স্ত্রীর পত্র
Stories
শ্রীচরণকমলেষু
আজ পনেরো বছর আমাদের বিবাহ হয়েছে,আজ পর্যন্ত তোমাকে চিঠি লিখি নি। চিরদিন কাছেই পড়ে আছি -- মুখের কথা অনেক শুনেছ, আমিও শুনেছি;চিঠি লেখবার মতো ফাঁকটুকু পাওয়া যায় নি।
আরো দেখুন
খরবায়ু বয় বেগে
Songs
        খরবায়ু বয় বেগে,   চারি দিক ছায় মেঘে,
            ওগো নেয়ে, নাওখানি বাইয়ো।
        তুমি কষে ধরো হাল,   আমি তুলে বাঁধি পাল--
            হাঁই মারো, মারো টান হাঁইয়ো॥
শৃঙ্খলে বারবার ঝন্‌ঝন্‌ ঝঙ্কার, নয় এ তো তরণীর ক্রন্দন শঙ্কার--
বন্ধন দুর্বার সহ্য না হয় আর, টলমল করে আজ তাই ও।
            হাঁই মারো, মারো টান হাঁইয়ো॥
        গণি গণি দিন খন      চঞ্চল করি মন
            বোলো না, 'যাই কি নাহি যাই রে'।
        সংশয়পারাবার         অন্তরে হবে পার,
            উদ্‌বেগে তাকায়ো না বাইরে।
যদি মাতে মহাকাল, উদ্দাম জটাজাল ঝড়ে হয় লুণ্ঠিত, ঢেউ উঠে উত্তাল,
হোয়ো নাকো কুণ্ঠিত, তালে তার দিয়ো তাল-- জয়-জয় জয়গান গাইয়ো।
            হাঁই মারো, মারো টান হাঁইয়ো॥
আরো দেখুন
তপস্বিনী
Stories
বৈশাখ প্রায় শেষ হইয়া আসিল। প্রথমরাত্রে গুমট গেছে, বাঁশগাছের পাতাটা পর্যন্ত নড়ে না, আকাশের তারাগুলো যেন মাথা-ধরার বেদনার মতো দব্‌ দব্‌ করিতেছে। রাত্রি তিনটের সময় ঝির্‌ঝির্‌ করিয়া একটুখানি বাতাস উঠিল। ষোড়শী শূন্য মেঝের উপর খোলা জানলার নীচে শুইয়া আছে, একটা কাপড়ে-মোড়া টিনের বাক্স তার মাথার বালিশ। বেশ বোঝা যায়, খুব উৎসাহের সঙ্গে সে কৃচ্ছসাধন করিতেছে।
প্রতিদিন ভোর চারটের সময় উঠিয়া স্নান সারিয়া ষোড়শী ঠাকুরঘরে গিয়া বসে। আহ্নিক করিতে বেলা হইয়া যায়। তার পরে বিদ্যারত্নমশায় আসেন; সেই ঘরে বসিয়াই তাঁর কাছে সে গীতা পড়ে। সংস্কৃত সে কিছু কিছু শিখিয়াছে। শঙ্করের বেদান্তভাষ্য এবং পাতঞ্জলদর্শন মূল গ্রন্থ হইতে পড়িবে, এই তার পণ। বয়স তার তেইশ হইবে।
আরো দেখুন
বদনাম
Stories
ক্রিং ক্রিং ক্রিং সাইকেলের আওয়াজ; সদর দরজার কাছে লাফ দিয়ে নেমে পড়লেন ইন্‌স্‌পেক্টার বিজয়বাবু। গায়ে ছাঁটা কোর্তা, কোমরে কোমরবন্ধ, হাফ-প্যাণ্টপরা, চলনে কেজো লোকের দাপট। দরজার কড়া নাড়া দিতেই গিন্নি এসে খুলে দিলেন।
ইন্‌স্‌পেক্টার ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই ঝংকার দিয়ে উঠলেন--'এমন করে তো আর পারি নে, রাত্তিরের পর রাত্তির খাবার আগলে রাখি! তুমি কত চোর ডাকাত ধরলে, সাধু সজ্জনও বাদ গেল না, আর ঐ একটা লোক অনিল মিত্তিরের পিছন পিছন তাড়া করে বেড়াচ্ছ, সে থেকে থেকে তোমার সামনে এসে নাকের উপর বুড়ো আঙুল নাড়া দিয়ে কোথায় দৌড় মারে তার ঠিকানা নেই। দেশসুদ্ধ লোক তোমার এই দশা দেখে হেসে খুন, এ যেন সার্কাসের খেলা হচ্ছে।'
আরো দেখুন
ফেল
Stories
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না।
নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য।
আরো দেখুন
ভুল স্বর্গ
Stories
লোকটি নেহাত বেকার ছিল।
তার কোনো কাজ ছিল না, কেবল শখ ছিল নানা রকমের।
আরো দেখুন
স্বর্গ-মর্ত
Stories
গান
মাটির প্রদীপখানি আছে
আরো দেখুন
পান্নালাল
Stories
দাদামশায়, তোমার পাগলের দলের মধ্যে পান্নালাল ছিল খুব নতুন রকমের।
জান, দিদি? তোমার পাগলরা প্রত্যেকেই নতুন, কারও সঙ্গে কারও মিল হয় না। যেমন তোমার দাদামশায়। বিধাতার নতুন পরীক্ষা। ছাঁচ তিনি ভেঙে ফেলেন। সাধারণ লোকের বুদ্ধিতে মিল হয়, অসাধারণ পাগলের মিল হয় না। তোমাকে একটা উদাহরণ দেখাই--
আরো দেখুন
দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন
শ্যামলা
Verses
হে শ্যামলা, চিত্তের গহনে আছ চুপ,
          মুখে তব সুদূরের রূপ
                   পড়িয়াছে ধরা
সন্ধ্যার আকাশসম সকল-চঞ্চল চিন্তা-হরা।
          আঁকা দেখি দৃষ্টিতে তোমার
                   সমুদ্রের পরপার,
গোধূলিপ্রান্তরপ্রান্তে ঘন কালো রেখাখানি;
          অধরে তোমার বীণাপাণি
                   রেখে দিয়ে বীণা তাঁর
নিশীথের রাগিণীতে দিতেছেন নিঃশব্দ ঝংকার।
                   অগীত সে সুর
মনে এনে দেয় কোন্‌ হিমাদ্রীর শিখরে সুদূর
          হিমঘন তপস্যায় স্তব্ধলীন
             নির্ঝরের ধ্যান বাণীহীন।
                   জলভারনত মেঘে
          তমালবনের 'পরে আছে লেগে
               সকরুণ ছায়া সুগম্ভীর--
তোমার ললাট-'পরে সেই মায়া রহিয়াছে স্থির।
ক্লান্ত-অশ্রু রাধিকার বিরহের স্মৃতির গভীরে
স্বপ্নময়ী যে যমুনা বহে ধীরে
          শান্তধারা
      কলশব্দহারা
তাহারই বিষাদ কেন
          অতল গাম্ভীর্য ল'য়ে তোমার মাঝারে হেরি যেন।
শ্রাবণে অপরাজিতা, চেয়ে দেখি তারে
আঁখি ডুবে যায় একেবারে--
         ছোটো পত্রপুটে তার নীলিমা করেছে ভরপুর,
                   দিগন্তের শৈলতটে অরণ্যের সুর
              বাজে তাহে, সেই দূর আকাশের বাণী
         এনেছে আমার চিত্তে তোমার নির্বাক মুখখানি।
আরো দেখুন
অপযশ
Verses
বাছা রে, তোর চক্ষে কেন জল।
      কে তোরে যে কী বলেছে
        আমায় খুলে বল্‌।
      লিখতে গিয়ে হাতে মুখে
        মেখেছ সব কালি,নোংরা ব'লে তাই দিয়েছে গালি?
        ছি ছি, উচিত এ কি।
      পূর্ণশশী মাখে মসী --
        নোংরা বলুক দেখি।
বাছা রে, তোর সবাই ধরে দোষ।
   আমি দেখি সকল-তাতে
        এদের অসন্তোষ।
   খেলতে গিয়ে কাপড়খানা
        ছিঁড়ে খুঁড়ে এলে
তাই কি বলে লক্ষ্মীছাড়া ছেলে।
        ছি ছি, কেমন ধারা।
   ছেঁড়া মেঘে প্রভাত হাসে,
        সে কি লক্ষ্মীছাড়া।
কান দিয়ো না তোমায় কে কী বলে।
   তোমার নামে অপবাদ যে
        ক্রমেই বেড়ে চলে।
   মিষ্টি তুমি ভালোবাস
        তাই কি ঘরে পরে
লোভী বলে তোমার নিন্দে করে!
        ছি ছি, হবে কী।
   তোমায় যারা ভালোবাসে
        তারা তবে কী।
আরো দেখুন
পরিশিষ্ট
Stories
(ছোটো গল্প)
সাহিত্যে বড়ো গল্প ব'লে যে-সব প্রগল্‌ভ বাণীবাহন দেখা যায় তারা প্রাক্‌ভূতাত্ত্বিক যুগের প্রাণীদের মতো-- তাদের প্রাণের পরিমাণ যত দেহের পরিমাণ তার চার গুণ, তাদের লেজটা কলেবরের অত্যুক্তি।
আরো দেখুন