সদর ও অন্দর
Stories
বিপিনকিশোর ধনীগৃহে জন্মিয়াছিলেন, সেইজন্যে ধন যে পরিমাণে ব্যয় করিতে জানিতেন তাহার অর্ধেক পরিমাণেও উপার্জন করিতে শেখেন নাই। সুতরাং যে গৃহে জন্ম সে গৃহে দীর্ঘকাল বাস করা ঘটিল না।
সুন্দর সুকুমারমূর্তি তরুণ যুবক, গানবাজনায় সিদ্ধহস্ত, কাজকর্মে নিরতিশয় অপটু; সংসারের পক্ষে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। জীবনযাত্রার পক্ষে জগন্নাথদেবের রথের মতো অচল; যেরূপ বিপুল আয়োজনে চলিতে পারেন সেরূপ আয়োজন সম্প্রতি বিপিনকিশোরের আয়ত্তাতীত।
আরো দেখুন
আজি ওই আকাশ-'পরে
Songs
আজি ওই   আকাশ-'পরে সুধায় ভরে আষাঢ়-মেঘের ফাঁক।
     হৃদয়-মাঝে মধুর বাজে কী উৎসবের শাঁখ॥
একি হাসির বাঁশির তান,   একি   চোখের জলের গান--
     পাই নে দিশে কে জানি সে দিল আমায় ডাক॥
আমায়   নিরুদ্দেশের পানে   কেমন করে টানে   এমন করুণ গানে।
     ওই   পথের পারের আলো   আমার   লাগল চোখে ভালো,
          গগনপারে দেখি তারে সুদূর নির্বাক্‌॥
আরো দেখুন
হৈমন্তী
Stories
কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন,মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই তাড়া।
আমি ছিলাম বর। সুতরাং, বিবাহসম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি, এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ, কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষ ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।
আরো দেখুন
163
Verses
'THE LEARNED say that your lights will one day be no more.' said the firefly to the stars.
The stars made no answer.
আরো দেখুন
মধুসন্ধায়ী - ৩
Verses
                         মধুমৎ পার্থিবং রজঃ
শ্যামল আরণ্য মধু বহি এল ডাক-হরকরা--
আজি হতে তিরোহিতা পাণ্ডুবর্ণী বৈলাতী শর্করা
পূর্বাহ্নে পরাহ্নে মোর ভোজনের আয়োজন থেকে;
এ মধু করিব ভোগ রোটিকার স্তরে স্তরে মেখে।
যে দাক্ষিণ্য-উৎস হতে উৎসারিত এই মধুরতা
রসনার রসযোগে অন্তরে পশিবে তার কথা।
ভেবেছিনু, অকৃতার্থ হয় যদি তোমার প্রয়াস
সস্নেহ আঘাত দিবে তোমারে আমার পরিহাস;
তখন তো জানি নাই, গিরীন্দ্রের বন্য মধুকরী
তোমার সহায় হয়ে অর্ঘ্যপাত্র দিবে তব ভরি।
দেখিনু, বেদের মন্ত্র সফল হয়েছে তব প্রাণে;
তোমারে বরিল ধরা মধুময় আশীর্বাদ-দানে।
আরো দেখুন
ধ্বংস
Stories
দিদি, তোমাকে একটা হালের খবর বলি।--
প্যারিস শহরের অল্প একটু দূরে ছিল তাঁর ছোটো বাসাটি। বাড়ির কর্তার নাম পিয়ের শোপ্যাঁ। তাঁর সারা জীবনের শখ ছিল গাছপালার জোড় মিলিয়ে, রেণু মিলিয়ে, তাদের চেহারা, তাদের রঙ, তাদের স্বাদ বদল ক'রে নতুন রকমের সৃষ্টি তৈরি করতে। তাতে কম সময় লাগত না। এক-একটি ফুলের ফলের স্বভাব বদলাতে বছরের পর বছর কেটে যেত। এ কাজে যেমন ছিল তাঁর আনন্দ তেমনি ছিল তাঁর ধৈর্য। বাগান নিয়ে তিনি যেন জাদু করতেন। লাল হত নীল, সাদা হত আলতার রঙ, আঁটি যেত উড়ে, খোসা যেত খ'সে। যেটা ফলতে লাগে ছ মাস তার মেয়াদ কমে হত দু মাস। ছিলেন গরিব, ব্যবসাতে সুবিধা করতে পারতেন না। যে করত তাঁর হাতের কাজের তারিফ তাকে দামি মাল অমনি দিতেন বিলিয়ে। যার মতলব ছিল দাম ফাঁকি দিতে সে এসে বলত, কী ফুল ফুটেছে আপনার সেই গাছটাতে, চার দিক থেকে লোক আসছে দেখতে, একেবারে তাক লেগে যাচ্ছে।
আরো দেখুন
প্রেমের সোনা
Verses
রবিদাস চামার ঝাঁট দেয় ধুলো।
    সজন রাজপথ বিজন তার কাছে,
        পথিকেরা চলে তার স্পর্শ বাঁচিয়ে।
গুরু রামানন্দ প্রাতঃস্নান সেরে
           চলেছেন দেবালয়ের পথে,
দূর থেকে রবিদাস প্রণাম করল তাঁকে,
        ধুলায় ঠেকালো মাথা।
    রামানন্দ শুধালেন, "বন্ধু, কে তুমি।'
উত্তর পেলেন, "আমি শুক্‌নো ধুলো--
    প্রভু, তুমি আকাশের মেঘ,
           ঝরে যদি তোমার প্রেমের ধারা
        গান গেয়ে উঠবে বোবা ধুলো
               রঙ-বেরঙের ফুলে।'
    রামানন্দ নিলেন তাকে বুকে,
               দিলেন তাকে প্রেম।
      রবিদাসের প্রাণের কুঞ্জবনে
               লাগল যেন গীতবসন্তের হাওয়া।
চিতোরের রাণী, ঝালি তাঁর নাম।
        গান পৌঁছল কানে,
    তাঁর মন করে দিল উদাস!
        ঘরের কাজে মাঝে মাঝে
           দু চোখ দিয়ে জল পড়ে ঝ'রে।
        মান গেল তাঁর কোথায় ভেসে।
           রবিদাস চামারের কাছে
        হরিপ্রেমের দীক্ষা নিলেন রাজরানী।
           স্মৃতিশিরোমণি
               রাজকুলের বৃদ্ধ পুরোহিত
বললে, "ধিক্‌ মহারানী, ধিক্‌।
                   জাতিতে অন্ত্যজ রবিদাস,
               ফেরে পথে পথে, ঝাঁট দেয় ধুলো,
                   তাকে তুমি প্রণাম করলে গুরু ব'লে--
                       ব্রাহ্মণের হেঁট হল মাথা
                           এ রাজ্যে তোমার।'
রানী বললেন, "ঠাকুর, শোনো তবে,
        আচারের হাজার গ্রন্থি
    দিনরাত্রি বাঁধ কেবল শক্ত করে--
           প্রেমের সোনা কখন পড়ল খসে
               জানতে পার নি তা।
        আমার ধুলোমাখা গুরু
               ধুলোর থেকে কুড়িয়ে পেয়েছে।
    অর্থহারা বাঁধনগুলোর গর্বে, ঠাকুর,
               থাকো তুমি কঠিন হয়ে।
    আমি সোনার কাঙালিনী
               ধুলোর সে দান নিলেম মাথায় করে।'
আরো দেখুন