কর্মফল
Stories
আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন-- সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। 'এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।'
শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন।
আরো দেখুন
অধ্যাপক
Stories
কলেজে আমার সহপাঠীসম্প্রদায়ের মধ্যে আমার একটু বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। সকলেই আমাকে সকল বিষয়েই সমজদার বলিয়া মনে করিত।
ইহার প্রধান কারণ, ভুল হউক আর ঠিক হউক, সকল বিষয়েই আমার একটা মতামত ছিল। অধিকাংশ লোকেই হাঁ এবং না জোর করিয়া বলিতে পারে না, আমি সেটা খুব বলিতাম।
আরো দেখুন
মণিহারা
Stories
সেই জীর্ণপ্রায় বাঁধাঘাটের ধারে আমার বোট লাগানো ছিল। তখন সূর্য অস্ত গিয়াছে।
বোটের ছাদের উপরে মাঝি নমাজ পড়িতেছে। পশ্চিমের জ্বলন্ত আকাশপটে তাহার নীরব উপাসনা ক্ষণে ক্ষণে ছবির মতো আঁকা পড়িতেছিল। স্থির রেখাহীন নদীর জলের উপর ভাষাতীত অসংখ্য বর্ণচ্ছটা দেখিতে দেখিতে ফিকা হইতে গাঢ় লেখায়, সোনার রঙ হইতে ইস্পাতের রঙে, এক আভা হইতে আর-এক আভায় মিলাইয়া আসিতেছিল।
আরো দেখুন
দুর্বুদ্ধি
Stories
ভিটা ছাড়িতে হইল। কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না, আভাস দিব মাত্র।
আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার, পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি। যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত অপেক্ষা কম ছিল না, সুতরাং নর ও নারায়ণের দ্বারা মানুষের যত বিবিধ রকমের পীড়া ঘটিতে পারে তাহা আমার সুগোচর ছিল। যেমন মণির দ্বারা বলয়ের এবং বলয়ের দ্বারা মণির শোভা বৃদ্ধি হয় তেমনি আমার মধ্যস্থতায় দারোগার এবং দারোগার মধ্যস্থতায় আমার উত্তরোত্তর আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটিতেছিল।
আরো দেখুন
প্রায়শ্চিত্ত
Stories
মণীন্দ্র ছেলেটির বয়স হবে চোদ্দ। তার বুদ্ধি খুব তীক্ষ্ণ কিন্তু পড়াশুনায় বিশেষ মনোযোগ নেই। তবু সে স্বভাবতই মেধাবী বলে বৎসরে বৎসরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু অধ্যাপকেরা তার কাছে যতটা প্রত্যাশা করেন সে-অনুরূপ ফল হয় না। মণীন্দ্রের পিতা দিব্যেন্দু ছিলেন এই বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ। কর্তব্যে ছেলের শৈথিল্য দেখে তাঁর মন উদ্‌বিগ্ন ছিল।
অক্ষয় মণীন্দ্রের সঙ্গে এক ক্লাসে পড়ে। সে বড়ো দরিদ্র। ছাত্রবৃত্তির 'পরেই তার নির্ভর। মা বিধবা। বহু কষ্টে অক্ষয়কে মানুষ করেছেন। তার পিতা প্রিয়নাথ যখন জীবিত ছিলেন তখন যথেষ্ট উপার্জন করতেন। লোকের কাছে তাঁর সম্মানও ছিল খুব বেশি। কিন্তু ব্যয় করতেও তিনি মুক্ত হস্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরে দেখা গেল যত তাঁর ঋণ, সম্পত্তি তার অর্ধেকও নয়। অক্ষয়ের মা সাবিত্রী তাঁর যত কিছু অলংকার, গাড়ি ঘোড়া বাড়ি গৃহসজ্জা প্রভৃতি সমস্ত বিক্রয় করে ক্রমে ক্রমে স্বামীর ঋণ শোধ করেছেন।
আরো দেখুন
গুপ্তধন
Stories
অমাবস্যার নিশীথ রাত্রি। মৃত্যুঞ্জয় তান্ত্রিক মতে তাহাদের বহুকালের গৃহদেবতা জয়কালীর  পূজায় বসিয়াছে। পূজা সমাধা করিয়া যখন  উঠিল তখন  নিকটস্থ  আমবাগান হইতে প্রত্যুষের প্রথম কাক ডাকিল।
মৃত্যুঞ্জয়  পশ্চাতে ফিরিয়া  চাহিয়া দেখিলেন মন্দিরের দ্বার রূদ্ধ রহিয়াছে।  তখন সে একবার দেবীর চরণতলে মস্তক  ঠেকাইয়া তাঁহার  আসন সরাইয়া দিল।  সেই আসনের নীচে হইতে  একটি  কাঁঠালকাঠের বাক্স  বাহির হইল।  পৈতায়  চাবি  বাঁধা  ছিল।  সেই চাবি লাগাইয়া  মৃত্যুঞ্জয়  বাক্সটি খুলিল।   খুলিবামাত্রই  চমকিয়া  উঠিয়া  মাথায়ে  করাঘাত করিল।
আরো দেখুন
সুভা
Stories
মেয়েটির নাম যখন সুভাষিণী রাখা হইয়াছিল তখন কে জানিত সে বোবা হইবে। তাহার দুটি বড়ো বোনকে সুকেশিনী সুহাসিনী নাম দেওয়া হইয়াছিল, তাই মিলের অনুরোধে তাহার বাপ ছোটো মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখে। এখন সকলে তাহাকে সংক্ষেপে সুভা বলে।
দস্তুরমত অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বড়ো দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া গেছে, এখন ছোটোটি পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করিতেছে।
আরো দেখুন
পয়লা নম্বর
Stories
আমি তামাকটা পর্যন্ত খাই নে। আমার এক অভ্রভেদী নেশা আছে, তারই আওতায় অন্য সকল নেশা একেবারে শিকড় পর্যন্ত শুকিয়ে মরে গেছে। সে আমার বই-পড়ার নেশা। আমার জীবনের মন্ত্রটা ছিল এই--
              যাবজ্জীবেৎ নাই-বা জীবেৎ
আরো দেখুন
হে মোর চিত্ত, পূণ্য তীর্থে
Verses
       হে মোর চিত্ত,পূণ্য তীর্থে
              জাগো রে ধীরে--
       এই ভারতের মহামানবের
              সাগরতীরে।
                    হেথায় দাঁড়ায়ে দু-বাহু বাড়ায়ে
                           নমি নর-দেবতারে,
                    উদার ছন্দে পরমানন্দে
                           বন্দন করি তাঁরে।
         ধ্যান-গম্ভীর এই যে ভূধর,
         নদীজপমালাধৃত প্রান্তর,
         হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র
              ধরিত্রীরে
         এই ভারতের মহামানবের
              সাগরতীরে।
              কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে
                    কত মানুষের ধারা
              দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে
                    সমুদ্রে হল হারা।
                           হেথায় আর্য, হেথা অনার্য
                           হেথায় দ্রাবিড়, চীন--
                           শক-হুন-দল পাঠান মোগল
                                  এক দেহে হল লীন।
                   পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার,
                   সেথা হতে সবে আনে উপহার,
                   দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে
                           যাবে না ফিরে,
                    এই ভারতের মহামানবের
                           সাগরতীরে।
              রণধারা বাহি জয়গান গাহি
                    উন্মাদ কলরবে
              ভেদি মরুপথ গিরিপর্বত
                    যারা এসেছিল সবে,
                           তারা মোর মাঝে সবাই বিরাজে
                                  কেহ নহে নহে দূর,
                           আমার শোণিতে রয়েছে ধ্বনিতে
                                  তারি বিচিত্র সুর।
                    হে রুদ্রবীণা, বাজো, বাজো, বাজো,
                    ঘৃণা করি দূরে আছে যারা আজো,
                    বন্ধ নাশিবে, তারাও আসিবে
                           দাঁড়াবে ঘিরে
                    এই ভারতের মহামানবের
                           সাগরতীরে।
হেথা একদিন বিরামবিহীন
              মহা ওংকারধ্বনি,
       হৃদয়তন্ত্রে একের মন্ত্রে
              উঠেছিল রনরনি।
                    তপস্যাবলে একের অনলে
                           বহুরে আহুতি দিয়া
                    বিভেদ ভুলিল, জাগায়ে তুলিল
                           একটি বিরাট হিয়া।
              সেই সাধনার সে আরাধনার
              যজ্ঞশালায় খোলা আজি দ্বার,
              হেথায় সবারে হবে মিলিবারে
                    আনতশিরে--
             এই ভারতের মহামানবের
                    সাগরতীরে।
       সেই হোমানলে হেরো আজি জ্বলে
              দুখের রক্ত শিখা,
       হবে তা সহিতে মর্মে দহিতে
              আছে সে ভাগ্যে লিখা।
                    এ দুখ বহন করো মোর মন,
                           শোনো রে একের ডাক।
                    যত লাজ ভয় করো করো জয়
                           অপমান দূরে থাক।
              দুঃসহ ব্যথা হয়ে অবসান
              জন্ম লভিবে কী বিশাল প্রাণ।
              পোহায় রজনী, জাগিছে জননী
                    বিপুল নীড়ে,
              এই ভারতের মহামানবের
                    সাগরতীরে।
       এসো হে আর্য, এসো অনার্য,
              হিন্দু মুসলমান।
       এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ,
              এসো এসো খৃস্টান।
                   এসো ব্রাহ্মণ শুচি করি মন
                    ধরো হাত সবাকার,
                   এসো হে পতিত করো অপনীত
                    সব অপমানভার।
              মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা
              মঙ্গলঘট হয় নি যে ভরা,
              সবারে-পরশে-পবিত্র-করা
                    তীর্থনীরে।
              আজি ভারতের মহামানবের
                    সাগরতীরে।
আরো দেখুন
ম্যাজিশিয়ান
Stories
কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, শুনেছি এক সময়ে তুমি বড়ো বড়ো কথা নিয়ে খুব বড়ো বড়ো বই লিখেছিলে।
জীবনে অনেক দুষ্কর্ম করেছি, তা কবুল করতে হবে। ভারতচন্দ্র বলেছেন, সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর।
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন