ফেল
Stories
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না।
নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য।
আরো দেখুন
রেলেটিভিটি
Verses
      তুলনায় সমালোচনাতে
                     জিভে আর দাঁতে
      লেগে গেল বিচারের দ্বন্দ্ব,
                     কে ভালো কে মন্দ।
              বিচারক বলে হেসে,
      দাঁতজোড়া কী সর্বনেশে
                     যবে হয় দেঁতো।
      কিন্তু, সে সুধাময় লোকবিশেষে তো
                     হাসিরশ্মিতে,
      যাহারে আদরে ডাকি "অয়ি সুস্মিতে'
                     পাণিনির শুদ্ধ নিয়মে।
      জিহ্বায় রস খুব জমে,
              অথচ তাহার সংস্রবে
                     দেহখানা যবে
              আগাগোড়া উঠে জ্বলি
                     রস নয়, বিষ তারে বলি।
      স্বভাবে কঠিন কেহ, মেজাজে নরম--
              বাহিরে শীতল কেহ, ভিতরে গরম।
      প্রকাশ্যে এক রূপ যার।
                     ঘোমটায় আর।
      তুলনায় দাঁত আর জিভ
                     সবই রেলেটিভ।
              হয়তো দেখিবে, সংসারে
      দাঁতালো যা মিঠে লাগে তারে,
              আর যেটা ললিত রসালো
                     লাগে নাকো ভালো।
              সৃষ্টিতে পাগলামি এই--
                     একান্ত কিছু হেথা নেই।
      ভালো বা খারাপ লাগা
                     পদে পদে উলোটা-পালোটা--
      কভু সাদা কালো হয়,
                     কখনো বা সাদাই কালোটা,
      মন দিয়ে ভাবো যদ্যপি
                     জানিবে এ খাঁটি ফিলজফি।
আরো দেখুন
চতুরঙ্গ
Novels
আমি পাড়াগাঁ হইতে কলিকাতায় আসিয়া কালেজে প্রবেশ করিলাম। শচীশ তখন বি. এ. ক্লাসে পড়িতেছে। আমাদের বয়স প্রায় সমান হইবে।
শচীশকে দেখিলে মনে হয় যেন একটা জ্যোতিষ্ক-- তার চোখ জ্বলিতেছে; তার লম্বা সরু আঙুলগুলি যেন আগুনের শিখা; তার গায়ের রঙ যেন রঙ নহে, তাহা আভা। শচীশকে যখন দেখিলাম অমনি যেন তার অন্তরাত্মাকে দেখিতে পাইলাম; তাই একমুহূর্তে তাহাকে ভালোবাসিলাম।
আরো দেখুন
নব বসন্তের দানের
Songs
নব বসন্তের দানের ডালি
    এনেছি তোদেরই দ্বারে,
        আয় আয় আয়,
            পরিবি গলার হারে॥
লতার বাঁধন হারায়ে মাধবী মরিছে কেঁদে--
        বেণীর বাঁধনে রাখিবি বেঁধে,
            অলকদোলায় দুলাবি তারে,
        আয় আয় আয়।
বনমাধুরী করিবি চুরি    আপন নবীন মাধুরীতে--
সোহিনী রাগিণী জাগাবে সে তোদের
        দেহের বীণার তারে তারে,
        আয় আয় আয়॥
আরো দেখুন
28
Verses
TIME AFTER TIME I came to your gate with raised hands, asking for more and yet more.
You gave and gave, now in slow measure, now in sudden excess.
I took some, and some things I let drop; some lay heavy on my hands; some I made into playthings and broke them when tired; till the wrecks and the hoard of your gifts grew immense, hiding you, and the ceaseless expectation wore my heart out.
Take, oh takehas now become my cry.
Shatter all from this beggar's bowl: put out this lamp of the importunate watcher: hold my hands, raise me from the still-gathering heap of your gifts into the bare infinity of your uncrowded presence.
আরো দেখুন
দুর্বুদ্ধি
Stories
ভিটা ছাড়িতে হইল। কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না, আভাস দিব মাত্র।
আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার, পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি। যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত অপেক্ষা কম ছিল না, সুতরাং নর ও নারায়ণের দ্বারা মানুষের যত বিবিধ রকমের পীড়া ঘটিতে পারে তাহা আমার সুগোচর ছিল। যেমন মণির দ্বারা বলয়ের এবং বলয়ের দ্বারা মণির শোভা বৃদ্ধি হয় তেমনি আমার মধ্যস্থতায় দারোগার এবং দারোগার মধ্যস্থতায় আমার উত্তরোত্তর আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটিতেছিল।
আরো দেখুন
পান্নালাল
Stories
দাদামশায়, তোমার পাগলের দলের মধ্যে পান্নালাল ছিল খুব নতুন রকমের।
জান, দিদি? তোমার পাগলরা প্রত্যেকেই নতুন, কারও সঙ্গে কারও মিল হয় না। যেমন তোমার দাদামশায়। বিধাতার নতুন পরীক্ষা। ছাঁচ তিনি ভেঙে ফেলেন। সাধারণ লোকের বুদ্ধিতে মিল হয়, অসাধারণ পাগলের মিল হয় না। তোমাকে একটা উদাহরণ দেখাই--
আরো দেখুন
একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প
Stories
গল্প বলিতে হইবে। কিন্তু আর তো পারি না। এখন এই পরিশ্রান্ত অক্ষম ব্যক্তিটিকে ছুটি দিতে হইবে।
এ পদ আমাকে কে দিল বলা কঠিন। ক্রমে ক্রমে একে একে তোমরা পাঁচজন আসিয়া আমার চারিদিকে কখন জড়ো হইলে, এবং কেন যে তোমরা আমাকে এত অনুগ্রহ করিলে এবং আমার কাছে এত প্রত্যাশা করিলে, তাহা বলা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য। অবশ্যই সে তোমাদের নিজগুণে; শুভাদৃষ্টক্রমে আমার প্রতি সহসা তোমাদের অনুগ্রহ উদয় হইয়াছিল। এবং যাহাতে সে অনুগ্রহ রক্ষা হয় সাধ্যমতো সে চেষ্টার ত্রুটি হয় নাই।
আরো দেখুন
মহামায়া
Stories
মহামায়া এবং রাজীবলোচন উভয়ে নদীর ধারে একটা ভাঙা মন্দিরে সাক্ষাৎ করিল।
মহামায়া কোনো কথা না বলিয়া তাহার স্বাভাবিক গম্ভীর দৃষ্টি ঈষৎ ভর্ৎসনার ভাবে রাজীবের প্রতি নিক্ষেপ করিল। তাহার মর্ম এই, তুমি কী সাহসে আজ অসময়ে আমাকে এখানে আহ্বান করিয়া আনিয়াছ। আমি এ পর্যন্ত তোমার সকল কথা শুনিয়া আসিতেছি বলিয়াই তোমার এতদূর স্পর্ধা বাড়িয়া উঠিয়াছে?
আরো দেখুন