10
Verses
LAY DOWN your lute, my love, leave your arms free to embrace me.
        Let your touch bring my overflowing heart to my body's utmost brink.
        Do not bend your neck and turn away your face, but offer up a kiss to me, which has been like some perfume long closed in a bud.
        Do not smother this moment under vain words, but let our hearts quake in a rush of silence sweeping all thoughts to the shoreless delight.
আরো দেখুন
মুক্তির উপায়
Stories
ফকিরচাঁদ বাল্যকাল হইতেই গম্ভীর প্রকৃতি। বৃদ্ধসমাজে তাহাকে কখনোই বেমানান দেখাইত না। ঠাণ্ডা জল, হিম, এবং হাস্যপরিহাস তাহার একেবারে সহ্য হইত না। একে গম্ভীর, তাহাতে বৎসরের মধ্যে অধিকাংশ সময়েই মুখমণ্ডলের চারি দিকে কালো পশমের গলাবন্ধ জড়াইয়া থাকাতে তাহাকে ভয়ংকর উঁচু দরের লোক বলিয়া বোধ হইত। ইহার উপরে, অতি অল্প বয়সেই তাহার ওষ্ঠাধর এবং গণ্ডস্থল প্রচুর গোঁফ-দাড়িতে আচ্ছন্ন হওয়াতে সমস্ত মুখের মধ্যে হাস্যবিকাশের স্থান আর তিলমাত্র অবশিষ্ট রহিল না।
স্ত্রী হৈমবতীর বয়স অল্প এবং তাহার মন পার্থিব বিষয়ে সম্পূর্ণ নিবিষ্ট। সে বঙ্কিমবাবুর নভেল পড়িতে চায় এবং স্বামীকে ঠিক দেবতার ভাবে পূজা করিয়া তাহার তৃপ্তি হয় না। সে একটুখানি হাসিখুশি ভালোবাসে, এবং বিকচোন্মুখ পুষ্প যেমন বায়ুর আন্দোলন এবং প্রভাতের আলোকের জন্য ব্যাকুল হয় সেও তেমনি এই নবযৌবনের সময় স্বামীর নিকট হইতে আদর এবং হাস্যামোদ যথাপরিমাণে প্রত্যাশা করিয়া থাকে। কিন্তু, স্বামী তাহাকে অবসর পাইলেই ভাগবত পড়ায়, সন্ধ্যাবেলায় ভগবদ্‌গীতা শুনায়, এবং তাহার আধ্যাত্মিক উন্নতির উদ্দেশে মাঝে মাঝে শারীরিক শাসন করিতেও ত্রুটি করে না। যেদিন হৈমবতীর বালিশের নীচে হইতে কৃষ্ণকান্তের উইল বাহির হয় সেদিন উক্ত লঘুপ্রকৃতি যুবতীকে সমস্ত রাত্রি অশ্রুপাত করাইয়া তবে ফকির ক্ষান্ত হয়। একে নভেল-পাঠ, তাহাতে আবার পতিদেবকে প্রতারণা। যাহা হউক, অবিশ্রান্ত আদেশ অনুদেশ উপদেশ ধর্মনীতি এবং দণ্ডনীতির দ্বারা অবশেষে হৈমবতীর মুখের হাসি, মনের সুখ এবং যৌবনের আবেগ একেবারে নিষ্কর্ষণ করিয়া ফেলিতে স্বামীদেবতা সম্পূর্ণ কৃতকার্য হইয়াছিলেন।
আরো দেখুন
অবশেষে
Verses
যৌবনের অনাহূত রবাহূত ভিড়-করা ভোজে
          কে ছিল কাহার খোঁজে,
     ভালো করে মনে ছিল না তা।
          ক্ষণে ক্ষণে হয়েছে আসন পাতা,
               ক্ষণে ক্ষণে নিয়েছে সরায়ে।
মালা কেহ গিয়েছে পরায়ে
     জেনেছিনু, তবু কে যে জানি নাই তারে।
          মাঝখানে বারে বারে
               কত কী যে এলোমেলো
          কভু গেল, কভু এল।
     সার্থকতা ছিল যেইখানে
ক্ষণিক পরশি তারে চলে গেছি জনতার টানে।
          সে যৌবনমধ্যাহ্নের অজস্রের পালা
শেষ হয়ে গেছে আজি, সন্ধ্যার প্রদীপ হল জ্বালা।
     অনেকের মাঝে যারে কাছে দেখে হয় নাই দেখা
               একেলার ঘরে তারে একা
     চেয়ে দেখি, কথা কই চুপে চুপে,
        পাই তারে না-পাওয়ার রূপে।
আরো দেখুন
নাম্নী - উষসী
Verses
ভোরের আগের যে প্রহরে
       স্তব্ধ অন্ধকার-'পরে
সুপ্তি-অন্তরাল হতে দূর সূর্যোদয়
              বনময়
পাঠায় নূতন জাগরণী,
              অতি মৃদু শিহরণী
              বাতাসের গায়ে;
          পাখির কুলায়ে
অস্পষ্ট কাকলি ওঠে আধোজাগা স্বরে,
              স্তম্ভিত আগ্রহভরে
অব্যক্ত বিরাট আশা ধ্যানে মগ্ন দিকে দিগন্তরে--
ও কোন্‌ তরুণ প্রাণে করিয়াছে ভর,
              অন্তর্গূঢ় সে প্রহর
              আত্ম-অগোচর।
          চিত্ত তার আপনার গভীর অন্তরে
              নিঃশব্দে প্রতীক্ষা করে
              পরিপূর্ণ সার্থকতা লাগি।
          সুপ্তি-মাঝে প্রতীক্ষিয়া আছে জাগি
              নির্মল নির্ভয়
              কোন্‌ দিব্য অভ্যুদয়।
কোন্‌ সে পরমা মুক্তি, কোন্‌ সেই আপনার
     দীপ্যমান মহা আবিষ্কার।
প্রভাতমহিমা ওর সম্‌বৃত রয়েছে নিশ্চেতনে,
     তাহারি আভাস পাই মনে।
          আমি ওই রথশব্দ শুনি,
সোনার বীণার তারে সংগীত আনিছে কোন্‌ গুণী।
              জাগিবে হৃদয়,
     ভুবন তাহার হবে বাণীময়;
          মানসকমল একমনা
নবোদিত তপনের করিবে প্রথম অভ্যর্থনা।
        জাগিবে নূতন দিবা উজ্জ্বল উল্লাসে
বর্ণে গন্ধে গানে প্রাণে মহোৎসবে তার চারি পাশে।
     নিরুদ্ধ চেতনা হতে হবে চ্যুত
     লালসা-আবেশে জড়ীভূত
          স্বপ্নের শৃঙ্খলপাশ।
বিলুপ্ত করিবে দূরে উন্মুক্ত বাতাস
দুর্বল দীপের গাঢ় বিষতপ্ত কলুষনিশ্বাস।
     আলোকের জয়ধ্বনি উঠিবে উচ্ছ্বসি--
          নাম কি উষসী।
আরো দেখুন
প্রতিবেশিনী
Stories
আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশ্রুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা।
তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না -- পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না।
আরো দেখুন
একটি চাউনি
Stories
গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে।
এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে।
আরো দেখুন