একরাত্রি
Stories
সুরবালার সঙ্গে একত্রে পাঠশালায় গিয়াছি, বউ-বউ খেলিয়াছি। তাহাদের বাড়িতে গেলে সুরবালার মা আমাকে বড় যত্ন করিতেন এবং আমাদের দুইজনকে একত্র করিয়া  আপনা-আপনি বলাবলি করিতেন,'আহা দুটিতে বেশ মানায়।'
ছোট ছিলাম কিন্তু কথাটার অর্থ একরকম বুঝতে পারিতাম। সুরবালার প্রতি যে সর্বসাধারণের অপেক্ষা আমার কিছু বিশেষ দাবি ছিল, সে ধারণা আমার মনে বদ্ধমূল হইয়া গিয়াছিল। সেই অধিকারমদে মত্ত হইয়া তাহার প্রতি যে আমি শাসন এবং উপদ্রব না করিতাম তাহা নহে। সেও সহিষ্ণুভাবে আমার সকলরকম  ফরমাশ খাটিত এবং শাস্তি বহন করিত। পাড়ায় তাহার রূপের প্রশংসা ছিল, কিন্তু বর্বর বালকের চক্ষে সে সৌন্দর্যের কোনো গৌরব ছিল না-- আমি কেবল জানিতাম, সুরবালা আমারই প্রভুত্ব স্বীকার করিবার জন্য পিতৃগৃহে জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, এইজন্য সে আমার বিশেষরূপ অবহেলার পাত্র।
আরো দেখুন
69
Verses
III. 2. jo khoda masjid vasat hai
IF GOD BE within the mosque, then to whom does this world belong?
If Ram be within the image which you find upon your pilgrimage, then who is there to know what happens without?
Hari is in the East: Allah is in the West. Look within your heart, for there you will find both Karim and Ram;
All the men and women of the world are His living forms.
Kabir is the child of Allah and of Ram: He is my Guru, He is my Pir.
আরো দেখুন
দুরাশা
Stories
দার্জিলিঙে গিয়া দেখিলাম, মেঘে বৃষ্টিতে দশ দিক আচ্ছন্ন। ঘরের বাহির হইতে ইচ্ছা হয় না, ঘরের মধ্যে থাকিতে আরো অনিচ্ছা জন্মে।
হোটেলে প্রাতঃকালের আহার সমাধা করিয়া পায়ে মোটা বুট এবং আপাদমস্তক ম্যাকিন্টশ পরিয়া বেড়াইতে বাহির হইয়াছি। ক্ষণে ক্ষণে টিপ্‌ টিপ্‌ করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছে এবং সর্বত্র ঘন মেঘের কুজ্ঝটিকায় মনে হইতেছে, যেন বিধাতা হিমালয়পর্বতসুদ্ধ সমস্ত বিশ্বচিত্র রবার দিয়া ঘষিয়া ঘষিয়া মুছিয়া ফেলিবার উপক্রম করিয়াছেন।
আরো দেখুন
উদ্ধার
Stories
গৌরী প্রাচীন ধনীবংশের পরমাদরে পালিতা সুন্দরী কন্যা। স্বামী পরেশ হীনাবস্থা হইতে সম্প্রতি নিজের উপার্জনে কিঞ্চিৎ অবস্থার উন্নতি করিয়াছে; যতদিন তাঁহার দৈন্য ছিল ততদিন কন্যার কষ্ট হইবে ভয়ে শ্বশুর শাশুড়ি স্ত্রীকে তাঁহার বাড়িতে পাঠান নাই। গৌরী বেশ-একটু বয়স্থা হইয়াই পতিগৃহে আসিয়াছিল।
বোধ করি এই-সকল কারণেই পরেশ সুন্দরী যুবতী স্ত্রীকে সম্পূর্ণ নিজের আয়ত্তগম্য বলিয়া বোধ করিতেন না এবং বোধ করি সন্দিগ্ধ স্বভাব তাঁহার একটা ব্যাধির মধ্যে।
আরো দেখুন
মণিহারা
Stories
সেই জীর্ণপ্রায় বাঁধাঘাটের ধারে আমার বোট লাগানো ছিল। তখন সূর্য অস্ত গিয়াছে।
বোটের ছাদের উপরে মাঝি নমাজ পড়িতেছে। পশ্চিমের জ্বলন্ত আকাশপটে তাহার নীরব উপাসনা ক্ষণে ক্ষণে ছবির মতো আঁকা পড়িতেছিল। স্থির রেখাহীন নদীর জলের উপর ভাষাতীত অসংখ্য বর্ণচ্ছটা দেখিতে দেখিতে ফিকা হইতে গাঢ় লেখায়, সোনার রঙ হইতে ইস্পাতের রঙে, এক আভা হইতে আর-এক আভায় মিলাইয়া আসিতেছিল।
আরো দেখুন
মৃত্যুর পরে
Verses
আজিকে হয়েছে শান্তি,
জীবনের ভুলভ্রান্তি
  সব গেছে চুকে।
রাত্রিদিনধুক্‌ধুক্‌
তরঙ্গিত দুঃখসুখ
  থামিয়াছে বুকে।
যত কিছু ভালোমন্দ
যত কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব
  কিছু আর নাই।
বলো শান্তি, বলো শান্তি,
দেহসাথে সব ক্লান্তি
  হয়ে যাক ছাই।
গুঞ্জরি করুক তান
ধীরে ধীরে করো গান
  বসিয়া শিয়রে।
যদি কোথা থাকে লেশ
জীবনস্বপ্নের শেষ
  তাও যাক মরে।
তুলিয়া অঞ্চলখানি
মুখ-'পরে দাও টানি,
  ঢেকে দাও দেহ।
করুণ মরণ যথা
ঢাকিয়াছে সব ব্যথা
  সকল সন্দেহ।
বিশ্বের আলোক যত
দিগ্‌বিদিকে অবিরত
  যাইতেছে বয়ে,
শুধু ওই আঁখি-'পরে
নামে তাহা স্নেহভরে
  অন্ধকার হয়ে।
জগতের তন্ত্রীরাজি
দিনে উচ্চে উঠে বাজি,
  রাত্রে চুপে চুপে
সে শব্দ তাহার 'পরে
চুম্বনের মতো পড়ে
  নীরবতারূপে।
মিছে আনিয়াছ আজি
বসন্তকুসুমরাজি
  দিতে উপহার।
নীরবে আকুল চোখে
ফেলিতেছ বৃথা শোকে
  নয়নাশ্রুধার।
ছিলে যারা রোষভরে
বৃথা এতদিন পরে
  করিছ মার্জনা।
অসীম নিস্তব্ধ দেশে
চিররাত্রি পেয়েছে সে
  অনন্ত সান্ত্বনা।
গিয়েছে কি আছে বসে
জাগিল কি ঘুমাল সে
  কে দিবে উত্তর।
পৃথিবীর শ্রান্তি তারে
ত্যজিল কি একেবারে
  জীবনের জ্বর!
এখনি কি দুঃখসুখে
কর্মপথ-অভিমুখে
  চলেছে আবার।
অস্তিত্বের চক্রতলে
একবার বাঁধা প'লে
  পায় কি নিস্তার।
বসিয়া আপন দ্বারে
ভালোমন্দ বলো তারে
  যাহা ইচ্ছা তাই।
অনন্ত জনমমাঝে
গেছে সে অনন্ত কাজে,
  সে আর সে নাই।
আর পরিচিত মুখে
তোমাদের দুখে সুখে
  আসিবে না ফিরে।
তবে তার কথা থাক্‌,
যে গেছে সে চলে যাক
  বিস্মৃতির তীরে।
জানি না কিসের তরে
যে যাহার কাজ করে
  সংসারে আসিয়া,
ভালোমন্দ শেষ করি
যায় জীর্ণ জন্মতরী
  কোথায় ভাসিয়া।
দিয়ে যায় যত যাহা
রাখো তাহা ফেলো তাহা
  যা ইচ্ছা তোমার।
সে তো নহে বেচাকেনা--
ফিরিবে না, ফেরাবে না
  জন্ম-উপহার।
কেন এই আনাগোনা,
কেন মিছে দেখাশোনা
  দু-দিনের তরে,
কেন বুকভরা আশা,
কেন এত ভালোবাসা
  অন্তরে অন্তরে,
আয়ু যার এতটুক,
এত দুঃখ এত সুখ
  কেন তার মাঝে,
অকস্মাৎ এ সংসারে
কে বাঁধিয়া দিল তারে
  শত লক্ষ কাজে--
হেথায় যে অসম্পূর্ণ,
সহস্র আঘাতে চূর্ণ
  বিদীর্ণ বিকৃত,
কোথাও কি একবার
সম্পূর্ণতা আছে তার
  জীবিত কি মৃত,
জীবনে যা প্রতিদিন
ছিল মিথ্যা অর্থহীন
  ছিন্ন ছড়াছড়ি
মৃত্যু কি ভরিয়া সাজি
তারে গাঁথিয়াছে আজি
  অর্থপূর্ণ করি--
হেথা যারে মনে হয়
শুধু বিফলতাময়
  অনিত্য চঞ্চল
সেথায় কি চুপে চুপে
অপূর্ব নূতন রূপে
  হয় সে সফল--
চিরকাল এই-সব
রহস্য আছে নীরব
  রুদ্ধ-ওষ্ঠাধর।
জন্মান্তের নবপ্রাতে
সে হয়তো আপনাতে
  পেয়েছে উত্তর।
সে হয়তো দেখিয়াছে
পড়ে যাহা ছিল পাছে
  আজি তাহা আগে,
ছোটো যাহা চিরদিন
ছিল অন্ধকারে লীন
  বড়ো হয়ে জাগে।
যেথায় ঘৃণার সাথে
মানুষ আপন হাতে
  লেপিয়াছে কালি
নূতন নিয়মে সেথা
জ্যোতির্ময় উজ্জ্বলতা
  কে দিয়াছে জ্বালি।
কত শিক্ষা পৃথিবীর
খসে পড়ে জীর্ণচীর
  জীবনের সনে,
সংসারের লজ্জাভয়
নিমেষেতে দগ্ধ হয়
  চিতাহুতাশনে।
সকল অভ্যাস-ছাড়া
সর্ব-আবরণ-হারা
  সদ্যশিশুসম
নগ্নমূর্তি মরণের
নিষ্কলঙ্ক চরণের
  সম্মুখে প্রণমো।
আপন মনের মতো
সংকীর্ণ বিচার যত
  রেখে দাও আজ।
ভুলে যাও কিছুক্ষণ
প্রত্যহের আয়োজন,
  সংসারের কাজ।
আজি ক্ষণেকের তরে
বসি বাতায়ন-'পরে
  বাহিরেতে চাহো।
অসীম আকাশ হতে
বহিয়া আসুক স্রোতে
  বৃহৎ প্রবাহ।
উঠিছে ঝিল্লির গান,
তরুর মর্মরতান,
  নদীকলস্বর--
প্রহরের আনাগোনা
যেন রাত্রে যায় শোনা
  আকাশের 'পর।
উঠিতেছে চরাচরে
অনাদি অনন্ত স্বরে
  সংগীত উদার--
সে নিত্য-গানের সনে
মিশাইয়া লহো মনে
  জীবন তাহার।
ব্যাপিয়া সমস্ত বিশ্বে
দেখো তারে সর্বদৃশ্যে
  বৃহৎ করিয়া।
জীবনের ধূলি ধুয়ে
দেখো তারে দূরে থুয়ে
  সম্মুখে ধরিয়া।
পলে পলে দণ্ডে দণ্ডে
ভাগ করি খণ্ডে খণ্ডে
  মাপিয়ো না তারে।
থাক্‌ তব ক্ষুদ্র মাপ
ক্ষুদ্র পুণ্য ক্ষুদ্র পাপ
  সংসারের পারে।
আজ বাদে কাল যারে
ভুলে যাবে একেবারে
  পরের মতন
তারে লয়ে আজি কেন
বিচার-বিরোধ হেন,
  এত আলাপন।
যে বিশ্ব কোলের 'পরে
চিরদিবসের তরে
  তুলে নিল তারে
তার মুখে শব্দ নাহি,
প্রশান্ত সে আছে চাহি
  ঢাকি আপনারে।
বৃথা তারে প্রশ্ন করি,
বৃথা তার পায়ে ধরি,
  বৃথা মরি কেঁদে,
খুঁজে ফিরি অশ্রুজলে--
কোন্‌ অঞ্চলের তলে
  নিয়েছে সে বেঁধে।
ছুটিয়া মৃত্যুর পিছে,
ফিরে নিতে চাহি মিছে,
  সে কি আমাদের?
পলেক বিচ্ছেদে হায়
তখনি তো বুঝা যায়
  সে যে অনন্তের।
চক্ষের আড়ালে তাই
কত ভয় সংখ্যা নাই,
  সহস্র ভাবনা।
মুহূর্ত মিলন হলে
টেনে নিই বুকে কোলে,
  অতৃপ্ত কামনা।
পার্শ্বে বসে ধরি মুঠি,
শব্দমাত্রে কেঁপে উঠি,
  চাহি চারিভিতে,
অনন্তের ধনটিরে
আপনার বুক চিরে
  চাহি লুকাইতে।
হায় রে নির্বোধ নর,
কোথা তোর আছে ঘর,
  কোথা তোর স্থান।
শুধু তোর ওইটুকু
অতিশয় ক্ষুদ্র বুক
  ভয়ে কম্পমান।
ঊর্ধ্বে ওই দেখ্‌ চেয়ে
সমস্ত আকাশ ছেয়ে
  অনন্তের দেশ--
সে যখন এক ধারে
লুকায়ে রাখিবে তারে
  পাবি কি উদ্দেশ?
ওই হেরো সীমাহারা
গগনেতে গ্রহতারা
  অসংখ্য জগৎ,
ওরি মাঝে পরিভ্রান্ত
হয়তো সে একা পান্থ
  খুঁজিতেছে পথ।
ওই দূর-দূরান্তরে
অজ্ঞাত ভুবন-'পরে
  কভু কোনোখানে
আর কি গো দেখা হবে,
আর কি সে কথা কবে,
  কেহ নাহি জানে।
যা হবার তাই হোক,
ঘুচে যাক সর্ব শোক,
  সর্ব মরীচিকা।
নিবে যাক চিরদিন
পরিশ্রান্ত পরিক্ষীণ
  মর্তজন্মশিখা।
সব তর্ক হোক শেষ,
সব রাগ সব দ্বেষ,
  সকল বালাই।
বলো শান্তি, বলো শান্তি,
দেহ-সাথে সব ক্লান্তি
  পুড়ে হোক ছাই।
আরো দেখুন
রাজপথের কথা
Stories
আমি রাজপথ। অহল্যা যেমন মুনির শাপে পাষাণ হইয়া পড়িয়া ছিল, আমিও যেন তেমনি কাহার শাপে চিরনিদ্রিত সুদীর্ঘ অজগর সর্পের ন্যায় অরণ্যপর্বতের মধ্য দিয়া, বৃক্ষশ্রেণীর ছায়া দিয়া, সুবিস্তীর্ণ প্রান্তরের বক্ষের উপর দিয়া দেশদেশান্তর বেষ্টন করিয়া বহুদিন ধরিয়া জড়শয়নে শয়ান রহিয়াছি। অসীম ধৈর্যের সহিত ধুলায় লুটাইয়া শাপান্তকালের জন্য প্রতীক্ষা করিয়া আছি। আমি চিরদিন স্থির অবিচল, চিরদিন একই ভাবে শুইয়া আছি, কিন্তু তবুও আমার এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্রাম নাই। এতটুকু বিশ্রাম নাই যে, আমার এই কঠিন শুষ্ক শয্যার উপরে একটিমাত্র কচি স্নিগ্ধ শ্যামল ঘাস উঠাইতে পারি; এতটুকু সময় নাই যে, আমার শিয়রের কাছে অতি ক্ষুদ্র একটি নীলবর্ণের বনফুল ফুটাইতে পারি। কথা কহিতে পারি না, অথচ অন্ধভাবে সকলই অনুভব করিতেছি। রাত্রিদিন পদশব্দ; কেবলই পদশব্দ। আমার এই গভীর জড়-নিদ্রার মধ্যে লক্ষ লক্ষ চরণের শব্দ অহর্নিশ দুঃস্বপ্নের ন্যায় আবর্তিত হইতেছে। আমি চরণের স্পর্শে হৃদয় পাঠ করিতে পারি। আমি বুঝিতে পারি, কে গৃহে যাইতেছে, কে বিদেশে যাইতেছে, কে কাজে যাইতেছে, কে বিশ্রামে যাইতেছে, কে উৎসবে যাইতেছে, কে শ্মশানে যাইতেছে। যাহার সুখের সংসার আছে, স্নেহের ছায়া আছে, সে প্রতি পদক্ষেপে সুখের ছবি আঁকিয়া আঁকিয়া চলে; সে প্রতি পদক্ষেপে মাটিতে আশার বীজ রোপিয়া রোপিয়া যায়, মনে হয় যেখানে যেখানে তাহার পা পড়িয়াছে, সেখানে যেন মুহূর্তের মধ্যে এক-একটি করিয়া লতা অঙ্কুরিত পুষ্পিত হইয়া উঠিবে। যাহার গৃহ নাই আশ্রয় নাই, তাহার পদক্ষেপের মধ্যে আশা নাই অর্থ নাই, তাহার পদক্ষেপের দক্ষিণ নাই, বাম নাই, তাহার চরণ যেন বলিতে থাকে, আমি চলিই বা কেন থামিই বা কেন, তাহার পদক্ষেপে আমার শুষ্ক ধূলি যেন আরো শুকাইয়া যায়।
পৃথিবীর কোনো কাহিনী আমি সম্পূর্ণ শুনিতে পাই না। আজ শত শত বৎসর ধরিয়া আমি কত লক্ষ লোকের কত হাসি কত গান কত কথা শুনিয়া আসিতেছি; কিন্তু কেবল খানিকটা মাত্র শুনিতে পাই। বাকিটুকু শুনিবার জন্য যখন আমি কান পাতিয়া থাকি, তখন দেখি সে লোক আর নাই। এমন কত বৎসরের কত ভাঙা কথা ভাঙা গান আমার ধূলির সহিত ধূলি হইয়া গেছে, আমার ধূলির সহিত উড়িয়া বেড়ায়, তাহা কি কেহ জানিতে পায়। ঐ শুন, একজন গাহিল, 'তারে বলি বলি আর বলা হল না।' -- আহা, একটু দাঁড়াও, গানটা শেষ করিয়া যাও, সব কথাটা শুনি। কই আর দাঁড়াইল। গাহিতে গাহিতে কোথায় চলিয়া গেল, শেষটা শোনা গেল না। ঐ একটিমাত্র পদ অর্ধেক রাত্রি ধরিয়া আমার কানে ধ্বনিত হইতে থাকিবে। মনে মনে ভাবিব, ও কে গেল। কোথায় যাইতেছে না জানি। যে কথাটা বলা হইল না, তাহাই কি আবার বলিতে যাইতেছে। এবার যখন পথে আবার দেখা হইবে, সে যখন মুখ তুলিয়া ইহার মুখের দিকে চাহিবে, তখন বলি বলি করিয়া আবার যদি বলা না হয়। তখন নত শির করিয়া মুখ ফিরাইয়া অতি ধীরে ধীরে ফিরিয়া আসিবার সময় আবার যদি গায় 'তারে বলি বলি আর বলা হল না'।
আরো দেখুন