ইঁদুরের ভোজ
Stories
ছেলেরা বললে, ভারি অন্যায়, আমরা নতুন পণ্ডিতের কাছে কিছুতেই পড়ব না।
নতুন পণ্ডিতমশায় যিনি আসছেন তাঁর নাম কালীকুমার তর্কালঙ্কার।
আরো দেখুন
সতেরো বছর
Stories
আমি তার সতেরো বছরের জানা।
কত আসাযাওয়া, কত দেখাদেখি, কত বলাবলি; তারই আশেপাশে কত স্বপ্ন, কত অনুমান, কত ইশারা; তারই সঙ্গে সঙ্গে কখনো বা ভোরের ভাঙা ঘুমে শুকতারার আলো, কখনো বা আষাঢ়ের ভরসন্ধ্যায় চামেলিফুলের গন্ধ, কখনো বা বসন্তের শেষ প্রহরে ক্লান্ত নহবতের পিলুবারোয়াঁ; সতেরো বছর ধরে এই-সব গাঁথা পড়েছিল তার মনে।
আরো দেখুন
বারে বারে ফিরে ফিরে
Songs
বারে বারে ফিরে ফিরে তোমার পানে
    দিবারাতি ঢেউয়ের মতো চিত্ত বাহু হানে,
        মন্দ্রধ্বনি জেগে ওঠে উল্লোল তুফানে।
        রাগরাগিণী উঠে আবর্তিয়া        তরঙ্গে নর্তিয়া
                গহন হতে উচ্ছলিত স্রোতে।
ভৈরবী রামকেলি         পূরবী কেদারা   উচ্ছ্বসি যায় খেলি,
ফেনিয়ে ওঠে জয়জয়ন্তী বাগেশ্রী কানাড়া           গানে গানে॥
        তোমায় আমার ভেসে
                গানের বেগে যাব নিরুদ্দেশে।
তালী-তমালী-বনরাজি-নীলা     বেলাভূমিতলে ছন্দের লীলা--
        যাত্রাপথে পালের হাওয়ায় হাওয়ায়
        তালে তালে তালে তানে॥
আরো দেখুন
বাঁশি
Stories
বাঁশির বাণী চিরদিনের বাণী--শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা, প্রতি দিনের মাটির বুক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশু নেমে এল মর্ত্যের ধূলি দিয়ে স্বর্গ-স্বর্গ খেলতে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শুনি আর মন যে কেমন করে বুঝতে পারি নে। সেই ব্যথাকে চেনা সুখদুঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজ্জ্বল, চেনা চোখের জলের চেয়ে সে গভীর।
আরো দেখুন
ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা
Verses
              ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা
প্রভু,       তোমার পানে, তোমার পানে, তোমার পানে।
              যায় যেন মোর সকল গভীর আশা
প্রভু,       তোমার কানে, তোমার কানে, তোমার কানে।
              চিত্ত মম যখন যেথায় থাকে,
              সাড়া যেন দেয় সে তোমার ডাকে,
              যত বাধা সব টুটে যায় যেন
প্রভু,       তোমার টানে, তোমার টানে, তোমার টানে।
              বাহিরের এই ভিক্ষাভরা থালি
              এবার যেন নিঃশেষে হয় খালি,
              অন্তর মোর গোপনে যায় ভরে
প্রভু,       তোমার দানে, তোমার দানে, তোমার দানে।
             হে বন্ধু মোর, হে অন্তরতর,
            এ জীবনে যা-কিছু সুন্দর
            সকলি আজ বেজে উঠুক সুরে
প্রভু,       তোমার গানে, তোমার গানে, তোমার গানে।
আরো দেখুন
ম্যানেজারবাবু
Stories
আজ তোমাকে যে গল্পটা বলব মনে করেছি সেটা তোমার ভালো লাগবে না।
তুমি বললেও ভালো লাগবে না কেন।
আরো দেখুন
কাছে যবে ছিল
Songs
কাছে যবে ছিল পাশে হল না যাওয়া,
     চলে যবে গেল তারি লাগিল হাওয়া ॥
          যবে ঘাটে ছিল নেয়ে    তারে দেখি নাই চেয়ে,
              দূর হতে শুনি স্রোতে তরণী-বাওয়া ॥
যেখানে হল না খেলা সে খেলাঘরে
     আজি নিশিদিন মন কেমন করে।
          হারানো দিনের ভাষা    স্বপ্নে আজি বাঁধে বাসা,
              আজ শুধু আঁখিজলে পিছনে চাওয়া ॥
আরো দেখুন
রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
Stories
যাহারা বলে, গুরুচরণের মৃত্যুকালে তাঁহার দ্বিতীয় পক্ষের সংসারটি অন্তঃপুরে বসিয়া তাস খেলিতেছিলেন, তাহারা বিশ্বনিন্দুক, তাহারা তিলকে তাল করিয়া তোলে। আসলে গৃহিণী তখন এক পায়ের উপর বসিয়া দ্বিতীয় পায়ের হাঁটু চিবুক পর্যন্ত উত্থিত করিয়া কাঁচা তেঁতুল, কাঁচা লঙ্কা এবং চিংড়িমাছের ঝালচচ্চড়ি দিয়া অত্যন্ত মনোযোগের সহিত পান্তাভাত খাইতেছিলেন। বাহির হইতে যখন ডাক পড়িল, তখন স্তূপাকৃতি চর্বিত ডাঁটা এবং নিঃশেষিত অন্নপাত্রটি ফেলিয়া গম্ভীরমুখে কহিলেন, "দুটো পান্তাভাত-যে মুখে দেব, তারও সময় পাওয়া যায় না।"
এ দিকে ডাক্তার যখন জবাব দিয়া গেল তখন গুরুচরণের ভাই রামকানাই রোগীর পার্শ্বে বসিয়া ধীরে ধীরে কহিলেন, "দাদা, যদি তোমার উইল করিবার ইচ্ছা থাকে তো বলো!" গুরুচরণ ক্ষীণস্বরে বলিলেন, "আমি বলি, তুমি লিখিয়া লও।" রামকানাই কাগজকলম লইয়া প্রস্তুত হইলেন। গুরুচরণ বলিয়া গেলেন, "আমার স্থাবর অস্থাবর সমস্ত বিষয়সম্পত্তি আমার ধর্মপত্নী শ্রীমতী বরদাসুন্দরীকে দান করিলাম।" রামকানাই লিখিলেন- কিন্তু লিখিতে তাঁহার কলম সরিতেছিল না। তাঁহার বড়ো আশা ছিল, তাঁহার একমাত্র পুত্র নবদ্বীপ অপুত্রক জ্যাঠামহাশয়ের সমস্ত বিষয়সম্পত্তির অধিকারী হইবে। যদিও দুই ভাইয়ে পৃথগন্ন ছিলেন, তথাপি এই আশায় নবদ্বীপের মা নবদ্বীপকে কিছুতেই চাকরি করিতে দেন নাই-- এবং সকাল-সকাল বিবাহ দিয়াছিলেন, এবং শত্রুর মুখে ভস্ম নিক্ষেপ করিয়া বিবাহ নিষ্ফল হয় নাই। কিন্তু তথাপি রামকানাই লিখিলেন এবং সই করিবার জন্য কলমটা দাদার হাতে দিলেন। গুরুচরণ নির্জীব হস্তে যাহা সই করিলেন, তাহা কতকগুলা কম্পিত বক্ররেখা কি তাঁহার নাম, বুঝা দুঃসাধ্য।
আরো দেখুন
কৃতঘ্ন শোক
Stories
ভোরবেলায় সে বিদায় নিলে।
আমার মন আমাকে বোঝাতে বসল, 'সবই মায়া।'
আরো দেখুন