ওই মহামানব আসে
Songs
                        ওই মহামানব আসে । 
                  দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে 
                        মর্তধূলির ঘাসে ঘাসে ।। 
                  সুরলোকে বেজে ওঠে শঙ্খ,
                  নরলোকে বাজে জয়ডঙ্ক–
                        এল মহাজন্মের লগ্ন । 
                  আজি অমারাত্রির দুর্গতোরণ যত 
                        ধূলিতলে হয়ে গেল ভগ্ন । 
                  উদয়শিখরে জাগে ‘মাভৈ: মাভৈ:’
                        নবজীবনের আশ্বাসে । 
                  ‘জয় জয় জয় রে মানব-অভ্যুদয়’
                        মন্দ্রি-উঠিল মহাকাশে।।
আরো দেখুন
বিচারক
Stories
অনেক অবস্থান্তরের পর অবশেষে গতযৌবনা ক্ষীরোদা যে পুরুষের আশ্রয় প্রাপ্ত হইয়াছিল সেও যখন তাহাকে জীর্ণ বস্ত্রের ন্যায় পরিত্যাগ করিয়া গেল, তখন অন্নমুষ্টির জন্য দ্বিতীয় আশ্রয় অন্বেষণের চেষ্টা করিতে তাহার অত্যন্ত ধিক্‌কার বোধ হইল।
যৌবনের শেষে শুভ্র শরৎকালের ন্যায় একটি গভীর প্রশান্ত প্রগাঢ় সুন্দর বয়স আসে যখন জীবনের ফল ফলিবার এবং শস্য পাকিবার সময়। তখন আর উদ্দাম যৌবনের বসন্তচঞ্চলতা শোভা পায় না। ততদিনে সংসারের মাঝখানে আমাদের ঘর বাঁধা একপ্রকার সাঙ্গ হইয়া গিয়াছে; অনেক ভালোমন্দ, অনেক সুখদুঃখ, জীবনের মধ্যে পরিপাক প্রাপ্ত হইয়া অন্তরের মানুষটিকে পরিণত করিয়া তুলিয়াছে; আমাদের আয়ত্তের অতীত কুহকিনী দুরাশার কল্পনালোক হইতে সমস্ত উদ্‌ভ্রান্ত বাসনাকে প্রত্যাহরণ করিয়া আপন ক্ষুদ্র ক্ষমতার গৃহপ্রাচীরমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি; তখন নূতন প্রণয়ের মুগ্ধদৃষ্টি আর আকর্ষণ করা যায় না, কিন্তু পুরাতন লোকের কাছে মানুষ আরো প্রিয়তর হইয়া উঠে। তখন যৌবনলাবণ্য অল্পে অল্পে বিশীর্ণ হইয়া আসিতে থাকে, কিন্তু জরাবিহীন অন্তরপ্রকৃতি বহুকালের সহবাসক্রমে মুখে চক্ষে যেন স্ফুটতর রূপে অঙ্কিত হইয়া যায়, হাসিটি দৃষ্টিপাতটি কণ্ঠস্বরটি ভিতরকার মানুষটির দ্বারা ওতপ্রোত হইয়া উঠে। যাহা-কিছু পাই নাই তাহার আশা ছাড়িয়া, যাহারা ত্যাগ করিয়া গিয়াছে তাহাদের জন্য শোক সমাপ্ত করিয়া, যাহারা বঞ্চনা করিয়াছে তাহাদিগকে ক্ষমা করিয়া-- যাহারা কাছে আসিয়াছে, ভালোবাসিয়াছে, সংসারের সমস্ত ঝড়ঝঞ্ঝা শোকতাপ বিচ্ছেদের মধ্যে যে কয়টি প্রাণী নিকটে অবশিষ্ট রহিয়াছে তাহাদিগকে বুকের কাছে টানিয়া লইয়া সুনিশ্চিত সুপরীক্ষিত চিরপরিচিতগণের প্রীতিপরিবেষ্টনের মধ্যে নিরাপদ নীড় রচনা করিয়া তাহারই মধ্যে সমস্ত চেষ্টার অবসান এবং সমস্ত আকাঙক্ষার পরিতৃপ্তি লাভ করা যায়। যৌবনের সেই স্নিগ্ধ সায়াহ্নে জীবনের সেই শান্তিপর্বেও যাহাকে নূতন সঞ্চয়, নূতন পরিচয়, নূতন বন্ধনের বৃথা আশ্বাসে নূতন চেষ্টায় ধাবিত হইতে হয়-- তখনো যাহার বিশ্রামের জন্য শয্যা রচিত হয় নাই, যাহার গৃহপ্রত্যাবর্তনের জন্য সন্ধ্যাদীপ প্রজ্জ্বলিত হয় নাই, সংসারে তাহার মতো শোচনীয় আর কেহ নাই।
আরো দেখুন
পান্নালাল
Stories
দাদামশায়, তোমার পাগলের দলের মধ্যে পান্নালাল ছিল খুব নতুন রকমের।
জান, দিদি? তোমার পাগলরা প্রত্যেকেই নতুন, কারও সঙ্গে কারও মিল হয় না। যেমন তোমার দাদামশায়। বিধাতার নতুন পরীক্ষা। ছাঁচ তিনি ভেঙে ফেলেন। সাধারণ লোকের বুদ্ধিতে মিল হয়, অসাধারণ পাগলের মিল হয় না। তোমাকে একটা উদাহরণ দেখাই--
আরো দেখুন
কথিকা
Stories
এবার মনে হল, মানুষ অন্যায়ের আগুনে আপনার সমস্ত ভাবী কালটাকে পুড়িয়ে কালো করে দিয়েছে, সেখানে বসন্ত কোনোদিন এসে আর নতুন পাতা ধরাতে পারবে না।
মানুষ অনেক দিন থেকে একখানি আসন তৈরি করছে। সেই আসনই তাকে খবর দেয় যে, তার দেবতা আসবেন, তিনি পথে বেরিয়েছেন।
আরো দেখুন
উদ্ধার
Stories
গৌরী প্রাচীন ধনীবংশের পরমাদরে পালিতা সুন্দরী কন্যা। স্বামী পরেশ হীনাবস্থা হইতে সম্প্রতি নিজের উপার্জনে কিঞ্চিৎ অবস্থার উন্নতি করিয়াছে; যতদিন তাঁহার দৈন্য ছিল ততদিন কন্যার কষ্ট হইবে ভয়ে শ্বশুর শাশুড়ি স্ত্রীকে তাঁহার বাড়িতে পাঠান নাই। গৌরী বেশ-একটু বয়স্থা হইয়াই পতিগৃহে আসিয়াছিল।
বোধ করি এই-সকল কারণেই পরেশ সুন্দরী যুবতী স্ত্রীকে সম্পূর্ণ নিজের আয়ত্তগম্য বলিয়া বোধ করিতেন না এবং বোধ করি সন্দিগ্ধ স্বভাব তাঁহার একটা ব্যাধির মধ্যে।
আরো দেখুন
অনধিকার প্রবেশ
Stories
একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল 'পারিব', আর-একটি বালক বলিল 'কখনোই পারিবে না'।
কাজটি শুনিতে সহজ অথচ করিতে কেন সহজ নহে তাহার বৃত্তান্ত আর-একটু বিস্তারিত করিয়া বলা আবশ্যক।
আরো দেখুন
সিয়াম
Verses
প্রথম দর্শনে
                       ত্রিশরণ মহামন্ত্র যবে
                             বজ্রমন্দ্ররবে
           আকাশে ধ্বনিতেছিল পশ্চিমে পুরবে,
           মরুপারে, শৈলতটে, সমুদ্রের কূলে উপকূলে,
           দেশে দেশে চিত্তদ্বার দিল যবে খুলে
                 আনন্দমুখর উদ্‌বোধন, --
           উদ্দাম ভাবের ভার ধরিতে নারিল যবে মন,
                 বেগ তার ব্যাপ্ত হল চারিভিতে,
           দুঃসাধ্য কীর্তিতে, কর্মে চিত্রপটে মন্দিরে মূর্তিতে,
                 আত্মদানসাধনস্ফূর্তিতে
                       উচ্ছ্বসিত উদার উক্তিতে,
           স্বার্থধন দীনতার বন্ধনমুক্তিতে, --
           সে-মন্ত্র অমৃতবাণী হে সিয়াম, তব কানে
                   কবে এল কেহ নাহি জানে
           অভাবিত অলক্ষিত আপনাবিস্মৃত শুভক্ষণে
                   দূরাগত পান্থসমীরণে।
                 সে-মন্ত্র তোমার প্রাণে লভি প্রাণ
           বহুশাখাপ্রসারিত কল্যাণে করেছে ছায়াদান।
                       সে-মন্ত্রভারতী
                     দিল অস্খলিত গতি
           কত শত শতাব্দীর সংসারযাত্রারে --
                       শুভ আকর্ষণে বাঁধি তারে
                       এক ধ্রুব কেন্দ্র-সাথে
                       চরম মুক্তির সাধনাতে, --
           সর্বজনগণে তব এক করি একাগ্র ভক্তিতে,
                 এক ধর্ম, এক সংঘ, এক মহাগুরুর শক্তিতে।
           সে বাণীর সৃষ্টিক্রিয়া নাহি জানে শেষ,
           নবযুগ-যাত্রাপথে দিবে নিত্য নূতন উদ্দেশ;
                 সে বাণীর ধ্যান
           দীপ্যমান করি দিবে নব নব জ্ঞান
                 দীপ্তির ছটায় আপনার,
           এক সূত্রে গাঁথি দিবে তোমার মানসরত্নহার।
                 হৃদয়ে হৃদয়ে মিল করি
                       বহু যুগ ধরি
           রচিয়া তুলেছ তুমি সুমহৎ জীবনমন্দির,-
                       পদ্মাসন আছে স্থির,
           ভগবান বুদ্ধ সেথা সমাসীন
                   চিরদিন --
           মৌন যাঁর শান্তি অন্তহারা,
           বাণী যাঁর সকরুণ সান্ত্বনার ধারা।
      আমি সেথা হতে এনু যেথা ভগ্নস্তূপে
      বুদ্ধের বচন রুদ্ধ দীর্ণকীর্ণ মূক শিলারূপে,
           ছিল যেথা সমাচ্ছন্ন করি
                 বহু যুগ ধরি
                       বিস্মৃতকুয়াশা
           ভক্তির বিজয়স্তম্ভে সমুৎকীর্ণ অর্চনার ভাষা|
                 সে-অর্চনা সেই বাণী
                       আপন সজীব মূর্তিখানি
           রাখিয়াছে ধ্রুব করি শ্যামল সরস বক্ষে তব,-
                 আজি আমি তারে দেখি লব, --
                       ভারতের যে মহিমা
           ত্যাগ করি আসিয়াছে আপন অঙ্গনসীমা
                 অর্ঘ্য দিব তারে
           ভারত-বাহিরে তব দ্বারে।
                 স্নিগ্ধ করি প্রাণ
               তীর্থ জলে করি যাব স্নান
                     তোমার জীবনধারাস্রোতে,
               যে নদী এসেছে বহি ভারতের পুণ্যযুগ হতে --
                      যে যুগের গিরিশৃঙ্গ-'পর
                 একদা উদিয়াছিল প্রেমের মঙ্গলদিনকর।
আরো দেখুন
কৃতঘ্ন শোক
Stories
ভোরবেলায় সে বিদায় নিলে।
আমার মন আমাকে বোঝাতে বসল, 'সবই মায়া।'
আরো দেখুন
1
Verses
বসন্ত আওল রে!
  মধুকর গুন গুন, অমুয়ামঞ্জরী
কানন ছাওল রে।
  শুন শুন সজনী হৃদয় প্রাণ মম
হরখে আকুল ভেল,
  জর জর রিঝসে দুখ জ্বালা সব
দূর দূর চলি গেল।
      মরমে বহই বসন্তসমীরণ,
মরমে ফুটই ফুল,
   মরমকুঞ্জ'পর বোলই কুহু কুহু
অহরহ কোকিলকুল।
  সখি রে উছসত প্রেমভরে অব
ঢলঢল বিহ্বল প্রাণ,
নিখিল জগত জনু হরখ-ভোর ভই
গায় রভসরসগান।
     বসন্তভূষণভূষিত ত্রিভুবন
কহিছে দুখিনী রাধা,
কঁহি রে সো প্রিয়, কঁহি সো প্রিয়তম,
হৃদিবসন্ত সো মাধা?
ভানু কহত অতি গহন রয়ন অব,
বসন্তসমীর শ্বাসে
   মোদিত বিহ্বল চিত্তকুঞ্জতল
ফুল্ল বাসনা-বাসে।
আরো দেখুন
পুনরাবৃত্তি
Stories
সেদিন যুদ্ধের খবর ভালো ছিল না। রাজা বিমর্ষ হয়ে বাগানে বেড়াতে গেলেন।
দেখতে পেলেন, প্রাচীরের কাছে গাছতলায় বসে খেলা করছে একটি ছোটো ছেলে আর একটি ছোটো মেয়ে।
আরো দেখুন
এই আবরণ ক্ষয় হবে গো
Verses
এই আবরণ ক্ষয় হবে গো ক্ষয় হবে,
এ দেহ মন ভূমানন্দময় হবে।
      চোখে আমার মায়ার ছায়া টুটবে গো,
      বিশ্বকমল প্রাণে আমার ফুটবে গো,
             এ জীবনে তোমারি নাথ, জয় হবে।
রক্ত আমার বিশ্বতালে নাচবে যে,
হৃদয় আমার বিপুল প্রাণে বাঁচবে যে।
      কাঁপবে তোমার আলো-বীণার তারে সে,
      দুলবে তোমার তারা-মণির হারে সে,
           বাসনা তার ছড়িয়ে গিয়ে লয় হবে।
আরো দেখুন