আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে তখন কে তুমি তা কে জানত। তখন ছিল না ভয়, ছিল না লাজ মনে, জীবন বহে যেত অশান্ত ॥ তুমি ভোরের বেলা ডাক দিয়েছ কত যেন আমার আপন সখার মতো, হেসে তোমার সাথে ফিরেছিলেম ছুটে সে দিন কত-না বন-বনান্ত ॥ ওগো, সেদিন তুমি গাইতে যে-সব গান কোনো অর্থ তাহার কে জানত। শুধু সঙ্গে তারি গাইত আমার প্রাণ, সদা নাচত হৃদয় অশান্ত। হঠাৎ খেলার শেষে আজ কী দেখি ছবি-- স্তব্ধ আকাশ, নীরব শশী রবি, তোমার চরণ-পানে নয়ন করি নত ভুবন দাঁড়িয়ে আছে একান্ত ॥
উদাসিনী সে বিদেশিনী কে নাই বা তারে জানি মনে জাগে নব নব রাগে তারি মরীচিকা-ছবিখানি॥ পুবের হাওয়ায় তরীখানি তার ভাঙা এ ঘাট কবে হল পার, রঙিন মেঘে আর রঙিন পালে তার করে গেল কানাকানি॥ একা আলসে গণি বসে পলাতকা যত ঢেউ। যায় তারা যায়, ফেরে না, চায় না পিছু-পানে আর কেউ। জানি তার নাগাল পাব না, আমার ভাবনা শূন্যে শূন্যে কুড়ায়ে বেড়ায় বাদলের বাণী॥