সতেরো বছর
Stories
আমি তার সতেরো বছরের জানা।
কত আসাযাওয়া, কত দেখাদেখি, কত বলাবলি; তারই আশেপাশে কত স্বপ্ন, কত অনুমান, কত ইশারা; তারই সঙ্গে সঙ্গে কখনো বা ভোরের ভাঙা ঘুমে শুকতারার আলো, কখনো বা আষাঢ়ের ভরসন্ধ্যায় চামেলিফুলের গন্ধ, কখনো বা বসন্তের শেষ প্রহরে ক্লান্ত নহবতের পিলুবারোয়াঁ; সতেরো বছর ধরে এই-সব গাঁথা পড়েছিল তার মনে।
আরো দেখুন
মরণের মুখে রেখে
Songs
মরণের মুখে রেখে দূরে যাও দূরে   যাও চলে
আবার ব্যথার টানে নিকটে ফিরাবে ব'লে ॥
        আঁধার-আলোর পারে   খেয়া দিই বারে বারে,
        নিজেরে হারায়ে খুঁজি-- দুলি সেই দোলে দোলে ॥
সকল রাগিণী বুঝি বাজাবে আমার প্রাণে--
কভু ভয়ে কভু জয়ে, কভু অপমানে মানে।
        বিরহে ভরিবে সুরে  তাই রেখে দাও দূরে,
        মিলনে বাজিবে বাঁশি     তাই টেনে আন কোলে ॥
আরো দেখুন
চতুরঙ্গ
Novels
আমি পাড়াগাঁ হইতে কলিকাতায় আসিয়া কালেজে প্রবেশ করিলাম। শচীশ তখন বি. এ. ক্লাসে পড়িতেছে। আমাদের বয়স প্রায় সমান হইবে।
শচীশকে দেখিলে মনে হয় যেন একটা জ্যোতিষ্ক-- তার চোখ জ্বলিতেছে; তার লম্বা সরু আঙুলগুলি যেন আগুনের শিখা; তার গায়ের রঙ যেন রঙ নহে, তাহা আভা। শচীশকে যখন দেখিলাম অমনি যেন তার অন্তরাত্মাকে দেখিতে পাইলাম; তাই একমুহূর্তে তাহাকে ভালোবাসিলাম।
আরো দেখুন
এরে ক্ষমা কোরো সখা
Songs
             এরে ক্ষমা কোরো সখা,
             এ যে এল তব আঁখি ভুলাতে,
                  শুধু ক্ষণকালতরে মোহ-দোলায় দুলাতে,
                                 আঁখি ভুলাতে।
             মায়াপুরী হতে এল নাবি,
             নিয়ে এল স্বপ্নের চাবি,
                  তব কঠিন হৃদয়-দুয়ার খুলাতে,
                                 আঁখি ভুলাতে॥
আরো দেখুন
সুনীল সাগরের শ্যামল
Songs
সুনীল সাগরের শ্যামল কিনারে
দেখেছি পথে যেতে তুলনাহীনারে॥
     এ কথা কভু আর পারে না ঘুচিতে,
     আছে সে নিখিলের মাধুরীরুচিতে।
              এ কথা শিখানু যে আমার বীণারে,
              গানেতে চিনালেম সে চির-চিনারে॥
          সে কথা সুরে সুরে ছড়াব পিছনে
          স্বপনফসলের বিছনে বিছনে।
              মধুপগুঞ্জে সে লহরী তুলিবে,
              কুকুমকুঞ্জে সে পবনে দুলিবে,
                   ঝরিবে শ্রাবণের বাদলসিচনে।
              শরতে ক্ষীণ মেঘে ভাসিবে আকাশে
              স্মরণবেদনার বরনে আঁকা সে।
                   চকিতে ক্ষণে ক্ষণে পাব যে তাহারে
                   ইমনে কেদারায় বেহাগে বাহারে॥
আরো দেখুন
কেন এলি রে, ভালোবাসিলি
Songs
কেন এলি রে, ভালোবাসিলি, ভালোবাসা পেলি নে।
কেন সংসারেতে উঁকি মেরে চলে গেলি নে।
সংসার কঠিন বড়ো কারেও সে ডাকে না,
কারেও সে ধরে রাখে না।
যে থাকে সে থাকে, আর যে যায় সে যায়,
কারো তরে ফিরেও না চায়।
হায় হায়, এ সংসারে যদি না পুরিল
আজন্মের প্রাণের বাসনা,
চলে যাও ম্লান মুখে, ধীরে ধীরে ফিরে যাও,
থেকে যেতে কেহ বলিবে না।
তোমার ব্যথা তোমার অশ্রু তুমি নিয়ে যাবে,
আর তো কেহ অশ্রু ফেলিবে না।
আরো দেখুন
দেনাপাওনা
Stories
পাঁচ ছেলের পর যখন এক কন্যা জন্মিল তখন বাপমায়ে অনেক আদর করিয়া তাহার নাম রাখিল নিরুপমা। এ গোষ্ঠীতে এমন শৌখিন নাম ইতিপূর্বে কখনো শোনা যায় নাই। প্রায় ঠাকুরদেবতার নামই প্রচলিত ছিল-- গণেশ, কার্তিক, পার্বতী, তাহার উদাহরণ।
এখন নিরুপমার বিবাহের প্রস্তাব চলিতেছে। তাহার পিতা রামসুন্দর মিত্র অনেক খোঁজ করেন কিন্তু পাত্র কিছুতেই মনের মতন হয় না। অবশেষে মস্ত এক রায়বাহাদুরের ঘরের একমাত্র ছেলেকে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছেন। উক্ত রায়বাহাদুরের পৈতৃক বিষয়-আশয় যদিও অনেক হ্রাস হইয়া আসিয়াছে কিন্তু বনেদি ঘর বটে।
আরো দেখুন
দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন
সুভা
Stories
মেয়েটির নাম যখন সুভাষিণী রাখা হইয়াছিল তখন কে জানিত সে বোবা হইবে। তাহার দুটি বড়ো বোনকে সুকেশিনী সুহাসিনী নাম দেওয়া হইয়াছিল, তাই মিলের অনুরোধে তাহার বাপ ছোটো মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখে। এখন সকলে তাহাকে সংক্ষেপে সুভা বলে।
দস্তুরমত অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বড়ো দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া গেছে, এখন ছোটোটি পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করিতেছে।
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
ও আমার ধ্যানেরই
Songs
                   ও আমার ধ্যানেরই ধন,
          তোমার     হৃদয়ে দোলায় যে হাসি রোদন॥
আসে বসন্ত, ফোটে বকুল,      কুঞ্জে পূর্ণিমাচাঁদ হেসে আকুল--
              তারা   তোমায় খুঁজে না পায়,
          প্রাণের মাঝে আছ গোপন স্বপন॥
     আঁখিরে ফাঁকি দাও, একি ধারা!
                   অশ্রুজলে তারে কর সারা।
গন্ধ আসে, কেন দেখি নে মালা    পায়ের ধ্বনি শুনি, পথ নিরালা।
                   বেলা যে যায়, ফুল যে শুকায়--
                        অনাথ হয়ে আছে আমার ভুবন॥
আরো দেখুন
পুরোনো বাড়ি
Stories
অনেক কালের ধনী গরিব হয়ে গেছে, তাদেরই ঐ বাড়ি।
দিনে দিনে ওর উপরে দুঃসময়ের আঁচড় পড়ছে।
আরো দেখুন