মাধবী হঠাৎ কোথা
Songs
মাধবী   হঠাৎ কোথা হতে    এল   ফাগুন-দিনের স্রোতে।
          এসে   হেসেই বলে, "যা ই   যা ই   যাই।'
পাতারা     ঘিরে দলে দলে   তারে    কানে কানে বলে,
                   "না   না   না।'
              নাচে    তা ই   তা ই   তাই॥
আকাশের   তারা বলে তারে,   "তুমি   এসো গগন-পারে,
              তোমায়   চা ই   চা ই   চাই।'
পাতারা       ঘিরে দলে দলে   তারে     কানে কানে বলে,
                   "না   না   না।'
              নাচে   তা ই   তা ই   তাই॥
বাতাস   দখিন হতে আসে,   ফেরে   তারি পাশে পাশে,
              বলে,    "আ য়   আ য়   আয়'॥
বলে,   "নীল অতলের কূলে   সুদূর    অস্তাচলের মূলে
              বেলা   যা য়   যা য় যায়।
বলে,   "পূর্ণশশীর রাতি   ক্রমে   হবে মলিন-ভাতি,
              সময়   না ই   না ই   নাই।'
পাতারা     ঘিরে দলে দলে   তারে   কানে কানে বলে,
                   "না   না   না।'
               নাচে   তা ই   তা ই   তাই॥
আরো দেখুন
পাত্র ও পাত্রী
Stories
ইতিপূর্বে প্রজাপতি কখনো আমার কপালে বসেন নি বটে, কিন্তু একবার আমার মানসপদ্মে বসেছিলেন। তখন আমার বয়স ষোলো। তার পরে কাঁচা ঘুমে চমক লাগিয়ে দিলে যেমন ঘুম আর আসতে চায় না, আমার সেই দশা হল। আমার বন্ধুবান্ধবরা কেউ কেউ দারপরিগ্রহ ব্যাপারে দ্বিতীয়, এমন-কি তৃতীয় পক্ষে প্রোমোশন পেলেন; আমি কৌমার্যের লাস্ট বেঞ্চিতে বসে শূন্য সংসারের কড়িকাঠ গণনা করে কাটিয়ে দিলুম।
আমি চোদ্দ বছর বয়সে এনট্রেন্স পাস করেছিলুম। তখন বিবাহ কিম্বা এনট্রেন্স পরীক্ষায় বয়সবিচার ছিল না। আমি কোনোদিন পড়ার বই গিলি নি, সেইজন্যে শারীরিক বা মানসিক অজীর্ণ রোগে আমাকে ভুগতে হয় নি। ইঁদুর যেমন দাঁত বসাবার জিনিস পেলেই সেটাকে কেটে-কুটে ফেলে, তা সেটা খাদ্যই হোক আর অখাদ্যই হোক, শিশুকাল থেকেই তেমনি ছাপার বই দেখলেই সেটা পড়ে ফেলা আমার স্বভাব ছিল। সংসারে পড়ার বইয়ের চেয়ে না-পড়ার বইয়ের সংখ্যা ঢের বেশি, এইজন্য আমার পুঁথির সৌরজগতে স্কুল-পাঠ্য পৃথিবীর চেয়ে বেস্কুল-পাঠ্য সূর্য চোদ্দ লক্ষগুণে বড়ো ছিল। তবু, আমার সংস্কৃত-পণ্ডিতমশায়ের নিদারুণ ভবিষ্যদ্‌বাণী সত্ত্বেও, আমি পরীক্ষায় পাস করেছিলুম।
আরো দেখুন
বড়ো খবর
Stories
কুসমি বললে, তুমি যে বললে এখনকার কালের বড়ো বড়ো সব খবর তুমি আমাকে শোনাবে, নইলে আমার শিক্ষা হবে কী রকম ক'রে, দাদামশায়।
দাদামশায় বললে, বড়ো খবরের ঝুলি বয়ে বেড়াবে কে বলো, তার মধ্যে যে বিস্তর রাবিশ।
আরো দেখুন
ঘোড়া
Stories
সৃষ্টির কাজ প্রায় শেষ হয়ে যখন ছুটির ঘণ্টা বাজে ব'লে, হেনকালে ব্রহ্মার মাথায় একটা ভাবোদয় হল।
ভাণ্ডারীকে ডেকে বললেন, 'ওহে ভাণ্ডারী, আমার কারখানাঘরে কিছু কিছু পঞ্চভূতের জোগাড় করে আনো, আর-একটা নতুন প্রাণী সৃষ্টি করব।'
আরো দেখুন
The Parrot`s Training
Stories
ONCE UPON A time there was a bird. It was ignorant. It sang all right, but never recited scriptures. It hopped pretty frequently, but lacked manners.
Said the Raja to himself: ‘Ignorance is costly in the long run. For fools consume as much food as their betters, and yet give nothing in return.’
আরো দেখুন
2
Verses
I HAVE LOOKED on this picture in many a month of March when the mustard is in bloom-this lazy line of the water and the grey of the sand beyond, the rough path along the river-bank carrying the comradeship of the field into the heart of the village.
        I have tried to capture in rhyme the idle whistle of the wind, the beat of the oar-strokes from a passing boat
        I have wondered in my mind how simply it stands before me, this great world: with what fond and familiar ease it fills my heart, this encounter with the Eternal Stranger.
আরো দেখুন
31
Verses
          নিত্য তোমার পায়ের কাছে
          তোমার বিশ্ব তোমার আছে
              কোনোখানে অভাব কিছু নাই।
          পূর্ণ তুমি, তাই
     তোমার ধনে মানে তোমার আনন্দ না ঠেকে।
              তাই তো একে একে
     যা-কিছু ধন তোমার আছে আমার ক'রে লবে।
          এমনি করেই হবে
              এ ঐশ্বর্যে তব
     তোমার আপন কাছে, প্রভু, নিত্য নব নব।
     এমনি করেই দিনে দিনে
          আমার চোখে লও যে কিনে
              তোমার সূর্যোদয়।
          এমনি করেই দিনে দিনে
     আপন প্রেমের পরশমণি, আপনি যে লও চিনে
          আমার পরান করি হিরন্ময়।
আরো দেখুন
কথিকা
Stories
এবার মনে হল, মানুষ অন্যায়ের আগুনে আপনার সমস্ত ভাবী কালটাকে পুড়িয়ে কালো করে দিয়েছে, সেখানে বসন্ত কোনোদিন এসে আর নতুন পাতা ধরাতে পারবে না।
মানুষ অনেক দিন থেকে একখানি আসন তৈরি করছে। সেই আসনই তাকে খবর দেয় যে, তার দেবতা আসবেন, তিনি পথে বেরিয়েছেন।
আরো দেখুন
দশ
Verses
এই দেহখানা বহন করে আসছে দীর্ঘকাল
            বহু ক্ষুদ্র মহূর্তের রাগদ্বেষ ভয়ভাবনা
                  কামনার আবর্জনারাশি ।
            এর আবিল আবরণে বারে বারে ঢাকা পড়ে
                                    আত্মার মুক্তরূপ ।
এ সত্যের মুখোশ প'রে সত্যকে আড়ালে রাখে;
          মৃত্যুর কাদামাটিতেই গড়ে আপনার পুতুল,
    তবু তার মধ্যে  মৃত্যুর আভাস পেলেই
                 নালিশ করে আর্তকন্ঠে ।
     খেলা করে নিজেকে ভোলাতে,
                 কেবলই ভুলতে চায় যে সেটা খেলা ।
প্রাণপণ সঞ্চয়ে রচনা করে মরণের অর্ঘ্য;
            স্তুতিনিন্দার বাষ্পবুদবুদে ফেনিল হয়ে
                       পাক খায় ওর হাসিকান্নার আবর্ত ।
বক্ষ ভেদ ক'রে ও হাউইয়ের আগুন দেয় ছুটিয়ে,
             শূন্যের কাছ থেকে ফিরে পায় ছাই ---
                    দিনে দিনে তাই করে স্তূপাকার ।
প্রতিদিন যে প্রভাতে পৃথিবী
     প্রথম সৃষ্টির অক্লান্ত নির্মল দেববেশে দেয় দেখা,
   আমি তার উন্মীলিত আলোকের অনুসরণ করে
          অন্বেষণ করি আপন অন্তরলোক ।
অসংখ্য দণ্ড পল নিমেষের জটিল মলিন জালে বিজড়িত
            দেহটাকে সরিয়ে ফেলি মনের থেকে
     যেখানে সরে যায় অন্ধকার রাতের
            নানা ব্যর্থ ভাবনার অত্যুক্তি,
যায় বিস্মৃত দিনের অনবধানে পুঞ্জিত লেখন যত -
             সেই-সব নিমন্ত্রণলিপি নীরব যার আহ্বান,
                     নিঃশেষিত যার প্রত্যুত্তর।
তখন মনে পড়ে, সবিতা,
          তোমার কাছে ঋষিকবির প্রার্থনামন্ত্র,
   যে মন্ত্রে বলেছিলেন,হে পূষণ,
      তোমার হিরন্ময় পাত্রে সত্যের মুখ আচ্ছন্ন,
             উন্মুক্ত করো সেই আবরণ ।
          আমিও প্রতিদিন উদয়দিগ্‌বলয় থেকে বিচ্ছুরিত রশ্মিচ্ছটায়
                             প্রসারিত করে দিই আমার জাগরণ;
                    বলি, হে সবিতা,
                        সরিয়ে দাও  আমার এই দেহ,এই আচ্ছাদন --
                     তোমার তেজোময় অঙ্গের সূক্ষ্ণ  অগ্নিকণায়
                             রচিত যে-আমার দেহের অণুপরমাণু,
তারও অলক্ষ্য  অন্তরে আছে তোমার কল্যাণতম রূপ,
                    তাই প্রকাশিত  হোক আমার নিরাবিল দৃষ্টিতে ।
আমার অন্তরতম সত্য
                    আদি যুগে অব্যক্ত পৃথিবীর সঙ্গে
                             তোমার বিরাটে ছিল বিলীন,
                                সেই সত্য তোমারই ।
তোমার জ্যোতির স্তিমিত কেন্দ্রে মানুষ
                    আপনার মহৎস্বরূপকে দেখেছে কালে কালে,
                             কখনো নীল-মহানদীর তীরে,
                                কখনো পারস্যসাগরের কূলে,
                          কখনো হিমাদ্রিগিরিতটে --
বলেছে "জেনেছি আমরা অমৃতের পুত্র',
            বলেছে "দেখেছি অন্ধকারের পার হতে
                       আদিত্যবর্ণ মহান পুরুষের আবির্ভাব' ।
আরো দেখুন
তুমি
Verses
     তুমি            কোন্‌ কাননের ফুল,
          তুমি          কোন্‌ গগনের তারা।
     তোমায়        কোথায় দেখেছি
          যেন           কোন্‌ স্বপনের পারা॥
                    কবে তুমি গেয়েছিলে,
                    আঁখির পানে চেয়েছিলে
                      ভুলে গিয়েছি।
     শুধু          মনের মধ্যে জেগে আছে,
                       ঐ নয়নের তারা॥
     তুমি            কথা ক'য়ো না,
          তুমি          চেয়ে চলে যাও।
     এই             চাঁদের আলোতে
          তুমি       হেসে গলে যাও।
     আমি           ঘুমের ঘোরে চাঁদের পানে
                      চেয়ে থাকি মধুর প্রাণে,
     তোমার        আঁখির মতন দুটি তারা
                      ঢালুক কিরণ-ধারা॥
আরো দেখুন
চতুরঙ্গ
Novels
আমি পাড়াগাঁ হইতে কলিকাতায় আসিয়া কালেজে প্রবেশ করিলাম। শচীশ তখন বি. এ. ক্লাসে পড়িতেছে। আমাদের বয়স প্রায় সমান হইবে।
শচীশকে দেখিলে মনে হয় যেন একটা জ্যোতিষ্ক-- তার চোখ জ্বলিতেছে; তার লম্বা সরু আঙুলগুলি যেন আগুনের শিখা; তার গায়ের রঙ যেন রঙ নহে, তাহা আভা। শচীশকে যখন দেখিলাম অমনি যেন তার অন্তরাত্মাকে দেখিতে পাইলাম; তাই একমুহূর্তে তাহাকে ভালোবাসিলাম।
আরো দেখুন
52
Verses
লেখার যত আবর্জনা, জেনে রেখো সকলে
          সমস্ত রয় কর-মশায়ের দখলে।
আরো দেখুন