কালিম্পঙ, ২০ জুন, ১৯৩৮


 

যক্ষ


যক্ষের বিরহ চলে অবিশ্রাম অলকার পথে

          পবনের ধৈর্যহীন রথে

বর্ষাবাষ্প-ব্যাকুলিত দিগন্তে ইঙ্গিত-আমন্ত্রণে

          গিরি হতে গিরিশীর্ষে, বন হতে বনে।

সমুৎসুক বলাকার ডানার আনন্দ-চঞ্চলতা

তারি সাথে উড়ে চলে বিরহীর আগ্রহ-বারতা

          চিরদূর স্বর্গপুরে,

ছায়াচ্ছন্ন বাদলের বক্ষোদীর্ণ নিশ্বাসের সুরে।

নিবিড় ব্যথার সাথে পদে পদে পরমসুন্দর

          পথে পথে মেলে নিরন্তর।

পথিক কালের মর্মে জেগে থাকে বিপুল বিচ্ছেদে;

          পূর্ণতার সাথে ভেদ

মিটাতে সে নিত্য চলে ভবিষ্যের তোরণে তোরণে

          নব নব জীবনে মরণে।

এ বিশ্ব তো তারি কাব্য, মন্দাক্রান্তে তারি রচে টীকা

বিরাট দুঃখের পটে আনন্দের সুদূর ভূমিকা।

          ধন্য যক্ষ সেই

   সৃষ্টির আগুন-জ্বালা এই বিরহেই।

   হোথা বিরহিণী ও যে স্তব্ধ প্রতীক্ষায়,

   দন্ড পল গনি গনি মন্থর দিবস তার যায়।

          সম্মুখে চলার পথ নাই,

               রুদ্ধ কক্ষে তাই

আগন্তুক পান্থ-লাগি ক্লান্তিভারে ধূলিশায়ী আশা।

কবি তারে দেয় নাই বিরহের তীর্থগামী ভাষা।

তার তরে বাণীহীন যক্ষপুরী ঐশ্বর্যের কারা

                   অর্থহারা--

     নিত্য পুষ্প, নিত্য চন্দ্রালোক,

     অস্তিত্বের এত বড়ো শোক

               নাই মর্তভূমে

     জাগরণ নাহি যার স্বপ্নমুগ্ধ ঘুমে।

          প্রভুবরে যক্ষের বিরহ

     আঘাত করিছে ওর দ্বারে অহরহ।

          স্তব্ধগতি চরমের স্বর্গ হতে

ছায়ায়-বিচিত্র এই নানাবর্ণ মর্তের আলোতে

          উহারে আনিতে চাহে

                তরঙ্গিত প্রাণের প্রবাহে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •