রাজরানী
Stories
কাল তোমার ভালো লাগে নি চণ্ডীকে নিয়ে বকুনি। ও একটা ছবি মাত্র। কড়া কড়া লাইনে আঁকা, ওতে রস নাই। আজ তোমাকে কিছু বলব, সে সত্যিকার গল্প।
কুসমি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই বলো। তুমি তো সেদিন বললে, বরাবর মানুষ সত্যি খবর দিয়ে এসেছে গল্পের মধ্যে মুড়ে। একেবারে ময়রার দোকান বানিয়ে রেখেছে। সন্দেশের মধ্যে ছানাকে চেনাই যায় না।
আরো দেখুন
মীনু
Stories
মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব।
বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, 'এও বাঁচে কি না-বাঁচে।'
আরো দেখুন
অনাগতা
Verses
এসেছিল বহু আগে যারা মোর দ্বারে,
                    যারা চলে গেছে একেবারে,
ফাগুন-মধ্যাহ্নবেলা শিরীষছায়ায় চুপে চুপে
                    তারা ছায়ারূপে
     আসে যায় হিল্লোলিত শ্যাম দুর্বাদলে।
                ঘন কালো দিঘিজলে
     পিছনে-ফিরিয়া-চাওয়া আঁখি জ্বলো জ্বলো
                    করে ছলোছলো।
             মরণের অমরতালোকে
ধূসর আঁচল মেলি ফিরে তারা গেরুয়া আলোকে।
যে এখনো আসে নাই মোর পথে,
     কখনো যে আসিবে না আমার জগতে,
           তার ছবি আঁকিয়াছি মনে--
              একেলা সে বাতায়নে
           বিদেশিনী জন্মকাল হতে।
     সে যেন শেঁউলি ভাসে ক্ষীণ মৃদু স্রোতে,
                কোথায় তাহার দেশ
                    নাই সে উদ্দেশ।
         চেয়ে আছে দূর-পানে
     কার লাগি আপনি সে নাহি জানে।
          সেই দূরে ছায়ারূপে রয়েছে সে
                বিশ্বের সকল-শেষে
         যে আসিতে পারিত তবুও
                    এল না কভুও।
         জীবনের মরীচিকাদেশে
মরুকন্যাটির আঁখি ফিরে ভেসে ভেসে।
আরো দেখুন
গোরা
Novels
শ্রাবণ মাসের সকালবেলায় মেঘ কাটিয়া গিয়া নির্মল রৌদ্রে কলিকাতার আকাশ ভরিয়া গিয়াছে। রাস্তায় গাড়িঘোড়ার বিরাম নাই, ফেরিওয়ালা অবিশ্রাম হাঁকিয়া চলিয়াছে, যাহারা আপিসে কালেজে আদালতে যাইবে তাহাদের জন্য বাসায় বাসায় মাছ-তরকারির চুপড়ি আসিয়াছে ও রান্নাঘরে উনান জ্বালাইবার ধোঁওয়া উঠিয়াছে--কিন্তু তবু এত বড়ো এই-যে কাজের শহর কঠিন হৃদয় কলিকাতা, ইহার শত শত রাস্তা এবং গলির ভিতরে সোনার আলোকের ধারা আজ যেন একটা অপূর্ব যৌবনের প্রবাহ বহিয়া লইয়া চলিয়াছে।
এমন দিনে বিনা-কাজের অবকাশে বিনয়ভূষণ তাহার বাসার দোতলার বারান্দায় একলা দাঁড়াইয়া রাস্তায় জনতার চলাচল দেখিতেছিল। কালেজের পড়াও অনেক দিন চুকিয়া গেছে, অথচ সংসারের মধ্যেও প্রবেশ করে নাই, বিনয়ের অবস্থাটা এইরূপ। সভাসমিতি চালানো এবং খবরের কাগজ লেখায় মন দিয়াছে-- কিন্তু তাহাতে সব মনটা ভরিয়া উঠে নাই। অন্তত আজ সকালবেলায় কী করিবে তাহা ভাবিয়া না পাইয়া তাহার মনটা চঞ্চল হইয়া উঠিয়াছিল। পাশের বাড়ির ছাতের উপরে গোটা-তিনেক কাক কী লইয়া ডাকাডাকি করিতেছিল এবং চড়ুই-দম্পতি তাহার বারান্দার এক কোণে বাসা-নির্মাণ-ব্যাপারে পরস্পরকে কিচিমিচি শব্দে উৎসাহ দিতেছিল-- সেই সমস্ত অব্যক্ত কাকলি বিনয়ের মনের মধ্যে একটা কোন্‌ অস্পষ্ট ভাবাবেগকে জাগাইয়া তুলিতেছিল।
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়,
ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতেম পাখির পায়
"বোলো না কাতর স্বরে না করি বিচার
জীবন স্বপনসম মায়ার সংসার।"
দুখনিশীথিনী হল আজি ভোর।
কাটিল কাটিল অধীনতা ডোর।
চাঁদের অমিয়া-সনে চন্দন বাঁটিয়া গো
কে মাজিল গোরার দেহখানি--
আরো দেখুন
20
Verses
          আনন্দ-গান উঠুক তবে বাজি
              এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে।
          অশ্রুজলের ঢেউয়ের 'পরে আজি
              পারের তরী থাকুক ভাসিতে।
          যাবার হাওয়া ওই যে উঠেছে--ওগো
              ওই যে উঠেছে,
          সারারাত্রি চক্ষে আমার
              ঘুম যে ছুটেছে।
          হৃদয় আমার উঠছে দুলে দুলে
              অকূল জলের অট্টহাসিতে,
          কে গো তুমি দাও দেখি তান তুলে
              এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে।
          হে অজানা, অজানা সুর নব
              বাজাও আমার ব্যথার বাঁশিতে,
          হঠাৎ এবার উজান হাওয়ায় তব
              পারের তরী থাক্‌ না ভাসিতে।
          কোনো কালে হয় নি যারে দেখা--ওগো
              তারি বিরহে
          এমন করে ডাক দিয়েছে,
              ঘরে কে রহে।
          বাসার আশা গিয়েছে মোর ঘুরে,
              ঝাঁপ দিয়েছি আকাশরাশিতে;
          পাগল, তোমার সৃষ্টিছাড়া সুরে
              তান দিয়ো মোর ব্যথার বাঁশিতে।
আরো দেখুন
অনধিকার প্রবেশ
Stories
একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল 'পারিব', আর-একটি বালক বলিল 'কখনোই পারিবে না'।
কাজটি শুনিতে সহজ অথচ করিতে কেন সহজ নহে তাহার বৃত্তান্ত আর-একটু বিস্তারিত করিয়া বলা আবশ্যক।
আরো দেখুন
টিকা
Verses
আজ    পুরবে প্রথম নয়ন মেলিতে
               হেরিনু অরুণশিখা-- হেরিনু
                   কমলবরন শিখা,
          তখনি হাসিয়া প্রভাততপন
               দিলেম আমারে টিকা-- আমার
                   হৃদয়ে জ্যোতির টিকা।
          কে যেন আমার নয়ননিমেষে
                   রাখিল পরশমণি,
          যে দিকে তাকাই সোনা করে দেয়
                   দৃষ্টির পরশনি।
          অন্তর হতে বাহিরে সকলি
                   আলোকে হইল মিশা,
          নয়ন আমার হৃদয় আমার
                   কোথাও না পায় দিশা।
আজ    যেমনি নয়ন তুলিয়া চাহিনু
               কমলবরন শিখা-- আমার
                   অন্তরে দিল টিকা।
          ভাবিয়াছি মনে দিব না মুছিতে
          এ পরশ-রেখা দিব না ঘুচিতে,
          সন্ধ্যার পানে নিয়ে যাব বহি
               নবপ্রভাতের লিখা--
                   উদয়রবির টিকা।
আরো দেখুন
আবছায়া
Verses
তারা সেই     ধীরে ধীরে আসিত
                 মৃদু মৃদু হাসিত,
            তাদের পড়েছে আজ মনে।
তারা           কথাটি কহিত না,
                 কাছেতে রহিত না,
            চেয়ে রইত নয়নে নয়নে।
তারা           চলে যেত আনমনে,
                 বেড়াইত বনে বনে,
            আনমনে গাহিত রে গান।
                 চুল থেকে ঝরে ঝরে
                 ফুলগুলি যেত পড়ে,
            কেশপাশে ঢাকিত বয়ান।
                 কাছে আমি যাইতাম,
                 গানগুলি গাইতাম,
            সাথে সাথে যাইতাম পিছু-
                 তারা যেন আনমনা,
                 শুনিত কি শুনিত না
            বুঝিবারে নারিতাম কিছু।
                 কভু তারা থাকি থাকি
                 আনমনে শূন্য আঁখি,
            চাহিয়া রহিত মুখপানে,
                 ভালো তারা বাসিত কি,
                 মৃদু হাসি হাসিত কি,
            প্রাণে প্রাণ দিত কি, কে জানে!
                 গাঁথি ফুলে মালাগুলি
                 যেন তারা যেত ভুলি
            পরাইতে আমার গলায়।
                 যেন যেতে যেতে ধীরে
                 চায় তারা ফিরে ফিরে
            বকুলের গাছের তলায়।
                 যেন তারা ভালোবেসে
                 ডেকে যেত কাছে এসে,
            চলে যেতে করিত রে মানা-
                 আমার তরুণ প্রাণে
                 তাদের হৃদয়খানি
            আধো জানা আধেক অজানা।
                 কোথা চলে গেল তারা,
                 কোথা যেন পথহারা,
            তাদের দেখি নে কেন আর!
                 কোথা সেই ছায়া-ছায়া
                 কিশোর-কল্পনা-মায়া,
            মেঘমুখে হাসিটি উষার!
                 আলোতে ছায়াতে ঘেরা
                 জাগরণ স্বপনেরা
            আশেপাশে করিত রে খেলা-
                 একে একে পলাইল,
                 শূন্যে যেন মিলাইল,
            বাড়িতে লাগিল যত বেলা।
আরো দেখুন