কাহার গলায় পরাবি গানের রতনহার, তাই কি বীণায় লাগালি যতনে নূতন তার ॥ কানন পরেছে শ্যামল দুকূল, আমের শাখাতে নূতন মুকুল, নবীনের মায়া করিল আকুল হিয়া তোমার ॥ যে কথা তোমার কোনো দিন আর হয় নি বলা নাহি জানি কারে তাই বলিবারে করে উতলা! দখিনপবনে বিহ্বলা ধরা কাকলিকূজনে হয়েছে মুখরা, আজি নিখিলের বাণীমন্দিরে খুলেছে দ্বার ॥
ওরে, তোরা নেই বা কথা বললি, দাঁড়িয়ে হাটের মধ্যিখানে নেই জাগালি পল্লী ॥ মরিস মিথ্যে ব'কে ঝ'কে, দেখে কেবল হাসে লোকে, নাহয় নিয়ে আপন মনের আগুন মনে মনেই জ্বললি ॥ অন্তরে তোর আছে কী যে নেই রটালি নিজে নিজে, নাহয় বাদ্যগুলো বন্ধ রেখে চুপেচাপেই চললি ॥ কাজ থাকে তো কর্ গে না কাজ, লাজ থাকে তো ঘুচা গে লাজ, ওরে, কে যে তোরে কী বলেছে নেই বা তাতে টললি ॥
তোমারি ঝরনাতলার নির্জনে মাটির এই কলস আমার ছাপিয়ে গেল কোন্ ক্ষণে ॥ রবি ওই অস্তে নামে শৈলতলে, বলাকা কোন্ গগনে উড়ে চলে-- আমি এই করুণ ধারার কলকলে নীরবে কান পেতে রই আনমনে তোমারি ঝরনাতলার নির্জনে ॥ দিনে মোর যা প্রয়োজন বেড়াই তারি খোঁজ করে, মেটে বা নাই মেটে তা ভাবব না আর তার তরে সারাদিন অনেক ঘুরে দিনের শেষে এসেছি সকল চাওয়ার বাহির-দেশে, নেব আজ অসীম ধারার তীরে এসে প্রয়োজন ছাপিয়ে যা দাও সেই ধনে তোমারি ঝরনাতলার নির্জনে ॥