83
Verses
       বিরহী গগন ধরণীর কাছে
       পাঠালো লিপিকা। দিকের প্রান্তে
       নামে তাই মেঘ বহিয়া সজল
       বেদনা, বহিয়া তড়িৎচকিত
       ব্যাকুল আকুতি। উৎসুক ধরা
       ধৈর্য হারায়, পারে না লুকাতে
       বুকের কাঁপন পল্লবদলে।
       বকুলকুঞ্জে রচে সে প্রাণের
       মুগ্ধ প্রলাপ-- উল্লাস ভাসে
       চামেলিগন্ধে পূর্বগগনে।
আরো দেখুন
The Victory
Stories
SHE WAS THE Princess Ajita. And the court poet of King Narayan had never seen her. On the day he recited a new poem to the king he would raise his voice just to that pitch which could be heard by unseen hearers in the screened balcony high above the hall. He sent up his song towards the star-land out of his reach, where, circled with light, the planet who ruled his destiny shone unknown and out of ken.
He would espy some shadow moving behind the veil. A tinkling sound would come to his ear from afar, and would set him dreaming of the ankles whose tiny golden bells sang at each step. Ah, the rosy red tender feet that walked the dust of the earth like God's mercy on the fallen! The poet had placed them on the altar of his heart, where he wove his songs to the tune of those golden bells. Doubt never arose in his mind as to whose shadow it was that moved behind the screen, and whose anklets they were that sang to the time of his beating heart.
আরো দেখুন
মিলনযাত্রা
Verses
চন্দনধূপের গন্ধ ঠাকুরদালান হতে আসে,
     শান-বাঁধা আঙিনার একপাশে
          শিউলির তল
     আছন্ন হতেছে অবিরল
          ফুলের সর্বস্বনিবেদনে।
     গৃহিণীর মৃতদেহ বাহির-প্রাঙ্গণে
          আনিয়াছে বহি;
বিলাপের গুঞ্জরণ স্ফীত হয়ে ওঠে রহি রহি;
     শরতের সোনালি প্রভাতে
          যে আলোছায়াতে
     খচিত হয়েছে ফুলবন,
          মৃতদেহ-আবরণ
     আশ্বিনের সেই ছায়া-আলো
          অসংকোচে সহজে সাজালো।
     জয়লক্ষ্মী এ ঘরের বিধবা ঘরণী
আসন্ন মরণকালে দুহিতারে কহিলেন, "মণি,
     আগুনের সিংহদ্বারে চলেছি যে দেশে
          যাব সেথা বিবাহের বেশে।
     আমারে পরায়ে দিয়ো লাল চেলিখানি,
          সীমন্তে সিঁদুর দিয়ো টানি।'
                   যে উজ্জ্বল সাজে
          একদিন নববধূ এসেছিল এ গৃহের মাঝে,
                   পার হয়েছিল যে দুয়ার,
                        উত্তীর্ণ হল সে আরবার
                   সেই দ্বার সেই বেশে
                        ষাট বৎসরের শেষে।
                             এই দ্বার দিয়ে আর কভু
এ সংসারে ফিরিবে না সংসারের একচ্ছত্র প্রভু।
               অক্ষুণ্ন শাসনদণ্ড স্রস্ত হল তার,
ধনে জনে আছিল যে অবারিত অধিকার
                   আজি তার অর্থ কী যে!
যে আসনে বসিত সে তারও চেয়ে মিথ্যা হল নিজে।
                   প্রিয়মিলনের মনোরথে
                      পরলোক-অভিসার-পথে
                   রমণীর এই চিরপ্রস্থানের ক্ষণে
                      পড়িছে আরেক দিন মনে।
আশ্বিনের শেষভাগে চলেছে পূজার আয়োজন;
          দাসদাসী-কলকণ্ঠ-মুখরিত এ ভবন
             উৎসবের উচ্ছল জোয়ারে
                   ক্ষুব্ধ চারি ধারে।
এ বাড়ির ছোটো ছেলে অনুকূল পড়ে এম। এ। ক্লাসে,
          এসেছে পূজার অবকাশে।
শোভদর্শন যুবা, সবচেয়ে প্রিয় জননীর,
          বউদিদিমণ্ডলীর
             প্রশ্রয়ভাজন।
পূজার উদ্‌যোগে মেশে তারও লাগি পূজার সাজন।
          একদা বাড়ির কর্তা স্নেহভরে
পিতৃমাতৃহীন মেয়ে প্রমিতারে এনেছিল ঘরে
          বন্ধুঘর হতে; তখন বয়স তার ছিল ছয়,
                   এ বাড়িতে পেল সে আশ্রয়
                             আত্মীয়ের মতো।
          অনুদাদা কতদিন তারে কত
                   কাঁদায়েছে অত্যাচারে।
                             বালক-রাজারে
          যত সে জোগাত অর্ঘ্য ততই দৌরাত্ম্য যেত বেড়ে;
               সদ্যবাঁধা খোঁপাখানি নেড়ে
                   হঠাৎ এলায়ে দিত চুল
                             অনুকূল;
                   চুরি করে খাতা খুলে
পেন্সিলের দাগ দিয়ে লজ্জা দিত বানানের ভুলে।
গৃহিণী হাসিত দেখি দুজনের এ ছেলেমানুষি--
          কভু রাগ, কভু খুশি,
কভু ঘোর অভিমানে পরস্পর এড়াইয়া চলা,
          দীর্ঘকাল বন্ধ কথা বলা।
          বহুদিন গেল তার পর।
      প্রমির বয়স আজ আঠারো বছর।
          হেনকালে একদা প্রভাতে
             গৃহিণীর হাতে
          চুপি চুপি ভৃত্য দিল আনি
     রঙিন কাগজে লেখা পত্র একখানি।
          অনুকূলে লিখেছিল প্রমিতারে
                   বিবাহপ্রস্তাব করি তারে।
          বলেছিলে, "মায়ের সম্মতি
                   অসম্ভব অতি।
          জাতের অমিল নিয়ে এ সংসারে
                   ঠেকিবে আচারে।
                   কথা যদি দাও, প্রমি, চুপি চুপি তবে
                          মোদের মিলন হবে
                             আইনের বলে।'
                   দুর্বিষহ ক্রোধানলে
                         জয়লক্ষ্মী তীব্র উঠে দহি।
                             দেওয়ানকে দিল কহি,
                        "এ মুহূর্তে প্রমিতারে
                             দূর করি দাও একেবারে।'
                   ছুটিয়া মাতারে এসে বলে অনুকূল,
                             "করিয়ো না ভুল;
                        অপরাধ নাই প্রমিতার,
                             সম্মতি পাই নি আজও তার।
                           কর্ত্রী তুমি এ সংসারে;
                             তাই বলে অবিচারে
নিরাশ্রয় করি দিবে অনাথারে, হেন অধিকার
                   নাই নাই, নাইকো তোমার।
          এই ঘরে ঠাঁই দিল পিতা ওরে,
                   তারই জোরে
                      হেথা ওর স্থান
                   তোমারই সমান।
                      বিনা অপরাধে
কী স্বত্বে তাড়াবে ওরে মিথ্যা পরিবাদে।'
     ঈর্ষাবিদ্বেষের বহ্নি দিল মাতৃমন ছেয়ে--
                  "ওইটুকু মেয়ে
          আমার সোনার ছেলে পর করে,
আগুন লাগিয়ে দেয় কচি হাতে এ প্রাচীন ঘরে!
     অপরাধ! অনুকূলে ওরে ভালোবাসে এই ঢের,
          সীমা নেই এ অপরাধের।
               যত তর্ক কর তুমি, যে যুক্তি দাও-না
                   ইহার পাওনা
               ওই মেয়েটাকে হবে মেটাতে সত্বর।
                   আমারই এ ঘর
                  আমারই এ ধনজন
                   আমারই শাসন,
                 আর কারো নয়,
              আজই আমি দেব তার পরিচয়।'
               প্রমিতা যাবার বেলা ঘরে দিয়ে দ্বার
                   খুলে দিল সব অলংকার।
               পরিল মিলের শাড়ি মোটাসুতা-বোনা।
                      কানে ছিল সোনা,
                   কোনো জন্মদিনে তার
  স্বর্গীয় কর্তার উপহার,
                  
          বাক্সে তুলি রাখিল শয্যায়।
     ঘোমটায় সারামুখ ঢাকিল লজ্জায়।
          যবে, হতে গেল পার
                           সদরের দ্বার,
          কোথা হতে অকস্মাৎ
     অনুকূল পাশে এসে ধরিল তাহার হাত
কৌতূহলী দাসদাসী সবলে ঠেলিয়া সবাকারে;
     কহিল সে, "এই দ্বারে
    এতদিনে মুক্ত হল এইবার
     মিলনযাত্রার পথ প্রমিতার।
          যে শুনিতে চাও শোনো,
  মোরা দোঁহে ফিরিব না এ দ্বারে কখনো।'
আরো দেখুন
154
Verses
বরষার রাতে জলের আঘাতে
     পড়িতেছে যূথী ঝরিয়া।
পরিমলে তারি সজল পবন
     করুণায় উঠে ভরিয়া।
আরো দেখুন
কাঁদার সময় অল্প
Songs
কাঁদার সময় অল্প ওরে, ভোলার সময় বড়ো
যাবার দিনে শুকনো বকুল মিথ্যে করিস জড়ো ॥
     আগমনীর নাচের তালে    নতুন মুকুল নামল ডালে,
     নিঠুর হাওয়ায় পুরানো ফুল ওই-যে পড়ো-পড়ো ॥
ছিন্নবাঁধন পান্থরা যায় ছায়ার পানে চলে,
কান্না তাদের রইল পড়ে শীর্ণ তৃণের কোলে।
     জীর্ণ পাতা উড়িয়ে ফেলা    খেল্‌, কবি, সেই শিশুর খেলা--
     নতুন গানে কাঁচা সুরের প্রাণের বেদী গড়ো ॥
আরো দেখুন
জীবিত ও মৃত
Stories
রানীহাটের জমিদার শারদাশংকরবাবুদের বাড়ির বিধবা বধূটির পিতৃকুলে কেহ ছিল না; সকলেই একে একে মারা গিয়াছে। পতিকুলেও ঠিক আপনার বলিতে কেহ নাই, পতিও নাই পুত্রও নাই। একটি ভাশুরপো, শারদাশংকরের ছোটো ছেলেটি, সেই তাহার চক্ষের মণি। সে জন্মিবার পর তাহার মাতার বহুকাল ধরিয়া শক্ত পীড়া হইয়াছিল, সেইজন্য এই বিধবা কাকি কাদম্বিনীই তাহাকে মানুষ করিয়াছে। পরের ছেলে মানুষ করিলে তাহার প্রতি প্রাণের টান আরো যেন বেশি হয়, কারণ তাহার উপরে অধিকার থাকে না; তাহার উপরে কোনো সামাজিক দাবি নাই, কেবল স্নেহের দাবি-- কিন্তু কেবলমাত্র স্নেহ সমাজের সমক্ষে আপনার দাবি কোনো দলিল অনুসারে সপ্রমাণ করিতে পারে না এবং চাহেও না, কেবল অনিশ্চিত প্রাণের ধনটিকে দ্বিগুণ ব্যাকুলতার সহিত ভালোবাসে।
বিধবার সমস্ত রুদ্ধ প্রীতি এই ছেলেটির প্রতি সিঞ্চন করিয়া একদিন শ্রাবণের রাত্রে কাদম্বিনীর অকস্মাৎ মৃত্যু হইল। হঠাৎ কী কারণে তাহার হৃৎস্পন্দন স্তব্ধ হইয়া গেল-- সময় জগতের আর-সর্বত্রই চলিতে লাগিল, কেবল সেই স্নেহকাতর ক্ষুদ্র কোমল বক্ষটির ভিতর সময়ের ঘড়ির কল চিরকালের মতো বন্ধ হইয়া গেল।
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
মুকুট
Stories
ত্রিপুরার রাজা অমরমাণিক্যের কনিষ্ঠ পুত্র রাজধর সেনাপতি ইশা খাঁকে বলিলেন, "দেখো সেনাপতি, আমি বারবার বলিতেছি তুমি আমাকে অসম্মান করিয়ো না।"
পাঠান ইশা খাঁ কতকগুলি তীরের ফলা লইয়া তাহাদের ধার পরীক্ষা করিতেছিলেন। রাজধরের কথা শুনিয়া কিছুই বলিলেন না, কেবল মুখ তুলিয়া ভুরু উঠাইয়া একবার তাঁহার মুখের দিকে চাহিলেন। আবার তখনই মুখ নত করিয়া তীরের ফলার দিকে মনোযোগ দিলেন।
আরো দেখুন
শেষের রাত্রি
Stories
'মাসি !'
'ঘুমোও,যতীন,রাত হল যে ।'
আরো দেখুন
পান্নালাল
Stories
দাদামশায়, তোমার পাগলের দলের মধ্যে পান্নালাল ছিল খুব নতুন রকমের।
জান, দিদি? তোমার পাগলরা প্রত্যেকেই নতুন, কারও সঙ্গে কারও মিল হয় না। যেমন তোমার দাদামশায়। বিধাতার নতুন পরীক্ষা। ছাঁচ তিনি ভেঙে ফেলেন। সাধারণ লোকের বুদ্ধিতে মিল হয়, অসাধারণ পাগলের মিল হয় না। তোমাকে একটা উদাহরণ দেখাই--
আরো দেখুন