গলি
Stories
আমাদের এই শানবাঁধানো গলি, বারে বারে ডাইনে বাঁয়ে এঁকে বেঁকে একদিন কী যেন খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সে যে দিকেই যায় ঠেকে যায়। এ দিকে বাড়ি, ও দিকে বাড়ি, সামনে বাড়ি।
উপরের দিকে যেটুকু নজর চলে তাতে সে একখানি আকাশের রেখা দেখতে পায়-- ঠিক তার নিজেরই মতো সরু, তার নিজেরই মতো বাঁকা।
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
59
Verses
কুসুমের শোভা
      কুসুমের অবসানে
মধুরস হয়ে
      লুকায় ফলের প্রাণে।
আরো দেখুন
The Parrot`s Training
Stories
ONCE UPON A time there was a bird. It was ignorant. It sang all right, but never recited scriptures. It hopped pretty frequently, but lacked manners.
Said the Raja to himself: ‘Ignorance is costly in the long run. For fools consume as much food as their betters, and yet give nothing in return.’
আরো দেখুন
মহামায়া
Stories
মহামায়া এবং রাজীবলোচন উভয়ে নদীর ধারে একটা ভাঙা মন্দিরে সাক্ষাৎ করিল।
মহামায়া কোনো কথা না বলিয়া তাহার স্বাভাবিক গম্ভীর দৃষ্টি ঈষৎ ভর্ৎসনার ভাবে রাজীবের প্রতি নিক্ষেপ করিল। তাহার মর্ম এই, তুমি কী সাহসে আজ অসময়ে আমাকে এখানে আহ্বান করিয়া আনিয়াছ। আমি এ পর্যন্ত তোমার সকল কথা শুনিয়া আসিতেছি বলিয়াই তোমার এতদূর স্পর্ধা বাড়িয়া উঠিয়াছে?
আরো দেখুন
একরাত্রি
Stories
সুরবালার সঙ্গে একত্রে পাঠশালায় গিয়াছি, বউ-বউ খেলিয়াছি। তাহাদের বাড়িতে গেলে সুরবালার মা আমাকে বড় যত্ন করিতেন এবং আমাদের দুইজনকে একত্র করিয়া  আপনা-আপনি বলাবলি করিতেন,'আহা দুটিতে বেশ মানায়।'
ছোট ছিলাম কিন্তু কথাটার অর্থ একরকম বুঝতে পারিতাম। সুরবালার প্রতি যে সর্বসাধারণের অপেক্ষা আমার কিছু বিশেষ দাবি ছিল, সে ধারণা আমার মনে বদ্ধমূল হইয়া গিয়াছিল। সেই অধিকারমদে মত্ত হইয়া তাহার প্রতি যে আমি শাসন এবং উপদ্রব না করিতাম তাহা নহে। সেও সহিষ্ণুভাবে আমার সকলরকম  ফরমাশ খাটিত এবং শাস্তি বহন করিত। পাড়ায় তাহার রূপের প্রশংসা ছিল, কিন্তু বর্বর বালকের চক্ষে সে সৌন্দর্যের কোনো গৌরব ছিল না-- আমি কেবল জানিতাম, সুরবালা আমারই প্রভুত্ব স্বীকার করিবার জন্য পিতৃগৃহে জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, এইজন্য সে আমার বিশেষরূপ অবহেলার পাত্র।
আরো দেখুন
শান্তিগীত
Verses
                    ঘুমা দুঃখ হৃদয়ের ধন,
                   ঘুমা তুই ঘুমা রে এমন।
          সুখে সারা দিনমান          শোণিত করিয়া পান
                   এখন তো মিটেছে তিয়াষ?
                   দুঃখ, তুই সুখেতে ঘুমাস।
          আজ জোছনার রাত্রে বসন্তপবনে,
          অতীতের পরলোক ত্যজি শূন্যমনে,
                   বিগত দিবসগুলি শুধু একবার
                   পুরানো খেলার ঠাঁই দেখিতে এসেছে
                      এই হৃদয়ে আমার--
          যবে বেঁচেছিল তারা এই এ শ্মশানে
          দিন গেলে প্রতিদিন পুড়াত যেখানে
          একেকটি আশা আর একেকটি সুখ,
          সেইখানে আসি তারা বসিয়া রয়েছে
                      অতি ম্লান মুখ।
          সেখানে বসিয়া তারা সকলে মিলিয়া
                      অতি মৃদু স্বরে
          পুরানো কালের গীতি নয়ন মুদিয়া
                      ধীরে গান করে।
     দুঃখ, তুই ঘুমা।
ধীরে উঠিতেছে গান,
                    ক্রমে ছাইতেছে প্রাণ,
          নীরবতা ছায় যথা সন্ধ্যোর গগন।
          গানের প্রাণের মাঝে তোর তীব্র কণ্ঠস্বর
                      ছুরির মতন।
             তুই    থাম্‌ দুঃখ, থাম্‌।
             তুই    ঘুমা দুঃখ, ঘুমা।
             কাল উঠিস আবার,
খেলিস দুরন্ত খেলা হৃদয়ে আমার;
    হৃদয়ের শিরাগুলি ছিঁড়ি ছিঁড়ি মোর
    তাইতে রচিস তন্ত্রী বীণাটির তোর,
          সারাদিন বাজাস বসিয়া
             ধ্বনিয়া হৃদয়।
আজ রাত্রে রব শুধু চাহিয়া চাঁদের পানে,
             আর কিছু নয়।
আরো দেখুন
একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প
Stories
গল্প বলিতে হইবে। কিন্তু আর তো পারি না। এখন এই পরিশ্রান্ত অক্ষম ব্যক্তিটিকে ছুটি দিতে হইবে।
এ পদ আমাকে কে দিল বলা কঠিন। ক্রমে ক্রমে একে একে তোমরা পাঁচজন আসিয়া আমার চারিদিকে কখন জড়ো হইলে, এবং কেন যে তোমরা আমাকে এত অনুগ্রহ করিলে এবং আমার কাছে এত প্রত্যাশা করিলে, তাহা বলা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য। অবশ্যই সে তোমাদের নিজগুণে; শুভাদৃষ্টক্রমে আমার প্রতি সহসা তোমাদের অনুগ্রহ উদয় হইয়াছিল। এবং যাহাতে সে অনুগ্রহ রক্ষা হয় সাধ্যমতো সে চেষ্টার ত্রুটি হয় নাই।
আরো দেখুন
রাজটিকা
Stories
নবেন্দুশেখরের সহিত অরুণলেখার যখন বিবাহ হইল, তখন হোমধূমের অন্তরাল হইতে ভগবান প্রজাপতি ঈষৎ একটু হাস্য করিলেন। হায়, প্রজাপতির পক্ষে যাহা খেলা আমাদের পক্ষে তাহা সকল সময়ে কৌতুকের নহে।
নবেন্দুশেখরের পিতা পূর্ণেন্দুশেখর ইংরাজরাজ-সরকারে বিখ্যাত। তিনি এই ভবসমুদ্রে কেবলমাত্র দ্রুতবেগে সেলাম-চালনা দ্বারা রায়বাহাদুর পদবীর উৎতুঙ্গ মরুকূলে উত্তীর্ণ হইয়াছিলেন; আরো দুর্গমতর সম্মানপথের পাথেয় তাঁহার ছিল, কিন্তু পঞ্চান্ন বৎসর বয়ঃক্রমকালে অনতিদূরবর্তী রাজখেতাবের কুহেলিকাচ্ছন্ন গিরিচূড়ার প্রতি করুণ লোলুপ দৃষ্টি স্থিরনিবদ্ধ করিয়া এই রাজানুগৃহীত ব্যাক্তি অকস্মাৎ খেতাববর্জিত লোকে গমন করিলেন এবং তাঁহার বহু-সেলাম-শিথিল গ্রীবাগ্রন্থি শ্মশানশয্যায় বিশ্রাম লাভ করিল।
আরো দেখুন
মনকে, আমার কায়াকে
Verses
              মনকে, আমার কায়াকে,
       আমি  একেবারে মিলিয়ে দিতে
              চাই এ কালো ছায়াকে।
                           ওই আগুনে জ্বালিয়ে দিতে,
                           ওই সাগরে তলিয়ে দিতে,
                           ওই চরণে গলিয়ে দিতে,
                                  দলিয়ে দিতে মায়াকে--
                                  মনকে, আমার কায়াকে।
      যেখানে যাই সেথায় একে
       আসন জুড়ে বসতে দেখে
       লাজে মরি, লও গো হরি
                    এই সুনিবিড় ছায়াকে
              মনকে, আমার কায়াকে।
                    তুমি আমার অনুভাবে
                    কোথাও নাহি বাধা পাবে,
                    পূর্ণ একা দেবে দেখা
                           সরিয়ে দিয়ে মায়াকে।
                           মনকে, আমার কায়াকে।
আরো দেখুন