদি   ভরিয়া লইবে কুম্ভ, এসো ওগো, এসো মোর
                      হৃদয়নীরে।
যদি   কলস ভাসায়ে জলে বসিয়া থাকিতে চাও
                      আপনা ভুলে--
      হেথা শ্যাম দূর্বাদল,     নবনীল নভস্তল,
              বিকশিত বনস্থল বিকচ ফুলে।
     দুটি কালো আঁখি দিয়া   মন যাবে বাহিরিয়া
            অঞ্চল খসিয়া গিয়া পড়িবে খুলে।
     চাহিয়া বঞ্জুলবনে           কী জানি পড়িবে মনে
            বসি কুঞ্জে তৃণাসনে শ্যামল কূলে!
যদি   কলস ভাসায়ে জলে বসিয়া থাকিতে চাও
                      আপনা ভুলে।
যদি   গাহন করিতে চাহ, এসো নেমে এসো হেথা
                      গহনতলে।
     নীলাম্বরে কিবা কাজ, তীরে ফেলে এসো আজ,
            ঢেকে দিবে সব লাজ সুনীল জলে।
     সোহাগ-তরঙ্গরাশি         অঙ্গখানি দিবে গ্রাসি,
            উচ্ছ্বসি পড়িবে আসি উরসে গলে--
     ঘুরে ফিরে চারি পাশে    কভু কাঁদে কভু হাসে,
            কুলুকুলু কলভাষে কত কী ছলে!
যদি   গাহন করিতে চাহ, এসো নেমে এসো হেথা
                      গহনতলে।
যদি   মরণ লভিতে চাও,     এসো তবে ঝাঁপ দাও
                      সলিলমাঝে।
          স্নিগ্ধ, শান্ত, সুগভীর,   নাহি তল, নাহি তীর,
              মৃত্যুসম নীল নীর স্থির বিরাজে।
     নাহি রাত্রি দিনমান--      আদি অন্ত পরিমাণ,
              সে অতলে গীতগান কিছু না বাজে।
      যাও সব যাও ভুলে,     নিখিল বন্ধন খুলে
              ফেলে দিয়ে এসো কূলে সকল কাজে।
যদি   মরণ লভিতে চাও,    এসো তবে ঝাঁপ দাও
                           সলিলমাঝে।
আরো দেখুন
ফেল
Stories
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না।
নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য।
আরো দেখুন
ভাইফোঁটা
Stories
শ্রাবণ মাসটা আজ যেন এক রাত্রে একেবারে দেউলে হইয়া গেছে। সমস্ত আকাশে কোথাও একটা ছেঁড়া মেঘের টুকরোও নাই।
আশ্চর্য এই যে, আমার সকালটা আজ এমন করিয়া কাটিতেছে। আমার বাগানের মেহেদি-বেড়ার প্রান্তে শিরীষগাছের পাতাগুলো ঝল্‌মল্‌ করিয়া উঠিতেছে, আমি তাহা তাকাইয়া দেখিতেছি। সর্বনাশের যে মাঝ-দরিয়ায় আসিয়া পৌঁছিয়াছি এটা যখন দূরে ছিল তখন ইহার কথা কল্পনা করিয়া কত শীতের রাত্রে সর্বাঙ্গে ঘাম দিয়াছে,কত গ্রীষ্মের দিনে হাত-পায়ের তেলো ঠাণ্ডা হিম হইয়া গেছে। কিন্তু আজ সমস্ত ভয়ভাবনা হইতে এমনি ছুটি পাইয়াছি যে, ঐ যে আতাগাছের ডালে একটা গিরগিটি স্থির হইয়া শিকার লক্ষ্য করিতেছে,সেটার দিকেও আমার চোখ রহিয়াছে।
আরো দেখুন
43
Verses
            নিত্য তোমার যে ফুল ফোটে ফুলবনে
তারি      মধু কেন মন-মধুপে খাওয়াও না।
            নিত্য সভা বসে তোমার প্রাঙ্গণে
তোমার   ভৃত্যেরে সেই সভায় কেন গাওয়াও না।
            বিশ্বকমল ফুটে চরণচুম্বনে
সে যে     তোমার মুখে মুখ তুলে চায় উন্মনে,
            আমার চিত্ত-কমলটিরে সেই রসে
কেন      তোমার পানে নিত্য-চাওয়া চাওয়াও না।
            আকাশে ধায় রবি-তারা-ইন্দুতে,
তোমার   বিরামহারা নদীরা ধায় সিন্ধুতে,
            তেমনি করে সুধাসাগরসন্ধানে
আমার    জীবনধারা নিত্য কেন ধাওয়াও না।
            পাখির কণ্ঠে আপনি জাগাও আনন্দ,
তুমি      ফুলের বক্ষে ভরিয়া দাও সুগন্ধ;
            তেমনি করে আমার হৃদয়ভিক্ষুরে
কেন      দ্বারে তোমার নিত্য প্রসাদ পাওয়াও না।
আরো দেখুন