লিসবন বন্দর।  আণ্ডেস জাহাজ,  ২০  অক্টোবর,  ১৯২৪


 

বাতাস


গোলাপ বলে, ওগো বাতাস, প্রলাপ তোমার বুঝতে কে বা পারে,

                কেন এসে ঘা দিলে মোর দ্বারে?

বাতাস বলে, ওগো গোলাপ, আমার ভাষা বোঝ বা নাই বোঝ,

                আমি জানি কাহার পরশ খোঁজ;

সেই প্রভাতের আলো এল, আমি কেবল ভাঙিয়ে দিলাম ঘুম,

                         হে মোর কুসুম।

 

পাখি বলে, ওগো বাতাস, কী তুমি চাও বুঝিয়ে বলো মোরে,

                কুলায় আমার দুলাও কেন ভোরে?

বাতাস বলে, ওগো পাখি, আমার ভাষা বোঝ বা নাই বোঝ,

                আমি জানি তুমি কারে খোঁজ;

সেই আকাশে জাগল আলো, আমি কেবল দিনু তোমায় আনি

                         সীমাহীনের বাণী।

 

নদী বলে, ওগো বাতাস, বুঝতে নারি কী যে তোমার কথা,

                কিসের লাগি এতই চঞ্চলতা ।

বাতাস বলে, ওগো নদী, আমার ভাষা বোঝ বা নাই বোঝ,

                জানি তোমার বিলয় যেথা খোঁজ;

সেই সাগরের ছন্দ আমি এনে দিলাম তোমার বুকের কাছে,

                         তোমার ঢেউয়ের নাচে।

 

অরণ্য কয়, ওগো বাতাস, নাহি জানি বুঝি কি নাই বুঝি

            তোমার ভাষায় কাহার চরণ পূজি।

বাতাস বলে, হে অরণ্য,আমার ভাষা বোঝ বা নাই বোঝ,

            আমি জানি কাহার মিলন খোঁজ;

সেই বসন্ত এল পথে, আমি কেবল সুর জাগাতে পারি

                 তাহার পূর্ণতারই।

 

শুধায় সবে, ওগো বাতাস, তবে তোমার আপন কথা কী যে--

            বলো মোদের কী চাও তুমি নিজে।

বাতাস বলে, আমি পথিক, আমার ভাষা বোঝ বা নাই বোঝ,

            আমি বুঝি তোমরা কারে খোঁজ;

আমি শুধু যাই চলে আর সেই অজানার আভাস করি দান,

                 আমার শুধু গান।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •