মানভঞ্জন
Stories
রমানাথ শীলের ত্রিতল অট্টালিকায় সর্ব্বোচ্চ তলের ঘরে গোপীনাথ শীলের স্ত্রী গিরিবালা বাস করে। শয়নকক্ষের দক্ষিণ দ্বারের সম্মুখে ফুলের টবে গুটিকতক বেলফুল এবং গোলাপফুলের গাছ; ছাতটি উচ্চ প্রাচীর দিয়া ঘেরা-- বহিরদৃশ্য দেখিবার জন্য প্রাচীরের মাঝে মাঝে একটি করিয়া ইট ফাঁক দেওয়া আছে। শোবার ঘরে নানা বেশ এবং বিবেশ-বিশিষ্ট বিলাতি নারীমূর্তির বাঁধানো এন্‌গ্রেভিং টাঙানো রহিয়াছে; কিন্তু প্রবেশদ্বারের সম্মুখবর্তী বৃহৎ আয়নার উপরে ষোড়শী গৃহস্বামিনীর যে প্রতিবিম্বটি পড়ে তাহা দেয়ালের কোনো ছবি অপেক্ষা সৌন্দর্যে ন্যূন নহে।
গিরিবালার সৌন্দর্য অকস্মাৎ আলোকরশ্মির ন্যায়, বিস্ময়ের ন্যায়, নিদ্রাভঙ্গে চেতনার ন্যায়, একেবারে চকিতে আসিয়া আঘাত করে এবং এক আঘাতে অভিভূত করিয়া দিতে পারে। তাহাকে দেখিলে মনে হয়, ইহাকে দেখিবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না; চারি দিকে এবং চিরকাল যেরূপ দেখিয়া আসিতেছি এ একেবারে হঠাৎ তাহা হইতে অনেক স্বতন্ত্র।
আরো দেখুন
রাসমণির ছেলে
Stories
কালীপদর মা ছিলেন রাসমণি-- কিন্তু তাঁহাকে দায়ে পড়িয়া বাপের পদ গ্রহণ করিতে হইয়াছিল। কারণ, বাপ মা উভয়েই মা হইয়া উঠিলে ছেলের পক্ষে সুবিধা হয় না। তাঁহার স্বামী ভবানীচরণ ছেলেকে একেবারেই শাসন করিতে পারেন না।
তিনি কেন এত বেশি আদর দেন তাহা জিজ্ঞাসা করিলে তিনি যে উত্তর দিয়া থাকেন তাহা বুঝিতে হইলে পূর্ব ইতিহাস জানা চাই।
আরো দেখুন
সদর ও অন্দর
Stories
বিপিনকিশোর ধনীগৃহে জন্মিয়াছিলেন, সেইজন্যে ধন যে পরিমাণে ব্যয় করিতে জানিতেন তাহার অর্ধেক পরিমাণেও উপার্জন করিতে শেখেন নাই। সুতরাং যে গৃহে জন্ম সে গৃহে দীর্ঘকাল বাস করা ঘটিল না।
সুন্দর সুকুমারমূর্তি তরুণ যুবক, গানবাজনায় সিদ্ধহস্ত, কাজকর্মে নিরতিশয় অপটু; সংসারের পক্ষে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। জীবনযাত্রার পক্ষে জগন্নাথদেবের রথের মতো অচল; যেরূপ বিপুল আয়োজনে চলিতে পারেন সেরূপ আয়োজন সম্প্রতি বিপিনকিশোরের আয়ত্তাতীত।
আরো দেখুন
খাতা
Stories
লিখিতে শিখিয়া অবধি উমা বিষম উপদ্রব আরম্ভ করিয়াছে। বাড়ির প্রত্যেক ঘরের দেয়ালে কয়লা দিয়া বাঁকা লাইন কাটিয়া বড়ো বড়ো কাঁচা অক্ষরে কেবলই লিখিতেছে--জল পড়ে, পাতা নড়ে।
তাহার বউঠাকুরানীর বালিশের নিচে 'হরিদাসের গুপ্তকথা' ছিল, সেটা সন্ধান করিয়া বাহির করিয়া তাহার পাতায় পাতায় পেনসিল দিয়া লিখিয়াছে--কালো জল, লাল ফুল।
আরো দেখুন
বড়ো খবর
Stories
কুসমি বললে, তুমি যে বললে এখনকার কালের বড়ো বড়ো সব খবর তুমি আমাকে শোনাবে, নইলে আমার শিক্ষা হবে কী রকম ক'রে, দাদামশায়।
দাদামশায় বললে, বড়ো খবরের ঝুলি বয়ে বেড়াবে কে বলো, তার মধ্যে যে বিস্তর রাবিশ।
আরো দেখুন
পরিশিষ্ট
Stories
(ছোটো গল্প)
সাহিত্যে বড়ো গল্প ব'লে যে-সব প্রগল্‌ভ বাণীবাহন দেখা যায় তারা প্রাক্‌ভূতাত্ত্বিক যুগের প্রাণীদের মতো-- তাদের প্রাণের পরিমাণ যত দেহের পরিমাণ তার চার গুণ, তাদের লেজটা কলেবরের অত্যুক্তি।
আরো দেখুন
প্রতিবেশিনী
Stories
আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশ্রুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা।
তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না -- পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না।
আরো দেখুন
স্নেহস্মৃতি
Verses
      সেই চাঁপা, সেই বেলফুল,
কে তোরা আজি এ প্রাতে    এনে দিলি মোর হাতে--
         জল আসে আঁখিপাতে, হৃদয় আকুল।
      সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
কত দিন, কত সুখ,       কত হাসি, স্নেহমুখ,
        কত কী পড়িল মনে প্রভাতবাতাসে--
স্নিগ্ধ প্রাণ সুধাভরা       শ্যামল সুন্দর ধরা,
        তরুণ অরুণরেখা নির্মল আকাশে।
সকলি জড়িত হয়ে         অন্তরে যেতেছে বয়ে,
        ডুবে যায় অশ্রুজলে হৃদয়ের কূল--
মনে পড়ে তারি সাথে          জীবনের কত প্রাতে
      সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
বড়ো বেসেছিনু ভালো           এই শোভা, এই আলো,
        এ আকাশ, এ বাতাস, এই ধরাতল।
কতদিন বসি তীরে       শুনেছি নদীর নীরে
        নিশীথের সমীরণে সংগীত তরল।
কতদিন পরিয়াছি          সন্ধ্যাবেলা মালাগাছি
        স্নেহের হস্তের গাঁথা বকুলমুকুল--
বড়ো ভালো লেগেছিল             যেদিন এ হাতে দিল
          সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
কত শুনিয়াছি বাঁশি,           কত দেখিয়াছি হাসি,
        কত উৎসবের দিনে কত যে কৌতুক।
কত বরষার বেলা       সঘন আনন্দ-মেলা,
        কত গানে জাগিয়াছে সুনিবিড় সুখ।
এ প্রাণ বীণার মতো              ঝংকারি উঠেছে কত
        আসিয়াছে শুভক্ষণ কত অনুকূল--
মনে পড়ে তারি সাথে       কতদিন কত প্রাতে
         সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
সেই-সব এই-সব,       তেমনি পাখির রব,
        তেমনি চলেছে হেসে জাগ্রত সংসার।
দক্ষিণ-বাতাসে-মেশা       ফুলের গন্ধের নেশা
        দিকে দিকে ব্যাকুলতা করিছে সঞ্চার।
অবোধ অন্তরে তাই       চারি দিক -পানে চাই,
        অকস্মাৎ আনমনে জেগে উঠে ভুল--
বুঝি সেই স্নেহসনে          ফিরে এল এ জীবনে
        সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
আনন্দপাথেয় যত            সকলি হয়েছে গত,
       দুটি রিক্তহস্তে মোর আজি কিছু নাই।
তবু সম্মুখের পানে       চলেছি কঠিন প্রাণে,
      যেতে হবে গম্যস্থানে, ফিরে না তাকাই।
দাঁড়ায়ো না, চলো চলো,         কী আছে কে জানে বলো
       ধূলিময় শুষ্কপথ, সংশয় বিপুল--
শুধু জানিয়াছি সার                কভু ফুটিবে না আর
       সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
আমি কিছু নাহি চাই,         যাহা দিবে লব তাই
       চিরসুখ এ জগতে কে পেয়েছে কবে।
প্রাণে লয়ে উপবাস         কাটে কত বর্ষমাস,
       তৃষিত তাপিত চিত্ত কত আছে ভবে।
শুধু এক ভিক্ষা আছে,     যেদিন আসিবে কাছে
       জীবনের পথশেষে মরণ অকূল
সেদিন স্নেহের সাথে        তুলে দিয়ো এই হাতে
        সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
হয়তো মৃত্যুর পারে           ঢাকা সব অন্ধকারে,
       স্বপ্নহীন চিরসুপ্তি চক্ষে চেপে রহে,
গীতগান হেথাকার          সেথা নাহি বাজে আর,
       হেথাকার বনগন্ধ সেথা নাহি বহে।
কে জানে সকল স্মৃতি          জীবনের সব প্রীতি
       জীবনের অবসানে হবে কি উন্‌মূল?
জানি নে গো এই হাতে          নিয়ে যাব কিনা সাথে
         সেই চাঁপা! সেই বেলফুল!
আরো দেখুন
কথিকা
Stories
এবার মনে হল, মানুষ অন্যায়ের আগুনে আপনার সমস্ত ভাবী কালটাকে পুড়িয়ে কালো করে দিয়েছে, সেখানে বসন্ত কোনোদিন এসে আর নতুন পাতা ধরাতে পারবে না।
মানুষ অনেক দিন থেকে একখানি আসন তৈরি করছে। সেই আসনই তাকে খবর দেয় যে, তার দেবতা আসবেন, তিনি পথে বেরিয়েছেন।
আরো দেখুন
আজি বর্ষারাতের শেষে
Songs
     আজি   বর্ষারাতের শেষে
সজল মেঘের কোমল কালোয় অরুণ আলো মেশে॥
বেণুবনের মাথায় মাথায়   রঙ লেগেছে পাতায় পাতায়,
রঙের ধারায় হৃদয় হারায়,   কোথা যে যায় ভেসে॥
          এই ঘাসের ঝিলিমিলি,
তার সাথে মোর প্রাণের কাঁপন এক তালে যায় মিলি।
মাটির প্রেমে আলোর রাগে   রক্তে আমার পুলক লাগে--
   বনের সাথে মন যে মাতে,   ওঠে আকুল হেসে॥
আরো দেখুন
মুক্তকুন্তলা
Stories
আমার খুদে বন্ধুরা এসে হাজির তাদের নালিশ নিয়ে। বললে, দাদামশায় তুমি কি আমাদের ছেলেমানুষ মনে কর।
তা, ভাই, ঐ ভুলটাই তো করেছিলুম। আজকাল নিজেরই বয়েসটার ভুল হিসেব করতে শুরু করেছি।
আরো দেখুন