ইদিলপুরেতে বাস নরহরি শর্মা
Verses
ইদিলপুরেতে বাস নরহরি শর্মা,
হঠাৎ খেয়াল গেল যাবেই সে বর্মা।
দেখবে-শুনবে কে যে তাই নিয়ে ভাবনা,
রাঁধবে বাড়বে, দেবে গোরুটাকে জাবনা--
সহধর্মিণী নেই, খোঁজে সহধর্মা।
গেল তাই খণ্ডালা, গেল তাই অণ্ডালে,
মহা রেগে গাল দেয় রেলগাড়ি-চণ্ডালে,
সাথি খুঁজে সে বেচারা কী গলদ্‌ঘর্মা--
বিস্তর ভেবে শেষে গেল সে কোডর্মা।
আরো দেখুন
36
Verses
THE WATERFALL sings, I find my song, when I find my freedom.
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
বাঁশি
Stories
বাঁশির বাণী চিরদিনের বাণী--শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা, প্রতি দিনের মাটির বুক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশু নেমে এল মর্ত্যের ধূলি দিয়ে স্বর্গ-স্বর্গ খেলতে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শুনি আর মন যে কেমন করে বুঝতে পারি নে। সেই ব্যথাকে চেনা সুখদুঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজ্জ্বল, চেনা চোখের জলের চেয়ে সে গভীর।
আরো দেখুন
চোখের বালি
Novels
বিনোদিনীর মাতা হরিমতি মহেন্দ্রের মাতা রাজলক্ষ্মীর কাছে আসিয়া ধন্না দিয়া পড়িল। দুইজনেই এক গ্রামের মেয়ে, বাল্যকালে একত্রে খেলা করিয়াছেন।
রাজলক্ষ্মী মহেন্দ্রকে ধরিয়া পড়িলেন, "বাবা মহিন, গরিবের মেয়েটিকে উদ্ধার করিতে হইবে। শুনিয়াছি মেয়েটি বড়ো সুন্দরী, আবার মেমের কাছে পড়াশুনাও করিয়াছে-- তোদের আজকালকার পছন্দর সঙ্গে মিলিবে।"
"চরণতরণী দে মা, তারিণী তারা।'
আরো দেখুন
শ্যাম রে, নিপট কঠিন মন তোর
Songs
শ্যাম রে, নিপট কঠিন মন তোর।
  বিরহ সাথি করি সজনী রাধা
    রজনী করত হি ভোর।
একলি নিরল বিরল পর বৈঠত
     নিরখত যমুনা পানে,
বরখত অশ্রু, বচন নহি নিকসত,
     পরান থেহ ন মানে।
গহন তিমির নিশি ঝিল্লিমুখর দিশি
     শূন্য কদম তরুমূলে,
ভূমিশয়ন-'পর আকুল কুন্তল,
      কাঁদই আপন ভুলে।
মুগধ মৃগীসম চমকি উঠই কভু
    পরিহরি সব গৃহকাজে
চাহি শূন্য-'পর কহে করুণস্বর
    বাজে রে বাঁশরি বাজে।
নিঠুর শ্যাম রে, কৈসন অব তুঁহু
     রহই দূর মথুরায় --
রয়ন নিদারুণ কৈসন যাপসি
   কৈস দিবস তব যায়!
কৈস মিটাওসি প্রেম-পিপাসা
    কঁহা বজাওসি বাঁশি?
পীতবাস তুঁহু কথি রে ছোড়লি,
   কথি সো বঙ্কিম হাসি?
কনক-হার অব পহিরলি কন্ঠে,
    কথি ফেকলি বনমালা?
হৃদিকমলাসন শূন্য করলি রে,
     কনকাসন কর আলা!
এ দুখ চিরদিন রহল চিত্তমে,
   ভানু কহে, ছি ছি কালা!
ঝটিতি আও তুঁহু হমারি সাথে,
    বিরহ-ব্যাকুলা বালা।
আরো দেখুন
কাবুলিওয়ালা
Stories
আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেকসময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা পারি না। মিনি চুপ করিয়া থাকিলে এমনি অস্বাভাবিক দেখিতে হয় যে, সে আমার বেশিক্ষণ সহ্য হয় না। এইজন্য আমার সঙ্গে তাহার কথোপকথনটা কিছু উৎসাহের সহিত চলে।
সকালবেলায় আমার নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে হাত দিয়াছি এমনসময় মিনি আসিয়াই আরম্ভ করিয়া দিল, 'বাবা, রামদয়াল দরোয়ান কাককে কৌয়া বলছিল, সে কিচ্ছু জানে না। না?'
আরো দেখুন
পরীর পরিচয়
Stories
রাজপুত্রের বয়স কুড়ি পার হয়ে যায়, দেশবিদেশ থেকে বিবাহের সম্বন্ধ আসে।
ঘটক বললে, 'বাহ্লীকরাজের মেয়ে রূপসী বটে, যেন সাদা গোলাপের পুষ্পবৃষ্টি।'
আরো দেখুন
পাত্র ও পাত্রী
Stories
ইতিপূর্বে প্রজাপতি কখনো আমার কপালে বসেন নি বটে, কিন্তু একবার আমার মানসপদ্মে বসেছিলেন। তখন আমার বয়স ষোলো। তার পরে কাঁচা ঘুমে চমক লাগিয়ে দিলে যেমন ঘুম আর আসতে চায় না, আমার সেই দশা হল। আমার বন্ধুবান্ধবরা কেউ কেউ দারপরিগ্রহ ব্যাপারে দ্বিতীয়, এমন-কি তৃতীয় পক্ষে প্রোমোশন পেলেন; আমি কৌমার্যের লাস্ট বেঞ্চিতে বসে শূন্য সংসারের কড়িকাঠ গণনা করে কাটিয়ে দিলুম।
আমি চোদ্দ বছর বয়সে এনট্রেন্স পাস করেছিলুম। তখন বিবাহ কিম্বা এনট্রেন্স পরীক্ষায় বয়সবিচার ছিল না। আমি কোনোদিন পড়ার বই গিলি নি, সেইজন্যে শারীরিক বা মানসিক অজীর্ণ রোগে আমাকে ভুগতে হয় নি। ইঁদুর যেমন দাঁত বসাবার জিনিস পেলেই সেটাকে কেটে-কুটে ফেলে, তা সেটা খাদ্যই হোক আর অখাদ্যই হোক, শিশুকাল থেকেই তেমনি ছাপার বই দেখলেই সেটা পড়ে ফেলা আমার স্বভাব ছিল। সংসারে পড়ার বইয়ের চেয়ে না-পড়ার বইয়ের সংখ্যা ঢের বেশি, এইজন্য আমার পুঁথির সৌরজগতে স্কুল-পাঠ্য পৃথিবীর চেয়ে বেস্কুল-পাঠ্য সূর্য চোদ্দ লক্ষগুণে বড়ো ছিল। তবু, আমার সংস্কৃত-পণ্ডিতমশায়ের নিদারুণ ভবিষ্যদ্‌বাণী সত্ত্বেও, আমি পরীক্ষায় পাস করেছিলুম।
আরো দেখুন
ছবি-আঁকিয়ে
Verses
ছেঁড়াখোঁড়া মোর পুরোনো খাতায়
    ছবি আঁকি আমি যা আসে মাথায়
       যক্ষনি ছুটি পাই।
বঙ্কিম মামা বুঝিতে পারে না--
    বলে যে, কিছুই যায় না তো চেনা;
       বলে, কী হয়েছে, ছাই!
আমি বলি তারে, এই তো ভালুক,
    এই দেখো কালো বাঁদরের মুখ,
       এই দেখো লাল ঘোড়া--
রাজপুত্তুর কাল ভোর হলে
    দণ্ডক বনে যাবেন যে চ'লে--
       রথে হবে ওরে জোড়া।
উঁচু হয়ে আছে এই-যে পাহাড়,
    খোঁচা খোঁচা গায়ে ওঠে বাঁশ-ঝাড়,
       হেথা সিংহের বাসা।
এঁকে বেঁকে দেখো এই নদী চলে,
    নৌকো এঁকেছি ভেসে যায় জলে,
       ডাঙা দিয়ে যায় চাষা।
ঘাট থেকে জল এনেছে ঘড়ায়--
    শিবুঠাকুরের রান্না চড়ায়
       তিন কন্যা যে এই।
সাদা কাগজের চর করে ধূ ধূ,
সাদা হাঁস দুটো ব'সে আছে শুধু,
    কেউ কোত্থাও নেই।
গোল ক'রে আঁকা এই দেখো দিখি,
    সূর্যের ছবি ঠিক হয় নি কি,
       মেঘ এই দাগ যত।
শুধু কালি লেপা দেখিছ এ পাতে--
    আঁধার হয়েছে এইখানটাতে,
       ঠিক সন্ধ্যার মতো।
আমি তো পষ্ট দেখি সব-কিছু--
    শালবন দেখো এই উঁচুনিচু,
       মাছগুলো দেখো জলে।
"ছবি দেখিতে কি পায় সব লোকে--
    দোষ আছে তোর মামারই দু চোখে'
       বাবা এই কথা বলে।
আরো দেখুন
40
Verses
A MESSAGE CAME from my youth of vanished days, saying, 1 wait for you among the quiverings of unborn May, where smiles ripen for tears and hours ache with songs unsung.'
It says, 'Come to me across the worn-out track of age, through the gates of death. For dreams fade, hopes fail, the gathered fruits of the year decay, but I am the eternal truth, and you shall meet me again and again in your voyage of life from shore to shore.'
আরো দেখুন
খাতা
Stories
লিখিতে শিখিয়া অবধি উমা বিষম উপদ্রব আরম্ভ করিয়াছে। বাড়ির প্রত্যেক ঘরের দেয়ালে কয়লা দিয়া বাঁকা লাইন কাটিয়া বড়ো বড়ো কাঁচা অক্ষরে কেবলই লিখিতেছে--জল পড়ে, পাতা নড়ে।
তাহার বউঠাকুরানীর বালিশের নিচে 'হরিদাসের গুপ্তকথা' ছিল, সেটা সন্ধান করিয়া বাহির করিয়া তাহার পাতায় পাতায় পেনসিল দিয়া লিখিয়াছে--কালো জল, লাল ফুল।
আরো দেখুন
কর্মফল
Stories
আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন-- সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। 'এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।'
শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন।
আরো দেখুন