নামের খেলা


আশ্চর্য করে দিলে। মামা এক সময়ে বসবার ঘরে এসে দেখে, ছেলেটি ভারি ব্যস্ত।

 

'কী কানাই, কী করছিস।'

 

ভাগ্নে খুব আগ্রহ করেই দেখালে সে কী করছে। কেবল তিনটিমাত্র বই নয়, অন্তত পঁচিশখানা বইয়ে ছাপার অক্ষরে কানাইয়ের নাম।

 

এ কী কাণ্ড। পড়াশুনোর নাম নেই, ছোঁড়াটার কেবল খেলা। আর, এ কী রকম খেলা।

 

কানাইয়ের বহু দুঃখে জোটানো নামের অক্ষরগুলি হাত থেকে সে ছিনিয়ে নিলে।

 

কানাই শোকে চীৎকার করে কাঁদে, তার পরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে, তার পরে থেকে থেকে দমকায় দমকায় কেঁদে ওঠে-- কিছুতেই সান্ত্বনা মানে না।

 

বুড়ি ঝি ছুটে এসে জিজ্ঞেস করলে, 'কী হয়েছে, বাবা।'

 

কানাই বললে, 'আমার নাম।'

 

মা এসে বললে, 'কী রে কানাই, কী হয়েছে।'

 

কানাই রুদ্ধকণ্ঠে বললে, 'আমার নাম।'

 

ঝি লুকিয়ে তার হাতে আস্ত একটি ক্ষীরপুলি এনে দিলে; মাটিতে ফেলে দিয়ে সে বললে, 'আমার নাম।'

 

মা এসে বললে, 'কানাই, এই নে তোর সেই রেলগাড়িটা।'

 

কানাই রেলগাড়ি ঠেলে ফেলে বললে, 'আমার নাম।'