রাজরানী
Stories
কাল তোমার ভালো লাগে নি চণ্ডীকে নিয়ে বকুনি। ও একটা ছবি মাত্র। কড়া কড়া লাইনে আঁকা, ওতে রস নাই। আজ তোমাকে কিছু বলব, সে সত্যিকার গল্প।
কুসমি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই বলো। তুমি তো সেদিন বললে, বরাবর মানুষ সত্যি খবর দিয়ে এসেছে গল্পের মধ্যে মুড়ে। একেবারে ময়রার দোকান বানিয়ে রেখেছে। সন্দেশের মধ্যে ছানাকে চেনাই যায় না।
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
রথযাত্রা
Stories
রথযাত্রার দিন কাছে।
তাই রানী রাজাকে বললে, 'চলো, রথ দেখতে যাই।'
আরো দেখুন
কেন গান শুনাই
Verses
          এসো সখি, এসো মোর কাছে,
                   কথা এক শুধাবার আছে!
          চেয়ে তব মুখপানে ব'সে এই ঠাঁই--
          প্রতিদিন যত গান তোমারে শুনাই,
          বুঝিতে কি পার সখি কেন যে তা গাই?
          শুধু কি তা পশে কানে? কথাগুলি তার
          কোথা হতে উঠিতেছে ভাবো একবার?
                   বুঝ না কি হৃদয়ের
                             কোন্‌খানে শেল ফুটে
                   তবে প্রতি কথাগুলি
                             আর্তনাদ করি উঠে!
          যখন নয়নে উঠে বিন্দু অশ্রুজল,
          তখন কি তাই তুই দেখিস কেবল?
দেখ না কি কী সমুদ্র হৃদয়েতে উথলিছে,
শুধু কণামাত্র তার আঁখিপ্রান্তে বিগলিছে!
          যখন একটি শুধু উঠে রে নিশ্বাস,
          তখন কি তাই শুধু শুনিবারে পাস?
শুনিস না কী ঝটিকা হৃদয়ে বেড়ায় ছুটে
          একটি উচ্ছ্বাস শুধু বাহিরেতে ফুটে!
          যে কথাটি বলি আমি শোনো শুধু তাই?
          শোনো না কি যত কথা বলা হইল না?
                   যত কথা বলিবারে চাই?
               আমি কি শুনাই গান
               ভালো মন্দ করিতে বিচার?
          যবে এ নয়ন হতে বহে অশ্রুধার--
               শুধু কি রে দেখিবি তখন
          সে অশ্রু উজ্জ্বল কি না হীরার মতন?
আমার এ গান তোরে যখন শুনাই
নিন্দা বা প্রশংসা আমি কিছু নাহি চাই--
                   যে হৃদি দিয়েছি তোরে
          তাই তোরে দেখাবারে চাই,
          তারি ভাষা বুঝাবারে চাই,
          তারি ব্যথা জানাবারে চাই,
                   আর কিবা চাই?
          সেই হৃদি দেখিলি যখন,
          তারি ভাষা বুঝিলি যখন,
          তারি ব্যথা জানিলি যখন
  তখন একটি বিন্দু অশ্রুবারি চাই!
          (আর কিবা চাই! )
          আয় সখি কাছে মোর আয়,
          কথা এক শুধাব তোমায়--
  এত গান শুনালেম এত অনুরাগে
          কথা তার বুকে কি লো লাগে?
          একটি নিশ্বাস কি লো জাগে?
  কথা শুধু শুনিয়া কি যাস?
          ভালো মন্দ বুঝিস কেবল?
          প্রাণের ভিতর হতে
          উঠে না একটি অশ্রুজল?
আরো দেখুন
রহি রহি আনন্দতরঙ্গ
Songs
রহি রহি আনন্দতরঙ্গ জাগে ॥
রহি রহি, প্রভু, তব পরশমাধুরী
হৃদয়মাঝে আসি লাগে ॥
রহি রহি শুনি তব চরণপাত হে
মম পথের আগে আগে ॥
রহি রহি মম মনোগগন ভাতিল
তব প্রসাদরবিরাগে ॥
আরো দেখুন
প্রভু, বলো বলো কবে
Songs
প্রভু,   বলো বলো কবে
তোমার    পথের ধুলার রঙে রঙে আঁচল রঙিন হবে।
              তোমার বনের রাঙা ধূলি  ফুটায় পূজার কুসুমগুলি,
    সেই ধূলি হায় কখন আমায় আপন করি' লবে?
    প্রণাম দিতে চরণতলে  ধুলার কাঙাল যাত্রীদলে
    চলে যারা, আপন ব'লে চিনবে আমায় সবে॥
আরো দেখুন
মাস্টারমশায়
Stories
রাত্রি তখন প্রায় দুটা। কলিকাতার নিস্তব্ধ শব্দসমুদ্রে একটুখানি ঢেউ তুলিয়া একটা বড়ো জুড়িগাড়ি ভবানীপুরের দিক হইতে আসিয়া বির্জিতলাওয়ের মোড়ের কাছে থামিল। সেখানে একটা ঠিকাগাড়ি দেখিয়া, আরোহী বাবু তাহাকে ডাকিয়া আনাইলেন। তাহার পাশে একটি কোট-হ্যাট-পরা বাঙালি বিলাতফের্তা যুবা সম্মুখের আসনে দুই পা তুলিয়া দিয়া একটু মদমত্ত অবস্থায় ঘাড় নামাইয়া ঘুমাইতেছিল। এই যুবকটি নূতন বিলাত হইতে আসিয়াছে। ইহারই অভ্যর্থনা উপলক্ষে বন্ধুমহলে একটা খানা হইয়া গেছে। সেই খানা হইতে ফিরিবার পথে একজন বন্ধু তাহাকে কিছুদূর অগ্রসর করিবার জন্য নিজের গাড়িতে তুলিয়া লইয়াছেন। তিনি ইহাকে দু-তিনবার ঠেলা দিয়া জাগাইয়া কহিলেন, 'মজুমদার, গাড়ি পাওয়া গেছে, বাড়ি যাও।'
মজুমদার সচকিত হইয়া একটা বিলাতি দিব্য গালিয়া ভাড়াটে গাড়িতে উঠিয়া পড়িল। তাহার গাড়োয়ানকে ভালো করিয়া ঠিকানা বাতলাইয়া দিয়া ব্রুহাম গাড়ির আরোহী নিজের গম্যপথে চলিয়া গেলেন।
আরো দেখুন
দুর্বুদ্ধি
Stories
ভিটা ছাড়িতে হইল। কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না, আভাস দিব মাত্র।
আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার, পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি। যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত অপেক্ষা কম ছিল না, সুতরাং নর ও নারায়ণের দ্বারা মানুষের যত বিবিধ রকমের পীড়া ঘটিতে পারে তাহা আমার সুগোচর ছিল। যেমন মণির দ্বারা বলয়ের এবং বলয়ের দ্বারা মণির শোভা বৃদ্ধি হয় তেমনি আমার মধ্যস্থতায় দারোগার এবং দারোগার মধ্যস্থতায় আমার উত্তরোত্তর আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটিতেছিল।
আরো দেখুন
ইঁদুরের ভোজ
Stories
ছেলেরা বললে, ভারি অন্যায়, আমরা নতুন পণ্ডিতের কাছে কিছুতেই পড়ব না।
নতুন পণ্ডিতমশায় যিনি আসছেন তাঁর নাম কালীকুমার তর্কালঙ্কার।
আরো দেখুন
ধরা দিয়েছি গো
Songs
ধরা দিয়েছি গো আমি আকাশের পাখি,
নয়নে দেখেছি তব নূতন আকাশ॥
দুখানি আঁখির পাতে কী রেখেছ ঢাকি,
হাসিলে ফুটিয়া পড়ে উষার আভাস॥
হৃদয় উড়িতে চায় হোথায় একাকী--
আঁখিতারকার দেশে করিবারে বাস।
ওই গগনেতে চেয়ে উঠিয়াছে ডাকি--
হোথায় হারাতে চায় এ গীত-উচ্ছ্বাস॥
আরো দেখুন
দিদি
Stories
পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, 'এমন স্বামীর মুখে আগুন।'
শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিলেন-- স্বামীজাতির মুখে চুরটের আগুন ছাড়া অন্য কোনো প্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না।
আরো দেখুন
শাস্তি
Stories
দুখিরাম রুই এবং ছিদাম রুই দুই ভাই সকালে যখন দা হাতে লইয়া জন খাটিতে বাহির হইল তখন তাহাদের দুই স্ত্রীর মধ্যে বকাবকি চেঁচামেচি চলিতেছে। কিন্তু প্রকৃতির অন্যান্য নানাবিধ নিত্য কলরবের ন্যায় এই কলহ-কোলাহলও পাড়াসুদ্ধ লোকের অভ্যাস হইয়া গেছে। তীব্র কণ্ঠস্বর শুনিবামাত্র লোকে পরস্পরকে বলে--'ওই রে বাধিয়া গিয়াছে,' অর্থাৎ যেমনটি আশা করা যায় ঠিক তেমনিটি ঘটিয়াছে, আজও স্বভাবের নিয়মের কোনোরূপ ব্যত্যয় হয় নাই। প্রভাতে পূর্বদিকে সূর্য উঠিলে যেমন কেহ তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করে না, তেমনি এই কুরিদের বাড়িতে দুই জায়ের মধ্যে যখন একটা হৈ-হৈ পড়িয়া যায় তখন তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করে না, তেমনি এই কুরিদের বাড়িতে দুই জায়ের মধ্যে যখন একটা হৈ-হৈ পড়িয়া যায় তখন তাহার কারণ নির্ণয়ের জন্য কাহারও কোনোরূপ কৌতূহলের উদ্রেক হয় না।
অবশ্য এই কোন্দল আন্দোলন প্রতিবেশীদের অপেক্ষা দুই স্বামীকে বেশি স্পর্শ করিত সন্দেহ নাই, কিন্তু সেটা তাহারা কোনোরূপ অসুবিধার মধ্যে গণ্য করিত না। তাহারা দুই ভাই যেন দীর্ঘ সংসারপথ একটা এক্কাগাড়িতে করিয়া চলিয়াছে, দুই দিকের দুই স্প্রিংবিহীন চাকার অবিশ্রাম ছড়ছড় খড়খড় শব্দটাকে জীবনরথযাত্রার একটা বিধিবিহিত নিয়মের মধ্যেই ধরিয়া লইয়াছে।
আরো দেখুন
পাগল
Verses
            আপন মনে বেড়ায় গান গেয়ে,
গান          কেউ শোনে কেউ শোনে না।
            ঘুরে বেড়ায় জগৎ-পানে চেয়ে,
তারে        কেউ দেখে কেউ দেখে না।
সে যেন      গানের মতো প্রাণের মতো শুধু
              সৌরভের মতো উড়ছে বাতাসেতে,
              আপনারে আপনি সে জানে না,
তবু          আপনাতে আপনি আছে মেতে।
হরষে তার পুলকিত গা,
             ভাবের ভরে টলমল পা,
কে জানে      কোথায় যে সে যায়
আঁখি তার    দেখে কি দেখে না।
             লতা তার গায়ে পড়ে,
             ফুল তার পায়ে পড়ে,
       নদীর মুখে কুলু কুলু রা'।
       গায়ের কাছে বাতাস করে বা'।
             সে শুধু চলে যায়,
             মুখে কী বলে যায়,
       বাতাস গলে যায় তা শুনে।
             সুমুখে আঁখি রেখে
             চলেছে কোথা যে কে
       কিছু সে নাহি দেখে শোনে।
যেখান দিয়ে যায় সে চলে সেথায় যেন ঢেউ খেলে যায়,
       বাতাস যেন আকুল হয়ে ওঠে,
ধরা যেন চরণ ছুঁয়ে শিউরে ওঠে শ্যামল দেহে
       লতায় যেন কুসুম ফোটে ফোটে।
বসন্ত তার সাড়া পেয়ে সখা ব'লে আসে ধেয়ে,
       বনে যেন দুইটি বসন্ত।
দুই সখাতে ভেসে চলে যৌবনসাগরের জলে,
       কোথাও যেন নাহি রে তার অন্ত।
আকাশ বলে "এসো এসো ', কানন বলে "বোসো বোসো ',
       সবাই যেন নাম ধরে তার ডাকে।
হেসে যখন কয় সে কথা মূর্ছা যায় রে বনের লতা,
       লুটিয়ে ভুঁয়ে চুপ করে সে থাকে।
বনের হরিণ কাছে আসে সাথে সাথে ফিরে পাশে
       স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ায় দেহছায়।
পায়ের কাছে পড়ে লুটি, বড়ো বড়ো নয়ন দুটি
       তুলে তুলে মুখের পানে চায়।
আপনা-ভোলা সরল হাসি ঝরে পড়ছে রাশি রাশি,
          আপনি যেন জানতে নাহি পায়।
লতা তারে আটকে রেখে তারি কাছে হাসতে শেখে,
          হাসি যেন কুসুম হয়ে যায়।
গান গায় সে সাঁঝের বেলা, মেঘগুলি তাই ভুলে খেলা
          নেমে আসতে চায় রে ধরা পানে,
একে একে সাঁঝের তারা গান শুনে তার অবাক-পারা
          আর সবারে ডেকে ডেকে আনে।
আপনি মাতে আপন স্বরে, আর সবারে পাগল করে,
          সাথে সাথে সবাই গাহে গান--
জগতের যা-কিছু আছে সব ফেলে দেয় পায়ের কাছে,
          প্রাণের কাছে খুলে দেয় সে প্রাণ।
তোরাই শুধু শুনলি নে রে, কোথায় বসে রইলি যে রে,
          দ্বারের কাছে গেল গেয়ে গেয়ে,
          কেউ তাহারে দেখলি নে তো চেয়ে।
গাইতে গাইতে চলে গেল, কত দূর সে চলে গেল,
          গানগুলি তার হারিয়ে গেল বনে,
          দুয়ার দেওয়া তোদের পাষাণ-মনে।
আরো দেখুন