স্বর্গ-মর্ত
Stories
গান
মাটির প্রদীপখানি আছে
আরো দেখুন
অতিথি
Stories
কাঁঠালিয়ার জমিদার মতিলালবাবু নৌকা করিয়া সপরিবারে স্বদেশে যাইতেছিলেন। পথের মধ্যে মধ্যাহ্নে নদীতীরের এক গঞ্জের নিকট নৌকা বাঁধিয়া পাকের আয়োজন করিতেছেন এমন সময় এক ব্রাহ্মণবালক আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, 'বাবু, তোমরা যাচ্ছ কোথায়?'
প্রশ্নকর্তার বয়স পনেরো-ষোলোর অধিক হইবে না।
আরো দেখুন
সওগাত
Stories
পুজোর পরব কাছে। ভাণ্ডার নানা সামগ্রীতে ভরা। কত বেনারসি কাপড়, কত সোনার অলংকার; আর ভাণ্ড ভ'রে ক্ষীর দই, পাত্র ভ'রে মিষ্টান্ন।
মা সওগাত পাঠাচ্ছেন।
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন
ভালোমানুষ
Stories
ছিঃ, আমি নেহাত ভালোমানুষ।
কুসমি বললে, কী যে তুমি বল তার ঠিক নেই। তুমি যে ভালোমানুষ সেও কি বলতে হবে। কে না জানে, তুমি ও পাড়ার লোটনগুণ্ডার দলের সর্দার নও। ভালোমানুষ তুমি বল কাকে।
আরো দেখুন
দিদি
Stories
পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, 'এমন স্বামীর মুখে আগুন।'
শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিলেন-- স্বামীজাতির মুখে চুরটের আগুন ছাড়া অন্য কোনো প্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না।
আরো দেখুন
মুক্তকুন্তলা
Stories
আমার খুদে বন্ধুরা এসে হাজির তাদের নালিশ নিয়ে। বললে, দাদামশায় তুমি কি আমাদের ছেলেমানুষ মনে কর।
তা, ভাই, ঐ ভুলটাই তো করেছিলুম। আজকাল নিজেরই বয়েসটার ভুল হিসেব করতে শুরু করেছি।
আরো দেখুন
মাল্যদান
Stories
সকালবেলায় শীত-শীত ছিল। দুপুরবেলায় বাতাসটি অল্প-একটু তাতিয়া উঠিয়া দক্ষিণ দিক হইতে বহিতে আরম্ভ করিয়াছে।
যতীন যে বারান্দায় বসিয়া ছিল সেখান হইতে বাগানের এক কোণে এক দিকে একটি কাঁঠাল ও আর-এক দিকে একটি শিরীষগাছের মাঝখানের ফাঁক দিয়া বাহিরের মাঠ চোখে পড়ে। সেই শূন্য মাঠ ফাল্গুনের রৌদ্রে ধুধু করিতেছিল। তাহারই একপ্রান্ত দিয়া কাঁচা পথ চলিয়া গেছে -- সেই পথ বাহিয়া বোঝাই-খালাস গোরুর গাড়ি মন্দগমনে গ্রামের দিকে ফিরিয়া চলিয়াছে, গাড়োয়ান মাথায় গামছা ফেলিয়া অত্যন্ত বেকারভাবে গান গহিতেছে।
আরো দেখুন
আশীর্বাদ
Verses
পঞ্চাশ বছরের কিশোর গুণী নন্দলাল বসুর প্রতি
সত্তর বছরের প্রবীণ যুবা রবীন্দ্রনাথের আশীর্ভাষণ
    নন্দনের কুঞ্জতলে রঞ্জনার ধারা,
    জন্ম-আগে তাহার জলে তোমার স্নান সারা।
            অঞ্জন সে কী মধুরাতে
            লাগালো কে যে নয়নপাতে,
    সৃষ্টি-করা দৃষ্টি তাই পেয়েছে আঁখিতারা।
    এনেছে তব জন্মডালা অজর ফুলরাজি,
    রূপের-লীলালিখন-ভরা পারিজাতের সাজি।
            অপ্সরীর নৃত্যগুলি
            তুলির মুখে এনেছ তুলি,
    রেখার বাঁশি লেখার তব উঠিল সুরে বাজি।
    যে মায়াবিনী আলিম্পনা সবুজে নীলে লালে
    কখনো আঁকে কখনো মোছে অসীম দেশে কালে,
            মলিন মেঘে সন্ধ্যাকাশে
            রঙিন উপহাসি যে হাসে
    রঙজাগানো সোনার কাঠি সেই ছোঁয়ালো ভালে।
    বিশ্ব সদা তোমার কাছে ইশারা করে কত,
    তুমিও তারে ইশারা দাও আপন মনোমত।
            বিধির সাথে কেমন ছলে
            নীরবে তব আলাপ চলে,
    সৃষ্টি বুঝি এমনিতরো ইশারা অবিরত।
    ছবির 'পরে পেয়েছ তুমি রবির বরাভয়,
    ধূপছায়ার চপল মায়া করেছ তুমি জয়।
            তব আঁকন-পটের 'পরে
            জানি গো চিরদিনের তরে
    নটরাজের জটার রেখা জড়িত হয়ে রয়।
    চিরবালক ভুবনছবি আঁকিয়া খেলা করে,
    তাহারি তুমি সমবয়সী মাটির খেলাঘরে।
            তোমার সেই তরুণতাকে
            বয়স দিয়ে কভু কি ঢাকে,
    অসীম-পানে ভাসাও প্রাণ খেলার ভেলা-'পরে।
    তোমারি খেলা খেলিতে আজি উঠেছে কবি মেতে,
    নববালক জন্ম নেবে নূতন আলোকেতে।
            ভাবনা তার ভাষায় ডোবা--
            মুক্ত চোখে বিশ্বশোভা
    দেখাও তারে, ছুটেছে মন তোমার পথে যেতে।
আরো দেখুন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
Stories
রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল, বড়ো বড়ো চোখ, শ্যামচিক্কণ ছিপ্‌ছিপে বালক। জাতিতে কায়স্থ। তাহার প্রভুরাও কায়স্থ। বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল।
সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে, স্কুল ছাড়িয়া কলেজে, অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্‌সেফিতে প্রবেশ করিয়াছে। রাইচরণ এখনো তাঁহার ভৃত্য।
আরো দেখুন