তারাপ্রসন্নের কীর্তি
Stories
লেখকজাতির প্রকৃতি অনুসারে তারাপ্রসন্ন কিছু লাজুক এবং মুখচোরা ছিলেন। লোকের কাছে বাহির হইতে গেলে তাঁহার সর্বনাশ উপস্থিত হইত। ঘরে বসিয়া কলম চালাইয়া তাঁহার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, পিঠ একটু কুঁজা, সংসারের অভিজ্ঞতা অতি অল্প। লৌকিকতার বাঁধি বোলসকল সহজে তাঁহার মুখে আসিত না, এইজন্য গৃহদুর্গের বাহিরে তিনি আপনাকে কিছুতেই নিরাপদ মনে করিতেন না।
লোকেও তাঁহাকে একটা উজবুক রকমের মনে করিত এবং লোকেরও দোষ দেওয়া যায় না। মনে করো, প্রথম পরিচয়ে একটি পরম ভদ্রলোক উচ্ছ্বসিত কন্ঠে তারাপ্রসন্নকে বলিলেন, "মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হয়ে যে কী পর্যন্ত আনন্দ লাভ করা গেল, তা একমুখে বলতে পারি নে"-- তারাপ্রসন্ন নিরুত্তর হইয়া নিজের দক্ষিণ করতল বিশেষ মনোযোগপূর্বক নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। হঠাৎ সে নীরবতার অর্থ এইরূপ মনে হয়, "তা, তোমার আনন্দ হয়েছে সেটা খুব সম্ভব বটে, কিন্তু আমার-যে আনন্দ হয়েছে এমন মিথ্যা কথাটা কী করে মুখে উচ্চারণ করব তাই ভাবছি।"
আরো দেখুন
The Parrot`s Training
Stories
ONCE UPON A time there was a bird. It was ignorant. It sang all right, but never recited scriptures. It hopped pretty frequently, but lacked manners.
Said the Raja to himself: ‘Ignorance is costly in the long run. For fools consume as much food as their betters, and yet give nothing in return.’
আরো দেখুন
যেন শেষ গানে মোর
Verses
       যেন  শেষ গানে মোর সব রাগিণী পূরে--
       আমার      সব আনন্দ মেলে তাহার সুরে।
                    যে আনন্দে মাটির ধরা হাসে
                    অধীর হয়ে তরুলতায় ঘাসে,
                    যে আনন্দে দুই পাগলের মতো
                           জীবন-মরণ বেড়ায় ভুবন ঘুরে--
                           সেই আনন্দ মেলে তাহার সুরে।
       যে আনন্দ আসে ঝড়ের বেশে,
       ঘুমন্ত প্রাণ জাগায় অট্ট হেসে।
              যে আনন্দ দাঁড়ায় আঁখিজলে
              দুঃখ-ব্যথার রক্তশতদলে,
              যা আছে সব ধুলায় ফেলে দিয়ে
                    যে আনন্দে বচন নাহি ফুরে
                    সেই আনন্দ মেলে তাহার সুরে।
আরো দেখুন
এ পথে আমি-যে
Songs
এ পথে আমি-যে গেছি বার বার, ভুলি নি তো এক দিনও।
আজ কি ঘুচিল চিহ্ন তাহার, উঠিল বনের তৃণ॥
তবু মনে মনে জানি নাই ভয়,   অনুকূল বায়ু সহসা যে বয়--
          চিনিব তোমায় আসিবে সময়,   তুমি যে আমায় চিন॥
একেলা যেতাম যে প্রদীপ হাতে নিবেছে তাহার শিখা।
তবু জানি মনে তারার ভাষাতে ঠিকানা রয়েছে লিখা।
পথের ধারেতে ফুটিল যে ফুল   জানি জানি তারা ভেঙে দেবে ভুল--
          গন্ধে তাদের গোপন মৃদুল   সঙ্কেত আছে লীন॥
আরো দেখুন
বাণী
Stories
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে আকাশের মেঘ নামে, মাটির কাছে ধরা দেবে ব'লে। তেমনি কোথা থেকে মেয়েরা আসে পৃথিবীতে বাঁধা পড়তে।
তাদের জন্য অল্প জায়গার জগৎ, অল্প মানুষের। ঐটুকুর মধ্যে আপনার সবটাকে ধরানো চাই-- আপনার সব কথা, সব ব্যথা, সব ভাবনা। তাই তাদের মাথায় কাপড়, হাতে কাঁকন, আঙিনায় বেড়া। মেয়েরা হল সীমাস্বর্গের ইন্দ্রাণী।
আরো দেখুন
গুপ্ত প্রেম
Verses
         তবে  পরানে ভালোবাসা কেন গো দিলে
                রূপ না দিলে যদি বিধি হে!
         পূজার তরে হিয়া            উঠে যে ব্যাকুলিয়া,
                পূজিব তারে গিয়া কী দিয়ে!
       মনে    গোপনে থাকে প্রেম, যায় না দেখা,
                কুসুম দেয় তাই দেবতায়।
         দাঁড়ায়ে থাকি দ্বারে,         চাহিয়া দেখি তারে,
                কী ব'লে আপনারে দিব তায়?
       ভালো  বাসিলে ভালো যারে দেখিতে হয়
                সে যেন পারে ভালো বাসিতে।
         মধুর হাসি তার             দিক সে উপহার
                মাধুরী ফুটে যার হাসিতে।
       যার   নবনীসুকুমার কপোলতল
                কী শোভা পায় প্রেমলাজে গো!
         যাহার ঢলঢল                 নয়নশতদল
                তারেই আঁখিজল সাজে গো।
       তাই    লুকায়ে থাকি সদা পাছে সে দেখে,
                ভালোবাসিতে মরি শরমে।
         রুধিয়া মনোদ্বার          প্রেমের কারাগার
                রচেছি আপনার মরমে।
       আহা    এ তনু-আবরণ শ্রীহীন ম্লান
                ঝরিয়া পড়ে যদি শুকায়ে,
         হৃদয়মাঝে মম           দেবতা মনোরম
                মাধুরী নিরুপম লুকায়ে।
যত   গোপনে ভালোবাসি পরান ভরি
                পরান ভরি উঠে শোভাতে--
         যেমন কালো মেঘে         অরুণ-আলো লেগে
                মাধুরী উঠে জেগে প্রভাতে।
       আমি    সে শোভা কাহারে তো দেখাতে নারি,
                এ পোড়া দেহ সবে দেখে যায়--
         প্রেম যে চুপে চুপে           ফুটিতে চাহে রূপে,
                মনেরই অন্ধকূপে থেকে যায়।
       দেখো  বনের ভালোবাসা আঁধারে বসি
                কুসুমে আপনারে বিকাশে,
         তারকা নিজ হিয়া           তুলিছে উজলিয়া
                আপন আলো দিয়া লিখা সে।
       ভবে    প্রেমের আঁখি প্রেম কাড়িতে চাহে,
                মোহন রূপ তাই ধরিছে।
         আমি  যে আপনায়          ফুটাতে পারি নাই,
                পরান কেঁদে তাই মরিছে।
       আমি    আপন মধুরতা আপনি জানি
                পরানে আছে যাহা জাগিয়া,
         তাহারে লয়ে সেথা        দেখাতে পারিলে তা
                যেত এ ব্যাকুলতা ভাগিয়া।
       আমি    রূপসী নহি, তবু আমারো মনে
                প্রেমের রূপ সে তো সুমধুর।
         ধন সে যতনের                 শয়ন-স্বপনের,
                করে সে জীবনের তমোদূর।
আমি    আমার অপমান সহিতে পারি
                প্রেমের সহে না তো অপমান।
         অমরাবতী ত্যেজে          হৃদয়ে এসেছে যে,
                তাহারো চেয়ে সে যে মহীয়ান।
       পাছে    কুরূপ কভু তারে দেখিতে হয়
                কুরূপ দেহ-মাঝে উদিয়া,
         প্রাণের এক ধারে             দেহের পরপারে
                তাই তো রাখি তারে রুধিয়া।
       তাই    আঁখিতে প্রকাশিতে চাহি নে তারে,
                নীরবে থাকে তাই রসনা।
         মুখে সে চাহে যত             নয়ন করি নত,
                গোপনে মরে কত বাসনা।
       তাই    যদি সে কাছে আসে পালাই দূরে,
                আপন মনো-আশা দলে যাই,
         পাছে সে মোরে দেখে         থমকি বলে "এ কে!"
                দু-হাতে মুখ ঢেকে চলে যাই।
       পাছে    নয়নে বচনে সে বুঝিতে পারে
                আমার জীবনের কাহিনী--
         পাছে সে মনে ভানে,        "এও কি প্রেম জানে!
                আমি তো এর পানে চাহি নি!"
       তবে    পরানে ভালোবাসা কেন গো দিলে
                রূপ না দিলে যদি বিধি হে!
         পূজার তরে হিয়া          উঠে যে ব্যাকুলিয়া,
                পূজিব তারে গিয়া কী দিয়ে!
আরো দেখুন
বাচস্পতি
Stories
দাদামশায়, তুমি তোমার চার দিকে যেসব পাগলের দল জমিয়েছিলে, গুণ হিসেব ক'রে তাদের বুঝি সব নম্বর দিয়ে রেখেছিলে?
হ্যাঁ, তা করতে হয়েছে বই-কি। কম তো জমে নি।
আরো দেখুন
বিদূষক
Stories
কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনামানিকে হাতি বোঝাই হল।
দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন।
আরো দেখুন
সদর ও অন্দর
Stories
বিপিনকিশোর ধনীগৃহে জন্মিয়াছিলেন, সেইজন্যে ধন যে পরিমাণে ব্যয় করিতে জানিতেন তাহার অর্ধেক পরিমাণেও উপার্জন করিতে শেখেন নাই। সুতরাং যে গৃহে জন্ম সে গৃহে দীর্ঘকাল বাস করা ঘটিল না।
সুন্দর সুকুমারমূর্তি তরুণ যুবক, গানবাজনায় সিদ্ধহস্ত, কাজকর্মে নিরতিশয় অপটু; সংসারের পক্ষে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। জীবনযাত্রার পক্ষে জগন্নাথদেবের রথের মতো অচল; যেরূপ বিপুল আয়োজনে চলিতে পারেন সেরূপ আয়োজন সম্প্রতি বিপিনকিশোরের আয়ত্তাতীত।
আরো দেখুন