কথিকা
Stories
এবার মনে হল, মানুষ অন্যায়ের আগুনে আপনার সমস্ত ভাবী কালটাকে পুড়িয়ে কালো করে দিয়েছে, সেখানে বসন্ত কোনোদিন এসে আর নতুন পাতা ধরাতে পারবে না।
মানুষ অনেক দিন থেকে একখানি আসন তৈরি করছে। সেই আসনই তাকে খবর দেয় যে, তার দেবতা আসবেন, তিনি পথে বেরিয়েছেন।
আরো দেখুন
এই তো ভরা হল ফুলে ফুলে
Songs
           এই তো ভরা হল ফুলে ফুলে   ফুলের ডালা।
                ভরা হল– কে নিবি কে নিবি গো, গাঁথিবি বরণমালা।
           চম্পা চামেলি সেঁউতি বেলি
                 দেখে যা সাজি আজি রেখেছি মেলি–
                       নবমালতীগন্ধ-ঢালা।।
                বনের মাধুরী হরণ করো   তরুণ আপন দেহে।
       নববধূ, মিলনশুভলগন-রাত্রে    লও গো বাসরগেহে–
                 উপবনের সৌরভভাষা,
                         রসতৃষিত মধুপের আশা।
                   রাত্রিজাগর রজনীগন্ধা–
            করবী রূপসীর অলকানন্দা–
       গোলাপে গোলাপে মিলিয়া মিলিয়া    রচিবে মিলনের পালা।।
আরো দেখুন
একটি চাউনি
Stories
গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে।
এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে।
আরো দেখুন
উৎসর্গ
Stories
শেষ পারানির খেয়ায় তুমি
    দিনশেষের নেয়ে
আরো দেখুন
বাধা
Verses
পূর্ণ করি নারী তার জীবনের থালি
          প্রিয়ের চরণে প্রেম নিঃশেষিয়া দিতে গেল ঢালি,
                             ব্যর্থ হল পথ-খোঁজা--
          কহিল, "হে ভগবান, নিষ্ঠুর যে এ অর্ঘ্যের বোঝা;
                   আমার দিবস রাত্রি অসহ্য পেষণে
          একান্ত পীড়িত আর্ত; তাই সান্ত্বনার অন্বেষণে
এসেছি তোমার দ্বারে--এ প্রেম তুমিই লও প্রভু!'
          "লও লও' বারবার ডেকে বলে, তবু
                   দিতে পারে না যে তাকে
          কৃপণের ধন-সম শিরা আঁকড়িয়া থাকে।
যেমন তুষাররাশি গিরিশিরে লগ্ন রহে,
          কিছুতে স্রোত না বহে,
                   আপন নিষ্ফল কঠিনতা
                             দেয় তারে ব্যথা,
                   তেমনি সে নারী
          নিশ্চল-হৃদয়ভারে-ভারী
কেঁদে বলে, "কী ধনে আমার প্রেম দামি
     সে যদি না বুঝেছিল, তুমি অন্তর্যামী,
          তুমিও কি এরে চিনিবে না?
                   মানবজন্মের সব দেনা
শোধ করি লও, প্রভু, আমার সর্বস্ব রত্ন নিয়ে।
     তুমি যে প্রেমের লোভী মিথ্যা কথা কি এ!'
          "লও লও' যত বলে খোলে না যে তার
                   হৃদয়ের দ্বার।
          সারাদিন মন্দিরা বাজায়ে করে গান,
                   "লও তুমি লও ভগবান!'
আরো দেখুন
সুভা
Stories
মেয়েটির নাম যখন সুভাষিণী রাখা হইয়াছিল তখন কে জানিত সে বোবা হইবে। তাহার দুটি বড়ো বোনকে সুকেশিনী সুহাসিনী নাম দেওয়া হইয়াছিল, তাই মিলের অনুরোধে তাহার বাপ ছোটো মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখে। এখন সকলে তাহাকে সংক্ষেপে সুভা বলে।
দস্তুরমত অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বড়ো দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া গেছে, এখন ছোটোটি পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করিতেছে।
আরো দেখুন
কাবুলিওয়ালা
Stories
আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেকসময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা পারি না। মিনি চুপ করিয়া থাকিলে এমনি অস্বাভাবিক দেখিতে হয় যে, সে আমার বেশিক্ষণ সহ্য হয় না। এইজন্য আমার সঙ্গে তাহার কথোপকথনটা কিছু উৎসাহের সহিত চলে।
সকালবেলায় আমার নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে হাত দিয়াছি এমনসময় মিনি আসিয়াই আরম্ভ করিয়া দিল, 'বাবা, রামদয়াল দরোয়ান কাককে কৌয়া বলছিল, সে কিচ্ছু জানে না। না?'
আরো দেখুন
বাচস্পতি
Stories
দাদামশায়, তুমি তোমার চার দিকে যেসব পাগলের দল জমিয়েছিলে, গুণ হিসেব ক'রে তাদের বুঝি সব নম্বর দিয়ে রেখেছিলে?
হ্যাঁ, তা করতে হয়েছে বই-কি। কম তো জমে নি।
আরো দেখুন
রাজরানী
Stories
কাল তোমার ভালো লাগে নি চণ্ডীকে নিয়ে বকুনি। ও একটা ছবি মাত্র। কড়া কড়া লাইনে আঁকা, ওতে রস নাই। আজ তোমাকে কিছু বলব, সে সত্যিকার গল্প।
কুসমি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই বলো। তুমি তো সেদিন বললে, বরাবর মানুষ সত্যি খবর দিয়ে এসেছে গল্পের মধ্যে মুড়ে। একেবারে ময়রার দোকান বানিয়ে রেখেছে। সন্দেশের মধ্যে ছানাকে চেনাই যায় না।
আরো দেখুন
গগনে গগনে ধায়
Songs
গগনে গগনে ধায় হাঁকি
বিদ্যুতবাণী বজ্রবাহিনী বৈশাখী,
স্পর্ধাবেগের ছন্দ জাগায় বনস্পতির শাখাতে॥
শূন্যমদের নেশায় মাতাল ধায় পাখি,
অলখ পথের ছন্দ উড়ায় মুক্তবেগের পাখাতে॥
অন্তরতল মন্থন করে ছন্দে
সাদা কালোর দ্বন্দ্বে,
কভু ভালো কভু মন্দে,
কভু সোজা কভু বাঁকাতে।
ছন্দ নাচিল হোমবহ্নির তরঙ্গে,
মুক্তিরণের যোদ্‌ধৃবীরের ভ্রুভঙ্গে,
ছন্দ ছুটিল প্রলয়পথের রুদ্ররথের চাকাতে॥
আরো দেখুন