সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
দৃষ্টিদান
Stories
শুনিয়াছি, আজকাল অনেক বাঙালির মেয়েকে নিজের চেষ্টায় স্বামী সংগ্রহ করিতে হয়। আমিও তাই করিয়াছি, কিন্তু দেবতার সহায়তায়। আমি ছেলেবেলা হইতে অনেক ব্রত এবং অনেক শিবপূজা করিয়াছিলাম।
আমার আটবৎসর বয়স উত্তীর্ণ না হইতেই বিবাহ হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু পূর্বজন্মের পাপবশত আমি আমার এমন স্বামী পাইয়াও সম্পূর্ণ পাইলাম না। মা ত্রিনয়নী আমার দুইচক্ষু লইলেন। জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত স্বামীকে দেখিয়া লইবার সুখ দিলেন না।
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
শুভদৃষ্টি
Stories
কান্তিচন্দ্রের বয়স অল্প, তথাপি স্ত্রীবিয়োগের পর দ্বিতীয় স্ত্রীর অনুসন্ধানে ক্ষান্ত থাকিয়া পশুপক্ষী-শিকারেই মনোনিবেশ করিয়াছেন। দীর্ঘ কৃশ কঠিন লঘু শরীর, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, অব্যর্থ লক্ষ্য, সাজসজ্জায় পশ্চিমদেশীর মতো; সঙ্গে সঙ্গে কুস্তিগির হীরা সিং, ছক্কনলাল, এবং গাইয়ে বাজিয়ে খাঁসাহেব, মিঞাসাহেব অনেক ফিরিয়া থাকে; অকর্মণ্য অনুচর-পরিচরেরও অভাব নাই।
দুই-চারিজন শিকারী বন্ধুবান্ধব লইয়া অঘ্রানের মাঝামাঝি কান্তিচন্দ্র নৈদিঘির বিলের ধারে শিকার করিতে গিয়াছেন। নদীতে দুইটি বড়ো বোটে তাঁহাদের বাস, আরো  গোটা-তিনচার নৌকায় চাকরবাকরের দল গ্রামের ঘাট ঘিরিয়া বসিয়া আছে। গ্রামবধূদের জল তোলা, স্নান করা প্রায় বন্ধ। সমস্ত দিন বন্দুকের আওয়াজে জলস্থল কম্পমান, সন্ধ্যাবেলায় ওস্তাদি গলায় তানকর্তবে পল্লীর নিদ্রাতন্দ্রা তিরোহিত।
আরো দেখুন
পরীর পরিচয়
Stories
রাজপুত্রের বয়স কুড়ি পার হয়ে যায়, দেশবিদেশ থেকে বিবাহের সম্বন্ধ আসে।
ঘটক বললে, 'বাহ্লীকরাজের মেয়ে রূপসী বটে, যেন সাদা গোলাপের পুষ্পবৃষ্টি।'
আরো দেখুন
বিদায়রীতি
Verses
হায় গো রানী, বিদায়বাণী
       এমনি করে শোনে?
ছি ছি, ওই-যে হাসিখানি
       কাঁপছে আঁখিকোণে!
এতই বারে বারে কি রে
মিথ্যা বিদায় নিয়েছি রে,
ভাবছ তুমি মনে মনে
       এ লোকটি নয় যাবার--
দ্বারের কাছে ঘুরে ঘুরে
       ফিরে আসবে আবার।
আমায় যদি শুধাও তবে
       সত্য করেই বলি--
আমারো সেই সন্দেহ হয়
       ফিরে আসব চলি।
বসন্তদিন আবার আসে,
পূর্ণিমা-রাত আবার হাসে,
বকুল ফোটে রিক্ত শাখায়--
       এরাও তো নয় যাবার।
সহস্র বার বিদায় নিয়ে
এরাও ফেরে আবার।
একটুখানি মোহ তবু
       মনের মধ্যে রাখো,
মিথ্যেটারে একেবারেই
       জবাব দিয়ো নাকো।
ভ্রমক্রমে ক্ষণেক-তরে
       এনো গো জল আঁখির 'পরে
আকুল স্বরে যখন কব
       "সময় হল যাবার'।
তখন নাহয় হেসো, যখন
       ফিরে আসব আবার।
আরো দেখুন
ঘোড়া
Stories
সৃষ্টির কাজ প্রায় শেষ হয়ে যখন ছুটির ঘণ্টা বাজে ব'লে, হেনকালে ব্রহ্মার মাথায় একটা ভাবোদয় হল।
ভাণ্ডারীকে ডেকে বললেন, 'ওহে ভাণ্ডারী, আমার কারখানাঘরে কিছু কিছু পঞ্চভূতের জোগাড় করে আনো, আর-একটা নতুন প্রাণী সৃষ্টি করব।'
আরো দেখুন
সুভা
Stories
মেয়েটির নাম যখন সুভাষিণী রাখা হইয়াছিল তখন কে জানিত সে বোবা হইবে। তাহার দুটি বড়ো বোনকে সুকেশিনী সুহাসিনী নাম দেওয়া হইয়াছিল, তাই মিলের অনুরোধে তাহার বাপ ছোটো মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখে। এখন সকলে তাহাকে সংক্ষেপে সুভা বলে।
দস্তুরমত অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বড়ো দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া গেছে, এখন ছোটোটি পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করিতেছে।
আরো দেখুন
আসল
Verses
            বয়স ছিল আট,
    পড়ার ঘরে বসে বসে ভুলে যেতেম পাঠ।
জানলা দিয়ে দেখা যেত মুখুজ্যেদের বাড়ির পাশে
    একটুখানি প'ড়ো জমি, শুকনো শীর্ণ ঘাসে
         দেখায় যেন উপবাসীর মতো।
              পাড়ার আবর্জনা যত
           ঐখানেতেই উঠছে জমে,
                  একধারেতে ক্রমে
পাহাড়-সমান উঁচু হল প্রতিবেশীর রান্নাঘরের ছাই;
গোটাকয়েক আকন্দগাছ, আর কোনো গাছ নাই;
           দশ-বারোটা শালিখপাখি
  তুমুল ঝগড়া বাধিয়ে দিয়ে করত ডাকাডাকি;
    দুপুরবেলায় ভাঙা গলায় কাকের দলে
কী যে প্রশ্ন হাঁকত শূন্যে কিসের কৌতূহলে।
     পাড়ার মধ্যে ঐ জমিটাই কোনো কাজের নয়;
সবার যাতে নাই প্রয়োজন লক্ষ্মীছাড়ার তাই ছিল সঞ্চয়;
         তেলের ভাঙা ক্যানেস্তারা, টুকরো হাঁড়ির কানা,
         অনেক কালের জীর্ণ বেতের কেদারা একখানা,
ফুটো এনামেলের গেলাস, থিয়েটারের ছেঁড়া বিজ্ঞাপন,
                   মরচে-পড়া টিনের লণ্ঠন,
     সিগারেটের শূন্য বাক্‌স, খোলা চিঠির খাম,
অদরকারের মুক্তি হেথায়, অনাদরের অমর স্বর্গধাম।
          তখন আমার বয়স ছিল আট,
         করতে হত ভূবৃত্তান্ত পাঠ।
    পড়ার ঘরের দেয়ালে চারপাশে
ম্যাপগুলো এই পৃথিবীকে ব্যঙ্গ করত নীরব পরিহাসে;
     পাহাড়গুলো মরে-যাওয়া শুঁয়োপোকার মতো,
                             নদীগুলো যত
অচল রেখার মিথ্যা কথায় অবাক হয়ে রইত থতমত,
                           সাগরগুলো ফাঁকা,
    দেশগুলো সব জীবনশূন্য কালো-আখর-আঁকা।
হাঁপিয়ে উঠত পরান আমার ধরণীর এই শিকল-রেখার রূপে,--
                             আমি চুপে চুপে
     মেঝের 'পরে বসে যেতেম ঐ জানলার পাশে।
     ঐ যেখানে শুকনো জমি শুকনো শীর্ণ ঘাসে
     পড়ে আছে এলোথেলো, তাকিয়ে ওরি পানে
     কার সাথে মোর মনের কথা চলত কানে কানে।
          ঐ যেখানে ছাইয়ের গাদা আছে
বসুন্ধরা দাঁড়িয়ে হোথায় দেখা দিতেন এই ছেলেটির কাছে।
                   মাথার 'পরে উদার নীলাঞ্চল
                   সোনার আভায় করত ঝলমল।
সাত সমুদ্র তেরো নদীর সুদূর পারের বাণী
                   আমার কাছে দিতেন আনি।
               ম্যাপের সঙ্গে হত না তার মিল,
          বইয়ের সঙ্গে ঐক্য তাহার ছিল না এক তিল।
               তার চেহারা নয় তো অমন মস্ত ফাঁকা
                   আঁচড়-কাটা আখর-আঁকা,--
               নয় সে তো কোন্‌ মাইল-মাপা বিশ্ব,
          অসীম যে তার দৃশ্য; আবার অসীম সে অদৃশ্য।
               এখন আমার বয়স হল ষাট,--
                  গুরুতর কাজের ঝঞ্ঝাট।
               পাগল করে দিল পলিটিক্‌সে,
কোন্‌টা সত্য কোন্‌টা স্বপ্ন আজকে নাগাদ হয় নি জানা ঠিক সে;
                  ইতিহাসের নজির টেনে, সোজা
একটা দেশের ঘাড়ে চাপাই আরেক দেশের কর্মফলের বোঝা,
       সমাজ কোথায়  পড়ে থাকে, নিয়ে সমাজতত্ত্ব
         মাসিক পত্রে প্রবন্ধ উন্মত্ত।
                   যত লিখছি কাব্য
     ততই নোংরা সমালোচন হতেছে অশ্রাব্য।
     কথায় কেবল কথারি ফল ফলে,
পুঁথির সঙ্গে মিলিয়ে পুঁথি কেবলমাত্র পুঁথিই বেড়ে চলে।
          আজ আমার এই ষাট বছরের বয়সকালে
          পুঁথির সৃষ্টি জগৎটার এই বন্দীশালে
                   হাঁপিয়ে উঠলে প্রাণ
             পালিয়ে যাবার একটি আছে স্থান।
                   সেই মহেশের পাশে
             পাড়ায় যারে পাগল বলে হাসে।
                        পাছে পাছে
ছেলেগুলো সঙ্গে যে তার লেগেই আছে।
                   তাদের কলরবে
                   নানান উপদ্রবে
               একমুহূর্ত পায় না শান্তি,
          তবু তাহার নাই কিছুতেই ক্লান্তি।
                   বেগার-খাটা কাজ
তারি ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে কেউ মানে না লাজ।
     সকালবেলায় ধরে ভজন গলা ছেড়ে,
             যতই সে গায়, বেসুর ততই চলে বেড়ে।
               তাই নিয়ে কেউ ঠাট্টা করলে এসে
                   মহেশ বলে হেসে,
          "আমার এ গান শোনাই যাঁরে,
বেসুর শুনে হাসেন তিনি, বুক ভরে সেই হাসির পুরস্কারে।
     তিনি জানেন, সুর রয়েছে প্রাণের গভীর তলায়,
          বেসুর কেবল পাগলের এই গলায়।"
     সকল প্রয়োজনের বাহির সে যে সৃষ্টিছাড়া,
          তার ঘরে তাই সকলে পায় সাড়া।
     একটা রোগা কুকুর ছিল, নাম ছিল তার ভুতো,
     একদা কার ঘরের দাওয়ায় ঢুকেছিল অনাহূত,--
               মারের চোটে জরজর
          পথের ধারে পড়ে ছিল মর-মর,
                  খোঁড়া কুকুরটারে
     বাঁচিয়ে তুলে রাখলে মহেশ আপন ঘরের দ্বারে।
     আরেকটি তার পোষ্য ছিল, ডাকনাম তার সুর্মি,
কেউ জানে না জাত যে কী তার, মুসলমান কি কাহার কিংবা কুর্মি।
          সে-বছরে প্রয়াগেতে কুম্ভমেলায় নেয়ে
     ফিরে আসতে পথে দেখে চার বছরের মেয়ে
          কেঁদে বেড়ায় বেলাদুপুর দুটোয়।
               মা নাকি তার ওলাউঠোয়
               মরেছে সেই সকালবেলায়;
                   মেয়েটি তাই বিষম ভিড়ের ঠেলায়
     পাক খেয়ে সে বেড়াচ্ছিল ভয়েই ভেবাচেকা,--
                   মহেশকে যেই দেখা
কী ভেবে যে হাত বাড়াল জানি না কোন্‌ ভুলে;
     অমনি পাগল নিল তারে কাঁধের 'পরে তুলে,
     ভোলানাথের জটায় যেন ধুতরোফুলের কুঁড়ি;
          সে অবধি তার ঘরের কোণটি জুড়ি
সুর্মি আছে ঐ পাগলের পাগলামির এক স্বচ্ছ শীতল ধারা
            হিমালয়ে নির্ঝরিণীর পারা।
            এখন তাহার বয়স হবে দশ,
     খেতে শুতে অষ্টপ্রহর মহেষ তারি বশ।
   আছে পাগল ঐ মেয়েটির খেলার পুতুল হয়ে
          যত্নসেবার অত্যাচারটা সয়ে।
          সন্ধ্যাবেলায় পাড়ার থেকে ফিরে
     যেমনি মহেশ ঘরের মধ্যে ঢোকে ধীরে ধীরে,
          পথ-হারানো মেয়ের বুকে আজো যেন জাগায় ব্যাকুলতা--
     বুকের 'পরে ঝাপিয়ে প'ড়ে গলা ধ'রে আবোলতাবোল কথা।
          এই আদরের প্রথম বানের টান
               হলে অবসান
          ওদের বাসায় আমি যেতেম রাতে।
     সামান্য কোন্‌ কথা হত এই পাগলের সাথে।
   নাইকো পুঁথি নাইকো ছবি, নাই কোনো আসবাব,
চিরকালের মানুষ যিনি ঐ ঘরে তাঁর ছিল আবির্ভাব।
    তারার মতো আপন আলো নিয়ে বুকের তলে--
          যে-মানুষটি যুগ হতে যুগান্তরে চলে,
       প্রাণখানি যাঁর বাঁশির মতো সীমাহীনের হাতে
               সরল সুরে বাজে দিনে রাতে,
                   যাঁর চরণের স্পর্শে
       ধুলায় ধুলায় বসুন্ধরা উঠল কেঁপে হর্ষে,--
          আমি যেন দেখতে পেতেম তাঁরে
     দীনের বাসায়, এই পাগলের ভাঙা ঘরের দ্বারে।
          রাজনীতি আর সমাজনীতি পুঁথির যত বুলি
                   যেতেম সবই ভুলি।
     ভুলে যেতেম রাজার কা'রা মস্ত বড়ো প্রতিনিধি
বালুর 'পরে রেখার মতো গড়ছে রাজ্য, লিখছে বিধানবিধি।
আরো দেখুন
হৈমন্তী
Stories
কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন,মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই তাড়া।
আমি ছিলাম বর। সুতরাং, বিবাহসম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি, এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ, কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষ ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।
আরো দেখুন
বাঁশি
Stories
বাঁশির বাণী চিরদিনের বাণী--শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা, প্রতি দিনের মাটির বুক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশু নেমে এল মর্ত্যের ধূলি দিয়ে স্বর্গ-স্বর্গ খেলতে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শুনি আর মন যে কেমন করে বুঝতে পারি নে। সেই ব্যথাকে চেনা সুখদুঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজ্জ্বল, চেনা চোখের জলের চেয়ে সে গভীর।
আরো দেখুন