২৩    


              কোন্‌ ক্ষণে

          সৃজনের সমুদ্রমন্থনে

              উঠেছিল দুই নারী

          অতলের শয্যাতল ছাড়ি।

          একজনা উর্বশী, সুন্দরী,

          বিশ্বের কামনা-রাজ্যে রানী,

              স্বর্গের অপ্সরী।

          অন্যজনা লক্ষ্মী সে কল্যাণী,

          বিশ্বের জননী তাঁরে জানি,

              স্বর্গের ঈশ্বরী।

 

          একজন তপোভঙ্গ করি

     উচ্চহাস্য-অগ্নিরসে ফাল্গুনের সুরাপাত্র ভরি

              নিয়ে যায় প্রাণমন হরি,

     দু-হাতে ছড়ায় তারে বসন্তের পুষ্পিত প্রলাপে,

              রাগরক্ত কিংশুকে গোলাপে,

                      নিদ্রাহীন যৌবনের গানে।

 

              আরজন ফিরাইয়া আনে

              অশ্রুর শিশির-স্নানে

                       স্নিগ্ধ বাসনায়;

          হেমন্তের হেমকান্ত সফল শান্তির পূর্ণতায়;

                    ফিরাইয়া আনে

              নিখিলের আশীর্বাদপানে

          অচঞ্চল লাবণ্যের স্মিতহাস্যসুধায় মধুর।

                ফিরাইয়া আনে ধীরে

                     জীবনমৃত্যুর

              পবিত্র সংগমতীর্থতীরে

              অনন্তের পূজার মন্দিরে।

 

 

  পদ্মাতীরে, ২০ মাঘ, ১৩২১