বাচস্পতি
Stories
দাদামশায়, তুমি তোমার চার দিকে যেসব পাগলের দল জমিয়েছিলে, গুণ হিসেব ক'রে তাদের বুঝি সব নম্বর দিয়ে রেখেছিলে?
হ্যাঁ, তা করতে হয়েছে বই-কি। কম তো জমে নি।
আরো দেখুন
ঘাটের কথা
Stories
পাষাণে ঘটনা যদি অঙ্কিত হইত তবে কতদিনকার কত কথা আমার সোপানে সোপানে পাঠ করিতে পারিতে। পুরাতন কথা যদি শুনিতে চাও, তবে আমার এই ধাপে বইস; মনোযোগ দিয়া জলকল্লোলে কান পাতিয়া থাকো, বহুদিনকার কত বিস্মৃত কথা শুনিতে পাইবে।
আমার আর-একদিনের কথা মনে পড়িতেছে। সেও ঠিক এইরূপ দিন। আশ্বিন মাস পড়িতে আর দুই-চারি দিন বাকি আছে। ভোরের বেলায় অতি ঈষৎ মধুর নবীন শীতের বাতাস নিদ্রোত্থিতের দেহে নূতন প্রাণ আনিয়া দিতেছে। তরু-পল্লব অমনি একটু একটু শিহরিয়া উঠিতেছে।
আরো দেখুন
একটি চাউনি
Stories
গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে।
এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে।
আরো দেখুন
94
Verses
জীবনে তব প্রভাত এল
      নব-অরুণকান্তি।
তোমারে ঘেরি মেলিয়া থাক্‌
      শিশিরে-ধোওয়া শান্তি।
মাধুরী তব মধ্যদিনে
      শক্তিরূপ ধরি
কর্মপটু কল্যাণের
      করুক দূর ক্লান্তি ।
আরো দেখুন
রবিবার
Stories
আমার গল্পের প্রধান মানুষটি প্রাচীন ব্রাহ্মণপণ্ডিত-বংশের ছেলে। বিষয়ব্যাপারে বাপ ওকালতি ব্যবসায়ে আঁটি পর্যন্ত পাকা, ধর্মকর্মে শাক্ত আচারের তীব্র জারক রসে জারিত। এখন আদালতে আর প্র্যাকটিস করতে হয় না। এক দিকে পূজা-অর্চনা আর-এক দিকে ঘরে বসে আইনের পরামর্শ দেওয়া, এই দুটোকে পাশাপাশি রেখে তিনি ইহকাল পরকালের জোড় মিলিয়ে অতি সাবধানে চলেছেন। কোনো দিকেই একটু পা ফসকায় না।
এইরকম নিরেট আচারবাঁধা সনাতনী ঘরের ফাটল ফুঁড়ে যদি দৈবাৎ কাঁটাওয়ালা নাস্তিক ওঠে গজিয়ে, তা হলে তার ভিত-দেয়াল-ভাঙা মন সাংঘাতিক ঠেলা মারতে থাকে ইঁটকাঠের প্রাচীন গাঁথুনির উপরে। এই আচারনিষ্ঠ বৈদিক ব্রাহ্মণের বংশে দুর্দান্ত কালাপাহাড়ের অভ্যুদয় হল আমাদের নায়কটিকে নিয়ে।
আরো দেখুন
চার অধ্যায়
Novels
এলার মনে পড়ে তার জীবনের প্রথম সূচনা বিদ্রোহের মধ্যে। তার মা মায়াময়ীর ছিল বাতিকের ধাত, তাঁর ব্যবহারটা বিচার-বিবেচনার প্রশস্ত পথ ধরে চলতে পারত না। বেহিসাবি মেজাজের অসংযত ঝাপটায় সংসারকে তিনি যখন-তখন ক্ষুব্ধ করে তুলতেন, শাসন করতেন অন্যায় করে, সন্দেহ করতেন অকারণে। মেয়ে যখন অপরাধ অস্বীকার করত, ফস করে বলতেন, মিথ্যে কথা বলছিস। অথচ অবিমিশ্র সত্যকথা বলা মেয়ের একটা ব্যসন বললেই হয়। এজন্যেই সে শাস্তি পেয়েছে সব-চেয়ে বেশি। সকল রকম অবিচারের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতা তার স্বভাবে প্রবল হয়ে উঠেছে। তার মার কাছে মনে হয়েছে, এইটেই স্ত্রীধর্মনীতির বিরুদ্ধ।
একটা কথা সে বাল্যকাল থেকে বুঝেছে যে, দুর্বলতা অত্যাচারের প্রধান বাহন। ওদের পরিবারে যে-সকল আশ্রিত অন্নজীবী ছিল, যারা পরের অনুগ্রহ-নিগ্রহের সংকীর্ণ বেড়া-দেওয়া ক্ষেত্রের মধ্যে নিঃসহায়ভাবে আবদ্ধ তারাই কলুষিত করেছে ওদের পরিবারের আবহাওয়াকে, তারাই ওর মায়ের অন্ধ প্রভুত্বচর্চাকে বাধাবিহীন করে তুলেছে। এই অস্বাস্থ্যকর অবস্থার প্রতিক্রিয়ারূপেই ওর মনে অল্পবয়স থেকেই স্বাধীনতার আকাঙক্ষা এত দুর্দাম হয়ে উঠেছিল।
প্রহরশেষের আলোয় রাঙা
সেদিন চৈত্রমাস,
তোমার চোখে দেখেছিলাম
আমার সর্বনাশ।"
Upwards
Towards the peaks,
Towards the stars,
Towards the vast silence."
আরো দেখুন
হে মোর চিত্ত, পূণ্য তীর্থে
Verses
       হে মোর চিত্ত,পূণ্য তীর্থে
              জাগো রে ধীরে--
       এই ভারতের মহামানবের
              সাগরতীরে।
                    হেথায় দাঁড়ায়ে দু-বাহু বাড়ায়ে
                           নমি নর-দেবতারে,
                    উদার ছন্দে পরমানন্দে
                           বন্দন করি তাঁরে।
         ধ্যান-গম্ভীর এই যে ভূধর,
         নদীজপমালাধৃত প্রান্তর,
         হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র
              ধরিত্রীরে
         এই ভারতের মহামানবের
              সাগরতীরে।
              কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে
                    কত মানুষের ধারা
              দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে
                    সমুদ্রে হল হারা।
                           হেথায় আর্য, হেথা অনার্য
                           হেথায় দ্রাবিড়, চীন--
                           শক-হুন-দল পাঠান মোগল
                                  এক দেহে হল লীন।
                   পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার,
                   সেথা হতে সবে আনে উপহার,
                   দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে
                           যাবে না ফিরে,
                    এই ভারতের মহামানবের
                           সাগরতীরে।
              রণধারা বাহি জয়গান গাহি
                    উন্মাদ কলরবে
              ভেদি মরুপথ গিরিপর্বত
                    যারা এসেছিল সবে,
                           তারা মোর মাঝে সবাই বিরাজে
                                  কেহ নহে নহে দূর,
                           আমার শোণিতে রয়েছে ধ্বনিতে
                                  তারি বিচিত্র সুর।
                    হে রুদ্রবীণা, বাজো, বাজো, বাজো,
                    ঘৃণা করি দূরে আছে যারা আজো,
                    বন্ধ নাশিবে, তারাও আসিবে
                           দাঁড়াবে ঘিরে
                    এই ভারতের মহামানবের
                           সাগরতীরে।
হেথা একদিন বিরামবিহীন
              মহা ওংকারধ্বনি,
       হৃদয়তন্ত্রে একের মন্ত্রে
              উঠেছিল রনরনি।
                    তপস্যাবলে একের অনলে
                           বহুরে আহুতি দিয়া
                    বিভেদ ভুলিল, জাগায়ে তুলিল
                           একটি বিরাট হিয়া।
              সেই সাধনার সে আরাধনার
              যজ্ঞশালায় খোলা আজি দ্বার,
              হেথায় সবারে হবে মিলিবারে
                    আনতশিরে--
             এই ভারতের মহামানবের
                    সাগরতীরে।
       সেই হোমানলে হেরো আজি জ্বলে
              দুখের রক্ত শিখা,
       হবে তা সহিতে মর্মে দহিতে
              আছে সে ভাগ্যে লিখা।
                    এ দুখ বহন করো মোর মন,
                           শোনো রে একের ডাক।
                    যত লাজ ভয় করো করো জয়
                           অপমান দূরে থাক।
              দুঃসহ ব্যথা হয়ে অবসান
              জন্ম লভিবে কী বিশাল প্রাণ।
              পোহায় রজনী, জাগিছে জননী
                    বিপুল নীড়ে,
              এই ভারতের মহামানবের
                    সাগরতীরে।
       এসো হে আর্য, এসো অনার্য,
              হিন্দু মুসলমান।
       এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ,
              এসো এসো খৃস্টান।
                   এসো ব্রাহ্মণ শুচি করি মন
                    ধরো হাত সবাকার,
                   এসো হে পতিত করো অপনীত
                    সব অপমানভার।
              মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা
              মঙ্গলঘট হয় নি যে ভরা,
              সবারে-পরশে-পবিত্র-করা
                    তীর্থনীরে।
              আজি ভারতের মহামানবের
                    সাগরতীরে।
আরো দেখুন
মেঘলা দিনে
Stories
রোজই থাকে সমস্তদিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সেদিনকার কাজে, সেদিনকার আলাপে সেদিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।
আজ সকালবেলা মেঘের স্তবকে স্তবকে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে, ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত শেষ করে দেওয়া যায় না।
আরো দেখুন
শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
ব্যবধান
Stories
সম্পর্ক মিলাইয়া দেখিতে গেলে বনমালী এবং হিমাংশুমালী উভয়ে মামাতো পিসতুতো ভাই; সেও অনেক হিসাব করিয়া দেখিলে তবে মেলে। কিন্তু ইহাদের দুই পরিবার বহুকাল হইতে প্রতিবেশী, মাঝে কেবল একটা বাগানের ব্যবধান, এইজন্য ইহাদের সম্পর্ক নিতান্ত নিকট না হইলেও ঘনিষ্ঠতার অভাব নাই।
বনমালী হিমাংশুর চেয়ে অনেক বড়ো। হিমাংশুর যখন দন্ত এবং বাক্যস্ফূর্তি হয় নাই, তখন বনমালী তাহাকে কোলে করিয়া এই বাগানে সকালে সন্ধ্যায় হাওয়া খাওয়াইয়াছে, খেলা করিয়াছে, কান্না থামাইয়াছে, ঘুম পাড়াইয়াছে এবং শিশুর মনোরঞ্জন করিবার জন্য পরিণতবুদ্ধি বয়স্ক লোকদিগকে সবেগে শিরশ্চালন, তারস্বরে প্রলাপভাষণ প্রভৃতি যে-সকল বয়সানুচিত চাপল্য এবং উৎকট উদ্যম প্রকাশ করিতে হয়, বনমালী তাহাও করিতে ত্রুটি করে নাই।
আরো দেখুন
খেলা
Verses
হোক খেলা, এ খেলায় যোগ দিতে হবে
আনন্দকল্লোলাকুল নিখিলের সনে।
সব ছেড়ে মৌনী হয়ে কোথা বসে রবে
আপনার অন্তরের অন্ধকার কোণে!
জেনো মনে  শিশু তুমি এ বিপুল ভবে
অনন্ত কালের কোলে, গগনপ্রাঙ্গণে--
যত জান মনে কর কিছুই জান না।
বিনয়ে বিশ্বাসে প্রেমে হাতে লহ তুলি
বর্ণগন্ধগীতময় যে মহা-খেলনা
তোমারে দিয়াছে মাতা; হয় যদি ধূলি
হোক ধূলি, এ ধূলির কোথায় তুলনা!
থেকো না অকালবৃদ্ধ বসিয়া একেলা--
কেমনে মানুষ হবে না করিলে খেলা!
আরো দেখুন
The Parrot`s Training
Stories
ONCE UPON A time there was a bird. It was ignorant. It sang all right, but never recited scriptures. It hopped pretty frequently, but lacked manners.
Said the Raja to himself: ‘Ignorance is costly in the long run. For fools consume as much food as their betters, and yet give nothing in return.’
আরো দেখুন