পদ্মা, ৮ ফাল্গুন, ১৩২২


 

৪১


     যে-কথা বলিতে চাই,

         বলা হয় নাই,

             সে কেবল এই--

চিরদিবসের বিশ্ব আঁখিসম্মুখেই

             দেখিনু সহস্রবার

             দুয়ারে আমার।

     অপরিচিতের এই চির পরিচয়

এতই সহজে নিত্য ভরিয়াছে গভীর হৃদয়

     সে-কথা বলিতে পারি এমন সরল বাণী

          আমি নাহি জানি।

 

শূন্য প্রান্তরের গান বাজে ওই একা ছায়াবটে;

     নদীর এপারে ঢালু তটে

          চাষি করিতেছে চাষ;

     উড়ে চলিয়াছে হাঁস

ওপারের জনশূন্য তৃণশূন্য বালুতীরতলে।

          চলে কি না চলে

        ক্লান্তস্রোত শীর্ণ নদী, নিমেষ-নিহত

          আধো-জাগা নয়নের মতো।

          পথখানি বাঁকা

     বহুশত বরষের পদচিহ্ন-আঁকা

চলেছে মাঠের ধারে, ফসল-খেতের যেন মিতা,

     নদীসাথে কুটিরের বহে কুটুম্বিতা।

 

ফাল্গুনের এ-আলোয় এই গ্রাম, ওই শূন্য মাঠ,

              ওই খেয়াঘাট,

ওই নীল নদীরেখা, ওই দূর বালুকার কোলে

      নিভৃত জলের ধারে চখাচখি কাকলি-কল্লোলে

          যেখানে বসায় মেলা-- এই সব ছবি

              কতদিন দেখিয়াছে কবি।

শুধু এই চেয়ে দেখা, এই পথ বেয়ে চলে যাওয়া,

     এই আলো, এই হাওয়া,

এইমতো অস্ফুটধ্বনির গুঞ্জরণ,

     ভেসে-যাওয়া মেঘ হতে

     অকস্মাৎ নদীস্রোতে

          ছায়ার নিঃশব্দ সঞ্চরণ,

যে আনন্দ-বেদনায় এ জীবন বারেবারে করেছে উদাস

          হৃদয় খুঁজিছে আজি তাহারি প্রকাশ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •