পণরক্ষা
Stories
বংশীবদন তাহার ভাই রসিককে যেমন ভালোবাসিত এমন করিয়া সচরাচর মাও ছেলেকে ভালোবাসিতে পারে না। পাঠশালা হইতে রসিকের আসিতে যদি কিছু বিলম্ব হইত তবে সকল কাজ ফেলিয়া সে তাহার সন্ধানে ছুটিত। তাহাকে না খাওয়াইয়া সে নিজে খাইতে পারিত না। রসিকের অল্প কিছু অসুখবিসুখ হইলেই বংশীর দুই চোখ দিয়া ঝর্‌ঝর্‌ করিয়া জল ঝরিতে থাকিত।
রসিক বংশীর চেয়ে ষোলো বছরের ছোটো। মাঝে যে কয়টি ভাইবোন জন্মিয়াছিল সবগুলিই মারা গিয়াছে। কেবল এই সব-শেষেরটিকে রাখিয়া, যখন রসিকের এক বছর বয়স, তখন তাহার মা মারা গেল এবং রসিক যখন তিন বছরের ছেলে তখন সে পিতৃহীন হইল। এখন রসিককে মানুষ করিবার ভার একা এই বংশীর উপর।
আরো দেখুন
সাত দেশেতে খুঁজে খুঁজে গো
Songs
         সাত দেশেতে খুঁজে খুঁজে গো
                                শেষকালে এই ঠাঁই
                            ভাগ্যে দেখা পেলেম রক্ষা তাই।
আরো দেখুন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
Stories
রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল, বড়ো বড়ো চোখ, শ্যামচিক্কণ ছিপ্‌ছিপে বালক। জাতিতে কায়স্থ। তাহার প্রভুরাও কায়স্থ। বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল।
সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে, স্কুল ছাড়িয়া কলেজে, অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্‌সেফিতে প্রবেশ করিয়াছে। রাইচরণ এখনো তাঁহার ভৃত্য।
আরো দেখুন
বঞ্চিত
Verses
ফুলিদের বাড়ি থেকে এসেই দেখি
      পোস্টকার্ডখানা আয়নার সামনেই,
            কখন এসেছে জানি নে তো।
মনে হল, সময় নেই একটুও;
            গাড়ি ধরতে পারব না বুঝি।
                 বাক্স থেকে টাকা বের করতে গিয়ে
                       ছড়িয়ে পড়ল সিকি দুয়ানি,
                    কিছু কুড়োলেম, কিছু রইল বা,
                          গ'নে ওঠা হল না।
                 কাপড় ছাড়ি কখন।
            নীল রঙের রেশমি রুমালখানা
      দিলেম মাথার উপর তুলে কাঁটায় বিঁধে।
    চুলটাকে জড়িয়ে নিলুম কোনোমতে
          টবের গাছ থেকে তুলে নিলুম
                চন্দ্রমল্লিকা বাসন্তীরঙের।
স্টেশনে এসে দেখি গাড়ি আসেই না,
      জানি নে কতক্ষণ গেল--
            পাঁচ মিনিট, হয়তো বা পঁচিশ মিনিট।
গাড়িতে উঠে দেখি চেলি-পরা বিয়ের কনে দলে-বলে;
         আমার চোখে কিছুই পড়ে না যেন,
     খানিকটা লাল রঙের কুয়াশা, একখানা ফিকে ছবি।
      গাড়ি চলেছে ঘটর ঘটর, বেজে উঠছে বাঁশি,
               উড়ে আসছে কয়লার গুঁড়ো,
                    কেবলই মুখ মুছছি রুমালে।
            কোন্‌-এক স্টেশনে
    বাঁকে করে ছানা এনেছে গয়লার দল।
         গাড়িটাকে দেরি করাচ্ছে মিছিমিছি।
             হুইস্‌ল্‌ দিলে শেষকালে;
         সাড়া পড়ল চাকাগুলোয়, চলল গাড়ি।
             গাছপালা, ঘরবাড়ি, পানাপুকুর
          ছুটেছে জানলার দু ধারে পিছনের দিকে --
      পৃথিবী যেন কোথায় কী ফেলে এসেছে ভুলে,
                 ফিরে আর পায় কি-না পায়।
              গাড়ি চলেছে ঘটর ঘটর।
      মাঝখানে অকারণে গাড়িটা থামল অনেক ক্ষণ,
      খেতে খেতে খাবার গলায় বেধে যাবার মতো।
                            আবার বাঁশি বাজল,
                    আবার চলল গাড়ি ঘটর ঘটর।
                          শেষে দেখা দিল হাবড়া স্টেশন।
     চাইলেম না জানালার বাইরে,
                   মনে স্থির করে আছি --
খুঁজতে খুঁজতে আমাকে আবিষ্কার করবে একজন এসে,
         তার পরে দুজনের হাসি।
বিয়ের কনে, টোপর-হাতে আত্মীয়স্বজন,
         সবাই গেল চলে।
      কুলি এসে চাইলে মুখের দিকে,
   দেখলে গাড়ির ভিতরটাতে মুখ বাড়িয়ে,
            কিছুই নেই।
যারা কনেকে নিতে এসেছিল গেল চলে।
         যে জনস্রোত এ মুখে আসছিল
                 ফিরল গেটের দিকে।
গট গট করে চলতে চলতে
গার্ড্‌ আমার জানালার দিকে একটু তাকালে,
ভাবলে মেয়েটা নামে না কেন।
     মেয়েটাকে নামতেই হল।
এই আগন্তুকের ভিড়ের মধ্যে
আমি একটিমাত্র খাপছাড়া।
      মনে হল প্লাটফর্‌ম্‌টার
এক প্রান্ত থেকে আর-এক প্রান্ত প্রশ্ন করছে আমাকে;
         জবাব দিচ্ছি নীরবে,
                 "না এলেই হত।"
         আর-একবার পড়লুম পোস্টকার্ড্‌খানা --
                       ভুল করি নি তো?
এখন ফিরতি গাড়ি নেই একটাও।
যদি বা থাকত, তবু কি ...
বুকের মধ্যে পাক খেয়ে বেড়াচ্ছে
            কত রকমের "হয়তো'--
                 সবগুলিই সাংঘাতিক।
      বেরিয়ে এসে তাকিয়ে রইলুম ব্রিজটার দিকে।
            রাস্তার লোক কী ভাবলে জানি নে।
                  সামনে ছিল বাস্‌, উঠে পড়লুম।
                       ফেলে দিলুম চন্দ্রমল্লিকাটা।
আরো দেখুন
ভাইফোঁটা
Stories
শ্রাবণ মাসটা আজ যেন এক রাত্রে একেবারে দেউলে হইয়া গেছে। সমস্ত আকাশে কোথাও একটা ছেঁড়া মেঘের টুকরোও নাই।
আশ্চর্য এই যে, আমার সকালটা আজ এমন করিয়া কাটিতেছে। আমার বাগানের মেহেদি-বেড়ার প্রান্তে শিরীষগাছের পাতাগুলো ঝল্‌মল্‌ করিয়া উঠিতেছে, আমি তাহা তাকাইয়া দেখিতেছি। সর্বনাশের যে মাঝ-দরিয়ায় আসিয়া পৌঁছিয়াছি এটা যখন দূরে ছিল তখন ইহার কথা কল্পনা করিয়া কত শীতের রাত্রে সর্বাঙ্গে ঘাম দিয়াছে,কত গ্রীষ্মের দিনে হাত-পায়ের তেলো ঠাণ্ডা হিম হইয়া গেছে। কিন্তু আজ সমস্ত ভয়ভাবনা হইতে এমনি ছুটি পাইয়াছি যে, ঐ যে আতাগাছের ডালে একটা গিরগিটি স্থির হইয়া শিকার লক্ষ্য করিতেছে,সেটার দিকেও আমার চোখ রহিয়াছে।
আরো দেখুন
চন্দনী
Stories
জানোই তো সেদিন কী কাণ্ড। একেবারে তলিয়ে গিয়েছিলেম আর-কি, কিন্তু তলায় কোথায় যে ফুটো হয়েছে তার কোনো খবর পাওয়া যায় নি। না মাথা ধরা, না মাথা ঘোরা, না গায়ে কোথাও ব্যথা, না পেটের মধ্যে একটুও খোঁচাখুঁচির তাগিদ। যমরাজার চরগুলি খবর আসার সব দরজাগুলো বন্ধ করে ফিস্‌ ফিস্‌ ক'রে মন্ত্রণা করছিল। এমন সুবিধে আর হয় না! ডাক্তারেরা কলকাতায় নব্বই মাইল দূরে। সেদিনকার এই অবস্থা।
সন্ধে হয়ে এসেছে। বারান্দায় বসে আছি। ঘন মেঘ ক'রে এল। বৃষ্টি হবে বুঝি। আমার সভাসদ্‌রা বললে, ঠাকুরদা, একসময় শুনেছি তুমি মুখে মুখে গল্প ব'লে শোনাতে, এখন শোনাও না কেন।
আরো দেখুন
ভিখারিনী
Stories
কাশ্মীরের দিগন্তব্যাপী জলদস্পর্শী শৈলমালার মধ্যে একটি ক্ষুদ্র গ্রাম আছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কুটিরগুলি আঁধার আঁধার ঝোপঝাপের মধ্যে প্রচ্ছন্ন। এখানে সেখানে শ্রেণীবদ্ধ বৃক্ষচ্ছায়ার মধ্য দিয়া একটি-দুইটি শীর্ণকায় চঞ্চল ক্রীড়াশীল নির্ঝর গ্রাম্য কুটিরের চরণ সিক্ত করিয়া, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপলগুলির উপর দ্রুত পদক্ষেপ করিয়া এবং বৃক্ষচ্যুত ফুল ও পত্রগুলিকে তরঙ্গে তরঙ্গে উলটপালট করিয়া, নিকটস্থ সরোবরে লুটাইয়া পড়িতেছে। দূরব্যাপী নিস্তরঙ্গ সরসী--লাজুক উষার রক্তরাগে, সূর্যের হেমময় কিরণে, সন্ধ্যার স্তরবিন্যস্ত মেঘমালার প্রতিবিম্বে, পূর্ণিমার বিগলিত জ্যোৎস্নাধারায় বিভাসিত হইয়া শৈললক্ষ্মীর বিমল দর্পণের ন্যায় সমস্ত দিনরাত্রি হাস্য করিতেছে। ঘনবৃক্ষবেষ্টিত অন্ধকার গ্রামটি শৈলমালার বিজন ক্রোড়ে আঁধারের অবগুণ্ঠন পরিয়া পৃথিবীর কোলাহল হইতে একাকী লুকাইয়া আছে। দূরে দূরে হরিৎ শস্যময় ক্ষেত্রে গাভী চরিতেছে, গ্রাম্য বালিকারা সরসী হইতে জল তুলিতেছে, গ্রামের আঁধার কুঞ্জে বসিয়া অরণ্যের ম্রিয়মাণ কবি বউকথাকও মর্মের বিষণ্ন গান গাহিতেছে। সমস্ত গ্রামটি যেন একটি কবির স্বপ্ন।
এই গ্রামে দুইটি বালক-বালিকার বড়োই প্রণয় ছিল। দুইটিতে হাত ধরাধরি করিয়া গ্রাম্যশ্রীর ক্রোড়ে খেলিয়া বেড়াইত; বকুলের কুঞ্জে কুঞ্জে দুইটি অঞ্চল ভরিয়া ফুল তুলিত; শুকতারা আকাশে ডুবিতে না ডুবিতে, উষার জলদমালা লোহিত না হইতে হইতেই সরসীর বক্ষে তরঙ্গ তুলিয়া ছিন্ন কমলদুটির ন্যায় পাশাপাশি সাঁতার দিয়া বেড়াইত। নীরব মধ্যাহ্নে স্নিগ্ধতরুচ্ছায় শৈলের সর্বোচ্চ শিখরে বসিয়া ষোড়শবর্ষীয় অমরসিংহ ধীর মৃদুলস্বরে রামায়ণ পাঠ করিত, দুর্দান্ত রাবণ-কর্তৃক সীতাহরণ পাঠ করিয়া ক্রোধে জ্বলিয়া উঠিত। দশমবর্ষীয়া কমলদেবী তাহার মুখের পানে স্থির হরিণনেত্র তুলিয়া নীরবে শুনিত, অশোকবনে সীতার বিলাপকাহিনী শুনিয়া পক্ষ্ণরেখা অশ্রুসলিলে সিক্ত করিত। ক্রমে গগনের বিশাল প্রাঙ্গণে তারকার দীপ জ্বলিলে, সন্ধ্যার অন্ধকার-অঞ্চলে জোনাকি ফুটিয়া উঠিলে, দুইটিতে হাত ধরাধরি করিয়া কুটিরে ফিরিয়া আসিত। কমলদেবী বড়ো অভিমানিনী ছিল; কেহ তাহাকে কিছু বলিলে সে অমরসিংহের বক্ষে মুখ লুকাইয়া কাঁদিত। অমর তাহাকে সান্ত্বনা দিলে, তাহারঅশ্রুজল মুছাইয়া দিলে, আদর করিয়া তাহার অশ্রুসিক্ত কপোল চুম্বন করিলে, বালিকার সকল যন্ত্রণা নিভিয়া যাইত। পৃথিবীর মধ্যে তাহার আর কেহই ছিল না; কেবল একটি বিধবা মাতা ছিল আর স্নেহময় অমরসিংহ ছিল, তাহারাই বালিকাটির অভিমান সান্ত্বনা ও ক্রীড়ার স্থল।
আরো দেখুন
যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
Stories
এক সময় যজ্ঞেশ্বরের অবস্থা ভালোই ছিল। এখন প্রাচীন ভাঙা কোঠাবাড়িটাকে সাপব্যাঙ-বাদুড়ের হস্তে সমর্পণ করিয়া খোড়ো ঘরে ভগবদগীতা লইয়া কালযাপন করিতেছেন।
এগারো বৎসর পূর্বে তাঁহার মেয়েটি যখন জন্মিয়াছিল তখন বংশের সৌভাগ্যশশী কৃষ্ণপক্ষের শেষকলায় আসিয়া ঠেকিয়াছে। সেইজন্য সাধ করিয়া মেয়ের নাম রাখিয়াছিলেন কমলা। ভাবিয়াছিলেন, যদি এই কৌশলে ফাঁকি দিয়া চঞ্চলা লক্ষ্মীকে কন্যারূপে ঘরে ধরিয়া রাখিতে পারেন। লক্ষ্মী সে ফন্দিতে ধরা দিলেন না, কিন্তু মেয়েটির মুখে নিজের শ্রী রাখিয়া গেলেন। বড়ো সুন্দরী মেয়ে।
আরো দেখুন
নাথ হে, প্রেমপথে
Songs
নাথ হে, প্রেমপথে সব বাধা ভাঙিয়া দাও।
          মাঝে কিছু রেখো না, রেখো না--
              থেকো না, থেকো না দূরে ॥
নির্জনে সজনে অন্তরে বাহিরে
              নিত্য তোমারে হেরিব ॥
আরো দেখুন
27
Verses
বাক্যের যে ছন্দোজাল শিখেছি গাঁথিতে
সেই জালে ধরা পড়ে
অধরা যা চেতনার সতর্কতা ছিল এড়াইয়া
আগোচরে মনের গহনে।
নামে বাঁধিবারে চাই, না মানে নামের পরিচয়।
মূল্য তার থাকে যদি
দিনে দিনে হয় তাহা জানা
হাতে হাতে ফিরে।
অকস্মাৎ পরিচয়ে বিস্ময় তাহার
ভুলায় যদি বা,
লোকালয়ে নাহি পায় স্থান,
মনের সৈকততটে বিকীর্ণ সে রহে কিছুকাল,
লালিত যা গোপনের
প্রকাশ্যের অপমানে
দিনে দিনে মিশায় বালুতে।
পণ্যহাটে অচিহ্নিত পরিত্যক্ত রিক্ত এ জীর্ণতা
যুগে যুগে কিছু কিছু দিয়ে গেছে অখ্যাতের দান
সাহিত্যের ভাষা-মহাদ্বীপে
প্রাণহীন প্রবালের মতো।
আরো দেখুন
13
Verses
              আজ মনে হয় সকলেরই মাঝে
                      তোমারেই ভালোবেসেছি।
              জনতা বাহিয়া চিরদিন ধরে
                  শুধু তুমি আমি এসেছি।
                  দেখি চারি দিক-পানে
                  কী যে জেগে ওঠে প্রাণে--
              তোমার আমার অসীম মিলন
                  যেন গো সকল খানে।
              কত যুগ এই আকাশে যাপিনু
                  সে কথা অনেক ভুলেছি।
              তারায় তারায় যে আলো কাঁপিছে
                  সে আলোকে দোঁহে দুলেছি।
              তৃণরোমাঞ্চ ধরণীর পানে
                  আশ্বিনে নব আলোকে
              চেয়ে দেখি যবে আপনার মনে
                  প্রাণ ভরি উঠে পুলকে।
                  মনে হয় যেন জানি
                  এই অকথিত বাণী,
মূক মেদিনীর মর্মের মাঝে
          জাগিছে সে ভাবখানি।
এই প্রাণে-ভরা মাটির ভিতরে
          কত যুগ মোরা যেপেছি,
কত শরতের সোনার আলোকে
          কত তৃণে দোঁহে কেঁপেছি।
প্রাচীন কালের পড়ি ইতিহাস
          সুখের দুখের কাহিনী--
পরিচিতসম বেজে ওঠে সেই
          অতীতের যত রাগিণী।
          পুরাতন সেই গীতি
          সে যেন আমার স্মৃতি,
          কোন্‌ ভাণ্ডারে সঞ্চয় তার
          গোপনে রয়েছে নিতি।
প্রাণে তাহা কত মুদিয়া রয়েছে
          কত বা উঠিছে মেলিয়া--
পিতামহদের জীবনে আমরা
          দুজনে এসেছি খেলিয়া।
লক্ষ বরষ আগে যে প্রভাত
          উঠেছিল এই ভুবনে
তাহার অরুণকিরণকণিকা
          গাঁথ নি কি মোর জীবনে?
          সে প্রভাতে কোন্‌খানে
          জেগেছিনু কেবা জানে।
কী মুরতি-মাঝে ফুটালে আমারে
          সেদিন লুকায়ে প্রাণে!
হে চির-পুরানো,চিরকাল মোরে
          গড়িছ নূতন করিয়া।
চিরদিন তুমি সাথে ছিলে মোর,
          রবে চিরদিন ধরিয়া।
আরো দেখুন
পুরানো জানিয়া চেয়ো
Songs
পুরানো জানিয়া চেয়ো না আমারে আধেক আঁখির কোণে অলস অন্যমনে।
আপনারে আমি দিতে আসি যেই    জেনো জেনো সেই শুভ নিমেষেই
     জীর্ণ কিছুই নেই কিছু নেই,    ফেলে দিই পুরাতনে॥
     আপনারে দেয় ঝরনা আপন ত্যাগরসে উচ্ছলি--
     লহরে লহরে নূতন নূতন অর্ঘ্যের অঞ্জলি।
মাধবীকুঞ্জ বার বার করি    বনলক্ষ্মীর ডালা দেয় ভরি--
     বারবার তার দানমঞ্জরী    নব নব ক্ষণে ক্ষণে॥
     তোমার প্রেমে যে লেগেছে আমায় চির নূতনের সুর।
     সব কাজে মোর সব ভাবনায় জাগে চিরসুমধুর।
মোর দানে নেই দীনতার লেশ,     যত নেবে তুমি না পাবে শেষ--
     আমার দিনের সকল নিমেষ    ভরা অশেষের ধনে॥
আরো দেখুন