সবে আনন্দ করো
Songs
          সবে আনন্দ করো
প্রিয়তম নাথে লয়ে যতনে হৃদয়ধামে ॥
সঙ্গীতধ্বনি জাগাও জগতে প্রভাতে
স্তব্ধ গগন পূর্ণ করো ব্রহ্মনামে ॥
আরো দেখুন
মধুসন্ধায়ী - ৪
Verses
দূর হতে কয় কবি,
"জয় জয় মাংপবী,
কমলাকানন তব না হউক শূন্য।
গিরিতটে সমতটে
আজি তব যশ রটে,
আশারে ছাড়ায়ে বাড়ে তব দানপুণ্য।
তোমাদের বনময়
অফুরান যেন রয়
মৌচাক-রচনায় চিরনৈপুণ্য।
কবি প্রাতরাশে তার
না করুক মুখভার,
নীরস রুটির গ্রাসে না হোক সে ক্ষুণ্ন।'
আরবার কয় কবি,
"জয় জয় মাংপবী,
টেবিলে এসেছে নেমে তোমার কারুণ্য।
রুটি বলে জয়-জয়,
লুচিও যে তাই কয়,
মধু যে ঘোষণা করে তোমারই তারুণ্য।'
আরো দেখুন
জয় জয় পরমা
Songs
জয় জয়     পরমা নিষ্কৃতি হে, নমি নমি।
জয় জয়     পরমা নির্‌বৃতি হে, নমি নমি॥
              নমি নমি তোমারে হে অকস্মাৎ,
              গ্রন্থিচ্ছদন খরসংঘাত--
              লুপ্তি, সুপ্তি, বিস্মৃতি হে, নমি নমি ॥
              অশ্রুশ্রাবণপ্লাবন হে, নমি নমি।
              পাপক্ষালন পাবন হে, নমি নমি।
              সব ভয় ভ্রম ভাবনার
              চরমা আবৃতি হে, নমি নমি ॥
আরো দেখুন
তারাপ্রসন্নের কীর্তি
Stories
লেখকজাতির প্রকৃতি অনুসারে তারাপ্রসন্ন কিছু লাজুক এবং মুখচোরা ছিলেন। লোকের কাছে বাহির হইতে গেলে তাঁহার সর্বনাশ উপস্থিত হইত। ঘরে বসিয়া কলম চালাইয়া তাঁহার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, পিঠ একটু কুঁজা, সংসারের অভিজ্ঞতা অতি অল্প। লৌকিকতার বাঁধি বোলসকল সহজে তাঁহার মুখে আসিত না, এইজন্য গৃহদুর্গের বাহিরে তিনি আপনাকে কিছুতেই নিরাপদ মনে করিতেন না।
লোকেও তাঁহাকে একটা উজবুক রকমের মনে করিত এবং লোকেরও দোষ দেওয়া যায় না। মনে করো, প্রথম পরিচয়ে একটি পরম ভদ্রলোক উচ্ছ্বসিত কন্ঠে তারাপ্রসন্নকে বলিলেন, "মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হয়ে যে কী পর্যন্ত আনন্দ লাভ করা গেল, তা একমুখে বলতে পারি নে"-- তারাপ্রসন্ন নিরুত্তর হইয়া নিজের দক্ষিণ করতল বিশেষ মনোযোগপূর্বক নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। হঠাৎ সে নীরবতার অর্থ এইরূপ মনে হয়, "তা, তোমার আনন্দ হয়েছে সেটা খুব সম্ভব বটে, কিন্তু আমার-যে আনন্দ হয়েছে এমন মিথ্যা কথাটা কী করে মুখে উচ্চারণ করব তাই ভাবছি।"
আরো দেখুন
মীনু
Stories
মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব।
বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, 'এও বাঁচে কি না-বাঁচে।'
আরো দেখুন
আমার প্রাণের 'পরে
Songs
আমার    প্রাণের 'পরে চলে গেল কে
বসন্তের   বাতাসটুকুর মতো।
সে যে    ছুঁয়ে গেল, নুয়ে গেল রে--
ফুল      ফুটিয়ে গেল শত শত।
সে       চলে গেল, বলে গেল না-- সে   কোথায় গেল ফিরে এল না।
সে       যেতে যেতে চেয়ে গেল    কী যেন গেয়ে গেল--
তাই     আপন-মনে বসে আছি কুসুমবনেতে।
সে       ঢেউয়ের মতন ভেসে গেছে,   চাঁদের আলোর দেশে গেছে,
          যেখান দিয়ে হেসে গেছে,  হাসি তার    রেখে গেছে রে--
          মনে হল আঁখির কোণে    আমায় যেন ডেকে গেছে সে।
আমি     কোথায় যাব, কোথায় যাব, ভাবতেছি তাই একলা বসে।
সে       চাঁদের চোখে বুলিয়ে গেল ঘুমের ঘোর।
সে       প্রাণের কোথায় দুলিয়ে গেল ফুলের ডোর।
          কুসুমবনের উপর দিয়ে কী কথা সে বলে গেল,
          ফুলের গন্ধ পাগল হয়ে সঙ্গে তারি চলে গেল।
          হৃদয় আমার আকুল হল,    নয়ন আমার মুদে এলে রে--
          কোথা দিয়ে কোথায় গেল সে॥
আরো দেখুন
সে যে পাশে
Songs
সে যে    পাশে এসে বসেছিল,    তবু জাগি নি।
কী ঘুম তোরে পেয়েছিল হতভাগিনি॥
     এসেছিল নীরব রাতে,    বীণাখানি ছিল হাতে--
     স্বপনমাঝে বাজিয়ে গেল    গভীর রাগিণী॥
জেগে দেখি দখিন-হাওয়া,    পাগল করিয়া
গন্ধ তাহার ভেসে বেড়ায়    আঁধার ভরিয়া।
     কেন আমার রজনী যায়,    কাছে পেয়ে কাছে না পায়--
     কেন গো তার মালার পরশ    বুকে লাগি নি॥
আরো দেখুন
পুত্রযজ্ঞ
Stories
বৈদ্যনাথ গ্রামের মধ্যে বিজ্ঞ ছিলেন সেইজন্য তিনি ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া বর্তমানের সমস্ত কাজ করিতেন। যখন বিবাহ করিলেন তখন তিনি বর্তমান নববধূর অপেক্ষা ভাবী নবকুমারের মুখ স্পষ্টতররূপে দেখিতে পাইয়াছিলেন। শুভদৃষ্টির সময় এতটা দূরদৃষ্টি প্রায় দেখা যায় না। তিনি পাকা লোক ছিলেন সেইজন্য প্রেমের চেয়ে পিণ্ডটাকেই অধিক বুঝিতেন এবং পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা এই মর্মেই তিনি বিনোদিনীকে বিবাহ করিয়াছিলেন।
কিন্তু এ সংসারে বিজ্ঞ লোকও ঠকে। যৌবনপ্রাপ্ত হইয়াও যখন বিনোদিনী তাহার সর্বপ্রধান কর্তব্যটি পালন করিল না তখন পুন্নাম নরকের দ্বারা খোলা দেখিয়া বৈদ্যনাথ বড়ো চিন্তিত হইলেন। মৃত্যুর পরে তাঁহার বিপুল ঐশ্বর্যই বা কে ভোগ করিবে এই ভাবনায় মৃত্যুর পূর্বে তিনি সেই ঐশ্বর্য ভোগ করিতে বিমুখ হইলেন। পূর্বেই বলিয়াছি, বর্তমানের অপেক্ষা ভবিষ্যৎটাকেই তিনি সত্য বলিয়া জানিতেন।
আরো দেখুন
ভালোমানুষ
Stories
ছিঃ, আমি নেহাত ভালোমানুষ।
কুসমি বললে, কী যে তুমি বল তার ঠিক নেই। তুমি যে ভালোমানুষ সেও কি বলতে হবে। কে না জানে, তুমি ও পাড়ার লোটনগুণ্ডার দলের সর্দার নও। ভালোমানুষ তুমি বল কাকে।
আরো দেখুন