ওগো, শান্ত পাষাণমুরতি
Songs
ওগো, শান্ত পাষাণমুরতি সুন্দরী,
    চঞ্চলেরে হৃদয়তলে লও বরি॥        
কুঞ্জবনে এসো একা,    নয়নে অশ্রু দিক্‌ দেখা--
অরুণরাগে হোক রঞ্জিত    বিকশিত বেদনার মঞ্জরী॥
আরো দেখুন
সুখে থাকো
Songs
              সুখে থাকো আর সুখী করো সবে,
              তোমাদের প্রেম ধন্য হোক ভবে॥
              মঙ্গলের পথে থেকো নিরন্তর,
              মহত্ত্বের 'পরে রাখিয়ো নির্ভর--
ধ্রুবসত্য তাঁরে ধ্রুবতারা কোরো   সংশয়নিশীথে সংসার-অর্ণবে॥
চিরসুধাময় প্রেমের মিলন   মধুর করিয়া রাখুক জীবন,
দুজনার বলে সবল দুজন   জীবনের কাজ সাধিয়ো নীরবে॥
              কত দুঃখ আছে, কত অশ্রুজল--
              প্রেমবলে তবু থাকিয়ো অটল।
তাঁহারি ইচ্ছা হউক সফল   বিপদে সম্পদে শোকে উৎসবে॥
আরো দেখুন
সংস্কার
Stories
চিত্রগুপ্ত এমন অনেক পাপের হিসাব বড়ো অক্ষরে তাঁর খাতায় জমা করেন যা থাকে পাপীর নিজের অগোচরে। তেমনি এমন পাপও ঘটে যাকে আমিই চিনি পাপ বলে, আর-কেউ না। যেটার কথা লিখতে বসেছি সেটা সেই জাতের। চিত্রগুপ্তের কাছে জবাবদিহি করবার পূর্বে আগে-ভাগে কবুল করলে অপরাধের মাত্রাটা হাল্‌কা হবে।
ব্যাপারটা ঘটেছিল কাল শনিবার দিনে। সেদিন আমাদের পাড়ায় জৈনদের মহলে কী একটা পরব ছিল। আমার স্ত্রী কলিকাকে নিয়ে মোটরে করে বেরিয়েছিলুম-- চায়ের নিমন্ত্রণ ছিল বন্ধু নয়নমোহনের বাড়িতে।
আরো দেখুন
ভুল স্বর্গ
Stories
লোকটি নেহাত বেকার ছিল।
তার কোনো কাজ ছিল না, কেবল শখ ছিল নানা রকমের।
আরো দেখুন
সিদ্ধি
Stories
স্বর্গের অধিকারে মানুষ বাধা পাবে না, এই তার পণ। তাই, কঠিন সন্ধানে অমর হবার মন্ত্র সে শিখে নিয়েছে। এখন একলা বনের মধ্যে সেই মন্ত্র সে সাধনা করে।
বনের ধারে ছিল এক কাঠকুড়নি মেয়ে। সে মাঝে মাঝে আঁচলে ক'রে তার জন্যে ফল নিয়ে আসে, আর পাতার পাত্রে আনে ঝরনার জল।
আরো দেখুন
সন্ধ্যা
Verses
  
অয়ি সন্ধ্যে,
    অনন্ত আকাশতলে বসি একাকিনী,
          কেশ এলাইয়া
    মৃদু মৃদু ও কী কথা   কহিস আপন মনে
          গান গেয়ে গেয়ে,
        নিখিলের মুখপানে চেয়ে।
    প্রতিদিন শুনিয়াছি, আজও তোর কথা
          নারিনু বুঝিতে।
    প্রতিদিন শুনিয়াছি,  আজও তোর গান
          নারিনু শিখিতে।
        চোখে লাগে ঘুমঘোর,  
        প্রাণ শুধু ভাবে হয় ভোর।
      হৃদয়ের অতিদূর দূর দূরান্তরে
      মিলাইয়া কণ্ঠস্বর তোর কন্ঠস্বরে
          উদাসী প্রবাসী যেন
      তোর সাথে তোরি গান করে।
    
    অয়ি সন্ধ্যা, তোরি যেন স্বদেশের প্রতিবেশী
       তোরি যেন আপনার ভাই
    প্রাণের প্রবাসে মোর দিশা হারাইয়া
          বেড়ায় সদাই।
          শোনে যেন স্বদেশের গান,
          দূর হতে কার পায় সাড়া
          খুলে দেয় প্রাণ।
          যেন কী পুরোনো স্মৃতি
          জাগিয়া উঠে রে ওই গানে।
          ওই তারকার মাঝে  যেন তার গৃহ ছিল,
          হাসিত কাঁদিত ওইখানে।
          আর বার ফিরে যেতে চায়
          পথ তবু খুঁজি না পায়।
    কত-না পুরানো কথা, কত-না হারানো গান,
           কত না প্রাণের দীর্ঘশ্বাস,  
   শরমের  আধো হাসি,      সোহাগের আধো বাণী,
          প্রণয়ের আধো মৃদু ভাষ,
          সন্ধ্যা, তোর ওই অন্ধকারে
          হারাইয়া গেছে একেবারে।
          পূর্ণ করি অন্ধকার তোর
          তারা সবে ভাসিয়া বেড়ায়
          যুগান্তের প্রশান্ত হৃদয়ে
          ভাঙাচোরা জগতের প্রায়।
    যবে এই নদীতীরে        বসি তোর পদতলে
          তারা সবে দলে দলে আসে  
          প্রাণেরে ঘেরিয়া চারি পাশে;
    হয়তো একটি হাসি       একটি আধেক হাসি
          সমুখেতে ভাসিয়া বেড়ায়,
          কভু ফোটে কভু বা মিলায়।
    আজি আসিয়াছি সন্ধ্যা, বসি তোর অন্ধকারে
             মুদিয়া নয়ন
    সাধ গেছে গাহিবারে--মৃদু  স্বরে শুনাবারে
             দু-চারিটি গান।
    যেথায় পুরোনো গান      যেথায় হারানো হাসি
             যেথা আছে বিস্মৃত স্বপন
    সেইখানে সযতনে        রেখে দিস গানগুলি,
             রচে দিস সমাধিশয়ন।
             জানি সন্ধ্যা, জানি তোর স্নেহ,
             গোপনে ঢাকিবি তার দেহ
    বসিয়া সমাধি-'পরে      নিষ্ঠুরকৌতুকভরে
             দেখিস হাসে না যেন কেহ।
             ধীরে শুধু ঝরিবে শিশির,
             মৃদু শ্বাস ফেলিবে সমীর।
             স্তব্ধতা কপোলে হাত দিয়ে
             একা সেথা রহিবে বসিয়া,  
             মাঝে মাঝে দু-একটি তারা
             সেথা আসি পড়িবে খসিয়া।
আরো দেখুন
স্ত্রীর পত্র
Stories
শ্রীচরণকমলেষু
আজ পনেরো বছর আমাদের বিবাহ হয়েছে,আজ পর্যন্ত তোমাকে চিঠি লিখি নি। চিরদিন কাছেই পড়ে আছি -- মুখের কথা অনেক শুনেছ, আমিও শুনেছি;চিঠি লেখবার মতো ফাঁকটুকু পাওয়া যায় নি।
আরো দেখুন
১৭৫
Verses
১৭৫
ফুল দেখিবার যোগ্য চক্ষু যার রহে
সেই যেন কাঁটা দেখে, অন্যে নহে নহে॥  
আরো দেখুন
পুনরাবৃত্তি
Stories
সেদিন যুদ্ধের খবর ভালো ছিল না। রাজা বিমর্ষ হয়ে বাগানে বেড়াতে গেলেন।
দেখতে পেলেন, প্রাচীরের কাছে গাছতলায় বসে খেলা করছে একটি ছোটো ছেলে আর একটি ছোটো মেয়ে।
আরো দেখুন
ফেল
Stories
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না।
নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য।
আরো দেখুন
মণিহারা
Stories
সেই জীর্ণপ্রায় বাঁধাঘাটের ধারে আমার বোট লাগানো ছিল। তখন সূর্য অস্ত গিয়াছে।
বোটের ছাদের উপরে মাঝি নমাজ পড়িতেছে। পশ্চিমের জ্বলন্ত আকাশপটে তাহার নীরব উপাসনা ক্ষণে ক্ষণে ছবির মতো আঁকা পড়িতেছিল। স্থির রেখাহীন নদীর জলের উপর ভাষাতীত অসংখ্য বর্ণচ্ছটা দেখিতে দেখিতে ফিকা হইতে গাঢ় লেখায়, সোনার রঙ হইতে ইস্পাতের রঙে, এক আভা হইতে আর-এক আভায় মিলাইয়া আসিতেছিল।
আরো দেখুন