সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
মধ্যবর্তিনী
Stories
নিবারণের সংসার নিতান্তই সচরাচর রকমের, তাহাতে কাব্যরসের কোনো নামগন্ধ ছিল না। জীবনে উক্ত রসের যে কোনো আবশ্যক আছে, এমন কথা তাহার মনে কখনো উদয় হয় নাই। যেমন পরিচিত পুরাতন চটি-জোড়াটার মধ্যে পা দুটো দিব্য নিশ্চিন্তভাবে প্রবেশ করে, এই পুরাতন পৃথিবীটার মধ্যে নিবারণ সেইরূপ আপনার চিরাভ্যস্ত স্থানটি অধিকার করিয়া থাকে, সে সম্বন্ধে ভ্রমেও কোনোরূপ চিন্তা তর্ক বা তত্ত্বালোচনা করে না।
নিবারণ প্রাতঃকালে উঠিয়া গলির ধারে গৃহদ্বারে খোলাগায়ে বসিয়া অত্যন্ত নিরুদ্বিগ্নভাবে হুঁকাটি লইয়া তামাক খাইতে থাকে। পথ দিয়া লোকজন যাতায়াত করে, গাড়ি ঘোড়া চলে, বৈষ্ণব-ভিখারি গান গাহে, পুরাতন বোতল সংগ্রহকারী হাঁকিয়া চলিয়া যায়; এই সমস্ত চঞ্চল দৃশ্য মনকে লঘুভাবে ব্যাপৃত রাখে এবং যেদিন কাঁচা আম অথবা তপসি-মাছওয়ালা আসে, সেদিন অনেক দরদাম করিয়া কিঞ্চিৎ বিশেষরূপে রন্ধনের আয়োজন হয়। তাহার পর যথাসময়ে তেল মাখিয়া স্নান করিয়া আহারান্তে দড়িতে ঝুলানো চাপকানটি পরিয়া এক ছিলিম তামাক পানের সহিত নিঃশেষপূর্বক আর একটি পান মুখে পুরিয়া, আপিসে যাত্রা করে। আপিস হইতে ফিরিয়া আসিয়া সন্ধ্যেবেলাটা প্রতিবেশী রামলোচন ঘোষের বাড়িতে প্রশান্ত গম্ভীর ভাবে সন্ধ্যাযাপন করিয়া আহারান্তে রাত্রে শয়নগৃহে স্ত্রী হরসুন্দরীর সহিত সাক্ষাৎ হয়।
আরো দেখুন
চোখের বালি
Novels
বিনোদিনীর মাতা হরিমতি মহেন্দ্রের মাতা রাজলক্ষ্মীর কাছে আসিয়া ধন্না দিয়া পড়িল। দুইজনেই এক গ্রামের মেয়ে, বাল্যকালে একত্রে খেলা করিয়াছেন।
রাজলক্ষ্মী মহেন্দ্রকে ধরিয়া পড়িলেন, "বাবা মহিন, গরিবের মেয়েটিকে উদ্ধার করিতে হইবে। শুনিয়াছি মেয়েটি বড়ো সুন্দরী, আবার মেমের কাছে পড়াশুনাও করিয়াছে-- তোদের আজকালকার পছন্দর সঙ্গে মিলিবে।"
"চরণতরণী দে মা, তারিণী তারা।'
আরো দেখুন
দুর্বুদ্ধি
Stories
ভিটা ছাড়িতে হইল। কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না, আভাস দিব মাত্র।
আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার, পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি। যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত অপেক্ষা কম ছিল না, সুতরাং নর ও নারায়ণের দ্বারা মানুষের যত বিবিধ রকমের পীড়া ঘটিতে পারে তাহা আমার সুগোচর ছিল। যেমন মণির দ্বারা বলয়ের এবং বলয়ের দ্বারা মণির শোভা বৃদ্ধি হয় তেমনি আমার মধ্যস্থতায় দারোগার এবং দারোগার মধ্যস্থতায় আমার উত্তরোত্তর আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটিতেছিল।
আরো দেখুন
পরিশিষ্ট
Stories
(ছোটো গল্প)
সাহিত্যে বড়ো গল্প ব'লে যে-সব প্রগল্‌ভ বাণীবাহন দেখা যায় তারা প্রাক্‌ভূতাত্ত্বিক যুগের প্রাণীদের মতো-- তাদের প্রাণের পরিমাণ যত দেহের পরিমাণ তার চার গুণ, তাদের লেজটা কলেবরের অত্যুক্তি।
আরো দেখুন
১৪
Verses
১৪
দেবমন্দির-আঙিনাতলে শিশুরা করেছে মেলা।
দেবতা ভোলেন পূজারি-দলে,দেখেন শিশুর খেলা॥
আরো দেখুন
কবি
Verses
আমি যে বেশ সুখে আছি
            অন্তত নই দুঃখে কৃশ,
সে কথাটা পদ্যে লিখতে
            লাগে একটু বিসদৃশ।
সেই কারণে গভীর ভাবে
            খুঁজে খুঁজে গভীর চিতে
বেরিয়ে পড়ে গভীর ব্যথা
            স্মৃতি কিম্বা বিস্মৃতিতে।
কিন্তু সেটা এত সুদূর
            এতই সেটা অধিক গভীর
আছে কি না আছে তাহার
            প্রমাণ দিতে হয় না কবির।
মুখের হাসি থাকে মুখে,
            দেহের পুষ্টি পোষে দেহ,
প্রাণের ব্যথা কোথায় থাকে
             জানে না সেই খবর কেহ।
                        কাব্য প'ড়ে যেমন ভাব
                                    কবি তেমন নয় গো।
                        আঁধার ক'রে রাখে নি মুখ,
                        দিবারাত্র ভাঙছে না বুক,
                        গভীর দুঃখ ইত্যাদি সব
                                    হাস্যমুখেই বয় গো।
ভালোবাসে ভদ্রসভায়
            ভদ্র পোশাক পরতে অঙ্গে,
ভালোবাসে ফুল্ল মুখে
            কইতে কথা লোকের সঙ্গে।
বন্ধু যখন ঠাট্টা করে
            মরে না সে অর্থ খুঁজে,
ঠিক যে কোথায় হাসতে হবে
            একেক সময় দিব্যি বুঝে।
সামনে যখন অন্ন থাকে
            থাকে না সে অন্যমনে,
সন্গীদলের সাড়া পেলে
            রয় না বসে ঘরের কোণে।
বন্ধুরা কয় "লোকটা রসিক',
            কয় কি তারা মিথ্যামিথ্যি?
শত্রুরা কয় "লোকটা হাল্কা',
            কিছু কি তার নাইকো ভিত্তি?
                        কাব্য দেখে যেমন ভাব
                               কবি তেমন নয় গো।
                        চাঁদের পানে চক্ষু তুলে
                        রয় না পড়ে নদীর কূলে,
                          গভীর দুঃখ ইত্যাদি সব
                                   মনের সুখেই বয় গো।
সুখে আছি লিখতে গেলে
            লোকে বলে,"প্রাণটা ক্ষুদ্র!
আশাটা এর নয়কো বিরাট,
            পিপাসা এর নয়কো রুদ্র।'
পাঠকদলে তুচ্ছ করে,
            অনেক কথা বলে কঠোর--
বলে,"একটু হেসে-খেলেই
            ভরে যায় এর মনের জঠর।'
কবিরে তাই ছন্দে বন্ধে
            বানাতে হয় দুখের দলিল।
মিথ্যা যদি হয় সে তবু
            ফেলো পাঠক চোখের সলিল।
তাহার পরে আশিস কোরো
            রুদ্ধকণ্ঠে ক্ষুব্ধবুকে,
কবি যেন আজন্মকাল
           দুখের কাব্য লেখেন সুখে।
                    কাব্য যেমন কবি যেন
                           তেমন নাহি হয় গো।
                    বুদ্ধি যেন একটু থাকে,
                    স্নানাহারের নিয়ম রাখে,
                    সহজ লোকের মতোই যেন
                             সরল গদ্য কয় গো।
আরো দেখুন
স্বল্পশেষ
Verses
অধিক কিছু নেই গো কিছু নেই,
            কিছু নেই--
যা আছে তা এই গো শুধু এই,
            শুধু এই।
যা ছিল তা শেষ করেছি
            একটি বসন্তেই।
আজ যা কিছু বাকি আছে
            সামান্য এই দান--
তাই নিয়ে কি রচি দিব
            একটি ছোটো গান?
একটি ছোটো মালা তোমার
            হাতের হবে বালা।
একটি ছোটো ফুল তোমার
            কানের হবে দুল।
একটি তরুলতায় ব'সে
           একটি ছোটো খেলায়
হারিয়ে দিয়ে যাবে মোরে
            একটি সন্ধেবেলায়।
অধিক কিছু নেই গো কিছু নেই,
            কিছু নেই।
যা আছে তা এই গো শুধু এই,
            শুধু এই।
ঘাটে আমি একলা বসে রই,
            ওগো আয়!
বর্ষানদী পার হবি কি ওই--
            হায় গো হায়!
অকূল-মাঝে ভাসবি কে গো
            ভেলার ভরসায়।
আমার তরীখান
            সইবে না তুফান;
তবু যদি লীলাভরে
            চরণ কর দান,
শান্ত তীরে তীরে তোমায়
            বাইব ধীরে ধীরে।
একটি কুমুদ তুলে তোমার
            পরিয়ে দেব চুলে।
ভেসে ভেসে শুনবে বসে
            কত কোকিল ডাকে
কূলে কূলে কুঞ্জবনে
            নীপের শাখে শাখে।
ক্ষুদ্র আমার তরীখানি--
            সত্য করি কই,
                  হায় গো পথিক, হায়,
তোমায় নিয়ে একলা নায়ে
            পার হব না ওই
                   আকুল যমুনায়।
আরো দেখুন
জীবনে আজ কি
Songs
জীবনে আজ কি প্রথম এল বসন্ত।
নবীনবাসনাভরে হৃদয় কেমন করে,
    নবীন জীবনে হল জীবন্ত।
        সুখভরা এ ধরায়     মন বাহিরিতে চায়,
            কাহারে বসাতে চায় হৃদয়ে।
        তাহারে খুঁজিব দিকদিগন্ত॥
    যেমন দখিনে বায়ু ছুটেছে,    না জানি কোথায় ফুল ফুটেছে,
    তেমনি আমিও, সখী যাব--  না জানি কোথায় দেখা পাব।
        কার সুধাস্বর-মাঝে,    জগতের গীত বাজে,
            প্রভাত জাগিছে কার নয়নে,
                কাহারে প্রাণের প্রেম অনন্ত
                তাহারে খুঁজিব দিকদিগন্ত॥
আরো দেখুন
নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
কথিকা
Stories
এবার মনে হল, মানুষ অন্যায়ের আগুনে আপনার সমস্ত ভাবী কালটাকে পুড়িয়ে কালো করে দিয়েছে, সেখানে বসন্ত কোনোদিন এসে আর নতুন পাতা ধরাতে পারবে না।
মানুষ অনেক দিন থেকে একখানি আসন তৈরি করছে। সেই আসনই তাকে খবর দেয় যে, তার দেবতা আসবেন, তিনি পথে বেরিয়েছেন।
আরো দেখুন
গিন্নি
Stories
ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।
প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইত।
আরো দেখুন
বিদায় করেছ যারে
Songs
বিদায় করেছ যারে নয়ন-জলে,
এখন ফিরাবে তারে কিসের ছলে    গো॥
আজি মধু সমীরণে    নিশীথে কুসুমবনে
তারে কি পড়েছে মনে    বকুলতলে॥
সে দিনও তো মধুনিশি    প্রাণে গিয়েছিল মিশি,
মুকুলিত দশ দিশি    কুসুমদলে।
দুটি সোহাগের বাণী    যদি হত কানাকানি
যদি ঐ মালাখানি    পরাতে গলে।
এখন ফিরাবে তারে কিসের ছলে    গো
মধুনিশি পূর্ণিমার    ফিরে আসে বার বার,
সে জন ফেরে না আর    যে গেছে চলে
ছিল তিথি অনকূল,    শুধু নিমেষের ভুল--
চিরদিন তৃষাকুল    পরান জ্বলে।
এখন ফিরাবে তারে কিসের ছলে    গো। ।
আরো দেখুন