হেরি তব বিমলমুখভাতি
Songs
হেরি তব বিমলমুখভাতি   দূর হল গহন দুখরাতি।
ফুটিল মন প্রাণ মম তব চরণলালসে,   দিনু হৃদয়কমলদল পাতি ॥
তব নয়নজ্যোতিকণা লাগি   তরুণ রবিকিরণ উঠে জাগি।
নয়ন খুলি বিশ্বজন বদন তুলি চাহিল   তব দরশপরশসুখ মাগি।
          গগনতল মগন হল শুভ্র তব হাসিতে,
উঠিল ফুটি কত কুসুমপাঁতি-- হেরি তব বিমলমুখভাতি ॥
ধ্বনিত বন বিহগকলতানে,   গীত সব ধায় তব পানে।
পূর্বগগনে জগত জাগি উঠি গাহিল,   পূর্ণ সব তব রচিত গানে।
              প্রেমরস পান করি গান করি কাননে
উঠিল মন প্রাণ মম মাতি-- হেরি তব বিমলমুখভাতি ॥
আরো দেখুন
যে ফুল ঝরে
Songs
যে ফুল ঝরে সেই তো ঝরে, ফুল তো থাকে ফুটিতে--
বাতাস তারে উড়িয়ে নে যায়, মাটি মেশায় মাটিতে॥
     গন্ধ দিলে, হাসি দিলে, ফুরিয়ে গেল খেলা।
     ভালোবাসা দিয়ে গেল, তাই কি হেলাফেলা ॥
আরো দেখুন
মেঘ ও রৌদ্র
Stories
পূর্বদিনে বৃষ্টি হইয়া গিয়াছে। আজ ক্ষান্তবর্ষণ প্রাতঃকালে ম্লান রৌদ্র ও খণ্ড মেঘে মিলিয়া পরিপক্কপ্রায় আউশ ধানের ক্ষেত্রের উপর পর্যায়ক্রমে আপন আপন সুদীর্ঘ তুলি বুলাইয়া যাইতেছিল; সুবিস্তৃত শ্যাম চিত্রপট একবার আলোকের স্পর্শে উজ্জ্বল পাণ্ডুবর্ণ ধারণ করিতেছিল আবার পরক্ষণেই ছায়াপ্রলেপে গাঢ় স্নিগ্ধতায় অঙ্কিত হইতেছিল।
যখন সমস্ত আকাশরঙ্গভূমিতে মেঘ এবং রৌদ্র, দুইটি মাত্র অভিনেতা, আপন আপন অংশ অভিনয় করিতেছিল তখন নিম্নে সংসাররঙ্গভূমিতে কত স্থানে কত অভিনয় চলিতেছিল তাহার আর সংখ্যা নাই।
আরো দেখুন
সংযোজন - ৩
Verses
          কত দিবা কত বিভাবরী
কত নদী নদে  লক্ষ স্রোতের
          মাঝখানে এক পথ ধরি,
          কত ঘাটে ঘাটে  লাগায়ে,
          কত সারিগান  জাগায়ে,
কত অঘ্রানে  নব নব ধানে
          কতবার কত বোঝা ভরি
          কর্ণধার হে কর্ণধার,
          বেচে কিনে কত স্বর্ণভার
কোন্‌ গ্রামে আজ   সাধিতে কী কাজ
          বাঁধিয়া ধরিলে তব তরী।
          হেথা বিকিকিনি  কার হাটে।
কেন এত ত্বরা  লইয়া পসরা,
          ছুটে চলে এরা কোন্‌ বাটে।
          শুন গো থাকিয়া  থাকিয়া
          বোঝা লয়ে যায়  হাঁকিয়া,
সে করুণ স্বরে    মন কী যে করে--
          কী ভেবে আমার  দিন কাটে।
          কর্ণধার হে কর্ণধার,
          বেচে কিনে লও  স্বর্ণভার--
হেথা কারা রয়   লহো পরিচয়,
          কারা আসে যায়  এই ঘাটে।
          যেথা হতে যাই, যাই কেঁদে।
এমনটি আর  পাব কি আবার
          সরে না যে মন  সেই খেদে।
          সে-সব কাঁদন ভুলালে,
          কী দোলায় প্রাণ  দুলালে।
হোথা যারা তীরে  আনমনে ফিরে
          আমি তাহাদের মরি সেধে।
          কর্ণধার হে  কর্ণধার,
          বেচে কিনে লও  স্বর্ণভার।
এই হাটে নামি  দেখে লব আমি--
          এক বেলা তরী রাখো বেঁধে।
          গান ধর তুমি কোন্‌ সুরে।
মনে পড়ে যায়  দূর হতে এনু,
          যেতে হবে পুন কোন্‌ দূরে।
          শুনে মনে পড়ে,  দুজনে
          খেলেছি সজনে  বিজনে,
সে যে কত দেশ  নাহি তার শেষ--
          সে যে কতকাল  এনু ঘুরে।
          কর্ণধার হে  কর্ণধার,
          বেচে কিনে লও  স্বর্ণভার।
বাজিয়াছে শাঁখ,  পড়িয়াছে ডাক
          সে কোন্‌ অচেনা  রাজপুরে।
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন
মৃত্যুমাধুরী
Verses
পরান কহিছে ধীরে--হে মৃত্যু মধুর,
এই নীলাম্বর, এ কি তব অন্তঃপুর!
আজি মোর মনে হয়, এ শ্যামলা ভূমি
বিস্তীর্ণ কোমল শয্যা পাতিয়াছ তুমি।
জলে স্থলে লীলা আজি এই বরষার,
এই শান্তি, এ লাবণ্য, সকলই তোমার।
মনে হয়, যেন তব মিলন-বিহনে
অতিশয় ক্ষুদ্র আমি এ বিশ্বভুবনে।
প্রশান্ত করুণচক্ষে, প্রসন্ন অধরে,
তুমি মোরে ডাকিতেছ সর্ব চরাচরে।
প্রথমমিলনভীতি  ভেঙেছে বধূর
তোমার বিরাট মূর্তি নিরখি মধুর।
সর্বত্র বিবাহবাঁশি উঠিতেছে বাজি,
সর্বত্র তোমার ক্রোড় হেরিতেছি আজি।
আরো দেখুন
ও কি এল
Songs
     ও কি এল, ও কি এল না,   বোঝা গেল না--
     ও কি মায়া কি স্বপনছায়া,   ও কি ছলনা ॥
              ধরা কি পড়ে ও রূপেরই ডোরে,
          গানেরই তানে কি বাঁধিবে ওরে--
                   ও যে চিরবিরহেরই সাধনা ॥
ওর   বাঁশিতে করুণ কী সুর লাগে
     বিরহমিলনমিলিত রাগে।
          সুখে কি দুখে ও পাওয়া না-পাওয়া,
          হৃদয়বনে ও উদাসী হাওয়া,
                        বুঝি   শুধু ও পরমকামনা ॥
আরো দেখুন
বোষ্টমী
Stories
আমি লিখিয়া থাকি অথচ লোকরঞ্জন আমার কলমের ধর্ম নয়, এইজন্য লোকেও আমাকে সদাসর্বদা যে রঙে রঞ্জিত করিয়া থাকে তাহাতে কালির ভাগই বেশি। আমার সম্বন্ধে অনেক কথাই শুনিতে হয়; কপালক্রমে সেগুলি হিতকথা নয়, মনোয়ারী তো নহেই।
শরীরে যেখানটায় ঘা পড়িতে থাকে সে জায়গাটা যত তুচ্ছই হোক সমস্ত দেহটাকে বেদনার জোরে সেই ছাড়াইয়া যায়। সে লোক গালি খাইয়া মানুষ হয়, সে আপনার স্বভাবকে যেন ঠেলিয়া একঝোঁকা হইয়া পড়ে। আপনার চারি দিককে ছাড়াইয়া আপনাকেই কেবল তাহার মনে পড়ে-- সেটা আরামও নয়, কল্যাণও নয়। আপনাকে ভোলাটাই তো স্বস্তি।
আরো দেখুন
দিদি
Stories
পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, 'এমন স্বামীর মুখে আগুন।'
শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিলেন-- স্বামীজাতির মুখে চুরটের আগুন ছাড়া অন্য কোনো প্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না।
আরো দেখুন
পলায়নী
Verses
যে পলায়নের অসীম তরণী
          বাহিছে সূর্যতারা
সেই পলায়নে দিবসরজনী
          ছুটেছ গঙ্গাধারা।
চিরধাবমান নিখিলবিশ্ব
এ পলায়নের বিপুল দৃশ্য,
এই পলায়নে ভূত ভবিষ্য
          দীক্ষিছে ধরণীরে।
জলের ছায়া সে দ্রুততালে বয়,
কঠিন ছায়া সে ওই লোকালয়,
একই প্রলয়ের বিভিন্ন লয়
          স্থিরে আর অস্থিরে।
সৃষ্টি যখন আছিল নবীন
          নবীনতা নিয়ে এলে,
ছেলেমানুষির স্রোতে নিশিদিন
          চল অকারণ খেলে।
লীলাছলে তুমি চিরপথহারা,
বন্ধনহীন নৃত্যের ধারা,
তোমার কুলেতে সীমা দিয়ে কারা
          বাঁধন গড়িছে মিছে।
আবাঁধা ছন্দে হেসে যাও সরি
পাথরের মুঠি শিথিলিত করি,
বাঁধাছন্দের নগরনগরী
          ধুলায় মিলায় পিছে।
অচঞ্চলের অমৃত বরিষে
          চঞ্চলতার নাচে,
বিশ্বলীলা তো দেখি কেবলি সে
          নেই নেই ক'রে আছে।
ভিত ফেঁদে যারা তুলিছে দেয়াল
তারা বিধাতার মানে না খেয়াল,
তারা বুঝিল না-- অনন্তকাল
          অচির কালেরই মেলা।
বিজয়তোরণ গাঁথে তারা যত
আপনার ভারে ভেঙে পড়ে তত,
খেলা করে কাল বালকের মতো
          লয়ে তার ভাঙা ঢেলা।
ওরে মন, তুই চিন্তার টানে
          বাঁধিস নে আপনারে,
এই বিশ্বের সুদূর ভাসানে
          অনায়াসে ভেসে যা রে।
কী গেছে তোমার কী রয়েছে আর
নাই ঠাঁই তার হিসাব রাখার,
কী ঘটিতে পারে জবাব তাহার
          নাই বা মিলিল কোনো।
ফেলিতে ফেলিতে যাহা ঠেকে হাতে
তাই পরশিয়া চলো দিনে রাতে,
যে সুর বাজিল মিলাতে মিলাতে
          তাই কান দিয়ে শোনো।
এর বেশি যদি আরো কিছু চাও
          দুঃখই তাহে মেলে।
যেটুকু পেয়েছে তাই যদি পাও
          তাই নাও, দাও ফেলে।
যুগ যুগ ধরি জেনো মহাকাল
চলার নেশায় হয়েছে মাতাল,
ডুবিছে ভাসিছে আকাশ পাতাল
          আলোক আঁধার বহি।
দাঁড়াবে না কিছু তব আহ্বানে,
ফিরিয়া কিছু না চাবে তোমা-পানে,
ভেসে যদি যাও যাবে একখানে
          সকলের সাথে রহি।
আরো দেখুন