মুনশি
Stories
আচ্ছা দাদামশায়, তোমাদের সেই মুনশিজি এখন কোথায় আছেন।
এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব তার সময়টা বুঝি কাছে এসেছে, তবু হয়তো কিছুদিন সবুর করতে হবে।
আরো দেখুন
পুত্রযজ্ঞ
Stories
বৈদ্যনাথ গ্রামের মধ্যে বিজ্ঞ ছিলেন সেইজন্য তিনি ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া বর্তমানের সমস্ত কাজ করিতেন। যখন বিবাহ করিলেন তখন তিনি বর্তমান নববধূর অপেক্ষা ভাবী নবকুমারের মুখ স্পষ্টতররূপে দেখিতে পাইয়াছিলেন। শুভদৃষ্টির সময় এতটা দূরদৃষ্টি প্রায় দেখা যায় না। তিনি পাকা লোক ছিলেন সেইজন্য প্রেমের চেয়ে পিণ্ডটাকেই অধিক বুঝিতেন এবং পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা এই মর্মেই তিনি বিনোদিনীকে বিবাহ করিয়াছিলেন।
কিন্তু এ সংসারে বিজ্ঞ লোকও ঠকে। যৌবনপ্রাপ্ত হইয়াও যখন বিনোদিনী তাহার সর্বপ্রধান কর্তব্যটি পালন করিল না তখন পুন্নাম নরকের দ্বারা খোলা দেখিয়া বৈদ্যনাথ বড়ো চিন্তিত হইলেন। মৃত্যুর পরে তাঁহার বিপুল ঐশ্বর্যই বা কে ভোগ করিবে এই ভাবনায় মৃত্যুর পূর্বে তিনি সেই ঐশ্বর্য ভোগ করিতে বিমুখ হইলেন। পূর্বেই বলিয়াছি, বর্তমানের অপেক্ষা ভবিষ্যৎটাকেই তিনি সত্য বলিয়া জানিতেন।
আরো দেখুন
ছুটি
Stories
বালকদিগের সর্দার ফটিক চক্রবর্তীর মাথায় চট করিয়া একটা নূতন ভাবোদয় হইল, নদীর ধারে একটা প্রকাণ্ড শালকাষ্ঠ মাস্তুলে রূপান্তরিত হইবার প্রতীক্ষায় পড়িয়া ছিল; স্থির হইল, সেটা সকলে মিলিয়া গড়াইয়া লইয়া যাইবে।
যে-ব্যক্তির কাঠ, আবশ্যককালে তাহার যে কতখানি বিস্ময় বিরক্তি এবং অসুবিধা বোধ হইবে, তাহাই উপলব্ধি করিয়া বালকেরা এ প্রস্তাবে সম্পূর্ণ অনুমোদন করিল।
আরো দেখুন
আলোর অমল কমলখানি
Songs
আলোর অমল কমলখানি কে ফুটালে,
নীল আকাশের ঘুম ছুটালে॥
     আমার মনের ভাব্‌নাগুলি   বাহির হল পাখা তুলি,
              ওই কমলের পথে তাদের সেই জুটালে॥
শরতবাণীর বীণা বাজে কমলদলে।
ললিত রাগের সুর ঝরে তাই শিউলিতলে।
     তাই তো বাতাস বেড়ায় মেতে   কচি ধানের সবুজ ক্ষেতে,
              বনের প্রাণে মর্‌মরানির ঢেউ উঠালে॥
আরো দেখুন
সুখে আছি, সুখে আছি
Songs
সুখে আছি সুখে আছি (সখা, আপন মনে।)
কিছু চেয়ো না, দূরে যেয়ো না,
শুধু চেয়ে দেখো, শুধু ঘিরে থাকো কাছাকাছি।
সখা, নয়নে শুধু জানাবে প্রেম, নীরবে দিবে প্রাণ,
রচিয়া ললিত মধুর বাণী আড়ালে গাবে গান।
গোপনে তুলিয়া কুসুম গাঁথিয়া রেখে যাবে মালাগাছি।
মন চেয়ো না, শুধু চেয়ে থাকো,
শুধু ঘিরে থাকো কাছাকাছি।
মধুর জীবন, মধুর রজনী, মধুর মলয়-বায়।
এই মাধুরী-ধারা বহিছে আপনি, কেহ কিছু নাহি চায়।
আমি আপনার মাঝে আপনি হারা, আপন সৌরভে সারা,
যেন আপনার মন, আপনার প্রাণ, আপনারে সঁপিয়াছি।
আরো দেখুন
নিরুদ্যম
Verses
            তখন   আকাশতলে ঢেউ তুলেছে
                                পাখিরা গান গেয়ে।
                     তখন পথের দুটি ধারে
                     ফুল ফুটেছে ভারে ভারে,
                     মেঘের কোণে রঙ ধরেছে
                                দেখি নি কেউ চেয়ে।
            মোরা   আপন মনে ব্যস্ত হয়ে
                                চলেছিলেম ধেয়ে।
মোরা   সুখের বশে গাই নি তো গান,
                                করি নি কেউ খেলা।
                     চাই নি ভুলে ডাহিন-বাঁয়ে,
                     হাটের লাগি যাই নি গাঁয়ে,
                     হাসি নি কেউ, কই নি কথা,
                                করি নি কেউ হেলা।
            মোরা   ততই বেগে চলেছিলেম
                                যতই বাড়ে বেলা।
            শেষে   সূর্য যখন মাঝ-আকাশে,
                                কপোত ডাকে বনে--
                     তপ্ত হাওয়ায় ঘুরে ঘুরে
                     শুকনো পাতা বেড়ায় উড়ে,
                     বটের তলে রাখালশিশু
                                ঘুমায় অচেতনে,
            আমি    জলের ধারে শুলেম এসে
                                শ্যামল তৃণাসনে।
            আমার দলের সবাই আমার পানে
                                চেয়ে গেল হেসে।
                     চলে গেল উচ্চশিরে,
                     চাইল না কেউ পিছু ফিরে,
                     মিলিয়ে গেল সুদূর ছায়ায়
                                পথতরুর শেষে।
            তারা    পেরিয়ে গেল কত যে মাঠ,
                                কত দূরের দেশে!
            ওগো   ধন্য তোমরা দুখের যাত্রী,
                                ধন্য তোমরা সবে।
                     লাজের ঘায়ে উঠিতে চাই,
                     মনের মাঝে সাড়া না পাই,
                     মগ্ন হলেম আনন্দময়
                                অগাধ অগৌরবে--
                     পাখির গানে, বাঁশির তানে,
                                কম্পিত পল্লবে।
            
            আমি    মুগ্ধতনু দিলেম মেলে
                                বসুন্ধরার কোলে।
                     বাঁশের ছায়া কী কৌতুকে
                     নাচে আমার চক্ষে মুখে,
                     আমের মুকূল গন্ধে আমায়
                                বিধুর ক'রে তোলে--
            নয়ন    মুদে আসে মৌমাছিদের
                                গুঞ্জনকল্লোলে।
            সেই    রৌদ্রে-ঘেরা সবুজ আরাম
                                মিলিয়ে এল প্রাণে।
                     ভুলে গেলেম কিসের তরে
                     বাহির হলেম পথের 'পরে,
                     ঢেলে দিলেম চেতনা মোর
                                ছায়ায় গন্ধে গানে--
            ধীরে    ঘুমিয়ে প'লেম অবশ দেহে
                                কখন কে তা জানে।
            শেষে   গভীর ঘুমের মধ্য হতে
                                ফুটল যখন আঁখি,
                     চেয়ে দেখি, কখন এসে
                     দাঁড়িয়ে আছ শিয়রদেশে
                     তোমার হাসি দিয়ে আমার
                                অচৈতন্য ঢাকি--
            ওগো, ভেবেছিলেম আছে আমার
                                কত-না পথ বাকি।
            
            মোরা   ভেবেছিলেম পরানপণে
                                সজাগ রব সবে--
                     সন্ধ্যা হবার আগে যদি
                     পার হতে না পারি নদী,
                     ভেবেছিলেম তাহা হলেই
                                সকল ব্যর্থ হবে।
            যখন    আমি থেমে গেলেম, তুমি
                                আপনি এলে কবে।
    
আরো দেখুন
দৃষ্টিদান
Stories
শুনিয়াছি, আজকাল অনেক বাঙালির মেয়েকে নিজের চেষ্টায় স্বামী সংগ্রহ করিতে হয়। আমিও তাই করিয়াছি, কিন্তু দেবতার সহায়তায়। আমি ছেলেবেলা হইতে অনেক ব্রত এবং অনেক শিবপূজা করিয়াছিলাম।
আমার আটবৎসর বয়স উত্তীর্ণ না হইতেই বিবাহ হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু পূর্বজন্মের পাপবশত আমি আমার এমন স্বামী পাইয়াও সম্পূর্ণ পাইলাম না। মা ত্রিনয়নী আমার দুইচক্ষু লইলেন। জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত স্বামীকে দেখিয়া লইবার সুখ দিলেন না।
আরো দেখুন
আঘাত
Verses
সোঁদালের ডালের ডগায়
      মাঝে মাঝে পোকাধরা পাতাগুলি
           কুঁকড়ে গিয়েছে ;
                 বিলিতি নিমের
                       বাকলে লেগেছে উই;
      কুরচির গুঁড়িটাতে পড়েছে ছুরির ক্ষত,
                       কে নিয়েছে ছাল কেটে;
                              চারা অশোকের
                       নীচেকার দুয়েকটা ডালে
      শুকিয়ে পাতার আগা কালো হয়ে গেছে।
           কত ক্ষত, কত ছোটো মলিন লাঞ্ছনা,
                 তারি মাঝে অরণ্যের অক্ষুণ্ন মর্যাদা
                       শ্যামল সম্পদে
      তুলেছে আকাশ-পানে পরিপূর্ণ পূজার অঞ্জলি।
           কদর্যের কদাঘাতে
      দিয়ে যায় কালিমার মসীরেখা,
           সে সকলি অধঃসাৎ ক'রে
                 শান্ত প্রসন্নতা
           ধরণীরে ধন্য করে পূর্ণের প্রকাশে।
ফুটিয়েছে ফুল সে যে,
      ফলিয়েছে ফলভার,
           বিছিয়েছে ছায়া-আস্তরণ,
                পাখিরে দিয়েছে বাসা,
           মৌমাছিরে জুগিয়েছে মধু,
                 বাজিয়েছে পল্লবমর্মর।
           পেয়েছে সে প্রভাতের পুণ্য আলো,
                 শ্রাবণের অভিষেক,
           বসন্তের বাতাসের আনন্দমিতালি,--
           পেয়েছে সে ধরণীর প্রাণরস,
                 সুগভীর সুবিপুল আয়ু,
           পেয়েছে সে আকাশের নিত্য আশীর্বাদ।
                 পেয়েছে সে কীটের দংশন।
আরো দেখুন
গিন্নি
Stories
ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।
প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইত।
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন