মাল্যদান
Stories
সকালবেলায় শীত-শীত ছিল। দুপুরবেলায় বাতাসটি অল্প-একটু তাতিয়া উঠিয়া দক্ষিণ দিক হইতে বহিতে আরম্ভ করিয়াছে।
যতীন যে বারান্দায় বসিয়া ছিল সেখান হইতে বাগানের এক কোণে এক দিকে একটি কাঁঠাল ও আর-এক দিকে একটি শিরীষগাছের মাঝখানের ফাঁক দিয়া বাহিরের মাঠ চোখে পড়ে। সেই শূন্য মাঠ ফাল্গুনের রৌদ্রে ধুধু করিতেছিল। তাহারই একপ্রান্ত দিয়া কাঁচা পথ চলিয়া গেছে -- সেই পথ বাহিয়া বোঝাই-খালাস গোরুর গাড়ি মন্দগমনে গ্রামের দিকে ফিরিয়া চলিয়াছে, গাড়োয়ান মাথায় গামছা ফেলিয়া অত্যন্ত বেকারভাবে গান গহিতেছে।
আরো দেখুন
রীতিমত নভেল
Stories
'আল্লা হো আকবর' শব্দে রণভূমি প্রতিধ্বনিত হইয়া উঠিয়াছে। একদিকে তিনলক্ষ যবনসেনা, অন্যদিকে তিনসহস্র আর্যসৈন্য। বন্যার মধ্যে একাকী অশ্বত্থবৃক্ষের মতো হিন্দুবীরগণ সমস্ত রাত্রি এবং সমস্ত দিন যুদ্ধ করিয়া অটল দাঁড়াইয়া ছিল কিন্তু এইবার ভাঙিয়া পড়িবে, তাহার লক্ষণ দেখা যাইতেছে। এবং সেইসঙ্গে ভারতের জয়ধ্বজা ভূমিসাৎ হইবে এবং আজিকার ঐ অস্তাচলবর্তী সহস্ররশ্মির সহিত হিন্দুস্থানের গৌরবসূর্য চিরদিনের মতো অস্তমিত হইবে।
হর হর বোম্‌ বোম্‌! পাঠক বলিতে পার, কে ঐ দৃপ্ত যুবা পঁয়ত্রিশজন মাত্র অনুচর লইয়া মুক্ত অসি হস্তে অশ্বারোহণে ভারতের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর করনিক্ষিপ্ত দীপ্ত বজ্রের ন্যায় শত্রুসৈন্যের উপরে আসিয়া পতিত হইল? বলিতে পার, কাহার প্রতাপে এই অগণিত যবনসৈন্য প্রচণ্ড বাত্যাহত অরণ্যানীর ন্যায় বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠিল?-- কাহার বজ্রমন্দ্রিত 'হর হর বোম্‌ বোম্‌' শব্দে তিনলক্ষ ম্লেচ্ছকণ্ঠের 'আল্লা হো আকবর' ধ্বনি নিমগ্ন হইয়া গেল? কাহার উদ্যত অসির সম্মুখে ব্যাঘ্র-আক্রান্ত মেষষুথের ন্যায় শত্রুসৈন্য মুহূর্তের মধ্যে ঊর্ধ্বশ্বাসে পলায়নপর হইল? বলিতে পার, সেদিনকার আর্যস্থানের সূর্যদেব সহস্ররক্তকরস্পর্শে কাহার রক্তাক্ত তরবারিকে আশীর্বাদ করিয়া অস্তাচলে বিশ্রাম করিতে গেলেন? বলিতে পার কি পাঠক।
আরো দেখুন
বাচস্পতি
Stories
দাদামশায়, তুমি তোমার চার দিকে যেসব পাগলের দল জমিয়েছিলে, গুণ হিসেব ক'রে তাদের বুঝি সব নম্বর দিয়ে রেখেছিলে?
হ্যাঁ, তা করতে হয়েছে বই-কি। কম তো জমে নি।
আরো দেখুন
ইঁদুরের ভোজ
Stories
ছেলেরা বললে, ভারি অন্যায়, আমরা নতুন পণ্ডিতের কাছে কিছুতেই পড়ব না।
নতুন পণ্ডিতমশায় যিনি আসছেন তাঁর নাম কালীকুমার তর্কালঙ্কার।
আরো দেখুন
চলো যাই, চলো
Songs
চলো   যাই, চলো, যাই চলো, যাই--
     চলো   পদে পদে সত্যের ছন্দে
          চলো   দুর্জয় প্রাণের আনন্দে!
              চলো   মুক্তিপথে,
     চলো বিঘ্নবিপদজয়ী মনোরথে
করো ছিন্ন, করো ছিন্ন, করো ছিন্ন--
              স্বপ্নকুহক করো ছিন্ন।
          থেকো না জড়িত অবরুদ্ধ
                        জড়তার জর্জর বন্ধে।
     বলো   জয় বলো, জয় বলো, জয়--
          মুক্তির জয় বলো ভাই ॥
     চলো   দুর্গমদূরপথযাত্রী   চলো দিবারাত্রি,
                   করো জয়যাত্রা,
     চলো বহি নির্ভয় বীর্যের বার্তা,
          বলো   জয় বলো, জয় বলো, জয়--
              সত্যের জয় বলো ভাই ॥
     দুর করো সংশয়শঙ্কার ভার,
          যাও চলি তিমিরদিগন্তের পার।
     কেন   যায় দিন হায় দুশ্চিন্তার দ্বন্দ্বে--
          চলো    দুর্জয় প্রাণের আনন্দে।
              চলো    জ্যোতির্লোকে   জাগ্রত চোখে--
    
              বলো    জয় বলো, জয় বলো, জয়--
          বলো    নির্মল জ্যোতির জয় বলো ভাই ॥
              হও   মৃত্যুতোরণ উত্তীর্ণ,
          যাক,   যাক ভেঙে যাক যাহা জীর্ণ।
     চলো    অভয় অমৃতময় লোকে,   অজর অশোকে,
              বলো    জয় বলো, জয় বলো, জয়--
                            অমৃতের জয় বলো ভাই ॥
আরো দেখুন
মুক্তি
Stories
বিরহিণী তার ফুলবাগানের এক ধারে বেদী সাজিয়ে তার উপর মূর্তি গড়তে বসল। তার মনের মধ্যে যে মানুষটি ছিল বাইরে তারই প্রতিরূপ প্রতিদিন একটু একটু করে গড়ে, আর চেয়ে চেয়ে দেখে, আর ভাবে, আর চোখ দিয়ে জল পড়ে।
কিন্তু, যে রূপটি একদিন তার চিত্তপটে স্পষ্ট ছিল তার উপরে ক্রমে যেন ছায়া পড়ে আসছে। রাতের বেলাকার পদ্মের মতো স্মৃতির পাপড়িগুলি অল্প অল্প করে যেন মুদে এল।
আরো দেখুন
ঝোড়ো রাত
Verses
ঢেউ উঠেছে জলে,
           হাওয়ায় বাড়ে বেগ।
ওই-যে ছুটে চলে
           গগন-তলে মেঘ।
মাঠের গোরুগুলো
উড়িয়ে চলে ধুলো,
আকাশে চায় মাঝি
           মনেতে উদ্‌বেগ।
           নামল ঝোড়ো রাতি,
                   দৌড়ে চলে ভুতো।
           মাথায় ভাঙা ছাতি,
                   বগলে তার জুতো।
           ঘাটের গলি-'পরে
           শুক্‌নো পাতা ঝরে,
           কল্‌সি কাঁখে নিয়ে
                   মেয়েরা যায় দ্রুত।
ঘণ্টা গোরুর গলে
           বাজিছে ঠন্‌ ঠন্‌।
নীচে গাড়ির তলে
           ঝুলিছে লণ্ঠন।
যাবে অনেক দূরে
বেণীমাধব-পুরে--
ডাইনে চাষের মাঠ,
           বাঁয়ে বাঁশের বন।
           পশ্চিমে মেঘ ডাকে,
                   ঝাউয়ের মাথা দোলে।
           কোথায় ঝাঁকে ঝাঁকে
                   বক উড়ে যায় চ'লে।
           বিদ্যুৎকম্পনে
           দেখছি ক্ষণে ক্ষণে
           মন্দিরের ওই চূড়া
                   অন্ধকারের কোলে।
গৃহস্থ কে ঘরে,
           খোলো দুয়ারখানা।
পান্থ পথের 'পরে,
           পথ নাহি তার জানা।
নামে বাদল-ধারা,
লুপ্ত চন্দ্র তারা,
বাতাস থেকে থেকে
      আকাশকে দেয় হানা।
আরো দেখুন
47
Verses
I FOUND A few old letters of mine carefully hidden in her box- a few small toys for her memory to play with.
With a timorous heart she tried to steal these trifles from time's turbulent stream, and said, 'These are mine only!'
Ah, there is no one now to claim them, who can pay their price with loving care, yet here they are still.
Surely there is love in this world to save her from utter loss, even like this love of hers that saved these letters with such fond care.
আরো দেখুন
তোতাকাহিনী
Stories
এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।
রাজা বলিলেন, 'এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।'
আরো দেখুন
রবিবার
Stories
আমার গল্পের প্রধান মানুষটি প্রাচীন ব্রাহ্মণপণ্ডিত-বংশের ছেলে। বিষয়ব্যাপারে বাপ ওকালতি ব্যবসায়ে আঁটি পর্যন্ত পাকা, ধর্মকর্মে শাক্ত আচারের তীব্র জারক রসে জারিত। এখন আদালতে আর প্র্যাকটিস করতে হয় না। এক দিকে পূজা-অর্চনা আর-এক দিকে ঘরে বসে আইনের পরামর্শ দেওয়া, এই দুটোকে পাশাপাশি রেখে তিনি ইহকাল পরকালের জোড় মিলিয়ে অতি সাবধানে চলেছেন। কোনো দিকেই একটু পা ফসকায় না।
এইরকম নিরেট আচারবাঁধা সনাতনী ঘরের ফাটল ফুঁড়ে যদি দৈবাৎ কাঁটাওয়ালা নাস্তিক ওঠে গজিয়ে, তা হলে তার ভিত-দেয়াল-ভাঙা মন সাংঘাতিক ঠেলা মারতে থাকে ইঁটকাঠের প্রাচীন গাঁথুনির উপরে। এই আচারনিষ্ঠ বৈদিক ব্রাহ্মণের বংশে দুর্দান্ত কালাপাহাড়ের অভ্যুদয় হল আমাদের নায়কটিকে নিয়ে।
আরো দেখুন
22
Verses
IS IT THE Destroyer who comes?
For the boisterous sea of tears heaves in the flood-tide of pain.
The crimson clouds run wild in the wind lashed by lightning, and the thundering laughter of the Mad is over the sky.
Life sits in the chariot crowned by Death.
Bring out your tribute to him of all that you have.
Do not hug your savings to your heart, do not look behind,
Bend your head at his feet, trailing your hair in the dust.
Take to the road from this moment.
For the lamp is blown out and the house is desolate.
The storm winds scream through your doors, the walls are rocking, and the call comes from the land of dimness beyond your ken.
Hide not your face in terror; tears are in vain; your door chains have snapped.
Run out for your voyage to the end of all joys and sorrows.
Let your steps be the steps of a desperate dance.
Sing 'Victory to Life in Death.'
Accept your destiny, O Bride!
Put on your red robe to follow through the darkness the torchlight of the Bridegroom!
আরো দেখুন