সেদিন আমার জন্মদিন।

প্রভাতের প্রণাম লইয়া

উদয়দিগন্ত-পানে মেলিলাম আঁখি,

দেখিলাম সদ্যস্নাত উষা

আঁকি দিল আলোকচন্দনলেখা

হিমাদ্রির হিমশুভ্র পেলব ললাটে।

যে মহাদূরত্ব আছে নিখিল বিশ্বের মর্মস্থানে

তারি আজ দেখিনু প্রতিমা

গিরীন্দ্রের সিংহাসন-'পরে।

পরম গাম্ভীর্যে যুগে যুগে

ছায়াঘন অজানারে করিছে পালন

পথহীন মহারণ্য-মাঝে,

অভ্রভেদী সুদূরকে রেখেছে বেষ্টিয়া

দুর্ভেদ্য দুর্গমতলে

উদয়-অস্তের চক্রপথে।

আজি এই জন্মদিনে

দূরত্বের অনুভব অন্তরে নিবিড় হয়ে এল।

যেমন সুদূর ওই নক্ষত্রের পথ

নীহারিকা-জ্যোতির্বাষ্প-মাঝে

রহস্যে আবৃত,

আমার দূরত্ব আমি দেখিলাম তেমনি দুর্গমে-

অলক্ষ্য পথের যাত্রী, অজানা তাহার পরিণাম।

আজি এই জন্মদিনে

দূরের পথিক সেই তাহারি শুনিনু পদক্ষেপ

নির্জন সমুদ্রতীর হতে।

 

 

  উদয়ন, ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ -  সকাল