প্রগতিসংহার
Stories
এই কলেজে ছেলেমেয়েদের মেলামেশা বরঞ্চ কিছু বাড়াবাড়ি ছিল। এরা প্রায় সবাই ধনী ঘরের--এরা পয়সার ফেলাছড়া করতে ভালোবাসে। নানা রকম বাজে খরচ করে মেয়েদের কাছে দরাজ হাতের নাম কিনত। মেয়েদের মনে ঢেউ তুলত, তারা বুক ফুলিয়ে বলত--'আমাদেরই কলেজের ছেলে এরা'। সরস্বতী পুজো তারা এমনি ধূম করে করত যে, বাজারে গাঁদা ফুলের আকাল পড়ে যেত। এ ছাড়া চোখটেপাটেপি ঠাট্টা তামাসা চলেইছে। এই তাদের মাঝখানে একটা সংঘ তেড়েফুঁড়ে উঠে মেলামেশা ছারখার করে দেবার জো করলে।
সংঘের হাল ধরে ছিল সুরীতি। নাম দিল 'নারীপ্রগতিসংঘ'। সেখানে পুরুষের ঢোকবার দরজা ছিল বন্ধ। সুরীতির মনের জোরের ধাক্কায় এক সময়ে যেন পুরুষ-বিদ্রোহের একটা হাওয়া উঠল। পুরুষরা যেন বেজাত, তাদের সঙ্গে জলচল বন্ধ। কদর্য তাদের ব্যায়ভার।
আরো দেখুন
আমার দিন ফুরালো
Songs
আমার  দিন ফুরালো ব্যাকুল বাদলসাঁঝে
          গহন মেঘের নিবিড় ধারার মাঝে॥
     বনের ছায়ায় জলছলছল সুরে
     হৃদয় আমার কানায় কানায় পূরে।
     খনে খনে ওই গুরুগুরু তালে তালে
          গগনে গগনে গভীর মৃদঙ বাজে॥
কোন্‌        দূরের মানুষ যেন এল আজ কাছে,
          তিমির-আড়ালে নীরবে দাঁড়ায়ে আছে।
     বুকে দোলে তার বিরহব্যথার মালা
     গোপন-মিলন-অমৃতগন্ধ-ঢালা।
     মনে হয় তার চরণের ধ্বনি জানি--
          হার মানি তার অজানা জনের সাজে॥
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন
একটা আষাঢ়ে গল্প
Stories
দূর সমুদ্রের মধ্যে একটা দ্বীপ। সেখানে কেবল তাসের সাহেব, তাসের বিবি, টেক্কা এবং গোলামের বাস। দুরি তিরি হইতে নহলা-দহলা পর্যন্ত আরো অনেক-ঘর গৃহস্থ আছে কিন্তু তাহারা উচ্চজাতীয় নহে।
টেক্কা সাহেব গোলাম এই তিনটেই প্রধান বর্ণ, নহলা-দহলারা অন্ত্যজ-- তাহাদের সহিত এক পঙ্‌ক্তিতে বসিবার যোগ্য নহে।
আরো দেখুন
নূতন
Verses
আমরা খেলা খেলেছিলেম,
                 আমরাও গান গেয়েছি;
           আমরাও পাল মেলেছিলেম,
                 আমরা তরী বেয়েছি।
           হারায় নি তা হারায় নি,
           বৈতরণী পারায় নি,
           নবীন আঁখির চপল আলোয়
                 সে কাল ফিরে পেয়েছি।
           দূর রজনীর স্বপন লাগে
                 আজ নূতনের হাসিতে।
           দূর ফাগুনের বেদন জাগে
                 আজ ফাগুনের বাঁশিতে।
           হায় রে সেকাল, হায় রে
           কখন্‌ চলে যায় রে
           আজ একালের মরীচিকায়
                 নতুন মায়ায় ভাসিতে।
           যে মহাকাল দিন ফুরালে
                 আমার কুসুম ঝরাল,
           সেই তোমারি তরুণ ভালে
                 ফুলের মালা পরাল।
           কইল শেষের কথা সে,
           কাঁদিয়ে গেল হতাশে,
           তোমার মাঝে নতুন সাজে
                 শূন্য আবার ভরাল।
           আনলে ডেকে পথিক মোরে
                 তোমার প্রেমের আঙনে।
           শুকনো ঝোরা দিল ভরে
                 এক পসলায় শাঙনে।
           সন্ধ্যামেঘের কোনাতে
           রক্তরাগের সোনাতে
           শেষ নিমেষের বোঝাই দিয়ে
                 ভাসিয়ে দিলে ভাঙনে।
আরো দেখুন
পট
Stories
যে শহরে অভিরাম দেবদেবীর পট আঁকে, সেখানে কারো কাছে তার পূর্বপরিচয় নেই। সবাই জানে, সে বিদেশী, পট আঁকা তার চিরদিনের ব্যাবসা।
সে মনে ভাবে, 'ধনী ছিলেম, ধন গিয়েছে, হয়েছে ভালো। দিনরাত দেবতার রূপ ভাবি, দেবতার প্রসাদে খাই, আর ঘরে ঘরে দেবতার প্রতিষ্ঠা করি। আমার এই মান কে কাড়তে পারে।'
আরো দেখুন
সুয়োরানীর সাধ
Stories
সুয়োরানীর বুঝি মরণকাল এল।
তার প্রাণ হাঁপিয়ে উঠছে, তার কিছুই ভালো লাগছে না। বদ্দি বড়ি নিয়ে এল। মধু দিয়ে মেড়ে বললে, 'খাও।' সে ঠেলে ফেলে দিলে।
আরো দেখুন