বাঁশি
Stories
বাঁশির বাণী চিরদিনের বাণী--শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা, প্রতি দিনের মাটির বুক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশু নেমে এল মর্ত্যের ধূলি দিয়ে স্বর্গ-স্বর্গ খেলতে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শুনি আর মন যে কেমন করে বুঝতে পারি নে। সেই ব্যথাকে চেনা সুখদুঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজ্জ্বল, চেনা চোখের জলের চেয়ে সে গভীর।
আরো দেখুন
তুমি
Verses
সূর্য যখন উড়ালো কেতন
              অন্ধকারের প্রান্তে,
তুমি আমি তার রথের চাকার
             ধ্বনি পেয়েছিনু জানতে।
সেই ধ্বনি ধায় বকুলশাখায়
প্রভাতবায়ুর ব্যাকুল পাখায়,
সুপ্ত কুলায়ে জাগায়ে সে যায়
                 আকাশপথের পান্থে।
                 অরুণরথের সে-ধ্বনি পথের
                     মন্ত্র শুনায়ে দিলে
তাই পায়ে-পায় দোঁহার চলায়
             ছন্দ গিয়েছে মিলে।
তিমিরভেদন আলোর বেদন
             লাগিল বনের বক্ষে,
নবজাগরণ পরশরতন
              আকাশে এল অলক্ষ্যে।
কিশলয়দল হল চঞ্চল,
শিশিরে শিহরি করে ঝলমল,
সুরলক্ষ্মীর স্বর্ণকমল
             দুলে বিশ্বের চক্ষে।
রক্তরঙের উঠে কোলাহল
               পলাশকুঞ্জময়,
তুমি আমি দোঁহে কণ্ঠ মিলায়ে
             গাহিনু আলোর জয়।
সংগীতে ভরি এ প্রাণের তরী
             অসীমে ভাসিল রঙ্গে,
চিনি নাহি চিনি চিরসঙ্গিনী
             চলিলে আমার সঙ্গে।
চক্ষে তোমার উদিত রবির
বন্দনবাণী নীরব গভীর,
                     অস্তাচলের করুণ কবির
             ছন্দ বসনভঙ্গে।
উষারুণ হতে রাঙা গোধূলির
             দূরদিগন্তপানে
বিভাসের গান হল অবসান
             বিধুর পূরবীতানে।
আমার নয়নে তব অঞ্জনে
              ফুটেছে বিশ্বচিত্র,
তোমার মন্ত্রে এ বীণাতন্ত্রে
              উদগাথা সুপবিত্র।
অতল তোমার চিত্তগহন,
মোর দিনগুলি সফেন নাচন,
তুমি সনাতনী আমিই নূতন,
                অনিত্য আমি নিত্য।
মোর ফাল্গুন হারায় যখন
                আশ্বিনে ফিরে লহ।
তব অপরূপে মোর নবরূপ
                দুলাইছ অহরহ।
আসিছে রাত্রি স্বপনযাত্রী,
             বনবাণী হল শান্ত।
জলভরা ঘটে চলে নদীতটে
               বধূর চরণ ক্লান্ত।
নিখিলে ঘনালো দিবসের শোক,
বাহির-আকাশে ঘুচিল আলোক,
উজ্জ্বল করি অন্তরলোক
               হৃদয়ে এলে একান্ত।
লুকানো আলোয় তব কালো চোখ
               সন্ধ্যাতারার দেশে
ইঙ্গিত তার গোপনে পাঠালো
             জানি না কী উদ্দেশে।
দেখেছি তোমার আঁখি সুকুমার
               নবজাগরিত বিশ্বে।
দেখিনু হিরণ হাসির কিরণ
               প্রভাতোজ্জ্বল দৃশ্যে।
হয়ে আসে যবে যাত্রাবসান
বিমল আঁধারে ধুয়ে দিলে প্রাণ,
দেখিনু মেলেছ তোমার নয়ান
               অসীম দূর ভবিষ্যে।
        অজানা তারায় বাজে তব গান
              হারায় গগনতলে।
বক্ষ আমার কাঁপে দুরু দুরু,
               চক্ষু ভাসিল জলে।
        প্রেমের দিয়ালি দিয়েছিল জ্বালি
             তোমারি দীপের দীপ্তি
মোর সংগীতে তুমিই সঁপিতে
             তোমার নীরব তৃপ্তি।
               আমারে লুকায়ে তুমি দিতে আনি
আমার ভাষায় সুগভীর বাণী,
চিত্রলিখায় জানি আমি জানি
              তব আলিপনলিপ্তি।
        হৃৎশতদলে তুমি বীণাপাণি
              সুরের আসন পাতি
দিনের প্রহর করেছ মুখর,
              এখন এল যে রাতি।
চেনা মুখখানি আর নাহি জানি,
              আঁধারে হতেছে গুপ্ত।
তব বাণীরূপ কেন আজি চুপ,
              কোথায় সে হায় সুপ্ত।
        অবগুণ্ঠিত তব চারি ধার,
মহামৌনের নাহি পাই পার,
হাসিকান্নার ছন্দ তোমার
গহনে হল যে লুপ্ত।
           শুধু ঝিল্লির ঘন ঝংকার
             নীরবের বুকে বাজে।
  কাছে আছ তবু গিয়েছ হারায়ে
             দিশাহারা নিশামাঝে।
  এ জীবনময় তব পরিচয়
             এখানে কি হবে শূন্য।
  তুমি যে বীণার বেঁধেছিলে তার
             এখনি কি হবে ক্ষুণ্ন।
  যে পথে আমার ছিলে তুমি সাথী
         সে পথে তোমার নিবায়ো না বাতি,
  আরতির দীপে আমার এ রাতি
            এখনো করিয়ো পুণ্য।
  আজো জ্বলে তব নয়নের ভাতি
            আমার নয়নময়,
  মরণসভায় তোমায় আমায়
            গাব আলোকের জয়।
আরো দেখুন
তারাপ্রসন্নের কীর্তি
Stories
লেখকজাতির প্রকৃতি অনুসারে তারাপ্রসন্ন কিছু লাজুক এবং মুখচোরা ছিলেন। লোকের কাছে বাহির হইতে গেলে তাঁহার সর্বনাশ উপস্থিত হইত। ঘরে বসিয়া কলম চালাইয়া তাঁহার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, পিঠ একটু কুঁজা, সংসারের অভিজ্ঞতা অতি অল্প। লৌকিকতার বাঁধি বোলসকল সহজে তাঁহার মুখে আসিত না, এইজন্য গৃহদুর্গের বাহিরে তিনি আপনাকে কিছুতেই নিরাপদ মনে করিতেন না।
লোকেও তাঁহাকে একটা উজবুক রকমের মনে করিত এবং লোকেরও দোষ দেওয়া যায় না। মনে করো, প্রথম পরিচয়ে একটি পরম ভদ্রলোক উচ্ছ্বসিত কন্ঠে তারাপ্রসন্নকে বলিলেন, "মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হয়ে যে কী পর্যন্ত আনন্দ লাভ করা গেল, তা একমুখে বলতে পারি নে"-- তারাপ্রসন্ন নিরুত্তর হইয়া নিজের দক্ষিণ করতল বিশেষ মনোযোগপূর্বক নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। হঠাৎ সে নীরবতার অর্থ এইরূপ মনে হয়, "তা, তোমার আনন্দ হয়েছে সেটা খুব সম্ভব বটে, কিন্তু আমার-যে আনন্দ হয়েছে এমন মিথ্যা কথাটা কী করে মুখে উচ্চারণ করব তাই ভাবছি।"
আরো দেখুন
দেবতার বিদায়
Verses
দেবতামন্দিরমাঝে ভকত প্রবীণ
জপিতেছে জপমালা বসি নিশিদিন।
হেনকালে সন্ধ্যাবেলা ধুলিমাখা দেহে
বস্ত্রহীন জীর্ণ দীন পশিল সে গেহে।
কহিল কাতরকণ্ঠে "গৃহ মোর নাই
এক পাশে দয়া করে দেহো মোরে ঠাঁই।"
সসংকোচে ভক্তবর কহিলেন তারে,
"আরে আরে অপবিত্র, দূর হয়ে যারে।"
সে কহিল, "চলিলাম"--চক্ষের নিমেষে
ভিখারি ধরিল মূর্তি দেবতার বেশে।
ভক্ত কহে, "প্রভু, মোরে কী ছল ছলিলে!"
দেবতা কহিল, "মোরে দূর করি দিলে।
জগতে দরিদ্ররূপে ফিরি দয়াতরে,
গৃহহীনে গৃহ দিলে আমি থাকি ঘরে।"
আরো দেখুন
উৎসর্গ
Stories
শেষ পারানির খেয়ায় তুমি
    দিনশেষের নেয়ে
আরো দেখুন
শাস্তি
Stories
দুখিরাম রুই এবং ছিদাম রুই দুই ভাই সকালে যখন দা হাতে লইয়া জন খাটিতে বাহির হইল তখন তাহাদের দুই স্ত্রীর মধ্যে বকাবকি চেঁচামেচি চলিতেছে। কিন্তু প্রকৃতির অন্যান্য নানাবিধ নিত্য কলরবের ন্যায় এই কলহ-কোলাহলও পাড়াসুদ্ধ লোকের অভ্যাস হইয়া গেছে। তীব্র কণ্ঠস্বর শুনিবামাত্র লোকে পরস্পরকে বলে--'ওই রে বাধিয়া গিয়াছে,' অর্থাৎ যেমনটি আশা করা যায় ঠিক তেমনিটি ঘটিয়াছে, আজও স্বভাবের নিয়মের কোনোরূপ ব্যত্যয় হয় নাই। প্রভাতে পূর্বদিকে সূর্য উঠিলে যেমন কেহ তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করে না, তেমনি এই কুরিদের বাড়িতে দুই জায়ের মধ্যে যখন একটা হৈ-হৈ পড়িয়া যায় তখন তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করে না, তেমনি এই কুরিদের বাড়িতে দুই জায়ের মধ্যে যখন একটা হৈ-হৈ পড়িয়া যায় তখন তাহার কারণ নির্ণয়ের জন্য কাহারও কোনোরূপ কৌতূহলের উদ্রেক হয় না।
অবশ্য এই কোন্দল আন্দোলন প্রতিবেশীদের অপেক্ষা দুই স্বামীকে বেশি স্পর্শ করিত সন্দেহ নাই, কিন্তু সেটা তাহারা কোনোরূপ অসুবিধার মধ্যে গণ্য করিত না। তাহারা দুই ভাই যেন দীর্ঘ সংসারপথ একটা এক্কাগাড়িতে করিয়া চলিয়াছে, দুই দিকের দুই স্প্রিংবিহীন চাকার অবিশ্রাম ছড়ছড় খড়খড় শব্দটাকে জীবনরথযাত্রার একটা বিধিবিহিত নিয়মের মধ্যেই ধরিয়া লইয়াছে।
আরো দেখুন
29
Verses
MY HEART beats her waves at the shore of the world and writes upon it her signature in tears with the words, I love thee.
আরো দেখুন
সম্পত্তি-সমর্পণ
Stories
বৃন্দাবন কুণ্ড মহা ক্রুদ্ধ হইয়া আসিয়া তাহার বাপকে কহিল, "আমি এখনই চলিলাম।"
বাপ যজ্ঞনাথ কুণ্ড কহিলেন, "বেটা অকৃতজ্ঞ, ছেলেবেলা হইতে তোকে খাওয়াইতে পরাইতে যে ব্যয় হইয়াছে তাহার পরিশোধ করিবার নাম নাই, আবার তেজ দেখোনা।"
আরো দেখুন
অগ্নিবীণা বাজাও তুমি
Songs
                   অগ্নিবীণা বাজাও তুমি কেমন ক'রে!
          আকাশ কাঁপে তারার আলোর গানের ঘোরে ॥
তেমনি ক'রে আপন হাতে   ছুঁলে আমার বেদনাতে,
          নূতন সৃষ্টি জাগল বুঝি জীবন-'পরে ॥
     বাজে ব'লেই বাজাও তুমি সেই গরবে,
          ওগো প্রভু, আমার প্রাণে সকল সবে।
বিষম তোমার বহ্নিঘাতে   বারে বারে আমার রাতে
          জ্বালিয়ে দিলে নূতন তারা ব্যথায় ভ'রে ॥
আরো দেখুন
প্রতিহিংসা
Stories
মুকুন্দবাবুদের ভূতপূর্ব দেওয়ানের পৌত্রী, বর্তমান ম্যানেজারের স্ত্রী ইন্দ্রাণী অশুভক্ষণে বাবুদের বাড়িতে তাঁহাদের দৌহিত্রের বিবাহে বউভাতের নিমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন।
তৎপূর্বকার ইতিহাস সংক্ষেপে বলিয়া রাখিলে কথাটা পরিষ্কার হইবে।
আরো দেখুন