ত্যাগ
Stories
ফাল্গুনের প্রথম পূর্ণিমায় আম্রমুকুলের গন্ধ লইয়া নব বসন্তের বাতাস বহিতেছে। পুষ্করিণীতীরের একটি পুরাতন লিচুগাছের ঘন পল্লবের মধ্য হইতে একটি নিদ্রাহীন অশ্রান্ত পাপিয়ার গান মুখুজ্যেদের বাড়ির একটি নিদ্রাহীন শয়নগৃহের মধ্যে গিয়া প্রবেশ করিতেছে। হেমন্ত কিছু চঞ্চলভাবে কখনো তার স্ত্রীর একগুচ্ছ চুল খোঁপা হইতে বিশ্লিষ্ট করিয়া লইয়া আঙুলে জড়াইতেছে, কখনো তাহার বালাতে চুড়িতে সংঘাত করিয়া ঠুং ঠুং শব্দ করিতেছে, কখনো তাহার মাথার ফুলের মালাটা টানিয়া স্বস্থানচ্যুত করিয়া তাহার মুখের উপর আনিয়া ফেলিতেছে। সন্ধ্যাবেলাকার নিস্তব্ধ ফুলের গাছটিকে সচেতন করিয়া তুলিবার জন্য বাতাস যেমন একবার এপাশ হইতে একবার ওপাশ হইতে একটু-আধটু নাড়াচাড়া করিতে থাকে, হেমন্তের কতকটা সেই ভাব।
কিন্তু কুসুম সম্মুখের চন্দ্রালোকপ্লাবিত অসীম শূন্যের মধ্যে দুই নেত্রকে নিমগ্ন করিয়া দিয়া স্থির হইয়া বসিয়া আছে। স্বামীর চাঞ্চল্য তাহাকে স্পর্শ করিয়া প্রতিহত হইয়া ফিরিয়া যাইতেছে। অবশেষে হেমন্ত কিছু অধীরভাবে কুসুমের দুই হাত নাড়া দিয়া বলিল, 'কুসুম, তুমি আছ কোথায়? তোমাকে যেন একটা মস্ত দুরবীন কষিয়া বিস্তর ঠাহর করিয়া বিন্দুমাত্র দেখা যাইবে এমনি দূরে গিয়া পড়িয়াছ। আমার ইচ্ছা, তুমি আজ একটু কাছাকাছি এসো। দেখো দেখি কেমন চমৎকার রাত্রি।'
আরো দেখুন
প্রশ্ন
Verses
                       বাঁশবাগানের গলি দিয়ে মাঠে
                            চলতেছিলেম হাটে।
                       তুমি তখন আনতেছিলে জল,
                            পড়ল আমার ঝুড়ির থেকে
                                একটি রাঙা ফল।
                       হঠাৎ তোমার পায়ের কাছে
                            গড়িয়ে গেল ভুলে,
                                নিই নি ফিরে তুলে।
                       দিনের শেষে দিঘির ঘাটে
                            তুলতে এলে জল,
                       অন্ধকারে কুড়িয়ে তখন
                            নিলে কি সেই ফল।
                       এই প্রশ্নই গানে গেঁথে
                            একলা বসে গাই,
                       বলার কথা আর কিছু মোর নাই।
আরো দেখুন
সকল ভয়ের ভয়
Songs
সকল ভয়ের ভয় যে তারে কোন্‌ বিপদে কাড়বে।
প্রাণের সঙ্গে যে প্রাণ গাঁথা কোন্‌ কালে সে ছাড়বে।
নাহয় গেল সবই ভেসে    রইবে তো সেই সর্বনেশে,
যে লাভ সকল ক্ষতির শেষে    সে লাভ কেবল বাড়বে।
সুখ নিয়ে, ভাই, ভয়ে থাকি,  আছে আছে দেয় সে ফাঁকি,
দুঃখে যে সুখ থাকে বাকি কেই বা সে সুখ নাড়বে?
যে পড়েছে পড়ার শেষে    ঠাঁই পেয়েছে তলায় এসে,
ভয় মিটেছে বেঁচেছে সে--  তারে কে আর পাড়বে।
আরো দেখুন
রাজরানী
Stories
কাল তোমার ভালো লাগে নি চণ্ডীকে নিয়ে বকুনি। ও একটা ছবি মাত্র। কড়া কড়া লাইনে আঁকা, ওতে রস নাই। আজ তোমাকে কিছু বলব, সে সত্যিকার গল্প।
কুসমি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই বলো। তুমি তো সেদিন বললে, বরাবর মানুষ সত্যি খবর দিয়ে এসেছে গল্পের মধ্যে মুড়ে। একেবারে ময়রার দোকান বানিয়ে রেখেছে। সন্দেশের মধ্যে ছানাকে চেনাই যায় না।
আরো দেখুন
26
Verses
এ আমার শরীরের শিরায় শিরায়
যে প্রাণ-তরঙ্গমালা রাত্রিদিন ধায়
সেই প্রাণ ছুটিয়াছে বিশ্বদিগ্‌বিজয়ে,
সেই প্রাণ অপরূপ ছন্দে তালে লয়ে
নাচিছে ভুবনে; সেই প্রাণ চুপে চুপে
বসুধার মৃত্তিকার প্রতি রোমকূপে
লক্ষ লক্ষ তৃণে তৃণে সঞ্চারে হরষে,
বিকাশে পল্লবে পুষ্পে-- বরষে বরষে
বিশ্বব্যাপী জন্মমৃত্যুসমুদ্রদোলায়
দুলিতেছে অন্তহীন জোয়ার-ভাঁটায়।
করিতেছি অনুভব, সে অনন্ত প্রাণ
অঙ্গে অঙ্গে আমারে করেছে মহীয়ান।
সেই যুগযুগান্তের বিরাট স্পন্দন
আমার নাড়ীতে আজি করিছে নর্তন।
আরো দেখুন
চার অধ্যায়
Novels
এলার মনে পড়ে তার জীবনের প্রথম সূচনা বিদ্রোহের মধ্যে। তার মা মায়াময়ীর ছিল বাতিকের ধাত, তাঁর ব্যবহারটা বিচার-বিবেচনার প্রশস্ত পথ ধরে চলতে পারত না। বেহিসাবি মেজাজের অসংযত ঝাপটায় সংসারকে তিনি যখন-তখন ক্ষুব্ধ করে তুলতেন, শাসন করতেন অন্যায় করে, সন্দেহ করতেন অকারণে। মেয়ে যখন অপরাধ অস্বীকার করত, ফস করে বলতেন, মিথ্যে কথা বলছিস। অথচ অবিমিশ্র সত্যকথা বলা মেয়ের একটা ব্যসন বললেই হয়। এজন্যেই সে শাস্তি পেয়েছে সব-চেয়ে বেশি। সকল রকম অবিচারের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতা তার স্বভাবে প্রবল হয়ে উঠেছে। তার মার কাছে মনে হয়েছে, এইটেই স্ত্রীধর্মনীতির বিরুদ্ধ।
একটা কথা সে বাল্যকাল থেকে বুঝেছে যে, দুর্বলতা অত্যাচারের প্রধান বাহন। ওদের পরিবারে যে-সকল আশ্রিত অন্নজীবী ছিল, যারা পরের অনুগ্রহ-নিগ্রহের সংকীর্ণ বেড়া-দেওয়া ক্ষেত্রের মধ্যে নিঃসহায়ভাবে আবদ্ধ তারাই কলুষিত করেছে ওদের পরিবারের আবহাওয়াকে, তারাই ওর মায়ের অন্ধ প্রভুত্বচর্চাকে বাধাবিহীন করে তুলেছে। এই অস্বাস্থ্যকর অবস্থার প্রতিক্রিয়ারূপেই ওর মনে অল্পবয়স থেকেই স্বাধীনতার আকাঙক্ষা এত দুর্দাম হয়ে উঠেছিল।
প্রহরশেষের আলোয় রাঙা
সেদিন চৈত্রমাস,
তোমার চোখে দেখেছিলাম
আমার সর্বনাশ।"
Upwards
Towards the peaks,
Towards the stars,
Towards the vast silence."
আরো দেখুন
স্ত্রীর পত্র
Stories
শ্রীচরণকমলেষু
আজ পনেরো বছর আমাদের বিবাহ হয়েছে,আজ পর্যন্ত তোমাকে চিঠি লিখি নি। চিরদিন কাছেই পড়ে আছি -- মুখের কথা অনেক শুনেছ, আমিও শুনেছি;চিঠি লেখবার মতো ফাঁকটুকু পাওয়া যায় নি।
আরো দেখুন
ওগো এত প্রেম-আশা
Songs
ওগো    এত প্রেম-আশা, প্রাণের তিয়াষা   কেমনে আছে সে পাশরি।
তবে    সেথা কি হাসে না চাঁদিনী যামিনী,   সেথা কি বাজে না বাঁশরি॥
     সখী,    হেথা সমীরণ লুটে ফুলবন,   সেথা কি পবন বহে না।
     সে যে   তার কথা মোরে কহে অনুক্ষণ,   মোর কথা তারে কহে না!
যদি     আমারে আজি সে ভুলিবে সজনী,    আমারে ভুলালে কেন সে।
ওগো    এ চিরজীবন করিব রোদন,   এই ছিল তার মানসে!
     যবে        কুসুমশয়নে নয়নে  নয়নে   কেটেছিল সুখরাতি রে,
     তবে   কে জানিত তার বিরহ আমার   হবে জীবনের সাথি রে।
যদি     মনে নাহি রাখে, সুখে যদি থাকে,   তোরা একবার দেখে আয়--
এই      নয়নের তৃষা, পরানের আশা,   চরণের তলে রেখে আয়।
     আর    নিয়ে যা রাধার বিরহের ভার,   কত আর ঢেকে রাখি বল্‌।
     আর    পারিস যদি তো আনিস হরিয়ে   এক-ফোঁটা তার আঁখিজল।
না না,       এত প্রেম, সখী, ভুলিতে যে পারে   তারে আর কেহ সেধো না।
আমি    কথা নাহি কব, দুখ লয়ে রব,   মনে মনে স'ব বেদনা।
     ওগো    মিছে মিছে, সখী, মিছে এই প্রেম,   মিছে পরানের বাসনা।
     ওগো    সুখদিন হায় যবে চলে যায়   আর ফিরে আর আসে না ॥
আরো দেখুন