বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
বউ-ঠাকুরানীর হাট
Novels
অন্তর্বিষয়ী ভাবের কবিত্ব থেকে বহির্বিষয়ী কল্পনালোকে একসময়ে মন যে প্রবেশ করলে, ইতস্তত ঘুরে বেড়াতে লাগল, এ বোধ হয় কৌতূহল থেকে।
প্রাচীর-ঘেরা মন বেরিয়ে পড়ল বাইরে, তখন সংসারের বিচিত্র পথে তার যাতায়াত আরম্ভ হয়েছে। এই সময়টাতে তার লেখনী গদ্যরাজ্যে নূতন ছবি নূতন নূতন অভিজ্ঞতা খুঁজতে চাইলে। তারই প্রথম প্রয়াস দেখা দিল বউ-ঠাকুরানীর হাট গল্পে-- একটা রোমান্টিক ভূমিকায় মানবচরিত্র নিয়ে খেলার ব্যাপারে, সেও অল্পবয়সেরই খেলা। চরিত্রগুলির মধ্যে যেটুকু জীবনের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে সেটা পুতুলের ধর্ম ছাড়িয়ে উঠতে পারে নি। তারা আপন চরিত্রবলে অনিবার্য পরিণামে চালিত নয়, তারা সাজানো জিনিস একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে। আজও হয়তো এই গল্পটার দিকে ফিরে চাওয়া যেতে পারে। এ যেন অশিক্ষিত আঙুলের আঁকা ছবি; সুনিশ্চিত মনের পাকা হাতের চিহ্ন পড়ে নি তাতে। কিন্তু আর্টের খেলাঘরে ছেলেমানুষিরও একটা মূল্য আছে। বুদ্ধির বাধাহীন পথে তার খেয়াল যা-তা কাণ্ড করতে বসে, তার থেকে প্রাথমিক মনের একটা কিছু কারিগরি বেরিয়ে পড়ে।
"বঁধুয়া অসময়ে কেন হে প্রকাশ?
সকলি যে স্বপ্ন বলে হতেছে বিশ্বাস।
চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে ছিলে,      সেথায় তো আদর মিলে?
এরি মধ্যে মিটিল কি প্রণয়েরি আশ?
এখনো তো রয়েছে রাত      এখনো হয় নি প্রভাত,
এখনো এ রাধিকার ফুরায় নি তো অশ্রুপাত।
চন্দ্রাবলীর কুসুমসাজ       এখনি কি শুকাল আজ?
চকোর হে, মিলাল কি সে চন্দ্রমুখের মধুর হাস?"
"আজ তোমারে দেখতে এলেম অনেক দিনের পরে।
ভয় নাইকো সুখে থাকো,
অধিক ক্ষণ থাকব নাকো।
আসিয়াছি দুদণ্ডেরি তরে।
দেখব শুধু মুখখানি
শুনব দুটি মধুর বাণী
আড়াল থেকে হাসি দেখে চলে যাব দেশান্তরে।"
"মলিন মুখে ফুটুক হাসি জুড়াক দু-নয়ন।"
"মলিন মুখে ফুটুক হাসি, জুড়াক দু-নয়ন।
মলিন বসন ছাড়ো সখী, পরো আভরণ।"
হাসিরে পায়ে ধরে রাখিবি কেমন করে,
হাসির সে প্রাণের সাধ ও অধরে খেলা করে।
"সারা বরষ দেখি নে মা, মা তুই আমার কেমনধারা,
নয়নতারা হারিয়ে আমার অন্ধ হল নয়নতারা।
এলি কি পাষাণী ওরে
দেখব তোরে আঁখি ভরে
কিছুতেই থামে না যে মা, পোড়া এ নয়নের ধারা।"
"কবরীতে ফুল শুকাল, কাননের ফুল ফুটল বনে,
দিনের আলো প্রকাশিল, মনের সাধ রহিল মনে।"
"ওরে, যেতে হবে, আর দেরি নাই,
পিছিয়ে পড়ে রবি কত, সঙ্গীরা তোর গেল সবাই।
আয় রে ভবের খেলা সেরে, আঁধার করে এসেছে রে,
(ওরে) পিছন ফিরে বারে বারে কাহার পানে চাহিস রে ভাই।
খেলতে এল ভবের নাটে, নতুন লোকে নতুন খেলা,
হেথা হতে আয় রে সরে, নইলে তোরে মারবে ঢেলা,
নামিয়ে দে রে প্রাণের বোঝা, আর এক দেশে চল্‌ রে সোজা,
(সেথা) নতুন করে বাঁধবি বাসা, নতুন খেলা খেলবি সে ঠাঁই।"
"আমার যাবার সময় হল,
আমায় কেন রাখিস ধরে,
চোখের জলের বাঁধন দিয়ে
বাঁধিস নে আর মায়াডোরে।
ফুরিয়েছে জীবনের ছুটি,
ফিরিয়ে নে তোর নয়ন দুটি,
নাম ধরে আর ডাকসি নে ভাই,
যেতে হবে ত্বরা করে।"
"ভিক্ষা যদি দিবে রাই,
(আমার) সোনা রুপায় কাজ নাই,
(আমি) প্রাণের দায়ে এসেছি হে,
মান রতন ভিক্ষা চাই।
আমিই শুধু রইনু বাকি।
যা ছিল তা গেল চলে, রইল যা তা কেবল ফাঁকি
আমার ব'লে ছিল যারা
আর তো তারা দেয় না সাড়া,
কোথায় তারা, কোথায় তারা? কেঁদে কেঁদে কারে ডাকি।
বল্‌ দেখি মা, শুধাই তোরে,
আমার কিছু রাখলি নে রে?
আমি কেবল আমায় নিয়ে কোন্‌ প্রাণেতে বেঁচে থাকি।
আমি শুধু রইনু বাকি।
যা ছিল তা গেল চলে,
রইল যা তা কেবল ফাঁকি।"
তাজবে তাজ নওবে নও।
আমি শুধু রইনু বাকি।
আর কি আমি ছাড়ব তোরে।
মন দিয়ে মন            নাই বা পেলেম
জোর করে রাখিব ধরে।
শূন্য করে হৃদয়-পুরী       প্রাণ যদি করিলে চুরি
তুমিই তবে থাকো সেথায়
শূন্য হৃদয় পূর্ণ করে।
আরো দেখুন
আমি যে আর
Songs
     আমি যে আর সইতে পারি নে।
সুরে বাজে মনের মাঝে গো,    কথা দিয়ে কইতে পারি নে॥
হৃদয়লতা নুয়ে পড়ে    ব্যথাভরা ফুলের ভরে গো,
     আমি সে আর বইতে পারি নে॥
     আজি আমার নিবিড় অন্তরে॥
কী হাওয়াতে কাঁপিয়ে দিল গো    পুলক-লাগা আকুল মর্মরে।
কোন্‌ গুণী আজ উদাস প্রাতে    মীড় দিয়েছে কোন্‌ বীণাতে গো--
     ঘরে যে আর রইতে পারি নে॥
আরো দেখুন
প্রাণমন
Stories
আমার জানলার সামনে রাঙা মাটির রাস্তা।
ওখান দিয়ে বোঝাই নিয়ে গোরুর গাড়ি চলে; সাঁওতাল মেয়ে খড়ের আঁটি মাথায় করে হাটে যায়, সন্ধ্যাবেলায় কলহাস্যে ঘরে ফেরে।
আরো দেখুন
রাজার বাড়ি
Stories
কুসমি জিগেস করলে, দাদামশায়, ইরুমাসির বোধ হয় খুব বুদ্ধি ছিল।
ছিল বই-কি, তোর চেয়ে বেশি ছিল।
আরো দেখুন
যখন দেখা দাও নি রাধা
Songs
যখন দেখা দাও নি, রাধা, তখন বেজেছিল বাঁশি !
এখন চোখে চোখে চেয়ে সুর যে আমার গেল ভাসি !
তখন নানা তানের ছলে
ডাক ফিরেছে জলে স্থলে,
এখন আমার সকল কাঁদা রাধার রূপে উঠল হাসি ।।
আরো দেখুন
নমো, নমো. নমো
Songs
     নমো, নমো। নমো, নমো। নমো, নমো।
নির্দয় অতি করুণা তোমার--  বন্ধু, তুমি হে নির্মম॥
             যা-কিছু জীর্ণ করিবে দীর্ণ
                দণ্ড তোমার দুর্দম॥
আরো দেখুন
পসারিনী
Verses
      পসারিনী, ওগো পসারিনী,
কেটেছে সকালবেলা হাটে হাটে লয়ে বিকিকিনি।
        ঘরে ফিরিবার খনে
        কী জানি কী হল মনে,
                বসিলি গাছের ছায়াতলে--
        লাভের জমানো কড়ি
        ডালায় রহিল পড়ি,
                ভাবনা কোথায় ধেয়ে চলে।
      এই মাঠ, এই রাঙা ধূলি,
অঘ্রানের-রৌদ্র-লাগা চিক্কণ কাঁঠালপাতাগুলি
        শীতবাতাসের শ্বাসে
        এই শিহরন ঘাসে--
                কী কথা কহিল তোর কানে।
বহুদূর নদীজলে
           আলোকের রেখা ঝলে,
                   ধ্যানে তোর কোন্‌ মন্ত্র আনে।
      সৃষ্টির প্রথম স্মৃতি হতে
সহসা আদিম স্পন্দ সঞ্চরিল তোর রক্তস্রোতে।
           তাই এ তরুতে তৃণে
           প্রাণ আপনারে চিনে
                   হেমন্তের মধ্যাহ্নের বেলা--
           মৃত্তিকার খেলাঘরে
           কত যুগযুগান্তরে
                   হিরণে হরিতে তোর খেলা।
      নিরালা মাঠের মাঝে বসি
সাম্প্রতের আবরণ মন হতে গেল দ্রুত খসি।
           আলোকে আকাশে মিলে
           যে-নটন এ নিখিলে
                   দেখ তাই আঁখির সম্মুখে,
           বিরাট কালের মাঝে
           যে ওঙ্কারধ্বনি বাজে
                   গুঞ্জরি উঠিল তোর বুকে।
      যত ছিল ত্বরিত আহ্বান
পরিচিত সংসারের দিগন্তে হয়েছে অবসান।
           বেলা কত হল, তার
           বার্তা নাহি চারিধার,
                   না কোথাও কর্মের আভাস।
           শব্দহীনতার স্বরে
           খররৌদ্র ঝাঁ ঝাঁ করে,
                   শূন্যতার উঠে দীর্ঘশ্বাস।
      পসারিনী, ওগো পসারিনী,
ক্ষণকাল-তরে আজি ভুলে গেলি যত বিকিকিনি।
           কোথা হাট, কোথা ঘাট,
           কোথা ঘর, কোথা বাট,
                   মুখর দিনের কলকথা--
           অনন্তের বাণী আনে
           সর্বাঙ্গে সকল প্রাণে
                   বৈরাগ্যের স্তব্ধ ব্যাকুলতা।
আরো দেখুন
অধ্যাপক
Stories
কলেজে আমার সহপাঠীসম্প্রদায়ের মধ্যে আমার একটু বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। সকলেই আমাকে সকল বিষয়েই সমজদার বলিয়া মনে করিত।
ইহার প্রধান কারণ, ভুল হউক আর ঠিক হউক, সকল বিষয়েই আমার একটা মতামত ছিল। অধিকাংশ লোকেই হাঁ এবং না জোর করিয়া বলিতে পারে না, আমি সেটা খুব বলিতাম।
আরো দেখুন
দীর্ঘ জীবনপথ
Songs
দীর্ঘ জীবনপথ, কত দুঃখতাপ, কত শোকদহন--
          গেয়ে চলি তবু তাঁর করুণার গান ॥
খুলে রেখেছেন তাঁর    অমৃতভবনদ্বার--
শ্রান্তি ঘুচিবে, অশ্রু মুছিবে, এ পথের হবে অবসান ॥
অনন্তের পানে চাহি   আনন্দের গান গাহি--
          ক্ষুদ্র শোকতাপ নাহি নাহি রে।
অনন্ত আলয় যার   কিসের ভাবনা তার--
          নিমেষের তুচ্ছ ভারে হব না রে ম্রিয়মাণ ॥
আরো দেখুন
93
Verses
YOU SEEMED from afar
titanic in your mysterious majesty of terror.
With palpitating heart I stood before your presence.
Your knitted brows boded ill
and sudden came down the blow
with a growl and a crash.
My bones cracked,
with bowed head I waited
for the final fury to come.
It came.
And I wondered, could this be all of the menace?
With your weapon held high in suspense
you looked mightily big.
To strike me you came down
to where I crouched low on the ground.
You suddenly became small
and I stood up.
From thence there was only pain for me
but no fear.
Great you are as death itself,
but your victim is greater than death.
আরো দেখুন