পুষ্প দিয়ে মার যারে চিনল না সে মরণকে। বাণ খেয়ে যে পড়ে, সে যে ধরে তোমার চরণকে। সবার নীচে ধুলার 'পরে ফেল যারে মৃত্যু-শরে সে যে তোমার কোলে পড়ে-- ভয় কী বা তার পড়নকে। আরামে যার আঘাত ঢাকা, কলঙ্ক যার সুগন্ধ, নয়ন মেলে দেখল না সে রুদ্র মুখের আনন্দ। মজল না সে চোখের জলে, পৌঁছল না চরণতলে, তিলে তিলে পলে পলে ম'ল যেজন পালঙ্কে।
এই কথাটা ধরে রাখিস মুক্তি তোরে পেতেই হবে, যে পথ গেছে পারের পানে সে পথে তোর যেতেই হবে। অভয়-মনে কণ্ঠ ছাড়ি গান গেয়ে তুই দিবি পাড়ি, খুশি হয়ে ঝড়ের হাওয়ায় ঢেউ যে তোরে খেতেই হবে। পাকের ঘোরে ঘোরায় যদি ছুটি তোরে পেতেই হবে। চলার পথে কাঁটা থাকে দ'লে তোমায় যেতেই হবে। সুখের আশা আঁকড়ে লয়ে মরিস নে তুই ভয়ে ভয়ে, জীবনকে তোর ভরে নিতে মরণ-আঘাত খেতেই হবে।
কেবল তব মুখের পানে চাহিয়া, বাহির হনু তিমির-রাতে তরণীখানি বাহিয়া। অরুণ আজি উঠেছে-- আশোক আজি ফুটেছে-- না যদি উঠে,না যদি ফুটে, তবুও আমি চলিব ছুটে তোমার মুখে চাহিয়া। নয়নপাতে ডেকেছ মোরে নীরবে। হৃদয় মোর নিমেষ-মাঝে উঠেছে ভরি গরবে। শঙ্খ তব বাজিল-- সোনার তরী সাজিল-- না যদি বাজে, না যদি সাজে, গরব যদি টুটে গো লাজে চলিব তবু নীরবে। কথাটি আমি শুধাব নাকো তোমারে। দাঁড়াব নাকো ক্ষণেক-তরে দ্বিধার ভরে দুয়ারে। বাতাসে পাল ফুলিছে-- পতাকা আজি দুলিছে-- না যদি ফুলে, না যদি দুলে, তরণী যদি না লাগে কূলে শুধাব নাকো তোমারে।