মংপু, ২৩। ৪। ৪০


 

শেষ অভিসার


     আকাশে ঈশানকোণে মসীপুঞ্জ মেঘ।

              আসন্ন ঝড়ের বেগ

        স্তব্ধ রহে অরণ্যের ডালে ডালে

              যেন সে বাদুড় পালে পালে।

       নিষ্কম্প পল্লবঘন মৌনরাশি

            শিকার-প্রত্যাশী

       বাঘের মতন আছে থাবা পেতে,

            রন্ধ্রহীন আঁধারেতে।

     ঝাঁকে ঝাঁক

             উড়িয়া চলেছে কাক

আতঙ্ক বহন করি উদ্‌বিগ্ন ডানার 'পরে।

     যেন কোন্‌ ভেঙে-পড়া লোকান্তরে

ছিন্ন ছিন্ন রাত্রিখন্ড চলিয়াছে উড়ে

     উচ্ছৃঙ্খল ব্যর্থতার শূন্যতল জুড়ে।

  

     দুর্যোগের ভূমিকায় তুমি আজ কোথা হতে এলে

               এলোচুলে অতীতের বনগন্ধ মেলে।

          জন্মের আরম্ভপ্রান্তে আর-একদিন

               এসেছিলে অম্লান নবীন

                      বসন্তের প্রথম দূতিকা,

               এনেছিলে আষাঢ়ের প্রথম যূথিকা

                          অনির্বচনীয় তুমি।

               মর্মতলে উঠিলে কুসুমি

     অসীম বিস্ময়-মাঝে, নাহি জানি এলে কোথা হতে

          অদৃশ্য আলোক হতে দৃষ্টির আলোতে।

               তেমনি রহস্যপথে, হে অভিসারিকা,

     আজ আসিয়াছ তুমি; ক্ষণদীপ্ত বিদ্যুতের শিখা

          কী ইঙ্গিত মেলিতেছে মুখে তব,

                   কী তাহার ভাষা অভিনব।

     আসিছ যে-পথ বেয়ে সেদিনের চেনা পথ এ কি।

                   এ যে দেখি

               কোথাও বা ক্ষীণ তার রেখা,

          কোথাও চিহ্নের সূত্র লেশমাত্র নাহি যায় দেখা।

               ডালিতে এনেছ ফুল স্মৃত বিস্মৃত,

                   কিছু-বা অপরিচিত।

          হে দূতী, এনেছ আজ গন্ধে তব যে-ঋতুর বাণী

                   নাম তার নাহি জানি।

                        মৃত্যু-অন্ধকারময়

          পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে আসন্ন তাহার পরিচয়।

               তারি বরমাল্যখানি পরাইয়া দাও মোর গলে

                   স্তিমিতনক্ষত্র এই নীরবের সভাঙ্গনতলে।

                     এই তব শেষ অভিসারে

                          ধরণীর পারে

                    মিলন ঘটায়ে যাও অজানার সাথে

                             অন্তহীন রাতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •