৩৩
Verses
৩৩
আকাশে উঠিল বাতাস, তবুও নোঙর রহিল পাঁকে,
অধীর তরণী খুঁজিয়া না পায় কোথায় সে মুখ ঢাকে॥
আরো দেখুন
দানপ্রতিদান
Stories
বড়োগিন্নি যে কথাগুলা বলিয়া গেলেন, তাহার ধার যেমন তাহার বিষও তেমনি। যে-হতভাগিনীর উপর প্রয়োগ করিয়া গেলেন, তাহার চিত্তপুত্তলি একেবারে জ্বলিয়া জ্বলিয়া লুটিতে লাগিল।
বিশেষত, কথাগুলা তাহার স্বামীর উপর লক্ষ্য করিয়া বলা-- এবং স্বামী রাধামুকুন্দ তখন রাত্রের আহার সমাপন করিয়া অনতিদূরে বসিয়া তাম্বুলের সহিত তাম্রকূটধূম সংযোগ করিয়া খাদ্যপরিপাকে প্রবৃত্ত ছিলেন। কথাগুলো শ্রুতিপথে প্রবেশ করিয়া তাঁহার পরিপাকের যে বিশেষ ব্যাঘাত করিল, এমন বোধ হইল না। অবিচলিত গাম্ভীর্যের সহিত তাম্রকূট নিঃশেষ করিয়া অভ্যাসমত যথাকালে শয়ন করিতে গেলেন।
আরো দেখুন
মেঘলা দিনে
Stories
রোজই থাকে সমস্তদিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সেদিনকার কাজে, সেদিনকার আলাপে সেদিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।
আজ সকালবেলা মেঘের স্তবকে স্তবকে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে, ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত শেষ করে দেওয়া যায় না।
আরো দেখুন
ব্যবধান
Stories
সম্পর্ক মিলাইয়া দেখিতে গেলে বনমালী এবং হিমাংশুমালী উভয়ে মামাতো পিসতুতো ভাই; সেও অনেক হিসাব করিয়া দেখিলে তবে মেলে। কিন্তু ইহাদের দুই পরিবার বহুকাল হইতে প্রতিবেশী, মাঝে কেবল একটা বাগানের ব্যবধান, এইজন্য ইহাদের সম্পর্ক নিতান্ত নিকট না হইলেও ঘনিষ্ঠতার অভাব নাই।
বনমালী হিমাংশুর চেয়ে অনেক বড়ো। হিমাংশুর যখন দন্ত এবং বাক্যস্ফূর্তি হয় নাই, তখন বনমালী তাহাকে কোলে করিয়া এই বাগানে সকালে সন্ধ্যায় হাওয়া খাওয়াইয়াছে, খেলা করিয়াছে, কান্না থামাইয়াছে, ঘুম পাড়াইয়াছে এবং শিশুর মনোরঞ্জন করিবার জন্য পরিণতবুদ্ধি বয়স্ক লোকদিগকে সবেগে শিরশ্চালন, তারস্বরে প্রলাপভাষণ প্রভৃতি যে-সকল বয়সানুচিত চাপল্য এবং উৎকট উদ্যম প্রকাশ করিতে হয়, বনমালী তাহাও করিতে ত্রুটি করে নাই।
আরো দেখুন
ফেল
Stories
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না।
নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য।
আরো দেখুন
কাবুলিওয়ালা
Stories
আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেকসময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা পারি না। মিনি চুপ করিয়া থাকিলে এমনি অস্বাভাবিক দেখিতে হয় যে, সে আমার বেশিক্ষণ সহ্য হয় না। এইজন্য আমার সঙ্গে তাহার কথোপকথনটা কিছু উৎসাহের সহিত চলে।
সকালবেলায় আমার নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে হাত দিয়াছি এমনসময় মিনি আসিয়াই আরম্ভ করিয়া দিল, 'বাবা, রামদয়াল দরোয়ান কাককে কৌয়া বলছিল, সে কিচ্ছু জানে না। না?'
আরো দেখুন
দশ
Verses
এই দেহখানা বহন করে আসছে দীর্ঘকাল
            বহু ক্ষুদ্র মহূর্তের রাগদ্বেষ ভয়ভাবনা
                  কামনার আবর্জনারাশি ।
            এর আবিল আবরণে বারে বারে ঢাকা পড়ে
                                    আত্মার মুক্তরূপ ।
এ সত্যের মুখোশ প'রে সত্যকে আড়ালে রাখে;
          মৃত্যুর কাদামাটিতেই গড়ে আপনার পুতুল,
    তবু তার মধ্যে  মৃত্যুর আভাস পেলেই
                 নালিশ করে আর্তকন্ঠে ।
     খেলা করে নিজেকে ভোলাতে,
                 কেবলই ভুলতে চায় যে সেটা খেলা ।
প্রাণপণ সঞ্চয়ে রচনা করে মরণের অর্ঘ্য;
            স্তুতিনিন্দার বাষ্পবুদবুদে ফেনিল হয়ে
                       পাক খায় ওর হাসিকান্নার আবর্ত ।
বক্ষ ভেদ ক'রে ও হাউইয়ের আগুন দেয় ছুটিয়ে,
             শূন্যের কাছ থেকে ফিরে পায় ছাই ---
                    দিনে দিনে তাই করে স্তূপাকার ।
প্রতিদিন যে প্রভাতে পৃথিবী
     প্রথম সৃষ্টির অক্লান্ত নির্মল দেববেশে দেয় দেখা,
   আমি তার উন্মীলিত আলোকের অনুসরণ করে
          অন্বেষণ করি আপন অন্তরলোক ।
অসংখ্য দণ্ড পল নিমেষের জটিল মলিন জালে বিজড়িত
            দেহটাকে সরিয়ে ফেলি মনের থেকে
     যেখানে সরে যায় অন্ধকার রাতের
            নানা ব্যর্থ ভাবনার অত্যুক্তি,
যায় বিস্মৃত দিনের অনবধানে পুঞ্জিত লেখন যত -
             সেই-সব নিমন্ত্রণলিপি নীরব যার আহ্বান,
                     নিঃশেষিত যার প্রত্যুত্তর।
তখন মনে পড়ে, সবিতা,
          তোমার কাছে ঋষিকবির প্রার্থনামন্ত্র,
   যে মন্ত্রে বলেছিলেন,হে পূষণ,
      তোমার হিরন্ময় পাত্রে সত্যের মুখ আচ্ছন্ন,
             উন্মুক্ত করো সেই আবরণ ।
          আমিও প্রতিদিন উদয়দিগ্‌বলয় থেকে বিচ্ছুরিত রশ্মিচ্ছটায়
                             প্রসারিত করে দিই আমার জাগরণ;
                    বলি, হে সবিতা,
                        সরিয়ে দাও  আমার এই দেহ,এই আচ্ছাদন --
                     তোমার তেজোময় অঙ্গের সূক্ষ্ণ  অগ্নিকণায়
                             রচিত যে-আমার দেহের অণুপরমাণু,
তারও অলক্ষ্য  অন্তরে আছে তোমার কল্যাণতম রূপ,
                    তাই প্রকাশিত  হোক আমার নিরাবিল দৃষ্টিতে ।
আমার অন্তরতম সত্য
                    আদি যুগে অব্যক্ত পৃথিবীর সঙ্গে
                             তোমার বিরাটে ছিল বিলীন,
                                সেই সত্য তোমারই ।
তোমার জ্যোতির স্তিমিত কেন্দ্রে মানুষ
                    আপনার মহৎস্বরূপকে দেখেছে কালে কালে,
                             কখনো নীল-মহানদীর তীরে,
                                কখনো পারস্যসাগরের কূলে,
                          কখনো হিমাদ্রিগিরিতটে --
বলেছে "জেনেছি আমরা অমৃতের পুত্র',
            বলেছে "দেখেছি অন্ধকারের পার হতে
                       আদিত্যবর্ণ মহান পুরুষের আবির্ভাব' ।
আরো দেখুন
10
Verses
আমার এ জন্মদিন-মাঝে আমি হারা
আমি চাহি বন্ধুজন যারা
তাহাদের হাতের পরশে
মর্ত্যের অন্তিম প্রীতিরসে
নিয়ে যাব জীবনের চরম প্রসাদ,
নিয়ে যাব মানুষের শেষ আশীর্বাদ।
শূন্য ঝুলি আজিকে আমার;
দিয়েছি উজাড় করি
যাহা-কিছু আছিল দিবার,
প্রতিদানে যদি কিছু পাই
কিছু স্নেহ, কিছু ক্ষমা
তবে তাহা সঙ্গে নিয়ে যাই
পারের খেয়ায় যাব যবে
ভাষাহীন শেষের উৎসবে।
আরো দেখুন
দেনাপাওনা
Stories
পাঁচ ছেলের পর যখন এক কন্যা জন্মিল তখন বাপমায়ে অনেক আদর করিয়া তাহার নাম রাখিল নিরুপমা। এ গোষ্ঠীতে এমন শৌখিন নাম ইতিপূর্বে কখনো শোনা যায় নাই। প্রায় ঠাকুরদেবতার নামই প্রচলিত ছিল-- গণেশ, কার্তিক, পার্বতী, তাহার উদাহরণ।
এখন নিরুপমার বিবাহের প্রস্তাব চলিতেছে। তাহার পিতা রামসুন্দর মিত্র অনেক খোঁজ করেন কিন্তু পাত্র কিছুতেই মনের মতন হয় না। অবশেষে মস্ত এক রায়বাহাদুরের ঘরের একমাত্র ছেলেকে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছেন। উক্ত রায়বাহাদুরের পৈতৃক বিষয়-আশয় যদিও অনেক হ্রাস হইয়া আসিয়াছে কিন্তু বনেদি ঘর বটে।
আরো দেখুন
রাজরানী
Stories
কাল তোমার ভালো লাগে নি চণ্ডীকে নিয়ে বকুনি। ও একটা ছবি মাত্র। কড়া কড়া লাইনে আঁকা, ওতে রস নাই। আজ তোমাকে কিছু বলব, সে সত্যিকার গল্প।
কুসমি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই বলো। তুমি তো সেদিন বললে, বরাবর মানুষ সত্যি খবর দিয়ে এসেছে গল্পের মধ্যে মুড়ে। একেবারে ময়রার দোকান বানিয়ে রেখেছে। সন্দেশের মধ্যে ছানাকে চেনাই যায় না।
আরো দেখুন