ব্যবধান
Stories
সম্পর্ক মিলাইয়া দেখিতে গেলে বনমালী এবং হিমাংশুমালী উভয়ে মামাতো পিসতুতো ভাই; সেও অনেক হিসাব করিয়া দেখিলে তবে মেলে। কিন্তু ইহাদের দুই পরিবার বহুকাল হইতে প্রতিবেশী, মাঝে কেবল একটা বাগানের ব্যবধান, এইজন্য ইহাদের সম্পর্ক নিতান্ত নিকট না হইলেও ঘনিষ্ঠতার অভাব নাই।
বনমালী হিমাংশুর চেয়ে অনেক বড়ো। হিমাংশুর যখন দন্ত এবং বাক্যস্ফূর্তি হয় নাই, তখন বনমালী তাহাকে কোলে করিয়া এই বাগানে সকালে সন্ধ্যায় হাওয়া খাওয়াইয়াছে, খেলা করিয়াছে, কান্না থামাইয়াছে, ঘুম পাড়াইয়াছে এবং শিশুর মনোরঞ্জন করিবার জন্য পরিণতবুদ্ধি বয়স্ক লোকদিগকে সবেগে শিরশ্চালন, তারস্বরে প্রলাপভাষণ প্রভৃতি যে-সকল বয়সানুচিত চাপল্য এবং উৎকট উদ্যম প্রকাশ করিতে হয়, বনমালী তাহাও করিতে ত্রুটি করে নাই।
আরো দেখুন
দিনাবসান
Verses
বাঁশি যখন থামবে ঘরে,
                 নিববে দীপের শিখা,
           এই জনমের লীলার 'পরে
                 পড়বে যবনিকা,
           সেদিন যেন কবির তরে
           ভিড় না জমে সভার ঘরে,
           হয় না যেন উচ্চস্বরে
                 শোকের সমারোহ।
           সভাপতি থাকুন বাসায়,
           কাটান বেলা তাসে পাশায়,
           নাই-বা হল নানা ভাষায়
                 আহা উহু ওহো।
           নাই ঘনাল দল-বেদলের
                 কোলাহলের মোহ।
           আমি জানি মনে-মনে
                 সেঁউতি যূথী জবা
           আনবে ডেকে ক্ষণে ক্ষণে
                 কবির স্মৃতিসভা।
           বর্ষা-শরৎ-বসন্তেরি
           প্রাঙ্গণেতে আমায় ঘেরি
           যেথায় বীণা যেথায় ভেরি
                 বেজেছে উৎসবে,
           সেথায় আমার আসন-'পরে
           স্নিগ্ধশ্যামল সমাদরে
           আলিপনায় স্তরে স্তরে
                 আঁকন আঁকা হবে।
           আমার মৌন করবে পূর্ণ
                 পাখির কলরবে।
           জানি আমি এই বারতা
                 রইবে অরণ্যেতে --
           ওদের সুরে কবির কথা
                 দিয়েছিলেম গেঁথে।
           ফাগুনহাওয়ায় শ্রাবণধারে
           এই বারতাই বারে বারে
           দিক্‌বালাদের দ্বারে দ্বারে
                 উঠবে হঠাৎ বাজি।
           কভু করুণ সন্ধ্যামেঘে,
           কভু অরুণ-আলোক লেগে,
           এই বারতা উঠবে জেগে
                 রঙিন বেশে সাজি।
           স্মরণসভার আসন আমার
                 সোনায় দেবে মাজি।
           আমার স্মৃতি থাক্‌-না গাঁথা
                 আমার গীতি-মাঝে
           যেখানে ওই ঝাউয়ের পাতা
                 মর্মরিয়া বাজে।
           যেখানে ওই শিউলিতলে
           ক্ষণহাসির শিশির জ্বলে,
           ছায়া যেথায় ঘুমে ঢলে
                 কিরণকলামালী;
           যেথায় আমার কাজের বেলা
           কাজের বেশে করে খেলা,
           যেথায় কাজের অবহেলা
                 নিভৃতে দীপ জ্বালি
           নানা রঙের স্বপন দিয়ে
                 ভরে রূপের ডালি।
আরো দেখুন
67
Verses
THE STARS crowd round the virgin night
in silent awe at her loneliness
that can never be touched.
আরো দেখুন
ইচ্ছাপূরণ
Stories
সুবলচন্দ্রের ছেলেটির নাম সুশীলচন্দ্র। কিন্তু সকল সময়ে নামের মতো মানুষটি হয় না। সেইজন্যই সুবলচন্দ্র কিছু দুর্বল ছিলেন এবং সুশীলচন্দ্র বড়ো শান্ত ছিলেন না।
ছেলেটি পাড়াসুদ্ধ লোককে অস্থির করিয়া বেড়াইত, সেইজন্য বাপ মাঝে মাঝে শাসন করিতে ছুটিতেন; কিন্তু বাপের পায়ে ছিল বাত, আর ছেলেটি হরিণের মতো দৌড়িতে পারিত; কাজেই কিল চড়-চাপড় সকল সময় ঠিক জায়গায় গিয়া পড়িত না। কিন্তু সুশীলচন্দ্র দৈবাৎ যেদিন ধরা পড়িতেন সেদিন তাঁহার আর রক্ষা থাকিত না।
আরো দেখুন
বিদেশী ফুলের গুচ্ছ - ১৩
Verses
       নহে নহে এ মনে মরণ।
সহসা এ প্রাণপূর্ণ নিশ্বাসবাতাস
       নীরবে করে যে পলায়ন,
আলোতে ফুটায় আলো এই আঁখিতারা
       নিবে যায় একদা নিশীথে,
বহে না রুধিরনদী, সুকোমল তনু
       ধূলায় মিলায় ধরণীতে,
ভাবনা মিলায় শূন্যে, মৃত্তিকার তলে
       রুদ্ধ হয় অময় হৃদয়--
এই মৃত্যু? এ তো মৃত্যু নয়।
       কিন্তু রে পবিত্র শোক যায় না যে দিন
পিরিতির স্মিরিতিমন্দিরে,
       উপেক্ষিত অতীতের সমাধির 'পরে
তৃণরাজি দোলে ধীরে ধীরে,
       মরণ-অতীত চির-নূতন পরান
স্মরণে করে না বিচরণ--
       সেই বটে সেই তো মরণ!
আরো দেখুন
প্রশ্ন
Stories
শ্মাশান হতে বাপ ফিরে এল।
তখন সাত বছরের ছেলেটি-- গা খোলা, গলায় সোনার তাবিজ--একলা গলির উপরকার জানলার ধারে।
আরো দেখুন
মুকুট
Stories
ত্রিপুরার রাজা অমরমাণিক্যের কনিষ্ঠ পুত্র রাজধর সেনাপতি ইশা খাঁকে বলিলেন, "দেখো সেনাপতি, আমি বারবার বলিতেছি তুমি আমাকে অসম্মান করিয়ো না।"
পাঠান ইশা খাঁ কতকগুলি তীরের ফলা লইয়া তাহাদের ধার পরীক্ষা করিতেছিলেন। রাজধরের কথা শুনিয়া কিছুই বলিলেন না, কেবল মুখ তুলিয়া ভুরু উঠাইয়া একবার তাঁহার মুখের দিকে চাহিলেন। আবার তখনই মুখ নত করিয়া তীরের ফলার দিকে মনোযোগ দিলেন।
আরো দেখুন
উপসংহার
Stories
ভোজরাজের দেশে যে মেয়েটি ভোরবেলাতে দেবমন্দিরে গান গাইতে যায় সে কুড়িয়ে-পাওয়া মেয়ে।
আচার্য বলেন, 'একদিন শেষরাত্রে আমার কানে একখানি সুর লাগল। তার পরে সেইদিন যখন সাজি নিয়ে পারুলবনে ফুল তুলতে গেছি তখন এই মেয়েটিকে ফুলগাছতলায় কুড়িয়ে পেলেম।'
আরো দেখুন