বড়ো খবর
Stories
কুসমি বললে, তুমি যে বললে এখনকার কালের বড়ো বড়ো সব খবর তুমি আমাকে শোনাবে, নইলে আমার শিক্ষা হবে কী রকম ক'রে, দাদামশায়।
দাদামশায় বললে, বড়ো খবরের ঝুলি বয়ে বেড়াবে কে বলো, তার মধ্যে যে বিস্তর রাবিশ।
আরো দেখুন
2
Verses
THE VOICE of wayside pansies,
that do not attract the careless glance
murmurs in these desultory line
আরো দেখুন
ম্যাজিশিয়ান
Stories
কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, শুনেছি এক সময়ে তুমি বড়ো বড়ো কথা নিয়ে খুব বড়ো বড়ো বই লিখেছিলে।
জীবনে অনেক দুষ্কর্ম করেছি, তা কবুল করতে হবে। ভারতচন্দ্র বলেছেন, সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর।
আরো দেখুন
মাল্যদান
Stories
সকালবেলায় শীত-শীত ছিল। দুপুরবেলায় বাতাসটি অল্প-একটু তাতিয়া উঠিয়া দক্ষিণ দিক হইতে বহিতে আরম্ভ করিয়াছে।
যতীন যে বারান্দায় বসিয়া ছিল সেখান হইতে বাগানের এক কোণে এক দিকে একটি কাঁঠাল ও আর-এক দিকে একটি শিরীষগাছের মাঝখানের ফাঁক দিয়া বাহিরের মাঠ চোখে পড়ে। সেই শূন্য মাঠ ফাল্গুনের রৌদ্রে ধুধু করিতেছিল। তাহারই একপ্রান্ত দিয়া কাঁচা পথ চলিয়া গেছে -- সেই পথ বাহিয়া বোঝাই-খালাস গোরুর গাড়ি মন্দগমনে গ্রামের দিকে ফিরিয়া চলিয়াছে, গাড়োয়ান মাথায় গামছা ফেলিয়া অত্যন্ত বেকারভাবে গান গহিতেছে।
আরো দেখুন
চতুরঙ্গ
Novels
আমি পাড়াগাঁ হইতে কলিকাতায় আসিয়া কালেজে প্রবেশ করিলাম। শচীশ তখন বি. এ. ক্লাসে পড়িতেছে। আমাদের বয়স প্রায় সমান হইবে।
শচীশকে দেখিলে মনে হয় যেন একটা জ্যোতিষ্ক-- তার চোখ জ্বলিতেছে; তার লম্বা সরু আঙুলগুলি যেন আগুনের শিখা; তার গায়ের রঙ যেন রঙ নহে, তাহা আভা। শচীশকে যখন দেখিলাম অমনি যেন তার অন্তরাত্মাকে দেখিতে পাইলাম; তাই একমুহূর্তে তাহাকে ভালোবাসিলাম।
আরো দেখুন
রাত্রিরূপিণী
Verses
হে রাত্রিরূপিণী,
          আলো জ্বালো একবার ভালো করে চিনি।
       দিন যার ক্লান্ত হল তারই লাগি কী এনেছ বর,
                             জানাক তা তব মৃদু স্বর।
                                       তোমার নিশ্বাসে
                   ভাবনা ভরিল মোর সৌরভ-আভাসে।
                             বুঝিব বক্ষের কাছে
                                      ঢাকা আছে
                             রজনীগন্ধার ডালি!
                                      বুঝিবা এনেছ জ্বালি
          প্রসন্ন ললাটনেত্রে সন্ধ্যার সঙ্গিনীহীন তারা--
                   গোপন আলোক তারি, ওগো বাক্যহারা,
                             পড়েছ তোমার মৌন-'পরে--
                   এনেছ গভীর হাসি করুণ অধরে
                             বিষাদের মতো শান্ত স্থির।
                   দিবসে সুতীব্র আলো, বিক্ষিপ্ত সমীর,
                             নিরন্তর আন্দোলন,
                                      অনুক্ষণ
                   দ্বন্দ্ব-আলোড়িত কোলাহল।
                   তুমি এসো অচঞ্চল,
                             এসো স্নিগ্ধ আবির্ভাব,
          তোমারই অঞ্চলতলে লুপ্ত হোক যত ক্ষতি লাভ।
                             তোমার স্তব্ধতাখানি
                                      দাও টানি
                             অধীর উদ্‌ভ্রান্ত মনে।
যে অনাদি নিঃশব্দতা সৃষ্টির প্রাঙ্গণে
          বহ্নিদীপ্ত উদ্দমের মত্ততায় জ্বর
                   শান্ত করি করে তারে সংযত সুন্দর,
সে গম্ভীর শান্তি আনো তব আলিঙ্গনে
                   ক্ষুব্ধ এ জীবনে।
                             তব প্রেমে
          চিত্তে মোর যাক থেমে
অন্তহীন প্রয়াসের লক্ষ্যহীন চাঞ্চল্যের মোহ,
          দুরাশার দুরন্ত বিদ্রোহ।
      সপ্তর্ষির তপোবনে হোমহুতাশন হতে
আনো তব দীপ্ত শিখা। তাহারই আলোতে
          নির্জনের উৎসব-আলোক
পুণ্য হবে, সেইক্ষণে আমাদের শুভদৃষ্টি হোক।
অপ্রমত্ত মিলনের মন্ত্র সুগম্ভীর
          মন্দ্রিত করুক আজি রজনীর তিমিরমন্দির।
আরো দেখুন
দুরাশা
Stories
দার্জিলিঙে গিয়া দেখিলাম, মেঘে বৃষ্টিতে দশ দিক আচ্ছন্ন। ঘরের বাহির হইতে ইচ্ছা হয় না, ঘরের মধ্যে থাকিতে আরো অনিচ্ছা জন্মে।
হোটেলে প্রাতঃকালের আহার সমাধা করিয়া পায়ে মোটা বুট এবং আপাদমস্তক ম্যাকিন্টশ পরিয়া বেড়াইতে বাহির হইয়াছি। ক্ষণে ক্ষণে টিপ্‌ টিপ্‌ করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছে এবং সর্বত্র ঘন মেঘের কুজ্ঝটিকায় মনে হইতেছে, যেন বিধাতা হিমালয়পর্বতসুদ্ধ সমস্ত বিশ্বচিত্র রবার দিয়া ঘষিয়া ঘষিয়া মুছিয়া ফেলিবার উপক্রম করিয়াছেন।
আরো দেখুন
জীবিত ও মৃত
Stories
রানীহাটের জমিদার শারদাশংকরবাবুদের বাড়ির বিধবা বধূটির পিতৃকুলে কেহ ছিল না; সকলেই একে একে মারা গিয়াছে। পতিকুলেও ঠিক আপনার বলিতে কেহ নাই, পতিও নাই পুত্রও নাই। একটি ভাশুরপো, শারদাশংকরের ছোটো ছেলেটি, সেই তাহার চক্ষের মণি। সে জন্মিবার পর তাহার মাতার বহুকাল ধরিয়া শক্ত পীড়া হইয়াছিল, সেইজন্য এই বিধবা কাকি কাদম্বিনীই তাহাকে মানুষ করিয়াছে। পরের ছেলে মানুষ করিলে তাহার প্রতি প্রাণের টান আরো যেন বেশি হয়, কারণ তাহার উপরে অধিকার থাকে না; তাহার উপরে কোনো সামাজিক দাবি নাই, কেবল স্নেহের দাবি-- কিন্তু কেবলমাত্র স্নেহ সমাজের সমক্ষে আপনার দাবি কোনো দলিল অনুসারে সপ্রমাণ করিতে পারে না এবং চাহেও না, কেবল অনিশ্চিত প্রাণের ধনটিকে দ্বিগুণ ব্যাকুলতার সহিত ভালোবাসে।
বিধবার সমস্ত রুদ্ধ প্রীতি এই ছেলেটির প্রতি সিঞ্চন করিয়া একদিন শ্রাবণের রাত্রে কাদম্বিনীর অকস্মাৎ মৃত্যু হইল। হঠাৎ কী কারণে তাহার হৃৎস্পন্দন স্তব্ধ হইয়া গেল-- সময় জগতের আর-সর্বত্রই চলিতে লাগিল, কেবল সেই স্নেহকাতর ক্ষুদ্র কোমল বক্ষটির ভিতর সময়ের ঘড়ির কল চিরকালের মতো বন্ধ হইয়া গেল।
আরো দেখুন
ধ্বনি
Verses
                     জন্মেছিনু সূক্ষ্ম তারে বাঁধা মন নিয়া,
                     চারি দিক হতে শব্দ উঠিত ধ্বনিয়া
                                    নানা কম্পে নানা সুরে
                            নাড়ীর জটিল জালে ঘুরে ঘুরে।
                     বালকের মনের অতলে দিত আনি
                            পাণ্ডুনীল আকাশের বাণী
                                    চিলের সুতীক্ষ্ণ সুরে
                                          নির্জন দুপুরে,
                     রৌদ্রের প্লাবনে যবে চারি ধার
                            সময়েরে করে দিত একাকার
                                    নিষ্কর্ম তন্দ্রার তলে।
                     ওপাড়ার কুকুরের সুদূর কলকোলাহলে
           মনেরে জাগাত মোর অনির্দিষ্ট ভাবনার পারে
                                    অস্পষ্ট সংসারে।
                     ফেরিওলাদের ডাক সূক্ষ্ম হয়ে কোথা যেত চলি,
                                    যে-সকল অলিগলি
                                                জানি নি কখনো
                                          তারা যেন কোনো
                                      বোগদাদের বসোরার
                                          পরদেশী পসরার
                            স্বপ্ন এনে দিত বহি।
                                    রহি রহি
                    রাস্তা হতে শোনা যেত সহিসের ডাক ঊর্ধ্বস্বরে,
                                    অন্তরে অন্তরে
                            দিত সে ঘোষণা কোন্‌ অস্পষ্ট বার্তার,
                                    অসম্পন্ন উধাও যাত্রার।
                            একঝাঁক পাতিহাঁস
                                    টলোমলো গতি নিয়ে উচ্চকলভাষ
                                          পুকুরে পড়িত ভেসে।
                     বটগাছ হতে বাঁকা রৌদ্ররশ্মি এসে
                            তাদের সাঁতার-কাটা জলে
                                    সবুজ ছায়ার তলে
                     চিকন সাপের মতো পাশে পাশে মিলি
                     খেলাত আলোর কিলিবিলি।
                                    বেলা হলে
           হলদে গামছা কাঁধে হাত দোলাইয়া যেত চলে
                            কোন্‌খানে কে যে।
                     ইস্কুলে উঠিত ঘণ্টা বেজে।
                            সে ঘণ্টার ধ্বনি
           নিরর্থ আহ্বানঘাতে কাঁপাইত আমার ধমনী।
                     রৌদ্রক্লান্ত ছুটির প্রহরে
                 আলস্যে-শিথিল শান্তি ঘরে ঘরে;
                            দক্ষিণে গঙ্গার ঘাট থেকে
                                    গম্ভীরমন্দ্রিত হাঁক হেঁকে
                            বাষ্পশ্বাসী সমুদ্র-খেয়ার ডিঙা
                                    বাজাইত শিঙা,
                            রৌদ্রের প্রান্তর বহি
                     ছুটে যেত দিগন্তে শব্দের অশ্বারোহী।
                            বাতায়নকোণে
                                    নির্বাসনে
                     যবে দিন যেত বয়ে
           না-চেনা ভুবন হতে ভাষাহীন নানা ধ্বনি লয়ে
                  প্রহরে প্রহরে দূত ফিরে ফিরে
                     আমারে ফেলিত ঘিরে।
           জনপূর্ণ জীবনের যে আবেগ পৃথ্বীনাট্যশালে
                                    তালে ও বেতালে
                                          করিত চরণপাত,
                                                কভু অকস্মাৎ
                                    কভু মৃদুবেগে ধীরে
                            ধ্বনিরূপে মোর শিরে
           স্পর্শ দিয়ে চেতনারে জাগাইত ধোঁয়ালি চিন্তায়,
                     নিয়ে যেত সৃষ্টির আদিম ভূমিকায়।
           চোখে দেখা এ বিশ্বের গভীর সুদূরে
                                    রূপের অদৃশ্য অন্তঃপুরে
                     ছন্দের মন্দিরে বসি রেখা-জাদুকর কাল
           আকাশে আকাশে নিত্য প্রসারে বস্তুর ইন্দ্রজাল।
                            যুক্তি নয়, বুদ্ধি নয়,
                     শুধু যেথা কত কী যে হয়--
           কেন হয় কিসে হয় সে প্রশ্নের কোনো
                         নাহি মেলে উত্তর কখনো।
           যেথা আদিপিতামহী পড়ে বিশ্ব-পাঁচালির ছড়া
                       ইঙ্গিতের অনুপ্রাসে গড়া--
           কেবল ধ্বনির ঘাতে বক্ষস্পন্দে দোলন দুলায়ে
                            মনেরে ভুলায়ে
                     নিয়ে যায় অস্তিত্বের ইন্দ্রজাল যেই কেন্দ্রস্থলে,
               বোধের প্রত্যুষে যেথা বুদ্ধির প্রদীপ নাহি জ্বলে।
আরো দেখুন