The Victory
Stories
SHE WAS THE Princess Ajita. And the court poet of King Narayan had never seen her. On the day he recited a new poem to the king he would raise his voice just to that pitch which could be heard by unseen hearers in the screened balcony high above the hall. He sent up his song towards the star-land out of his reach, where, circled with light, the planet who ruled his destiny shone unknown and out of ken.
He would espy some shadow moving behind the veil. A tinkling sound would come to his ear from afar, and would set him dreaming of the ankles whose tiny golden bells sang at each step. Ah, the rosy red tender feet that walked the dust of the earth like God's mercy on the fallen! The poet had placed them on the altar of his heart, where he wove his songs to the tune of those golden bells. Doubt never arose in his mind as to whose shadow it was that moved behind the screen, and whose anklets they were that sang to the time of his beating heart.
আরো দেখুন
দিদি
Stories
পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, 'এমন স্বামীর মুখে আগুন।'
শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিলেন-- স্বামীজাতির মুখে চুরটের আগুন ছাড়া অন্য কোনো প্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না।
আরো দেখুন
ঘাসি কামারের বাড়ি সাঁড়া
Verses
ঘাসি কামারের বাড়ি      সাঁড়া,
গড়েছে মন্ত্রপড়া           খাঁড়া।
         খাপ থেকে বেরিয়ে সে
         উঠেছে অট্টহেসে;
কামার পালায় যত
            বলে, 'দাঁড়া দাঁড়া।'
দিনরাত দেয় তার
            নাড়ীটাতে নাড়া।
আরো দেখুন
এ কী আনন্দ
Songs
         এ কী আনন্দ, আহা--
হৃদয়ে দেহে ঘুচালে মম সকল বন্ধ।
দুঃখ আমার আজি হল যে ধন্য,
মৃত্যুগহনে লাগে অমৃতসুগন্ধ।
          এলে কারাগারে
          রজনীর পারে উষাসম
মুক্তিরূপা অয়ি লক্ষ্ণী দয়াময়ী।
আরো দেখুন
পুনরাবৃত্তি
Stories
সেদিন যুদ্ধের খবর ভালো ছিল না। রাজা বিমর্ষ হয়ে বাগানে বেড়াতে গেলেন।
দেখতে পেলেন, প্রাচীরের কাছে গাছতলায় বসে খেলা করছে একটি ছোটো ছেলে আর একটি ছোটো মেয়ে।
আরো দেখুন
এসো হে এসো, সজল ঘন
Verses
এসো হে এসো, সজল ঘন,
       বাদলবরিষনে--
বিপুল তব শ্যামল স্নেহে
       এসো হে এ জীবনে।
                    এসো হে গিরিশিখর চুমি,
                    ছায়ায় ঘিরি কাননভূমি--
                    গগন ছেয়ে এসো হে তুমি
                           গভীর গরজনে।
ব্যথিয়ে উঠে নীপের বন
       পুলকভরা ফুলে।
উছলি উঠে কলরোদন
       নদীর কূলে কূলে।
                    এসো হে এসো হৃদয়ভরা,
                    এসো হে এসো পিপাসা-হরা,
                    এসো হে আঁখি-শীতল-করা
                           ঘনায়ে এসো মনে।
আরো দেখুন
শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর
Verses
       তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর,
       যবে আমার জনম হবে ভোর।
              চলে যাব নবজীবন-লোকে,
              নূতন দেখা জাগবে আমার চোখে,
              নবীন হয়ে নূতন সে আলোকে
                    পরব তব নবমিলন-ডোর।
                    তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর।
       তোমার অন্ত নাই গো অন্ত নাই,
       বারে বারে নূতন লীলা তাই।
              আবার তুমি জানি নে কোন্‌ বেশে
              পথের মাঝে দাঁড়াবে, নাথ, হেসে,
              আমার এ হাত ধরবে কাছে এসে,
                    লাগবে প্রাণে নূতন ভাবের ঘোর।
                   তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর।
আরো দেখুন
মাল্যতত্ত্ব
Verses
        লাইব্রেরিঘর, টেবিল-ল্যাম্পো জ্বালা,--
    লেগেছি প্রুফ-করেক্‌শনে গলায় কুন্দমালা।
        ডেস্কে আছে দুই পা তোলা, বিজন ঘরে একা,
               এমন সময় নাতনি দিলেন দেখা।
সোনার কাঠির শিহরলাগা বিশবছরের বেগে
    আছেন কন্যা দেহে মনে পরিপূর্ণ জেগে।
           হঠাৎ পাশে আসি
    কটাক্ষেতে ছিটিয়ে দিল হাসি,
        বললে বাঁকা পরিহাসের ছলে
    "কোন্‌ সোহাগির বরণমালা পরেছ আজ গলে।"
একটু থেমে দ্বিধার ভানে নামিয়ে দিয়ে চোখ
    বলে দিলেম, "যেই বা সে-জন হোক
           বলব না তার নাম--
        কী জানি, ভাই, কী হয় পরিণাম।
    মানবধর্ম, ঈর্ষা বড়ো বালাই,
           একটুতে বুক জ্বালায়।"
বললে শুনে বিংশতিকা, "এই ছিল মোর ভালে--
           বুক ফেটে আজ মরব কি শেষকালে,
        কে কোথাকার তার উদ্দেশে করব রাগারাগি
    মালা দেওয়ার ভাগ নিয়ে কি, এমনি হতভাগি।"
আমি বললেম, "কেনই বা দাও লাজ,
               করোই-না আন্দাজ।"
        বলে উঠল, "জানি, জানি, ওই আমাদের ছবি,
                   আমারই বান্ধবী।
        একসঙ্গে পাস করেছি ব্রাহ্ম-গার্‌ল্‌-স্কুলে,
               তোমার নামে চোখ পড়ে তার ঢুলে।
        তোমারও তো দেখেছি ওর পানে
               মুগ্ধ আঁখি পক্ষপাতের কটাক্ষ সন্ধানে।"
আমি বললেম, "নাম যদি তার শুনবে নিতান্তই--
    আমাদের ওই জগা মালী, মৃদুস্বরে কই।"
        নাতনি বলে, "হায় কী দুরবস্থা,
    বয়স হয়ে গেছে ব'লেই কণ্ঠ এতই সস্তা।
        যে গলাটায় আমরা গলগ্রহ
    জগামালীর মালা সেথায় কোন্‌ লজ্জায় বহ।"
        আমি বললেম, "সত্য কথাই বলি,
    তরুণীদের করুণা সব দিলেম জলাঞ্জলি।
নেশার দিনের পারে এসে আজকে লাগে ভালো,
                   ওই যে কঠিন কালো।
        জগার আঙুল মালা যখন গাঁথে
    বোকা মনের একটা কিছু মেশায় তারই সাথে।
        তারই পরশ আমার দেহ পরশ করে যবে
           রস কিছু তার পাই যে অনুভবে।
        এ-সব কথা বলতে মানি ভয়
    তোমার মতো নব্যজনের পাছে মনে হয়--
               এ বাণী বস্তুত
    কেবলমাত্র উচ্চদরের উপদেশের ছুতো,
               ডাইডাক্‌টিক্‌ আখ্যা দিয়ে যারে
        নিন্দা করে নতুন অলংকারে।
           গা ছুঁয়ে তোর কই,
          কবিই আমি, উপদেষ্টা নই।
    বলি-পড়া বাকলওয়ালা বিদেশী ওই গাছে
        গন্ধবিহীন মুকুল ধরে আছে
    আঁকাবাঁকা ডালের ডগা ধূসর রঙে ছেয়ে--
যদি বলি ওটাই ভালো মাধবিকার চেয়ে,
    দোহাই তোমার কুরঙ্গনয়নী,
        ব্যঙ্গকুটিল দুর্বাক্য-চয়নী,
           ভেবো না গো, পূর্ণচন্দ্রমুখী,
        হরিজনের প্রপাগ্যাণ্ডা দিচ্ছে বুঝি উঁকি।
এতদিন তো ছন্দে-বাঁধা অনেক কলরবে
           অনেকরকম রঙ-চড়ানো স্তবে
        সুন্দরীদের জুগিয়ে এলেম মান--
    আজকে যদি বলি "আমার প্রাণ
জগামালীর মালায় পেল একটা কিছু খাঁটি',
        তাই নিয়ে কি চলবে ঝগড়াঝাঁটি।"
নাতনি কহেন, "ঠাট্টা করে উড়িয়ে দিচ্ছ কথা,
        আমার মনে সত্যি লাগায় ব্যথা।
    তোমার বয়স চারিদিকের বয়সখানা হতে
        চলে গেছে অনেক দূরের স্রোতে।
    একলা কাটাও ঝাপসা দিবসরাতি,
        নাইকো তোমার আপন দরের সাথি।
    জগামালীর মালাটা তাই আনে
        বর্তমানের অবজ্ঞাভার নীরস অসম্মানে।"
আমি বললেম, "দয়াময়ী, ওইটে তোমার ভুল,
        ওই কথাটায় নাইকো কোনো মূল।
           জান তুমি, ওই যে কালো মোষ
আমার হাতে রুটি খেয়ে মেনেছে মোর পোষ,
    মিনি-বেড়াল নয় বলে সে আছে কি তার দোষ।
           জগামালীর প্রাণে
    যে জিনিসটা অবুঝভাবে আমার দিকে টানে
           কী নাম দেব তার,
        একরকমের সেও অভিসার।
কিন্তু সেটা কাব্যকলায় হয় নি বরণীয়,
    সেই কারণেই কণ্ঠে আমার সমাদরণীয়।"
               নাতনি হেসে বলে,
               "কাব্যকথার ছলে
পকেট থেকে বেরোয় তোমার ভালো কথার থলি,
    ওটাই আমি অভ্যাসদোষ বলি।"
আমি বললেম, "যদি কোনোক্রমে
               জন্মগ্রহের ভ্রমে
ভালো যেটা সেটাই আমার ভালো লাগে দৈবে,
    হয়তো সেটা একালেরও সরস্বতীর সইবে।"
নাতনি বলে, "সত্যি বলো দেখি,
    আজকে-দিনের এই ব্যাপারটা কবিতায় লিখবে কি।"
        আমি বললেম, "নিশ্চয় লিখবই,
    আরম্ভ তার হয়েই গেছে সত্য করেই কই।
        বাঁকিয়ো না গো পুষ্পধনুক-ভুরু,
               শোনো তবে, এইমতো তার শুরু।--
    "শুক্ল একাদশীর রাতে
               কলিকাতার ছাতে
        জ্যোৎস্না যেন পারিজাতের পাপড়ি দিয়ে ছোঁওয়া,
গলায় আমার কুন্দমালা গোলাপজলে ধোওয়া'--
        এইটুকু যেই লিখেছি সেই হঠাৎ মনে প'ল,
           এটা নেহাত অসাময়িক হল।
    হাল ফ্যাশানের বাণীর সঙ্গে নতুন হল রফা,
        একাদশীর চন্দ্র দেবেন কর্মেতে ইস্তফা।
    শূন্যসভায় যত খুশি করুন বাবুয়ানা,
        সত্য হতে চান যদি তো বাহার-দেওয়া মানা।
           তা ছাড়া ওই পারিজাতের ন্যাকামিও ত্যাজ্য,
    মধুর করে বানিয়ে বলা নয় কিছুতেই ন্যায্য।
বদল করে হল শেষে নিম্নরকম ভাষা--
    "আকাশ সেদিন ধুলোয় ধোঁয়ায় নিরেট করে ঠাসা,
        রাতটা যেন কুলিমাগি কয়লাখনি থেকে
এল কালো রঙের উপর কালির প্রলেপ মেখে।'
        তার পরেকার বর্ণনা এই-- "তামাক-সাজার ধন্দে
           জগার থ্যাবড়া আঙুলগুলো দোক্তাপাতার গন্ধে
                   দিনরাত্রি ল্যাপা।
               তাই সে জগা খ্যাপা
    যে মালাটাই গাঁথে তাতে ছাপিয়ে ফুলের বাস
           তামাকেরই গন্ধের হয় উৎকট প্রকাশ।' "
নাতনি বললে বাধা দিয়ে, "আমি জানি জানি,
    কী বলে যে শেষ করেছ নিলেম অনুমানি।
যে তামাকের গন্ধ ছাড়ে মালার মধ্যে, ওটায়
        সর্বসাধারণের গন্ধ নাড়ীর ভিতর ছোটায়।
           বিশ্বপ্রেমিক, তাই তোমার এই তত্ত্ব--
        ফুলের গন্ধ আলংকারিক, এ গন্ধটাই সত্য।"
    আমি বললেম, "ওগো কন্যে, গলদ আছে মূলেই,
        এতক্ষণ যা তর্ক করছি সেই কথাটা ভুলেই।
    মালাটাই যে ঘোর সেকেলে, সরস্বতীর গলে
               আর কি ওটা চলে।
    রিয়ালিস্‌টিক প্রসাধন যা নব্যশাস্ত্রে পড়ি--
               সেটা গলায় দড়ি।"
    নাতনি আমার ঝাঁকিয়ে মাথা নেড়ে
        এক দৌড়ে চলে গেল আমার আশা ছেড়ে।
আরো দেখুন
বউ-ঠাকুরানীর হাট
Novels
অন্তর্বিষয়ী ভাবের কবিত্ব থেকে বহির্বিষয়ী কল্পনালোকে একসময়ে মন যে প্রবেশ করলে, ইতস্তত ঘুরে বেড়াতে লাগল, এ বোধ হয় কৌতূহল থেকে।
প্রাচীর-ঘেরা মন বেরিয়ে পড়ল বাইরে, তখন সংসারের বিচিত্র পথে তার যাতায়াত আরম্ভ হয়েছে। এই সময়টাতে তার লেখনী গদ্যরাজ্যে নূতন ছবি নূতন নূতন অভিজ্ঞতা খুঁজতে চাইলে। তারই প্রথম প্রয়াস দেখা দিল বউ-ঠাকুরানীর হাট গল্পে-- একটা রোমান্টিক ভূমিকায় মানবচরিত্র নিয়ে খেলার ব্যাপারে, সেও অল্পবয়সেরই খেলা। চরিত্রগুলির মধ্যে যেটুকু জীবনের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে সেটা পুতুলের ধর্ম ছাড়িয়ে উঠতে পারে নি। তারা আপন চরিত্রবলে অনিবার্য পরিণামে চালিত নয়, তারা সাজানো জিনিস একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে। আজও হয়তো এই গল্পটার দিকে ফিরে চাওয়া যেতে পারে। এ যেন অশিক্ষিত আঙুলের আঁকা ছবি; সুনিশ্চিত মনের পাকা হাতের চিহ্ন পড়ে নি তাতে। কিন্তু আর্টের খেলাঘরে ছেলেমানুষিরও একটা মূল্য আছে। বুদ্ধির বাধাহীন পথে তার খেয়াল যা-তা কাণ্ড করতে বসে, তার থেকে প্রাথমিক মনের একটা কিছু কারিগরি বেরিয়ে পড়ে।
"বঁধুয়া অসময়ে কেন হে প্রকাশ?
সকলি যে স্বপ্ন বলে হতেছে বিশ্বাস।
চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে ছিলে,      সেথায় তো আদর মিলে?
এরি মধ্যে মিটিল কি প্রণয়েরি আশ?
এখনো তো রয়েছে রাত      এখনো হয় নি প্রভাত,
এখনো এ রাধিকার ফুরায় নি তো অশ্রুপাত।
চন্দ্রাবলীর কুসুমসাজ       এখনি কি শুকাল আজ?
চকোর হে, মিলাল কি সে চন্দ্রমুখের মধুর হাস?"
"আজ তোমারে দেখতে এলেম অনেক দিনের পরে।
ভয় নাইকো সুখে থাকো,
অধিক ক্ষণ থাকব নাকো।
আসিয়াছি দুদণ্ডেরি তরে।
দেখব শুধু মুখখানি
শুনব দুটি মধুর বাণী
আড়াল থেকে হাসি দেখে চলে যাব দেশান্তরে।"
"মলিন মুখে ফুটুক হাসি জুড়াক দু-নয়ন।"
"মলিন মুখে ফুটুক হাসি, জুড়াক দু-নয়ন।
মলিন বসন ছাড়ো সখী, পরো আভরণ।"
হাসিরে পায়ে ধরে রাখিবি কেমন করে,
হাসির সে প্রাণের সাধ ও অধরে খেলা করে।
"সারা বরষ দেখি নে মা, মা তুই আমার কেমনধারা,
নয়নতারা হারিয়ে আমার অন্ধ হল নয়নতারা।
এলি কি পাষাণী ওরে
দেখব তোরে আঁখি ভরে
কিছুতেই থামে না যে মা, পোড়া এ নয়নের ধারা।"
"কবরীতে ফুল শুকাল, কাননের ফুল ফুটল বনে,
দিনের আলো প্রকাশিল, মনের সাধ রহিল মনে।"
"ওরে, যেতে হবে, আর দেরি নাই,
পিছিয়ে পড়ে রবি কত, সঙ্গীরা তোর গেল সবাই।
আয় রে ভবের খেলা সেরে, আঁধার করে এসেছে রে,
(ওরে) পিছন ফিরে বারে বারে কাহার পানে চাহিস রে ভাই।
খেলতে এল ভবের নাটে, নতুন লোকে নতুন খেলা,
হেথা হতে আয় রে সরে, নইলে তোরে মারবে ঢেলা,
নামিয়ে দে রে প্রাণের বোঝা, আর এক দেশে চল্‌ রে সোজা,
(সেথা) নতুন করে বাঁধবি বাসা, নতুন খেলা খেলবি সে ঠাঁই।"
"আমার যাবার সময় হল,
আমায় কেন রাখিস ধরে,
চোখের জলের বাঁধন দিয়ে
বাঁধিস নে আর মায়াডোরে।
ফুরিয়েছে জীবনের ছুটি,
ফিরিয়ে নে তোর নয়ন দুটি,
নাম ধরে আর ডাকসি নে ভাই,
যেতে হবে ত্বরা করে।"
"ভিক্ষা যদি দিবে রাই,
(আমার) সোনা রুপায় কাজ নাই,
(আমি) প্রাণের দায়ে এসেছি হে,
মান রতন ভিক্ষা চাই।
আমিই শুধু রইনু বাকি।
যা ছিল তা গেল চলে, রইল যা তা কেবল ফাঁকি
আমার ব'লে ছিল যারা
আর তো তারা দেয় না সাড়া,
কোথায় তারা, কোথায় তারা? কেঁদে কেঁদে কারে ডাকি।
বল্‌ দেখি মা, শুধাই তোরে,
আমার কিছু রাখলি নে রে?
আমি কেবল আমায় নিয়ে কোন্‌ প্রাণেতে বেঁচে থাকি।
আমি শুধু রইনু বাকি।
যা ছিল তা গেল চলে,
রইল যা তা কেবল ফাঁকি।"
তাজবে তাজ নওবে নও।
আমি শুধু রইনু বাকি।
আর কি আমি ছাড়ব তোরে।
মন দিয়ে মন            নাই বা পেলেম
জোর করে রাখিব ধরে।
শূন্য করে হৃদয়-পুরী       প্রাণ যদি করিলে চুরি
তুমিই তবে থাকো সেথায়
শূন্য হৃদয় পূর্ণ করে।
আরো দেখুন
পরী
Stories
কুসমি বললে, তুমি বড্ড বানিয়ে কথা বল। একটা সত্যিকার গল্প শোনাও-না।
আমি বললুম, জগতে দুরকম পদার্থ আছে। এক হচ্ছে সত্য, আর হচ্ছে--আরও-সত্য। আমার কারবার আরও-সত্যকে নিয়ে।
আরো দেখুন