অতিথি
Stories
কাঁঠালিয়ার জমিদার মতিলালবাবু নৌকা করিয়া সপরিবারে স্বদেশে যাইতেছিলেন। পথের মধ্যে মধ্যাহ্নে নদীতীরের এক গঞ্জের নিকট নৌকা বাঁধিয়া পাকের আয়োজন করিতেছেন এমন সময় এক ব্রাহ্মণবালক আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, 'বাবু, তোমরা যাচ্ছ কোথায়?'
প্রশ্নকর্তার বয়স পনেরো-ষোলোর অধিক হইবে না।
আরো দেখুন
গল্প
Stories
ছেলেটির যেমনি কথা ফুটল অমনি সে বললে, 'গল্প বলো।'
দিদিমা বলতে শুরু করলেন, 'এক রাজপুত্তুর, কোটালের পুত্তুর, সদাগরের পুত্তুর--'
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
ইঁদুরের ভোজ
Stories
ছেলেরা বললে, ভারি অন্যায়, আমরা নতুন পণ্ডিতের কাছে কিছুতেই পড়ব না।
নতুন পণ্ডিতমশায় যিনি আসছেন তাঁর নাম কালীকুমার তর্কালঙ্কার।
আরো দেখুন
শেষের রাত্রি
Stories
'মাসি !'
'ঘুমোও,যতীন,রাত হল যে ।'
আরো দেখুন
সম্পত্তি-সমর্পণ
Stories
বৃন্দাবন কুণ্ড মহা ক্রুদ্ধ হইয়া আসিয়া তাহার বাপকে কহিল, "আমি এখনই চলিলাম।"
বাপ যজ্ঞনাথ কুণ্ড কহিলেন, "বেটা অকৃতজ্ঞ, ছেলেবেলা হইতে তোকে খাওয়াইতে পরাইতে যে ব্যয় হইয়াছে তাহার পরিশোধ করিবার নাম নাই, আবার তেজ দেখোনা।"
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন
জীবিত ও মৃত
Stories
রানীহাটের জমিদার শারদাশংকরবাবুদের বাড়ির বিধবা বধূটির পিতৃকুলে কেহ ছিল না; সকলেই একে একে মারা গিয়াছে। পতিকুলেও ঠিক আপনার বলিতে কেহ নাই, পতিও নাই পুত্রও নাই। একটি ভাশুরপো, শারদাশংকরের ছোটো ছেলেটি, সেই তাহার চক্ষের মণি। সে জন্মিবার পর তাহার মাতার বহুকাল ধরিয়া শক্ত পীড়া হইয়াছিল, সেইজন্য এই বিধবা কাকি কাদম্বিনীই তাহাকে মানুষ করিয়াছে। পরের ছেলে মানুষ করিলে তাহার প্রতি প্রাণের টান আরো যেন বেশি হয়, কারণ তাহার উপরে অধিকার থাকে না; তাহার উপরে কোনো সামাজিক দাবি নাই, কেবল স্নেহের দাবি-- কিন্তু কেবলমাত্র স্নেহ সমাজের সমক্ষে আপনার দাবি কোনো দলিল অনুসারে সপ্রমাণ করিতে পারে না এবং চাহেও না, কেবল অনিশ্চিত প্রাণের ধনটিকে দ্বিগুণ ব্যাকুলতার সহিত ভালোবাসে।
বিধবার সমস্ত রুদ্ধ প্রীতি এই ছেলেটির প্রতি সিঞ্চন করিয়া একদিন শ্রাবণের রাত্রে কাদম্বিনীর অকস্মাৎ মৃত্যু হইল। হঠাৎ কী কারণে তাহার হৃৎস্পন্দন স্তব্ধ হইয়া গেল-- সময় জগতের আর-সর্বত্রই চলিতে লাগিল, কেবল সেই স্নেহকাতর ক্ষুদ্র কোমল বক্ষটির ভিতর সময়ের ঘড়ির কল চিরকালের মতো বন্ধ হইয়া গেল।
আরো দেখুন
ভালোমানুষ
Stories
ছিঃ, আমি নেহাত ভালোমানুষ।
কুসমি বললে, কী যে তুমি বল তার ঠিক নেই। তুমি যে ভালোমানুষ সেও কি বলতে হবে। কে না জানে, তুমি ও পাড়ার লোটনগুণ্ডার দলের সর্দার নও। ভালোমানুষ তুমি বল কাকে।
আরো দেখুন
মালঞ্চ
Novels
পিঠের দিকে বালিশগুলো উঁচু-করা। নীরজা আধ-শোওয়া পড়ে আছে রোগ শয্যায়। পায়ের উপরে সাদা রেশমের চাদর টানা, যেন তৃতীয়ার ফিকে জ্যোৎস্না হালকা মেঘের তলায়। ফ্যাকাশে তার শাঁখের মতো রঙ, ঢিলে হয়ে পড়েছে চুড়ি, রোগা হাতে নীল শিরার রেখা, ঘনপক্ষ্ণ চোখের পল্লবে লেগেছে রোগের কালিমা।
মেঝে সাদা মারবেলে বাঁধানো, দেয়ালে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ছবি, ঘরে পালঙ্ক, একটি টিপাই, দুটি বেতের মোড়ার আর এক কোণে কাপড় ঝোলাবার আলনা ছাড়া অন্য কোনো আসবার নেই; এক কোণে পিতলের কলসীতে রজনীগন্ধার গুচ্ছ, তারই মৃদু গন্ধ বাঁধা পড়েছে ঘরের বন্ধ হাওয়ায়।
আরো দেখুন
মাছিতত্ত্ব
Verses
মাছিবংশেতে এল অদ্ভুত জ্ঞানী সে
          আজন্ম ধ্যানী সে।
      সাধনের মন্ত্র তাহার
          ভন্‌ভন্‌-ভন্‌ভন্‌কার।
    সংসারে দুই পাখা নিয়ে দুই পক্ষ--
      দক্ষিণ-বাম আর ভক্ষ্য-অভক্ষ্য--
কাঁপাতে কাঁপাতে পাখা সূক্ষ্ম অদৃশ্য
          দ্বৈতবিহীন হয় বিশ্ব।
      সুগন্ধ পচা-গন্ধের
          ভালো মন্দের
      ঘুচে যায় ভেদবোধ-বন্ধন;
          এক হয় পঙ্ক ও চন্দন।
অঘোরপন্থ সে যে শবাসন-সাধনায়
    ইঁদুর কুকুর হোক কিছুতেই বাধা নাই--
          বসে রয় স্তব্ধ,
    মৌনী সে একমনা নাহি করে শব্দ।
ইড়া পিঙ্গলা বেয়ে অদৃশ্য দীপ্তি
          ব্রহ্মরন্ধে# বহি তৃপ্তি।
    লোপ পেয়ে যায় তার আছিত্ব,
             ভুলে যায় মাছিত্ব।
মন তার বিজ্ঞাননিষ্ঠ;
       মানুষের বক্ষ বা পৃষ্ঠ
  কিংবা তাহার নাসিকান্ত
       তাই নিয়ে গবেষণা চলে অক্লান্ত--
  বার বার তাড়া খায়, গাল খায়, তবুও
       হার না মানিতে চায় কভু ও।
পৃথক করে না কভু ইষ্ট অনিষ্ট,
          জ্যেষ্ঠ কনিষ্ঠ;
  সমবুদ্ধিতে দেখে শ্রেষ্ঠ নিকৃষ্ট।
       সংকোচহীন তার বিজ্ঞানী ধাত;
             পক্ষে বহন করে অপক্ষপাত।
       এদের ভাষায় "ছি ছি',
  শৌখিন রুচি নিয়ে খুতখুত নেই মিছিমিছি।
অকারণ সন্ধানে মন তার গিয়াছে;
    কেবলই ঘুরিয়া দেখে কোথায় যে কী আছে।
       বিশ্রামী বলদের পিঠে করে মনোযোগ
           রসের রহস্যের যদি পায় কোনো যোগ,
               ল্যাজের ঝাপট লাগে পলকেই পলকেই,
                   বাধাহীন সাধনার ফল পায় বলো কে-ই!
      চারি দিকে মানবের বিষম অহংকার,
তারই মাঝে থেকে মনে লেশ নেই শঙ্কার।
      আকাশবিহারী তার গতিনৈপুণ্যেই
         সকল চপেটাঘাত উড়ে যায় শূন্যেই।
             এই তার বিজ্ঞানী কৌশল,
      স্পর্শ করে না তারে শত্রুর মৌশল।
মানুষের মারণের লক্ষ্য
      ক্ষিপ্র এড়ায়ে যায় নির্ভয়পক্ষ।
নাই লাজ, নাই ঘৃণা, নাই ভয়--
      কর্দমে নর্দমা-বিহারীর জয়।
         ভন্‌-ভন্‌-ভন্‌কার
      আকাশেতে ওঠে তার ধ্বনি জয়ডঙ্কার।
মানবশিশুরে বলি, দেখো দৃষ্টান্ত--
         বার বার তাড়া খেয়ো, নাহি হোয়ো ক্ষান্ত।
অদৃষ্ট মার দেয় অলক্ষ্যে পশ্চাৎ
         কখন অকস্মাৎ--
    তবু মনে রেখো নির্বন্ধ,
         সুযোগের পেলে নামগন্ধ
    চ'ড়ে ব'সো অপরের নিরুপায় পৃষ্ঠ,
         ক'রো তারে বিষম অতিষ্ঠ।
    সার্থক হতে চাও জীবনে,
         কী শহরে, কী বনে,
    পাঠ লহ প্রয়োজনসিদ্ধের
         বিরক্ত করবার অদম্য বিদ্যের--
নিত্য কানের কাছে ভন্‌ভন্‌ ভন্‌ভন্‌
         লুব্ধের অপ্রতিহত অবলম্বন।
আরো দেখুন
175
Verses
DEATH LAUGHS when the merit of the dead is exaggerated
for it swells his store with more than he can claim.
আরো দেখুন
নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন