কর্মফল
Stories
আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন-- সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। 'এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।'
শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন।
আরো দেখুন
প্রথম চিঠি
Stories
বধূর সঙ্গে তার প্রথম মিলন, আর তার পরেই সে এই প্রথম এসেছে প্রবাসে।
চলে যখন আসে তখন বধূর লুকিয়ে কান্নাটি ঘরের আয়নার মধ্যে দিয়ে চকিতে ওর চোখে পড়ল।
আরো দেখুন
গলি
Stories
আমাদের এই শানবাঁধানো গলি, বারে বারে ডাইনে বাঁয়ে এঁকে বেঁকে একদিন কী যেন খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সে যে দিকেই যায় ঠেকে যায়। এ দিকে বাড়ি, ও দিকে বাড়ি, সামনে বাড়ি।
উপরের দিকে যেটুকু নজর চলে তাতে সে একখানি আকাশের রেখা দেখতে পায়-- ঠিক তার নিজেরই মতো সরু, তার নিজেরই মতো বাঁকা।
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন
যাত্রী
Verses
যে কাল হরিয়া লয় ধন
      সেই কাল করিছে হরণ
           সে ধনের ক্ষতি।
           তাই বসুমতী
                 নিত্য আছে বসুন্ধরা।
একে একে পাখি যায়, গানের পসরা।
           কোথাও না হয় শূন্য,
     আঘাতের অন্ত নেই, তবুও অক্ষুণ্ন
           বিপুল সংসার।
      দুঃখ শুধু তোমার আমার
    নিমেষের বেড়া-ঘেরা এখানে ওখানে।
সে বেড়া পারায়ে তাহা পৌঁছায় না নিখিলের পানে।
        ওরে তুমি, ওরে আমি,
যেখানে তোদের যাত্রা একদিন যাবে থামি
           সেখানে দেখিতে পাবি ধন আর ক্ষতি
তরঙ্গের ওঠা নামা,একই খেলা, একই তার গতি।
           কান্না আর হাসি
এক বীণাতন্ত্রীতারে একই গান উঠিছে উচ্ছ্বাসি,
                 একই শমে এসে
           মহামৌনে মিলে যায় শেষে।
                 তোমার হৃদয়তাপ
              তোমার বিলাপ
      চাপা থাক্‌ আপনার ক্ষুদ্রতার তলে।
                 যেইখানে লোকযাত্রা চলে
      সেখানে সবার সাথে নির্বিকার চলো একসারে,
                 দেখা দাও শান্তিসৌম্য আপনারে --
যে-শান্তি মৃত্যুর প্রান্তে বৈরাগ্যে নিভৃত,
                 আত্মসমাহিত;
                 দিবসের যত
           ধূলিচিহ্ন, যত কিছু ক্ষত
লুপ্ত হল যে শান্তির অন্তিম তিমিরে;
              সংসারের শেষ তীরে
           সপ্তর্ষির ধ্যানপুণ্য রাতে
হারায় যে শান্তিসিন্ধু আপনারি অন্ত আপনাতে;
        যে শান্তি নিবিড় প্রেমে
           স্তব্ধ আছে থেমে,
যে-প্রেম শরীরমন অতিক্রম করিয়া সুদূরে
                 একান্ত মধুরে
           লভিয়াছে আপনার চরম বিস্মৃতি।
সে পরম শান্তি-মাঝে হোক তব অচঞ্চল স্থিতি।
আরো দেখুন
বিদেশী ফুলের গুচ্ছ - ১২
Verses
দেখিনু যে এক আশার স্বপন
  শুধু তা স্বপন, স্বপনময়--
   স্বপন বই সে কিছুই নয়।
অবশ হৃদয় অবসাদময়
হারাইয়া সুখ শ্রান্ত অতিশয়--
    আজিকে উঠিনু জাগি
কেবল একটি স্বপন লাগি!
বীণাটি আমার নীরব হইয়া
      গেছে গীতগান ভুলি,
ছিঁড়িয়া টুটিয়া ফেলেছি তাহার
     একে একে তারগুলি।
নীরব হইয়া রয়েছে পড়িয়া
    সুদূর শ্মশান-'পরে,
কেবল একটি স্বপন-তরে!
থাম্‌ থাম্‌ ওরে হৃদয় আমার,
    থাম্‌ থাম্‌ একেবারে,
নিতান্তই যদি টুটিয়া পড়িবি
   একেবারে ভেঙে যা রে--
   এই তোর কাছে মাগি।
আমার জগৎ, আমার হৃদয়--
    আগে যাহা ছিল এখন তা নয়
কেবল একটি স্বপন লাগি।
আরো দেখুন
13
Verses
সৃষ্টিলীলাপ্রাঙ্গণের প্রান্তে দাঁড়াইয়া
দেখি ক্ষণে ক্ষণে
তমসের পরপার,
যেথা মহা-অব্যক্তের অসীম চৈতন্যে ছিনু লীন।
আজি এ প্রভাতকালে ঋষিবাক্য জাগে মোর মনে।
করো করো অপাবৃত হে সূর্য,আলোক-আবরণ,
তোমার অন্তরতম পরম জ্যোতির মধ্যে দেখি
আপনার আত্মার স্বরূপ।
যে আমি দিনের শেষে বায়ুতে মিশায় প্রাণবায়ু,
ভস্মে যার দেহ অন্ত হবে,
যাত্রাপথে সে আপন না ফেলুক ছায়া
সত্যের ধরিয়া ছদ্মবেশ।
এ মর্তের লীলাক্ষেত্রে সুখে দুঃখে অমৃতের স্বাদ
পেয়েছি তো ক্ষণে ক্ষণে,
বারে বারে  অসীমেরে দেখেছি সীমার অন্তরালে।
বুঝিয়াছি,এ জন্মের শেষ অর্থ ছিল সেইখানে,
সেই সুন্দরের রূপে,
সে সংগীতে অনির্বচনীয়।
খেলাঘরে আজ যবে খুলে যাবে দ্বার
ধরণীর দেবালয়ে রেখে যাব আমার প্রণাম,
দিয়ে যাব জীবনের সে নৈবেদ্যগুলি
মূল্য যার মৃত্যুর অতীত।
আরো দেখুন
নামঞ্জুর গল্প
Stories
আমাদের আসর জমেছিল পোলিটিক্যাল লঙ্কাকাণ্ডের পালায়। হাল আমলের উত্তরকাণ্ডে আমরা সম্পূর্ণ ছুটি পাই নি বটে, কিন্তু গলা ভেঙেছে; তা ছাড়া সেই অগ্নিদাহের খেলা বন্ধ।
বঙ্গভঙ্গের রঙ্গভূমিতে বিদ্রোহীর অভিনয় শুরু হল। সবাই জানেন, এই নাট্যের পঞ্চম অঙ্কের দৃশ্য আলিপুর পেরিয়ে পৌঁছল আণ্ডামানের সমুদ্রকূলে। পারানির পাথেয় আমার যথেষ্ট ছিল, তবু গ্রহের গুণে এপারের হাজতেই আমার ভোগসমাপ্তি। সহযোগীদের মধ্যে ফাঁসিকাঠ পর্যন্ত যাদের সর্বোচ্চ প্রোমোশন হয়েছিল, তাদের প্রণাম করে আমি পশ্চিমের এক শহরের কোণে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় পসার জমিয়ে তুললেম।
আরো দেখুন
The Victory
Stories
SHE WAS THE Princess Ajita. And the court poet of King Narayan had never seen her. On the day he recited a new poem to the king he would raise his voice just to that pitch which could be heard by unseen hearers in the screened balcony high above the hall. He sent up his song towards the star-land out of his reach, where, circled with light, the planet who ruled his destiny shone unknown and out of ken.
He would espy some shadow moving behind the veil. A tinkling sound would come to his ear from afar, and would set him dreaming of the ankles whose tiny golden bells sang at each step. Ah, the rosy red tender feet that walked the dust of the earth like God's mercy on the fallen! The poet had placed them on the altar of his heart, where he wove his songs to the tune of those golden bells. Doubt never arose in his mind as to whose shadow it was that moved behind the screen, and whose anklets they were that sang to the time of his beating heart.
আরো দেখুন