জানি তোমার অজানা নাহি গো কী আছে আমার মনে। আমি গোপন করিতে চাহি গো, ধরা পড়ে দুনয়নে॥ কী বলিতে পাছে কি বলি তাই দূরে চলে যাই কেবলই, পথপাশে দিন বাহি গো-- তুমি দেখে যাও আঁখিকোণে কী আছে আমার মনে॥ চিরনিশীথতিমির গহনে আছে মোর পূজাবেদী-- চকিত হাসির দহনে সে তিমির দাও ভেদি। বিজন দিবস-রাতিয়া কাটে ধেয়ানের মালা গাঁথিয়া, আনমনে গান গাহি গো-- তুমি শুনে যাও খনে খনে কী আছে আমার মনে॥
কোন্ ভীরুকে ভয় দেখাবি, আঁধার তোমার সবই মিছে। ভরসা কি মোর সামনে শুধু। নাহয় আমায় রাখবি পিছে।। আমায় দূরে যেই তাড়াবি সেই তো রে তোর কাজ বাড়াবি– তোমায় নীচে নামতে হবে আমায় যদি ফেলিস নীচে।। যাচাই ক’রে নিবি মোরে এই খেলা কি খেলবি ওরে। যে তোর হাত জানে না, মারকে জানে, ভয় লেগে রয় তাহার প্রাণে– যে তোর মার ছেড়ে তোর হাতটি দেখে আসল জানা সেই জানিছে।।
সকাল-বেলার কুঁড়ি আমার বিকালে যায় টুটে, মাঝখানে হায় হয় নি দেখা উঠল যখন ফুটে॥ ঝরা ফুলের পাপড়িগুলি ধুলো থেকে আনিস তুলি, যখন সময় ছিল দিল ফাঁকি-- এখন আন্ কুড়ায়ে দিনের শেষে অসময়ের ছিন্ন বাকি। কৃষ্ণরাতের চাঁদের কণা আঁধারকে দেয় যে সান্ত্বনা তাই নিয়ে মোর মিটুক আশা-- স্বপন গেছে ছুটে॥