কর্মফল
Stories
আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন-- সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। 'এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।'
শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন।
আরো দেখুন
নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
আজি মর্মরধ্বনি কেন
Songs
          আজি মর্মরধ্বনি কেন    জাগিল রে!
     মম পল্লবে পল্লবে   হিল্লোলে হিল্লোলে
              থরথর কম্পন লাগিল রে ॥
     কোন্‌ ভিখারি হায় রে   এল আমারি এ অঙ্গনদ্বারে,
          বুঝি    সব মন ধন মম লাগিল রে ॥
          হৃদয় বুঝি তারে জানে,
          কুসুম ফোটায় তারি গানে।
আজি মম অন্তরমাঝে    সেই     পথিকেরই পদধ্বনি বাজে,
          তাই       চকিতে চকিতে ঘুম ভাঙিল রে ॥
আরো দেখুন
গল্প
Stories
ছেলেটির যেমনি কথা ফুটল অমনি সে বললে, 'গল্প বলো।'
দিদিমা বলতে শুরু করলেন, 'এক রাজপুত্তুর, কোটালের পুত্তুর, সদাগরের পুত্তুর--'
আরো দেখুন
শাস্তি
Stories
দুখিরাম রুই এবং ছিদাম রুই দুই ভাই সকালে যখন দা হাতে লইয়া জন খাটিতে বাহির হইল তখন তাহাদের দুই স্ত্রীর মধ্যে বকাবকি চেঁচামেচি চলিতেছে। কিন্তু প্রকৃতির অন্যান্য নানাবিধ নিত্য কলরবের ন্যায় এই কলহ-কোলাহলও পাড়াসুদ্ধ লোকের অভ্যাস হইয়া গেছে। তীব্র কণ্ঠস্বর শুনিবামাত্র লোকে পরস্পরকে বলে--'ওই রে বাধিয়া গিয়াছে,' অর্থাৎ যেমনটি আশা করা যায় ঠিক তেমনিটি ঘটিয়াছে, আজও স্বভাবের নিয়মের কোনোরূপ ব্যত্যয় হয় নাই। প্রভাতে পূর্বদিকে সূর্য উঠিলে যেমন কেহ তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করে না, তেমনি এই কুরিদের বাড়িতে দুই জায়ের মধ্যে যখন একটা হৈ-হৈ পড়িয়া যায় তখন তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করে না, তেমনি এই কুরিদের বাড়িতে দুই জায়ের মধ্যে যখন একটা হৈ-হৈ পড়িয়া যায় তখন তাহার কারণ নির্ণয়ের জন্য কাহারও কোনোরূপ কৌতূহলের উদ্রেক হয় না।
অবশ্য এই কোন্দল আন্দোলন প্রতিবেশীদের অপেক্ষা দুই স্বামীকে বেশি স্পর্শ করিত সন্দেহ নাই, কিন্তু সেটা তাহারা কোনোরূপ অসুবিধার মধ্যে গণ্য করিত না। তাহারা দুই ভাই যেন দীর্ঘ সংসারপথ একটা এক্কাগাড়িতে করিয়া চলিয়াছে, দুই দিকের দুই স্প্রিংবিহীন চাকার অবিশ্রাম ছড়ছড় খড়খড় শব্দটাকে জীবনরথযাত্রার একটা বিধিবিহিত নিয়মের মধ্যেই ধরিয়া লইয়াছে।
আরো দেখুন
পদধ্বনি
Verses
        আঁধারে প্রচ্ছন্ন ঘন বনে
                  আশঙ্কার পরশনে
        হরিণের থরথর হৃৎপিণ্ড যেমন--
                সেইমতো রাত্রি দ্বিপ্রহরে
                     শয্যা মোর ক্ষণতরে
                            সহসা কাঁপিল অকারণ।
           পদধ্বনি, কার পদধ্বনি
                  শুনিনু তখনি।
        মোর জন্মনক্ষত্রের অদৃশ্য জগতে
মোর ভাগ্য মোর তরে বার্তা লয়ে ফিরিছে কি পথে।
           পদধ্বনি, কার পদধ্বনি।
অজানার যাত্রী কে গো। ভয়ে কেঁপে উঠিল ধরণী।
        এই কি নির্মম সেই যে আপন চরণের তলে
                পদে পদে চিরদিন
                     উদাসীন
                পিছনের পথ মুছে চলে।
        এ কি সেই নিত্যশিশু, কিছু নাহি চাহে--
                নিজের খেলেনা চূর্ণ
                   ভাসাইছে অসম্পূর্ণ
                          খেলার প্রবাহে?
                ভাঙিয়া স্বপ্নের ঘোর,
                     ছিঁড়ি মোর
                শয্যায় বন্ধনমোহ, এ রাত্রিবেলায়
মোরে কি করিবে সঙ্গী প্রলয়ের ভাসান-খেলায়।
                  হোক তাই--
               ভয় নাই, ভয় নাই,
           এ খেলা খেলেছি বারম্বার
                   জীবনে আমার ।
           জানি জানি-- ভাঙিয়া নূতন করে তোলা,
ভুলায়ে পূর্বের পথ অপূর্বের পথে দ্বার খোলা,
                  বাঁধন গিয়েছে যবে চুকে
            তারি ছিন্ন রশিগুলি কুড়ায়ে কৌতুকে
বার বার গাঁথা হল দোলা।
      নিয়ে যত মুহূর্তের ভোলা
             চিরস্মরণের ধন
      গোপনে হয়েছে আয়োজন।
পদধ্বনি, কার পদধ্বনি
      চিরদিন শুনেছি এমনি
        বারে বারে।
      একি বাজে মৃত্যুসিন্ধুপারে।
    একি মোর আপন বক্ষেতে।
ডাকে মোরে ক্ষণে ক্ষণে কিসের সংকেতে।
    তবে কি হবেই যেতে।
        সব বন্ধ করিব ছেদন?
ওগো কোন্‌ বন্ধু তুমি, কোন্‌ সঙ্গী দিতেছ বেদন
        বিচ্ছেদের তীর হতে।
      তরী কি ভাসাব স্রোতে।
             হে বিরহী,
      আমার অন্তরে দাও কহি
        ডাকো মোরে কী খেলা খেলাতে
             আতঙ্কিত নিশীথবেলাতে?
      বারে বারে দিয়েছ নিঃসঙ্গ করি--
এ শূন্য প্রাণের পাত্র কোন্‌ সঙ্গসুধা দিয়ে ভরি
        তুলে নেবে মিলন-উৎসবে।
      সূর্যাস্তের পথ দিয়ে যবে
  সন্ধ্যাতারা উঠে আসে নক্ষত্রসভায়,
        প্রহর না যেতে যেতে
             কী সংকেতে
সব সঙ্গ ফেলে রেখে অস্তপথে ফিরে চলে যায়।
             সেও কি এমনি
                   শোনে পদধ্বনি।
তারে কি বিরহী
    বলে কিছু দিগন্তের অন্তরালে রহি।
        পদধ্বনি, কার পদধ্বনি।
                  দিনশেষে
        কম্পিত বক্ষের মাঝে এসে
     কী শব্দে ডাকিছে কোন্‌ অজানা রজনী।
আরো দেখুন
দিদি
Stories
পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, 'এমন স্বামীর মুখে আগুন।'
শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিলেন-- স্বামীজাতির মুখে চুরটের আগুন ছাড়া অন্য কোনো প্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না।
আরো দেখুন
55
Verses
LET THY LOVE play upon my voice and rest on my silence.
Let it pass through my heart into all my movements.
Let thy love like stars shine in the darkness of my sleep and dawn in my awakening.
Let it burn in the flame of my desires
And flow in all currents of my own love.
Let me carry thy love in my life as a harp does its music, and give it back to thee at last with my life.
আরো দেখুন
হালদারগোষ্ঠী
Stories
এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না। অবস্থাও সচ্ছল, মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে, কিন্তু তবুও গোল বাধিল।
কেননা, সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত, একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না; যদি বা ঘটিত সেটাকে রবার দিয়া মুছিয়া সংশোধন করিলেই চলিয়া যাইত।
আরো দেখুন
একটা আষাঢ়ে গল্প
Stories
দূর সমুদ্রের মধ্যে একটা দ্বীপ। সেখানে কেবল তাসের সাহেব, তাসের বিবি, টেক্কা এবং গোলামের বাস। দুরি তিরি হইতে নহলা-দহলা পর্যন্ত আরো অনেক-ঘর গৃহস্থ আছে কিন্তু তাহারা উচ্চজাতীয় নহে।
টেক্কা সাহেব গোলাম এই তিনটেই প্রধান বর্ণ, নহলা-দহলারা অন্ত্যজ-- তাহাদের সহিত এক পঙ্‌ক্তিতে বসিবার যোগ্য নহে।
আরো দেখুন
শেষের রাত্রি
Stories
'মাসি !'
'ঘুমোও,যতীন,রাত হল যে ।'
আরো দেখুন