পট
Stories
যে শহরে অভিরাম দেবদেবীর পট আঁকে, সেখানে কারো কাছে তার পূর্বপরিচয় নেই। সবাই জানে, সে বিদেশী, পট আঁকা তার চিরদিনের ব্যাবসা।
সে মনে ভাবে, 'ধনী ছিলেম, ধন গিয়েছে, হয়েছে ভালো। দিনরাত দেবতার রূপ ভাবি, দেবতার প্রসাদে খাই, আর ঘরে ঘরে দেবতার প্রতিষ্ঠা করি। আমার এই মান কে কাড়তে পারে।'
আরো দেখুন
35
Verses
            ভোরের বেলায় কখন এসে
            পরশ ক'রে গেছ হেসে।
আমার ঘুমের দুয়ার ঠেলে
কে সেই খবর দিল মেলে,
জেগে দেখি আমার আঁখি
            আঁখির জলে গেছে ভেসে।
মনে হল আকাশ যেন
            কইল কথা কানে কানে।
মনে হল সকল দেহ
            পূর্ণ হল গানে গানে।
হৃদয় যেন শিশিরনত
ফুটল পূজার ফুলের মতো
জীবননদী কূল ছাপিয়ে
            ছড়িয়ে গেল অসীম দেশে।
আরো দেখুন
চোরাই ধন
Stories
মহাকাব্যের যুগে স্ত্রীকে পেতে হত পৌরুষের জোরে; যে অধিকারী সেই লাভ করত রমণীরত্ন। আমি লাভ করেছি কাপুরুষতা দিয়ে, সে-কথা আমার স্ত্রীর জানতে বিলম্ব ঘটেছিল। কিন্তু, সাধনা করেছি বিবাহের পরে; যাকে ফাঁকি দিয়ে চুরি করে পেয়েছি তার মূল্য দিয়েছি দিনে দিনে।
দাম্পত্যের স্বত্ব সাব্যস্ত করতে হয় প্রতিদিনই নতুন করে, অধিকাংশ পুরুষ ভুলে থাকে এই কথাটা। তারা গোড়াতেই কাস্টম্‌ হৌসে মাল খালাস করে নিয়েছে সমাজের ছাড়চিঠি দেখিয়ে, তার পর থেকে আছে বেপরোয়া। যেন পেয়েছে পাহারাওয়ালার সরকারি প্রতাপ, উপরওয়ালার দেওয়া তকমার জোরে; উর্দিটা খুলে নিলেই অতি অভাজন তারা।
আরো দেখুন
গল্প
Stories
ছেলেটির যেমনি কথা ফুটল অমনি সে বললে, 'গল্প বলো।'
দিদিমা বলতে শুরু করলেন, 'এক রাজপুত্তুর, কোটালের পুত্তুর, সদাগরের পুত্তুর--'
আরো দেখুন
হালদারগোষ্ঠী
Stories
এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না। অবস্থাও সচ্ছল, মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে, কিন্তু তবুও গোল বাধিল।
কেননা, সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত, একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না; যদি বা ঘটিত সেটাকে রবার দিয়া মুছিয়া সংশোধন করিলেই চলিয়া যাইত।
আরো দেখুন
45
Verses
MY NIGHT HAS passed on the bed of sorrow, and my eyes are tired. My heavy heart is not yet ready to meet morning with its crowded joys.
Draw a veil over this naked light, beckon aside from me this glaring flash and dance of life.
Let thy mantle of tender darkness cover me in its folds, and cover my pain awhile from the pressure of the world.
আরো দেখুন
চলেছে তরণী প্রসাদপবনে
Songs
        চলেছে তরণী প্রসাদপবনে,  কে যাবে এসো হে শান্তিভবনে।
        এ ভবসংসারে ঘিরেছে আঁধারে,  কেন রে ব'সে হেথা ম্লানমুখ।
        প্রাণের বাসনা হেথায় পূরে না,   হেথায় কোথা প্রেম কোথা সুখ।
        এ ভবকোলাহল, এ পাপহলাহল,   এ দুখশোকানল দূরে যাক।
        সমুখে চাহিয়ে পুলকে গাহিয়ে   চলো রে শুনে চলি তাঁর ডাক।                        
        বিষয়ভাবনা লইয়া যাব না,   তুচ্ছ সুখদুখ প'ড়ে থাক্‌।
        ভবের নিশীথিনী ঘিরিবে ঘনঘোরে,    তখন কার মুখ চাহিবে।
        সাধের ধনজন দিয়ে বিসর্জন  কিসের আশে প্রাণ রাখিবে।।
আরো দেখুন
আমার এ গান ছেড়েছে তার
Verses
       আমার এ গান ছেড়েছে তার
                    সকল অলংকার,
       তোমার কাছে রাখে নি আর
                    সাজের অহংকার।
         অলংকার যে মাঝে পড়ে
         মিলনেতে আড়াল করে,
         তোমার কথা ঢাকে যে তার
                    মুখর ঝংকার।
                           তোমার কাছে খাটে না মোর
                                         কবির গরব করা,
                           মহাকবি, তোমার পায়ে
                                         দিতে চাই যে ধরা।
                             জীবন লয়ে যতন করি'
                             যদি সকল বাঁশি গড়ি,
                             আপন সুরে দিবে ভরি
                                         সকল ছিদ্র তার।
আরো দেখুন
পরী
Stories
কুসমি বললে, তুমি বড্ড বানিয়ে কথা বল। একটা সত্যিকার গল্প শোনাও-না।
আমি বললুম, জগতে দুরকম পদার্থ আছে। এক হচ্ছে সত্য, আর হচ্ছে--আরও-সত্য। আমার কারবার আরও-সত্যকে নিয়ে।
আরো দেখুন
একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প
Stories
গল্প বলিতে হইবে। কিন্তু আর তো পারি না। এখন এই পরিশ্রান্ত অক্ষম ব্যক্তিটিকে ছুটি দিতে হইবে।
এ পদ আমাকে কে দিল বলা কঠিন। ক্রমে ক্রমে একে একে তোমরা পাঁচজন আসিয়া আমার চারিদিকে কখন জড়ো হইলে, এবং কেন যে তোমরা আমাকে এত অনুগ্রহ করিলে এবং আমার কাছে এত প্রত্যাশা করিলে, তাহা বলা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য। অবশ্যই সে তোমাদের নিজগুণে; শুভাদৃষ্টক্রমে আমার প্রতি সহসা তোমাদের অনুগ্রহ উদয় হইয়াছিল। এবং যাহাতে সে অনুগ্রহ রক্ষা হয় সাধ্যমতো সে চেষ্টার ত্রুটি হয় নাই।
আরো দেখুন
সমস্যাপূরণ
Stories
ঝিঁকড়কোটার কৃষ্ণগোপাল সরকার জ্যেষ্ঠপুত্রের প্রতি জমিদারি এবং সংসারের ভার দিয়া কাশী চলিয়া গেলেন। দেশের যত অনাথ দরিদ্র লোক তাঁহার জন্য হাহাকার করিয়া কাঁদিতে লাগিল। এমন বদান্যতা, এমন ধর্মনিষ্ঠতা কলিযুগে দেখা যায় না, এই কথা সকলেই বলিতে লাগিল।
তাঁহার পুত্র বিপিনবিহারী আজকালকার একজন সুশিক্ষিত বি-এ। দাড়ি রাখেন, চশমা পরেন, কাহারও সহিত বড়ো একটা মিশেন না। অতিশয় সচ্চরিত্র-- এমন কি, তামাকটি পর্যন্ত খান না, তাস পর্যন্ত খেলেন না। অত্যন্ত ভালোমানুষের মতো চেহারা, কিন্তু লোকটা ভারি কড়াক্কড়।
আরো দেখুন
মর্ত্যবাসী
Verses
কাকা বলেন, সময় হলে
          সবাই চলে
          যায় কোথা সেই স্বর্গ-পারে।
বল্‌ তো কাকী
          সত্যি তা কি
                   একেবারে?
তিনি বলেন, যাবার আগে
                   তন্দ্রা লাগে
          ঘণ্টা কখন ওঠে বাজি,
দ্বারের পাশে
          তখন আসে
                   ঘাটের মাঝি।
বাবা গেছেন এমনি করে
                   কখন ভোরে
          তখন আমি বিছানাতে।
তেমনি মাখন
          গেল কখন
                   অনেক রাতে।
কিন্তু আমি বলছি তোমায়
                    সকল সময়
          তোমার কাছেই করব খেলা,
রইব জোরে
          গলা ধরে
                   রাতের বেলা।
সময় হলে মানব না তো,
                   জানব না তো,
          ঘণ্টা মাঝির বাজল কবে।
তাই কি রাজা
          দেবেন সাজা
                   আমায় তবে?
তোমরা বল, স্বর্গ ভালো
                   সেথায় আলো
          রঙে রঙে আকাশ রাঙায়,
সারা বেলা
          ফুলের খেলা
                   পারুলডাঙায়!
হ'ক না ভালো যত ইচ্ছে--
                    কেড়ে নিচ্ছে
          কেই বা তাকে বলো, কাকী?
যেমন আছি
          তোমার কাছেই
                   তেমনি থাকি!
ঐ আমাদের গোলাবাড়ি,
                   গোরুর গাড়ি
          পড়ে আছে চাকা-ভাঙা,
গাবের ডালে
          পাতার লালে
                   আকাশ রাঙা।
সেথা বেড়ায় যক্ষী বুড়ী
                   গুড়ি গুড়ি
          আসশেওড়ার ঝোপে ঝাপে
ফুলের গাছে
          দোয়েল নাচে,
                   ছায়া কাঁপে।
নুকিয়ে আমি সেথা পলাই,
                   কানাই বলাই
          দু-ভাই আসে পাড়ার থেকে।
ভাঙা পাড়ি
          দোলাই নাড়ি
                   ঝেঁকে ঝেঁকে।
সন্ধ্যেবেলায় গল্প বলে
                   রাখ কোলে,
          মিটমিটিয়ে জ্বলে বাতি।
চালতা-শাখে
          পেঁচা ডাকে,
                   বাড়ে রাতি।
স্বর্গে যাওয়া দেব ফাঁকি
                   বলছি, কাকী,
          দেখব আমায় কে কী করে।
চিরকালই
          রইব খালি
                   তোমার ঘরে।
আরো দেখুন
বর্ষাসন্ধ্যা
Verses
  আমায়  অমনি খুশি করে রাখো
                কিছুই না দিয়ে--
            শুধু তোমার বাহুর ডোরে
                বাহু বাঁধিয়ে।
            এমনি ধূসর মাঠের পারে
            এমনি সাঁঝের অন্ধকারে
            বাজাও আমার প্রাণের তারে
                গভীর ঘা দিয়ে।
  আমায়  অমনি রাখো বন্দী করে
                কিছুই না দিয়ে।
  আমি    আপনাকে আজ বিছিয়ে দেব
                কিছুই না করি,
            দু হাত মেলে দিয়ে, তোমার
                চরণ পাকড়ি।
            আষাঢ়-রাতের সভায় তব
            কোনো কথাই নাহি কব,
            বুক দিয়ে সব চেপে লব
                নিখিল আঁকড়ি।
  আমি    রাতের সাথে মিশিয়ে রব
                কিছুই না করি।
  আজ    বাদল-হাওয়ায় কোথা রে জুঁই
                গন্ধে মেতেছে।
            লুপ্ত তারার মালা কে আজ
                 লুকিয়ে গেঁথেছে।
            আজি নীরব অভিসারে
            কে চলেছে আকাশপারে,
            কে আজি এই অন্ধকারে
                শয়ন পেতেছে।
  আজ    বাদল-হাওয়ায় জুঁই আপনার
                গন্ধে মেতেছে।
  ওগো,  আজকে আমি  সুখে রব
                কিছুই না নিয়ে--
            আপন হতে আপন-মনে
                সুধা ছানিয়ে।
            বনে হতে বনান্তরে
            ঘনধারায় বৃষ্টি ঝরে
            নিদ্রাবিহীন নয়ন-'পরে
                স্বপন বানিয়ে।
  ওগো,  আজকে পরান ভরে লব
                কিছুই না নিয়ে।
আরো দেখুন