১৩ চৈত্র, ১৩০২


 

গীতহীন


চলে গেছে মোর বীণাপাণি

         কতদিন হল সে না জানি।

কী জানি কী অনাদরে    বিস্মৃত ধূলির 'পরে

         ফেলে রেখে গেছে বীণাখানি।

 

ফুটেছে কুসুমরাজি--              নিখিল জগতে আজি

         আসিয়াছে গাহিবার দিন,

মুখরিত দশ দিক,                 অশ্রান্ত পাগল পিক,

         উচ্ছ্বসিত বসন্তবিপিন।

বাজিয়া উঠেছে ব্যথা,              প্রাণ-ভরা ব্যাকুলতা,

         মনে ভরি উঠে কত বাণী,

বসে আছি সারাদিন                গীতিহীন স্তুতিহীন--

         চলে গেছে মোর বীণাপাণি।

 

আর সে নবীন সুরে                বীণা উঠিবে না পুরে,

         বাজিবে না পুরানো রাগিণী;

যৌবনে যোগিনীমত,              লয়ে নিত্য মৌনব্রত

         তুই বীণা রবি উদাসিনী।

কে বসিবে এ আসনে              মানসকমলবনে,

         কার কোলে দিব তোরে আনি--

থাক্‌ পড়ে ওইখানে                চাহিয়া আকাশপানে--

         চলে গেছে মোর বীণাপাণি।

 

কখনো মনের ভুলে               যদি এরে লই তুলে

         বাজে বুকে বাজাইতে বীণা;

যদিও নিখিল ধরা                  বসন্তে সংগীত ভরা,

         তবু আজি গাহিতে পারি না।

কথা আজি কথাসার,              সুর তাহে নাহি আর,

         গাঁথা ছন্দ বৃথা বলে মানি--

অশ্রুজলে ভরা প্রাণ,              নাহি তাহে কলতান--

         চলে গেছে মোর বীণাপাণি।

 

ভাবিতাম সুরে বাঁধা               এ বীণা আমারি সাধা,

         এ আমার দেবতার বর;

এ আমারি প্রাণ হতে              মন্ত্রভরা সুধাস্রোতে

         পেয়েছে অক্ষয় গীতস্বর।

একদিন সন্ধ্যালোকে               অশ্রুজল ভরি চোখে

         বক্ষে এরে লইলাম টানি--

আর না বাজিতে চায়,             তখনি বুঝিনু হায়

         চলে গেছে মোর বীণাপাণি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •