Home > Verses > পত্রপুট > চোদ্দো

চোদ্দো    


                           ওগো তরুণী,

ছিল অনেক দিনের পুরানো বছরে

             এমনি একখানি নতুন কাল,

                    দক্ষিণ হাওয়ায় দোলায়িত,

                    সেই কালেরই আমি ।

মুছে-আসা ঝাপসা পথ বেয়ে

            এসে পড়েছি বনগন্ধের সংকেতে

        তোমাদের এই আজকে-দিনের নতুন কালে ।

পারো যদি মেনে নিয়ো আমায় সখা বলে ।

         আর কিছু নয়,আমি গান জোগাতে পারি

                         তোমাদের মিলনরাতে

          আমার সেই নিদ্রাহারা সুদূর রাতের গান;

তার সুরে পাবে দুরের নতুনকে,

          তোমার লাগবে ভালো,

             পাবে আপনাকেই

                         আপনার সীমানার অতীত পারে ।

  সেদিনকার বসন্তের বাঁশিতে

             লেগেছিল যে প্রিয়বন্দনার তান

                              আজ সঙ্গে এনেছি তাই,

          সে নিয়ো তোমার অর্ধনিমীলিত চোখের পাতায়,

               তোমার দীর্ঘনিশ্বাসে ।

            আমার বিস্মৃত বেদনার আভাসটুকু

                        ঝরা ফুলের মৃদু গন্ধের মতো

          রেখে দিয়ে যাব তোমার নববসন্তের হাওয়ায়।

                                  সেদিনকার ব্যথা    

                          অকারণে বাজবে তোমার বুকে;

                  মনে বুঝবে, সেদিন তুমি ছিলে না তবু ছিলে,

           নিখিল যৌবনের রঙ্গভূমির নেপথ্যে

                                 যবনিকার ও পারে ।

                         ওগো চিরন্তনী,

       আজ আমার বাঁশি তোমাকে বলতে এল--

যখন তুমি থাকবে না তখনো তুমি থাকবে আমার গানে ।

             ডাকতে এলেম আমার হারিয়ে-যাওয়া পুরোনোকে

                         তার খুঁজে-পাওয়া নতুন নামে ।

                                        হে তরুণী,

আমাকে মেনে নিয়ো তোমার সখা বলে,

                                   তোমার অন্যযুগের  সখা ।

 

 

  শান্তিনিকেতন, ১৯ বৈশাখ, ১৩৪৩