রাজার বাড়ি
Stories
কুসমি জিগেস করলে, দাদামশায়, ইরুমাসির বোধ হয় খুব বুদ্ধি ছিল।
ছিল বই-কি, তোর চেয়ে বেশি ছিল।
আরো দেখুন
আপন মন নিয়ে
Songs
আপন মন নিয়ে কাঁদিয়ে মরি
পরের মন নিয়ে কী হবে।
আপন মন যদি বুঝিতে নারি,
পরের মন বুঝে কে কবে।
অবোধ মন লয়ে ফেরো ভবে,
বাসনা কাঁদে প্রাণে হাহারবে,
এ মন দিতে চাও দিয়ে ফেলো—
কেন গো নিতে চাও মন তবে।
স্বপন সম সব জেনেছি মনে,
'তোমার কেহ নাই এ ত্রিভুবনে;
যেজন ফিরিতেছে আপন আশে,
তুমি ফিরিছ কেন তাহার পাশে।'
নয়ন মেলি শুধু দেখে যাও, হৃদয় দিয়ে শুধু শান্তি পাও।
তোমারে মুখ তুলে চাহে না যে থাক্‌ সে আপনার গরবে।
আরো দেখুন
শাস্তি
Stories
দুখিরাম রুই এবং ছিদাম রুই দুই ভাই সকালে যখন দা হাতে লইয়া জন খাটিতে বাহির হইল তখন তাহাদের দুই স্ত্রীর মধ্যে বকাবকি চেঁচামেচি চলিতেছে। কিন্তু প্রকৃতির অন্যান্য নানাবিধ নিত্য কলরবের ন্যায় এই কলহ-কোলাহলও পাড়াসুদ্ধ লোকের অভ্যাস হইয়া গেছে। তীব্র কণ্ঠস্বর শুনিবামাত্র লোকে পরস্পরকে বলে--'ওই রে বাধিয়া গিয়াছে,' অর্থাৎ যেমনটি আশা করা যায় ঠিক তেমনিটি ঘটিয়াছে, আজও স্বভাবের নিয়মের কোনোরূপ ব্যত্যয় হয় নাই। প্রভাতে পূর্বদিকে সূর্য উঠিলে যেমন কেহ তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করে না, তেমনি এই কুরিদের বাড়িতে দুই জায়ের মধ্যে যখন একটা হৈ-হৈ পড়িয়া যায় তখন তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করে না, তেমনি এই কুরিদের বাড়িতে দুই জায়ের মধ্যে যখন একটা হৈ-হৈ পড়িয়া যায় তখন তাহার কারণ নির্ণয়ের জন্য কাহারও কোনোরূপ কৌতূহলের উদ্রেক হয় না।
অবশ্য এই কোন্দল আন্দোলন প্রতিবেশীদের অপেক্ষা দুই স্বামীকে বেশি স্পর্শ করিত সন্দেহ নাই, কিন্তু সেটা তাহারা কোনোরূপ অসুবিধার মধ্যে গণ্য করিত না। তাহারা দুই ভাই যেন দীর্ঘ সংসারপথ একটা এক্কাগাড়িতে করিয়া চলিয়াছে, দুই দিকের দুই স্প্রিংবিহীন চাকার অবিশ্রাম ছড়ছড় খড়খড় শব্দটাকে জীবনরথযাত্রার একটা বিধিবিহিত নিয়মের মধ্যেই ধরিয়া লইয়াছে।
আরো দেখুন
অস্পষ্ট
Stories
জানলার ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় সামনের বাড়ির জীবনযাত্রা। রেখা আর ছেদ, দেখা আর না-দেখা দিয়ে সেই ছবি আঁকা।
একদিন পড়ার বই পড়ে রইল, বনমালীর চোখ গেল সেই দিকে।
আরো দেখুন
স্বর্গ-মর্ত
Stories
গান
মাটির প্রদীপখানি আছে
আরো দেখুন
মহামায়া
Stories
মহামায়া এবং রাজীবলোচন উভয়ে নদীর ধারে একটা ভাঙা মন্দিরে সাক্ষাৎ করিল।
মহামায়া কোনো কথা না বলিয়া তাহার স্বাভাবিক গম্ভীর দৃষ্টি ঈষৎ ভর্ৎসনার ভাবে রাজীবের প্রতি নিক্ষেপ করিল। তাহার মর্ম এই, তুমি কী সাহসে আজ অসময়ে আমাকে এখানে আহ্বান করিয়া আনিয়াছ। আমি এ পর্যন্ত তোমার সকল কথা শুনিয়া আসিতেছি বলিয়াই তোমার এতদূর স্পর্ধা বাড়িয়া উঠিয়াছে?
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
পট
Stories
যে শহরে অভিরাম দেবদেবীর পট আঁকে, সেখানে কারো কাছে তার পূর্বপরিচয় নেই। সবাই জানে, সে বিদেশী, পট আঁকা তার চিরদিনের ব্যাবসা।
সে মনে ভাবে, 'ধনী ছিলেম, ধন গিয়েছে, হয়েছে ভালো। দিনরাত দেবতার রূপ ভাবি, দেবতার প্রসাদে খাই, আর ঘরে ঘরে দেবতার প্রতিষ্ঠা করি। আমার এই মান কে কাড়তে পারে।'
আরো দেখুন
একলা ব'সে হেরো
Songs
একলা ব'সে হেরো তোমার ছবি    এঁকেছি আজ বাসন্তী রঙ দিয়া।
খোঁপার ফুলে একটি মধুলোভী   মৌমাছি ওই গুঞ্জরে বন্দিয়া ॥
সমুখ-পানে বালুতটের তলে    শীর্ণ নদী শ্রান্তধারায় চলে,
বেণুচ্ছায়া তোমার চেলাঞ্চলে   উঠিছে স্পন্দিয়া ॥
মগ্ন তোমার স্নিগ্ধ নয়ন দুটি    ছায়ায় ছন্ন অরণ্য-অঙ্গনে,
প্রজাপতির দল যেখানে জুটি    রঙ ছড়ালো প্রফুল্ল রঙ্গনে।
তপ্ত হাওয়ায় শিথিলমঞ্জরী গোলকচাঁপা একটি দুটি করি
পায়ের কাছে পড়ছে ঝরি ঝরি    তোমারে নন্দিয়া ॥
ঘাটের ধারে কম্পিত ঝাউশাখে    দোয়েল দোলে সঙ্গীতে চঞ্চলি,
আকাশ ঢালে পাতার ফাঁকে ফাঁকে তোমার কোলে সুবর্ণ-অঞ্জলি।
বনের পথে কে যায় চলি দূরে-- বাঁশির ব্যথা পিছন-ফেরা সুরে
তোমায় ঘিরে হাওয়ায় ঘুরে ঘুরে    ফিরিছে ক্রন্দিয়া ॥
আরো দেখুন
ম্যানেজারবাবু
Stories
আজ তোমাকে যে গল্পটা বলব মনে করেছি সেটা তোমার ভালো লাগবে না।
তুমি বললেও ভালো লাগবে না কেন।
আরো দেখুন
কাঠবিড়ালি
Verses
কাঠবিড়ালির ছানাদুটি
          আঁচলতলায় ঢাকা,
পায় সে কোমল করুণ হাতে
          পরশ সুধামাখা।
                   এই দেখাটি দেখে এলেম
                    ক্ষণকালের মাঝে,
সেই থেকে আজ আমার মনে
          সুরের মতো বাজে।
চাঁপাগাছের আড়াল থেকে
          একলা সাঁঝের তারা
একটুখানি ক্ষীণ মাধুরী
          জাগায় যেমনধারা,
তরল কলধ্বনি যেমন
          বাজে জলের পাকে
গ্রামের ধারে বিজন ঘাটে
          ছোটো নদীর বাঁকে,
লেবুর ডালে খুশি যেমন
          প্রথম জেগে ওঠে
একটু যখন গন্ধ নিয়ে
          একটি কুঁড়ি ফোটে,
দুপুর বেলায় পাখি যেমন--
          দেখতে না পাই যাকে--
ঘন ছায়ায় সমস্ত দিন
          মৃদুল সুরে ডাকে,
তেমনিতরো ওই ছবিটির
          মধুরসের কণা
ক্ষণকালের তরে আমায়
          করেছে আনমনা।
দুঃখসুখের বোঝা নিয়ে
          চলি আপন মনে,
তখন জীবন-পথের ধারে
          গোপন কোণে কোণে
হঠাৎ দেখি চিরাভ্যাসের
          অন্তরালের কাছে
                   লক্ষ্মীদেবীর মালার থেকে
                    ছিন্ন পড়ে আছে
         ধূলির সঙ্গে মিলিয়ে গিয়ে
                    টুকরো রতন কত--
         আজকে আমার এই দেখাটি
                    দেখি তারির মতো।
আরো দেখুন