পদ্মা, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৩২২


 

৩৮


সর্বদেহের ব্যাকুলতা কী বলতে চায় বাণী,

     তাই আমার এই নূতন বসনখানি।

নূতন সে মোর হিয়ার মধ্যে দেখতে কি পায় কেউ।

              সেই নূতনের ঢেউ

অঙ্গ বেয়ে পড়ল ছেয়ে নূতন বসনখানি।

দেহ-গানের তান যেন এই নিলেম বুকে টানি।

 

আপনাকে তো দিলেম তারে, তবু হাজার বার

     নূতন করে দিই যে উপহার।

চোখের কালোয় নূতন আলো ঝলক দিয়ে ওঠে,

              নূতন হাসি ফোটে,

তারি সঙ্গে, যতনভরা নূতন বসনখানি

অঙ্গ আমার নূতন করে দেয়-যে তারি আনি।

 

চাঁদের আলো চাইবে রাতে বনছায়ার পানে

     বেদনভরা শুধু চোখের গানে।

মিলব তখন বিশ্বমাঝে আমরা দোঁহে একা,

              যেন নূতন দেখা।

তখন আমার অঙ্গ ভরি নূতন বসনখানি।

পাড়ে পাড়ে ভাঁজে ভাঁজে করবে কানাকানি।

 

ওগো, আমার হৃদয় যেন সন্ধ্যারি আকাশ,

     রঙের নেশায় মেটে না তার আশ,

তাই তো বসন রাঙিয়ে পরি কখনো বা ধানী,

              কখনো জাফরানী,

আজ তোরা দেখ্‌ চেয়ে আমার নূতন বসনখানি

বৃষ্টি-ধোওয়া আকাশ যেন নবীন আসমানী।

 

অকূলের এই বর্ণ, এ-যে দিশাহারার নীল,

     অন্য পারের বনের সাথে মিল।

আজকে আমার সকল দেহে বইছে দূরের হাওয়া

              সাগরপানে ধাওয়া।

আজকে আমার অঙ্গে আনে নূতন কাপড়খানি

বৃষ্টিভরা ঈশান কোণের নব মেঘের বাণী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •