Home > Verses > শেষ সপ্তক

শেষ সপ্তক

এক (স্থির জেনেছিলেম, পেয়েছি তোমাকে) দুই (একদিন তুচ্ছ আলাপের ফাঁক দিয়ে) তিন (ফুরিয়ে গেল পৌষের দিন)
চার (যৌবনের প্রান্তসীমায়) পাঁচ (বর্ষা নেমেছে প্রান্তরে অনিমন্ত্রণে) ছয় (দিনের প্রান্তে এসেছি)
সাত (অনেক হাজার বছরের) আট (মনে মনে দেখলুম) নয় (ভালোবেসে মন বললে)
দশ (মনে হয়েছিল আজ সব-কটা দুর্গ্রহ) এগারো (ভোরের আলো-আঁধারে) বারো (কেউ চেনা নয়)
তেরো (রাস্তায় চলতে চলতে) চোদ্দো (কালো অন্ধকারের তলায়) পনেরো (আমি বদল করেছি আমার বাসা)
ষোলো (পড়েছি আজ রেখার মায়ায়) সতেরো (আমার কাছে শুনতে চেয়েছ) আঠারো (আমরা কি সত্যই চাই শোকের অবসান)
উনিশ (তখন বয়স ছিল কাঁচা) বিশ (সেদিন আমাদের ছিল খোলা সভা) একুশ (নূতন কল্পে)
বাইশ (শুরু হতেই ও আমার সঙ্গ ধরেছে) তেইশ (আজ শরতের আলোয় এই যে চেয়ে দেখি) চব্বিশ (আমার ফুলবাগানের ফুলগুলিকে)
পঁচিশ (পাঁচিলের এধারে) ছাব্বিশ (আকাশে চেয়ে দেখি) সাতাশ (আমার এই ছোটো কলসিটা পেতে রাখি)
আটাশ (তুমি প্রভাতের শুকতারা) উনত্রিশ (অনেককালের একটিমাত্র দিন) ত্রিশ (যখন দেখা হল)
একত্রিশ (পাড়ায় আছে ক্লাব) বত্রিশ (পিলসুজের উপর পিতলের প্রদীপ) তেত্রিশ (বাদশাহের হুকুম)
চৌত্রিশ (পথিক আমি) পঁয়ত্রিশ (অঙ্গের বাঁধনে বাঁধাপড়া আমার প্রাণ) ছত্রিশ (শীতের রোদ্দুর)
সাঁইত্রিশ (বিশ্বলক্ষ্মী) আটত্রিশ (হে যক্ষ, সেদিন প্রেম তোমাদের) উনচল্লিশ (ওরা এসে আমাকে বলে)
চল্লিশ (ঋষি কবি বলেছেন) একচল্লিশ (হালকা আমার স্বভাব) বিয়াল্লিশ (তুমি গল্প জমাতে পার)
তেতাল্লিশ (পঁচিশে বৈশাখ চলেছে) চুয়াল্লিশ (আমার শেষবেলাকার ঘরখানি) পঁয়তাল্লিশ (তখন আমার আয়ুর তরণী)
ছেচল্লিশ (তখন আমার বয়স ছিল সাত) স্মৃতি-পাথেয় (একদিন কোন্‌ তুচ্ছ আলাপের ছিন্ন অবকাশে) বাতাবির চারা (একদিন শান্ত হলে আষাঢ়ের ধারা)
শেষপর্ব (যেথা দূর যৌবনের প্রান্তসীমা) মর্মবাণী (শিল্পীর ছবিতে যাহা মূর্তিমতী) ঘট ভরা (আমার এই ছোটো কলসখানি)
প্রশ্ন (দেহের মধ্যে বন্দী প্রাণের ব্যাকুল চঞ্চলতা) আমি (এই যে সবার সামান্য পথ, পায়ে হাঁটার গলি) আষাঢ় (নব বরষার দিন)
যক্ষ (হে যক্ষ তোমার প্রেম ছিল বদ্ধ কোরকের মতো) দুঃখ যেন জাল পেতেছে (দুঃখ যেন জাল পেতেছে চারদিকে)