অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো সেই তো তোমার আলো। সকল দ্বন্দ্ব-বিরোধ-মাঝে জাগ্রত যে ভালো, সেই তো তোমার ভালো। পথের ধুলায় বক্ষ পেতে রয়েছে যেই গেহ সেই তো তোমার গেহ। সমর-ঘাতে অমর করে রুদ্র নিঠুর স্নেহ সেই তো তোমার স্নেহ। সব ফুরালে বাকি রহে অদৃশ্য যেই দান সেই তো তোমার দান। মৃত্যু আপন পাত্রে ভরি বহিছে যেই প্রাণ সেই তো তোমার প্রাণ। বিশ্বজনের পায়ের তলে ধূলিময় যে ভূমি সেই তো স্বর্গভূমি। সবায় নিয়ে সবার মাঝে লুকিয়ে আছ তুমি সেই তো আমার তুমি।
জান না তো নির্ঝরিণী, আসিয়াছ কোথা হতে, কোথায় যে করিছ প্রয়াণ, মাতিয়া চলেছ তবু আপন আনন্দে পূর্ণ, আনন্দ করিছ সবে দান। বিজন-অরণ্য-ভূমি দেখিছে তোমার খেলা জুড়াইছে তাহার নয়ান। মেষ-শাবকের মতো তরুদের ছায়ে ছায়ে রচিয়াছ খেলিবার স্থান। গভীর ভাবনা কিছু আসে না তোমার কাছে, দিনরাত্রি গাও শুধু গান। বুঝি নরনারী মাঝে এমনি বিমল হিয়া আছে কেহ তোমারি সমান। চাহে না চাহে না তারা ধরণীর আড়ম্বর, সন্তোষে কাটাতে চায় প্রাণ, নিজের আনন্দ হতে আনন্দ বিতরে তারা গায় তারা বিশ্বের কল্যাণ।