Home > Verses > গীতাঞ্জলি

গীতাঞ্জলি

আমার মাথা নত করেআমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাইকত অজানারে জানাইলে তুমি
বিপদে মোরে রক্ষা করোঅন্তর মম বিকশিত করোপ্রেমে প্রাণে গানে গন্ধে
তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণেআজ ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায়আনন্দেরই সাগর থেকে
তোমার সোনার থালায় সাজাবআমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছলেগেছে অমল ধবল পালে
আমার নয়ন-ভুলানো এলেজননী, তোমার করুণ চরণখানিজগৎ জুড়ে উদার সুরে
মেঘের 'পরে মেঘ জমেছেকোথায় আলোআজি শ্রাবণ-ঘন-গহন-মোহে
আষাঢ়সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলআজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসারজানি জানি কোন্‌ আদি কাল হতে
তুমি কেমন করে গান কর যে গুণীঅমন আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলেযদি তোমার দেখা না পাই প্রভু
হেরি অহরহ তোমারি বিরহআর নাই রে বেলাআজ বারি ঝরে ঝর ঝর
প্রভু তোমা লাগি আঁখি জাগেধনে জনে আছি জড়ায়ে হায়এই তো তোমার প্রেম
আমি হেথায় থাকি শুধুদাও হে আমার ভয় ভেঙে দাওআবার এরা ঘিরেছে মোর মন
আমার মিলন লাগি তুমিএসো হে এসো, সজল ঘনপারবি না কি যোগ দিতে
নিশার স্বপন ছুটল রেশরতে আজ কোন্‌ অতিথিহেথা যে গান গাইতে আসা
যা হারিয়ে যায় তা আগলে বসেএই মলিন বস্ত্র ছাড়তে হবেগায়ে আমার পুলক লাগে
প্রভু, আজি তোমার দক্ষিণ হাতজগতে আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণআলোয় আলোকময় ক'রে হে
আসনতলের মাটির 'পরে লুটিয়ে রবরূপসাগরে ডুব দিয়েছিআকাশতলে উঠল ফুটে
হেথায় তিনি কোল পেতেছেননিভৃত প্রাণের দেবতাকোন্‌ আলোতে প্রাণের প্রদীপ
তুমি আমার আপননামাও নামাও আমায় তোমারআজি গন্ধবিধুর সমীরণে
আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারেতব সিংহাসনের আসন হতেতুমি এবার আমায় লহো হে নাথ
জীবন যখন শুকায়ে যায়এবার নীরব করে দাওবিশ্ব যখন নিদ্রামগন
সে যে পাশে এসে বসেছিলতোরা শুনিস নি কিমেনেছি, হার মেনেছি
একটি একটি করে তোমারকবে আমি বাহির হলেম তোমার প্রেম যে বইতে পারি
সুন্দর, তুমি এসেছিলে আজ প্রাতেআমার খেলা যখন ছিল তোমার সনেওই যে তরী দিল খুলে
চিত্ত আমার হারাল আজওগো মৌন, না যদি কওযতবার আলো জ্বালাতে চাই
সবা হতে রাখব তোমায়বজ্রে তোমার বাজে বাঁশিদয়া দিয়ে হবে গো মোর
সভা যখন ভাঙবে তখনচিরজনমের বেদনাতুমি যখন গান গাহিতে বল
ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসাতারা দিনের বেলা এসেছিলতারা তোমার নামে বাটের মাঝে
এই জ্যোৎস্নারাতে জাগে আমার প্রাণকথা ছিল এক-তরীতে আমার একলা ঘরের আড়াল ভেঙে
একা আমি ফিরব না আরআমারে যদি জাগালে আজি নাথছিন্ন করে লও হে মোরে
চাই গো আমি তোমারে চাইআমার এ প্রেম নয় তো ভীরুআরো আঘাত সইবে আমার
এই করেছ ভালো, নিঠুরদেবতা জেনে দূরে রই দাঁড়ায়েতুমি যে কাজ করছ
বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারোডাকো ডাকো ডাকো আমারেযেথায় তোমার লুট হতেছে ভুবনে
ফুলের মতন আপনি ফুটাও গানমুখ ফিরায়ে রব তোমার পানেআবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে
আজ বরষার রূপ হেরি হে মোর দেবতাএই মোর সাধ যেন এ জীবনমাঝে
একলা আমি বাহির হলেমআমি চেয়ে আছি তোমাদের সবাপানেআর আমায় আমি নিজের শিরে
হে মোর চিত্ত, পূণ্য তীর্থেযেথায় থাকে সবার অধম হে মোর দুর্ভাগা দেশ
ছাড়িস নে ধরে থাক এঁটেআছে আমার হৃদয় আছে ভরেগর্ব করে নিই নে ও নাম
কে বলে সব ফেলে যাবিনদীপারের এই আষাঢ়েরমরণ যেদিন দিনের শেষে
দয়া করে ইচ্ছা করে ওগো আমার এই জীবনের যাত্রী আমি ওরে
উড়িয়ে ধ্বজা অভ্রভেদী রথেভজন পূজন সাধন আরাধনাসীমার মাঝে, অসীম, তুমি
তাই তোমার আনন্দ আমার 'পরমানের আসন, আরামশয়নপ্রভুগৃহ হতে আসিলে যেদিন
ভেবেছিনু মনে যা হবার তারি শেষেআমার এ গান ছেড়েছে তারনিন্দা দুঃখে অপমানে
রাজার মতো বেশে জড়িয়ে গেছে সরু মোটাগাবার মতো হয় নি কোনো গান
আমার মাঝে তোমার লীলা হবেদুঃস্বপন কোথা হতে এসেগান দিয়ে যে তোমায় খুঁজি
তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোরযেন শেষ গানে মোর যখন আমায় বাঁধ আগে পিছে
যতকাল তুই শিশুর মতোআমার চিত্ত তোমায় নিত্য হবেতোমায় আমার প্রভু করে রাখি
যা দিয়েছ আমার এ প্রাণ ভরিওরে মাঝি, ওরে আমারমনকে, আমার কায়াকে
যাবার দিনে এই কথাটিআমার নামটা দিয়ে ঢেকে রাখিনামটা যেদিন ঘুচাবে
জড়ায়ে আছে বাধাতোমার দয়া যদিজীবনে যত পূজা
একটি নমস্কারে, প্রভুজীবনে যা চিরদিনতোমার সাথে নিত্য বিরোধ
প্রেমের হাতে ধরা দেবসংসারেতে আর-যাহারাপ্রেমের দূতকে পাঠাবে নাথ কবে
গান গাওয়ালে আমায় তুমিমনে করি এইখানে শেষশেষের মধ্যে অশেষ আছে
দিবস যদি সাঙ্গ হল