গোধূলিতে নামল আঁধার, ফুরিয়ে গেল বেলা, ঘরের মাঝে সাঙ্গ হল চেনা মুখের মেলা। দূরে তাকায় লক্ষ্যহারা নয়ন ছলোছলো, এবার তবে ঘরের প্রদীপ বাইরে নিয়ে চলো। মিলনরাতে সাক্ষী ছিল যারা আজো জ্বলে আকাশে সেই তারা। পাণ্ডু-আঁধার বিদায়রাতের শেষে যে তাকাত শিশিরসজল শূন্যতা-উদ্দেশে সেই তারকাই তেমনি চেয়েই আছে অস্তলোকের প্রান্তদ্বারের কাছে। অকারণে তাই এ প্রদীপ জ্বালাই আকাশ-পানে-- যেখান হতে স্বপ্ন নামে প্রাণে।
কত লক্ষ বরষের তপস্যার ফলে ধরণীর তলে ফুটিয়াছে আজি এ মাধবী। এ আনন্দচ্ছবি যুগে যুগে ঢাকা ছিল অলক্ষ্যের বক্ষের আঁচলে। সেইমতো আমার স্বপনে কোনো দূর যুগান্তরে বসন্তকাননে কোনো এক কোণে একবেলাকার মুখে একটুকু হাসি উঠিবে বিকাশি-- এই আশা গভীর গোপনে আছে মোর মনে।