অকাল ঘুম
Verses
             এসেছি অনাহূত।
                   কিছু কৌতুক করব ছিল মনে--
                     আচমকা বাধা দেব অসময়ে
                       কোমরে-আঁচল-জড়ানো গৃহিণীপনায়।
                     দুয়ারে পা বাড়াতেই চোখে পড়ল--
                            মেঝের 'পরে এলিয়ে পড়া
                                 ওর অকাল ঘুমের রূপখানি।
    দূর পাড়ায় বিয়ে-বাড়িতে বাজছে শানাই সারঙ সুরে।
         প্রথম প্রহর পেরিয়ে গেছে
              জ্যৈষ্ঠরৌদ্রে ঝাম্‌রে-পড়া সকাল বেলায়।
                স্তরে স্তরে দুখানি হাত গালের নীচে,
                     ঘুমিয়েছে শিথিলদেহে
                          উৎসবরাতের অবসাদে
                       অসমাপ্ত ঘরকন্নার এক ধারে।
                     কর্মস্রোত নিস্তরঙ্গ ওর অঙ্গে অঙ্গে,
                       অনাবৃষ্টিতে অজয় নদের
                     প্রান্তশায়ী শ্রান্ত জলশেষের মতো।
                   ঈষৎ খোলা ঠোঁটদুটিতে মিলিয়ে আছে
                     মুদে-আসা ফুলের মধুর উদাসীনতা।
              দুটি ঘুমন্ত চোখের কালো পক্ষ্ণচ্ছায়া
                     পড়েছে পাণ্ডুর কপোলে।
                ক্লান্ত জগৎ চলেছে পা টিপে
                     ওর খোলা জানলার সামনে দিয়ে
                          ওর শান্তনিশ্বাসের ছন্দে।
                                ঘড়ির ইশারা
                     বধির ঘরে টিক্‌টিক্‌ করছে কোণের টেবিলে,
                       বাতাসে দুলছে দিনপঞ্জী দেয়ালের গায়ে।
চলতি মুহূর্তগুলি গতি হারালো ওর স্তব্ধ চেতনায়,
                       মিলল একটি অনিমেষ মুহূর্তে;
                   ছড়িয়ে দিল তার অশরীরী ডানা
                          ওর নিবিড় নিদ্রার 'পরে।
    ওর ক্লান্ত দেহের করুণ মাধুরী মাটিতে মেলা,
         যেন পূর্ণিমারাতের ঘুম-হারানো অলস চাঁদ
              সকালবেলায় শূন্য মাঠের শেষ সীমানায়।
              পোষা বিড়াল দুধের দাবি স্মরণ করিয়ে
                  ডাক দিল ওর কানের কাছে।
              চমকে জেগে উঠে দেখল আমাকে,
                     তাড়াতাড়ি বুকে কাপড় টেনে
              অভিমানভরে বললে, "ছি, ছি,
                   কেন জাগালে না এতক্ষণ।"
         কেন! আমি তার জবাব দিই নি ঠিকমত।  "'
    যাকে খুব জানি তাকেও সব জানি নে
         এই কথা ধরা পড়ে কোনো একটা আকস্মিকে।
             হাসি আলাপ যখন আছে থেমে,
                মনে যখন থমকে আছে প্রাণের হাওয়া,
                   তখন সেই অব্যক্তের গভীরে
                       এ কী দেখা দিল আজ।
                   সে কি অস্তিত্বের সেই বিষাদ
                          যার তল মেলে না,
                সে কি সেই বোবার প্রশ্ন
                   যার উত্তর লুকাচুরি করে রক্তে,
           সে কি সেই বিরহ,
                   যার ইতিহাস নেই,
    সে কি অজানা বাঁশির ডাকে অচেনা পথে স্বপ্নে-চলা।
ঘুমের স্বচ্ছ আকাশতলে
    কোন্‌ নির্বাক রহস্যের সামনে ওকে নীরবে শুধিয়েছি,
                       "কে তুমি।
         তোমার শেষ পরিচয় খুলে যাবে কোন্‌ লোকে।"
      সেদিন সকালে গলির ও পারে পাঠশালায়
         ছেলেরা চেঁচিয়ে পড়ছিল নামতা;
       পাট-বোঝাই মোষের গাড়ি
         চাকার ক্লিষ্টশব্দে মুচড়ে দিচ্ছিল বাতাসকে;
           ছাদ পিটোচ্ছিল পাড়ার কোন্‌ বাড়িতে;
              জানলার নীচে বাগানে
                চালতা গাছের তলায়
                   উচ্ছিষ্ট আমের আঁঠি নিয়ে
                     টানাটানি করছিল একটা কাক।
      আজ এ সমস্তর উপরেই ছড়িয়ে পড়েছে
         সেই দূরকালের মায়ারশ্মি।
                ইতিহাসে-বিলুপ্ত
    তুচ্ছ এক মধ্যাহ্নের আলস্য-আবিষ্ট রৌদ্রে
           এরা অপরূপের রসে রইল ঘিরে
                অকাল ঘুমের একখানি ছবি।
আরো দেখুন
রথযাত্রা
Stories
রথযাত্রার দিন কাছে।
তাই রানী রাজাকে বললে, 'চলো, রথ দেখতে যাই।'
আরো দেখুন
স্ত্রীর পত্র
Stories
শ্রীচরণকমলেষু
আজ পনেরো বছর আমাদের বিবাহ হয়েছে,আজ পর্যন্ত তোমাকে চিঠি লিখি নি। চিরদিন কাছেই পড়ে আছি -- মুখের কথা অনেক শুনেছ, আমিও শুনেছি;চিঠি লেখবার মতো ফাঁকটুকু পাওয়া যায় নি।
আরো দেখুন
ম্যাজিশিয়ান
Stories
কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, শুনেছি এক সময়ে তুমি বড়ো বড়ো কথা নিয়ে খুব বড়ো বড়ো বই লিখেছিলে।
জীবনে অনেক দুষ্কর্ম করেছি, তা কবুল করতে হবে। ভারতচন্দ্র বলেছেন, সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর।
আরো দেখুন
বাজিবে, সখী, বাঁশি
Songs
বাজিবে, সখী, বাঁশি বাজিবে--
     হৃদয়রাজ হৃদে রাজিবে॥
বচন রাশি রাশি   কোথা যে যাবে ভাসি,
     অধরে লাজহাসি সাজিবে॥
নয়নে আঁখিজল   করিবে ছলছল,
     সুখবেদনা মনে বাজিবে।
মরমে মুরছিয়া   মিলাতে চাবে হিয়া
     সেই চরণযুগরাজীবে॥
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
সংস্কার
Stories
চিত্রগুপ্ত এমন অনেক পাপের হিসাব বড়ো অক্ষরে তাঁর খাতায় জমা করেন যা থাকে পাপীর নিজের অগোচরে। তেমনি এমন পাপও ঘটে যাকে আমিই চিনি পাপ বলে, আর-কেউ না। যেটার কথা লিখতে বসেছি সেটা সেই জাতের। চিত্রগুপ্তের কাছে জবাবদিহি করবার পূর্বে আগে-ভাগে কবুল করলে অপরাধের মাত্রাটা হাল্‌কা হবে।
ব্যাপারটা ঘটেছিল কাল শনিবার দিনে। সেদিন আমাদের পাড়ায় জৈনদের মহলে কী একটা পরব ছিল। আমার স্ত্রী কলিকাকে নিয়ে মোটরে করে বেরিয়েছিলুম-- চায়ের নিমন্ত্রণ ছিল বন্ধু নয়নমোহনের বাড়িতে।
আরো দেখুন
মুক্তকুন্তলা
Stories
আমার খুদে বন্ধুরা এসে হাজির তাদের নালিশ নিয়ে। বললে, দাদামশায় তুমি কি আমাদের ছেলেমানুষ মনে কর।
তা, ভাই, ঐ ভুলটাই তো করেছিলুম। আজকাল নিজেরই বয়েসটার ভুল হিসেব করতে শুরু করেছি।
আরো দেখুন