ভাইফোঁটা
Stories
শ্রাবণ মাসটা আজ যেন এক রাত্রে একেবারে দেউলে হইয়া গেছে। সমস্ত আকাশে কোথাও একটা ছেঁড়া মেঘের টুকরোও নাই।
আশ্চর্য এই যে, আমার সকালটা আজ এমন করিয়া কাটিতেছে। আমার বাগানের মেহেদি-বেড়ার প্রান্তে শিরীষগাছের পাতাগুলো ঝল্‌মল্‌ করিয়া উঠিতেছে, আমি তাহা তাকাইয়া দেখিতেছি। সর্বনাশের যে মাঝ-দরিয়ায় আসিয়া পৌঁছিয়াছি এটা যখন দূরে ছিল তখন ইহার কথা কল্পনা করিয়া কত শীতের রাত্রে সর্বাঙ্গে ঘাম দিয়াছে,কত গ্রীষ্মের দিনে হাত-পায়ের তেলো ঠাণ্ডা হিম হইয়া গেছে। কিন্তু আজ সমস্ত ভয়ভাবনা হইতে এমনি ছুটি পাইয়াছি যে, ঐ যে আতাগাছের ডালে একটা গিরগিটি স্থির হইয়া শিকার লক্ষ্য করিতেছে,সেটার দিকেও আমার চোখ রহিয়াছে।
আরো দেখুন
কে ডাকে! আমি কভু ফিরে নাহি চাই।
Songs
কে ডাকে! আমি কভু ফিরে নাহি চাই।
কত ফুল ফুটে উঠে, কত ফুল যায় টুটে,
আমি শুধু বহে চলে যাই।
পরশ পুলক-রস ভরা রেখে যাই, নাহি দিই ধরা।
উড়ে আসে ফুলবাস, লতাপাতা ফেলে শ্বাস,
বনে বনে উঠে হা-হুতাশ,
চকিতে শুনিতে শুধু পাই,
চলে যাই।
আমি কভু ফিরে নাহি চাই।
আরো দেখুন
সদর ও অন্দর
Stories
বিপিনকিশোর ধনীগৃহে জন্মিয়াছিলেন, সেইজন্যে ধন যে পরিমাণে ব্যয় করিতে জানিতেন তাহার অর্ধেক পরিমাণেও উপার্জন করিতে শেখেন নাই। সুতরাং যে গৃহে জন্ম সে গৃহে দীর্ঘকাল বাস করা ঘটিল না।
সুন্দর সুকুমারমূর্তি তরুণ যুবক, গানবাজনায় সিদ্ধহস্ত, কাজকর্মে নিরতিশয় অপটু; সংসারের পক্ষে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। জীবনযাত্রার পক্ষে জগন্নাথদেবের রথের মতো অচল; যেরূপ বিপুল আয়োজনে চলিতে পারেন সেরূপ আয়োজন সম্প্রতি বিপিনকিশোরের আয়ত্তাতীত।
আরো দেখুন
হম সখি দারিদ নারী
Songs
          হম সখি দারিদ নারী!
জনম অবধি হম পীরিতি করনু
          মোচনু লোচন-বারি।
রূপ নাহি মম, কছুই নাহি গুণ
          দুখিনী আহির জাতি,
নাহি জানি কছু বিলাস-ভঙ্গিম
          যৌবন গরবে মাতি।
অবলা রমণী, ক্ষুদ্র হৃদয় ভরি
          পীরিত করনে জানি;
এক নিমিখ পল, নিরখি শ্যাম জনি
          সোই বহুত করি মানি।
কুঞ্জ পথে যব নিরখি সজনি হম,
শ্যামক চরণক চীনা,
শত শত বেরি ধূলি চুম্বি সখি,
          রতন পাই জনু দীনা।
নুঠুর বিধাতা, এ দুখ-জনমে
          মাঙব কি তুয়া পাশ!
জনম অভাগী, উপেখিতা হম,
          বহুত নাহি করি আশ,--
দূর থাকি হম রূপ হেরইব,
          দূরে শুনইব বাঁশি।
দূর দূর রহি সুখে নিরীখিব
          শ্যামক মোহন হাসি।
শ্যাম-প্রেয়সি রাধা! সখিলো!
          থাক' সুখে চিরদিন!
তুয়া সুখে হম রোয়ব না সখি
          অভাগিনী গুণ হীন।
অপন দুখে সখি, হম রোয়ব লো,
          নিভৃতে মুছইব বারি।
কোহি ন জানব, কোন বিষাদে
          তন-মন দহে হমারি।
ভানু সিংহ ভনয়ে, শুন কালা
          দুখিনী অবলা বালা--
উপেখার অতি তিখীনি বাণে
          না দিহ না দিহ জ্বালা।
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
ম্যানেজারবাবু
Stories
আজ তোমাকে যে গল্পটা বলব মনে করেছি সেটা তোমার ভালো লাগবে না।
তুমি বললেও ভালো লাগবে না কেন।
আরো দেখুন
পান্নালাল
Stories
দাদামশায়, তোমার পাগলের দলের মধ্যে পান্নালাল ছিল খুব নতুন রকমের।
জান, দিদি? তোমার পাগলরা প্রত্যেকেই নতুন, কারও সঙ্গে কারও মিল হয় না। যেমন তোমার দাদামশায়। বিধাতার নতুন পরীক্ষা। ছাঁচ তিনি ভেঙে ফেলেন। সাধারণ লোকের বুদ্ধিতে মিল হয়, অসাধারণ পাগলের মিল হয় না। তোমাকে একটা উদাহরণ দেখাই--
আরো দেখুন
কর্তার ভূত
Stories
বুড়ো কর্তার মরণকালে দেশসুদ্ধ সবাই বলে উঠল, 'তুমি গেলে আমাদের কী দশা হবে।'
শুনে তারও মনে দুঃখ হল। ভাবলে, 'আমি গেলে এদের ঠাণ্ডা রাখবে কে।'
আরো দেখুন
অমর্ত
Verses
আমার মনে একটুও নেই বৈকুন্ঠের আশা।--
                   ওইখানে মোর বাসা
                   যে মাটিতে শিউরে ওঠে ঘাস,
          যার 'পরে ওই মন্ত্র পড়ে দক্ষিনে বাতাস।
চিরদিনের আলোক-জ্বালা নীল আকাশের নীচে
          যাত্রা আমার নৃত্যপাগল নটরাজের পিছে।
ফুল ফোটাবার যে রাগিণী বকুল শাখায় সাধা,
          নিষ্কারণে ওড়ার আবেগ চিলের পাখায় বাঁধা,
                   সেই দিয়েছে রক্তে আমার ঢেউয়ের দোলাদুলি;
স্বপ্নলোকে সেই উড়েছে সুরের পাখনা তুলি।
                             দায়-ভোলা মোর মন
                   মন্দে-ভালোয় সাদায়-কালোয় অঙ্কিত প্রাঙ্গণ
                                      ছাড়িয়ে গেছে দূর দিগন্ত-পানে
                   আপন বাঁশির পথ-ভোলানো তানে।
দেখা দিল দেহের অতীত কোন্‌ দেহ এই মোর
                   ছিন্ন করি বস্তুবাঁধন-ডোর।
                   শুধু কেবল বিপুল অনুভূতি,
          গভীর হতে বিচ্ছুরিত আনন্দময় দ্যুতি,
                   শুধু কেবল গানেই ভাষা যার,
          পুষ্পিত ফাল্গুনের ছন্দে গন্ধে একাকার;
          নিমেষহারা চেয়ে-থাকার দূর অপারের মাঝে
                             ইঙ্গিত যার বাজে।
                   যে দেহেতে মিলিয়ে আছে অনেক ভোরের আলো,
          নাম-না-জানা অপূর্বেরে যার লেগেছে ভালো,
                   যে দেহেতে রূপ নিয়েছে অনির্বচনীয়
                             সকল প্রিয়ের মাঝখানে যে প্রিয়,
                   পেরিয়ে মরণ সে মোর সঙ্গে যাবে--
          কেবল রসে, কেবল সুরে, কেবল অনুভাবে।
আরো দেখুন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
Stories
রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল, বড়ো বড়ো চোখ, শ্যামচিক্কণ ছিপ্‌ছিপে বালক। জাতিতে কায়স্থ। তাহার প্রভুরাও কায়স্থ। বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল।
সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে, স্কুল ছাড়িয়া কলেজে, অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্‌সেফিতে প্রবেশ করিয়াছে। রাইচরণ এখনো তাঁহার ভৃত্য।
আরো দেখুন
মুসলমানীর গল্প
Stories
তখন অরাজকতার চরগুলো কণ্টকিত করে রেখেছিল রাষ্ট্রশাসন, অপ্রত্যাশিত অত্যাচারের অভিঘাতে দোলায়িত হত দিন রাত্রি। দুঃস্বপ্নের জাল জড়িয়েছিল জীবনযাত্রার সমস্ত ক্রিয়াকর্মে, গৃহস্থ কেবলই দেবতার মুখ তাকিয়ে থাকত, অপদেবতার কাল্পনিক আশঙ্কায় মানুষের মন থাকত আতঙ্কিত। মানুষ হোক আর দেবতাই হোক কাউকে বিশ্বাস করা কঠিন ছিল, কেবলই চোখের জলের দোহাই পাড়তে হত। শুভ কর্ম এবং অশুভ কর্মের পরিণামের সীমারেখা ছিল ক্ষীণ। চলতে চলতে পদে পদে মানুষ হোঁচট খেয়ে খেয়ে পড়ত দুর্গতির মধ্যে।
এমন অবস্থায় বাড়িতে রূপসী কন্যার অভ্যাগম ছিল যেন ভাগ্যবিধাতার অভিসম্পাত। এমন মেয়ে ঘরে এলে পরিজনরা সবাই বলত 'পোড়ারমুখী বিদায় হলেই বাঁচি'। সেই রকমেরই একটা আপদ এসে জুটেছিল তিন-মহলার তালুকদার বংশীবদনের ঘরে।
আরো দেখুন
এবার নীরব করে দাও
Songs
এবার   নীরব করে দাও হে তোমার মুখর কবিরে।
তার    হৃদয়-বাঁশি আপনি কেড়ে বাজাও গভীরে॥
নিশীথরাতের নিবিড় সুরে    বাঁশিতে তান দাও হে পুরে
যে তান দিয়ে অবাক কর' গ্রহশশীরে॥
যা-কিছু মোর ছড়িয়ে আছে জীবন-মরণে,
গানের টানে মিলুক এসে তোমার চরণে।
বহুদিনের বাক্যরাশি      এক নিমেষে যাবে ভাসি--
একলা বসে শুনব বাঁশি অকূল তিমিরে॥
আরো দেখুন