আণ্ডেস জাহাজ, ২৬ অক্টোবর, ১৯২৪


 

প্রকাশ


খুঁজতে যখন এলাম সেদিন কোথায় তোমার গোপন অশ্রুজল,

           সে পথ আমায় দাও নি তুমি বলে।

বাহির-দ্বারে অধীর খেলা, ভিড়ের মাঝে হাসির কোলাহল,

                    দেখে এলেম চলে।

              এই ছবি মোর ছিল মনে--

              নির্জনমন্দিরের কোণে

                    দিনের অবসানে

সন্ধ্যাপ্রদীপ আছে চেয়ে ধ্যানের চোখে সন্ধ্যাতারার পানে।

              নিভৃত ঘর কাহার লাগি

              নিশীত-রাতে রইল জাগি,

                    খুলল না তার দ্বার।

              হে চঞ্চলা, তুমি বুঝি

              আপনিও পথ পাও নি খুঁজি,

                    তোমার কাছে সে ঘর অন্ধকার।

 

জানি তোমার নিকুঞ্জে আজ পলাশ-শাখায় রঙের নেশা লাগে,

           আপন গন্ধে বকুল মাতোয়ারা।

কাঙাল সুরে দখিন বাতাস বনে বনে গুপ্ত কী ধন মাগে,

                    বেড়ায় নিদ্রাহারা।

              হায় গো তুমি জান না যে

              তোমার মনের তীর্থমাঝে

                         পূজা হয় নি আজও।

দেব্‌তা তোমার বুভুক্ষিত, মিথ্যা-ভূষায় কী সাজ তুমি সাজো।

              হল সুখের শয়ন পাতা,

              কণ্ঠহারের মানিক গাঁথা,

                       প্রমোদ-রাতের গান,

              হয় নি কেবল চোখের জলে

              লুটিয়ে মাথা ধুলার তলে

        আপন-ভোলা সকল-শেষের দান।

 

ভোলাও যখন তখন সে কোন্‌ মায়ার ঢাকা পড়ে তোমার 'পরে --

           ভুলবে যখন তখন প্রকাশ পাবে;

উষার মতো অমল হাসি জাগবে তোমার আঁখির নীলাম্বরে

                    গভীর অনুভাবে।

              ভোগ সে নহে, নয় বাসনা,

                  নয় আপনার উপাসনা,

                    নয়কো অভিমান--

সরল প্রেমের সহজ প্রকাশ, বাইরে যে তার নাই রে পরিমাণ।

              আপন প্রাণের চরম কথা

              বুঝবে যখন, চঞ্চলতা

                    তখন হবে চুপ।

              তখন দুঃখসাগর-তীরে

                  লক্ষ্মী উঠে আসবে ধীরে

                        রূপের কোলে পরম অপরূপ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •