এসেছি গো এসেছি, মন দিতে এসেছি
Songs
এসেছি গো এসেছি, মন দিতে এসেছি,
যারে ভালো বেসেছি!
ফুলদলে ঢাকি মন যাব রাখি চরণে,
পাছে কঠিন ধরণী পায়ে বাজে,
রেখো রেখো চরণ হৃদি-মাঝে,
না হয় দলে যাবে, প্রাণ ব্যথা পাবে,
আমি তো ভেসেছি, অকূলে ভেসেছি।
আরো দেখুন
পাবনায় বাড়ি হবে
Verses
পাবনায় বাড়ি হবে, গাড়ি গাড়ি ইঁট কিনি,
রাঁধুনিমহল-তরে করোগেট-শীট্‌ কিনি।
ধার ক'রে মিস্ত্রির সিকি বিল চুকিয়েছি,
পাওনাদারের ভয়ে দিনরাত লুকিয়েছি,
     শেষে দেখি জানলায় লাগে নাকো ছিট্‌কিনি।
দিনরাত দুড়্‌দাড়্‌ কী বিষম শব্দ যে,
তিনটে পাড়ার লোক হয়ে গেল জব্দ যে,
     ঘরের মানুষ করে খিট্‌ খিট্‌ খিট্‌কিনি।
কী করি না ভেবে পেয়ে মথুরায় দিনু পাড়ি,
বাজে খরচের ভয়ে আরেকটা পাকাবাড়ি
     বানাবার মতলবে পোড়ো এক ভিট কিনি।
তিনতলা ইমারত শোভা পায় নবাবেরই,
সিঁড়িটা রইল বাকি চিহ্ন সে অভাবেরই,
     তাই নিয়ে গৃহিণীর কী যে নাক-সিট্‌কিনি।
আরো দেখুন
এসো আজি সখা
Verses
এসো আজি সখা বিজন পুলিনে
              বলিব মনের কথা;
মরমের তলে যা-কিছু রয়েছে
              লুকানো মরম-ব্যথা।
সুচারু রজনী, মেঘের আঁচল
              চাপিয়া অধরে হাসিছে শশি,
বিমল জোছনা সলিলে মজিয়া
              আঁধার মুছিয়া ফেলেছে নিশি,
কুসুম কাননে বিনত আননে
       মুচকিয়া হাসে গোলাপবালা,
বিষাদে মলিনা, শরমে নিলীনা,
       সলিলে দুলিছে কমলিনী বধূ
ম্লানরূপে করি সরসী আলা!
       আজি, খুলিয়া ফেলিব প্রাণ
       আজি, গাইব কত গান,
আজি, নীরব নিশীথে,চাঁদের হাসিতে
       মিশাব অফুট তান!
দুই হৃদয়ের যত আছে গান
       এক সাথে আজি গাইব,
দুই হৃদয়ের যত আছে কথা
       দুইজনে আজি কহিব;
কতদিন সখা, এমন নিশীথে
       এমন পুলিনে বসি,
মানসের গীত গাহিয়া গাহিয়া
       কাটাতে পাই নি নিশি!
স্বপনের মতো সেই ছেলেবেলা
       সেইদিন সথা মনে কি হয়?
হৃদয় ছিল গো কবিতা মাখানো
      প্রকৃতি আছিল কবিতাময়,
কী সুখে কাটিত পূরণিমা রাত
      এই নদীতীরে আসি,
[কু]সুমের মালা গাঁথিয়া গাঁথিয়া
      গনিয়া তারকারাশি।
যমুনা সুমুখে যাইত বহিয়া
      সে যে কী সুখের গাইত গান,
ঘুম ঘুম আঁখি আসিত মুদিয়া
      বিভল হইয়া যাইত প্রাণ!
[কত] যে সুখের কল্পনা আহা
      আঁকিতাম মনে মনে
[সা] রাটি জীবন কাটাইব যেন
              ...    
তখন কি সখা জানিতাম মনে
      পৃথিবী কবির নহে
কল্পনা আর যতই প্রবল
      ততই সে দুখ সহে!
এমন পৃথিবী, শোভার আকর
      পাখি হেথা করে গান
কাননে কাননে কুসুম ফুটিয়া
      পরিমল করে দান!
আকাশে হেথায় উঠে গো তারকা
      উঠে সুধাকর, রবি,
বরন বরন জলদ দেখিছে
      নদীজলে মুখছবি,
এমন পৃথিবী এও কারাগার
      কবির মনের কাছে!
যে দিকে নয়ন ফিরাইতে যায়
      সীমায় আটক আছে!
তাই [যে] গো সখা মনে মনে আমি
      গড়েছি একটি বন,
সারাদিন সেথা ফুটে আছে ফুল,
      গাইছে বিহগগণ!
আপনার ভাবে হইয়া পাগল
      রাতদিন সুখে আছি গো সেথা
বিজন কাননে পাখির মতন
      বিজনে গাইয়া মনের ব্যথা!
কতদিন পরে পেয়েছি তোমারে,
      ভুলেছি মরমজ্বালা;
দুজনে মিলিয়া সুখের কাননে
      গাঁথিব কুসুমমালা!
দুজনে মিলিয়া পূরণিমা রাতে
      গাইব সুখের গান
যমুনা পুলিনে করিব দুজনে
      সুখ নিশা অবসান,
আমার এ মন সঁপিয়া তোমারে
      লইব তোমার মন
হৃদয়ের খেলা খেলিয়া খেলিয়া
      কাটাইব সারাক্ষণ!
এইরূপে সখা কবিতার কোলে
      পোহায়ে যাইবে প্রাণ
সুখের স্বপন দেখিয়া দেখিয়া
      গাহিয়া সুখের গান।
আরো দেখুন
মুক্তি
Stories
বিরহিণী তার ফুলবাগানের এক ধারে বেদী সাজিয়ে তার উপর মূর্তি গড়তে বসল। তার মনের মধ্যে যে মানুষটি ছিল বাইরে তারই প্রতিরূপ প্রতিদিন একটু একটু করে গড়ে, আর চেয়ে চেয়ে দেখে, আর ভাবে, আর চোখ দিয়ে জল পড়ে।
কিন্তু, যে রূপটি একদিন তার চিত্তপটে স্পষ্ট ছিল তার উপরে ক্রমে যেন ছায়া পড়ে আসছে। রাতের বেলাকার পদ্মের মতো স্মৃতির পাপড়িগুলি অল্প অল্প করে যেন মুদে এল।
আরো দেখুন
পায়ে চলার পথ
Stories
এই তো পায়ে চলার পথ।
এসেছে বনের মধ্যে দিয়ে মাঠে, মাঠের মধ্যে দিয়ে নদীর ধারে, খেয়াঘাটের পাশে বটগাছেরতলায়। তার পরে ও পারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে তিসির খেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে, পদ্মদিঘির পাড় দিয়ে, রথতলার পাশ দিয়ে কোন্‌ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁচেছে জানি নে।
আরো দেখুন
সওগাত
Stories
পুজোর পরব কাছে। ভাণ্ডার নানা সামগ্রীতে ভরা। কত বেনারসি কাপড়, কত সোনার অলংকার; আর ভাণ্ড ভ'রে ক্ষীর দই, পাত্র ভ'রে মিষ্টান্ন।
মা সওগাত পাঠাচ্ছেন।
আরো দেখুন
প্রথম শোক
Stories
বনের ছায়াতে যে পথটি ছিল সে আজ ঘাসে ঢাকা।
সেই নির্জনে হঠাৎ পিছন থেকে কে বলে উঠল, 'আমাকে চিনতে পার না?'
আরো দেখুন
বোষ্টমী
Stories
আমি লিখিয়া থাকি অথচ লোকরঞ্জন আমার কলমের ধর্ম নয়, এইজন্য লোকেও আমাকে সদাসর্বদা যে রঙে রঞ্জিত করিয়া থাকে তাহাতে কালির ভাগই বেশি। আমার সম্বন্ধে অনেক কথাই শুনিতে হয়; কপালক্রমে সেগুলি হিতকথা নয়, মনোয়ারী তো নহেই।
শরীরে যেখানটায় ঘা পড়িতে থাকে সে জায়গাটা যত তুচ্ছই হোক সমস্ত দেহটাকে বেদনার জোরে সেই ছাড়াইয়া যায়। সে লোক গালি খাইয়া মানুষ হয়, সে আপনার স্বভাবকে যেন ঠেলিয়া একঝোঁকা হইয়া পড়ে। আপনার চারি দিককে ছাড়াইয়া আপনাকেই কেবল তাহার মনে পড়ে-- সেটা আরামও নয়, কল্যাণও নয়। আপনাকে ভোলাটাই তো স্বস্তি।
আরো দেখুন
মুসলমানীর গল্প
Stories
তখন অরাজকতার চরগুলো কণ্টকিত করে রেখেছিল রাষ্ট্রশাসন, অপ্রত্যাশিত অত্যাচারের অভিঘাতে দোলায়িত হত দিন রাত্রি। দুঃস্বপ্নের জাল জড়িয়েছিল জীবনযাত্রার সমস্ত ক্রিয়াকর্মে, গৃহস্থ কেবলই দেবতার মুখ তাকিয়ে থাকত, অপদেবতার কাল্পনিক আশঙ্কায় মানুষের মন থাকত আতঙ্কিত। মানুষ হোক আর দেবতাই হোক কাউকে বিশ্বাস করা কঠিন ছিল, কেবলই চোখের জলের দোহাই পাড়তে হত। শুভ কর্ম এবং অশুভ কর্মের পরিণামের সীমারেখা ছিল ক্ষীণ। চলতে চলতে পদে পদে মানুষ হোঁচট খেয়ে খেয়ে পড়ত দুর্গতির মধ্যে।
এমন অবস্থায় বাড়িতে রূপসী কন্যার অভ্যাগম ছিল যেন ভাগ্যবিধাতার অভিসম্পাত। এমন মেয়ে ঘরে এলে পরিজনরা সবাই বলত 'পোড়ারমুখী বিদায় হলেই বাঁচি'। সেই রকমেরই একটা আপদ এসে জুটেছিল তিন-মহলার তালুকদার বংশীবদনের ঘরে।
আরো দেখুন
116
Verses
THE DESERT is imprisoned in the wall
of its unbounded barrenness.
আরো দেখুন
ছুটি
Stories
বালকদিগের সর্দার ফটিক চক্রবর্তীর মাথায় চট করিয়া একটা নূতন ভাবোদয় হইল, নদীর ধারে একটা প্রকাণ্ড শালকাষ্ঠ মাস্তুলে রূপান্তরিত হইবার প্রতীক্ষায় পড়িয়া ছিল; স্থির হইল, সেটা সকলে মিলিয়া গড়াইয়া লইয়া যাইবে।
যে-ব্যক্তির কাঠ, আবশ্যককালে তাহার যে কতখানি বিস্ময় বিরক্তি এবং অসুবিধা বোধ হইবে, তাহাই উপলব্ধি করিয়া বালকেরা এ প্রস্তাবে সম্পূর্ণ অনুমোদন করিল।
আরো দেখুন
গোরা
Novels
শ্রাবণ মাসের সকালবেলায় মেঘ কাটিয়া গিয়া নির্মল রৌদ্রে কলিকাতার আকাশ ভরিয়া গিয়াছে। রাস্তায় গাড়িঘোড়ার বিরাম নাই, ফেরিওয়ালা অবিশ্রাম হাঁকিয়া চলিয়াছে, যাহারা আপিসে কালেজে আদালতে যাইবে তাহাদের জন্য বাসায় বাসায় মাছ-তরকারির চুপড়ি আসিয়াছে ও রান্নাঘরে উনান জ্বালাইবার ধোঁওয়া উঠিয়াছে--কিন্তু তবু এত বড়ো এই-যে কাজের শহর কঠিন হৃদয় কলিকাতা, ইহার শত শত রাস্তা এবং গলির ভিতরে সোনার আলোকের ধারা আজ যেন একটা অপূর্ব যৌবনের প্রবাহ বহিয়া লইয়া চলিয়াছে।
এমন দিনে বিনা-কাজের অবকাশে বিনয়ভূষণ তাহার বাসার দোতলার বারান্দায় একলা দাঁড়াইয়া রাস্তায় জনতার চলাচল দেখিতেছিল। কালেজের পড়াও অনেক দিন চুকিয়া গেছে, অথচ সংসারের মধ্যেও প্রবেশ করে নাই, বিনয়ের অবস্থাটা এইরূপ। সভাসমিতি চালানো এবং খবরের কাগজ লেখায় মন দিয়াছে-- কিন্তু তাহাতে সব মনটা ভরিয়া উঠে নাই। অন্তত আজ সকালবেলায় কী করিবে তাহা ভাবিয়া না পাইয়া তাহার মনটা চঞ্চল হইয়া উঠিয়াছিল। পাশের বাড়ির ছাতের উপরে গোটা-তিনেক কাক কী লইয়া ডাকাডাকি করিতেছিল এবং চড়ুই-দম্পতি তাহার বারান্দার এক কোণে বাসা-নির্মাণ-ব্যাপারে পরস্পরকে কিচিমিচি শব্দে উৎসাহ দিতেছিল-- সেই সমস্ত অব্যক্ত কাকলি বিনয়ের মনের মধ্যে একটা কোন্‌ অস্পষ্ট ভাবাবেগকে জাগাইয়া তুলিতেছিল।
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়,
ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতেম পাখির পায়
"বোলো না কাতর স্বরে না করি বিচার
জীবন স্বপনসম মায়ার সংসার।"
দুখনিশীথিনী হল আজি ভোর।
কাটিল কাটিল অধীনতা ডোর।
চাঁদের অমিয়া-সনে চন্দন বাঁটিয়া গো
কে মাজিল গোরার দেহখানি--
আরো দেখুন
নতুন পুতুল
Stories
এই গুণী কেবল পুতুল তৈরি করত; সে পুতুল রাজবাড়ির মেয়েদের খেলার জন্যে।
বছরে বছরে রাজবাড়ির আঙিনায় পুতুলের মেলা বসে। সেই মেলায় সকল কারিগরই এই গুণীকে প্রধান মান দিয়ে এসেছে।
আরো দেখুন
এই কথাটি মনে রেখো
Songs
     এই কথাটি মনে রেখো,    তোমাদের এই হাসিখেলায়
          আমি যে গান গেয়েছিলেম    জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়।
              শুকনো ঘাসে শূন্য বনে    আপন-মনে
                   অনাদরে অবহেলায়
          আমি যে গান গেয়েছিলেম     জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়॥
     দিনের পথিক মনে রেখো,    আমি চলেছিলেম রাতে
              সন্ধ্যাপ্রদীপ নিয়ে হাতে।
যখন আমার ও-পার থেকে    গেল ডেকে    ভেসেছিলেম ভাঙা ভেলায়।
     আমি যে গান গেয়েছিলেম    জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়॥
আরো দেখুন