226
Verses
শূন্য ঝুলি নিয়ে হায়
      ভিক্ষু মিছে ফেরে,
আপনারে দেয় যদি
      পায় সকলেরে।
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
3
Verses
অত্যাচারীর বিজয়তোরণ
      ভেঙেছে ধুলার 'পর,
শিশুরা তাহারই পাথরে আপন
      গড়িছে খেলার ঘর।
আরো দেখুন
মৌন ভাষা
Verses
থাক্‌ থাক্‌, কাজ নাই, বলিয়ো না কোনো কথা।
চেয়ে দেখি, চলে যাই,    মনে মনে গান গাই,
মনে মনে রচি বসে কত সুখ কত ব্যথা।
বিরহী পাখির প্রায় অজানা কানন-ছায়
উড়িয়া বেড়াক সদা হৃদয়ের কাতরতা--
তারে বাঁধিয়ো না ধরে, বলিয়ো না কোনো কথা।
আঁখি দিয়ে যাহা বল সহসা আসিয়া কাছে
সেই ভালো, থাক্‌ তাই, তার বেশি কাজ নাই,
কথা দিয়ে বল যদি মোহ ভেঙে যায় পাছে।
এত মৃদু, এত আধো, অশ্রুজলে বাধো-বাধো
শরমে সভয়ে ম্লান এমন কি ভাষা আছে?
কথায় বোলো না তাহা আঁখি যাহা বলিয়াছে।
তুমি হয়তো বা পারো আপনারে বুঝাইতে--
মনের সকল ভাষা প্রাণের সকল আশা
পারো তুমি গেঁথে গেঁথে রচিতে মধুর গীতে।
আমি তো জানি নে মোরে, দেখি নাই ভালো করে
মনের সকল কথা পশিয়া আপন চিতে--
কী বুঝিতে কী বুঝেছি, কী বলব কী বলিতে।
তবে থাক্‌। ওই শোনো, অন্ধকারে শোনা যায়
জলের কল্লোলস্বর পল্লবের মরমর--
বাতাসের দীর্ঘশ্বাস শুনিয়া শিহরে কায়।
আরো ঊর্ধ্বে দেখো চেয়ে অনন্ত আকাশ ছেয়ে
কোটি কোটি মৌন দৃষ্টি তারকায়।
প্রাণপণ দীপ্ত ভাষা জ্বলিয়া ফুটিতে চায়।
এস চুপ করে শুনি এই বাণী স্তব্ধতার--
এই অরণ্যের তলে কানাকানি জলে স্থলে,
মনে করি হল বলা ছিল যাহা বলিবার।
হয়তো তোমার ভাবে তুমি এক বুঝে যাবে,
আমার মনের মতো আমি বুঝে যাব আর--
নিশীথের কন্ঠ দিয়ে কথা হবে দুজনার।
মনে করি দুটি তারা জগতের এক ধারে
পাশাপাশি কাছাকাছি তৃষাতুর চেয়ে আছি,
চিনিতেছি চিরযুগ, চিনি নাকো কেহ কারে।
দিবসের কোলাহলে প্রতিদিন যাই চলে,
ফিরে আসি রজনীর ভাষাহীন অন্ধকারে--
বুঝিবার নহে যাহা চাই তাহা বুঝিবারে।
তোমার সাহস আছে, আমার সাহস নাই।
এই-যে শঙ্কিত আলো অন্ধকারে জ্বলে ভালো,
কে বলিতে পারে বলো যাহা চাও এ কি তাই।
তবে ইহা থাক্‌ দূরে কল্পনার স্বপ্নপুরে,
যার যাহা মনে লয় তাই মনে করে যাই--
এই চির-আবরণ খুলে ফেলে কাজ নাই।
এস তবে বসি হেথা, বলিয়ো না কোনো কথা।
নিশীথের অন্ধকারে ঘিরে দিক দুজনারে,
আমাদের দুজনের জীবনের নীরবতা।
দুজনের কোলে বুকে আঁধারে বাড়ুক সুখে
দুজনের এক শিশু জনমের মনোব্যথা।
তবে আর কাজ নাই, বলিয়ো না কোনো কথা।
আরো দেখুন
পায়ে চলার পথ
Stories
এই তো পায়ে চলার পথ।
এসেছে বনের মধ্যে দিয়ে মাঠে, মাঠের মধ্যে দিয়ে নদীর ধারে, খেয়াঘাটের পাশে বটগাছেরতলায়। তার পরে ও পারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে তিসির খেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে, পদ্মদিঘির পাড় দিয়ে, রথতলার পাশ দিয়ে কোন্‌ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁচেছে জানি নে।
আরো দেখুন
অনন্তের বাণী তুমি
Songs
     অনন্তের বাণী তুমি, বসন্তের মাধুরী-উৎসবে
     আনন্দের মধুপাত্র পরিপূর্ণ করি দিবে কবে॥
          বঞ্জুলনিকুঞ্জতলে   সঞ্চরিবে লীলাচ্ছলে,
          চঞ্চল অঞ্চলগন্ধে বনচ্ছায়া রোমাঞ্চিত হবে॥
মন্থর মঞ্জুল ছন্দে মঞ্জীরের গুঞ্জনকল্লোল
আন্দোলিবে ক্ষণে ক্ষণে অরণ্যের হৃদয়হিন্দোল।
     নয়নপল্লবে হাসি   হিল্লোলি উঠিবে ভাসি,
     মিলনমল্লিকামাল্য   পরাইবে পরানবল্লভে॥
আরো দেখুন
নাম্নী - মালিনী
Verses
     হাসিমুখ নিয়ে যায় ঘরে ঘরে,
     সখীদের অবকাশ মধু দিয়ে ভরে।
              প্রসন্নতা তার অন্তহীন
                   রাত্রিদিন
              গভীর কী উৎস হতে
     উচ্ছলিছে আলোঝলা কথাবলা স্রোতে।
                   মর্তের ম্লানতা তারে
              পারে নি তো স্পর্শ করিবারে।
প্রভাতে সে দেখা দিলে মনে হয় যেন সূর্যমুখী
              রক্তারুণ উল্লাসে কৌতুকী।
মধ্যাহ্নের স্থলপদ্ম অমলিন রাগে
              প্রফুল্ল সে সূর্যের সোহাগে,
সায়াহ্নের জুঁই সে-যে,
গন্ধে যার প্রদোষের শূন্যতায় বাঁশি ওঠে বেজে।
              মৈত্রীসুধাময় চোখে
মাধুরী মিশায়ে দেয় সন্ধ্যাদীপালোকে।
রজনীগন্ধা সে রাতে, দেয় পরকাশি
আনন্দহিল্লোল রাশি রাশি;
সঙ্গহীন আঁধারের নৈরাশ্যক্ষালিনী--
              নাম কি মালিনী--
আরো দেখুন
55
Verses
THOU HAST come again to me in the burst of a sudden storm,
filling my sky with the shudder of thy shadowy clouds.
The Sun is hidden, the stars are lost;
the red line of the road is merged in the mist of the rain;
the wail of the wind comes across the water.
Fitful showers, like ghastly fingers, strike the chords of some unseen harp,
waking up the music of the dark,
sweeping my heart with a shiver of sounds.
আরো দেখুন
নম্রতা
Verses
কহিল কঞ্চির বেড়া, ওগো পিতামহ
বাঁশবন, নুয়ে কেন পড় অহরহ?
আমরা তোমারি বংশে ছোটো ছোটো ডাল,
তবু মাথা উঁচু করে থাকি চিরকাল।
বাঁশ কহে, ভেদ তাই ছোটোতে বড়োতে,
নত নই, ছোটো নাহি হই কোনোমতে।
আরো দেখুন
যা হারিয়ে যায় তা আগলে বসে
Verses
যা    হারিয়ে যায় তা আগলে বসে
             রইব কত আর।
আর  পারি নে রাত জাগতে হে নাথ,
             ভাবতে অনিবার।
                    আছি রাত্রিদিবস ধরে
                    দুয়ার আমার বন্ধ করে,
                    আসতে যে চায় সন্দেহে তায়
                           তাড়াই বারে বারে।
       তাই তো কারো হয় না আসা
              আমার একা ঘরে।
       আনন্দময় ভুবন তোমার
              বাইরে খেলা করে।
                    তুমিও বুঝি পথ নাহি পাও,
                    এসে এসে ফিরিয়া যাও,
                     রাখতে যা চাই রয় না তাও
                           ধুলায় একাকার।
আরো দেখুন
19
Verses
SUDAS, THE GARDENER, plucked from his tank the last lotus left by the ravage of winter and went to sell it to the king at the palace gate.
There he met a traveller who said to him, 'Ask your price for the last lotus,-1 shall offer it to Lord Buddha.'
Sudas said. If you pay one golden masha it will be yours.'
The traveller paid it.
At that moment the king came out and he wished to buy the flower, for he was on his way to see Lord Buddha, and he thought. It would be a fine thing to lay at his feet the lotus that bloomed in winter.'
When the gardener said he had been offered a golden masha the king offered him ten, but the traveller doubled the price.
The gardener, being greedy, imagined a greater gain from him for whose sake they were bidding. He bowed and said, 1 cannot sell this lotus.'
In the hushed shade of the mango grove beyond the city wall Sudas stood before Lord Buddha, on whose lips sat the silence of love and whose eyes beamed peace like the morning star of the dew-washed autumn.
Sudas looked in his face and put the lotus at his feet and bowed his head to the dust.
Buddha smiled and asked, 'What is your wish, my son?'
Sudas cried, The least touch of your feet.'
আরো দেখুন
কৃতঘ্ন শোক
Stories
ভোরবেলায় সে বিদায় নিলে।
আমার মন আমাকে বোঝাতে বসল, 'সবই মায়া।'
আরো দেখুন
উনিশ
Verses
তখন বয়স ছিল কাঁচা;
কতদিন মনে মনে এঁকেছি নিজের ছবি,
বুনো ঘোড়ার পিঠে সওয়ার,
জিন নেই, লাগাম নেই,
ছুটেছি ডাকাত-হানা মাঠের মাঝখান দিয়ে
ভরসন্ধ্যেবেলায়;
ঘোড়ার খুরে উড়ছে ধুলো
ধরণী যেন পিছু ডাকছে আঁচল দুলিয়ে।
আকাশে সন্ধ্যার প্রথম তারা
দূরে মাঠের সীমানায় দেখা যায়
একটিমাত্র ব্যগ্র বিরহী আলো একটি কোন্‌ ঘরে
নিদ্রাহীন প্রতীক্ষায়।
যে ছিল ভাবীকালে
আগে হতে মনের মধ্যে
ফিরছিল তারি আবছায়া,
যেমন ভাবী আলোর আভাস আসে
ভোরের প্রথম কোকিল-ডাকা অন্ধকারে।
তখন অনেকখানি সংসার ছিল অজানা,
আধ্‌জানা।
তাই অপরূপের রাঙা রঙটা
মনের দিগন্ত রেখেছিলে রাঙিয়ে;
আসন্ন ভালোবাসা
এনেছিল অঘটন-ঘটনার স্বপ্ন।
তখন ভালোবাসার যে কল্পরূপ ছিল মনে
তার সঙ্গে মহাকাব্যযুগের
দুঃসাহসের আনন্দ ছিল মিলিত।
এখন অনেক খবর পেয়েছি জগতের,
মনে ঠাওরেছি
সংসারের অনেকটাই মার্কামারা খবরের
মালখানা।
মনের রসনা থেকে
অজানার স্বাদ গেছে মরে,
অনুভবে পাইনে
ভালোবাসায় সম্ভবের মধ্যে
নিয়তই অসম্ভব,
জানার মধ্যে অজানা,
কথার মধ্যে রূপকথা।
ভুলেছি প্রিয়ার মধ্যে আছে সেই নারী,
যে থাকে সাত সমুদ্রের পারে,
সেই নারী আছে বুঝি মায়ার ঘুমে,
যার জন্যে খুঁজতে হবে সোনার কাঠি।
আরো দেখুন