সমস্যাপূরণ
Stories
ঝিঁকড়কোটার কৃষ্ণগোপাল সরকার জ্যেষ্ঠপুত্রের প্রতি জমিদারি এবং সংসারের ভার দিয়া কাশী চলিয়া গেলেন। দেশের যত অনাথ দরিদ্র লোক তাঁহার জন্য হাহাকার করিয়া কাঁদিতে লাগিল। এমন বদান্যতা, এমন ধর্মনিষ্ঠতা কলিযুগে দেখা যায় না, এই কথা সকলেই বলিতে লাগিল।
তাঁহার পুত্র বিপিনবিহারী আজকালকার একজন সুশিক্ষিত বি-এ। দাড়ি রাখেন, চশমা পরেন, কাহারও সহিত বড়ো একটা মিশেন না। অতিশয় সচ্চরিত্র-- এমন কি, তামাকটি পর্যন্ত খান না, তাস পর্যন্ত খেলেন না। অত্যন্ত ভালোমানুষের মতো চেহারা, কিন্তু লোকটা ভারি কড়াক্কড়।
আরো দেখুন
অপরিহরণীয়
Verses
মৃত্যু কহে, পুত্র নিব; চোর কহে ধন।
ভাগ্য কহে, সব নিব যা তোর আপন।
নিন্দুক কহিল, লব তব যশোভার।
কবি কহে, কে লইবে আনন্দ আমার?
আরো দেখুন
বদনাম
Stories
ক্রিং ক্রিং ক্রিং সাইকেলের আওয়াজ; সদর দরজার কাছে লাফ দিয়ে নেমে পড়লেন ইন্‌স্‌পেক্টার বিজয়বাবু। গায়ে ছাঁটা কোর্তা, কোমরে কোমরবন্ধ, হাফ-প্যাণ্টপরা, চলনে কেজো লোকের দাপট। দরজার কড়া নাড়া দিতেই গিন্নি এসে খুলে দিলেন।
ইন্‌স্‌পেক্টার ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই ঝংকার দিয়ে উঠলেন--'এমন করে তো আর পারি নে, রাত্তিরের পর রাত্তির খাবার আগলে রাখি! তুমি কত চোর ডাকাত ধরলে, সাধু সজ্জনও বাদ গেল না, আর ঐ একটা লোক অনিল মিত্তিরের পিছন পিছন তাড়া করে বেড়াচ্ছ, সে থেকে থেকে তোমার সামনে এসে নাকের উপর বুড়ো আঙুল নাড়া দিয়ে কোথায় দৌড় মারে তার ঠিকানা নেই। দেশসুদ্ধ লোক তোমার এই দশা দেখে হেসে খুন, এ যেন সার্কাসের খেলা হচ্ছে।'
আরো দেখুন
মুনশি
Stories
আচ্ছা দাদামশায়, তোমাদের সেই মুনশিজি এখন কোথায় আছেন।
এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব তার সময়টা বুঝি কাছে এসেছে, তবু হয়তো কিছুদিন সবুর করতে হবে।
আরো দেখুন
16
Verses
          বিশ্বের বিপুল বস্তুরাশি
              উঠে অট্টহাসি;
               ধুলা বালি
              দিয়ে করতালি
              নিত্য নিত্য
                     করে নৃত্য
             দিকে দিকে দলে দলে;
     আকাশে শিশুর মতো অবিরত কোলাহলে।
        মানুষের লক্ষ লক্ষ অলক্ষ্য ভাবনা,
              অসংখ্য কামনা,
     রূপে মত্ত বস্তুর আহ্বানে উঠে মাতি
          তাদের খেলায় হতে সাথি।
              স্বপ্ন যত অব্যক্ত আকুল
                     খুঁজে মরে কূল;
          অস্পষ্টের অতল প্রবাহে পড়ি
     চায় এরা প্রাণপণে ধরণীরে ধরিতে আঁকড়ি
              কাষ্ঠ-লোষ্ট্র-সুদৃঢ় মুষ্টিতে,
              ক্ষণকাল মাটিতে তিষ্ঠিতে।
          চিত্তের কঠিন চেষ্টা বস্তুরূপে
                            স্তূপে স্তূপে
                       উঠিতেছে ভরি--
                       সেই তো নগরী।
              এ তো শুধু নহে ঘর,
              নহে শুধু ইষ্টক প্রস্তর।
          অতীতের গৃহছাড়া কত যে অশ্রুত বাণী
              শূন্যে শূন্যে করে কানাকানি;
                      খোঁজে তারা আমার বাণীরে
                            লোকালয়-তীরে-তীরে।
          আলোকতীর্থের পথে আলোহীন সেই যাত্রীদল
                            চলিয়াছে অশ্রান্ত চঞ্চল।
                      তাদের নীরব কোলাহলে
              অস্ফুট ভাবনা যত দলে দলে ছুটে চলে
                       মোর চিত্তগুহা ছাড়ি,
                            দেয় পাড়ি
              অদৃশ্যের অন্ধ মরু ব্যগ্র ঊর্ধ্বশ্বাসে
                     আকারের অসহ্য পিয়াসে।
                     কী জানি কে তারা কবে
                            কোথা পার হবে
                                 যুগান্তরে,
                             দূর সৃষ্টি-'পরে
                    পাবে আপনার রূপ অপূর্ব আলোতে।
                          আজ তারা কোথা হতে
                            মেলেছিল ডানা
                          সেদিন তা রহিবে অজানা।
              অকস্মাৎ পাবে তারে কোন্‌ কবি,
                     বাঁধিবে তাহারে কোন্‌ ছবি
              গাঁথিবে তাহারে কোন্‌ হর্ম্যচূড়ে,
                      সেই রাজপুরে
              আজি যার কোনো দেশে কোনো চিহ্ন নাই।
                       তার তরে কোথা রচে ঠাঁই
                            অরচিত দূর যজ্ঞভূমে।
                                    কামানের ধূমে
                            কোন্‌ ভাবী ভীষণ সংগ্রাম
              রণশৃঙ্গে আহ্বান করিছে তার নাম!
আরো দেখুন
107
Verses
WHEN MY mind was released
from the black cavern of oblivion
and woke up into an intolerable surprise
it found itself at the crater of a volcanic hell-fire
that spouted forth a stifling fume of insult to Man;
it witnessed the long-drawn suicidal agony of the Time-spirit
passing through convulsions of a monstrous deformity worse than death.
On its one side a defiant savagery
and the growl of homicidal drunkenness,
on the other timid powers tied to the load
of their carefully guarded hoardings,
meekly settling down to a silent safety of acquiescence
after miscalculated bursts of impatience.
At the old nations' council-chambers
plans and protests are pressed flat between the tight-shut prudent lips.
In the meanwhile across the sky rush with their blazing blasphemy
the soulless swarms of vulture-machines
carrying their missiles of ravenous passion for human entrails.
Give me power, O awful Judge,
sitting on the throne of Eternity,
give me a voice of thunder,
that I may hurl imprecation
upon this cannibal whose gruesome hunger
spares neither women nor children,
that my words of reproach may ever rock
upon the heart-throbs of a history humiliated by itself,
till this age choked and chained
finds the bed of its final rest in its ashes.
আরো দেখুন
রাজর্ষি
Novels
রাজর্ষি সম্বন্ধে কিছু বলবার জন্যে অনুরোধ পেয়েছি। বলবার বিশেষ কিছু নেই। এর প্রধান বক্তব্য এই যে, এ আমার স্বপ্নলব্ধ উপন্যাস।
বালক পত্রের সম্পাদিকা আমাকে ঐ মাসিকের পাতে নিয়মিত পরিবেশনের কাজে লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তার ফল হল এই যে, প্রায় একমাত্র আমিই হলুম তার ভোজের জোগানদার। একটু সময় পেলেই মনটা "কী লিখি' "কী লিখি' করতে থাকে।
হরি তোমায় ডাকি-- বালক একাকী,
আঁধার অরণ্যে ধাই হে।
গহন তিমিরে নয়নের নীরে
পথ খুঁজে নাহি পাই হে।
সদা মনে হয় কী করি কী করি,
কখন আসিবে কাল-বিভাবরী,
তাই ভয়ে মরি ডাকি "হরি হরি'--
হরি বিনা কেহ নাই হে।
নয়নের জল হবে না বিফল,
তোমায় সবে বলে ভকতবৎসল,
সেই আশা মনে করেছি সম্বল--
বেঁচে আছি আমি তাই হে।
আঁধারেতে জাগে তোমার আঁখিতারা,
তোমার ভক্ত কভু হয় না পথহারা,
ধ্রুব তোমায় চাহে তুমি ধ্রুবতারা--
আর কার পানে চাই হে।
"মা আমার পাষাণের মেয়ে
সন্তানে দেখলি নে চেয়ে।"
কলহ কটকটাং কাঠ কাঠিন্য কাঠ্যং
কটন কিটন কীটং কুট্‌নলং খট্টমট্টং।
আমায় ছ-জনায় মিলে পথ দেখায় ব'লে
পদে পদে পথ ভুলি হে।
নানা কথার ছলে নানান মুনি বলে,
সংশয়ে তাই দুলি হে।
তোমার কাছে যাব এই ছিল সাধ,
তোমার বাণী শুনে ঘুচাব প্রমাদ,
কানের কাছে সবাই করিছে বিবাদ
শত লোকের শত বুলি হে।
কাতর প্রাণে আমি তোমায় যখন যাচি
আড়াল করে সবাই দাঁড়ায় কাছাকাছি,
ধরণীর ধুলো তাই নিয়ে আছি--
পাই নে চরণধূলি হে।
শত ভাগ মোর শত দিকে ধায়,
আপনা-আপনি বিবাদ বাধায়,
কারে সামালিব এ কী হল দায়
একা যে অনেকগুলি হে।
আমায় এক করো তোমার প্রেমে বেঁধে,
এক পথ আমায় দেখাও অবিচ্ছেদে,
ধাঁধার মাঝে পড়ে কত মরি কেঁদে--
চরণেতে লহ তুলি হে।
আরো দেখুন
চোখের আলোয় দেখেছিলেম
Songs
চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে।
অন্তরে আজ দেখব, যখন আলোক নাহি রে॥
ধরায় যখন দাও না ধরা         হৃদয় তখন তোমায় ভরা,
এখন তোমার আপন আলোয় তোমায় চাহি রে॥
তোমায় নিয়ে খেলেছিলেম খেলার ঘরেতে।
খেলার পুতুল ভেঙে গেছে প্রলয় ঝড়েতে।
থাক্‌ তবে সেই কেবল খেলা,    হোক-না এখন প্রাণের মেলা--
তারের বীণা ভাঙল, হৃদয়-বীণায় গাহি রে॥
আরো দেখুন
মুসলমানীর গল্প
Stories
তখন অরাজকতার চরগুলো কণ্টকিত করে রেখেছিল রাষ্ট্রশাসন, অপ্রত্যাশিত অত্যাচারের অভিঘাতে দোলায়িত হত দিন রাত্রি। দুঃস্বপ্নের জাল জড়িয়েছিল জীবনযাত্রার সমস্ত ক্রিয়াকর্মে, গৃহস্থ কেবলই দেবতার মুখ তাকিয়ে থাকত, অপদেবতার কাল্পনিক আশঙ্কায় মানুষের মন থাকত আতঙ্কিত। মানুষ হোক আর দেবতাই হোক কাউকে বিশ্বাস করা কঠিন ছিল, কেবলই চোখের জলের দোহাই পাড়তে হত। শুভ কর্ম এবং অশুভ কর্মের পরিণামের সীমারেখা ছিল ক্ষীণ। চলতে চলতে পদে পদে মানুষ হোঁচট খেয়ে খেয়ে পড়ত দুর্গতির মধ্যে।
এমন অবস্থায় বাড়িতে রূপসী কন্যার অভ্যাগম ছিল যেন ভাগ্যবিধাতার অভিসম্পাত। এমন মেয়ে ঘরে এলে পরিজনরা সবাই বলত 'পোড়ারমুখী বিদায় হলেই বাঁচি'। সেই রকমেরই একটা আপদ এসে জুটেছিল তিন-মহলার তালুকদার বংশীবদনের ঘরে।
আরো দেখুন