জীবিত ও মৃত
Stories
রানীহাটের জমিদার শারদাশংকরবাবুদের বাড়ির বিধবা বধূটির পিতৃকুলে কেহ ছিল না; সকলেই একে একে মারা গিয়াছে। পতিকুলেও ঠিক আপনার বলিতে কেহ নাই, পতিও নাই পুত্রও নাই। একটি ভাশুরপো, শারদাশংকরের ছোটো ছেলেটি, সেই তাহার চক্ষের মণি। সে জন্মিবার পর তাহার মাতার বহুকাল ধরিয়া শক্ত পীড়া হইয়াছিল, সেইজন্য এই বিধবা কাকি কাদম্বিনীই তাহাকে মানুষ করিয়াছে। পরের ছেলে মানুষ করিলে তাহার প্রতি প্রাণের টান আরো যেন বেশি হয়, কারণ তাহার উপরে অধিকার থাকে না; তাহার উপরে কোনো সামাজিক দাবি নাই, কেবল স্নেহের দাবি-- কিন্তু কেবলমাত্র স্নেহ সমাজের সমক্ষে আপনার দাবি কোনো দলিল অনুসারে সপ্রমাণ করিতে পারে না এবং চাহেও না, কেবল অনিশ্চিত প্রাণের ধনটিকে দ্বিগুণ ব্যাকুলতার সহিত ভালোবাসে।
বিধবার সমস্ত রুদ্ধ প্রীতি এই ছেলেটির প্রতি সিঞ্চন করিয়া একদিন শ্রাবণের রাত্রে কাদম্বিনীর অকস্মাৎ মৃত্যু হইল। হঠাৎ কী কারণে তাহার হৃৎস্পন্দন স্তব্ধ হইয়া গেল-- সময় জগতের আর-সর্বত্রই চলিতে লাগিল, কেবল সেই স্নেহকাতর ক্ষুদ্র কোমল বক্ষটির ভিতর সময়ের ঘড়ির কল চিরকালের মতো বন্ধ হইয়া গেল।
আরো দেখুন
110
Verses
দিগন্তে ওই বৃষ্টিহারা
      মেঘের দলে জুটি
লিখে দিল-- আজ ভুবনে
      আকাশ ভরা ছুটি।
আরো দেখুন
এখনো ঘোর
Songs
এখনো ঘোর ভাঙে না তোর যে, মেলে না তোর আঁখি,
কাঁটার বনে ফুল ফুটেছে রে  জানিস নে তুই তা কি।
ওরে অলস,   জানিস নে তুই তা কি?
জাগো এবার জাগো,     বেলা কাটাস না গো॥
কঠিন পথের শেষে    কোথায়   অগম বিজন দেশে
ও সেই    বন্ধু আমার একলা আছে গো,  দিস নে তারে ফাঁকি॥
প্রথম রবির তাপে    নাহয়     শুষ্ক গগন কাঁপে,
নাহয়     দগ্ধ বালু তপ্ত আঁচলে    দিক চারি দিক ঢাকি--
পিপাসাতে    দিক চারি দিক ঢাকি।
মনের মাঝে চাহি   দেখ্‌ রে      আনন্দ কি নাহি।
পথে    পায়ে পায়ে দুখের বাঁশরি    বাজবে তোরে ডাকি--
মধুর সুরে    বাজবে তোরে ডাকি॥
আরো দেখুন
প্রতিবেশিনী
Stories
আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশ্রুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা।
তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না -- পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না।
আরো দেখুন
মধ্যবর্তিনী
Stories
নিবারণের সংসার নিতান্তই সচরাচর রকমের, তাহাতে কাব্যরসের কোনো নামগন্ধ ছিল না। জীবনে উক্ত রসের যে কোনো আবশ্যক আছে, এমন কথা তাহার মনে কখনো উদয় হয় নাই। যেমন পরিচিত পুরাতন চটি-জোড়াটার মধ্যে পা দুটো দিব্য নিশ্চিন্তভাবে প্রবেশ করে, এই পুরাতন পৃথিবীটার মধ্যে নিবারণ সেইরূপ আপনার চিরাভ্যস্ত স্থানটি অধিকার করিয়া থাকে, সে সম্বন্ধে ভ্রমেও কোনোরূপ চিন্তা তর্ক বা তত্ত্বালোচনা করে না।
নিবারণ প্রাতঃকালে উঠিয়া গলির ধারে গৃহদ্বারে খোলাগায়ে বসিয়া অত্যন্ত নিরুদ্বিগ্নভাবে হুঁকাটি লইয়া তামাক খাইতে থাকে। পথ দিয়া লোকজন যাতায়াত করে, গাড়ি ঘোড়া চলে, বৈষ্ণব-ভিখারি গান গাহে, পুরাতন বোতল সংগ্রহকারী হাঁকিয়া চলিয়া যায়; এই সমস্ত চঞ্চল দৃশ্য মনকে লঘুভাবে ব্যাপৃত রাখে এবং যেদিন কাঁচা আম অথবা তপসি-মাছওয়ালা আসে, সেদিন অনেক দরদাম করিয়া কিঞ্চিৎ বিশেষরূপে রন্ধনের আয়োজন হয়। তাহার পর যথাসময়ে তেল মাখিয়া স্নান করিয়া আহারান্তে দড়িতে ঝুলানো চাপকানটি পরিয়া এক ছিলিম তামাক পানের সহিত নিঃশেষপূর্বক আর একটি পান মুখে পুরিয়া, আপিসে যাত্রা করে। আপিস হইতে ফিরিয়া আসিয়া সন্ধ্যেবেলাটা প্রতিবেশী রামলোচন ঘোষের বাড়িতে প্রশান্ত গম্ভীর ভাবে সন্ধ্যাযাপন করিয়া আহারান্তে রাত্রে শয়নগৃহে স্ত্রী হরসুন্দরীর সহিত সাক্ষাৎ হয়।
আরো দেখুন
মুক্তি
Stories
বিরহিণী তার ফুলবাগানের এক ধারে বেদী সাজিয়ে তার উপর মূর্তি গড়তে বসল। তার মনের মধ্যে যে মানুষটি ছিল বাইরে তারই প্রতিরূপ প্রতিদিন একটু একটু করে গড়ে, আর চেয়ে চেয়ে দেখে, আর ভাবে, আর চোখ দিয়ে জল পড়ে।
কিন্তু, যে রূপটি একদিন তার চিত্তপটে স্পষ্ট ছিল তার উপরে ক্রমে যেন ছায়া পড়ে আসছে। রাতের বেলাকার পদ্মের মতো স্মৃতির পাপড়িগুলি অল্প অল্প করে যেন মুদে এল।
আরো দেখুন
আঃ কাজ কী গোলমালে
Songs
        আঃ কাজ কী গোলমালে,
                 না হয় রাজাই সাজালে।
                 মরবার বেলায় মরবে ওটাই,থাকব ফাঁকতালে।
          রাম রাম হরি হরি,ওরা থাকতে আমি মরি!
                 তেমন তেমন দেখলে বাবা ঢুকব আড়ালে।
             ওরে চল্‌ তবে শিগ্‌গিরি,
                          আনি পূজোর সামিগ্‌গিরি।
                 কথায় কথায় রাত পোহাল,এমনি কাজের ছিরি।
আরো দেখুন
তোর আপন জনে
Songs
          তোর   আপন জনে ছাড়বে তোরে,
              তা ব'লে    ভাবনা করা চলবে না।
          ও তোর          আশালতা পড়বে ছিঁড়ে,
              হয়তো রে ফল ফলবে না ॥
আসবে পথে আঁধার নেমে,       তাই ব'লেই কি রইবি থেমে--
          ও তুই      বারে বারে জ্বালবি বাতি,
              হয়তো বাতি জ্বলবে না ॥
শুনে তোমার মুখের বাণী         আসবে ঘিরে বনের প্রাণী--
          হয়তো তোমার আপন ঘরে
              পাষাণ হিয়া গলবে না।
বদ্ধ দুয়ার দেখলি ব'লে  অমনি কি তুই আসবি চলে--
          তোরে       বারে বারে ঠেলতে হবে,
              হয়তো দুয়ার টলবে না ॥
আরো দেখুন
বিদূষক
Stories
কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনামানিকে হাতি বোঝাই হল।
দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন।
আরো দেখুন