জীবনে যত পূজা
Songs
    জীবনে যত পূজা হল না সারা,
    জানি হে জানি তাও হয় নি হারা।
যে ফুল না ফুটিতে      ঝরেছে ধরণীতে
    যে নদী মরুপথে হারালো ধারা
    জানি হে জানি তাও হয় নি হারা॥
    জীবনে আজো যাহা রয়েছে পিছে,
    জানি হে জানি তাও হয় নি মিছে।
আমার অনাগত           আমার অনাহত
    তোমার বীণা-তারে বাজিছে তারা--
    জানি হে জানি তাও হয় নি হারা॥
আরো দেখুন
পথের শেষ
Verses
       পথের নেশা আমায় লেগেছিল,
               পথ আমারে দিয়েছিল ডাক--
       সূর্য তখন পূর্বগগনমূলে,
       নৌকা তখন বাঁধা নদীর কূলে,
       শিশির তখন শুকায় নিকো ফুলে,
               শিবালয়ে উঠল বেজে শাঁখ।
       পথের নেশা তখন  লেগেছিল,
               পথ আমারে দিয়েছিল ডাক।
       আঁকাবাঁকা রাঙা মাটির লেখা
               ঘরছাড়া ওই নানা দেশের পথ--
       প্রভাত-কালে অপার-পানে চেয়ে
       কী মোহগান উঠতেছিল গেয়ে,
       উদার সুরে ফেলতেছিল ছেয়ে
               বহুদূরের অরণ্য পর্বত।
নানা দিনের নানা-পথিক-চলা
               ঘরছাড়া ওই নানা দেশের পথ।
       ভাবি নাইকো কেন কিসের লাগি
               ছুটে চলে এলেম পথের 'পরে।
       নিত্য কেবল এগিয়ে চলার সুখ,
       বাহির হওয়ার অনন্ত কৌতুক,
       প্রতি পদেই অন্তর উৎসুক
               অজানা কোন্‌ নিরুদ্দেশের তরে।
       ভোরের বেলা দুয়ার খুলে দিয়ে
               বাহির হয়ে এলেম পথের 'পরে।
       বেলা এখন অনেক হয়ে গেছে,
               পেরিয়ে চলে এলেম বহু দূর।
       ভেবেছিলেম পথের বাঁকে বাঁকে
       নব নব ভাগ্য আমায় ডাকে,
       হঠাৎ যেন দেখতে পাব কাকে,
               শুনতে যেন পাব নূতন সুর।
       তার পরে তো অনেক বেলা হল,
               পেরিয়ে চলে এলেম বহু দূর।
       অনেক দেখে ক্লান্ত এখন প্রাণ,
               ছেড়েছি সব অকস্মাতের আশা।
       এখন কেবল একটি পেলেই বাঁচি,
       এসেছি তাই ঘাটের কাছাকাছি--
       এখন শুধু আকুল মনে যাচি
               তোমার পারে খেয়ার তরী ভাসা।
       জেনেছি আজ চলেছি কার লাগি
               ছেড়েছি সব অকস্মাতের আশা।
  
আরো দেখুন
154
Verses
বরষার রাতে জলের আঘাতে
     পড়িতেছে যূথী ঝরিয়া।
পরিমলে তারি সজল পবন
     করুণায় উঠে ভরিয়া।
আরো দেখুন
গলি
Stories
আমাদের এই শানবাঁধানো গলি, বারে বারে ডাইনে বাঁয়ে এঁকে বেঁকে একদিন কী যেন খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সে যে দিকেই যায় ঠেকে যায়। এ দিকে বাড়ি, ও দিকে বাড়ি, সামনে বাড়ি।
উপরের দিকে যেটুকু নজর চলে তাতে সে একখানি আকাশের রেখা দেখতে পায়-- ঠিক তার নিজেরই মতো সরু, তার নিজেরই মতো বাঁকা।
আরো দেখুন
বিচারক
Verses
পন্ডিত শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন-প্রণীত চরিতমালা হইতে গৃহীত।
অ্যাকওয়ার্থ সাহেব-প্রণীত Ballads of the Marathas নামক গ্রন্থে রঘুনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র নারায়ণ রাওয়ের হত্যা সম্বন্ধে প্রচলিত মারাঠি গাথার ইংরেজি অ্যানুবাদ প্রকাশিত হইয়াছে।
পুণ্য নগরে রঘুনাথ রাও
          পেশোয়া-নৃপতি-বংশ
রাজাসনে উঠি কহিলেন বীর,
"হরণ করিব ভার পৃথিবীরড্ড
মৈসুরপতি হৈদরালির
            দর্প করিব ধ্বংস।'
দেখিতে দেখিতে পুরিয়া উঠিল
          সেনানী আশি সহস্র।
নানা দিকে দিকে নানা পথে পথে
মারাঠার যত গিরিদরি হতে
বীরগণ যেন শ্রাবণের স্রোতে
          ছুটিয়া আসে অ্যাজস্র।
উড়িল গগনে বিজয়পতাকা,
          ধ্বনিল শতেক শঙ্খ।
হুলুরব করে অ্যাঙ্গনা সবে,
মারাঠা-নগরী কাঁপিল গরবে,
রহিয়া রহিয়া প্রলয়-আরবে
          বাজে ভৈরব ডঙ্ক।
ধুলার আড়ালে ধ্বজ-অ্যারণ্যে
          লুকালো প্রভাতসূর্য।
রক্ত অ্যাশ্বে রঘুনাথ চলে,
আকাশ বধির জয়কোলাহলে--
সহসা যেন কী মন্ত্রের বলে
          থেমে গেল রণতূর্য!
সহসা কাহার চরণে ভূপতি
          জানালো পরম দৈন্য?
সমরোন্মাদে ছুটিতে ছুটিতে
সহসা নিমেষে কার ইঙ্গিতে
সিংহদুয়ার থামিল চকিতে
          আশি সহস্র সৈন্য?
ব্রাহ্মণ আসি দাঁড়ালো সমুখে
          ন্যায়াধীশ রামশাস্ত্রী।
দুই বাহু তাঁর তুলিয়া উধাও
কহিলেন ডাকি, "রঘুনাথ রাও,
নগর ছাড়িয়া কোথা চলে যাও,
          না লয়ে পাপের শাস্তি?'
নীরব হইল জয়কোলাহল,
          নীরব সমরবাদ্য।
"প্রভু, কেন আজি' কহে রঘুনাথ,
"অ্যাসময়ে পথ রুধিলে হঠাৎ!
চলেছি করিতে যবননিপাত,
          জোগাতে যমের খাদ্য।'
কহিলা শাস্ত্রী, "বধিয়াছ তুমি
          আপন ভ্রাতার পুত্রে।
বিচার তাহার না হয় য'দিন
ততকাল তুমি নহ তো স্বাধীন,
বন্দী রয়েছ অ্যামোঘ কঠিন
          ন্যায়ের বিধানসূত্রে।'
রুষিয়া উঠিলা রঘুনাথ রাও,
          কহিলা করিয়া হাস্য,
"নৃপতি কাহারো বাঁধন না মানে--
চলেছি দীপ্ত মুক্ত কৃপাণে,
শুনিতে আসি নি পথমাঝখানে
          ন্যায়বিধানের ভাষ্য।'
কহিলা শাস্ত্রী, "রঘুনাথ রাও,
          যাও করো গিয়ে যুদ্ধ!
আমিও দণ্ড ছাড়িনু এবার,
ফিরিয়া চলিনু গ্রামে আপনার,
বিচারশালার খেলাঘরে আর
          না রহিব অ্যাবরুদ্ধ।'
বাজিল শঙ্খ, বাজিল ডঙ্ক,
          সেনানী ধাইল ক্ষিপ্র।
ছাড়ি দিয়া গেলা গৌরবপদ,
দূরে ফেলি দিলা সব সম্পদ,
গ্রামের কুটিরে চলি গেলা ফিরে
          দীন দরিদ্র বিপ্র।
আরো দেখুন
হৈমন্তী
Stories
কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন,মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই তাড়া।
আমি ছিলাম বর। সুতরাং, বিবাহসম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি, এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ, কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষ ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।
আরো দেখুন
ফেল
Stories
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না।
নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য।
আরো দেখুন
মণিহারা
Stories
সেই জীর্ণপ্রায় বাঁধাঘাটের ধারে আমার বোট লাগানো ছিল। তখন সূর্য অস্ত গিয়াছে।
বোটের ছাদের উপরে মাঝি নমাজ পড়িতেছে। পশ্চিমের জ্বলন্ত আকাশপটে তাহার নীরব উপাসনা ক্ষণে ক্ষণে ছবির মতো আঁকা পড়িতেছিল। স্থির রেখাহীন নদীর জলের উপর ভাষাতীত অসংখ্য বর্ণচ্ছটা দেখিতে দেখিতে ফিকা হইতে গাঢ় লেখায়, সোনার রঙ হইতে ইস্পাতের রঙে, এক আভা হইতে আর-এক আভায় মিলাইয়া আসিতেছিল।
আরো দেখুন
83
Verses
I FEEL THAT all the stars shine in me.
The world breaks into my life like a flood.
The flowers blossom in my body.
All the youthfulness of land and water smokes like an incense in my heart; and the breath of all things plays on my thoughts as on a flute.
II
When the world sleeps I come to your door.
The stars are silent, and I am afraid to sing.
I wait and watch, till your shadow passes by the balcony of night and I return with a full heart.
Then in the morning I sing by the roadside;
The flowers in the hedge give me answer and the morning air listens,
The travellers suddenly stop and look in my face, thinking I have called them by their names.
III
Keep me at your door ever attending to your wishes, and let me go about in your Kingdom accepting your call.
Let me not sink and disappear in the depth of langour.
Let not my life be worn out to tatters by penury of waste.
Let not those doubts encompass me,-the dust of distractions.
Let me not pursue many paths to gather many things.
Let me not bend my heart to the yoke of the many.
Let me hold my head high in the courage and pride of being your servant.
আরো দেখুন
হাসিরে কি লুকাবি
Songs
হাসিরে কি লুকাবি লাজে,
চপলা সে বাঁধা পড়ে না যে॥
রুধিয়া অধর-দ্বারে    ঝাঁপিতে রাখিলি যারে
কখন সে ছুটে এল নয়নমাঝে॥
আরো দেখুন