ভয় হতে তব
Songs
ভয় হতে তব অভয়মাঝে   নূতন জনম দাও হে ॥
দীনতা হতে অক্ষয় ধনে,   সংশয় হতে সত্যসদনে,
জড়তা হতে নবীন জীবনে   নূতন জনম দাও হে ॥
আমার ইচ্ছা হইতে, প্রভু,   তোমার ইচ্ছামাঝে--
আমার স্বার্থ হইতে, প্রভু,   তব মঙ্গলকাজে--
অনেক হইতে একের ডোরে,   সুখদুখ হতে শান্তিক্রোড়ে--
আমা হতে, নাথ, তোমাতে মোরে   নূতন জনম দাও হে ॥
আরো দেখুন
40
Verses
A MESSAGE CAME from my youth of vanished days, saying, 1 wait for you among the quiverings of unborn May, where smiles ripen for tears and hours ache with songs unsung.'
It says, 'Come to me across the worn-out track of age, through the gates of death. For dreams fade, hopes fail, the gathered fruits of the year decay, but I am the eternal truth, and you shall meet me again and again in your voyage of life from shore to shore.'
আরো দেখুন
গানে গানে তব বন্ধন
Songs
      গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে
      রুদ্ধবাণীর অন্ধকারে কাঁদন জেগে উঠে ॥
বিশ্বকবির চিত্তমাঝে ভুবনবীণা যেথায় বাজে
      জীবন তোমার সুরের ধারায় পড়ুক সেথায় লুটে ॥
      ছন্দ তোমার ভেঙে গিয়ে দ্বন্দ্ব বাধায় প্রাণে,
      অন্তরে আর বাহিরে তাই তান মেলে না তানে।
সুরহারা প্রাণ বিষম বাধা--    সেই তো আঁধি, সেই তো ধাঁধা--
      গান-ভোলা তুই গান ফিরে নে, যাক সে আপদ ছুটে ॥
আরো দেখুন
পঁচিশে বৈশাখ
Verses
রাত্রি হল ভোর।
আজি মোর
জন্মের স্মরণপূর্ণ বাণী,
প্রভাতের রৌদ্রে-লেখা লিপিখানি
হাতে করে আনি
দ্বারে আসি দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ।
দিগন্তে আরক্ত রবি;
অরণ্যের ম্লান ছায়া বাজে যেন বিষণ্ন ভৈরবী।
শাল-তাল-শিরীষের মিলিত মর্মরে
বনান্তের ধ্যান ভঙ্গ করে।
রক্তপথ শুষ্ক মাঠে,
যেন তিলকের রেখা সন্ন্যাসীর উদার ললাটে।
এই দিন বৎসরে বৎসরে
নানা বেশে ফিরে আসে ধরণীর 'পরে--
আতাম্র আম্রের বনে ক্ষণে ক্ষণে সাড়া দিয়ে,
তরুণ তালের গুচ্ছে নাড়া দিয়ে,
মধ্যদিনে অকস্মাৎ শুষ্কপত্রে তাড়া দিয়ে,
কখনো বা আপনারে ছাড়া দিয়ে
কালবৈশাখীর মত্ত মেঘে
বন্ধহীন বেগে।
আর সে একান্তে আসে
মোর পাশে
পীত উত্তরীয়তলে লয়ে মোর প্রাণদেবতার
স্বহস্তে সজ্জিত উপহার--
নীলকান্ত আকাশের থালা,
তারি 'পরে ভুবনের উচ্ছলিত সুধার পিয়ালা।
এই দিন এল আজ প্রাতে
যে অনন্ত সমুদ্রের শঙ্খ নিয়ে হাতে,
তাহার নির্ঘোষ বাজে
ঘন ঘন মোর বক্ষোমাঝে।
জন্ম-মরণের
দিগ্বলয়-চক্ররেখা জীবনেরে দিয়েছিল ঘের,
সে আজি মিলাল।
শুভ্র আলো
কালের বাঁশরি হতে উচ্ছ্বসি যেন রে
শূন্য দিল ভরে।
আলোকের অসীম সংগীতে
চিত্ত মোর ঝংকারিছে সুরে সুরে রণিত তন্ত্রীতে।
উদয়-দিক্‌প্রান্ত-তলে নেমে এসে
শান্ত হেসে
এই দিন বলে আজি মোর কানে,
"অম্লান নূতন হয়ে অসংখ্যের মাঝখানে
একদিন তুমি এসেছিলে
এ নিখিলে
নবমল্লিকার গন্ধে,
সপ্তপর্ণ-পল্লবের পবনহিল্লোল-দোল-ছন্দে,
শ্যামলের বুকে,
নির্নিমেষ নীলিমার নয়নসম্মুখে।
সেই-যে নূতন তুমি,
তোমারে ললাট চুমি
এসেছি জাগাতে
বৈশাখের উদ্দীপ্ত প্রভাতে।
"হে নূতন,
দেখা দিক্‌ আরবার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ।
আচ্ছন্ন করেছে তারে আজি
শীর্ণ নিমেষের যত ধূলিকীর্ণ জীর্ণ পত্ররাজি।
মনে রেখো, হে নবীন,
তোমার প্রথম জন্মদিন
ক্ষয়হীন --
যেমন প্রথম জন্ম নির্ঝরের প্রতি পলে পলে;
তরঙ্গে তরঙ্গে সিন্ধু যেমন উছলে
প্রতিক্ষণে
প্রথম জীবনে।
হে নূতন,
হোক তব জাগরণ
ভস্ম হতে দীপ্ত হুতাশন।
"হে নূতন,
তোমার প্রকাশ হোক কুজ্ঝটিকা করি উদ্‌ঘাটন
সূর্যের মতন।
বসন্তের জয়ধ্বজা ধরি
শূন্য শাখে কিশলয় মুহূর্তে অরণ্য দেয় ভরি--
সেই মতো, হে নূতন,
রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন।
ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,
ব্যক্ত হোক তোমা-মাঝে অনন্তের অক্লান্ত বিস্ময়।'
উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে।
মোর চিত্তমাঝে
চির-নূতনেরে দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ।
আরো দেখুন
23
Verses
          শূন্য ছিল মন,  
নানা-কোলাহলে-ঢাকা
নানা-আনাগোনা-আঁকা
          দিনের মতন।
নানা-জনতায়-ফাঁকা
          কর্মে-অচেতন
          শূন্য ছিল মন।
জানি না কখন এল নূপুরবিহীন
        নিঃশব্দ গোধূলি।
    দেখি নাই স্বর্ণরেখা
    কী লিখিল শেষ লেখা
        দিনান্তের তুলি।
    আমি যে ছিলাম একা
        তাও ছিনু ভুলি।
        আইল গোধূলি।
হেনকালে আকাশের বিস্ময়ের মতো
        কোন্‌ স্বর্গ হতে
    চাঁদখানি লয়ে হেসে
    শুক্লসন্ধ্যা এল ভেসে
          আঁধারের স্রোতে।
    বুঝি সে আপনি মেশে
          আপন আলোতে
          এল কোথা হতে।
অকস্মাৎ বিকশিত পুষ্পের পুলকে
          তুলিলাম আঁখি।
    আর কেহ কোথা নাই,
    সে শুধু আমারি ঠাঁই
          এসেছে একাকী।
    সম্মুখে দাঁড়ালো তাই
          মোর মুখে রাখি
          অনিমেষ আঁখি।
রাজহংস এসেছিল কোন্‌ যুগান্তরে
          শুনেছি পুরাণে।
     দময়ন্তী আলবালে
     স্বর্ণঘটে জল ঢালে
           নিকুঞ্জবিতানে,
     কার কথা হেনকালে
          কহি গেল কানে--
          শুনেছি পুরাণে।
জ্যোৎস্নাসন্ধ্যা তারি মতো আকাশ বাহিয়া
          এল মোর বুকে।
  কোন্‌ দূর প্রবাসের
  লিপিখানি আছে এর
        ভাষাহীন মুখে।
  সে যে কোন্‌ উৎসুকের
        মিলনকৌতুকে
        এল মোর বুকে।
দুইখানি শুভ্র ডানা ঘেরিল আমারে
        সর্বাঙ্গে হৃদয়ে।
  স্কন্ধে মোর রাখি শির
  নিস্পন্দ রহিল স্থির
        কথাটি না কয়ে।
  কোন্‌ পদ্মবনানীর
        কোমলতা লয়ে
        পশিল হৃদয়ে?
আর কিছু বুঝি নাই,শুধু বুঝিলাম
        আছি আমি একা।
  এই শুধু জানিলাম
  জানি নাই তার নাম
        লিপি যার লেখা।
     এই শুধু বুঝিলাম
          না পাইলে দেখা
          রব আমি একা।
ব্যর্থ হয়, ব্যর্থ হয় এ দিনরজনী,
          এ মোর জীবন!
     হায় হায়, চিরদিন
     হয়ে আছে অর্থহীন
          এ বিশ্বভুবন।
     অনন্ত প্রেমের ঋণ
          করিছে বহন
          ব্যর্থ এ জীবন।
ওগো দূত দূরবাসী, ওগো বাক্যহীন,
          হে সৌম্য-সুন্দর,
     চাহি তব মুখপানে
     ভাবিতেছি মুগ্ধপ্রাণে
          কী দিব উত্তর।
     অশ্রু আসে দু নয়ানে,
          নির্বাক্‌ অন্তর,
          হে সৌম্য-সুন্দর।
আরো দেখুন
নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
মীনু
Stories
মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব।
বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, 'এও বাঁচে কি না-বাঁচে।'
আরো দেখুন
চতুরঙ্গ
Novels
আমি পাড়াগাঁ হইতে কলিকাতায় আসিয়া কালেজে প্রবেশ করিলাম। শচীশ তখন বি. এ. ক্লাসে পড়িতেছে। আমাদের বয়স প্রায় সমান হইবে।
শচীশকে দেখিলে মনে হয় যেন একটা জ্যোতিষ্ক-- তার চোখ জ্বলিতেছে; তার লম্বা সরু আঙুলগুলি যেন আগুনের শিখা; তার গায়ের রঙ যেন রঙ নহে, তাহা আভা। শচীশকে যখন দেখিলাম অমনি যেন তার অন্তরাত্মাকে দেখিতে পাইলাম; তাই একমুহূর্তে তাহাকে ভালোবাসিলাম।
আরো দেখুন
বিচারক
Stories
অনেক অবস্থান্তরের পর অবশেষে গতযৌবনা ক্ষীরোদা যে পুরুষের আশ্রয় প্রাপ্ত হইয়াছিল সেও যখন তাহাকে জীর্ণ বস্ত্রের ন্যায় পরিত্যাগ করিয়া গেল, তখন অন্নমুষ্টির জন্য দ্বিতীয় আশ্রয় অন্বেষণের চেষ্টা করিতে তাহার অত্যন্ত ধিক্‌কার বোধ হইল।
যৌবনের শেষে শুভ্র শরৎকালের ন্যায় একটি গভীর প্রশান্ত প্রগাঢ় সুন্দর বয়স আসে যখন জীবনের ফল ফলিবার এবং শস্য পাকিবার সময়। তখন আর উদ্দাম যৌবনের বসন্তচঞ্চলতা শোভা পায় না। ততদিনে সংসারের মাঝখানে আমাদের ঘর বাঁধা একপ্রকার সাঙ্গ হইয়া গিয়াছে; অনেক ভালোমন্দ, অনেক সুখদুঃখ, জীবনের মধ্যে পরিপাক প্রাপ্ত হইয়া অন্তরের মানুষটিকে পরিণত করিয়া তুলিয়াছে; আমাদের আয়ত্তের অতীত কুহকিনী দুরাশার কল্পনালোক হইতে সমস্ত উদ্‌ভ্রান্ত বাসনাকে প্রত্যাহরণ করিয়া আপন ক্ষুদ্র ক্ষমতার গৃহপ্রাচীরমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি; তখন নূতন প্রণয়ের মুগ্ধদৃষ্টি আর আকর্ষণ করা যায় না, কিন্তু পুরাতন লোকের কাছে মানুষ আরো প্রিয়তর হইয়া উঠে। তখন যৌবনলাবণ্য অল্পে অল্পে বিশীর্ণ হইয়া আসিতে থাকে, কিন্তু জরাবিহীন অন্তরপ্রকৃতি বহুকালের সহবাসক্রমে মুখে চক্ষে যেন স্ফুটতর রূপে অঙ্কিত হইয়া যায়, হাসিটি দৃষ্টিপাতটি কণ্ঠস্বরটি ভিতরকার মানুষটির দ্বারা ওতপ্রোত হইয়া উঠে। যাহা-কিছু পাই নাই তাহার আশা ছাড়িয়া, যাহারা ত্যাগ করিয়া গিয়াছে তাহাদের জন্য শোক সমাপ্ত করিয়া, যাহারা বঞ্চনা করিয়াছে তাহাদিগকে ক্ষমা করিয়া-- যাহারা কাছে আসিয়াছে, ভালোবাসিয়াছে, সংসারের সমস্ত ঝড়ঝঞ্ঝা শোকতাপ বিচ্ছেদের মধ্যে যে কয়টি প্রাণী নিকটে অবশিষ্ট রহিয়াছে তাহাদিগকে বুকের কাছে টানিয়া লইয়া সুনিশ্চিত সুপরীক্ষিত চিরপরিচিতগণের প্রীতিপরিবেষ্টনের মধ্যে নিরাপদ নীড় রচনা করিয়া তাহারই মধ্যে সমস্ত চেষ্টার অবসান এবং সমস্ত আকাঙক্ষার পরিতৃপ্তি লাভ করা যায়। যৌবনের সেই স্নিগ্ধ সায়াহ্নে জীবনের সেই শান্তিপর্বেও যাহাকে নূতন সঞ্চয়, নূতন পরিচয়, নূতন বন্ধনের বৃথা আশ্বাসে নূতন চেষ্টায় ধাবিত হইতে হয়-- তখনো যাহার বিশ্রামের জন্য শয্যা রচিত হয় নাই, যাহার গৃহপ্রত্যাবর্তনের জন্য সন্ধ্যাদীপ প্রজ্জ্বলিত হয় নাই, সংসারে তাহার মতো শোচনীয় আর কেহ নাই।
আরো দেখুন
পরীর পরিচয়
Stories
রাজপুত্রের বয়স কুড়ি পার হয়ে যায়, দেশবিদেশ থেকে বিবাহের সম্বন্ধ আসে।
ঘটক বললে, 'বাহ্লীকরাজের মেয়ে রূপসী বটে, যেন সাদা গোলাপের পুষ্পবৃষ্টি।'
আরো দেখুন
119
Verses
THE EARTH'S sacrificial fire
flames up in her trees
scattering sparks in flowers.
আরো দেখুন