মালঞ্চ
Novels
পিঠের দিকে বালিশগুলো উঁচু-করা। নীরজা আধ-শোওয়া পড়ে আছে রোগ শয্যায়। পায়ের উপরে সাদা রেশমের চাদর টানা, যেন তৃতীয়ার ফিকে জ্যোৎস্না হালকা মেঘের তলায়। ফ্যাকাশে তার শাঁখের মতো রঙ, ঢিলে হয়ে পড়েছে চুড়ি, রোগা হাতে নীল শিরার রেখা, ঘনপক্ষ্ণ চোখের পল্লবে লেগেছে রোগের কালিমা।
মেঝে সাদা মারবেলে বাঁধানো, দেয়ালে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ছবি, ঘরে পালঙ্ক, একটি টিপাই, দুটি বেতের মোড়ার আর এক কোণে কাপড় ঝোলাবার আলনা ছাড়া অন্য কোনো আসবার নেই; এক কোণে পিতলের কলসীতে রজনীগন্ধার গুচ্ছ, তারই মৃদু গন্ধ বাঁধা পড়েছে ঘরের বন্ধ হাওয়ায়।
আরো দেখুন
Giribala
Stories
GIRIBALA is overflowing with exuberance of youth that seems spilling over in spray all around her,—in the folds of her soft dress, the turning of her neck, the motion of her hands, in the rhythm of her steps, now quick now languid, in her tinkling anklets and ringing laughter, in her voice and glances. She would often been seen, wrapt in a blue silk, walking on her terrace, in an impulse of unaccountable restlessness. Her limbs seem eager to dance to the time of an inner music unceasing and unheard. She takes pleasure in merely moving her body, causing ripples to break out in the flood of her young life. She would suddenly pluck a leaf from a plant in the flower-pot and throw it up in the sky, and her bangles would give a sudden tinkle, and the careless grace of her hand, like a bird freed from its cage, would fly unseen in the air. With her swift fingers she would brush away from her dress a mere nothing; standing on tiptoe she would peep over her terrace walls for no cause whatever, and then with a rapid motion turn round to go to another direction, swinging her bunch of keys tied to a corner of her garment. She would loosen her hair in an untimely caprice, sitting before her mirror to do it up again, and then in a fit of laziness would fling herself upon her bed, like a line of stray moonlight slipping through some opening of the leaves, idling in the shadow.
She has no children and, having been married in a wealthy family, has very little work to do. Thus she seems to be daily accumulating her own self without expenditure, till the vessel is brimming over with the seething surplus. She has her husband, but not under her control. She has grown up from a girl into a woman, yet escaping, through familiarity, her husband's notice.
আরো দেখুন
ফুলটি ঝরে গেছে রে.
Songs
            ফুলটি ঝরে গেছে রে।
বুঝি সে উষার আলো   উষার দেশে চলে গেছে॥
শুধু সে পাখিটি           মুদিয়া আঁখিটি
সারাদিন একলা বসে     গান     গাহিতেছে॥
প্রতিদিন দেখত যারে    আর তো তারে দেখতে না পায়--
তবু সে নিত্যি আসে গাছের শাখে, সেইখেনেতেই বসে থাকে,
সারা দিন   সেই গানটি গায়  সন্ধ্যা হলে কোথায় চলে যায়॥
আরো দেখুন
5
Verses
THE MAN OF faith moves on along pitiless paths strewn with flints over scorching sands and steep mountainous tracks.
They follow him, the strong and the weak, the aged and young,
the rulers of realms, the tillers of the soil.
Some grow weary and footsore, some angry and suspicious.
They ask at every dragging step,
'How much further is the end?'
The Man of faith sings in answer;
they scowl and shake their fists and yet they cannot resist him;
the pressure of the moving mass and indefinite hope push them forward.
They shorten their sleep and curtail their rest,
they out-vie each other in their speed,
they are ever afraid lest they may be too late for their chance while others be more fortunate.
The days pass,
the ever-receding horizon tempts them with renewed lure of the unseen till they are sick.
Their faces harden, their curses grow louder and louder.
আরো দেখুন
ল্যাবরেটরি
Stories
নন্দকিশোর ছিলেন লণ্ডন য়ুনিভার্সিটি থেকে পাস করা এঞ্জিনীয়ার। যাকে সাধুভাষায় বলা যেতে পারে দেদীপ্যমান ছাত্র অর্থাৎ ব্রিলিয়ান্ট, তিনি ছিলেন তাই। স্কুল থেকে আরম্ভ করে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার তোরণে তোরণে ছিলেন পয়লা শ্রেণীর সওয়ারী।
ওঁর বুদ্ধি ছিল ফলাও, ওঁর প্রয়োজন ছিল দরাজ, কিন্তু ওঁর অর্থসম্বল ছিল আঁটমাপের।
আরো দেখুন
যাত্রী
Verses
        আছে, আছে স্থান!
একা তুমি, তোমার শুধু
        একটি আঁটি ধান।
নাহয় হবে, ঘেঁষাঘেঁষি,
এমন কিছু নয় সে বেশি,
নাহয় কিছু ভারী হবে
     আমার তরীখান--
            তাই বলে কি ফিরবে তুমি
                  আছে, আছে স্থান!
            এসো, এসো নায়ে!
ধুলা যদি থাকে কিছু
            থাক্‌-না ধূলা পায়ে।
তনু তোমার তনুলতা,
চোখের কোণে চঞ্চলতা,
সজলনীল-জলদ-বরন
            বসনখানি গায়ে--
                 তোমার তরে হবে গো ঠাঁই--    
                              এসো এসো নায়ে।
            যাত্রী আছে নানা,
নানা ঘাটে যাবে তারা
            কেউ কারো নয় জানা।
তুমিও গো ক্ষণেক-তরে
বসবে আমার তরী-'পরে,
যাত্রা যখন ফুরিয়ে যাবে,
          মান্‌বে না মোর মানা--
                এলে যদি তুমিও এসো,
                       যাত্রী আছে নানা।
       কোথা তোমার স্থান?
কোন্‌ গোলাতে রাখতে যাবে
       একটি আঁটি ধান?
বলতে যদি না চাও তবে
শুনে আমার কী ফল হবে,
ভাবব ব'সে খেয়া যখন
       করব অবসান--
               কোন্‌ পাড়াতে যাবে তুমি,
                    কোথা তোমার স্থান?
আরো দেখুন
মৃত্যুর পরে
Verses
আজিকে হয়েছে শান্তি,
জীবনের ভুলভ্রান্তি
  সব গেছে চুকে।
রাত্রিদিনধুক্‌ধুক্‌
তরঙ্গিত দুঃখসুখ
  থামিয়াছে বুকে।
যত কিছু ভালোমন্দ
যত কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব
  কিছু আর নাই।
বলো শান্তি, বলো শান্তি,
দেহসাথে সব ক্লান্তি
  হয়ে যাক ছাই।
গুঞ্জরি করুক তান
ধীরে ধীরে করো গান
  বসিয়া শিয়রে।
যদি কোথা থাকে লেশ
জীবনস্বপ্নের শেষ
  তাও যাক মরে।
তুলিয়া অঞ্চলখানি
মুখ-'পরে দাও টানি,
  ঢেকে দাও দেহ।
করুণ মরণ যথা
ঢাকিয়াছে সব ব্যথা
  সকল সন্দেহ।
বিশ্বের আলোক যত
দিগ্‌বিদিকে অবিরত
  যাইতেছে বয়ে,
শুধু ওই আঁখি-'পরে
নামে তাহা স্নেহভরে
  অন্ধকার হয়ে।
জগতের তন্ত্রীরাজি
দিনে উচ্চে উঠে বাজি,
  রাত্রে চুপে চুপে
সে শব্দ তাহার 'পরে
চুম্বনের মতো পড়ে
  নীরবতারূপে।
মিছে আনিয়াছ আজি
বসন্তকুসুমরাজি
  দিতে উপহার।
নীরবে আকুল চোখে
ফেলিতেছ বৃথা শোকে
  নয়নাশ্রুধার।
ছিলে যারা রোষভরে
বৃথা এতদিন পরে
  করিছ মার্জনা।
অসীম নিস্তব্ধ দেশে
চিররাত্রি পেয়েছে সে
  অনন্ত সান্ত্বনা।
গিয়েছে কি আছে বসে
জাগিল কি ঘুমাল সে
  কে দিবে উত্তর।
পৃথিবীর শ্রান্তি তারে
ত্যজিল কি একেবারে
  জীবনের জ্বর!
এখনি কি দুঃখসুখে
কর্মপথ-অভিমুখে
  চলেছে আবার।
অস্তিত্বের চক্রতলে
একবার বাঁধা প'লে
  পায় কি নিস্তার।
বসিয়া আপন দ্বারে
ভালোমন্দ বলো তারে
  যাহা ইচ্ছা তাই।
অনন্ত জনমমাঝে
গেছে সে অনন্ত কাজে,
  সে আর সে নাই।
আর পরিচিত মুখে
তোমাদের দুখে সুখে
  আসিবে না ফিরে।
তবে তার কথা থাক্‌,
যে গেছে সে চলে যাক
  বিস্মৃতির তীরে।
জানি না কিসের তরে
যে যাহার কাজ করে
  সংসারে আসিয়া,
ভালোমন্দ শেষ করি
যায় জীর্ণ জন্মতরী
  কোথায় ভাসিয়া।
দিয়ে যায় যত যাহা
রাখো তাহা ফেলো তাহা
  যা ইচ্ছা তোমার।
সে তো নহে বেচাকেনা--
ফিরিবে না, ফেরাবে না
  জন্ম-উপহার।
কেন এই আনাগোনা,
কেন মিছে দেখাশোনা
  দু-দিনের তরে,
কেন বুকভরা আশা,
কেন এত ভালোবাসা
  অন্তরে অন্তরে,
আয়ু যার এতটুক,
এত দুঃখ এত সুখ
  কেন তার মাঝে,
অকস্মাৎ এ সংসারে
কে বাঁধিয়া দিল তারে
  শত লক্ষ কাজে--
হেথায় যে অসম্পূর্ণ,
সহস্র আঘাতে চূর্ণ
  বিদীর্ণ বিকৃত,
কোথাও কি একবার
সম্পূর্ণতা আছে তার
  জীবিত কি মৃত,
জীবনে যা প্রতিদিন
ছিল মিথ্যা অর্থহীন
  ছিন্ন ছড়াছড়ি
মৃত্যু কি ভরিয়া সাজি
তারে গাঁথিয়াছে আজি
  অর্থপূর্ণ করি--
হেথা যারে মনে হয়
শুধু বিফলতাময়
  অনিত্য চঞ্চল
সেথায় কি চুপে চুপে
অপূর্ব নূতন রূপে
  হয় সে সফল--
চিরকাল এই-সব
রহস্য আছে নীরব
  রুদ্ধ-ওষ্ঠাধর।
জন্মান্তের নবপ্রাতে
সে হয়তো আপনাতে
  পেয়েছে উত্তর।
সে হয়তো দেখিয়াছে
পড়ে যাহা ছিল পাছে
  আজি তাহা আগে,
ছোটো যাহা চিরদিন
ছিল অন্ধকারে লীন
  বড়ো হয়ে জাগে।
যেথায় ঘৃণার সাথে
মানুষ আপন হাতে
  লেপিয়াছে কালি
নূতন নিয়মে সেথা
জ্যোতির্ময় উজ্জ্বলতা
  কে দিয়াছে জ্বালি।
কত শিক্ষা পৃথিবীর
খসে পড়ে জীর্ণচীর
  জীবনের সনে,
সংসারের লজ্জাভয়
নিমেষেতে দগ্ধ হয়
  চিতাহুতাশনে।
সকল অভ্যাস-ছাড়া
সর্ব-আবরণ-হারা
  সদ্যশিশুসম
নগ্নমূর্তি মরণের
নিষ্কলঙ্ক চরণের
  সম্মুখে প্রণমো।
আপন মনের মতো
সংকীর্ণ বিচার যত
  রেখে দাও আজ।
ভুলে যাও কিছুক্ষণ
প্রত্যহের আয়োজন,
  সংসারের কাজ।
আজি ক্ষণেকের তরে
বসি বাতায়ন-'পরে
  বাহিরেতে চাহো।
অসীম আকাশ হতে
বহিয়া আসুক স্রোতে
  বৃহৎ প্রবাহ।
উঠিছে ঝিল্লির গান,
তরুর মর্মরতান,
  নদীকলস্বর--
প্রহরের আনাগোনা
যেন রাত্রে যায় শোনা
  আকাশের 'পর।
উঠিতেছে চরাচরে
অনাদি অনন্ত স্বরে
  সংগীত উদার--
সে নিত্য-গানের সনে
মিশাইয়া লহো মনে
  জীবন তাহার।
ব্যাপিয়া সমস্ত বিশ্বে
দেখো তারে সর্বদৃশ্যে
  বৃহৎ করিয়া।
জীবনের ধূলি ধুয়ে
দেখো তারে দূরে থুয়ে
  সম্মুখে ধরিয়া।
পলে পলে দণ্ডে দণ্ডে
ভাগ করি খণ্ডে খণ্ডে
  মাপিয়ো না তারে।
থাক্‌ তব ক্ষুদ্র মাপ
ক্ষুদ্র পুণ্য ক্ষুদ্র পাপ
  সংসারের পারে।
আজ বাদে কাল যারে
ভুলে যাবে একেবারে
  পরের মতন
তারে লয়ে আজি কেন
বিচার-বিরোধ হেন,
  এত আলাপন।
যে বিশ্ব কোলের 'পরে
চিরদিবসের তরে
  তুলে নিল তারে
তার মুখে শব্দ নাহি,
প্রশান্ত সে আছে চাহি
  ঢাকি আপনারে।
বৃথা তারে প্রশ্ন করি,
বৃথা তার পায়ে ধরি,
  বৃথা মরি কেঁদে,
খুঁজে ফিরি অশ্রুজলে--
কোন্‌ অঞ্চলের তলে
  নিয়েছে সে বেঁধে।
ছুটিয়া মৃত্যুর পিছে,
ফিরে নিতে চাহি মিছে,
  সে কি আমাদের?
পলেক বিচ্ছেদে হায়
তখনি তো বুঝা যায়
  সে যে অনন্তের।
চক্ষের আড়ালে তাই
কত ভয় সংখ্যা নাই,
  সহস্র ভাবনা।
মুহূর্ত মিলন হলে
টেনে নিই বুকে কোলে,
  অতৃপ্ত কামনা।
পার্শ্বে বসে ধরি মুঠি,
শব্দমাত্রে কেঁপে উঠি,
  চাহি চারিভিতে,
অনন্তের ধনটিরে
আপনার বুক চিরে
  চাহি লুকাইতে।
হায় রে নির্বোধ নর,
কোথা তোর আছে ঘর,
  কোথা তোর স্থান।
শুধু তোর ওইটুকু
অতিশয় ক্ষুদ্র বুক
  ভয়ে কম্পমান।
ঊর্ধ্বে ওই দেখ্‌ চেয়ে
সমস্ত আকাশ ছেয়ে
  অনন্তের দেশ--
সে যখন এক ধারে
লুকায়ে রাখিবে তারে
  পাবি কি উদ্দেশ?
ওই হেরো সীমাহারা
গগনেতে গ্রহতারা
  অসংখ্য জগৎ,
ওরি মাঝে পরিভ্রান্ত
হয়তো সে একা পান্থ
  খুঁজিতেছে পথ।
ওই দূর-দূরান্তরে
অজ্ঞাত ভুবন-'পরে
  কভু কোনোখানে
আর কি গো দেখা হবে,
আর কি সে কথা কবে,
  কেহ নাহি জানে।
যা হবার তাই হোক,
ঘুচে যাক সর্ব শোক,
  সর্ব মরীচিকা।
নিবে যাক চিরদিন
পরিশ্রান্ত পরিক্ষীণ
  মর্তজন্মশিখা।
সব তর্ক হোক শেষ,
সব রাগ সব দ্বেষ,
  সকল বালাই।
বলো শান্তি, বলো শান্তি,
দেহ-সাথে সব ক্লান্তি
  পুড়ে হোক ছাই।
আরো দেখুন
ক্ষুধিত পাষাণ
Stories
আমি এবং আমার আত্মীয় পূজার ছুটিতে দেশভ্রমণ সারিয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিতেছিলাম, এমন সময় রেলগাড়িতে বাবুটির সঙ্গে দেখা হয়। তাঁহার বেশভূষা দেখিয়া প্রথমটা তাঁহাকে পশ্চিমদেশীয় মুসলমান বলিয়া ভ্রম হইয়াছিল। তাঁহার কথাবার্তা শুনিয়া আরো ধাঁধা লাগিয়া যায়। পৃথিবীর সকল বিষয়েই এমন করিয়া আলাপ করিতে লাগিলেন, যেন তাঁহার সহিত প্রথম পরামর্শ করিয়া বিশ্ববিধাতা সকল কাজ করিয়া থাকেন। বিশ্বসংসারের ভিতরে ভিতরে যে এমন-সকল অশ্রুতপূর্ব নিগূঢ় ঘটনা ঘটিতেছিল, রুশিয়ানরা যে এতদূর অগ্রসর হইয়াছে, ইংরাজদের যে এমন-সকল গোপন মতলব আছে, দেশীয় রাজাদের মধ্যে যে একটা খিচুড়ি পাকিয়া উঠিয়াছে, এ-সমস্ত কিছুই না জানিয়া আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হইয়া ছিলাম। আমাদের নবপরিচিত আলাপটি ঈষৎ হাসিয়া কহিলেন: There happen more things in heaven and earth, Horatio, than are reported in your newspapers।আমরা এই প্রথম ঘর ছাড়িয়া বাহির হইয়াছি, সুতরাং লোকটির রকমসকম দেখিয়া অবাক হইয়া গেলাম। লোকটা সামান্য উপলক্ষে কখনো বিজ্ঞান বলে, কখনো বেদের ব্যাখ্যা করে, আবার হঠাৎ কখনো পার্সি বয়েত আওড়াইতে থাকে। বিজ্ঞান বেদ এবং পার্সিভাষায় আমাদের কোনোরূপ অধিকার না থাকাতে তাঁহার প্রতি আমাদের ভক্তি উত্তরোত্তর বাড়িতে লাগিল। এমন-কি, আমার থিয়সফিস্ট্‌ আত্মীয়টির মনে দৃঢ় বিশ্বাস হইল যে, আমাদের এই সহযাত্রীর সহিত কোনো এক রকমের অলৌকিক ব্যাপারের কিছু-একটা যোগ আছে; কোনো একটা অর্পূব ম্যাগ্‌নেটিজ্‌ম্‌ অথবা দৈবশক্তি, অথবা সূক্ষ্ণ শরীর, অথবা ঐ ভাবের একটা-কিছু। তিনি এই অসামান্য লোকের সমস্ত সামান্য কথাও ভক্তিবিহ্বল মুগ্ধভাবে শুনিতেছিলেন এবং গোপনে নোট করিয়া লইতেছিলেন; আমার ভাবে বোধ হইল, অসামান্য ব্যক্তিটিও গোপনে তাহা বুঝিতে পারিয়াছিলেন এবং কিছু খুশি হইয়াছিলেন।
গাড়িটি আসিয়া জংশনে থামিলে আমরা দ্বিতীয় গাড়ির অপেক্ষায় ওয়েটিংরুমে সমবেত হইলাম। তখন রাত্রি সাড়ে দশটা। পথের মধ্যে একটা কী ব্যাঘাত হওয়াতে গাড়ি অনেক বিলম্বে আসিবে শুনিলাম। আমি ইতিমধ্যে টেবিলের উপর বিছানা পাতিয়া ঘুমাইব স্থির করিয়াছি, এমন সময়ে সেই অসামান্য ব্যক্তিটি নিম্নলিখিত গল্প ফাঁদিয়া বসিলেন। সে রাত্রে আমার আর ঘুম হইল না।
আরো দেখুন
পণরক্ষা
Stories
বংশীবদন তাহার ভাই রসিককে যেমন ভালোবাসিত এমন করিয়া সচরাচর মাও ছেলেকে ভালোবাসিতে পারে না। পাঠশালা হইতে রসিকের আসিতে যদি কিছু বিলম্ব হইত তবে সকল কাজ ফেলিয়া সে তাহার সন্ধানে ছুটিত। তাহাকে না খাওয়াইয়া সে নিজে খাইতে পারিত না। রসিকের অল্প কিছু অসুখবিসুখ হইলেই বংশীর দুই চোখ দিয়া ঝর্‌ঝর্‌ করিয়া জল ঝরিতে থাকিত।
রসিক বংশীর চেয়ে ষোলো বছরের ছোটো। মাঝে যে কয়টি ভাইবোন জন্মিয়াছিল সবগুলিই মারা গিয়াছে। কেবল এই সব-শেষেরটিকে রাখিয়া, যখন রসিকের এক বছর বয়স, তখন তাহার মা মারা গেল এবং রসিক যখন তিন বছরের ছেলে তখন সে পিতৃহীন হইল। এখন রসিককে মানুষ করিবার ভার একা এই বংশীর উপর।
আরো দেখুন
নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
বদনাম
Stories
ক্রিং ক্রিং ক্রিং সাইকেলের আওয়াজ; সদর দরজার কাছে লাফ দিয়ে নেমে পড়লেন ইন্‌স্‌পেক্টার বিজয়বাবু। গায়ে ছাঁটা কোর্তা, কোমরে কোমরবন্ধ, হাফ-প্যাণ্টপরা, চলনে কেজো লোকের দাপট। দরজার কড়া নাড়া দিতেই গিন্নি এসে খুলে দিলেন।
ইন্‌স্‌পেক্টার ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই ঝংকার দিয়ে উঠলেন--'এমন করে তো আর পারি নে, রাত্তিরের পর রাত্তির খাবার আগলে রাখি! তুমি কত চোর ডাকাত ধরলে, সাধু সজ্জনও বাদ গেল না, আর ঐ একটা লোক অনিল মিত্তিরের পিছন পিছন তাড়া করে বেড়াচ্ছ, সে থেকে থেকে তোমার সামনে এসে নাকের উপর বুড়ো আঙুল নাড়া দিয়ে কোথায় দৌড় মারে তার ঠিকানা নেই। দেশসুদ্ধ লোক তোমার এই দশা দেখে হেসে খুন, এ যেন সার্কাসের খেলা হচ্ছে।'
আরো দেখুন
বিচারক
Verses
পন্ডিত শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন-প্রণীত চরিতমালা হইতে গৃহীত।
অ্যাকওয়ার্থ সাহেব-প্রণীত Ballads of the Marathas নামক গ্রন্থে রঘুনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র নারায়ণ রাওয়ের হত্যা সম্বন্ধে প্রচলিত মারাঠি গাথার ইংরেজি অ্যানুবাদ প্রকাশিত হইয়াছে।
পুণ্য নগরে রঘুনাথ রাও
          পেশোয়া-নৃপতি-বংশ
রাজাসনে উঠি কহিলেন বীর,
"হরণ করিব ভার পৃথিবীরড্ড
মৈসুরপতি হৈদরালির
            দর্প করিব ধ্বংস।'
দেখিতে দেখিতে পুরিয়া উঠিল
          সেনানী আশি সহস্র।
নানা দিকে দিকে নানা পথে পথে
মারাঠার যত গিরিদরি হতে
বীরগণ যেন শ্রাবণের স্রোতে
          ছুটিয়া আসে অ্যাজস্র।
উড়িল গগনে বিজয়পতাকা,
          ধ্বনিল শতেক শঙ্খ।
হুলুরব করে অ্যাঙ্গনা সবে,
মারাঠা-নগরী কাঁপিল গরবে,
রহিয়া রহিয়া প্রলয়-আরবে
          বাজে ভৈরব ডঙ্ক।
ধুলার আড়ালে ধ্বজ-অ্যারণ্যে
          লুকালো প্রভাতসূর্য।
রক্ত অ্যাশ্বে রঘুনাথ চলে,
আকাশ বধির জয়কোলাহলে--
সহসা যেন কী মন্ত্রের বলে
          থেমে গেল রণতূর্য!
সহসা কাহার চরণে ভূপতি
          জানালো পরম দৈন্য?
সমরোন্মাদে ছুটিতে ছুটিতে
সহসা নিমেষে কার ইঙ্গিতে
সিংহদুয়ার থামিল চকিতে
          আশি সহস্র সৈন্য?
ব্রাহ্মণ আসি দাঁড়ালো সমুখে
          ন্যায়াধীশ রামশাস্ত্রী।
দুই বাহু তাঁর তুলিয়া উধাও
কহিলেন ডাকি, "রঘুনাথ রাও,
নগর ছাড়িয়া কোথা চলে যাও,
          না লয়ে পাপের শাস্তি?'
নীরব হইল জয়কোলাহল,
          নীরব সমরবাদ্য।
"প্রভু, কেন আজি' কহে রঘুনাথ,
"অ্যাসময়ে পথ রুধিলে হঠাৎ!
চলেছি করিতে যবননিপাত,
          জোগাতে যমের খাদ্য।'
কহিলা শাস্ত্রী, "বধিয়াছ তুমি
          আপন ভ্রাতার পুত্রে।
বিচার তাহার না হয় য'দিন
ততকাল তুমি নহ তো স্বাধীন,
বন্দী রয়েছ অ্যামোঘ কঠিন
          ন্যায়ের বিধানসূত্রে।'
রুষিয়া উঠিলা রঘুনাথ রাও,
          কহিলা করিয়া হাস্য,
"নৃপতি কাহারো বাঁধন না মানে--
চলেছি দীপ্ত মুক্ত কৃপাণে,
শুনিতে আসি নি পথমাঝখানে
          ন্যায়বিধানের ভাষ্য।'
কহিলা শাস্ত্রী, "রঘুনাথ রাও,
          যাও করো গিয়ে যুদ্ধ!
আমিও দণ্ড ছাড়িনু এবার,
ফিরিয়া চলিনু গ্রামে আপনার,
বিচারশালার খেলাঘরে আর
          না রহিব অ্যাবরুদ্ধ।'
বাজিল শঙ্খ, বাজিল ডঙ্ক,
          সেনানী ধাইল ক্ষিপ্র।
ছাড়ি দিয়া গেলা গৌরবপদ,
দূরে ফেলি দিলা সব সম্পদ,
গ্রামের কুটিরে চলি গেলা ফিরে
          দীন দরিদ্র বিপ্র।
আরো দেখুন