যদি আসে তবে কেন যেতে চায়। দেখা দিয়ে তবে কেন গো লুকায়॥ চেয়ে থাকে ফুল হৃদয় আকুল-- বায়ু বলে এসে 'ভেসে যাই'। ধরে রাখো, ধরে রাখো-- সুখপাখি ফাঁকি দিয়ে উড়ে যায়॥ পথিকের বেশে সুখনিশি এসে বলে হেসে হেসে 'মিশে যাই'। জেগে থাকো, সখী, জেগে থাকো-- বরষের সাধ নিমেষে মিলায়॥
আরো কিছুখন নাহয় বসিয়ো পাশে, আরো যদি কিছু কথা থাকে তাই বলো। শরত-আকাশ হেরো ম্লান হয়ে আসে, বাষ্প-আভাসে দিগন্ত ছলোছলো ॥ জানি তুমি কিছু চেয়েছিলে দেখিবারে, তাই তো প্রভাতে এসেছিলে মোর দ্বারে, দিন না ফুরাতে দেখিতে পেলে কি তারে হে পথিক, বলো বলো-- সে মোর অগম অন্তরপারাবারে রক্তকমল তরঙ্গে টলোমলো ॥ দ্বিধাভরে আজও প্রবেশ কর নি ঘরে, বাহির আঙনে করিলে সুরের খেলা। জানি না কী নিয়ে যাবে যে দেশান্তরে, হে অতিথি, আজি শেষ বিদায়ের বেলা। প্রথম প্রভাতে সব কাজ তব ফেলে যে গভীর বাণী শুনিবারে কাছে এলে কোনোখানে কিছু ইশারা কি তার পেলে, হে পথিক, বলো বলো-- সে বাণী আপন গোপন প্রদীপ জ্বেলে রক্ত আগুনে প্রাণে মোর জ্বলোজ্বলো ॥
আমার একটি কথা বাঁশি জানে, বাঁশিই জানে॥ ভরে রইল বুকের তলা, কারো কাছে হয় নি বলা, কেবল বলে গেলেম বাঁশির কানে কানে॥ আমার চোখে ঘুম ছিল না গভীর রাতে, চেয়ে ছিলেম চেয়ে থাকা তারার সাথে। এমনি গেল সারা রাতি, পাই নি আমার জায়গা সাথি-- বাঁশিটিরে জাগিয়ে গেলেম গানে গানে॥