১৬    


দামামা ওই বাজে,

দিন-বদলের পালা এল

ঝোড়ো যুগের মাঝে।

শুরু হবে নির্মম এক নূতন অধ্যায়,

নইলে কেন এত অপব্যয়--

আসছে নেমে নিষ্ঠুর অন্যায়,

অন্যায়েরে টেনে আনে অন্যায়েরই ভূত

ভবিষ্যতের দূত।

কৃপণতার পাথর-ঠেলা বিষম বন্যাধারা

লোপ করে দেয় নিঃস্ব মাটির নিষ্ফলা চেহারা।

জমে-ওঠা মৃত বালির স্তর

ভাসিয়ে নিয়ে ভর্তি করে লুপ্তির গহ্বর

পলিমাটির ঘটায় অবকাশ,

মরুকে সে মেরে মেরেই গজিয়ে তোলে ঘাস।

দুব্‌লা খেতের পুরানো সব পুনরুক্তি যত

অর্থহারা হয় সে বোবার মতো।

অন্তরেতে মৃত

বাইরে তবু মরে না যে অন্ন ঘরে করেছে সঞ্চিত--

ওদের ঘিরে ছুটে আসে অপব্যয়ের ঝড়,

ভাঁড়ারে ঝাঁপ ভেঙে ফেলে, চালে ওড়ায় খড়।

অপঘাতের ধাক্কা এসে পড়ে ওদের ঘাড়ে,

জাগায় হাড়ে হাড়ে।

হঠাৎ অপমৃত্যুর সংকেতে

নূতন ফসল চাষের তরে  আনবে নূতন খেতে।

শেষ পরীক্ষা ঘটাবে-- দুর্দৈবে--

জীর্ণ যুগে সঞ্চয়েতে কী যাবে,কী রইবে।

পালিশ-করা জীর্ণতাকে চিনতে হবে আজি,

দামামা তাই ওই উঠেছে বাজি।

 

 

  ৩১ মে, ১৯৪০