ও জোনাকী, কী
Songs
ও জোনাকী,         কী সুখে ওই ডানা দুটি মেলেছ।
          আঁধার সাঁঝে বনের মাঝে উল্লাসে প্রাণ ঢেলেছ॥
তুমি   নও তো সূর্য, নও তো চন্দ্র,   তোমার   তাই ব'লে কি কম আনন্দ।
     তুমি    আপন জীবন পূর্ণ ক'রে আপন আলো জ্বেলেছ॥
তোমার   যা আছে তা তোমার আছে,   তুমি   নও গো ঋণী কারো কাছে,
     তোমার   অন্তরে যে শক্তি আছে তারি আদেশ পেলেছ।
তুমি   আঁধার-বাঁধন ছাড়িয়ে ওঠ,   তুমি   ছোটো হয়ে নও গো ছোটো,
          জগতে   যেথায় যত আলো সবায় আপন ক'রে ফেলেছ॥
আরো দেখুন
যদি তোমার দেখা না পাই প্রভু
Verses
    যদি         তোমার দেখা না পাই প্রভু,
                                এবার এ জীবনে
    তবে        তোমায় আমি পাই নি যেন
                              সে কথা রয় মনে।
    যেন         ভুলে না যাই, বেদনা পাই
                              শয়নে স্বপনে।
                    এ সংসারের হাটে
    আমার         যতই দিবস কাটে,
    আমার         যতই দু হাত ভরে ওঠে ধনে,
    তবু            কিছুই আমি পাই নি যেন
                           সে কথা রয় মনে।
    যেন           ভুলে না যাই, বেদনা পাই
                           শয়নে স্বপনে।
              যদি আলসভরে
আমি        বসি পথের 'পরে,
যদি         ধূলায় শয়ন পাতি সযতনে,
যেন         সকল পথই বাকি আছে
                         সে কথা রয় মনে।
যেন        ভুলে না যাই, বেদনা পাই
                         শয়নে স্বপনে।
         যতই উঠে হাসি,
           ঘরে         যতই বাজে বাঁশি,
           ওগো        যতই গৃহ সাজাই আয়োজনে,
           যেন         তোমায় ঘরে হয় নি আনা
                                সে কথা রয় মনে।
      যেন         ভুলে না যাই, বেদনা পাই
                                 শয়নে স্বপনে।
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প
Stories
গল্প বলিতে হইবে। কিন্তু আর তো পারি না। এখন এই পরিশ্রান্ত অক্ষম ব্যক্তিটিকে ছুটি দিতে হইবে।
এ পদ আমাকে কে দিল বলা কঠিন। ক্রমে ক্রমে একে একে তোমরা পাঁচজন আসিয়া আমার চারিদিকে কখন জড়ো হইলে, এবং কেন যে তোমরা আমাকে এত অনুগ্রহ করিলে এবং আমার কাছে এত প্রত্যাশা করিলে, তাহা বলা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য। অবশ্যই সে তোমাদের নিজগুণে; শুভাদৃষ্টক্রমে আমার প্রতি সহসা তোমাদের অনুগ্রহ উদয় হইয়াছিল। এবং যাহাতে সে অনুগ্রহ রক্ষা হয় সাধ্যমতো সে চেষ্টার ত্রুটি হয় নাই।
আরো দেখুন
কৃতঘ্ন শোক
Stories
ভোরবেলায় সে বিদায় নিলে।
আমার মন আমাকে বোঝাতে বসল, 'সবই মায়া।'
আরো দেখুন
গল্প
Stories
ছেলেটির যেমনি কথা ফুটল অমনি সে বললে, 'গল্প বলো।'
দিদিমা বলতে শুরু করলেন, 'এক রাজপুত্তুর, কোটালের পুত্তুর, সদাগরের পুত্তুর--'
আরো দেখুন
77
Verses
আমারে দিই তোমার হাতে
নূতন করে নূতন প্রাতে।
     দিনে দিনেই ফুল যে ফোটে,
     তেমনি করেই ফুটে ওঠে
            জীবন তোমার আঙিনাতে
            নূতন করে নূতন প্রাতে।
বিচ্ছেদেরি ছন্দে লয়ে
মিলন ওঠে নবীন হয়ে।
      আলো-অন্ধকারের তীরে
      হারায়ে পাই ফিরে ফিরে,
            দেখা আমার তোমার সাথে
            নূতন করে নূতন প্রাতে।
আরো দেখুন
মেঘলা দিনে
Stories
রোজই থাকে সমস্তদিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সেদিনকার কাজে, সেদিনকার আলাপে সেদিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।
আজ সকালবেলা মেঘের স্তবকে স্তবকে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে, ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত শেষ করে দেওয়া যায় না।
আরো দেখুন
পণরক্ষা
Stories
বংশীবদন তাহার ভাই রসিককে যেমন ভালোবাসিত এমন করিয়া সচরাচর মাও ছেলেকে ভালোবাসিতে পারে না। পাঠশালা হইতে রসিকের আসিতে যদি কিছু বিলম্ব হইত তবে সকল কাজ ফেলিয়া সে তাহার সন্ধানে ছুটিত। তাহাকে না খাওয়াইয়া সে নিজে খাইতে পারিত না। রসিকের অল্প কিছু অসুখবিসুখ হইলেই বংশীর দুই চোখ দিয়া ঝর্‌ঝর্‌ করিয়া জল ঝরিতে থাকিত।
রসিক বংশীর চেয়ে ষোলো বছরের ছোটো। মাঝে যে কয়টি ভাইবোন জন্মিয়াছিল সবগুলিই মারা গিয়াছে। কেবল এই সব-শেষেরটিকে রাখিয়া, যখন রসিকের এক বছর বয়স, তখন তাহার মা মারা গেল এবং রসিক যখন তিন বছরের ছেলে তখন সে পিতৃহীন হইল। এখন রসিককে মানুষ করিবার ভার একা এই বংশীর উপর।
আরো দেখুন
ম্যাজিশিয়ান
Stories
কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, শুনেছি এক সময়ে তুমি বড়ো বড়ো কথা নিয়ে খুব বড়ো বড়ো বই লিখেছিলে।
জীবনে অনেক দুষ্কর্ম করেছি, তা কবুল করতে হবে। ভারতচন্দ্র বলেছেন, সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর।
আরো দেখুন
রাসমণির ছেলে
Stories
কালীপদর মা ছিলেন রাসমণি-- কিন্তু তাঁহাকে দায়ে পড়িয়া বাপের পদ গ্রহণ করিতে হইয়াছিল। কারণ, বাপ মা উভয়েই মা হইয়া উঠিলে ছেলের পক্ষে সুবিধা হয় না। তাঁহার স্বামী ভবানীচরণ ছেলেকে একেবারেই শাসন করিতে পারেন না।
তিনি কেন এত বেশি আদর দেন তাহা জিজ্ঞাসা করিলে তিনি যে উত্তর দিয়া থাকেন তাহা বুঝিতে হইলে পূর্ব ইতিহাস জানা চাই।
আরো দেখুন