সুয়োরানীর সাধ
Stories
সুয়োরানীর বুঝি মরণকাল এল।
তার প্রাণ হাঁপিয়ে উঠছে, তার কিছুই ভালো লাগছে না। বদ্দি বড়ি নিয়ে এল। মধু দিয়ে মেড়ে বললে, 'খাও।' সে ঠেলে ফেলে দিলে।
আরো দেখুন
বাণী
Stories
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে আকাশের মেঘ নামে, মাটির কাছে ধরা দেবে ব'লে। তেমনি কোথা থেকে মেয়েরা আসে পৃথিবীতে বাঁধা পড়তে।
তাদের জন্য অল্প জায়গার জগৎ, অল্প মানুষের। ঐটুকুর মধ্যে আপনার সবটাকে ধরানো চাই-- আপনার সব কথা, সব ব্যথা, সব ভাবনা। তাই তাদের মাথায় কাপড়, হাতে কাঁকন, আঙিনায় বেড়া। মেয়েরা হল সীমাস্বর্গের ইন্দ্রাণী।
আরো দেখুন
শ্যামলী
Verses
ওগো শ্যামলী,
            আজ শ্রাবণে তোমার কালো কাজল চাহনি
                 চুপ করে থাকা বাঙালি মেয়েটির
            ভিজে চোখের পাতায় মনের কথাটির মতো।
      তোমার মাটি আজ সবুজ ভাষায় ছড়া কাটে ঘাসে ঘাসে
                  আকাশের বাদল-ভাষার জবাবে।
        ঘন হয়ে উঠল তোমার জামের বন পাতার মেঘে,
              বলছে তারা উড়ে-চলা মেঘগুলোকে হাত তুলে,
                          "থামো, থামো --
                    থামো তোমার পুব বাতাসের সওয়ারি।"
     পথের ধারে গাছতলাতে তোমার বাসা, শ্যামলী,
            তুমি দেবতাপাড়ায় বেদের মেয়ে,
     বাসা ভাঙ বারে বারে, খালি হাতে বেরিয়ে পড় পথে,
          এক নিমেষে তুমি নিঃশেষে গরিব, তুমি নির্ভাবনা।
            তোমাকে যে ভালোবেসেছে
                 গাঁঠছড়ার বাঁধন দাও না তাকে;
            বাসর-ঘরের দরজা যখন খোলে রাতের শেষে
                তখন আর কোনোদিন চায় না সে পিছন ফিরে।
      মুখোমুখি বসব বলে বেঁধেছিলেম মাটির বাসা
                 তোমার কাঁচা-বেড়া-দেওয়া আঙিনাতে।
                     সেদিন গান গাইল পাখিরা,
                          তাদের নেই অচল খাঁচা;
                 তারা নীড় যেমন বাঁধে তেমনি আবার ভাঙে।
      বসন্তে এ পারে তাদের পালা, শীতের দিনে ও পারের অরণ্যে।
    সেদিন সকালে
   হাওয়ার তালে হাততালি দিলে গাছের পাতা।
         আজ তাদের নাচ বনে বনে,
                 কাল তাদের ধুলোয় লুটিয়ে-পড়া--
         তা নিয়ে নেই বিলাপ, নেই নালিশ।
      বসন্ত-রাজদরবারের নকিব ওরা;
এ বেলায় ওদের কাজ, জবাব মেলে ও বেলায়।
এই ক'টা দিন তোমায় আমায় কথা হল কানে কানে;
আজ কানে কানে বলছ আমায়,
         "আর নয়, এবার তোলো বাসা।"
            আমি পাকা করে গাঁথি নি ভিত,
আমার মিনতি ফাঁদি নি পাথর দিয়ে তোমার দরজায়;
বাসা বেঁধেছি আলগা মাটিতে--
      যে চলতি মাটি নদীর জলে এসেছিল ভেসে,
            যে মাটি পড়বে গলে শ্রাবণধারায়।
            যাব আমি।
      তোমার ব্যথাবিহীন বিদায়দিনে
আমার ভাঙা ভিটের 'পরে গাইবে দোয়েল লেজ দুলিয়ে
      এক শাহানাই বাজে তোমার বাঁশিতে, ওগো শ্যামলী,
                    যেদিন আসি আবার যেদিন যাই চলে।
আরো দেখুন
একরাত্রি
Stories
সুরবালার সঙ্গে একত্রে পাঠশালায় গিয়াছি, বউ-বউ খেলিয়াছি। তাহাদের বাড়িতে গেলে সুরবালার মা আমাকে বড় যত্ন করিতেন এবং আমাদের দুইজনকে একত্র করিয়া  আপনা-আপনি বলাবলি করিতেন,'আহা দুটিতে বেশ মানায়।'
ছোট ছিলাম কিন্তু কথাটার অর্থ একরকম বুঝতে পারিতাম। সুরবালার প্রতি যে সর্বসাধারণের অপেক্ষা আমার কিছু বিশেষ দাবি ছিল, সে ধারণা আমার মনে বদ্ধমূল হইয়া গিয়াছিল। সেই অধিকারমদে মত্ত হইয়া তাহার প্রতি যে আমি শাসন এবং উপদ্রব না করিতাম তাহা নহে। সেও সহিষ্ণুভাবে আমার সকলরকম  ফরমাশ খাটিত এবং শাস্তি বহন করিত। পাড়ায় তাহার রূপের প্রশংসা ছিল, কিন্তু বর্বর বালকের চক্ষে সে সৌন্দর্যের কোনো গৌরব ছিল না-- আমি কেবল জানিতাম, সুরবালা আমারই প্রভুত্ব স্বীকার করিবার জন্য পিতৃগৃহে জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, এইজন্য সে আমার বিশেষরূপ অবহেলার পাত্র।
আরো দেখুন
হালদারগোষ্ঠী
Stories
এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না। অবস্থাও সচ্ছল, মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে, কিন্তু তবুও গোল বাধিল।
কেননা, সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত, একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না; যদি বা ঘটিত সেটাকে রবার দিয়া মুছিয়া সংশোধন করিলেই চলিয়া যাইত।
আরো দেখুন
অনধিকার প্রবেশ
Stories
একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল 'পারিব', আর-একটি বালক বলিল 'কখনোই পারিবে না'।
কাজটি শুনিতে সহজ অথচ করিতে কেন সহজ নহে তাহার বৃত্তান্ত আর-একটু বিস্তারিত করিয়া বলা আবশ্যক।
আরো দেখুন
পুরানো জানিয়া চেয়ো
Songs
পুরানো জানিয়া চেয়ো না আমারে আধেক আঁখির কোণে অলস অন্যমনে।
আপনারে আমি দিতে আসি যেই    জেনো জেনো সেই শুভ নিমেষেই
     জীর্ণ কিছুই নেই কিছু নেই,    ফেলে দিই পুরাতনে॥
     আপনারে দেয় ঝরনা আপন ত্যাগরসে উচ্ছলি--
     লহরে লহরে নূতন নূতন অর্ঘ্যের অঞ্জলি।
মাধবীকুঞ্জ বার বার করি    বনলক্ষ্মীর ডালা দেয় ভরি--
     বারবার তার দানমঞ্জরী    নব নব ক্ষণে ক্ষণে॥
     তোমার প্রেমে যে লেগেছে আমায় চির নূতনের সুর।
     সব কাজে মোর সব ভাবনায় জাগে চিরসুমধুর।
মোর দানে নেই দীনতার লেশ,     যত নেবে তুমি না পাবে শেষ--
     আমার দিনের সকল নিমেষ    ভরা অশেষের ধনে॥
আরো দেখুন
ল্যাবরেটরি
Stories
নন্দকিশোর ছিলেন লণ্ডন য়ুনিভার্সিটি থেকে পাস করা এঞ্জিনীয়ার। যাকে সাধুভাষায় বলা যেতে পারে দেদীপ্যমান ছাত্র অর্থাৎ ব্রিলিয়ান্ট, তিনি ছিলেন তাই। স্কুল থেকে আরম্ভ করে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার তোরণে তোরণে ছিলেন পয়লা শ্রেণীর সওয়ারী।
ওঁর বুদ্ধি ছিল ফলাও, ওঁর প্রয়োজন ছিল দরাজ, কিন্তু ওঁর অর্থসম্বল ছিল আঁটমাপের।
আরো দেখুন
সতেরো বছর
Stories
আমি তার সতেরো বছরের জানা।
কত আসাযাওয়া, কত দেখাদেখি, কত বলাবলি; তারই আশেপাশে কত স্বপ্ন, কত অনুমান, কত ইশারা; তারই সঙ্গে সঙ্গে কখনো বা ভোরের ভাঙা ঘুমে শুকতারার আলো, কখনো বা আষাঢ়ের ভরসন্ধ্যায় চামেলিফুলের গন্ধ, কখনো বা বসন্তের শেষ প্রহরে ক্লান্ত নহবতের পিলুবারোয়াঁ; সতেরো বছর ধরে এই-সব গাঁথা পড়েছিল তার মনে।
আরো দেখুন