কাঁকনজোড়া এনে দিলেম যবে ভেবেছিলেম হয়তো খুশি হবে। তুলে তুমি নিলে হাতের 'পরে, ঘুরিয়ে তুমি দেখলে ক্ষণেক-তরে, পরেছিলে হয়তো গিয়ে ঘরে, হয়তো বা তা রেখেছিলে খুলে। এলে যেদিন বিদায় নেবার রাতে কাঁকন-দুটি দেখি নাই তো হাতে, হয়তো এলে ভুলে। দেয় যে জনা কী দশা পায় তাকে। দেওয়ার কথা কেনই মনে রাখে। পাকা যে ফল পড়ল মাটির টানে শাখা আবার চায় কি তাহার পানে। বাতাসেতে উড়িয়ে-দেওয়া গানে তারে কি আর স্মরণ করে পাখি। দিতে যারা জানে এ সংসারে এমন করেই তারা দিতে পারে কিছু না রয় বাকি। নিতে যারা জানে তারাই জানে, বোঝে তারা মূল্যটি কোন্খানে। তারাই জানে বুকের রত্নহারে সেই মণিটি কজন দিতে পারে হৃদয় দিয়ে দেখিতে হয় যারে -- যে পায় তারে পায় সে অবহেলে। পাওয়ার মতন পাওয়া যারে কহে সহজ বলেই সহজ তাহা নহে, দৈবে তারে মেলে। ভাবি যখন ভেবে না পাই তবে দেবার মতো কী আছে এই ভবে। কোন্ খনিতে কোন্ ধনভাণ্ডারে সাগরতলে কিম্বা সাগরপারে যক্ষরাজের লক্ষমণির হারে যা আছে তা কিছুই তো নয় প্রিয়ে! তাই তো বলি যা কিছু মোর দান গ্রহণ করেই করবে মূল্যবান আপন হৃদয় দিয়ে।
সোম মঙ্গল বুধ এরা সব আসে তাড়াতাড়ি, এদের ঘরে আছে বুঝি মস্ত হাওয়াগাড়ি? রবিবার সে কেন, মা গো, এমন দেরি করে? ধীরে ধীরে পৌঁছয় সে সকল বারের পরে। আকাশপারে তার বাড়িটি দূর কি সবার চেয়ে? সে বুঝি, মা, তোমার মতো গরিব-ঘরের মেয়ে? সোম মঙ্গল বুধের খেয়াল থাকবারই জন্যেই, বাড়ি-ফেরার দিকে ওদের একটুও মন নেই। রবিবারকে কে যে এমন বিষম তাড়া করে, ঘণ্টাগুলো বাজায় যেন আধ ঘণ্টার পরে। আকাশ-পারে বাড়িতে তার কাজ আছে সব-চেয়ে সে বুঝি, মা, তোমার মতো গরিব-ঘরের মেয়ে। সোম মঙ্গল বুধের যেন মুখগুলো সব হাঁড়ি, ছোটো ছেলের সঙ্গে তাদের বিষম আড়াআড়ি। কিন্তু শনির রাতের শেষে যেমনি উঠি জেগে, রবিবারের মুখে দেখি হাসিই আছে লেগে। যাবার বেলায় যায় সে কেঁদে মোদের মুখে চেয়ে। সে বুঝি, মা, তোমার মতো গরিব ঘরের মেয়ে?