হায় রে তোরে রাখব ধরে, ভালোবাসা, মনে ছিল এই দুরাশা। পাথর দিয়ে ভিত্তি ফেঁদে বাসা যে তোর দিলেম বেঁধে, এল তুফান সর্বনাশা। মনে আমার ছিল যে রে ঘিরব তোরে হাসির ঘেরে-- চোখের জলে হল ভাসা। অনেক দুঃখে গেছে বোঝা বেঁধে রাখা নয় তো সোজা, সুখের ভিতে নহে তোমার অচল বাসা। এবার আমি সব-ফুরানো পথের শেষে বাঁধব বাসা মেঘের দেশে। ক্ষণে ক্ষণে নিত্যনব বদল কোরো মূর্তি তব রঙ-ফেরানো মায়ার বেশে। কখনো বা জ্যোৎস্না-ভরা কখনো বা বাদল-ঝরা খেয়াল তোমার কেঁদে হেসে। যেই হাওয়াতে হেলাভরে মিলিয়ে যাবে দিগন্তরে সেই হাওয়াতেই ফিরে ফিরে আসবে ভেসে। কঠিন মাটি বানের জলে যায় যে বয়ে, শৈলপাষাণ যায় তো ক্ষ'য়ে। কালের ঘায়ে সেই তো মরে অটল বলের গর্বভরে থাকতে যে চায় অচল হয়ে। জানে যারা চলার ধারা নিত্য থাকে নূতন তারা, হারায় যারা রয়ে রয়ে। ভালোবাসা, তোমারে তাই মরণ দিয়ে বরিতে চাই, চঞ্চলতার লীলা তোমার রইব সয়ে।
তব পূজা না আনিলে দণ্ড দিবে তারে, যমদূত লয়ে যাবে নরকের দ্বারে-- ভক্তিহীনে এই বলি যে দেখায় ভয় তোমার নিন্দুক সে যে, ভক্ত কভু নয়। হে বিশ্বভুবনরাজ, এ বিশ্বভুবনে আপনারে সব চেয়ে রেখেছ গোপনে আপন মহিমা-মাঝে। তোমার সৃষ্টির ক্ষুদ্র বালুকণাটুকু,ক্ষণিক শিশির তারাও তোমার চেয়ে প্রত্যক্ষ আকারে দিকে দিকে ঘোষণা করিছে আপনারে। যা-কিছু তোমারি তাই আপনার বলি চিরদিন এ সংসার চলিয়াছে ছলি-- তবু সে চোরের চৌর্য পড়ে না তো ধরা। আপনারে জানাইতে নাই তব ত্বরা।