একরাত্রি
Stories
সুরবালার সঙ্গে একত্রে পাঠশালায় গিয়াছি, বউ-বউ খেলিয়াছি। তাহাদের বাড়িতে গেলে সুরবালার মা আমাকে বড় যত্ন করিতেন এবং আমাদের দুইজনকে একত্র করিয়া  আপনা-আপনি বলাবলি করিতেন,'আহা দুটিতে বেশ মানায়।'
ছোট ছিলাম কিন্তু কথাটার অর্থ একরকম বুঝতে পারিতাম। সুরবালার প্রতি যে সর্বসাধারণের অপেক্ষা আমার কিছু বিশেষ দাবি ছিল, সে ধারণা আমার মনে বদ্ধমূল হইয়া গিয়াছিল। সেই অধিকারমদে মত্ত হইয়া তাহার প্রতি যে আমি শাসন এবং উপদ্রব না করিতাম তাহা নহে। সেও সহিষ্ণুভাবে আমার সকলরকম  ফরমাশ খাটিত এবং শাস্তি বহন করিত। পাড়ায় তাহার রূপের প্রশংসা ছিল, কিন্তু বর্বর বালকের চক্ষে সে সৌন্দর্যের কোনো গৌরব ছিল না-- আমি কেবল জানিতাম, সুরবালা আমারই প্রভুত্ব স্বীকার করিবার জন্য পিতৃগৃহে জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, এইজন্য সে আমার বিশেষরূপ অবহেলার পাত্র।
আরো দেখুন
17
Verses
I BROUGHT out my earthen lamp from my house and cried, 'Come, children, I will light your path!'
The night was still dark when I returned, leaving the road to its silence; crying, 'Light me, 0 Fire! for my earthen lamp lies broken in the dust!'
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
তারাপ্রসন্নের কীর্তি
Stories
লেখকজাতির প্রকৃতি অনুসারে তারাপ্রসন্ন কিছু লাজুক এবং মুখচোরা ছিলেন। লোকের কাছে বাহির হইতে গেলে তাঁহার সর্বনাশ উপস্থিত হইত। ঘরে বসিয়া কলম চালাইয়া তাঁহার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, পিঠ একটু কুঁজা, সংসারের অভিজ্ঞতা অতি অল্প। লৌকিকতার বাঁধি বোলসকল সহজে তাঁহার মুখে আসিত না, এইজন্য গৃহদুর্গের বাহিরে তিনি আপনাকে কিছুতেই নিরাপদ মনে করিতেন না।
লোকেও তাঁহাকে একটা উজবুক রকমের মনে করিত এবং লোকেরও দোষ দেওয়া যায় না। মনে করো, প্রথম পরিচয়ে একটি পরম ভদ্রলোক উচ্ছ্বসিত কন্ঠে তারাপ্রসন্নকে বলিলেন, "মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হয়ে যে কী পর্যন্ত আনন্দ লাভ করা গেল, তা একমুখে বলতে পারি নে"-- তারাপ্রসন্ন নিরুত্তর হইয়া নিজের দক্ষিণ করতল বিশেষ মনোযোগপূর্বক নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। হঠাৎ সে নীরবতার অর্থ এইরূপ মনে হয়, "তা, তোমার আনন্দ হয়েছে সেটা খুব সম্ভব বটে, কিন্তু আমার-যে আনন্দ হয়েছে এমন মিথ্যা কথাটা কী করে মুখে উচ্চারণ করব তাই ভাবছি।"
আরো দেখুন
গদ্য ও পদ্য
Verses
শর কহে, আমি লঘু, গুরু তুমি গদা,
তাই বুক ফুলাইয়া খাড়া আছ সদা।
করো তুমি মোর কাজ, তর্ক যাক চুকে--
মাথা ভাঙা ছেড়ে দিয়ে বেঁধো গিয়ে বুকে।
আরো দেখুন
হালদারগোষ্ঠী
Stories
এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না। অবস্থাও সচ্ছল, মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে, কিন্তু তবুও গোল বাধিল।
কেননা, সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত, একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না; যদি বা ঘটিত সেটাকে রবার দিয়া মুছিয়া সংশোধন করিলেই চলিয়া যাইত।
আরো দেখুন
The Parrot`s Training
Stories
ONCE UPON A time there was a bird. It was ignorant. It sang all right, but never recited scriptures. It hopped pretty frequently, but lacked manners.
Said the Raja to himself: ‘Ignorance is costly in the long run. For fools consume as much food as their betters, and yet give nothing in return.’
আরো দেখুন
আজিকে এই সকালবেলাতে
Songs
                   আজিকে এই সকালবেলাতে
          বসে আছি আমার প্রাণের সুরটি মেলাতে ॥
আকাশে ওই অরুণ রাগে   মধুর তান করুণ লাগে,
          বাতাস মাতে আলোছায়ার মায়ার খেলাতে ॥
          নীলিমা এই নিলীন হল আমার চেতনায়।
          সোনার আভা জড়িয়ে গেল মনের কামনায়।
লোকান্তরের ও পার হতে   কে উদাসী বায়ুর স্রোতে
          ভেসে বেড়ায় দিগন্তে ওই মেঘের ভেলাতে ॥
আরো দেখুন
মুক্তি
Verses
     ডাক্তারে যা বলে বলুক নাকো,
               রাখো রাখো খুলে রাখো,
শিয়রের ওই জানলা দুটো,--গায়ে লাগুক হাওয়া।
     ওষুধ? আমার ফুরিয়ে গেছে ওষুধ খাওয়া।
     তিতো কড়া কত ওষুধ খেলেম এ জীবনে,
               দিনে দিনে ক্ষণে ক্ষণে।
          বেঁচে থাকা, সেই যেন এক রোগ;
          কত রকম কবিরাজি, কতই মুষ্টিযোগ,
     একটুমাত্র অসাবধানেই, বিষম কর্মভোগ।
     এইটে ভালো, ঐটে মন্দ, যে যা বলে সবার কথা মেনে,
                   নামিয়ে চক্ষু, মাথায় ঘোমটা টেনে,
        বাইশ বছর কাটিয়ে দিলেম এই তোমাদের ঘরে।
                   তাই তো ঘরে পরে,
               সবাই আমায় বললে লক্ষ্মী সতী,
                   ভালোমানুষ অতি!
          এ সংসারে এসেছিলেম ন-বছরের মেয়ে,
          তার পরে এই পরিবারের দীর্ঘ গলি বেয়ে
দশের ইচ্ছা বোঝাই-করা এই জীবনটা টেনে টেনে শেষে
               পৌঁছিনু আজ পথের প্রান্তে এসে।
                   সুখের দুখের কথা
               একটুখানি ভাবব এমন সময় ছিল কোথা।
এই জীবনটা ভালো, কিংবা মন্দ, কিংবা যা-হ'ক-একটা-কিছু
          সে-কথাটা বুঝব কখন, দেখব কখন ভেবে আগুপিছু।
                    একটানা এক ক্লান্ত সুরে
               কাজের চাকা চলছে ঘুরে ঘুরে।
          বাইশ বছর রয়েছি সেই এক-চাকাতেই বাঁধা
                   পাকের ঘোরে আঁধা।
     জানি নাই তো আমি যে কী, জানি নাই এ বৃহৎ বসুন্ধরা
               কী অর্থে যে ভরা।
          শুনি নাই তো মানুষের কী বাণী
     মহাকালের বীণায় বাজে। আমি কেবল জানি,
     রাঁধার পরে খাওয়া, আবার খাওয়ার পরে রাঁধা,
          বাইশ বছর এক-চাকাতেই বাঁধা।
     মনে হচ্ছে সেই চাকাটা--ঐ যে থামল যেন;
          থামুক তবে। আবার ওষুধ কেন।
     বসন্তকাল বাইশ বছর এসেছিল বনের আঙিনায়।
               গন্ধে বিভোল দক্ষিণ বায়
          দিয়েছিল জলস্থলের মর্ম-দোলায় দোল;
          হেঁকেছিল, "খোল্‌ রে দুয়ার খোল্‌।"
সে যে কখন আসত যেত জানতে পেতেম না যে।
                   হয়তো মনের মাঝে
          সংগোপনে দিত নাড়া; হয়তো ঘরের কাজে
          আচম্বিতে ভুল ঘটাত; হয়তো বাজত বুকে
          জন্মান্তরের ব্যথা; কারণ-ভোলা দুঃখে সুখে
হয়তো পরান রইত চেয়ে যেন রে কার পায়ের শব্দ শুনে,
                   বিহ্বল ফাল্গুনে।
          তুমি আসতে আপিস থেকে, যেতে সন্ধ্যাবেলায়
               পাড়ায় কোথা শতরঞ্জ খেলায়।
                   থাক্‌ সে-কথা।
আজকে কেন মনে আসে প্রাণের যত ক্ষণিক ব্যাকুলতা।
          প্রথম আমার জীবন এই বাইশ বছর পরে
               বসন্তকাল এসেছে মোর ঘরে।
          জানলা দিয়ে চেয়ে আকাশ-পানে
     আনন্দে আজ ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠছে প্রাণে--
               আমি নারী, আমি মহীয়সী,
আমার সুরে সুর বেঁধেছে জ্যোৎস্না-বীণায় নিদ্রাবিহীন শশী।
          আমি নইলে মিথ্যা হত সন্ধ্যাতারা ওঠা,
               মিথ্যা হত কাননে ফুল-ফোটা।
                   বাইশ বছর ধরে
     মনে ছিল বন্দী আমি অনন্তকাল তোমাদের এই ঘরে।
          দুঃখ তবু ছিল না তার তরে,
অসাড় মনে দিন কেটেছে, আরো কাটত আরো বাঁচলে পরে।
                   যেথায় যত জ্ঞাতি
          লক্ষ্মী বলে করে আমার খ্যাতি;
     এই জীবনে সেই যেন মোর পরম সার্থকতা--
          ঘরের কোণে পাঁচের মুখের কথা!
               আজকে কখন মোর
               কাটল বাঁধন-ডোর।
     জনম-মরণ এক হয়েছে ওই যে অকূল বিরাট মোহানায়,
               ঐ অতলে কোথায় মিলে যায়
               ভাঁড়ার-ঘরের দেয়াল যত
                   একটু ফেনার মতো।
               এতদিনে প্রথম যেন বাজে
          বিয়ের বাঁশি বিশ্ব-আকাশ মাঝে।
তুচ্ছ বাইশ বছর আমার ঘরের কোণের ধুলায় পড়ে থাক।
          মরণ-বাসরঘরে আমায় যে দিয়েছে ডাক
     দ্বারে আমার প্রার্থী সে যে, নয় সে কেবল প্রভু,
               হেলা আমায় করবে না সে কভু।
                   চায় সে আমার কাছে
     আমার মাঝে গভীর গোপন যে সুধারস আছে
               গ্রহতারার সভার মাঝখানে সে
ঐ যে আমার মুখে চেয়ে দাঁড়িয়ে হোথায় রইল নির্নিমেষে।
                   মধুর ভুবন, মধুর আমি নারী,
          মধুর মরণ, ওগো আমার অনন্ত ভিখারি।
                   দাও, খুলে দাও দ্বার,
     ব্যর্থ বাইশ বছর হতে পার করে দাও কালের পারাবার।
আরো দেখুন
18
Verses
CLOUDS HEAP upon clouds and it darkens. Ah, love, why dost thou let me wait outside at the door all alone?
In the busy moments of the noontide work I am with the crowd, but on this dark lonely day it is only for thee that I hope.
If thou showest me not thy face, if thou leavest me wholly aside, I know not how I am to pass these long, rainy hours.
I keep gazing on the far away gloom of the sky, and my heart wanders wailing with the restless wind.
আরো দেখুন
পোস্টমাস্টার
Stories
প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্টমাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্টআপিস স্থাপন করাইয়াছে।
আমাদের পোস্টমাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যে-রকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্টমাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহার ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে।
আরো দেখুন