বিড়ালে মাছেতে হল সখ্য
Verses
    বিড়ালে মাছেতে হল সখ্য।
    বিড়াল কহিল, 'ভাই ভক্ষ্য,
  বিধাতা স্বয়ং জেনো সর্বদা কন তোরে--
  ঢোকো গিয়ে বন্ধুর রসময় অন্তরে,
         সেখানে নিজেরে তুমি সযতনে রক্ষ।
ঐ দেখো পুকুরের ধারে আছে ঢালু ডাঙা,
ঐখানে সয়তান বসে থাকে মাছরাঙা,
       কেন মিছে হবে ওর চঞ্চুর লক্ষ্য'!
আরো দেখুন
পায়ে চলার পথ
Stories
এই তো পায়ে চলার পথ।
এসেছে বনের মধ্যে দিয়ে মাঠে, মাঠের মধ্যে দিয়ে নদীর ধারে, খেয়াঘাটের পাশে বটগাছেরতলায়। তার পরে ও পারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে তিসির খেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে, পদ্মদিঘির পাড় দিয়ে, রথতলার পাশ দিয়ে কোন্‌ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁচেছে জানি নে।
আরো দেখুন
50
Verses
IN THE lightning flash of a moment I have seen the immensity of your creation in my life-creation through many a death from world to world.
I weep at my unworthiness when I see my life in the hands of the unmeaning hours,-but when I see it in your hands I know it is too precious to be squandered among shadows.
আরো দেখুন
মরণস্বপ্ন
Verses
         কৃষ্ণপক্ষ প্রতিপদ। প্রথম সন্ধ্যায়
         ম্লান চাঁদ দেখা দিল গগনের কোণে।
     ক্ষুদ্র নৌকা থরথরে    চলিয়াছে পালভরে
              কালস্রোতে যথা ভেসে যায়
         অলস ভাবনাখানি আধোজাগা মনে।
         এক পারে ভাঙা তীর ফেলিয়াছে ছায়া,
         অন্য পারে ঢালু তট শুভ্র বালুকায়
     মিশে যায় চন্দ্রালোকে--     ভেদ নাহি পড়ে চোখে--
              বৈশাখের গঙ্গা কৃশকায়া
         তীরতলে ধীরগতি অলস লীলায়।
         স্বদেশ পুরব হতে বায়ু বহে আসে
         দূর স্বজনের যেন বিরহের শ্বাস।
     জাগ্রত আঁখির আগে    কখনো বা চাঁদ জাগে
              কখনো বা প্রিয়মুখ ভাসে--
         আধেক উলস প্রাণ আধেক উদাস।
         ঘনচ্ছায়া আম্রকুঞ্জ উত্তরের তীরে--
         যেন তারা সত্য নহে, স্মৃতি-উপবন।
     তীর, তরু, গৃহ, পথ,  জ্যোৎস্নাপটে চিত্রবৎ--
              পড়িয়াছে নীলাকাশ নীরে
         দূর মায়া-জগতের ছায়ার মতন।
         স্বপ্নাকুল আঁখি মুদি ভাবিতেছি মনে
         রাজহংস ভেসে যায় অপার আকাশে
     দীর্ঘ শুভ্র পাখা খুলি   চন্দ্রালোক পানে তুলি--
              পৃষ্ঠে আমি কোমল শয়নে,
         সুখের মরণসম ঘুমঘোর আসে।
যেন রে প্রহর নাই, নাইক প্রহরী,
         এ যেন রে দিবাহারা অনন্ত্‌ নিশীথ।
     নিখিল নির্জন, স্তব্ধ,   শুধু শুনি জলশব্দ
              কলকল-কল্লোল-লহরী--
         নিদ্রাপারাবার যেন স্বপ্ন-চঞ্চলিত।
         কত যুগ চলে যায় নাহি পাই দিশা--
         বিশ্ব নিবু-নিবু, যেন দীপ তৈলহীন।
     গ্রাসিয়া আকাশকায়া    ক্রমে পড়ে মহাছায়া,
              নতশিরে বিশ্বব্যাপী নিশা
         গনিতেছে মৃত্যুপল এক দুই তিন।
         চন্দ্র শীর্ণতর হয়ে লুপ্ত হয়ে যায়,
         কলধ্বনি ক্ষীণ হয়ে মৌন হয়ে আসে।
     প্রেতনয়নের মতো   নির্নিমেষ তারা যত
              সবে মিলে মোর পানে চায়,
         একা আমি জনপ্রাণী অখণ্ড আকাশে।
         চির যুগরাত্রি ধরে শতকোটি তারা
         পরে পরে নিবে গেল গগন-মাঝার।
     প্রাণপণে চক্ষু চাহি    আঁখিতে আলোক নাহি,
              বিঁধিতে পারে না আঁখিতারা
         তুষারকঠিন মৃত্যুহিম অন্ধকার।
         অসাড় বিহঙ্গ-পাখা পড়িল ঝুলিয়া,
         লুটায় সুদীর্ঘ গ্রীবা-- নামিল মরাল।
     ধরিয়া অযুত অব্দ    হুহু পতনের শব্দ
              কর্ণরন্ধ্রে উঠে আকুলিয়া,
         দ্বিধা হয়ে ভেঙে যায় নিশীথ করাল।
সহসা এ জীবনের সমুদয় স্মৃতি
         ক্ষণেক জাগ্রত হয়ে নিমেষে চকিতে
     আমারে ছাড়িয়া দূরে   পড়ে গেল ভেঙেচুরে,
              পিছে পিছে আমি ধাই নিতি--
         একটি কণাও আর পাই না লখিতে।
         কোথাও রাখিতে নারি দেহ আপনার,
         সর্বাঙ্গ অবশ ক্লান্ত নিজ লৌহভারে।
     কাতরে ডাকিতে চাহি,    শ্বাস নাহি, স্বর নাহি,
              কণ্ঠেতে চেপেছে অন্ধকার--
         বিশ্বের প্রলয় একা আমার মাঝারে।
         দীর্ঘ তীক্ষ্ণ হই ক্রমে তীব্র গতিবলে
         ব্যগ্রগামী ঝটিকার আর্তস্বরসম,
     সূক্ষ্ম বাণ সূচিমুখ   অনন্ত কালের বুক
              বিদীর্ণ করিয়া যেন চলে--
         রেখা হয়ে মিশে আসে দেহমন মম।
         ক্রমে মিলাইয়া গেল সময়ের সীমা,
         অনন্তে মুহূর্তে কিছু ভেদ নাহি আর।
     ব্যাপ্তিহারা শূন্যসিন্ধু   শুধু যেন এক বিন্দু
              গাঢ়তম অন্তিম কালিমা--
         আমারে গ্রাসিল সেই বিন্দু-পারাবার।
         অন্ধকারহীন হয়ে গেল অন্ধকার।
         "আমি' ব'লে কেহ নাই, তবু যেন আছে।
     অচৈতন্যতলে অন্ধ   চৈতন্য হইল বন্ধ,
              রহিল প্রতিক্ষা করি কার
         মৃত হয়ে প্রাণ যেন চিরকাল বাঁচে।
নয়ন মেলিনু, সেই বহিছে জাহ্নবী--
         পশ্চিমে গৃহের মুখে চলেছে তরণী।
     তীরে কুটিরের তলে স্তিমিত প্রদীপ জ্বলে,
              শূন্যে চাঁদ সুধামুখচ্ছবি।
         সুপ্ত জীব কোলে লয়ে জাগ্রত ধরণী।
আরো দেখুন
ঠাকুরদা
Stories
নয়নজোড়ের জমিদারেরা এককালে বাবু বলিয়া বিশেষ বিখ্যাত ছিলেন। তখনকার কালের বাবুয়ানার আদর্শ বড়ো সহজ ছিল না। এখন যেমন রাজা-রায়বাহাদুর খেতাব অর্জন করিতে অনেক খানা নাচ ঘোড়দৌড় এবং সেলাম-সুপারিশের শ্রাদ্ধ করিতে হয়, তখনো সাধারণের নিকট হইতে বাবু উপাধি লাভ করিতে বিস্তর দুঃসাধ্য তপশ্চরণ করিতে হইত।
আমাদের নয়নজোড়ের বাবুরা পাড় ছিঁড়িয়া ফেলিয়া ঢাকাই কাপড় পরিতেন, কারণ পাড়ের কর্কশতায় তাঁহাদের সুকোমল বাবুয়ানা ব্যথিত হইত। তাঁহারা লক্ষ টাকা দিয়া বিড়ালশাবকের বিবাহ দিতেন এবং কথিত আছে, একবার কোনো উৎসব উপলক্ষে রাত্রিকে দিন করিবার প্রতিজ্ঞা করিয়া অসংখ্য দীপ জ্বলাইয়া সূর্যকিরণের অনুকরণে তাঁহারা সাচ্চা রুপার জরি উপর হইতে বর্ষণ করিয়াছিলেন।
আরো দেখুন
শেষের রাত্রি
Stories
'মাসি !'
'ঘুমোও,যতীন,রাত হল যে ।'
আরো দেখুন
কাবুলিওয়ালা
Stories
আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেকসময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা পারি না। মিনি চুপ করিয়া থাকিলে এমনি অস্বাভাবিক দেখিতে হয় যে, সে আমার বেশিক্ষণ সহ্য হয় না। এইজন্য আমার সঙ্গে তাহার কথোপকথনটা কিছু উৎসাহের সহিত চলে।
সকালবেলায় আমার নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে হাত দিয়াছি এমনসময় মিনি আসিয়াই আরম্ভ করিয়া দিল, 'বাবা, রামদয়াল দরোয়ান কাককে কৌয়া বলছিল, সে কিচ্ছু জানে না। না?'
আরো দেখুন
তোতাকাহিনী
Stories
এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।
রাজা বলিলেন, 'এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।'
আরো দেখুন
চন্দনী
Stories
জানোই তো সেদিন কী কাণ্ড। একেবারে তলিয়ে গিয়েছিলেম আর-কি, কিন্তু তলায় কোথায় যে ফুটো হয়েছে তার কোনো খবর পাওয়া যায় নি। না মাথা ধরা, না মাথা ঘোরা, না গায়ে কোথাও ব্যথা, না পেটের মধ্যে একটুও খোঁচাখুঁচির তাগিদ। যমরাজার চরগুলি খবর আসার সব দরজাগুলো বন্ধ করে ফিস্‌ ফিস্‌ ক'রে মন্ত্রণা করছিল। এমন সুবিধে আর হয় না! ডাক্তারেরা কলকাতায় নব্বই মাইল দূরে। সেদিনকার এই অবস্থা।
সন্ধে হয়ে এসেছে। বারান্দায় বসে আছি। ঘন মেঘ ক'রে এল। বৃষ্টি হবে বুঝি। আমার সভাসদ্‌রা বললে, ঠাকুরদা, একসময় শুনেছি তুমি মুখে মুখে গল্প ব'লে শোনাতে, এখন শোনাও না কেন।
আরো দেখুন
মেঘ ও রৌদ্র
Stories
পূর্বদিনে বৃষ্টি হইয়া গিয়াছে। আজ ক্ষান্তবর্ষণ প্রাতঃকালে ম্লান রৌদ্র ও খণ্ড মেঘে মিলিয়া পরিপক্কপ্রায় আউশ ধানের ক্ষেত্রের উপর পর্যায়ক্রমে আপন আপন সুদীর্ঘ তুলি বুলাইয়া যাইতেছিল; সুবিস্তৃত শ্যাম চিত্রপট একবার আলোকের স্পর্শে উজ্জ্বল পাণ্ডুবর্ণ ধারণ করিতেছিল আবার পরক্ষণেই ছায়াপ্রলেপে গাঢ় স্নিগ্ধতায় অঙ্কিত হইতেছিল।
যখন সমস্ত আকাশরঙ্গভূমিতে মেঘ এবং রৌদ্র, দুইটি মাত্র অভিনেতা, আপন আপন অংশ অভিনয় করিতেছিল তখন নিম্নে সংসাররঙ্গভূমিতে কত স্থানে কত অভিনয় চলিতেছিল তাহার আর সংখ্যা নাই।
আরো দেখুন
মরণসাগরপারে
Songs
     মরণসাগরপারে তোমরা অমর,
              তোমাদের স্মরি।
     নিখিলে রচিয়া গেলে আপনারই ঘর,
              তোমাদের স্মরি ॥
সংসারে জ্বেলে গেলে যে নব আলোক
     জয় হোক, জয় হোক, তারি জয় হোক--
              তোমাদের স্মরি ॥
          বন্দীরে দিয়ে গেছ মুক্তির সুধা,
              তোমাদের স্মরি।
          সত্যের বরমালে সাজালে বসুধা,
              তোমাদের স্মরি।
রেখে গেলে বাণী সে যে অভয় অশোক,
     জয় হোক, জয় হোক, তারি জয় হোক--
              তোমাদের স্মরি ॥
আরো দেখুন