অস্পষ্ট
Stories
জানলার ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় সামনের বাড়ির জীবনযাত্রা। রেখা আর ছেদ, দেখা আর না-দেখা দিয়ে সেই ছবি আঁকা।
একদিন পড়ার বই পড়ে রইল, বনমালীর চোখ গেল সেই দিকে।
আরো দেখুন
মেঘছায়ে সজল বায়ে
Songs
     মেঘছায়ে সজল বায়ে মন আমার
উতলা করে সারাবেলা কার লুপ্ত হাসি, সুপ্ত বেদনা হয় রে॥
কোন্‌ বসন্তের নিশীথে যে বকুলমালাখানি পরালে
তার    দলগুলি গেছে ঝরে, শুধু গন্ধ ভাসে প্রাণে॥
জানি    ফিরিবে না আর ফিরিবে না,     জানি তব পথ গেছে সুদূরে
পারিলে না তবু পারিলে না চিরশূন্য করিতে ভুবন    মম--
তুমি    নিয়ে গেছ মোর বাঁশিখানি, দিয়ে গেছ তোমার গান॥
আরো দেখুন
অশ্রু
Verses
সুন্দর, তুমি চক্ষু ভরিয়া
                             এনেছ অশ্রুজল।
          এনেছ তোমার বক্ষে ধরিয়া
                             দুঃসহ হোমানল।
          দুঃখ যে তাই উজ্জ্বল হয়ে উঠে,
          মুগ্ধ প্রাণের আবেশবন্ধ টুটে,
          এ তাপে শ্বসিয়া উঠে বিকশিয়া
                             বিচ্ছেদ শতদল।
আরো দেখুন
বড়ো খবর
Stories
কুসমি বললে, তুমি যে বললে এখনকার কালের বড়ো বড়ো সব খবর তুমি আমাকে শোনাবে, নইলে আমার শিক্ষা হবে কী রকম ক'রে, দাদামশায়।
দাদামশায় বললে, বড়ো খবরের ঝুলি বয়ে বেড়াবে কে বলো, তার মধ্যে যে বিস্তর রাবিশ।
আরো দেখুন
শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
সওগাত
Stories
পুজোর পরব কাছে। ভাণ্ডার নানা সামগ্রীতে ভরা। কত বেনারসি কাপড়, কত সোনার অলংকার; আর ভাণ্ড ভ'রে ক্ষীর দই, পাত্র ভ'রে মিষ্টান্ন।
মা সওগাত পাঠাচ্ছেন।
আরো দেখুন
স্নেহস্মৃতি
Verses
      সেই চাঁপা, সেই বেলফুল,
কে তোরা আজি এ প্রাতে    এনে দিলি মোর হাতে--
         জল আসে আঁখিপাতে, হৃদয় আকুল।
      সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
কত দিন, কত সুখ,       কত হাসি, স্নেহমুখ,
        কত কী পড়িল মনে প্রভাতবাতাসে--
স্নিগ্ধ প্রাণ সুধাভরা       শ্যামল সুন্দর ধরা,
        তরুণ অরুণরেখা নির্মল আকাশে।
সকলি জড়িত হয়ে         অন্তরে যেতেছে বয়ে,
        ডুবে যায় অশ্রুজলে হৃদয়ের কূল--
মনে পড়ে তারি সাথে          জীবনের কত প্রাতে
      সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
বড়ো বেসেছিনু ভালো           এই শোভা, এই আলো,
        এ আকাশ, এ বাতাস, এই ধরাতল।
কতদিন বসি তীরে       শুনেছি নদীর নীরে
        নিশীথের সমীরণে সংগীত তরল।
কতদিন পরিয়াছি          সন্ধ্যাবেলা মালাগাছি
        স্নেহের হস্তের গাঁথা বকুলমুকুল--
বড়ো ভালো লেগেছিল             যেদিন এ হাতে দিল
          সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
কত শুনিয়াছি বাঁশি,           কত দেখিয়াছি হাসি,
        কত উৎসবের দিনে কত যে কৌতুক।
কত বরষার বেলা       সঘন আনন্দ-মেলা,
        কত গানে জাগিয়াছে সুনিবিড় সুখ।
এ প্রাণ বীণার মতো              ঝংকারি উঠেছে কত
        আসিয়াছে শুভক্ষণ কত অনুকূল--
মনে পড়ে তারি সাথে       কতদিন কত প্রাতে
         সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
সেই-সব এই-সব,       তেমনি পাখির রব,
        তেমনি চলেছে হেসে জাগ্রত সংসার।
দক্ষিণ-বাতাসে-মেশা       ফুলের গন্ধের নেশা
        দিকে দিকে ব্যাকুলতা করিছে সঞ্চার।
অবোধ অন্তরে তাই       চারি দিক -পানে চাই,
        অকস্মাৎ আনমনে জেগে উঠে ভুল--
বুঝি সেই স্নেহসনে          ফিরে এল এ জীবনে
        সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
আনন্দপাথেয় যত            সকলি হয়েছে গত,
       দুটি রিক্তহস্তে মোর আজি কিছু নাই।
তবু সম্মুখের পানে       চলেছি কঠিন প্রাণে,
      যেতে হবে গম্যস্থানে, ফিরে না তাকাই।
দাঁড়ায়ো না, চলো চলো,         কী আছে কে জানে বলো
       ধূলিময় শুষ্কপথ, সংশয় বিপুল--
শুধু জানিয়াছি সার                কভু ফুটিবে না আর
       সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
আমি কিছু নাহি চাই,         যাহা দিবে লব তাই
       চিরসুখ এ জগতে কে পেয়েছে কবে।
প্রাণে লয়ে উপবাস         কাটে কত বর্ষমাস,
       তৃষিত তাপিত চিত্ত কত আছে ভবে।
শুধু এক ভিক্ষা আছে,     যেদিন আসিবে কাছে
       জীবনের পথশেষে মরণ অকূল
সেদিন স্নেহের সাথে        তুলে দিয়ো এই হাতে
        সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
হয়তো মৃত্যুর পারে           ঢাকা সব অন্ধকারে,
       স্বপ্নহীন চিরসুপ্তি চক্ষে চেপে রহে,
গীতগান হেথাকার          সেথা নাহি বাজে আর,
       হেথাকার বনগন্ধ সেথা নাহি বহে।
কে জানে সকল স্মৃতি          জীবনের সব প্রীতি
       জীবনের অবসানে হবে কি উন্‌মূল?
জানি নে গো এই হাতে          নিয়ে যাব কিনা সাথে
         সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
আরো দেখুন
সে আমার জননী রে
Verses
ভৈরবী । রূপক
কে এসে যায় ফিরে ফিরে
আকুল নয়নের নীরে?
     কে বৃথা আশাভরে
     চাহিছে মুখ-'পরে?
সে যে আমার জননী রে!
কাহার সুধাময়ী বাণী
মিলায় অনাদর মানি?
     কাহার ভাষা হায়
     ভুলিতে সবে চায়?
সে যে আমার জননী রে!
ক্ষণেক স্নেহকোল ছাড়ি
চিনিতে আর নাহি পারি।
     আপন সন্তান
     করিছে অপমান--
সে যে আমার জননী রে!
পুণ্য কুটিরে বিষণ্ণ
কে ব'সে সাজাইয়া অন্ন?
     সে স্নেহ-উপহার
     রুচে না মুখে আর!
সে যে আমার জননী রে!
আরো দেখুন