দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন
মুকুট
Stories
ত্রিপুরার রাজা অমরমাণিক্যের কনিষ্ঠ পুত্র রাজধর সেনাপতি ইশা খাঁকে বলিলেন, "দেখো সেনাপতি, আমি বারবার বলিতেছি তুমি আমাকে অসম্মান করিয়ো না।"
পাঠান ইশা খাঁ কতকগুলি তীরের ফলা লইয়া তাহাদের ধার পরীক্ষা করিতেছিলেন। রাজধরের কথা শুনিয়া কিছুই বলিলেন না, কেবল মুখ তুলিয়া ভুরু উঠাইয়া একবার তাঁহার মুখের দিকে চাহিলেন। আবার তখনই মুখ নত করিয়া তীরের ফলার দিকে মনোযোগ দিলেন।
আরো দেখুন
মেঘলা দিনে
Stories
রোজই থাকে সমস্তদিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সেদিনকার কাজে, সেদিনকার আলাপে সেদিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।
আজ সকালবেলা মেঘের স্তবকে স্তবকে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে, ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত শেষ করে দেওয়া যায় না।
আরো দেখুন
251
Verses
THE NIGHT'S silence, like a deep lamp, is burning with the light of its milky way.
আরো দেখুন
আহ্বান আসিল মহোৎসবে
Songs
     আহ্বান আসিল মহোৎসবে
     অম্বরে গম্ভীর ভেরিরবে॥
পূর্ববায়ু চলে ডেকে   শ্যামলের অভিষেকে--
     অরণ্যে অরণ্যে নৃত্য হবে॥
     নির্ঝরকল্লোল-কলকলে
     ধরণীর আনন্দ উচ্ছলে।
শ্রাবণের বীণাপাণি   মিলালো বর্ষণবাণী
     কদম্বের পল্লবে পল্লবে॥
আরো দেখুন
29
Verses
DARK CLOUDS have blotted all lights from above; and we caged
birds cry and ask you: 'My friend, is it the death moment
of creation? Has God withdrawn His blessings from the sky?'
Times were when the sudden breath of April would waft the distant
fragrance of hope into our hearts, and the morning light
would gild the iron bars of our prison with its golden
spell and would bring the gladness of the open world into our cage.
But, see, it is all dark in the hills yonder, and not a thinnest
rift has been made by the scimitar of light cutting through the massive gloom.
Our chains today sit heavy on our feet, and not a flush of glow
is left in the sky with which to build an illusion of joy.
But let not our fear and sorrow pain you, my friend!
Come not to sit at the door of our cage to cry with us.
Your wings are unfettered.
Far away from us you soar beyond all clouds.
And from there send us the message in song:
'The light is shining for ever. The lamp of the sun is not out.'
আরো দেখুন
পাত্র ও পাত্রী
Stories
ইতিপূর্বে প্রজাপতি কখনো আমার কপালে বসেন নি বটে, কিন্তু একবার আমার মানসপদ্মে বসেছিলেন। তখন আমার বয়স ষোলো। তার পরে কাঁচা ঘুমে চমক লাগিয়ে দিলে যেমন ঘুম আর আসতে চায় না, আমার সেই দশা হল। আমার বন্ধুবান্ধবরা কেউ কেউ দারপরিগ্রহ ব্যাপারে দ্বিতীয়, এমন-কি তৃতীয় পক্ষে প্রোমোশন পেলেন; আমি কৌমার্যের লাস্ট বেঞ্চিতে বসে শূন্য সংসারের কড়িকাঠ গণনা করে কাটিয়ে দিলুম।
আমি চোদ্দ বছর বয়সে এনট্রেন্স পাস করেছিলুম। তখন বিবাহ কিম্বা এনট্রেন্স পরীক্ষায় বয়সবিচার ছিল না। আমি কোনোদিন পড়ার বই গিলি নি, সেইজন্যে শারীরিক বা মানসিক অজীর্ণ রোগে আমাকে ভুগতে হয় নি। ইঁদুর যেমন দাঁত বসাবার জিনিস পেলেই সেটাকে কেটে-কুটে ফেলে, তা সেটা খাদ্যই হোক আর অখাদ্যই হোক, শিশুকাল থেকেই তেমনি ছাপার বই দেখলেই সেটা পড়ে ফেলা আমার স্বভাব ছিল। সংসারে পড়ার বইয়ের চেয়ে না-পড়ার বইয়ের সংখ্যা ঢের বেশি, এইজন্য আমার পুঁথির সৌরজগতে স্কুল-পাঠ্য পৃথিবীর চেয়ে বেস্কুল-পাঠ্য সূর্য চোদ্দ লক্ষগুণে বড়ো ছিল। তবু, আমার সংস্কৃত-পণ্ডিতমশায়ের নিদারুণ ভবিষ্যদ্‌বাণী সত্ত্বেও, আমি পরীক্ষায় পাস করেছিলুম।
আরো দেখুন
দেনাপাওনা
Stories
পাঁচ ছেলের পর যখন এক কন্যা জন্মিল তখন বাপমায়ে অনেক আদর করিয়া তাহার নাম রাখিল নিরুপমা। এ গোষ্ঠীতে এমন শৌখিন নাম ইতিপূর্বে কখনো শোনা যায় নাই। প্রায় ঠাকুরদেবতার নামই প্রচলিত ছিল-- গণেশ, কার্তিক, পার্বতী, তাহার উদাহরণ।
এখন নিরুপমার বিবাহের প্রস্তাব চলিতেছে। তাহার পিতা রামসুন্দর মিত্র অনেক খোঁজ করেন কিন্তু পাত্র কিছুতেই মনের মতন হয় না। অবশেষে মস্ত এক রায়বাহাদুরের ঘরের একমাত্র ছেলেকে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছেন। উক্ত রায়বাহাদুরের পৈতৃক বিষয়-আশয় যদিও অনেক হ্রাস হইয়া আসিয়াছে কিন্তু বনেদি ঘর বটে।
আরো দেখুন
আকন্দ
Verses
সন্ধ্যা-আলোর সোনার খেয়া পাড়ি যখন দিল গগন-পারে
              অকূল অন্ধকারে,
          ছম্‌ছমিয়ে এল রাতি ভুবনডাঙার মাঠে
      একলা আমি গোয়ালপাড়ার বাটে।
নতুন-ফোটা গানের কুঁড়ি দেব বলে দিনুর হাতে আনি
         মনে নিয়ে সুরের গুন্‌গুনানি
চলেছিলেম, এমন সময় যেন সে কোন্‌ পরীর কণ্ঠখানি
  বাতাসেতে বাজিয়ে দিল বিনা ভাষার বাণী;
        বললে আমায়, "দাঁড়াও ক্ষণেক-তরে,
ওগো পথিক, তোমার লাগি চেয়ে আছি যুগে যুগান্তরে।
        আমায় নেবে চিনে
     সেই সুলগন এল এতদিনে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে আমি, মনে গোপন আশা
  কবির ছন্দে বাঁধব আমার বাসা।"
  দেখা হল, চেনা হল সাঁঝের আঁধারেতে;
বলে এলেম, "তোমার আসন কাব্যে দেব পেতে।"
সেই কথা আজ পড়ল মনে হঠাৎ হেথায় এসে
            সাগরপারের দেশে;
মন-কেমনের হাওয়ার পাকে অনেক স্মৃতি বেড়ায় মনে ঘুরে,
      তারি মধ্যে বাজল করুণ সুরে--
      "ভুলো না গো ভুলো না এই পথ-বাসিনীর কথা,
আজও আমি দাঁড়িয়ে আছি, বাসা আমার কোথা?'
    শপথ আমার, তোমরা বোলো তারে
তার কথাটি দাঁড়িয়েছিল মনের পথের ধারে,
    বোলো তারে চোখের দেখা ফুটেছে আজ গানে--
              লিখনখানি রাখিনু এইখানে।
                                   আকন্দবল্লভ রবি
       যেদিন প্রথম কবিগান
        বসন্তের জাগালো আহ্বান
           ছন্দের উৎসবসভাতলে,
       সেদিন মালতী যূথী জাতি
       কৌতূহলে উঠেছিল মাতি,
           ছুটে এসেছিল দলে দলে।
আসিল মল্লিকা চম্পা কুরুবক কাঞ্চন করবী,
সুরের বরণমাল্যে সবারে বরিয়া নিল কবি।
কী সংকোচে এলে না যে, সভার দুয়ার হল বন্ধ।
           সব পিছে রহিলে আকন্দ।
       মোরে তুমি লজ্জা কর নাই
       আমার সম্মান মানি তাই,
           আমারে সহজে নিলে ডাকি।
       আপনারে আপনি জানালে,
       উপেক্ষার ছায়ার আড়ালে
           পরিচয় রাখিলে না ঢাকি।
মনে পড়ে একদিন সন্ধ্যাবেলা চলেছিনু একা,
তুমি বুঝি ভেবেছিলে কী জানি না পাই পাছে দেখা,
অদৃশ্য লিখনখানি তোমার করুণ ভীরু গন্ধ
           বায়ুভরে পাঠালে আকন্দ।
       হিয়া মোর উঠিল চমকি,
       পথমাঝে দাঁড়ানু থমকি,
              তোমারে খুঁজিনু চারি ধারে।
       পল্লবের আবরণ টানি
       আছিলে কাব্যের দুয়োরাণী
              পথপ্রান্তে গোপন আঁধারে।
সঙ্গী যারা ছিল ঘিরে তারা সবে নামগোত্রহীন,
কাড়িতে জানে না তারা পথিকের আঁখি উদাসীন।
ভরিল আমার চিত্ত বিষ্ময়ের গভীর আনন্দ,
              চিনিলাম তোমারে আকন্দ।
       দেখা হয় নাই তোমা সনে
       প্রাসাদের কুসুমকাননে,
           জনতার প্রগল্‌ভ আদরে।
       নিদ্রাহীন প্রদীপ-আলোকে
       পড় নি অশান্ত মোর চোখে
           প্রমোদের মুখর বাসরে।
অবজ্ঞার নির্জনতা তোমারে দিয়েছে কাছে আনি
সন্ধ্যার প্রথম তারা জানে তাহা, আর আমি জানি।
নিভৃতে লেগেছে প্রাণে তোমার নিশ্বাস মৃদু মন্দ
           নম্রহাসি উদাসী আকন্দ!
       আকাশের একবিন্দু নীলে
       তোমার পরান ডুবাইলে,
           শিখে নিলে আনন্দের ভাষা।
       বক্ষে তব শুভ্র রেখা এঁকে
       আপন স্বাক্ষর গেছে রেখে
           রবির সুদূর ভালোবাসা।
দেবতার প্রিয় তুমি, গুপ্ত রাখ গৌরব তোমার--
শান্ত তুমি, তৃপ্ত তুমি, অনাদরে তোমার বিহার।
জেনেছি তোমারে, তাই জানাতে রচিনু এই ছন্দ
           মৌমাছির বন্ধু হে আকন্দ!
আরো দেখুন
তোমায় যতনে রাখিব রে
Songs
               তোমায় যতনে রাখিব হে, রাখিব কাছে–
         প্রেমকুসুমের মধুসৌরভে, নাথ, তোমারে ভুলাব হে।।
                 তোমার প্রেমে, সখা, সাজিব সুন্দর–
                 হৃদয়হারী, তোমারি পথ রহিব চেয়ে।।
                 আপনি আসিবে, কেমনে ছাড়িবে আর–
                 মধুর হাসি বিকাশি রবে হৃদয়াকাশে।।
আরো দেখুন