গিন্নি
Stories
ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।
প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইত।
আরো দেখুন
ইচ্ছাপূরণ
Stories
সুবলচন্দ্রের ছেলেটির নাম সুশীলচন্দ্র। কিন্তু সকল সময়ে নামের মতো মানুষটি হয় না। সেইজন্যই সুবলচন্দ্র কিছু দুর্বল ছিলেন এবং সুশীলচন্দ্র বড়ো শান্ত ছিলেন না।
ছেলেটি পাড়াসুদ্ধ লোককে অস্থির করিয়া বেড়াইত, সেইজন্য বাপ মাঝে মাঝে শাসন করিতে ছুটিতেন; কিন্তু বাপের পায়ে ছিল বাত, আর ছেলেটি হরিণের মতো দৌড়িতে পারিত; কাজেই কিল চড়-চাপড় সকল সময় ঠিক জায়গায় গিয়া পড়িত না। কিন্তু সুশীলচন্দ্র দৈবাৎ যেদিন ধরা পড়িতেন সেদিন তাঁহার আর রক্ষা থাকিত না।
আরো দেখুন
ফুরোলো ফুরোলো এবার
Songs
ফুরোলো ফুরোলো এবার   পরীক্ষার এই পালা--
          পার হয়েছি আমি   অগ্নিদহন-জ্বালা ॥
মা গো মা, মা গো মা,   এবার তুমি জাগো মা--
     তোমার   কোলে উজাড় করে দেব অপমানের ডালা ॥
তোমার   শ্যামল আঁচলখানি   আমার   অঙ্গে দাও, মা, আনি--
     আমার বুকের থেকে লও খসিয়ে নিঠুর কাঁটার মালা ॥
আরো দেখুন
186
Verses
ITS STORE OF snow is the hill's own burden,
its outpouring of streams is borne by all the world
আরো দেখুন
46
Verses
THE TIME is past when I could repay her for all that I received.
Her night has found its morning and thou hast taken her to thy arms: and to thee I bring my gratitude and my gifts that were for her.
For all hurts and offences to her I come to thee for forgiveness.
I offer to thy service those flowers of my love that remained in bud when she waited for them to open.
আরো দেখুন
দুই আমি
Verses
বৃষ্টি কোথায় নুকিয়ে বেড়ায়
          উড়ো মেঘের দল হয়ে,
যেই দেখা দেয় আর-এক ধারায়
          শ্রাবণ-ধারার জল হয়ে।
আমি ভাবি চুপটি করে
          মোর দশা হয় ঐ যদি!
কেই বা জানে আমি আবার
          আর-একজনও হই যদি!
একজনারেই তোমরা চেন
          আর-এক আমি কারোই না।
কেমনতরো ভাবখানা তার
          মনে আনতে পারই না।
হয়তো বা ঐ মেঘের মতোই
          নতুন নতুন রূপ ধরে
কখন যে সে ডাক দিয়ে যায়,
          কখন থাকে চুপ করে।
কখন বা সে পুবের কোণে
          আলো-নদীর বাঁধ বাঁধে,
কখন বা সে আধেক রাতে
          চাঁদকে ধরার ফাঁদ ফাঁদে।
শেষে তোমার ঘরের কথা
          মনেতে তার যেই আসে,
আমার মতন হয়ে আবার
          তোমার কাছে সেই আসে।
আমার ভিতর লুকিয়ে আছে
          দুই রকমের দুই খেলা,
একটা সে ঐ আকাশ-ওড়া,
          আরেকটা এই ভুঁই-খেলা।
আরো দেখুন
ভাগ্যবতী সে যে
Songs
                  ভাগ্যবতী সে যে,
                          এত দিনে তার আহ্বান
                               এল তব বীরের প্রাণে।
                          আজ অমাবস্যার রাতি
                               হোক অবসান।
                          কাল শুভ শুভ্র প্রাতে
                               দর্শন মিলিবে তার,
                          মিথ্যায় আবৃত নারী
                               ঘুচাবে মায়া-অবগুণ্ঠন॥
আরো দেখুন
দেশান্তরী
Verses
প্রাণ-ধারণের বোঝাখানা বাঁধা পিঠের 'পরে,
আকাল পড়ল, দিন চলে না, চলল দেশান্তরে।
দূর শহরে একটা কিছু যাবেই যাবে জুটে,
এই আশাতেই লগ্ন দেখে ভোরবেলাতে উঠে
দুর্গা ব'লে বুক বেঁধে সে চলল ভাগ্যজয়ে,
মা ডাকে না পিছুর ডাকে অমঙ্গলের ভয়ে।
স্ত্রী দাঁড়িয়ে দুয়ার ধরে দুচোখ শুধু মোছে,
আজ সকালে জীবনটা তার কিছুতেই না রোচে।
ছেলে গেছে জাম কুড়োতে দিঘির পাড়ে উঠি,
মা তারে আজ ভুলে আছে তাই পেয়েছে ছুটি।
স্ত্রী বলেছে বারে বারে, যে ক'রে হোক খেটে
সংসারটা চালাবে সে, দিন যাবে তার কেটে।
ঘর ছাইতে খড়ের আঁঠির জোগান দেবে সে যে,
গোবর দিয়ে নিকিয়ে দেবে দেয়াল পাঁচিল মেঝে।
মাঠের থেকে খড়কে কাঠি আনবে বেছে বেছে,
ঝাঁটা বেঁধে কুমোরটুলির হাটে আসবে বেচে।
ঢেঁকিতে ধান ভেনে দেবে বামুনদিদির ঘরে,
খুদকুঁড়ো যা জুটবে তাতেই চলবে দুর্বছরে।
দূর দেশেতে বসে বসে মিথ্যা অকারণে
কোনোমতেই ভাব্‌না যেন না রয় স্বামীর মনে।
সময় হল, ঐ তো এল খেয়াঘাটের মাঝি,
দিন না যেতে রহিমগঞ্জে যেতেই হবে আজি।
সেইখানেতে চৌকিদারি করে ওদের জ্ঞাতি,
মহেশখুড়োর মেঝো জামাই, নিতাই দাসের নাতি।
নতুন নতুন গাঁ পেরিয়ে অজানা এই পথে
পৌঁছবে পাঁচদিনের পরে শহর কোনোমতে।
সেইখানে কোন্‌ হালসিবাগান, ওদের গ্রামের কালো,
শর্ষেতেলের দোকান সেথায় চালাচ্ছে খুব ভালো।
গেলে সেথায় কালুর খবর সবাই বলে দেবে--
তারপরে সব সহজ হবে, কী হবে আর ভেবে।
স্ত্রী বললে, "কালুদাকে খবরটা এই দিয়ো,
ওদের গাঁয়ের বাদল পালের জাঠতুত ভাই প্রিয়
বিয়ে করতে আসবে আমার ভাইঝি মল্লিকাকে
উনত্রিশে বৈশাখে।"
আরো দেখুন
সেকাল
Verses
আমি যদি জন্ম নিতেম
       কালিদাসের কালে,
দৈবে হতেম দশম রত্ন
       নবরত্নের মালে,
                   একটি শ্লোকে স্তুতি গেয়ে
                   রাজার কাছে নিতাম চেয়ে
                   উজ্জয়িনীর বিজন প্রান্তে
                               কানন-ঘেরা বাড়ি।
                   রেবার তটে চাঁপার তলে
                   সভা বসত সন্ধ্যা হলে,
                   ক্রীড়াশৈলে আপন-মনে
                               দিতাম কণ্ঠ ছাড়ি।
                                    জীবনতরী বহে যেত
                                           মন্দাক্রান্তা তালে,
                                    আমি যদি জন্ম নিতাম
                                           কালিদাসের কালে।
চিন্তা দিতেম জলাঞ্জলি,
            থাকত নাকো ত্বরা--
মৃদুপদে যেতেম, যেন
             নাইকো মৃত্যু জরা।
                        ছটা ঋতু পূর্ণ করে
                        ঘটত মিলন স্তরে স্তরে,
                        ছটা সর্গে বার্তা তাহার
                                    রইত কাব্যে গাঁথা।
                        বিচ্ছেদও সুদীর্ঘ হত,
                        অশ্রুজলের নদীর মতো
                        মন্দগতি চলত রচি
                              দীর্ঘ করুণ গাথা।
                                   আষাঢ় মাসে মেঘের মতন
                                         মন্থরতায় ভরা
                                  জীবনটাতে থাকত নাকো
                                         কিছুমাত্র ত্বরা।
অশোক-কুঞ্জ উঠত ফুটে
            প্রিয়ার পদাঘাতে,
বকুল হত ফুল্ল প্রিয়ার
            মুখের মদিরাতে।
প্রিয়সখীর নামগুলি সব    
ছন্দ ভরি করিত রব,
রেবার কুলে কলহংসের
            কলধ্বনির মতো।
কোনো নামটি মন্দালিকা,
কোনো নামটি চিত্রলিখা,
মঞ্জুলিকা মঞ্জরিণী
      ঝংকারিত কত!
            আসত তারা কুঞ্জবনে
                 চৈত্র-জ্যোৎস্না-রাতে,
           অশোক-শাখা উঠত ফুটে
                 প্রিয়ার পদাঘাতে।
কুরবকের পরত চূড়া
      কালো কেশের মাঝে,
লীলাকমল রইত হাতে
      কী জানি কোন্‌ কাজে!
           অলক সাজত কুন্দফুলে,
           শিরীষ পরত কর্ণমূলে,
           মেখলাতে দুলিয়ে দিত
                  নবনীপের মালা।
           ধারাযন্ত্রে স্নানের শেষে
           ধূপের ধোঁয়া দিত কেশে,
           লোধ্রফুলের শুভ্র রেণু
                  মাখত মুখে বালা।
                       কালাগুরুর গুরু গন্ধ
                             লেগে থাকত সাজে,
                       কুরবকের পরত  মালা
                             কালো কেশের মাঝে।
                                      
কুঙ্কুমেরই পত্রলেখায়
            বক্ষ রইত ঢাকা,
আঁচলখানির প্রান্তটিতে
            হংসমিথুন আঁকা।
                   বিরহেতে আষাঢ় মাসে
                   চেয়ে রইত বঁধুর আশে,
                   একটি করে পূজার পুষ্পে
                              দিন গনিত ব'সে।
                   বক্ষে তুলে বীণাখানি
                   গান গাহিতে ভুলত বাণী,
                   রুক্ষ অলক অশ্রুচোখে
                              পড়ত খসে খসে।              
                                 মিলন-রাতে বাজত পায়ে
                                         নূপুর-দুটি বাঁকা,
                                 কুঙ্কুমেরই পত্রলেখায়
                                         বক্ষ রইত ঢাকা।
প্রিয় নামটি শিখিয়ে দিত
            সাধের শারিকারে,
নাচিয়ে দিত ময়ূরটিরে
            কঙ্কণঝংকারে।
                        কপোতটিরে লয়ে বুকে
                        সোহাগ করত মুখে মুখে,
                        সারসারে খাইয়ে দিত
                                    পদ্মকোরক বহি।
                        অলক নেড়ে দুলিয়ে বেণী
                        কথা কইত শৌরসেনী,
                        বলত সখীর গলা ধরে--      
                                    "হলা পিয় সহি'।
                                          জল সেচিত আলবালে
                                                তরুণ সহকারে,
                                          প্রিয় নামটি শিখিয়ে দিত
                                                সাধের শারিকারে।
নবরত্নের সভার মাঝে
            রইতাম একটি টেরে,
দূর হইতে গড় করিতাম
            দিঙ্‌নাগাচার্যেরে।
                        আশা করি নামটা হত
                        ওরই মধ্যে ভদ্রমত--
                        বিশ্বসেন কি দেবদত্ত
                                    কিম্বা বসুভূতি।
                        স্রগ্‌ধরা কি মালিনীতে
                        বিম্বাধরের স্তুতিগীতে
                        দিতাম রচি দুটি-চারটি
                                    ছোটোখাটো পুঁথি।
                                         ঘরে যেতাম তাড়াতাড়ি
                                              শ্লোক-রচনা সেরে,
                                         নবরত্নের সভার মাঝে
                                              রইতাম একটি টেরে।
আমি যদি জন্ম নিতেম
            কালিদাসের কালে
বন্দী হতেম না জানি কোন্‌
            মালবিকার জালে।
                        কোন্‌ বসন্ত-মহোৎসবে        
                        বেণুবীণার কলরবে
                        মঞ্জরিত কুঞ্জবনের
                                    গোপন অন্তরালে
                        কোন্‌ ফাগুনের শুক্লনিশায়
                        যৌবনেরই নবীন নেশায়
                        চকিতে কার দেখা পেতেম
                                    রাজার চিত্রশালে!
                                        ছল করে তার বাধত আঁচল
                                                সহকারের ডালে
                                        আমি যদি জন্ম নিতেম
                                                কালিদাসের কালে।
হায় রে কবে কেটে গেছে
      কালিদাসের কাল!
পণ্ডিতেরা বিবাদ করে
            লয়ে তারিখ-সাল।
                        হারিয়ে গেছে সে-সব অব্দ,
                        ইতিবৃত্ত আছে স্তব্ধ--
                        গেছে যদি আপদ গেছে,
                                    মিথ্যা কোলাহল।
                        হায় রে গেল সঙ্গে তারি
                        সেদিনের সেই পৌরনারী
                        নিপুণিকা চতুরিকা
                                    মালবিকার দল।
                                         কোন্‌ স্বর্গে নিয়ে গেল
                                                বরমাল্যের থাল!
                                         হায় রে কবে কেটে গেছে
                                                কালিদাসের কাল!
                                                                      
যাদের সঙ্গে হয় নি মিলন
            সে-সব বরাঙ্গনা
বিচ্ছেদেরই দুঃখে আমায়
            করছে অন্যমনা।
                        তবু মনে প্রবোধ আছে--
                        তেমনি বকুল ফোটে গাছে
                        যদিও সে পায় না নারীর
                                    মুখমদের ছিটা,
                        ফাগুন-মাসে অশোক-ছায়ে
                        অলস প্রাণে শিথিল গায়ে
                        দখিন হতে বাতাসটুকু
                                    তেমনি লাগে মিঠা।
                                     অনেক দিকেই যায় যে পাওয়া
                                                অনেকটা সান্ত্বনা,
                                      যদিও রে নাইকো কোথাও
                                                সে-সব বরাঙ্গনা।
এখন যাঁরা আছেন বর্তমানে
            আছেন মর্তলোকে
মন্দ তারা লাগত না কেউ
       কালিদাসের চোখে।
              পরেন বটে জুতা মোজা,
              চলেন বটে সোজা সোজা,
              বলেন বটে কথাবার্তা
                          অন্য-দেশীর চালে,
              তবু দেখো সেই কটাক্ষ
              আঁখির কোণে দিচ্ছে সাক্ষ্য
              যেমনটি ঠিক দেখা যেত                  
                          কালিদাসের কালে।
                               মরব না ভাই, নিপুণিকা
                                      চতুরিকার শোকে--
                               তাঁরা সবাই অন্য নামে
                                      আছেন মর্তলোকে।
আপাতত এই আনন্দে
            গর্বে বেড়াই নেচে--
কালিদাস তো নামেই আছেন,
            আমি আছি বেঁচে।
                   তাঁহার কালের স্বাদগন্ধ
                   আমি তো পাই মৃদুমন্দ,
                   আমার কালের কণামাত্র
                               পান নি মহাকবি।
                   বিদুষী এই আছেন যিনি
                   আমার কালের বিনোদিনী
                   মহাকবির কল্পনাতে
                               ছিল না তাঁর ছবি।
                                  প্রিয়ে, তোমায় তরুণ আঁখির
                                           প্রসাদ যেচে যেচে
                                  কালিদাসকে হারিয়ে দিয়ে
                                            গর্বে বেড়াই নেচে।
আরো দেখুন