শান্তিনিকেতন, ৮ বৈশাখ, ১৩৩৪


 

পরদেশী


পিয়র্সন কয়েক জোড়া সবুজরঙের বিদেশী পাখি আশ্রমে ছেড়ে দিয়েছিলেন । অনেক দিন তারা এখানে বাসা বেঁধে ছিল । আজকাল আর দেখতে পাই নে । আশা করি কোনো নালিশ নিয়ে তারা চলে যায় নি, কিম্বা এখানকার অন্য আশ্রমিক পশু-পাখির সঙ্গে বর্ণভেদ বা সুরের পার্থক্য নিয়ে তাদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটে নি ।

 

এনেছে কবে বিদেশী সখা

         বিদেশী পাখি আমার বনে,

সকাল-সাঁঝে কুঞ্জমাঝে

          উঠিছে ডাকি সহজ মনে ।

অজানা এই সাগরপারে

         হল না তার গানের ক্ষতি ।

সবুজ তার ডানার আভা,

         চপল তার নাচের গতি ।

আমার দেশে যে-মেঘ এসে

নীপবনের মরমে মেশে

    বিদেশী পাখি গীতালি দিয়ে

          মিতালি করে তাহার সনে ।

 

বটের ফলে আরতি তার ,

         রয়েছে লোভ নিমের তরে,

বনজামেরে  চঞ্চু তার

         অচেনা ব"লে দোষী না করে ।

শরতে যবে শিশির বায়ে

          উচ্ছ্বসিত শিউলিবীথি,

বাণীরে তার করে না ম্লান

          কুহেলিঘন পুরানো স্মৃতি ।

শালের ফুল-ফোটার বেলা

মধুকাঙালী লোভীর মেলা,

          চিরমধুর বঁধুর মতো

             সে ফুল তার হৃদয় হরে ।

 

বেণুবনের আগের ডালে

          চটুল ফিঙা যখন নাচে

পরদেশী এ পাখির সাথে

          পরানে তার ভেদ কি আছে ।

উষার ছোঁওয়া জাগায় ওরে

          ছাতিমশাখে পাতার কোলে,

চোখের আগে যে ছবি জাগে

          মানে না তারে প্রবাস ব"লে ।

আলোতে সোনা,আকাশে নীলা,

সেথা যে চিরজানারই লীলা,

          মায়ের ভাষা শোনে সেখানে

               শ্যামল ভাষা যেখানে গাছে ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •