অপরিচিতা
Stories
আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র। এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যের হিসাবে বড়ো, না গুণের হিসাবে। তবু ইহার একটু বিশেষ মূল্য আছে। ইহা সেই ফুলের মতো যাহার বুকের উপরে ভ্রমর আসিয়া বসিয়াছিল, এবং সেই পদক্ষেপের ইতিহাস তাহার জীবনের মাঝখানে ফলের মতো গুটি ধরিয়া উঠিয়াছে।
সেই ইতিহাসটুকু আকারে ছোটো, তাহাকে ছোটো করিয়াই লিখিব। ছোটোকে যাঁহারা সামান্য বলিয়া ভুল করেন না তাঁহারা ইহার রস বুঝিবেন।
আরো দেখুন
তোতাকাহিনী
Stories
এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।
রাজা বলিলেন, 'এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।'
আরো দেখুন
তপস্বিনী
Stories
বৈশাখ প্রায় শেষ হইয়া আসিল। প্রথমরাত্রে গুমট গেছে, বাঁশগাছের পাতাটা পর্যন্ত নড়ে না, আকাশের তারাগুলো যেন মাথা-ধরার বেদনার মতো দব্‌ দব্‌ করিতেছে। রাত্রি তিনটের সময় ঝির্‌ঝির্‌ করিয়া একটুখানি বাতাস উঠিল। ষোড়শী শূন্য মেঝের উপর খোলা জানলার নীচে শুইয়া আছে, একটা কাপড়ে-মোড়া টিনের বাক্স তার মাথার বালিশ। বেশ বোঝা যায়, খুব উৎসাহের সঙ্গে সে কৃচ্ছসাধন করিতেছে।
প্রতিদিন ভোর চারটের সময় উঠিয়া স্নান সারিয়া ষোড়শী ঠাকুরঘরে গিয়া বসে। আহ্নিক করিতে বেলা হইয়া যায়। তার পরে বিদ্যারত্নমশায় আসেন; সেই ঘরে বসিয়াই তাঁর কাছে সে গীতা পড়ে। সংস্কৃত সে কিছু কিছু শিখিয়াছে। শঙ্করের বেদান্তভাষ্য এবং পাতঞ্জলদর্শন মূল গ্রন্থ হইতে পড়িবে, এই তার পণ। বয়স তার তেইশ হইবে।
আরো দেখুন
ছড়া
Verses
অলস মনের আকাশেতে
          প্রদোষ যখন নামে,
কর্মরথের ঘড়্‌ঘড়ানি
          যে-মুহূর্তে থামে,
এলোমেলো ছিন্নচেতন
          টুকরো কথার ঝাঁক
জানি নে কোন্‌ স্বপ্নরাজের
          শুনতে যে পায় ডাক,
ছেড়ে আসে কোথা থেকে
          দিনের বেলার গর্ত--
কারো আছে ভাবের আভাস
          কারো বা নেই অর্থ--
ঘোলা মনের এই যে সৃষ্টি,
          আপন অনিয়মে
ঝিঁঝির ডাকে অকারণের
          আসর তাহার জমে।
একটুখানি দীপের আলো
          শিখা যখন কাঁপায়
চার দিকে তার হঠাৎ এসে
          কথার ফড়িং ঝাঁপায়।
পষ্ট আলোর সৃষ্টি-পানে
          যখন চেয়ে দেখি
মনের মধ্যে সন্দেহ হয়
          হঠাৎ মাতন এ কি।
বাইরে থেকে দেখি একটা
          নিয়ম-ঘেরা মানে,
ভিতরে তার রহস্য কী
          কেউ তা নাহি জানে।
খেয়াল-স্রোতের ধারায় কী সব
          ডুবছে এবং ভাসছে--
ওরা কী-যে দেয় না জবাব,
          কোথা থেকে আসছে।
আছে ওরা এই তো জানি,
          বাকিটা সব আঁধার--
চলছে খেলা একের সঙ্গে
          আর-একটাকে বাঁধার।
বাঁধনটাকেই অর্থ বলি,
          বাঁধন ছিঁড়লে তারা
কেবল পাগল বস্তুর দল
          শূন্যেতে দিক্‌হারা।
আরো দেখুন
ধ্বংস
Stories
দিদি, তোমাকে একটা হালের খবর বলি।--
প্যারিস শহরের অল্প একটু দূরে ছিল তাঁর ছোটো বাসাটি। বাড়ির কর্তার নাম পিয়ের শোপ্যাঁ। তাঁর সারা জীবনের শখ ছিল গাছপালার জোড় মিলিয়ে, রেণু মিলিয়ে, তাদের চেহারা, তাদের রঙ, তাদের স্বাদ বদল ক'রে নতুন রকমের সৃষ্টি তৈরি করতে। তাতে কম সময় লাগত না। এক-একটি ফুলের ফলের স্বভাব বদলাতে বছরের পর বছর কেটে যেত। এ কাজে যেমন ছিল তাঁর আনন্দ তেমনি ছিল তাঁর ধৈর্য। বাগান নিয়ে তিনি যেন জাদু করতেন। লাল হত নীল, সাদা হত আলতার রঙ, আঁটি যেত উড়ে, খোসা যেত খ'সে। যেটা ফলতে লাগে ছ মাস তার মেয়াদ কমে হত দু মাস। ছিলেন গরিব, ব্যবসাতে সুবিধা করতে পারতেন না। যে করত তাঁর হাতের কাজের তারিফ তাকে দামি মাল অমনি দিতেন বিলিয়ে। যার মতলব ছিল দাম ফাঁকি দিতে সে এসে বলত, কী ফুল ফুটেছে আপনার সেই গাছটাতে, চার দিক থেকে লোক আসছে দেখতে, একেবারে তাক লেগে যাচ্ছে।
আরো দেখুন
গল্প
Stories
ছেলেটির যেমনি কথা ফুটল অমনি সে বললে, 'গল্প বলো।'
দিদিমা বলতে শুরু করলেন, 'এক রাজপুত্তুর, কোটালের পুত্তুর, সদাগরের পুত্তুর--'
আরো দেখুন
অপ্রকাশ
Verses
মুক্ত হও হে সুন্দরী!
                             ছিন্ন করো রঙিন কুয়াশা।
          অবনত দৃষ্টির আবেশ,
                             এই অবরুদ্ধ ভাষা,
          এই অবগুণ্ঠিত প্রকাশ।
                             সযত্ন লজ্জার ছায়া
          তোমারে বেষ্টন করি জড়ায়েছে অস্পষ্টের মায়া
শতপাকে,
মোহ দিয়ে সৌন্দর্যেরে করেছে আবিল;
অপ্রকাশে হয়েছ অশুচি।
          তাই তোমারে নিখিল
রেখেছে সরায়ে কোণে।
          ব্যক্ত করিবার দীনতায়
নিজেরে হারালে তুমি,
          প্রদোষের জ্যোতিঃক্ষীণতায়
দেখিতে পেলে না আজও আপনারে উদার আলোকে--
বিশ্বেরে দেখ নি, ভীরু, কোনোদিন বাধাহীন চোখে
উচ্চশির করি।
                   স্বরচিত সংকোচে কাটাও দিন,
আত্ম-অপমানে চিত্ত দীপ্তিহীন, তাই পুণ্যহীন।
বিকশিত স্থলপদ্ম পবিত্র সে, মুক্ত তার হাসি,
পূজায় পেয়েছে স্থান আপনারে সম্পূর্ণ বিকাশি।
          ছায়াছন্ন যে লজ্জায় প্রকাশের দীপ্তি ফেলে মুছি,
          সত্তার ঘোষণাবাণী স্তব্ধ করে,
                                      জেনো সে অশুচি।
          ঊর্ধ্বশাখা বনস্পতি যে ছায়ারে দিয়েছে আশ্রয়
          তার সাথে আলোর মিত্রতা,
                                      সমুন্নত সে বিনয়।
          মাটিতে লুটিয়ে গুল্ম সর্ব অঙ্গ ছায়াপুঞ্জ করি,
          তলে গুপ্ত গহ্বরেতে কীটের নিবাস।
                                      হে সুন্দরী,
          মুক্ত করো অসম্মান, তব অপ্রকাশ-আবরণ।
          হে বন্দিনী, বন্ধনেরে কোরো না কৃত্রিম আভরণ।
          সজ্জিত লজ্জার খাঁচা, সেথায় আত্মার অবসাদ--
অর্ধেক বাধায় সেথা ভোগের বাড়ায়ে দিতে স্বাদ
ভোগীর বাড়াতে গর্ব খর্ব করিয়ো না আপনারে
খণ্ডিত জীবন লয়ে আচ্ছন্ন চিত্তের অন্ধকারে।
আরো দেখুন
রাজার বাড়ি
Stories
কুসমি জিগেস করলে, দাদামশায়, ইরুমাসির বোধ হয় খুব বুদ্ধি ছিল।
ছিল বই-কি, তোর চেয়ে বেশি ছিল।
আরো দেখুন