অধ্যাপক
Stories
কলেজে আমার সহপাঠীসম্প্রদায়ের মধ্যে আমার একটু বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। সকলেই আমাকে সকল বিষয়েই সমজদার বলিয়া মনে করিত।
ইহার প্রধান কারণ, ভুল হউক আর ঠিক হউক, সকল বিষয়েই আমার একটা মতামত ছিল। অধিকাংশ লোকেই হাঁ এবং না জোর করিয়া বলিতে পারে না, আমি সেটা খুব বলিতাম।
আরো দেখুন
স্নানসমাপন
Verses
গুরু রামানন্দ স্তব্ধ দাঁড়িয়ে
        গঙ্গার জলে পূর্বমুখে।
তখন জলে লেগেছে সোনার কাঠির ছোঁওয়া,
    ভোরের হাওয়ায় স্রোত উঠছে ছল্‌ছল্‌ করে।
        রামানন্দ তাকিয়ে আছেন
জবাকুসুমসঙ্কাশ সূর্যোদয়ের দিকে।
        মনে মনে বলছেন,
"হে দেব, তোমার যে কল্যাণতম রূপ
        সে তো আমার অন্তরে প্রকাশ পেল না।
               ঘোচাও তোমার আবরণ।'
সূর্য উঠল শালবনের মাথার উপর।
        জেলেরা নৌকায় পাল দিলে তুলে,
    বকের পাঁতি উড়ে চলেছে সোনার আকাশ বেয়ে
               ও পারে জলার দিকে।
     এখনো স্নান হল না সারা।
        শিষ্য শুধালো, "বিলম্ব কেন প্রভু,
                   পূজার সময় যায় বয়ে।'
        রামানন্দ উত্তর করলেন,
           "শুচি হয় নি তনু,
        গঙ্গা রইলেন আমার হৃদয় থেকে দূরে।'
           শিষ্য বসে ভাবে, এ কেমন কথা।
    সর্ষেখেতে রৌদ্র ছড়িয়ে গেল।
        মালিনী খুলেছে ফুলের পসরা পথের ধারে,
গোয়ালিনী যায় দুধের কলস মাথায় নিয়ে।
    গুরুর কী হল মনে,
           উঠলেন জল ছেড়ে।
        চললেন বনঝাউ ভেঙে
    গাঙশালিকের কোলাহলের মধ্য দিয়ে।
           শিষ্য শুধালো, "কোথায় যাও প্রভু,
               ও দিকে তো নেই ভদ্রপাড়া।'
    গুরু বললেন, "চলেছি স্নানসমাপনের পথে।'
বালুচরের প্রান্তে গ্রাম।
        গলির মধ্যে প্রবেশ করলেন গুরু।
    সেখানে তেঁতুল গাছের ঘন ছায়া,
শাখায় শাখায় বানরদলের লাফালাফি।
        গলি পৌঁছয় ভাজন মুচির ঘরে।
পশুর চামড়ার গন্ধ আসছে দূর থেকে।
        আকাশে চিল উড়ছে পাক দিয়ে,
রোগা কুকুর হাড় চিবোচ্ছে পথের পাশে।
        শিষ্য বললে, "রাম! রাম!'
           ভ্রূকুটি করে দাঁড়িয়ে রইল গ্রামের বাইরে।
ভাজন লুটিয়ে পড়ে গুরুকে প্রণাম করলে
                          সাবধানে।
    গুরু তাকে বুকে নিলেন তুলে।
           ভাজন ব্যস্ত হয়ে উঠল,
        "কী করলেন প্রভু,
অধমের ঘরে মলিনের গ্লানি লাগল পুণ্যদেহে।'
        রামানন্দ বললেন,
"স্নানে গেলেম তোমার পাড়া দূরে রেখে,
    তাই যিনি সবাইকে দেন ধৌত করে
        তাঁর সঙ্গে মনের মিল হল না।
এতক্ষণে তোমার দেহে আমার দেহে
        বইল সেই বিশ্বপাবনধারা।
ভগবান সূর্যকে আজ প্রণাম করতে গিয়ে প্রণাম বেধে গেল।
বললেম, হে দেব, তোমার মধ্যে যে জ্যোতি আমার মধ্যেও তিনি,
        তবু আজ দেখা হল না কেন।
           এতক্ষণে মিলল তাঁর দর্শন
               তোমার ললাটে আর আমার ললাটে--
                   মন্দিরে আর হবে না যেতে।'
আরো দেখুন
ছুটির লেখা
Verses
এ লেখা মোর শূন্যদ্বীপের সৈকততীর,
                   তাকিয়ে থাকে দৃষ্টি-অতীত পারের পানে।
উদ্দেশহীন জোয়ার-ভাঁটায় অস্থির নীর
          শামুক ঝিনুক যা-খুশি তাই ভাসিয়ে আনে।
এ লেখা নয় বিরাট সভার শ্রোতার লাগি,
          রিক্ত ঘরে একলা এ যে দিন কাটাবার;
আটপহুরে কাপড়টা তার ধুলায় দাগি,
          বড়োঘরের নেমন্তন্নে নয় পাঠাবার।
বয়ঃসন্ধিকালের যেন বালিকাটি,
          ভাব্‌নাগুলো উড়ো উড়ো আপনভোলা।
অযতনের সঙ্গী তাহার ধুলোমাটি,
          বাহির-পানে পথের দিকে দুয়ার খোলা।
আলস্যে তার পা ছড়ানো মেঝের উপর,
          ললাটে তার রুক্ষ কেশের অবহেলা।
          নাইকো খেয়াল কখন সকাল পেরোয় দুপুর
                   রেশমি ডানায় যায় চলে তার হালকা বেলা।
চিনতে যদি চাও তাহারে এসো তবে,
          দ্বারের ফাঁকে দাঁড়িয়ে থেকো আমার পিছু।
শুধাও যদি প্রশ্ন কোনো তাকিয়ে রবে
          বোকার মতন--বলার কথা নেই-যে কিছু।
ধুলোয় লোটে রাঙাপাড়ের আঁচলখানা,
          দুই চোখে তার নীল আকাশের সুদূর ছুটি;
কানে কানে কে কথা কয় যায় না জানা,
          মুখের 'পরে কে রাখে তার নয়নদুটি।
মর্মরিত শ্যামল বনের কাঁপন থেকে
          চমকে নামে আলোর কণা আলগা চুলে;
তাকিয়ে দেখে নদীর রেখা চলছে বেঁকে--
          দোয়েল-ডাকা ঝাউয়ের শাখা উঠছে দুলে।
সম্মুখে তার বাগান-কোণায় কামিনী ফুল
          আনন্দিত অপব্যয়ে পাপড়ি ছড়ায়।
বেড়ার ধারে বেগনিগুচ্ছে ফুল্ল জারুল
          দখিন-হাওয়ার সোহাগেতে শাখা নড়ায়।
তরুণ রৌদ্রে তপ্ত মাটির মৃদুশ্বাসে
          তুলসীঝোপের গন্ধটুকু ঢুকছে ঘরে।
খামখেয়ালী একটা ভ্রমর আশে-পাশে
          গুঞ্জরিয়া যায় উড়ে কোন্‌ বনান্তরে।
পাঠশালা সে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে এড়ায়,
          শেখার মতো কোনো কিছুই হয় নি শেখা;
আলোছায়ায় ছন্দ তাহার খেলিয়ে বেড়ায়
          আলুথালু অবকাশের অবুঝ লেখা।
সবুজ সোনা নীলের মায়া ঘিরল তাকে;
          শুকনো ঘাসের গন্ধ আসে জানলা ঘুরে;
পাতার শব্দে, জলের শব্দে, পাখির ডাকে
          প্রহরটি তার আঁকাজোকা নানান সুরে।
        সব নিয়ে যে দেখল তারে পায় সে দেখা
                   বিশ্বমাঝে ধুলার 'পরে অলজ্জিত--
          নইলে সে তো মেঠো পথে নীরব একা
                   শিথিলবেশে অনাদরে অসজ্জিত।
আরো দেখুন
নামঞ্জুর গল্প
Stories
আমাদের আসর জমেছিল পোলিটিক্যাল লঙ্কাকাণ্ডের পালায়। হাল আমলের উত্তরকাণ্ডে আমরা সম্পূর্ণ ছুটি পাই নি বটে, কিন্তু গলা ভেঙেছে; তা ছাড়া সেই অগ্নিদাহের খেলা বন্ধ।
বঙ্গভঙ্গের রঙ্গভূমিতে বিদ্রোহীর অভিনয় শুরু হল। সবাই জানেন, এই নাট্যের পঞ্চম অঙ্কের দৃশ্য আলিপুর পেরিয়ে পৌঁছল আণ্ডামানের সমুদ্রকূলে। পারানির পাথেয় আমার যথেষ্ট ছিল, তবু গ্রহের গুণে এপারের হাজতেই আমার ভোগসমাপ্তি। সহযোগীদের মধ্যে ফাঁসিকাঠ পর্যন্ত যাদের সর্বোচ্চ প্রোমোশন হয়েছিল, তাদের প্রণাম করে আমি পশ্চিমের এক শহরের কোণে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় পসার জমিয়ে তুললেম।
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
প্রগতিসংহার
Stories
এই কলেজে ছেলেমেয়েদের মেলামেশা বরঞ্চ কিছু বাড়াবাড়ি ছিল। এরা প্রায় সবাই ধনী ঘরের--এরা পয়সার ফেলাছড়া করতে ভালোবাসে। নানা রকম বাজে খরচ করে মেয়েদের কাছে দরাজ হাতের নাম কিনত। মেয়েদের মনে ঢেউ তুলত, তারা বুক ফুলিয়ে বলত--'আমাদেরই কলেজের ছেলে এরা'। সরস্বতী পুজো তারা এমনি ধূম করে করত যে, বাজারে গাঁদা ফুলের আকাল পড়ে যেত। এ ছাড়া চোখটেপাটেপি ঠাট্টা তামাসা চলেইছে। এই তাদের মাঝখানে একটা সংঘ তেড়েফুঁড়ে উঠে মেলামেশা ছারখার করে দেবার জো করলে।
সংঘের হাল ধরে ছিল সুরীতি। নাম দিল 'নারীপ্রগতিসংঘ'। সেখানে পুরুষের ঢোকবার দরজা ছিল বন্ধ। সুরীতির মনের জোরের ধাক্কায় এক সময়ে যেন পুরুষ-বিদ্রোহের একটা হাওয়া উঠল। পুরুষরা যেন বেজাত, তাদের সঙ্গে জলচল বন্ধ। কদর্য তাদের ব্যায়ভার।
আরো দেখুন
পুরোনো বাড়ি
Stories
অনেক কালের ধনী গরিব হয়ে গেছে, তাদেরই ঐ বাড়ি।
দিনে দিনে ওর উপরে দুঃসময়ের আঁচড় পড়ছে।
আরো দেখুন
উদাসীন
Verses
হাল ছেড়ে আজ বসে আছি আমি,
      ছুটি নে কাহারো পিছুতে।
মন নাহি মোর কিছুতেই, নাই
                     কিছুতে।
      নির্ভয়ে ধাই সুযোগ-কুযোগ বিছুরি,
      খেয়াল-খবর রাখি নে তো কোনো-কিছুরি--
      উপরে চড়িতে যদি নাই পাই সুবিধা      
                 সুখে পড়ে থাকি নিচুতেই, থাকি
                                        নিচুতে।
                 হাল ছেড়ে আজ বসে আছি আমি
                        ছুটি নে কাহারো পিছুতে--
                 মন নাহি মোর কিছুতেই, নাই
                                       কিছুতে।
যেথা-সেথা ধাই, যাহা-তাহা পাই--
        ছাড়ি নেকো ভাই, ছাড়ি নে।
তাই ব'লে কিছু কাড়াকাড়ি ক'রে
                        কাড়ি নে।
            যাহা যেতে চায় ছেড়ে দিই তারে তখুনি,
            বকি নে কারেও, শুনি নে কাহারো বকুনি--
            কথা যত আছে মনের তলায় তলিয়ে
                 ভুলেও কখনো সহসা তাদের
                                 নাড়ি নে।
                 যেথা-সেথা ধাই, যাহা-তাহা পাই--
                        ছাড়ি নেকো ভাই, ছাড়ি নে।
                 তাই ব'লে কিছু তাড়াতাড়ি ক'রে
                                     কাড়ি নে।
মন-দে'য়া-নে'য়া অনেক করেছি,
            মরেছি হাজার মরণে--
নূপুরের মতো বেজেছি চরণে
                        চরণে।
            আঘাত করিয়া ফিরেছি দুয়ারে দুয়ারে,
            সাধিয়া মরেছি ইঁহারে তাঁহারে উঁহারে--
            অশ্রু গাঁথিয়া রচিয়াছি কত মালিকা,      
                 রাঙিয়াছি তাহা হৃদয়-শোণিত-
                                 বরনে।
                  মন-দে'য়া-নে'য়া অনেক করেছি,
                        মরেছি হাজার মরণে
                 নূপুরের মতো বেজেছি চরণে
                                 চরণে।
এতদিন পরে ছুটি আজ ছুটি,
            মন ফেলে তাই ছুটেছি;
তাড়াতাড়ি ক'রে খেলাঘরে এসে
                        জুটেছি।
            বুকভাঙা বোঝা নেব না রে আর তুলিয়া,
            ভুলিবার যাহা একেবারে যাব ভুলিয়া--
যাঁর বেড়ি তাঁরে ভাঙা বেড়িগুলি ফিরায়ে
     বহুদিন পরে মাথা তুলে আজ
                             উঠেছি।
     এতদিন পরে ছুটি আজ ছুটি,
            মন ফেলে তাই ছুটেছি।
     তাড়াতাড়ি ক'রে খেলাঘরে এসে
                             জুটেছি।
কত ফুল নিয়ে আসে বসন্ত
            আগে পড়িত না নয়নে--
তখন কেবল ব্যস্ত ছিলাম
                  চয়নে।
         মধুকরসম ছিনু সঞ্চয়প্রয়াসী;
         কুসুমকান্তি দেখি নাই, মধু-পিয়াসী--
         বকুল কেবল দলিত করেছি আলসে      
              ছিলাম যখন নিলীন বকুল-
                                 শয়নে।
               কত ফুল নিয়ে আসে বসন্ত
                     আগে পড়িত না নয়নে
               তখন কেবল ব্যস্ত ছিলাম
                                 চয়নে।
দূরে দূরে আজ ভ্রমিতেছি আমি,
            মন নাহি মোর কিছুতে;
তাই ত্রিভুবন ফিরিছে আমারি
                       পিছুতে।
        সবলে কারেও ধরি নে বাসনা-মুঠিতে,
        দিয়েছি সবারে আপন বৃন্তে ফুটিতে--
        যখনি ছেড়েছি উচ্চে উঠার দুরাশা
              হাতের নাগালে পেয়েছি সবারে
                                নিচুতে।
               দূরে দূরে আজ ভ্রমিতেছি আমি,
                      মন নাহি মোর কিছুতে--
               তাই ত্রিভুবন ফিরিছে আমারি
                                 পিছুতে।
আরো দেখুন
স্ত্রীর পত্র
Stories
শ্রীচরণকমলেষু
আজ পনেরো বছর আমাদের বিবাহ হয়েছে,আজ পর্যন্ত তোমাকে চিঠি লিখি নি। চিরদিন কাছেই পড়ে আছি -- মুখের কথা অনেক শুনেছ, আমিও শুনেছি;চিঠি লেখবার মতো ফাঁকটুকু পাওয়া যায় নি।
আরো দেখুন
216
Verses
THE CLOUD laughed at the rainbow
saying that it was an upstart
gaudy in its emptiness.
'The rainbow calmly answered
I am as inevitably real as the sun himself.'
আরো দেখুন
শেষের রাত্রি
Stories
'মাসি !'
'ঘুমোও,যতীন,রাত হল যে ।'
আরো দেখুন
89
Verses
জানার বাঁশি হাতে নিয়ে
       না-জানা
বাজান তাঁহার নানা সুরের
       বাজানা।
আরো দেখুন