দেখিলাম-- অবসন্ন চেতনার গোধূলিবেলায়

দেহ মোর ভেসে যায় কালো কালিন্দীর স্রোত বাহি

নিয়ে অনুভূতিপুঞ্জ, নিয়ে তার বিচিত্র বেদনা,

চিত্র-করা আচ্ছাদনে আজন্মের স্মৃতির সঞ্চয়,

নিয়ে তার বাঁশিখানি। দূর হতে দূরে যেতে যেতে

ম্লান হয়ে আসে তার রূপ, পরিচিত তীরে তীরে

তরুচ্ছায়া-আলিঙ্গিত লোকালয়ে ক্ষীণ হয়ে আসে

সন্ধ্যা-আরতির ধ্বনি, ঘরে ঘরে রুদ্ধ হয় দ্বার,

ঢাকা পড়ে দীপশিখা, খেয়া নৌকা বাঁধা পড়ে ঘাটে।

দুই তটে ক্ষান্ত হল পারাপার, ঘনালো রজনী,

বিহঙ্গের মৌনগান অরণ্যের শাখায় শাখায়

মহানিঃশব্দের পায়ে রচি দিল আত্মবলি তার।

এক কৃষ্ণ অরূপতা নামে বিশ্ববৈচিত্র৻ের 'পরে

স্থলে জলে। ছায়া হয়ে, বিন্দু হয়ে মিলে যায় দেহ

অন্তহীন তমিস্রায়। নক্ষত্রবেদীর তলে আসি

একা স্তব্ধ দাঁড়াইয়া, ঊর্ধ্বে চেয়ে কহি জোড় হাতে--

হে পূষন্‌, সংহরণ করিয়াছ তব রশ্মিজাল,

এবার প্রকাশ করো তোমার কল্যাণতম রূপ,

দেখি তারে যে পুরুষ তোমার আমার মাঝে এক।

 

 

  শান্তিনিকেতন, ৮। ১২। ৩৭