মানভঞ্জন
Stories
রমানাথ শীলের ত্রিতল অট্টালিকায় সর্ব্বোচ্চ তলের ঘরে গোপীনাথ শীলের স্ত্রী গিরিবালা বাস করে। শয়নকক্ষের দক্ষিণ দ্বারের সম্মুখে ফুলের টবে গুটিকতক বেলফুল এবং গোলাপফুলের গাছ; ছাতটি উচ্চ প্রাচীর দিয়া ঘেরা-- বহিরদৃশ্য দেখিবার জন্য প্রাচীরের মাঝে মাঝে একটি করিয়া ইট ফাঁক দেওয়া আছে। শোবার ঘরে নানা বেশ এবং বিবেশ-বিশিষ্ট বিলাতি নারীমূর্তির বাঁধানো এন্‌গ্রেভিং টাঙানো রহিয়াছে; কিন্তু প্রবেশদ্বারের সম্মুখবর্তী বৃহৎ আয়নার উপরে ষোড়শী গৃহস্বামিনীর যে প্রতিবিম্বটি পড়ে তাহা দেয়ালের কোনো ছবি অপেক্ষা সৌন্দর্যে ন্যূন নহে।
গিরিবালার সৌন্দর্য অকস্মাৎ আলোকরশ্মির ন্যায়, বিস্ময়ের ন্যায়, নিদ্রাভঙ্গে চেতনার ন্যায়, একেবারে চকিতে আসিয়া আঘাত করে এবং এক আঘাতে অভিভূত করিয়া দিতে পারে। তাহাকে দেখিলে মনে হয়, ইহাকে দেখিবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না; চারি দিকে এবং চিরকাল যেরূপ দেখিয়া আসিতেছি এ একেবারে হঠাৎ তাহা হইতে অনেক স্বতন্ত্র।
আরো দেখুন
2
Verses
  শুনহ শুনহ বালিকা,
   রাখ কুসুমমালিকা,
কুঞ্জ কুঞ্জ ফেরনু সখি শ্যামচন্দ্র নাহি রে।
   দুলই কুসুমমুঞ্জরী,
   ভমর ফিরই গুঞ্জরী,
অলস যমুনা বহয়ি যায় ললিত গীত গাহি রে।
   শশিসনাথ যামিনী,
  বিরহবিধুর কামিনী,
কুসুমহার ভইল ভার হৃদয় তার দাহিছে।
  অধর উঠই কাঁপিয়া
সখিকরে কর আপিয়া,
কুঞ্জভবনে পাপিয়া কাহে গীত গাহিছে।
   মৃদু সমীর সঞ্চলে
হরয়ি শিথিল অঞ্চলে,
চকিত হৃদয় চঞ্চলে কাননপথ চাহি রে।
   কুঞ্জপানে হেরিয়া,
    অশ্রুবারি ডারিয়া
ভানু গায় শূন্যকুঞ্জ শ্যামচন্দ্র নাহি রে!
আরো দেখুন
মালঞ্চ
Novels
পিঠের দিকে বালিশগুলো উঁচু-করা। নীরজা আধ-শোওয়া পড়ে আছে রোগ শয্যায়। পায়ের উপরে সাদা রেশমের চাদর টানা, যেন তৃতীয়ার ফিকে জ্যোৎস্না হালকা মেঘের তলায়। ফ্যাকাশে তার শাঁখের মতো রঙ, ঢিলে হয়ে পড়েছে চুড়ি, রোগা হাতে নীল শিরার রেখা, ঘনপক্ষ্ণ চোখের পল্লবে লেগেছে রোগের কালিমা।
মেঝে সাদা মারবেলে বাঁধানো, দেয়ালে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ছবি, ঘরে পালঙ্ক, একটি টিপাই, দুটি বেতের মোড়ার আর এক কোণে কাপড় ঝোলাবার আলনা ছাড়া অন্য কোনো আসবার নেই; এক কোণে পিতলের কলসীতে রজনীগন্ধার গুচ্ছ, তারই মৃদু গন্ধ বাঁধা পড়েছে ঘরের বন্ধ হাওয়ায়।
আরো দেখুন
ইঁদুরের ভোজ
Stories
ছেলেরা বললে, ভারি অন্যায়, আমরা নতুন পণ্ডিতের কাছে কিছুতেই পড়ব না।
নতুন পণ্ডিতমশায় যিনি আসছেন তাঁর নাম কালীকুমার তর্কালঙ্কার।
আরো দেখুন
মাল্যদান
Stories
সকালবেলায় শীত-শীত ছিল। দুপুরবেলায় বাতাসটি অল্প-একটু তাতিয়া উঠিয়া দক্ষিণ দিক হইতে বহিতে আরম্ভ করিয়াছে।
যতীন যে বারান্দায় বসিয়া ছিল সেখান হইতে বাগানের এক কোণে এক দিকে একটি কাঁঠাল ও আর-এক দিকে একটি শিরীষগাছের মাঝখানের ফাঁক দিয়া বাহিরের মাঠ চোখে পড়ে। সেই শূন্য মাঠ ফাল্গুনের রৌদ্রে ধুধু করিতেছিল। তাহারই একপ্রান্ত দিয়া কাঁচা পথ চলিয়া গেছে -- সেই পথ বাহিয়া বোঝাই-খালাস গোরুর গাড়ি মন্দগমনে গ্রামের দিকে ফিরিয়া চলিয়াছে, গাড়োয়ান মাথায় গামছা ফেলিয়া অত্যন্ত বেকারভাবে গান গহিতেছে।
আরো দেখুন
73
Verses
ওদের কথায় ধাঁদা লাগে
            তোমার কথা আমি বুঝি।
তোমার আকাশ তোমার বাতাস
            এই তো সবি সোজাসুজি।
  হৃদয়-কুসুম আপনি ফোটে,
  জীবন আমার ভরে ওঠে,
  দুয়ার খুলে চেয়ে দেখি
            হাতের কাছে সকল পুঁজি।
সকাল-সাঁঝে সুর যে বাজে
            ভুবনজোড়া তোমার নাটে,
আলের জোয়ার বেয়ে তোমার
            তরী আসে আমার ঘাটে।
  শুনব কী আর বুঝব কী বা,
  এই তো দেখি রাত্রিদিবা
  ঘরেই তোমার আনাগোনা,
            পথে কী আর তোমায় খুঁজি?
আরো দেখুন
28
Verses
তুমি তবে এসো নাথ, বোসো শুভক্ষণে
দেহে মনে গাঁথা এই মহা সিংহাসনে।
মোর দু নয়নে ব্যাপ্ত এই নীলাম্বরে
কোনো শূন্য রাখিয়ো না আর-কারো তরে,
আমার সাগরে শৈলে কান্তারে কাননে,
আমার হৃদয়ে দেহে; সজনে নির্জনে।
জ্যোৎস্নাসুপ্ত নিশীথের নিস্তব্ধ প্রহরে
আনন্দে বিষাদে গাঁথা ছায়ালোক-'পরে
বোসো তুমি মাঝখানে। শান্তিরস দাও
আমার অশ্রুর জলে,শ্রীহস্ত বুলাও
সকল স্মৃতির 'পরে, প্রেয়সীর প্রেমে
মধুর মঙ্গলরূপে তুমি এসো নেমে।
সকল সংসারবন্ধে বন্ধনবিহীন
তোমার মহান মুক্তি থাক্‌ রাত্রিদিন।
আরো দেখুন
বিচারক
Verses
পন্ডিত শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন-প্রণীত চরিতমালা হইতে গৃহীত।
অ্যাকওয়ার্থ সাহেব-প্রণীত Ballads of the Marathas নামক গ্রন্থে রঘুনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র নারায়ণ রাওয়ের হত্যা সম্বন্ধে প্রচলিত মারাঠি গাথার ইংরেজি অ্যানুবাদ প্রকাশিত হইয়াছে।
পুণ্য নগরে রঘুনাথ রাও
          পেশোয়া-নৃপতি-বংশ
রাজাসনে উঠি কহিলেন বীর,
"হরণ করিব ভার পৃথিবীরড্ড
মৈসুরপতি হৈদরালির
            দর্প করিব ধ্বংস।'
দেখিতে দেখিতে পুরিয়া উঠিল
          সেনানী আশি সহস্র।
নানা দিকে দিকে নানা পথে পথে
মারাঠার যত গিরিদরি হতে
বীরগণ যেন শ্রাবণের স্রোতে
          ছুটিয়া আসে অ্যাজস্র।
উড়িল গগনে বিজয়পতাকা,
          ধ্বনিল শতেক শঙ্খ।
হুলুরব করে অ্যাঙ্গনা সবে,
মারাঠা-নগরী কাঁপিল গরবে,
রহিয়া রহিয়া প্রলয়-আরবে
          বাজে ভৈরব ডঙ্ক।
ধুলার আড়ালে ধ্বজ-অ্যারণ্যে
          লুকালো প্রভাতসূর্য।
রক্ত অ্যাশ্বে রঘুনাথ চলে,
আকাশ বধির জয়কোলাহলে--
সহসা যেন কী মন্ত্রের বলে
          থেমে গেল রণতূর্য!
সহসা কাহার চরণে ভূপতি
          জানালো পরম দৈন্য?
সমরোন্মাদে ছুটিতে ছুটিতে
সহসা নিমেষে কার ইঙ্গিতে
সিংহদুয়ার থামিল চকিতে
          আশি সহস্র সৈন্য?
ব্রাহ্মণ আসি দাঁড়ালো সমুখে
          ন্যায়াধীশ রামশাস্ত্রী।
দুই বাহু তাঁর তুলিয়া উধাও
কহিলেন ডাকি, "রঘুনাথ রাও,
নগর ছাড়িয়া কোথা চলে যাও,
          না লয়ে পাপের শাস্তি?'
নীরব হইল জয়কোলাহল,
          নীরব সমরবাদ্য।
"প্রভু, কেন আজি' কহে রঘুনাথ,
"অ্যাসময়ে পথ রুধিলে হঠাৎ!
চলেছি করিতে যবননিপাত,
          জোগাতে যমের খাদ্য।'
কহিলা শাস্ত্রী, "বধিয়াছ তুমি
          আপন ভ্রাতার পুত্রে।
বিচার তাহার না হয় য'দিন
ততকাল তুমি নহ তো স্বাধীন,
বন্দী রয়েছ অ্যামোঘ কঠিন
          ন্যায়ের বিধানসূত্রে।'
রুষিয়া উঠিলা রঘুনাথ রাও,
          কহিলা করিয়া হাস্য,
"নৃপতি কাহারো বাঁধন না মানে--
চলেছি দীপ্ত মুক্ত কৃপাণে,
শুনিতে আসি নি পথমাঝখানে
          ন্যায়বিধানের ভাষ্য।'
কহিলা শাস্ত্রী, "রঘুনাথ রাও,
          যাও করো গিয়ে যুদ্ধ!
আমিও দণ্ড ছাড়িনু এবার,
ফিরিয়া চলিনু গ্রামে আপনার,
বিচারশালার খেলাঘরে আর
          না রহিব অ্যাবরুদ্ধ।'
বাজিল শঙ্খ, বাজিল ডঙ্ক,
          সেনানী ধাইল ক্ষিপ্র।
ছাড়ি দিয়া গেলা গৌরবপদ,
দূরে ফেলি দিলা সব সম্পদ,
গ্রামের কুটিরে চলি গেলা ফিরে
          দীন দরিদ্র বিপ্র।
আরো দেখুন
একটি চাউনি
Stories
গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে।
এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে।
আরো দেখুন