গতি আমার এসে ঠেকে যেথায় শেষে অশেষ সেথা খোলে আপন দ্বার। যেথা আমার গান হয় গো অবসান সেথা গানের নীরব পারাবার। যেথা আমার আঁখি আঁধারে যায় ঢাকি অলখ-লোকের আলোক সেথা জ্বলে। বাইরে কুসুম ফুটে ধুলায় পড়ে টুটে, অন্তরে তো অমৃত-ফল ফলে। কর্ম বৃহৎ হয়ে চলে যখন বয়ে তখন সে পায় বৃহৎ অবকাশ। যখন আমার আমি ফুরায়ে যায় থামি তখন আমার তোমাতে প্রকাশ।
যা দিয়েছ আমার এ প্রাণ ভরি খেদ রবে না এখন যদি মরি। রজনীদিন কত দুঃখে সুখে কত যে সুর বেজেছে এই বুকে, কত বেশে আমার ঘরে ঢুকে কত রূপে নিয়েছ মন হরি, খেদ রবে না এখন যদি মরি। জানি তোমায় নিই নি প্রাণে বরি, পাই নি আমার সকল পূর্ণ কবে। যা পেয়েছি ভাগ্য বলে মানি, দিয়েছ তো তব পরশখানি, আছ তুমি এই জানা তো জানি-- যাব ধরি সেই ভরসার তরী। খেদ রবে না এখন যদি মরি।