তোমায় সাজাব যতনে
Songs
তোমায় সাজাব যতনে কুসুমে রতনে
কেয়ূরে কঙ্কণে কুঙ্কুমে চন্দনে।।
কুন্তলে বেষ্টিব স্বর্ণজালিকা, কণ্ঠে দোলাইব মুক্তামালিকা,
সীমন্তে সিন্দুর অরুণ বিন্দুর– চরণ রঞ্জিব অলক্ত-অঙ্কনে।।
সখীরে সাজাব সখার প্রেমে অলক্ষ্য প্রাণের অমূল্য হেমে।
সাজাব সকরুণ বিরহবেদনায়, সাজাব অক্ষয় মিলনসাধনায়–
মধুর লজ্জা রচিব সজ্জা যুগল প্রাণের বাণীর বন্ধনে।।
আরো দেখুন
147
Verses
ফুল ছিঁড়ে লয়
        হাওয়া,
সে পাওয়া মিথ্যে
        পাওয়া--
আনমনে তার
পুষ্পের ভার
ধুলায় ছড়িয়ে
        যাওয়া।
যে সেই ধুলার
        ফুলে
হার গেঁথে লয়
        তুলে
হেলায় সে ধন
হয় যে ভূষণ
তাহারি মাথার
        চুলে।
শুধায়ো না মোর
        গান
কারে করেছিনু
        দান--
পথধুলা-'পরে
আছে তারি তরে
যার কাছে পাবে
        মান।
আরো দেখুন
কাজ ভোলাবার কে গো তোরা
Songs
                   কাজ ভোলাবার কে গো তোরা !
                   রঙিন সাজে কে যে পাঠায়
                       কোন্‌ সে ভুবন-মনো-চোরা !
                   কঠিন পাথর সারে সারে
                   দেয় পাহারা গুহার দ্বারে,
                   হাসির ধারায় ডুবিয়ে তারে
                       ঝরাও রসের সুধা-ঝোরা !
                   স্বপন-তরীর তোরা নেয়ে
                   লাগল প্রাণে নেশার হাওয়া,
                       পাগ্‌লা পরান চলে গেয়ে।
                   কোন্‌ উদাসীর উপবনে
                   বাজল বাঁশি ক্ষণে ক্ষণে,
                   ভুলিয়ে দিল ঈশান কোণে
                       ঝঞ্ঝা ঘনায় ঘনঘোরা ।
আরো দেখুন
আবার যদি ইচ্ছা কর
Songs
আবার যদি ইচ্ছা কর আবার আসি ফিরে
     দুঃখসুখের-ঢেউ-খেলানো এই সাগরের তীরে ॥
আবার জলে ভাসাই ভেলা,  ধুলার 'পরে করি খেলা গো,
              হাসির মায়ামৃগীর পিছে ভাসি নয়ননীরে ॥
কাঁটার পথে আঁধার রাতে আবার যাত্রা করি,
     আঘাত খেয়ে বাঁচি নাহয় আঘাত খেয়ে মরি।
আবার তুমি ছদ্মবেশে    আমার সাথে খেলাও হেসে গো,
              নূতন প্রেমে ভালোবাসি আবার ধরণীরে ॥
আরো দেখুন
উপসংহার
Stories
ভোজরাজের দেশে যে মেয়েটি ভোরবেলাতে দেবমন্দিরে গান গাইতে যায় সে কুড়িয়ে-পাওয়া মেয়ে।
আচার্য বলেন, 'একদিন শেষরাত্রে আমার কানে একখানি সুর লাগল। তার পরে সেইদিন যখন সাজি নিয়ে পারুলবনে ফুল তুলতে গেছি তখন এই মেয়েটিকে ফুলগাছতলায় কুড়িয়ে পেলেম।'
আরো দেখুন
তারাপ্রসন্নের কীর্তি
Stories
লেখকজাতির প্রকৃতি অনুসারে তারাপ্রসন্ন কিছু লাজুক এবং মুখচোরা ছিলেন। লোকের কাছে বাহির হইতে গেলে তাঁহার সর্বনাশ উপস্থিত হইত। ঘরে বসিয়া কলম চালাইয়া তাঁহার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, পিঠ একটু কুঁজা, সংসারের অভিজ্ঞতা অতি অল্প। লৌকিকতার বাঁধি বোলসকল সহজে তাঁহার মুখে আসিত না, এইজন্য গৃহদুর্গের বাহিরে তিনি আপনাকে কিছুতেই নিরাপদ মনে করিতেন না।
লোকেও তাঁহাকে একটা উজবুক রকমের মনে করিত এবং লোকেরও দোষ দেওয়া যায় না। মনে করো, প্রথম পরিচয়ে একটি পরম ভদ্রলোক উচ্ছ্বসিত কন্ঠে তারাপ্রসন্নকে বলিলেন, "মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হয়ে যে কী পর্যন্ত আনন্দ লাভ করা গেল, তা একমুখে বলতে পারি নে"-- তারাপ্রসন্ন নিরুত্তর হইয়া নিজের দক্ষিণ করতল বিশেষ মনোযোগপূর্বক নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। হঠাৎ সে নীরবতার অর্থ এইরূপ মনে হয়, "তা, তোমার আনন্দ হয়েছে সেটা খুব সম্ভব বটে, কিন্তু আমার-যে আনন্দ হয়েছে এমন মিথ্যা কথাটা কী করে মুখে উচ্চারণ করব তাই ভাবছি।"
আরো দেখুন
যোগী
Verses
পশ্চিমে ডুবেছে ইন্দু,              সম্মুখে উদার সিন্ধু,
             শিরোপরি অনন্ত আকাশ,
লম্বমান জটাটুটে,                যোগিবর করপুটে
             দেখিছেন সূর্যের প্রকাশ।
উলঙ্গ সুদীর্ঘকায়,                   বিশাল ললাট ভায়,
             মুখে তাঁর শান্তির বিকাশ।
শূন্যে আঁখি চেয়ে আছে,          উদার বুকের কাছে
             খেলা করে সমুদ্রবাতাস।
চৌদিকে দিগন্ত মুক্ত,               বিশ্বচরাচর সুপ্ত,
             তারি মাঝে যোগী মহাকায়।
ভয়ে ভয়ে ঢেউগুলি             নিয়ে যায় পদধূলি,
             ধীরে আসে, ধীরে চলে যায়।
মহা স্তব্ধ সব ঠাঁই,               বিশ্বে আর শব্দ নাই
             কেবল সিন্ধুর মহা তান--
যেন সিন্ধু ভক্তিভরে              জলদগম্ভীর স্বরে
             তপনের করে স্তবগান।
আজি সমুদ্রের কূলে,               নীরবে সমুদ্র দুলে
             হৃদয়ের অতল গভীরে।
অনন্ত সে পারাবার                  ডুবাইছে চারি ধার,
             ঢেউ লাগে জগতের তীরে।
যোগী যেন চিত্রে লিখা,            উঠিছে রবির শিখা
             মুখে তারি পড়িছে কিরণ,
পশ্চাতে ব্যাপিয়া দিশি,            তামসী তাপসী নিশি
             ধ্যান করে মুদিয়া নয়ন।
শিবের জটার 'পরে                  যথা সুরধুনী ঝরে
             তারাচূর্ণ রজতের স্রোতে,
তেমনি কিরণ লুটে                 সন্ন্যাসীর জটাজুটে
             পূরব-আকাশ-সীমা হতে।
বিমল আলোক হেন            ব্রহ্মলোক হতে যেন
             ঝরে তাঁর ললাটের কাছে,
মর্ত্যের তামসী নিশি        পশ্চাতে যেতেছে মিশি
             নীরবে নিস্তব্ধ চেয়ে আছে।
সুদূর সমুদ্রনীরে                অসীম আঁধার-তীরে
             একটুকু কনকের রেখা,
কী মহা রহস্যময়,                        সমুদ্রে অরুণোদয়
             আভাসের মতো যায় দেখা।
চরাচর ব্যগ্র প্রাণে                     পুরবের পথ-পানে
             নেহারিছে সমুদ্র অতল--
দেখো চেয়ে মরি মরি,              কিরণ-মৃণাল 'পরি
             জ্যোতির্ময় কনককমল।
দেখো চেয়ে দেখো পুবে           কিরণে গিয়েছে ডুবে
             গগনের উদার ললাট--
সহসা সে ঋষিবর                আকাশে তুলিয়া কর
             গাহিয়া উঠিল বেদ-পাঠ।
আরো দেখুন
খেলার ছলে সাজিয়ে
Songs
        খেলার ছলে সাজিয়ে আমার গানের বাণী
        দিনে দিনে ভাসাই দিনের তরীখানি ॥
স্রোতের লীলায় ভেসে ভেসে    সুদূরে কোন্‌ অচিন দেশে
        কোনো ঘাটে ঠেকবে কিনা নাহি জানি ॥
        নাহয় ডুবে গেলই,    নাহয় গেলই বা।
        নাহয় তুলে লও গো, নাহয় ফেলোই বা।
হে অজানা, মরি মরি,     উদ্দেশে এই খেলা করি,
        এই খেলাতেই আপন-মনে ধন্য মানি ॥
আরো দেখুন