পশ্চাতের নিত্যসহচর, অকৃতার্থ হে অতীত,

অতৃপ্ত তৃষ্ণার যত ছায়ামূর্তি প্রেতভূমি হতে

নিয়েছ আমার সঙ্গ, পিছু-ডাকা অক্লান্ত আগ্রহে

আবেশ-আবিল সুরে বাজাইছ অস্ফুট সেতার,

বাসাছাড়া মৌমাছির গুন গুন গুঞ্জরণ যেন

পুষ্পরিক্ত মৌনী বনে। পিছু হতে সম্মুখের পথে

দিতেছ বিস্তীর্ণ করি অস্তশিখরের দীর্ঘ ছায়া

নিরন্ত ধূসরপাণ্ডু বিদায়ের গোধূলি রচিয়া।

পশ্চাতের সহচর, ছিন্ন করো স্বপ্নের বন্ধন;

রেখেছ হরণ করি মরণের অধিকার হতে

বেদনার ধন যত, কামনার রঙিন ব্যর্থতা--

মৃত্যুরে ফিরায়ে দাও। আজি মেঘমুক্ত শরতের

দূরে-চাওয়া আকাশেতে ভারমুক্ত চিরপথিকের

বাঁশিতে বেজেছে ধ্বনি, আমি তারি হব অনুগামী।

 

 

  শান্তিনিকেতন, ৪। ১০। ৩৭