85
Verses
দুর্দিন ঘনায়ে এল ঘন অন্ধকারে
হে প্রাণেশ। দিগ্‌বিদিক বৃষ্টিবারিধারে
ভেসে যায়, কুটিল কটাক্ষে হেসে যায়
নিষ্ঠুর বিদ্যুৎ-শিখা, উতরোল বায়
তুলিল উতলা করি অরণ্য কানন।
আজি তুমি ডাকো অভিসারে, হে মোহন,
হে জীবনস্বামী। অশ্রুসিক্ত বিশ্ব-মাঝে
কোনো দুঃখে, কোনো ভয়ে, কোনো বৃথা কাজে
রহিব না রুদ্ধ হয়ে। এ দীপ আমার
পিচ্ছিল তিমিরপথে যেন বারম্বার
নিবে নাহি যায়, যেন আর্দ্র সমীরণে
তোমার আহ্বান বাজে। দুঃখের বেষ্টনে
দুর্দিন রচিল আজি নিবিড় নির্জন,
হোক আজি তোমা-সাথে একান্ত মিলন।
আরো দেখুন
আনমনা
Verses
                    আনমনা গো, আনমনা,
          তোমার কাছে আমার বাণীর মালাখানি আনব না।
                      বার্তা আমার ব্যর্থ হবে,
                          সত্য আমার বুঝবে কবে?
                      তোমারো মন জানব না,
                       আন্‌মনা গো, আন্‌মনা।
                লগ্ন যদি হয় অনুকূল মৌন মধুর সাঁঝে,
             নয়ন তোমার মগ্ন যখন ম্লান আলোর মাঝে,
                   দেব তোমায় শান্ত সুরের সান্ত্বনা,
                       আনমনা গো, আনমনা।
          জনশূন্য তটের পানে ফিরবে হাঁসের দল;
                       স্বচ্ছ নদীর জল
                আকাশ-পানে রইবে পেতে কান
             বুকের তলে শুনবে ব'লে গ্রহতারার গান;
                       কুলায়-ফেরা পাখি
       নীল আকাশের বিরামখানি রাখবে ডানায় ঢাকি;
                বেণুশাখার অন্তরালে অস্তপারের রবি
       আঁকবে মেঘে মুছবে আবার শেষ-বিদায়ের ছবি;
          স্তব্ধ হবে দিনের বেলার ক্ষুব্ধ হাওয়ার দোলা,
              তখন তোমার মন যদি রয় খোলা --
                       তখন সন্ধ্যাতারা
                   পায় যদি তার সাড়া
              তোমার উদার আঁখিতারার পারে,
          কনকচাঁপার গন্ধ-ছোঁওয়া বনের অন্ধকারে
       ক্লান্তি-অলস ভাব্‌না যদি ফুল-বিছানো ভুঁয়ে
            মেলিয়ে ছায়া এলিয়ে থাকে শুয়ে;
          ছন্দে গাঁথা বাণী তখন পড়ব তোমার কানে
                   মন্দ মৃদুল তানে --
          ঝিল্লি যেমন শালের বনে নিদ্রানীরব রাতে
       অন্ধকারের জপের মালায় একটানা সুর গাঁথে।
             একলা তোমার বিজন প্রাণের প্রাঙ্গণে
                   প্রান্তে বসে একমনে
             এঁকে যাব আমার গানের আল্‌পনা
                   আনমনা গো, আনমনা।
আরো দেখুন
দর্পহরণ
Stories
কী করিয়া গল্প লিখিতে হয়, তাহা সম্প্রতি শিখিয়াছি। বঙ্কিমবাবু এবং সার্‌ ওয়াল্‌টার স্কট পড়িয়া আমার বিশেষ ফল হয় নাই। ফল কোথা হইতে কেমন করিয়া হইল, আমার এই প্রথম গল্পেই সেই কথাটা লিখিতে বসিলাম।
আমার পিতার মতামত অনেকরকম ছিল; কিন্তু বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কোনো মত তিনি কেতাব বা স্বাধীনবুদ্ধি হইতে গড়িয়া তোলেন নাই। আমার বিবাহ যখন হয় তখন সতেরো উত্তীর্ণ হইয়া আঠারোয় পা দিয়াছি; তখন আমি কলেজে থার্ডইয়ারে পড়ি-- এবং তখন আমার চিত্তক্ষেত্রে যৌবনের প্রথম দক্ষিণবাতাস বহিতে আরম্ভ করিয়া কত অলক্ষ্য দিক হইতে কত অনির্বচনীয় গীতে এবং গন্ধে, কম্পনে এবং মর্মরে আমার তরুণ জীবনকে উৎসুক করিয়া তুলিতেছিল, তাহা এখনো মনে হইলে বুকের ভিতরে দীর্ঘনিশ্বাস ভরিয়া উঠে।
আরো দেখুন
মুক্তি
Stories
বিরহিণী তার ফুলবাগানের এক ধারে বেদী সাজিয়ে তার উপর মূর্তি গড়তে বসল। তার মনের মধ্যে যে মানুষটি ছিল বাইরে তারই প্রতিরূপ প্রতিদিন একটু একটু করে গড়ে, আর চেয়ে চেয়ে দেখে, আর ভাবে, আর চোখ দিয়ে জল পড়ে।
কিন্তু, যে রূপটি একদিন তার চিত্তপটে স্পষ্ট ছিল তার উপরে ক্রমে যেন ছায়া পড়ে আসছে। রাতের বেলাকার পদ্মের মতো স্মৃতির পাপড়িগুলি অল্প অল্প করে যেন মুদে এল।
আরো দেখুন
পান্নালাল
Stories
দাদামশায়, তোমার পাগলের দলের মধ্যে পান্নালাল ছিল খুব নতুন রকমের।
জান, দিদি? তোমার পাগলরা প্রত্যেকেই নতুন, কারও সঙ্গে কারও মিল হয় না। যেমন তোমার দাদামশায়। বিধাতার নতুন পরীক্ষা। ছাঁচ তিনি ভেঙে ফেলেন। সাধারণ লোকের বুদ্ধিতে মিল হয়, অসাধারণ পাগলের মিল হয় না। তোমাকে একটা উদাহরণ দেখাই--
আরো দেখুন
হৃদয়-আকাশ
Verses
আমি ধরা দিয়েছি গো আকাশের পাখি,
নয়নে দেখেছি তব নূতন আকাশ।
দুখানি আঁখির পাতে কী রেখেছ ঢাকি,
হাসিলে ফুটিয়া পড়ে উষার আভাস।
হৃদয় উড়িতে চায় হোথায় একাকী
আঁখি-তারকার দেশে করিবারে বাস।
ঐ গগনেতে চেয়ে উঠিয়াছে ডাকি,
হোথায় হারাতে চায় এ গীত-উচ্ছ্বাস।
তোমার হৃদয়াকাশ অসীম বিজন--
বিমল নীলিমা তার শান্ত সুকুমার,
যদি নিয়ে যাই ওই শূন্য হয়ে পার
আমার দুখানি পাখা কনক বরন।
হৃদয় চাতক হয়ে চাবে অশ্রুধার,
হৃদয় চকোর চাবে হাসির কিরণ।
আরো দেখুন
চামেলিবিতান
Verses
চামেলিবিতানের নীচের ছায়ায় আমি বসতুম-- ময়ূর এসে বসত উপরে, লতার আশ্রয়বেষ্টনী থেকে পুচ্ছ ঝুলিয়ে।  জানি সে আমাকে কিছুমাত্র সম্মান করত না, কিন্তু সৌন্দর্যের যে অর্ঘ্যভার সে বহন করে বেড়াত, তার অজ্ঞাতে আমি নিজেই সেটি প্রতিদিন গ্রহণ করেছি।  এমন অসংকোচে সে যে দেখা দিয়ে যায় এতে আমি কৃতজ্ঞ ছিলুম, সে যে আমাকে ভয় করে নি এ আমার সৌভাগ্য।  আরো তার কয়েকটি সঙ্গী সঙ্গিনী ছিল কিন্তু দূরের দুরাশায় ওদের কোথায় টেনে নিয়ে গেল, আমিও চলে এসেছি সেই চামেলির সুগন্ধি ছায়ার আশ্রয় থেকে অন্য জায়গায়।  বাইরে থেকে এই পরিবর্তনগুলি বেশি কিছু নয়, তবু অন্তরের মধ্যে ভাঙাচোরার দাগ কিছু কিছু থেকে যায়।  শুনেছিলুম আমাদের প্রদেশে কোনো-এক নদীগর্ভজাত দ্বীপ ময়ূরের আশ্রয়।  ময়ূর হিন্দুর অবধ্য।  মৃগয়াবিলাসী ইংরেজ এই দ্বীপের নিষেধকে উপেক্ষা করতে পারে নি অথচ গুলি করে ময়ূর মারবার প্রবল আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হওয়াতে পার্শবর্তী দ্বীপে খাদ্যের প্রলোভন বিস্তার করে ভুলিয়ে নিয়ে এসে ময়ূর মারত। বাল্মীকির শাপকে এ যুগের কবি পুনরায় প্রচার না করে থাকতে পারল না।
মা নিষাদঃ প্রতিষ্ঠাং ত্বং
অগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃ।
ময়ূর, কর নি মোরে ভয়,
সেই গর্ব, সেই মোর জয়।
  বাহিরেতে আমলকী
  করিতেছে ঝকমকি,
     বটের উঠেছে কচি পাতা,
  হোথায় দুয়ার থেকে
  আমারে গিয়েছ দেখে,
          খুলিয়া বসেছি মোটা খাতা।
লিখিতেছি নিজ মনে--
হেরি তাই আঁখিকোণে
          অবজ্ঞায় ফিরে যাও চলি,
বোঝ না, লেখনী ধরি
কী যে এত খুঁটে মরি,
          আমারে জেনেছ মূঢ় বলি।
সেই ভালো জান যদি তাই,
তাহে মোরে কোনো খেদ নাই।
তবু আমি খুশি আছি,
আস তুমি কাছাকছি,
          মোরে দেখে নাহি কর ত্রাস।
যদিও মানব,তবু
আমারে কর না কভু
          দানব বলিয়া অবিশ্বাস।
সুন্দরের দূত তুমি,
এ ধূলির মর্তভূমি,
          স্বর্গের প্রাসাদ হেথা আন,
তবুও বাধি না তোরে,
বাঁধি না পিঞ্জরে ধরে,
          এও কি আশ্চর্য নাহি মান।
কাননের এই এক কোণা,
হেথায় তোমার আনাগোনা।
চামেলিবিতানতল
মোর বসিবার স্থল,
          দিন যবে অবসান হয়।
হেথা আস কী যে  ভাবি,
মোর চেয়ে তোর দাবি
          বেশি বৈ কম কিছু নয়।
জ্যোৎস্না ডালের ফাঁকে
হেথা আলপনা আঁকে,
          এ নিকুঞ্জ জানে আপনার।
কচি পাতা যে বিশ্বাসে
দ্বিধাহীন হেথা আসে,
          তোমার তেমনি অধিকার।
বর্ণহীন রিক্ত মোর সাজ,
তারি লাগি পাছে পাই লাজ,
বর্ণে বর্ণে আমি তাই
ছন্দ রচিবারে চাই,
          সুরে সুরে গীতচিত্র করি।
আকাশেরে বাসি ভালো,
সকাল-সন্ধ্যার আলো
          আমার প্রাণের বর্ণে ভরি।
ধরায় যেখানে তাই,
তোমার গৌরব-ঠাঁই
          সেথায় আমারো ঠাঁই হয়।
সুন্দরের অনুরাগে
তাই মোর গর্ব লাগে,
          মোরে তুমি কর নাই ভয়।
তোমার আমার তরে জানি
মধুরের এই রাজধানী।
তোর নাচ, মোর গীতি,
রূপ তোর, মোর প্রীতি,
          তোর বর্ণ, আমার বর্ণনা--
শোভনের নিমন্ত্রণে
চলি মোরা দুইজনে,
          তাই তুই আমার আপনা।
সহজ রঙ্গের রঙ্গী
ওই যে গ্রীবার ভঙ্গি,
          বিস্ময়ের নাহি পাই পার।
তুমি-যে শঙ্কা না পাও,
নিঃসংশয়ে আস যাও,
          এই মোর নিত্য পুরস্কার।
নাশ করে যে-অগ্নেয় বাণ
মুহূর্তে অমূল্য তোর প্রাণ--
তার লাগি বসূন্ধরা
হয় নি সবুজে ভরা,
          তার লাগি ফুল নাহি ধরে।
যে-বসন্তে প্রাণে প্রাণে
বেদনার সুধা আনে
          সে বসন্ত নহে তার তরে।
ছন্দ ভেঙে দেয় সে যে,
অকস্মাৎ উঠে বেজে
          অর্থহীন চকিত চীৎকার,
ধূমাচ্ছন্ন অবিশ্বাস
বিশ্ববক্ষে হানে ত্রাস,
          কুটিল সংশয় কদাকার।
সৃষ্টিছাড়া এই-যে উৎপাত
হানে দানবের পদাঘাত
পুণ্য পৃথিবীর শিরে--
তার লজ্জা তুই কি রে
          আনিতে পারিবি তোর মনে।
অকৃতজ্ঞ নিষ্ঠুরতা
সৌন্দর্যেরে দেয় ব্যথা
          কেন যে তা বুঝিবি কেমনে।
কেন যে কদর্য ভাষা
বিধাতার ভালোবাসা
          বিদ্রূপে করিছে ছারখার,
যে হস্ত দানেরি তরে
তারি রক্তপাত করে,
          সেই লজ্জা নিখিলজনার।
আরো দেখুন
বেলা যায় বহিয়া
Songs
         বেলা    যায় বহিয়া,
                        দাও কহিয়া
                             কোন্‌ বনে যাব শিকারে।
                   কাজল মেঘে সজল বায়ে
                        হরিণ ছুটে বেণুবনচ্ছায়ে।
আরো দেখুন
চন্দনী
Stories
জানোই তো সেদিন কী কাণ্ড। একেবারে তলিয়ে গিয়েছিলেম আর-কি, কিন্তু তলায় কোথায় যে ফুটো হয়েছে তার কোনো খবর পাওয়া যায় নি। না মাথা ধরা, না মাথা ঘোরা, না গায়ে কোথাও ব্যথা, না পেটের মধ্যে একটুও খোঁচাখুঁচির তাগিদ। যমরাজার চরগুলি খবর আসার সব দরজাগুলো বন্ধ করে ফিস্‌ ফিস্‌ ক'রে মন্ত্রণা করছিল। এমন সুবিধে আর হয় না! ডাক্তারেরা কলকাতায় নব্বই মাইল দূরে। সেদিনকার এই অবস্থা।
সন্ধে হয়ে এসেছে। বারান্দায় বসে আছি। ঘন মেঘ ক'রে এল। বৃষ্টি হবে বুঝি। আমার সভাসদ্‌রা বললে, ঠাকুরদা, একসময় শুনেছি তুমি মুখে মুখে গল্প ব'লে শোনাতে, এখন শোনাও না কেন।
আরো দেখুন
সমস্যাপূরণ
Stories
ঝিঁকড়কোটার কৃষ্ণগোপাল সরকার জ্যেষ্ঠপুত্রের প্রতি জমিদারি এবং সংসারের ভার দিয়া কাশী চলিয়া গেলেন। দেশের যত অনাথ দরিদ্র লোক তাঁহার জন্য হাহাকার করিয়া কাঁদিতে লাগিল। এমন বদান্যতা, এমন ধর্মনিষ্ঠতা কলিযুগে দেখা যায় না, এই কথা সকলেই বলিতে লাগিল।
তাঁহার পুত্র বিপিনবিহারী আজকালকার একজন সুশিক্ষিত বি-এ। দাড়ি রাখেন, চশমা পরেন, কাহারও সহিত বড়ো একটা মিশেন না। অতিশয় সচ্চরিত্র-- এমন কি, তামাকটি পর্যন্ত খান না, তাস পর্যন্ত খেলেন না। অত্যন্ত ভালোমানুষের মতো চেহারা, কিন্তু লোকটা ভারি কড়াক্কড়।
আরো দেখুন
গুপ্তধন
Stories
অমাবস্যার নিশীথ রাত্রি। মৃত্যুঞ্জয় তান্ত্রিক মতে তাহাদের বহুকালের গৃহদেবতা জয়কালীর  পূজায় বসিয়াছে। পূজা সমাধা করিয়া যখন  উঠিল তখন  নিকটস্থ  আমবাগান হইতে প্রত্যুষের প্রথম কাক ডাকিল।
মৃত্যুঞ্জয়  পশ্চাতে ফিরিয়া  চাহিয়া দেখিলেন মন্দিরের দ্বার রূদ্ধ রহিয়াছে।  তখন সে একবার দেবীর চরণতলে মস্তক  ঠেকাইয়া তাঁহার  আসন সরাইয়া দিল।  সেই আসনের নীচে হইতে  একটি  কাঁঠালকাঠের বাক্স  বাহির হইল।  পৈতায়  চাবি  বাঁধা  ছিল।  সেই চাবি লাগাইয়া  মৃত্যুঞ্জয়  বাক্সটি খুলিল।   খুলিবামাত্রই  চমকিয়া  উঠিয়া  মাথায়ে  করাঘাত করিল।
আরো দেখুন
ম্যানেজারবাবু
Stories
আজ তোমাকে যে গল্পটা বলব মনে করেছি সেটা তোমার ভালো লাগবে না।
তুমি বললেও ভালো লাগবে না কেন।
আরো দেখুন