রাজবিচার
Verses
     রাজস্থান
বিপ্র কহে, রমণী মোর  আছিল যেই ঘরে
নিশীথে সেথা পশিল চোর       ধর্মনাশ-তরে।
বেঁধেছি তারে, এখন কহো       চোরে কী দেব সাজা।'
"মৃত্যু' শুধু কহিলা তারে          রতনরাও রাজা।
ছুটিয়া আসি কহিল দূত,          "চোর সে যুবরাজ--
বিপ্র তাঁরে ধরেছে রাতে,         কাটিল প্রাতে আজ।
ব্রাহ্মণেরে এনেছি ধরে,  কী তারে দিব সাজা?'
"মুক্তি দাও' কহিলা শুধু           রতনরাও রাজা।
আরো দেখুন
পাঠিকা
Verses
          বহিছে হাওয়া উতল বেগে,
আকাশ ঢাকা সজল মেঘে,
          ধ্বনিয়া উঠে কেকা।
করি নি কাজ, পরি নি বেশ,
গিয়েছে বেলা বাঁধি নি কেশ,
          পড়ি তোমারই লেখা।
          
                   ওগো আমারই কবি,
          তোমারে আমি জানি নে কভু,
          তোমার বাণী আঁকিছে তবু
                   অলস মনে অজানা তব ছবি।
          বাদলছায়া হায় গো মরি,
বেদনা দিয়ে তুলেছ ভরি,
          নয়ন মম করিছে ছলোছলো।
          হিয়ার মাঝে কি কথা তুমি বল!
          কোথায় কবে আছিলে জাগি,
          বিরহ তব কাহার লাগি,
                   কোন্‌ সে তব প্রিয়া!
ইন্দ্র তুমি, তোমার শচী--
জানি তাহারে তুলেছ রচি
          আপন মায়া দিয়া।
                   ওগো আমার কবি,
          ছন্দ বুকে যতই বাজে
          ততই সে মূরতিমাঝে
                   জানি না কেন আমারে আমি লভি।
                   নারীহৃদয়-যমুনাতীরে
                   চিরদিনের সোহাগিনীরে
                             চিরকালের শুনাও স্তবগান।
                             বিনা কারণে দুলিয়া ওঠে প্রাণ।
          নাই বা তার শুনিনু নাম,
কভু তাহারে না দেখিলাম,
          কিসের ক্ষতি তায়।
প্রিয়ারে তব যে নাহি জানে
জানে সে তারে তোমার গানে
          আপন চেতনায়।
                    ওগো আমার কবি,
          সুদূর তব ফাগুন-রাতি
          রক্তে মোর উঠিল মাতি,
                   চিত্তে মোর উঠিছে পল্লবি।
          জেনেছ যারে তাহারো মাঝে
          অজানা যেই সে-ই বিরাজে,
                   আমি যে সেই অজানাদের দলে।
                   তোমার মালা এল আমার গলে।
বৃষ্টিভেজা যে ফুলহার
শ্রাবণসাঁঝে তব প্রিয়ার
          বেণীটি ছিল ঘেরি,
গন্ধ তারই স্বপ্নসম
লাগিছে মনে, যেন সে মম
          বিগত জনমেরই।
                   ওগো আমার কবি,
          জান না, তুমি মৃদু কী তানে
          আমারই এই লতাবিতানে
                   শুনায়েছিলে করুণ ভৈরবী।
                   ঘটে নি যাহা আজ কপালে
                   ঘটেছে যেন সে কোন্‌ কালে,
                             আপনভোলা যেন তোমার গীতি
                             বহিছে তারই গভীর বিস্মৃতি।
আরো দেখুন
সন্ধ্যা ও প্রভাত
Stories
এখানে নামল সন্ধ্যা। সূর্যদেব, কোন্‌ দেশে, কোন্‌ সমুদ্রপারে, তোমার প্রভাত হল।
অন্ধকারে এখানে কেঁপে উঠছে রজনীগন্ধা, বাসরঘরের দ্বারের কাছে অবগুণ্ঠিতা নববধূর মতো; কোন্‌খানে ফুটল ভোরবেলাকার কনকচাঁপা।
আরো দেখুন
পরী
Stories
কুসমি বললে, তুমি বড্ড বানিয়ে কথা বল। একটা সত্যিকার গল্প শোনাও-না।
আমি বললুম, জগতে দুরকম পদার্থ আছে। এক হচ্ছে সত্য, আর হচ্ছে--আরও-সত্য। আমার কারবার আরও-সত্যকে নিয়ে।
আরো দেখুন
তারাপ্রসন্নের কীর্তি
Stories
লেখকজাতির প্রকৃতি অনুসারে তারাপ্রসন্ন কিছু লাজুক এবং মুখচোরা ছিলেন। লোকের কাছে বাহির হইতে গেলে তাঁহার সর্বনাশ উপস্থিত হইত। ঘরে বসিয়া কলম চালাইয়া তাঁহার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, পিঠ একটু কুঁজা, সংসারের অভিজ্ঞতা অতি অল্প। লৌকিকতার বাঁধি বোলসকল সহজে তাঁহার মুখে আসিত না, এইজন্য গৃহদুর্গের বাহিরে তিনি আপনাকে কিছুতেই নিরাপদ মনে করিতেন না।
লোকেও তাঁহাকে একটা উজবুক রকমের মনে করিত এবং লোকেরও দোষ দেওয়া যায় না। মনে করো, প্রথম পরিচয়ে একটি পরম ভদ্রলোক উচ্ছ্বসিত কন্ঠে তারাপ্রসন্নকে বলিলেন, "মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হয়ে যে কী পর্যন্ত আনন্দ লাভ করা গেল, তা একমুখে বলতে পারি নে"-- তারাপ্রসন্ন নিরুত্তর হইয়া নিজের দক্ষিণ করতল বিশেষ মনোযোগপূর্বক নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। হঠাৎ সে নীরবতার অর্থ এইরূপ মনে হয়, "তা, তোমার আনন্দ হয়েছে সেটা খুব সম্ভব বটে, কিন্তু আমার-যে আনন্দ হয়েছে এমন মিথ্যা কথাটা কী করে মুখে উচ্চারণ করব তাই ভাবছি।"
আরো দেখুন
গিন্নি
Stories
ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।
প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইত।
আরো দেখুন
প্রাণমন
Stories
আমার জানলার সামনে রাঙা মাটির রাস্তা।
ওখান দিয়ে বোঝাই নিয়ে গোরুর গাড়ি চলে; সাঁওতাল মেয়ে খড়ের আঁটি মাথায় করে হাটে যায়, সন্ধ্যাবেলায় কলহাস্যে ঘরে ফেরে।
আরো দেখুন
বাচস্পতি
Stories
দাদামশায়, তুমি তোমার চার দিকে যেসব পাগলের দল জমিয়েছিলে, গুণ হিসেব ক'রে তাদের বুঝি সব নম্বর দিয়ে রেখেছিলে?
হ্যাঁ, তা করতে হয়েছে বই-কি। কম তো জমে নি।
আরো দেখুন