নীরব তন্ত্রী
Verses
"তোমার বীণায় সব তার বাজে,
  ওহে বীণকার,
তারি মাঝে কেন নীরব কেবল
  একখানি তার।'
ভবনদীতীরে হৃদিমন্দিরে
  দেবতা বিরাজে,
পূজা সমাপিয়া এসেছি ফিরিয়া
  আপনার কাজে।
বিদায়ের ক্ষণে শুধাল পূজারি,
  "দেবীরে কী দিলে?
তব জনমের শ্রেষ্ঠ কী ধন
  ছিল এ নিখিলে?'
কহিলাম আমি, সঁপিয়া এসেছি
  পূজা-উপহার
আমার বীণায় ছিল যে একটি
  সুবর্ণ-তার,
যে তারে আমার হৃদয়বনের
  যত মধুকর
ক্ষণেকে ক্ষণেকে ধ্বনিয়া তুলিত
  গুঞ্জনস্বর,
যে তারে আমার কোকিল গাহিত
  বসন্তগান
সেইখানি আমি দেবতাচরণে
  করিয়াছি দান।
তাই এ বীণায় বাজে না কেবল
  একখানি তার--
আছে তাহা শুধু মৌন মহৎ
  পূজা-উপহার।
আরো দেখুন
অস্পষ্ট
Stories
জানলার ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় সামনের বাড়ির জীবনযাত্রা। রেখা আর ছেদ, দেখা আর না-দেখা দিয়ে সেই ছবি আঁকা।
একদিন পড়ার বই পড়ে রইল, বনমালীর চোখ গেল সেই দিকে।
আরো দেখুন
মুসলমানীর গল্প
Stories
তখন অরাজকতার চরগুলো কণ্টকিত করে রেখেছিল রাষ্ট্রশাসন, অপ্রত্যাশিত অত্যাচারের অভিঘাতে দোলায়িত হত দিন রাত্রি। দুঃস্বপ্নের জাল জড়িয়েছিল জীবনযাত্রার সমস্ত ক্রিয়াকর্মে, গৃহস্থ কেবলই দেবতার মুখ তাকিয়ে থাকত, অপদেবতার কাল্পনিক আশঙ্কায় মানুষের মন থাকত আতঙ্কিত। মানুষ হোক আর দেবতাই হোক কাউকে বিশ্বাস করা কঠিন ছিল, কেবলই চোখের জলের দোহাই পাড়তে হত। শুভ কর্ম এবং অশুভ কর্মের পরিণামের সীমারেখা ছিল ক্ষীণ। চলতে চলতে পদে পদে মানুষ হোঁচট খেয়ে খেয়ে পড়ত দুর্গতির মধ্যে।
এমন অবস্থায় বাড়িতে রূপসী কন্যার অভ্যাগম ছিল যেন ভাগ্যবিধাতার অভিসম্পাত। এমন মেয়ে ঘরে এলে পরিজনরা সবাই বলত 'পোড়ারমুখী বিদায় হলেই বাঁচি'। সেই রকমেরই একটা আপদ এসে জুটেছিল তিন-মহলার তালুকদার বংশীবদনের ঘরে।
আরো দেখুন
143
Verses
WOMAN, WITH the grace of your fingers you touched my things and order came out like music.
আরো দেখুন
৯৯
Verses
৯৯
       ফুরাইলে দিবসের পালা
আকাশ সূর্যেরে জপে লয়ে তারকার জপমালা॥  
আরো দেখুন
রাজরানী
Stories
কাল তোমার ভালো লাগে নি চণ্ডীকে নিয়ে বকুনি। ও একটা ছবি মাত্র। কড়া কড়া লাইনে আঁকা, ওতে রস নাই। আজ তোমাকে কিছু বলব, সে সত্যিকার গল্প।
কুসমি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই বলো। তুমি তো সেদিন বললে, বরাবর মানুষ সত্যি খবর দিয়ে এসেছে গল্পের মধ্যে মুড়ে। একেবারে ময়রার দোকান বানিয়ে রেখেছে। সন্দেশের মধ্যে ছানাকে চেনাই যায় না।
আরো দেখুন
মাস্টারমশায়
Stories
রাত্রি তখন প্রায় দুটা। কলিকাতার নিস্তব্ধ শব্দসমুদ্রে একটুখানি ঢেউ তুলিয়া একটা বড়ো জুড়িগাড়ি ভবানীপুরের দিক হইতে আসিয়া বির্জিতলাওয়ের মোড়ের কাছে থামিল। সেখানে একটা ঠিকাগাড়ি দেখিয়া, আরোহী বাবু তাহাকে ডাকিয়া আনাইলেন। তাহার পাশে একটি কোট-হ্যাট-পরা বাঙালি বিলাতফের্তা যুবা সম্মুখের আসনে দুই পা তুলিয়া দিয়া একটু মদমত্ত অবস্থায় ঘাড় নামাইয়া ঘুমাইতেছিল। এই যুবকটি নূতন বিলাত হইতে আসিয়াছে। ইহারই অভ্যর্থনা উপলক্ষে বন্ধুমহলে একটা খানা হইয়া গেছে। সেই খানা হইতে ফিরিবার পথে একজন বন্ধু তাহাকে কিছুদূর অগ্রসর করিবার জন্য নিজের গাড়িতে তুলিয়া লইয়াছেন। তিনি ইহাকে দু-তিনবার ঠেলা দিয়া জাগাইয়া কহিলেন, 'মজুমদার, গাড়ি পাওয়া গেছে, বাড়ি যাও।'
মজুমদার সচকিত হইয়া একটা বিলাতি দিব্য গালিয়া ভাড়াটে গাড়িতে উঠিয়া পড়িল। তাহার গাড়োয়ানকে ভালো করিয়া ঠিকানা বাতলাইয়া দিয়া ব্রুহাম গাড়ির আরোহী নিজের গম্যপথে চলিয়া গেলেন।
আরো দেখুন
এসেছি প্রিয়তম
Songs
                এসেছি প্রিয়তম, ক্ষমো মোরে ক্ষমো।
গেল না গেল না কেন কঠিন পরান মম--
      তব নিঠুর করুণ করে! ক্ষমো মোরে।

             কেন এলি, কেন এলি, কেন এলি ফিরে।
      যাও যাও যাও যাও, চলে যাও।
             যাও যাও যাও যাও, চলে যাও।
আরো দেখুন
বর্ষাপ্রভাত
Verses
ওগো,  এমন সোনার মায়াখানি
              কে যে গড়েছে!
         মেঘ টুটে আজ প্রভাত-আলো
              ফুটে পড়েছে।
         বাতাস কাহার সোহাগ মাগে,
         গাছে-পালায় চমক লাগে,
         হৃদয় আমার বিভাস রাগে
              কী গান ধরেছে!
আজ    বিশ্বদেবীর দ্বারের কাছে
              কোন্‌ সে ভিখারী
         ভোরের বেলা দাঁড়িয়েছিল
              দু হাত বিথারি--
         আঁজল ভরে সোনা দিতে
         ছাপিয়ে পড়ে চারি ভিতে,
         লুটিয়ে গেল পৃথিবীতে,
              এ কী নেহারি!
ওগো,  পারিজাতের কুঞ্জবনে
              স্বর্গপুরীতে
         মৌমাছিরা লেগেছিল
              মধু-চুরিতে--
         আজ প্রভাতে একেবারে
         ভেঙেছে চাক সুধার ভারে,
         সোনার মধু লক্ষ ধারে
              লাগে ঝুরিতে।
আজ    সকাল হতেই খবর এল
              লক্ষ্মী একেলা
         অরুণরাগে পাতবে আসন
              প্রভাতবেলা--
         শুনে দিগ্বিদিকে টুটে
         আলোর পদ্ম উঠল ফুটে,
         বিশ্বহৃদয়মধুপ জুটে
              করেছে মেলা।
ওকি    সুরপুরীর পর্দাখানি
              নীরবে খুলে
         ইন্দ্রাণী আজ দাঁড়িয়ে আছেন
              জানালা-মূলে--
         কে জানে গো কী উল্লাসে
         হেরেন ধরা মধুর হাসে,
         আঁচলখানি নীলাকাশে
              পড়েছে দুলে।
ওগো,  কাহারে আজ জানাই আমি
              কী আছে ভাষা--
         আকাশপানে চেয়ে আমার
              মিটেছে আশা।
         হৃদয় আমার গেছে ভেসে
         চাই-নে-কিছু'র স্বর্গ-শেষে,
         ঘুচে গেছে এক নিমেষে
              সকল পিপাসা।
আরো দেখুন
উপসংহার
Stories
ভোজরাজের দেশে যে মেয়েটি ভোরবেলাতে দেবমন্দিরে গান গাইতে যায় সে কুড়িয়ে-পাওয়া মেয়ে।
আচার্য বলেন, 'একদিন শেষরাত্রে আমার কানে একখানি সুর লাগল। তার পরে সেইদিন যখন সাজি নিয়ে পারুলবনে ফুল তুলতে গেছি তখন এই মেয়েটিকে ফুলগাছতলায় কুড়িয়ে পেলেম।'
আরো দেখুন
সমস্যাপূরণ
Stories
ঝিঁকড়কোটার কৃষ্ণগোপাল সরকার জ্যেষ্ঠপুত্রের প্রতি জমিদারি এবং সংসারের ভার দিয়া কাশী চলিয়া গেলেন। দেশের যত অনাথ দরিদ্র লোক তাঁহার জন্য হাহাকার করিয়া কাঁদিতে লাগিল। এমন বদান্যতা, এমন ধর্মনিষ্ঠতা কলিযুগে দেখা যায় না, এই কথা সকলেই বলিতে লাগিল।
তাঁহার পুত্র বিপিনবিহারী আজকালকার একজন সুশিক্ষিত বি-এ। দাড়ি রাখেন, চশমা পরেন, কাহারও সহিত বড়ো একটা মিশেন না। অতিশয় সচ্চরিত্র-- এমন কি, তামাকটি পর্যন্ত খান না, তাস পর্যন্ত খেলেন না। অত্যন্ত ভালোমানুষের মতো চেহারা, কিন্তু লোকটা ভারি কড়াক্কড়।
আরো দেখুন