একরাত্রি
Stories
সুরবালার সঙ্গে একত্রে পাঠশালায় গিয়াছি, বউ-বউ খেলিয়াছি। তাহাদের বাড়িতে গেলে সুরবালার মা আমাকে বড় যত্ন করিতেন এবং আমাদের দুইজনকে একত্র করিয়া  আপনা-আপনি বলাবলি করিতেন,'আহা দুটিতে বেশ মানায়।'
ছোট ছিলাম কিন্তু কথাটার অর্থ একরকম বুঝতে পারিতাম। সুরবালার প্রতি যে সর্বসাধারণের অপেক্ষা আমার কিছু বিশেষ দাবি ছিল, সে ধারণা আমার মনে বদ্ধমূল হইয়া গিয়াছিল। সেই অধিকারমদে মত্ত হইয়া তাহার প্রতি যে আমি শাসন এবং উপদ্রব না করিতাম তাহা নহে। সেও সহিষ্ণুভাবে আমার সকলরকম  ফরমাশ খাটিত এবং শাস্তি বহন করিত। পাড়ায় তাহার রূপের প্রশংসা ছিল, কিন্তু বর্বর বালকের চক্ষে সে সৌন্দর্যের কোনো গৌরব ছিল না-- আমি কেবল জানিতাম, সুরবালা আমারই প্রভুত্ব স্বীকার করিবার জন্য পিতৃগৃহে জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, এইজন্য সে আমার বিশেষরূপ অবহেলার পাত্র।
আরো দেখুন
কোথায় ফিরিস পরম
Songs
কোথায় ফিরিস পরম শেষের অন্বেষণে।
অশেষ হয়ে সেই তো আছে এই ভুবনে॥
          তারি বাণী দু হাত বাড়ায় শিশুর বেশে,
          আধো ভাষায় ডাকে তোমার বুকে এসে,
              তারি ছোঁওয়া লেগেছে ওই কুসুমবনে॥
কোথায় ফিরিস ঘরের লোকের অন্বেষণে--
পর হয়ে সে দেয় যে দেখা ক্ষণে ক্ষণে।
          তার বাসা-যে সকল ঘরের বাহির-দ্বারে,
          তার আলো যে সকল পথের ধারে ধারে,
              তাহারি রূপ গোপন রূপে জনে জনে॥
আরো দেখুন
প্রগতিসংহার
Stories
এই কলেজে ছেলেমেয়েদের মেলামেশা বরঞ্চ কিছু বাড়াবাড়ি ছিল। এরা প্রায় সবাই ধনী ঘরের--এরা পয়সার ফেলাছড়া করতে ভালোবাসে। নানা রকম বাজে খরচ করে মেয়েদের কাছে দরাজ হাতের নাম কিনত। মেয়েদের মনে ঢেউ তুলত, তারা বুক ফুলিয়ে বলত--'আমাদেরই কলেজের ছেলে এরা'। সরস্বতী পুজো তারা এমনি ধূম করে করত যে, বাজারে গাঁদা ফুলের আকাল পড়ে যেত। এ ছাড়া চোখটেপাটেপি ঠাট্টা তামাসা চলেইছে। এই তাদের মাঝখানে একটা সংঘ তেড়েফুঁড়ে উঠে মেলামেশা ছারখার করে দেবার জো করলে।
সংঘের হাল ধরে ছিল সুরীতি। নাম দিল 'নারীপ্রগতিসংঘ'। সেখানে পুরুষের ঢোকবার দরজা ছিল বন্ধ। সুরীতির মনের জোরের ধাক্কায় এক সময়ে যেন পুরুষ-বিদ্রোহের একটা হাওয়া উঠল। পুরুষরা যেন বেজাত, তাদের সঙ্গে জলচল বন্ধ। কদর্য তাদের ব্যায়ভার।
আরো দেখুন
অপরিচিতা
Stories
আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র। এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যের হিসাবে বড়ো, না গুণের হিসাবে। তবু ইহার একটু বিশেষ মূল্য আছে। ইহা সেই ফুলের মতো যাহার বুকের উপরে ভ্রমর আসিয়া বসিয়াছিল, এবং সেই পদক্ষেপের ইতিহাস তাহার জীবনের মাঝখানে ফলের মতো গুটি ধরিয়া উঠিয়াছে।
সেই ইতিহাসটুকু আকারে ছোটো, তাহাকে ছোটো করিয়াই লিখিব। ছোটোকে যাঁহারা সামান্য বলিয়া ভুল করেন না তাঁহারা ইহার রস বুঝিবেন।
আরো দেখুন
নতুন পুতুল
Stories
এই গুণী কেবল পুতুল তৈরি করত; সে পুতুল রাজবাড়ির মেয়েদের খেলার জন্যে।
বছরে বছরে রাজবাড়ির আঙিনায় পুতুলের মেলা বসে। সেই মেলায় সকল কারিগরই এই গুণীকে প্রধান মান দিয়ে এসেছে।
আরো দেখুন
ঝড়
Verses
       অন্ধ কেবিন আলোয় আঁধার গোলা,
       বন্ধ বাতাস কিসের গন্ধে ঘোলা ।
  মুখ ধোবার ওই ব্যাপারখানা দাঁড়িয়ে আছে সোজা,
            ক্লান্ত চোখের বোঝা।
            দুলছে কাপড় সনফ এ
       বিজলি-পাখার হাওয়ার ঝাপট লেগে।
            গায়ে গায়ে ঘেঁষে
        জিনিসপত্র আছে কায়ক্লেশে।
            বিছানাটা কৃপণ-গতিকের
       অনিচ্ছাতে ক্ষণকালের সহায় পথিকের।
            ঘরে আছে যে-কটা আসবাব
       নিত্য যতই দেখি, ভাবি ওদের মুখের ভাব
            নারাজ ভৃত্যসম--
            পাশেই থাকে মম,
       কোনোমতে করে কেবল কাজ-চলা-গোছ সেবা।
এমন ঘরে আঠারো দিন থাকতে পারে কেবা।
       কষ্ট ব'লে একটা দানব ছোট্টো খাঁচায় পুরে
            নিয়ে চলে আমায় কত দূরে।
       নীল আকাশে নীল সাগরে অসীম আছে বসে,
            কী জানি কোন্‌ দোষে
          ঠেলেঠুলে চেপেচুপে মোরে
    সেখান হতে করেছে একঘরে।
       হেনকালে ক্ষুদ্র দুখের ক্ষুদ্র ফাটল বেয়ে
            কেমন করে এল হঠাৎ ধেয়ে
বিশ্বধরার বক্ষ হতে বিপুল দুখের প্রবল বন্যাধারা।
       এক নিমেষে আমারে সে করলে আত্মহারা,
            আনলে আপন বৃহৎ সান্ত্বনারে,
আনলে আপন গর্জনেতে ইন্দ্রলোকের অভয়-ঘোষণারে।
            মহাদেবের তপের জটা হতে
  মুক্তিমন্দাকিনী এল কূল-ডোবানো স্রোতে;
       বললে আমায় চিত্ত ঘিরে ঘিরে_
   ভস্ম আবার ফিরে পাবে জীবন-অগ্নিরে।
  বললে -- আমি সুরলোকের অশ্রুজলের দান,
মরুর পাথর গলিয়ে ফেলে ফলাই অমর প্রাণ,
      মৃত্যুজয়ের ডমরুরব শোনাই কলস্বরে,
মহাকালের তাণ্ডবতাল সদাই বাজাই উদ্দাম নির্ঝরে।
           স্বপ্নসম টুটে
  এই কেবিনের দেওয়াল গেল ছুটে।
           রোগশয্যা মম
  হল উদার কৈলাসেরই শৈলশিখর-সম।
           আমার মনপ্রাণ
      উঠল গেয়ে রুদ্রেরই জয়গান।
  সুপ্তির জড়িমাঘোরে
  তীরে থেকে তোরা ওরে
           করেছিস ভয়
  যে ঝড় সহসা কানে
  বজ্রের গর্জন আনে--
           "নয়, নয়, নয়।'
  তোরা বলেছিলি তাকে,
        "বাঁধিয়াছি ঘর।
  মিলেছে পাখির ডাকে
        তরুর মর্মর।
  পেয়েছি তৃষ্ণার জল,
  ফলেছে ক্ষুধার ফল,
ভাণ্ডারে হয়েছে ভরা লক্ষ্মীর সঞ্চয়।'
  ঝড়, বিদ্যুতের ছন্দে
  ডেকে ওঠে মেঘমন্দ্রে--
           "নয়, নয়, নয়।'
  সমুদ্রে আমার তরী;
  আসিয়াছি ছিন্ন করি
        তীরের আশ্রয়।
  ঝড় বন্ধু তাই কানে
  মাঙ্গল্যের মন্ত্র আনে--
        "জয়, জয়, জয়।'
  আমি-যে সে প্রচণ্ডেরে
        করেছি বিশ্বাস--
  তরীর পালে সে যে রে
        রুদ্রেরই নিশ্বাস।
  বলে সে বক্ষের কাছে,
  "আছে আছে, পার আছে,
সন্দেহবন্ধন ছিঁড়ি লহ পরিচয়।'
  বলে ঝড় অবিশ্রান্ত,
  "তুমি পান্থ, আমি পান্থ--
           জয়, জয়, জয়।'
  যায় ছিঁড়ে, যায় উড়ে--
  বলেছিলি মাথা খুঁড়ে,
        "এ দেখি প্রলয়।'
  ঝড় বলে,"ভয় নাই,
  যাহা দিতে পারো তাই
        রয়, রয়, রয়।'
চলেছি সম্মুখ-পানে
        চাহিব না পিছু।
  ভাসিল বন্যার টানে
        ছিল যত কিছু।
  রাখি যাহা তাই বোঝা--
  তারে খোওয়া, তারে খোঁজা,
নিত্যই গণনা তারে, তারি নিত্য ক্ষয়।
  ঝড় বলে, "এ তরঙ্গে
  যাহা ফেলে দাও রঙ্গে
        রয়, রয়, রয়।'
  এ মোর যাত্রীর বাঁশি
  ঝঞ্ঝার উদ্দাম হাসি
        নিয়ে গাঁথে সুর--
  বলে সে, "বাসনা-অন্ধ,
  নিশ্চলশৃঙ্খলবদ্ধ
        দূর, দূর, দূর।'
  গাহে, "পশ্চাতের কীর্তি,
        সম্মুখের আশা
  তার মধ্যে ফেঁদে ভিত্তি
        বাঁধিস নে বাসা।
  নে তোর মৃদঙ্গে শিখে
  তরঙ্গের ছন্দটিকে,
বৈরাগীর নৃত্যভঙ্গি চঞ্চল সিন্ধুর।
  যত লোভ-- যত শঙ্কা--
  দাসত্বের জয়ডঙ্কা
        দূর, দূর, দূর।'
  এসো গো ধ্বংসের নাড়া,
  পথভোলা, ঘরছাড়া,
        এসো গো দুর্জয়।
  ঝাপটি মৃত্যুর ডানা
  শূন্যে দিয়ে যাও হানা--
         "নয়, নয়, নয়।'
  আবেশের রসে মত্ত
             আরামশয্যায়
  বিজড়িত যে জড়ত্ব
        মজ্জায় মজ্জায়--
  কার্পণ্যের বন্ধ দ্বারে
  সংগ্রহের অন্ধকারে
   যে আত্মসংকোচ নিত্য গুপ্ত হয়ে রয়
  হানো তারে হে নিঃশঙ্ক,
  ঘোষুক তোমার শঙ্খ--
        "নয়, নয়, নয়।'
আরো দেখুন
বাণী-বিনিময়
Verses
মা, যদি তুই আকাশ হতিস,
          আমি চাঁপার গাছ,
তোর সাথে মোর বিনি-কথায়
          হত কথার নাচ।
তোর হাওয়া মোর ডালে ডালে
          কেবল থেকে থেকে
কত রকম নাচন দিয়ে
          আমায় যেত ডেকে।
মা ব'লে তার সাড়া দেব
          কথা কোথায় পাই,
পাতায় পাতায় সাড়া আমার
          নেচে উঠত তাই।
তোর আলো মোর শিশির-ফোঁটায়
          আমার কানে কানে
টলমলিয়ে কী বলত যে
          ঝলমলানির গানে।
আমি তখন ফুটিয়ে দিতেম
          আমার যত কুঁড়ি,
কথা কইতে গিয়ে তারা
          নাচন দিত জুড়ি।
উড়ো মেঘের ছায়াটি তোর
          কোথায় থেকে এসে
আমার ছায়ায় ঘনিয়ে উঠে'
          কোথায় যেত ভেসে।
সেই হত তোর বাদল-বেলার
          রূপকথাটির মতো;
রাজপুত্তুর ঘর ছেড়ে যায়
          পেরিয়ে রাজ্য কত;
সেই আমারে বলে যেত
          কোথায় আলেখ-লতা,
সাগরপারের দৈত্যপুরের
          রাজকন্যার কথা;
দেখতে পেতেম দুয়োরানীর
          চক্ষু ভর-ভর,
শিউরে উঠে পাতা আমার
          কাঁপত থরথর।
হঠাৎ কখন বৃষ্টি তোমার
          হাওয়ার পাছে পাছে
নামত আমার পাতায় পাতায়
          টাপুর-টুপুর নাচে;
সেই হত তোর কাঁদন-সুরে
          রামায়ণের পড়া,
সেই হত তোর গুনগুনিয়ে
          শ্রাবণ-দিনের ছড়া।
মা, তুই হতিস নীলবরনী,
          আমি সবুজ কাঁচা;
তোর হত, মা, আলোর হাসি,
          আমার পাতার নাচা।
তোর হত, মা, উপর থেকে
          নয়ন মেলে চাওয়া,
আমার হত আঁকুবাঁকু
          হাত তুলে গান গাওয়া।
তোর হত, মা চিরকালের
          তারার মণিমালা,
আমার হত দিনে দিনে
          ফুল-ফোটাবার পালা।
আরো দেখুন
ঠাকুরদা
Stories
নয়নজোড়ের জমিদারেরা এককালে বাবু বলিয়া বিশেষ বিখ্যাত ছিলেন। তখনকার কালের বাবুয়ানার আদর্শ বড়ো সহজ ছিল না। এখন যেমন রাজা-রায়বাহাদুর খেতাব অর্জন করিতে অনেক খানা নাচ ঘোড়দৌড় এবং সেলাম-সুপারিশের শ্রাদ্ধ করিতে হয়, তখনো সাধারণের নিকট হইতে বাবু উপাধি লাভ করিতে বিস্তর দুঃসাধ্য তপশ্চরণ করিতে হইত।
আমাদের নয়নজোড়ের বাবুরা পাড় ছিঁড়িয়া ফেলিয়া ঢাকাই কাপড় পরিতেন, কারণ পাড়ের কর্কশতায় তাঁহাদের সুকোমল বাবুয়ানা ব্যথিত হইত। তাঁহারা লক্ষ টাকা দিয়া বিড়ালশাবকের বিবাহ দিতেন এবং কথিত আছে, একবার কোনো উৎসব উপলক্ষে রাত্রিকে দিন করিবার প্রতিজ্ঞা করিয়া অসংখ্য দীপ জ্বলাইয়া সূর্যকিরণের অনুকরণে তাঁহারা সাচ্চা রুপার জরি উপর হইতে বর্ষণ করিয়াছিলেন।
আরো দেখুন
সমস্যাপূরণ
Stories
ঝিঁকড়কোটার কৃষ্ণগোপাল সরকার জ্যেষ্ঠপুত্রের প্রতি জমিদারি এবং সংসারের ভার দিয়া কাশী চলিয়া গেলেন। দেশের যত অনাথ দরিদ্র লোক তাঁহার জন্য হাহাকার করিয়া কাঁদিতে লাগিল। এমন বদান্যতা, এমন ধর্মনিষ্ঠতা কলিযুগে দেখা যায় না, এই কথা সকলেই বলিতে লাগিল।
তাঁহার পুত্র বিপিনবিহারী আজকালকার একজন সুশিক্ষিত বি-এ। দাড়ি রাখেন, চশমা পরেন, কাহারও সহিত বড়ো একটা মিশেন না। অতিশয় সচ্চরিত্র-- এমন কি, তামাকটি পর্যন্ত খান না, তাস পর্যন্ত খেলেন না। অত্যন্ত ভালোমানুষের মতো চেহারা, কিন্তু লোকটা ভারি কড়াক্কড়।
আরো দেখুন
ললাটের লিখন
Stories
ছেলেবেলায় পৃথ্বীশের ডান দিকের কপালে চোট লেগেছিল ভুরুর মাঝখান থেকে উপর পর্যন্ত। সেই আঘাতে ডান চোখটাও সংকুচিত। পৃথ্বীশকে ভালো দেখতে কি না সেই প্রশ্নের উত্তরটা কাটা দাগের অবিচারে সম্পূর্ণ হতে পারল না। অদৃষ্টের এই লাঞ্ছনাকে এত দিন থেকে প্রকাশ্যে পৃথ্বীশ বহন করে আসছে তবুও দাগও যেমন মেলায় নি তেমনি ঘোচে নি তার সংকোচ। নতুন কারো সঙ্গে পরিচয় হবার উপলক্ষে প্রত্যেকবার ধিক্‌কারটা জেগে ওঠে মনে। কিন্তু বিধাতাকে গাল দেবার অধিকার তার নেই। তার রচনার ঐশ্বর্যকে বন্ধুরা স্বীকার করছে প্রচুর প্রশংসায়, শত্রুরা নিন্দাবাক্যের নিরন্তর কটুক্তিতে। লেখার চারি দিকে ভিড় জমছে। দু টাকা আড়াই টাকা দামের বইগুলো ছড়িয়ে পড়ছে ঘরে ঘরে। সম্পাদকরা তার কলমের প্রসাদ ছুটোছাঁটা যা-ই পায় কিছুই ছাড়ে না। পাঠিকারা বলে, পৃথ্বীশবাবু মেয়েদের মন ও চরিত্র যেমন আশ্চর্য বোঝেন ও বর্ণনা করেন এমন সাধ্য নেই আর কোনো লেখকের। পুরুষ-বন্ধুরা বলে, ওর লেখায় মেয়েদের এত-যে স্তুতিবাদ সে কেবল হতভাগার ভাঙা কপালের দোষে। মুখশ্রী যদি অক্ষুণ্ন হত তা হলে মেয়েদের সম্বন্ধে সত্য কথা বাধত না মুখে। মুখের চেহারা বিপক্ষতা করায় মুখের অত্যুক্তিকে সহায় করেছে মনোহরণের অধ্যবসায়।
শ্রীমতী বাঁশরি সরকার ব্যারিস্টারি চক্রের মেয়ে-- বাপ ব্যারিস্টার, ভাইরা ব্যারিস্টার। দু বার গেছে য়ুরোপে ছুটি উপলক্ষে। সাজে সজ্জায় ভাষায় ভঙ্গিতে আছে আধুনিক যুগের সুনিপুণ উদ্দামতা। রূপসী বলতে যা বোঝায় তা নয়, কিন্তু আকৃতিটা যেন ফ্রেঞ্চ পালিশ দিয়ে ঝকঝকে করা।
আরো দেখুন
পায়ে চলার পথ
Stories
এই তো পায়ে চলার পথ।
এসেছে বনের মধ্যে দিয়ে মাঠে, মাঠের মধ্যে দিয়ে নদীর ধারে, খেয়াঘাটের পাশে বটগাছেরতলায়। তার পরে ও পারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে তিসির খেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে, পদ্মদিঘির পাড় দিয়ে, রথতলার পাশ দিয়ে কোন্‌ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁচেছে জানি নে।
আরো দেখুন