সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
259
Verses
হে সুন্দর, খোলো তব নন্দনের দ্বার--
মর্তের নয়নে আনো মূর্তি অমরার।
অরূপ করুক লীলা রূপের লেখায়,
দেখাও চিত্তের নৃত্য রেখায় রেখায়।
আরো দেখুন
আপদ
Stories
সন্ধ্যার দিকে ঝড় ক্রমশ প্রবল হইতে লাগিল। বৃষ্টির ঝাপট, বজ্রের শব্দ এবং বিদ্যুতের ঝিকমিকিতে আকাশে যেন সুরাসুরের যুদ্ধ বাধিয়া গেল। কালো কালো মেঘগুলো মহাপ্রলয়ের জয়পতাকার মতো দিগ্‌বিদিকে উড়িতে আরম্ভ করিল, গঙ্গার এপারে ওপারে বিদ্রোহী ঢেউগুলো কলশব্দে নৃত্য জুড়িয়া দিল, এবং বাগানের বড়ো বড়ো গাছগুলো সমস্ত শাখা ঝট্‌পট্‌ করিয়া হাহুতাশ সহকারে দক্ষিণে বামে লুটোপুটি করিতে লাগিল।
তখন চন্দননগরের বাগানবাড়িতে একটি দীপালোকিত রুদ্ধকক্ষে খাটের সম্মুখবর্তী নীচের বিছানায় বসিয়া স্ত্রী-পুরুষে কথাবার্তা চলিতেছিল।
আরো দেখুন
মণিহারা
Stories
সেই জীর্ণপ্রায় বাঁধাঘাটের ধারে আমার বোট লাগানো ছিল। তখন সূর্য অস্ত গিয়াছে।
বোটের ছাদের উপরে মাঝি নমাজ পড়িতেছে। পশ্চিমের জ্বলন্ত আকাশপটে তাহার নীরব উপাসনা ক্ষণে ক্ষণে ছবির মতো আঁকা পড়িতেছিল। স্থির রেখাহীন নদীর জলের উপর ভাষাতীত অসংখ্য বর্ণচ্ছটা দেখিতে দেখিতে ফিকা হইতে গাঢ় লেখায়, সোনার রঙ হইতে ইস্পাতের রঙে, এক আভা হইতে আর-এক আভায় মিলাইয়া আসিতেছিল।
আরো দেখুন
ওকে বাঁধিবি কে
Songs
     ওকে    বাঁধিবি কে রে,    হবে যে ছেড়ে দিতে।
          ওর    পথ খোলে রে    বিদায়রজনীতে॥
গগনে তার মেঘদুয়ার ঝেঁপে      বুকেরই ধন বুকেতে ছিল চেপে,
     প্রভাতবায়ে গেল সে দ্বার কেঁপে--
          এল যে ডাক ভোরের রাগিণীতে॥
     শীতল হোক বিমল হোক প্রাণ,
          হৃদয়ে শোক রাখুক তার দান।
যা ছিল ঘিরে শূন্যে সে মিলালো, সে ফাঁক দিয়ে আসুক তবে আলো--
     বিজনে বসি পূজাঞ্জলি  ঢালো
          শিশিরে-ভরা সেঁউতি-ঝরা গীতে॥
আরো দেখুন
মুক্তির উপায়
Stories
ফকিরচাঁদ বাল্যকাল হইতেই গম্ভীর প্রকৃতি। বৃদ্ধসমাজে তাহাকে কখনোই বেমানান দেখাইত না। ঠাণ্ডা জল, হিম, এবং হাস্যপরিহাস তাহার একেবারে সহ্য হইত না। একে গম্ভীর, তাহাতে বৎসরের মধ্যে অধিকাংশ সময়েই মুখমণ্ডলের চারি দিকে কালো পশমের গলাবন্ধ জড়াইয়া থাকাতে তাহাকে ভয়ংকর উঁচু দরের লোক বলিয়া বোধ হইত। ইহার উপরে, অতি অল্প বয়সেই তাহার ওষ্ঠাধর এবং গণ্ডস্থল প্রচুর গোঁফ-দাড়িতে আচ্ছন্ন হওয়াতে সমস্ত মুখের মধ্যে হাস্যবিকাশের স্থান আর তিলমাত্র অবশিষ্ট রহিল না।
স্ত্রী হৈমবতীর বয়স অল্প এবং তাহার মন পার্থিব বিষয়ে সম্পূর্ণ নিবিষ্ট। সে বঙ্কিমবাবুর নভেল পড়িতে চায় এবং স্বামীকে ঠিক দেবতার ভাবে পূজা করিয়া তাহার তৃপ্তি হয় না। সে একটুখানি হাসিখুশি ভালোবাসে, এবং বিকচোন্মুখ পুষ্প যেমন বায়ুর আন্দোলন এবং প্রভাতের আলোকের জন্য ব্যাকুল হয় সেও তেমনি এই নবযৌবনের সময় স্বামীর নিকট হইতে আদর এবং হাস্যামোদ যথাপরিমাণে প্রত্যাশা করিয়া থাকে। কিন্তু, স্বামী তাহাকে অবসর পাইলেই ভাগবত পড়ায়, সন্ধ্যাবেলায় ভগবদ্‌গীতা শুনায়, এবং তাহার আধ্যাত্মিক উন্নতির উদ্দেশে মাঝে মাঝে শারীরিক শাসন করিতেও ত্রুটি করে না। যেদিন হৈমবতীর বালিশের নীচে হইতে কৃষ্ণকান্তের উইল বাহির হয় সেদিন উক্ত লঘুপ্রকৃতি যুবতীকে সমস্ত রাত্রি অশ্রুপাত করাইয়া তবে ফকির ক্ষান্ত হয়। একে নভেল-পাঠ, তাহাতে আবার পতিদেবকে প্রতারণা। যাহা হউক, অবিশ্রান্ত আদেশ অনুদেশ উপদেশ ধর্মনীতি এবং দণ্ডনীতির দ্বারা অবশেষে হৈমবতীর মুখের হাসি, মনের সুখ এবং যৌবনের আবেগ একেবারে নিষ্কর্ষণ করিয়া ফেলিতে স্বামীদেবতা সম্পূর্ণ কৃতকার্য হইয়াছিলেন।
আরো দেখুন
বিপদে মোরে রক্ষা করো
Verses
বিপদে মোরে রক্ষা করো
              এ নহে মোর প্রার্থনা,
                     বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে
              নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
                     দুঃখে যেন করিতে পারি জয়।
                           সহায় মোর না যদি জুটে
                           নিজের বল না যেন টুটে,
                           সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি
                                  লভিলে শুধু বঞ্চনা
                     নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ
              এ নহে মোর প্রার্থনা,
                     তরিতে পারি শকতি যেন রয়।
আমার ভার লাঘব করি
              নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
                           বহিতে পারি এমনি যেন হয়।
                                  নম্রশিরে সুখের দিনে
                                  তোমারি মুখ লইব চিনে,
                                  দুখের রাতে নিখিল ধরা
                                         যেদিন করে বঞ্চনা
                           তোমারে যেন না করি সংশয়।
আরো দেখুন
184
Verses
THE JUDGE thinks that he is just when he compares
the oil of another's lamp
with the light of his own.
আরো দেখুন
অত্যুক্তি
Verses
     মন যে দরিদ্র, তার
তর্কের নৈপুণ্য আছে, ধনৈশ্বর্য নাইকো ভাষার।
     কল্পনাভান্ডার হতে তাই করে ধার
               বাক্য-অলংকার।
          কখন হৃদয় হয় সহসা উতলা--
             তখন সাজিয়ে বলা
                 আসে অগত্যাই;
                   শুনে তাই
          কেন তুমি হেসে ওঠ, আধুনিকা প্রিয়ে,
                   অত্যুক্তির অপবাদ দিয়ে।
     তোমার সম্মানে ভাষা আপনারে করে সুসজ্জিত,
তারে তুমি বারে বারে পরিহাসে কোরো না লজ্জিত।
     তোমার আরতি-অর্ঘ্যে অত্যুক্তিবঞ্চিত ভাষা হেয়,
                   অসত্যের মতো অশ্রদ্ধেয়।
                        নাই তার আলো,
               তার চেয়ে মৌন ঢের ভালো।
        তব অঙ্গে অত্যুক্তি কি কর না বহন
                   সন্ধ্যায় যখন
               দেখা দিতে আস।
       তখন যে হাসি হাস
   সে তো নহে মিতব্যয়ী প্রত্যহের মতো--
অতিরিক্ত মধু কিছু তার মধ্যে থাকে তো সংহত।
                   সে হাসির অতিভাষা
               মোর বাক্যে ধরা দেবে নাই সে প্রত্যাশা।
          অলংকার যত পায় বাক্যগুলো তত হার মানে,
     তাই তার অস্থিরতা বাড়াবাড়ি ঠেকে তব কানে।                                            
               কিন্তু, ওই আশমানি শাড়িখানি
                   ও কি নহে অত্যুক্তির বাণী।
          তোমার দেহের সঙ্গে নীল গগনের
ব্যঞ্জনা মিলায়ে দেয়, সে যে কোন্‌ অসীম মনের
                   আপন ইঙ্গিত,
     সে যে অঙ্গের সংগীত।
আমি তারে মনে জানি সত্যেরো অধিক।
     সোহাগবাণীরে মোর হেসে কেন বল কাল্পনিক।
আরো দেখুন
তুমি কেমন করে গান কর যে গুণী
Verses
তুমি        কেমন করে গান কর যে গুণী,
              অবাক হয়ে শুনি, কেবল শুনি।
                           সুরের আলো ভুবন ফেলে ছেয়ে,
                           সুরের হাওয়া চলে গগন বেয়ে,
                           পাষাণ টুটে ব্যাকুল বেগে ধেয়ে,
                                         বহিয়া যায় সুরের সুরধুনী।
       মনে করি অমনি সুরে গাই,
       কণ্ঠে আমার সুর খুঁজে না পাই।
                     কইতে কী চাই, কইতে কথা বাধে;
                     হার মেনে যে পরান আমার কাঁদে;
                     আমায় তুমি ফেলেছ কোন্‌ ফাঁদে
                                  চৌদিকে মোর সুরের জাল বুনি!
আরো দেখুন
37
Verses
দূর হতে কী শুনিস মৃত্যুর গর্জন, ওরে দীন,
              ওরে উদাসীন--
          ওই ক্রন্দনের কলরোল,
     লক্ষ বক্ষ হতে মুক্ত রক্তের কল্লোল।
          বহ্নিবন্যা-তরঙ্গের বেগ,
          বিষশ্বাস-ঝটিকার মেঘ,
              ভূতল গগন
     মূর্ছিত বিহ্বল-করা মরণে মরণে আলিঙ্গন;
          ওরি মাঝে পথ চিরে চিরে
              নূতন সমুদ্রতীরে
          তরী নিয়ে দিতে হবে পাড়ি,
              ডাকিছে কাণ্ডারী
              এসেছে আদেশ--
    বন্দরে বন্ধনকাল এবারের মতো হল শেষ,
পুরানো সঞ্চয় নিয়ে ফিরে ফিরে শুধু বেচাকেনা
              আর চলিবে না।
  বঞ্চনা বাড়িয়া ওঠে, ফুরায় সত্যের যত পুঁজি,
          কাণ্ডারী ডাকিছে তাই বুঝি--
          "তুফানের মাঝখানে
          নূতন সমুদ্রতীরপানে
              দিতে হবে পাড়ি।"
              তাড়াতাড়ি
          তাই ঘর ছাড়ি
চারি দিক হতে ওই দাঁড়-হাতে ছুটে আসে দাঁড়ী।
          "নূতন উষার স্বর্ণদ্বার
     খুলিতে বিলম্ব কত আর।"
          এ কথা শুধায় সবে
            ভীত আর্তরবে
     ঘুম হতে অকস্মাৎ জেগে।
          ঝড়ের পুঞ্জিত মেঘে
     কালোয় ঢেকেছে আলো--জানে না তো কেউ
রাত্রি আছে কি না আছে; দিগন্তে ফেনায়ে উঠে ঢেউ--
     তারি মাঝে ফুকারে কাণ্ডারী--
"নূতন সমুদ্রতীরে তরী নিয়ে দিতে হবে পাড়ি।"
     বাহিরিয়া এল কা'রা। মা কাঁদিছে পিছে,
          প্রেয়সী দাঁড়ায়ে দ্বারে নয়ন মুদিছে।
              ঝড়ের গর্জনমাঝে
          বিচ্ছেদের হাহাকার বাজে;
     ঘরে ঘরে শূন্য হল আরামের শয্যাতল;
          "যাত্রা করো, যাত্রীদল"
              উঠেছে আদেশ,
          "বন্দরের কাল হল শেষ।"
              মৃত্য ভেদ করি
          দুলিয়া চলেছে তরী।
    কোথায় পৌঁছিবে ঘাটে, কবে হবে পার,
          সময় তো নাই শুধাবার।
          এই শুধু জানিয়াছে সার
               তরঙ্গের সাথে লড়ি
          বাহিয়া চলিতে হবে তরী।
          টানিয়া রাখিতে হবে পাল,
     আঁকড়ি ধরিতে হবে হাল;
              বাঁচি আর মরি
          বাহিয়া চলিতে হবে তরী।
              এসেছে আদেশ--
     বন্দরের কাল হল শেষ।
          অজানা সমুদ্রতীর, অজানা সে-দেশ--
              সেথাকার লাগি
              উঠিয়াছে জাগি
ঝটিকার কণ্ঠে কণ্ঠে শূন্যে শূন্যে প্রচণ্ড আহ্বান।
              মরণের গান
     উঠেছে ধ্বনিয়া পথে নবজীবনের অভিসারে
              ঘোর অন্ধকারে।
     যত দুঃখ পৃথিবীর, যত পাপ, যত অমঙ্গল,
              যত অশ্রুজল,
          যত হিংসা হলাহল,
          সমস্ত উঠিছে তরঙ্গিয়া,
              কূল উল্লঙ্ঘিয়া,
     ঊর্ধ্ব আকাশেরে ব্যঙ্গ করি।
              তবু বেয়ে তরী
        সব ঠেলে হতে হবে পার,
কানে নিয়ে নিখিলের হাহাকার,
     শিরে লয়ে উন্মত্ত দুর্দিন,
     চিত্তে নিয়ে আশা অন্তহীন,
     হে নির্ভীক, দুঃখ অভিহত।
ওরে ভাই, কার নিন্দা কর তুমি। মাথা করো নত।
     এ আমার এ তোমার পাপ।
     বিধাতার বক্ষে এই তাপ
বহু যুগ হতে জমি বায়ুকোণে আজিকে ঘনায়--
     ভীরুর ভীরুতাপুঞ্জ, প্রবলের উদ্ধত অন্যায়,
              লোভীর নিষ্ঠুর লোভ,
          বঞ্চিতের নিত্য চিত্তক্ষোভ,
                  জাতি-অভিমান,
মানবের অধিষ্ঠাত্রী দেবতার বহু অসম্মান,
     বিধাতার বক্ষ আজি বিদীরিয়া
ঝটিকার দীর্ঘশ্বাসে জলে স্থলে বেড়ায় ফিরিয়া।
          ভাঙিয়া পড়ুক ঝড়, জাগুক তুফান,
নিঃশেষ হইয়া যাক নিখিলের যত বজ্রবাণ।
রাখো নিন্দাবাণী, রাখো আপন সাধুত্ব আভিমান,
              শুধু একমনে হও পার
                    এ প্রলয়-পারাবার
              নূতন সৃষ্টির উপকূলে
              নূতন বিজয়ধ্বজা তুলে।
দুঃখেরে দেখেছি নিত্য, পাপেরে দেখেছি নানা ছলে;
অশান্তির ঘূর্ণি দেখি জীবনের স্রোতে পলে পলে;
              মৃত্যু করে লুকোচুরি
              সমস্ত পৃথিবী জুড়ি।
           ভেসে যায় তারা সরে যায়
              জীবনেরে করে যায়
                ক্ষণিক বিদ্রূপ।
আজ দেখো তাহাদের অভ্রভেদী বিরাট স্বরূপ।
          তার পরে দাঁড়াও সম্মুখে,
              বলো অকম্পিত বুকে--
              "তোরে নাহি করি ভয়,
     এ সংসারে প্রতিদিন তোরে করিয়াছি জয়।
তোর চেয়ে আমি সত্য, এ বিশ্বাসে প্রাণ দিব, দেখ্‌।
  শান্তি সত্য, শিব সত্য, সত্য সেই চিরন্তন এক।"
     মৃত্যুর অন্তরে পশি অমৃত না পাই যদি খুঁজে,
         সত্য যদি নাহি মেলে দুঃখ সাথে যুঝে,
              পাপ যদি নাহি মরে যায়
              আপনার প্রকাশ-লজ্জায়,
   অহংকার ভেঙে নাহি পড়ে আপনার অসহ্য সজ্জায়,
                 তবে ঘরছাড়া সবে
               অন্তরের  কী আশ্বাস-রবে
     মরিতে ছুটিছে শত শত
প্রভাত-আলোর পানে লক্ষ লক্ষ নক্ষত্রের মতো।
     বীরের এ রক্তস্রোত, মাতার এ অশ্রুধারা
এর যত মূল্য সে কি ধরার ধুলায় হবে হারা।
          স্বর্গ কি হবে না কেনা।
          বিশ্বের ভাণ্ডারী শুধিবে না
              এত ঋণ?
     রাত্রির তপস্যা সে কি আনিবে না দিন।
          নিদারুণ দুঃখরাতে
              মৃত্যুঘাতে
     মানুষ চূর্ণিল যবে নিজ মর্তসীমা
তখন দিবে না দেখা দেবতার অমর মহিমা?
আরো দেখুন