এলাহাবাদ, ৫ পৌষ, ১৩২১ - প্রভাতে


 


কে তোমারে দিল প্রাণ

                      রে পাষাণ।

     কে তোমারে জোগাইছে এ অমৃতরস

                      বরষ বরষ।

তাই দেবলোকপানে নিত্য তুমি রাখিয়াছ ধরি

                      ধরণীর আনন্দমঞ্জরী;

     তাই তো তোমারে ঘিরি বহে বারোমাস

অবসন্ন বসন্তের বিদায়ের বিষণ্ন নিশ্বাস;

     মিলনরজনীপ্রান্তে ক্লান্ত চোখে

                       ম্লান দীপালোকে

     ফুরায়ে গিয়াছে যত অশ্রু-গলা গান

তোমার অন্তরে তারা আজিও জাগিছে অফুরান,

     হে পাষাণ, অমর পাষাণ।

 

     বিদীর্ণ হৃদয় হতে বাহিরে আনিল বহি

              সে রাজবিরহী

          বিরহের রত্নখানি;

              দিল আনি

          বিশ্বলোক-হাতে

              সবার সাক্ষাতে।

     নাই সেথা সম্রাটের প্রহরী সৈনিক,

          ঘিরিয়া ধরেছে তারে দশ দিক।

              আকাশ তাহার 'পরে

                     যত্নভরে

              রেখে দেয় নীরব চুম্বন

                             চিরন্তন;

             প্রথম মিলনপ্রভা

                     রক্তশোভা

                             দেয় তারে প্রভাত-অরুণ,

              বিরহের ম্লানহাসে

                      পাণ্ডুভাসে

                             জ্যোৎস্না তারে করিছে করুণ।

 

                      সম্রাটমহিষী,

তোমার প্রেমের স্মৃতি সৌন্দর্যে হয়েছে মহীয়সী।

              সে-স্মৃতি তোমারে ছেড়ে

                      গেছে বেড়ে

                               সর্বলোকে

                                     জীবনের অক্ষয় আলোকে।

 

          অঙ্গ ধরি সে অনঙ্গস্মৃতি

     বিশ্বের প্রীতির মাঝে মিলাইছে সম্রাটের প্রীতি।

          রাজ-অন্তঃপুর হতে আনিল বাহিরে

     গৌরবমুকুট তব, পরাইল সকলের শিরে

              যেথা  যার রয়েছে প্রেয়সী

     রাজার প্রাসাদ হতে দীনের কুটিরে--

     তোমার প্রেমের স্মৃতি সবারে করিল মহীয়সী।

 

              সম্রাটের মন,

                      সম্রাটের ধনজন

এই রাজকীর্তি হতে করিয়াছে বিদায়গ্রহণ।

              আজ সর্বমানবের অনন্ত বেদনা

                      এ পষাণ-সুন্দরীরে

                               আলিঙ্গনে ঘিরে

                      রাত্রিদিন করিছে সাধানা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •