পরিশিষ্ট
Stories
(ছোটো গল্প)
সাহিত্যে বড়ো গল্প ব'লে যে-সব প্রগল্‌ভ বাণীবাহন দেখা যায় তারা প্রাক্‌ভূতাত্ত্বিক যুগের প্রাণীদের মতো-- তাদের প্রাণের পরিমাণ যত দেহের পরিমাণ তার চার গুণ, তাদের লেজটা কলেবরের অত্যুক্তি।
আরো দেখুন
নৌকা ডুবি
Novels
পাঠক যে ভার নিলে সংগত হয় লেখকের প্রতি সে ভার দেওয়া চলে না। নিজের রচনা উপলক্ষে আত্মবিশ্লেষণ শোভন হয় না। তাকে অন্যায় বলা যায় এইজন্যে যে, নিতান্ত নৈর্ব্যক্তিক ভাবে এ কাজ করা অসম্ভব -- এইজন্য নিষ্কাম বিচারের লাইন ঠিক থাকে না। প্রকাশক জানতে চেয়েছেন নৌকাডুবি লিখতে গেলুম কী জন্যে। এ-সব কথা দেবা ন জানন্তি কুতো মনুষ্যাঃ। বাইরের খবরটা দেওয়া যেতে পারে, সে হল প্রকাশকের তাগিদ। উৎসটা গভীর ভিতরে, গোমুখী তো উৎস নয়। প্রকাশকের ফরমাশকে প্রেরণা বললে বেশি বলা হয়। অথচ তা ছাড়া বলব কী? গল্পটায় পেয়ে-বসা আর প্রকাশকে পেয়ে-বসা সম্পূর্ণ আলাদা কথা। বলা বাহুল্য ভিতরের দিকে গল্পের তাড়া ছিল না। গল্পলেখার পেয়াদা যখন দরজা ছাড়ে না তখন দায়ে পড়ে ভাবতে হল কী লিখি। সময়ের দাবি বদলে গেছে। একালে গল্পের কৌতূহলটা হয়ে উঠেছে মনোবিকলনমূলক। ঘটনা-গ্রন্থন হয়ে পড়েছে গৌণ। তাই অস্বাভাবিক অবস্থায় মনের রহস্য সন্ধান করে নায়ক-নায়িকার জীবনে প্রকাণ্ড একটা ভুলের দম লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল -- অত্যন্ত নিষ্ঠুর কিন্তু ঔৎসুক্যজনক। এর চরম সাইকলজির প্রশ্ন হচ্ছে এই যে, স্বামীর সম্বন্ধের নিত্যতা নিয়ে যে সংস্কার- আমাদের দেশের সাধারণ মেয়েদের মনে আছে তার মূল এত গভীর কি না যাতে অজ্ঞানজনিত প্রথম ভালোবাসার জালকে ধিক্কারের সঙ্গে সে ছিন্ন করতে পারে। কিন্তু এ-সব প্রশ্নের সর্বজনীন উত্তর সম্ভব নয়। কোনো একজন বিশেষ মেয়ের মনে সমাজের চিরকালীন সংস্কার দুর্নিবাররূপে এমন প্রবল হওয়া অসম্ভব নয় যাতে অপরিচিত স্বামীর সংবাদমাত্রেই সকল বন্ধন ছিঁড়ে তার দিকে ছুটে যেতে পারে। বন্ধনটা এবং সংস্কারটা দুই সমান দৃঢ় হয়ে যদি নারীর মনে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের অস্ত্র-চালাচালি চলত তা হলে গল্পের নাটকীয়তা হতে পারত সুতীব্র, মনে চিরকালের মতো দেগে দিত তার ট্র্যাজিক শোচনীয়তার ক্ষতচিহ্ন। ট্র্যাজেডির সর্বপ্রধান বাহন হয়ে রইল হতভাগ্য রমেশ -- তার দুঃখকরতা প্রতিমুখী মনোভাবের বিরুদ্ধতা নিয়ে তেমন নয় যেমন ঘটনাজালের দুর্মোচ্য জটিলতা নিয়ে। এই কারণে বিচারক যদি রচয়িতাকে অপরাধী করেন আমি উত্তর দেব না। কেবল বলব গল্পের মধ্যে যে অংশে বর্ণনায় এবং বেদনায় কবিত্বের স্পর্শ লেগেছে সেটাতে যদি রসের অপচয় না ঘটে থাকে তা হলে সমস্ত নৌকাডুবি থেকে সেই অংশে হয়তো কবির খ্যাতি কিছু কিছু বাঁচিয়ে রাখতে পারে। কিন্তু এও অসংকোচে বলতে পারি নে, কেননা রুচির দ্রুত পরিবর্তন চলেছে।
আরো দেখুন
সুয়োরানীর সাধ
Stories
সুয়োরানীর বুঝি মরণকাল এল।
তার প্রাণ হাঁপিয়ে উঠছে, তার কিছুই ভালো লাগছে না। বদ্দি বড়ি নিয়ে এল। মধু দিয়ে মেড়ে বললে, 'খাও।' সে ঠেলে ফেলে দিলে।
আরো দেখুন
গুরু গোবিন্দ
Verses
"বন্ধু, তোমরা ফিরে যাও ঘরে
          এখনো সময় নয়'--
নিশি অবসান, যমুনার তীর,
ছোটো গিরিমালা, বন সুগভীর,
গুরু গোবিন্দ কহিলা ডাকিয়া
          অনুচর গুটি ছয়।
"যাও রামদাস, যাও গো লেহারি,
          সাহু, ফিরে যাও তুমি।
দেখায়ো না লোভ, ডাকিয়ো না মোরে
ঝাঁপায়ে পড়িত কর্মসাগরে--
এখনো পড়িয়া থাক্‌ বহু দূরে
          জীবনরঙ্গভূমি।
"ফিরায়েছি মুখ, রুধিয়াছি কান,
          লুকায়েছি বনমাঝে।
সুদূরে মানবসাগর অগাধ
চিরক্রন্দিত-ঊর্মি-নিনাদ,
হেথায় বিজনে রয়েছি মগন
          আপন গোপন কাজে।
"মানবের প্রাণ ডাকে যেন মোরে
          সেই লোকালয় হতে।
সুপ্ত নিশীথে জেগে উঠে তাই
চমকিয়া উঠে বলি "যাই যাই',
প্রাণ মন দেহ ফেলে দিতে চাই
          প্রবল মানবস্রোতে।
তোমাদের হেরি চিত চঞ্চল,
          উদ্দাম ধায় মন।
রক্ত-অনল শত শিখা মেলি
সর্পসমান করি উঠে কেলি,
গঞ্জনা দেয় তরবারি যেন
          কোষমাঝে ঝন্‌ ঝন্‌।
"হায়, সেকি সুখ, এ গহন ত্যজি
          হাতে লয়ে জয়তুরী
জনতার মাঝে ছুটিয়া পড়িতে,
রাজ্য ও রাজা ভাঙিতে গড়িতে,
অত্যাচারের বক্ষে পড়িয়া
          হানিতে তীক্ষ্ন ছুরি!
"তুরঙ্গসম অন্ধ নিয়তি,
          বন্ধন করি তায়
রশ্মি পাকড়ি আপনার করে
বিঘ্ন বিপদ লঙ্ঘন ক'রে
আপনার পথে ছুটাই তাহারে
          প্রতিকূল ঘটনায়।
"সমুখে যে আসে সরে যায় কেহ,
          পড়ে যায় কেহ ভূমে।
দ্বিধা হয়ে বাধা হতেছে ভিন্ন,
পিছে পড়ে থাকে চরণচিহ্ন,
আকাশের আঁখি করিছে খিন্ন
          প্রলয়বহ্নিধূমে।
"শত বার করে মৃত্যু ডিঙায়ে
          পড়ি জীবনের পাড়ে।
প্রান্তগগনে তারা অনিমিখ
নিশীথতিমিরে দেখাইছে দিক,
লোকের প্রবাহ ফেনায়ে ফেনায়ে
          গরজিছে দুই ধারে।
"কভু অমানিশা নীরব নিবিড়,
          কভু বা প্রখর দিন।
কভু বা আকাশে চারি-দিক-ময়
বজ্র লুকায়ে মেঘ জড়ো হয়,
কভু বা ঝটিকা মাথার উপরে
          ভেঙে পড়ে দয়াহীন।
"আয় আয় আয়' ডাকিতেছি সবে,
          আসিতেছে সবে ছুটে।
বেগে খুলে যায় সব গৃহদ্বার,
ভেঙে বাহিরায় সব পরিবার,
সুখ সম্পদ মায়া মমতার
          বন্ধন যায় টুটে।
"সিন্ধুমাঝারে মিশিছে যেমন
পঞ্চ নদীর জল,
আহ্বান শুনে কে কারে থামায়,
ভক্তহৃদয় মিলিছে আমায়,
পঞ্জাব জুড়ি উঠিছে জাগিয়া
          উন্মাদ কোলাহল।
"কোথা যাবি ভীরু, গহন গোপনে
          পশিছে কণ্ঠ মোর।
প্রভাতে শুনিয়া "আয় আয় আয়'
কাজের লোকেরা কাজ ভুলে যায়,
নিশীথে শুনিয়া "আয় তোরা আয়'
          ভেঙে যায় ঘুমঘোর।
"যত আগে চলি বেড়ে যায় লোক,
          ভরে যায় ঘাট বাট।
ভুলে যায় সবে জাত-অভিমান,
অবহেলে দেয় আপনার প্রাণ,
এক হয়ে যায় মান অপমান
          ব্রাহ্মণ আর জাঠ।
"থাক্‌ ভাই, থাক্‌, কেন এ স্বপন--
          এখনো সময় নয়।
এখনো একাকী দীর্ঘ রজনী
জাগিতে হইবে পল গণি গণি
অনিমেষ চোখে পূর্ব গগনে
          দেখিতে অরুণোদয়।
"এখনো বিহার কল্পজগতে,
          অরণ্য রাজধানী--
এখনো কেবল নীরব ভাবনা,
কর্মবিহীন বিজন সাধনা,
দিবানিশি শুধু বসে বসে শোনা
          আপন মর্মবাণী।
"একা ফিরি তাই যমুনার তীরে
          দুর্গমগিরিমাঝে।
মানুষ হতেছি পাষাণের কোলে,
মিশাতেছি গান নদীকলরোলে,
গড়িতেছি মন আপনার মনে,
          যোগ্য হতেছি কাজে।
"এমনি কেটেছে দ্বাদশ বরষ,
         আরো কতদিন হবে!
চারি দিক হতে অমর জীবন
বিন্দু বিন্দু করি আহরণ
আপনার মাঝে আপনারে আমি
          পূর্ণ দেখিব কবে!
"কবে প্রাণ খুলে বলিতে পারিব--
          "পেয়েছি আমার শেষ!
তোমরা সকলে এসো মোর পিছে,
গুরু তোমাদের সবারে ডাকিছে,
আমার জীবনে লভিয়া জীবন
          জাগো রে সকল দেশ!
"নাহি আর ভয়, নাহি সংশয়,
          নাহি আর আগু-পিছু।
পেয়েছি সত্য, লভিয়াছি পথ,
সরিয়া দাঁড়ায় সকল জগৎ--
নাই তার কাছে জীবন মরণ,
          নাই নাই আর কিছু।'
"হৃদয়ের মাঝে পেতেছি শুনিতে
          দৈববাণীর মতো--
"উঠিয়া দাঁড়াও আপন আলোতে,
ওই চেয়ে দেখো কতদূর হতে
তোমার কাছেতে ধরা দিবে ব'লে
          আসে লোক কত শত।
"ওই শোনো শোনো কল্লোলধ্বনি,
          ছুটে হৃদয়ের ধারা।
স্থির থাকো তুমি, থাকো তুমি জাগি
প্রদীপের মতো আলস তেয়াগি,
এ নিশীথমাঝে তুমি ঘুমাইলে
           ফিরিয়া যাইবে তারা।'
"ওই চেয়ে দেখো দিগন্ত-পানে
          ঘনঘোর ঘটা অতি।
আসিতেছে ঝড় মরণেরে লয়ে--
তাই বসে বসে হৃদয়-আলয়ে
জ্বালাতেছি আলো, নিবিবে না ঝড়ে,
          দিবে অনন্ত জ্যোতি।
"যাও তবে সাহু, যাও রামদাস,
          ফিরে যাও সখাগণ।
এসো দেখি সবে যাবার সময়
বলো দেখি সবে "গুরুজির জয়',
দুই হাত তুলি বলো "জয় জয়
          অলখ নিরঞ্জন' ।'
বলিতে বলিতে প্রভাততপন
          উঠিল আকাশ-'পরে।
গিরির শিখারে গুরুর মূরতি
কিরণছটায় প্রোজ্জ্বল অতি--
বিদায় মাগিল অনুচরগণ,
          নমিল ভক্তিভরে।
আরো দেখুন
যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
Stories
এক সময় যজ্ঞেশ্বরের অবস্থা ভালোই ছিল। এখন প্রাচীন ভাঙা কোঠাবাড়িটাকে সাপব্যাঙ-বাদুড়ের হস্তে সমর্পণ করিয়া খোড়ো ঘরে ভগবদগীতা লইয়া কালযাপন করিতেছেন।
এগারো বৎসর পূর্বে তাঁহার মেয়েটি যখন জন্মিয়াছিল তখন বংশের সৌভাগ্যশশী কৃষ্ণপক্ষের শেষকলায় আসিয়া ঠেকিয়াছে। সেইজন্য সাধ করিয়া মেয়ের নাম রাখিয়াছিলেন কমলা। ভাবিয়াছিলেন, যদি এই কৌশলে ফাঁকি দিয়া চঞ্চলা লক্ষ্মীকে কন্যারূপে ঘরে ধরিয়া রাখিতে পারেন। লক্ষ্মী সে ফন্দিতে ধরা দিলেন না, কিন্তু মেয়েটির মুখে নিজের শ্রী রাখিয়া গেলেন। বড়ো সুন্দরী মেয়ে।
আরো দেখুন
আমার সুখ
Verses
ভালোবাসা-ঘেরা ঘরে           কোমল শয়নে তুমি
              যে সুখেই থাকো,
    যে মাধুরী এ জীবনে             আমি পাইয়াছি তাহা
              তুমি পেলে নাকো।
এই-যে অলস বেলা,               অলস মেঘের মেলা,
    জলেতে আলোতে খেলা সারা দিনমান,
এরি মাঝে চারি পাশে       কোথা হতে ভেসে আসে
    ওই মুখ, ওই হাসি, ওই দু'নয়ান।
সদা শুনি কাছে দূরে                মধুর কোমল সুরে
              তুমি মোরে ডাকো--
    তাই ভাবি, এ জীবনে           আমি যাহা পাইয়াছি
              তুমি পেলে নাকো।
    কোনোদিন একদিন              আপনার মনে শুধু
              এক সন্ধ্যাবেলা
    আমারে এমনি করে              ভাবিতে পারিতে যদি
              বসিয়া একেলা--
এমনি সুদূর বাঁশি                শ্রবণে পশিত আসি,
        বিষাদকোমল হাসি ভাসিত অধরে,
নয়নে জলের রেখা              এক বিন্দু দিত দেখা,
        তারি 'পরে সন্ধ্যালোক কাঁপিত কাতরে--
    ভেসে যেত মনখানি             কনকতরণীসম
              গৃহহীন স্রোতে--
    শুধু একদিন-তরে          আমি ধন্য হইতাম
              তুমি ধন্য হতে।
তুমি কি করেছ মনে        দেখেছ, পেয়েছ তুমি
                 সীমারেখা মম?
    ফেলিয়া দিয়াছ মোরে       আদি অন্ত শেষ করে
                 পড়া পুঁথি-সম?
নাই সীমা আগে পাছে,            যত চাও তত আছে,
      যতই আসিবে কাছে তত পাবে মোরে।
আমারেও দিয়ে তুমি                 এ বিপুল বিশ্বভূমি
      এ আকাশে এ বাতাস দিতে পারো ভরে।
    আমাতেও স্থান পেত         অবাধে সমস্ত তব
                 জীবনের আশা।
    একবার ভেবে দেখো            এ পরানে ধরিয়াছে
                 কত ভালোবাসা।
    সহসা কী শুভক্ষণে               অসীম হৃদয়রাশি
                 দৈবে পড়ে চোখে।
    দেখিতে পাও নি যদি,          দেখিতে পাবে না আর,
                 মিছে মরি বকে।
আমি যা পেয়েছি তাই          সাথে নিয়ে ভেসে যাই,
       কোনোখানে সীমা নাই ও মধু মুখের--
শুধু স্বপ্ন, শুধু স্মৃতি,           তাই নিয়ে থাকি নিতি,
            আর আশা নাহি রাখি সুখের দুখের।
    আমি যাহা দেখিয়াছি,           আমি যাহা পাইয়াছি
                 এ জনম-সই,
    জীবনের সব শূন্য                 আমি যাহে ভরিয়াছি
                 তোমার তা কই।
আরো দেখুন
মাস্টারমশায়
Stories
রাত্রি তখন প্রায় দুটা। কলিকাতার নিস্তব্ধ শব্দসমুদ্রে একটুখানি ঢেউ তুলিয়া একটা বড়ো জুড়িগাড়ি ভবানীপুরের দিক হইতে আসিয়া বির্জিতলাওয়ের মোড়ের কাছে থামিল। সেখানে একটা ঠিকাগাড়ি দেখিয়া, আরোহী বাবু তাহাকে ডাকিয়া আনাইলেন। তাহার পাশে একটি কোট-হ্যাট-পরা বাঙালি বিলাতফের্তা যুবা সম্মুখের আসনে দুই পা তুলিয়া দিয়া একটু মদমত্ত অবস্থায় ঘাড় নামাইয়া ঘুমাইতেছিল। এই যুবকটি নূতন বিলাত হইতে আসিয়াছে। ইহারই অভ্যর্থনা উপলক্ষে বন্ধুমহলে একটা খানা হইয়া গেছে। সেই খানা হইতে ফিরিবার পথে একজন বন্ধু তাহাকে কিছুদূর অগ্রসর করিবার জন্য নিজের গাড়িতে তুলিয়া লইয়াছেন। তিনি ইহাকে দু-তিনবার ঠেলা দিয়া জাগাইয়া কহিলেন, 'মজুমদার, গাড়ি পাওয়া গেছে, বাড়ি যাও।'
মজুমদার সচকিত হইয়া একটা বিলাতি দিব্য গালিয়া ভাড়াটে গাড়িতে উঠিয়া পড়িল। তাহার গাড়োয়ানকে ভালো করিয়া ঠিকানা বাতলাইয়া দিয়া ব্রুহাম গাড়ির আরোহী নিজের গম্যপথে চলিয়া গেলেন।
আরো দেখুন
শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
আজ কি তাহার
Songs
আজ কি তাহার বারতা পেল রে কিশলয়।
          ওরা    কার কথা কয় রে    বনময়॥
আকাশে আকাশে দূরে দূরে     সুরে সুরে
          কোন্‌ পথিকের গাহে জয়॥
যেথা   চাঁপা-কোরকের শিখা জ্বলে
          ঝিল্লিমুখর ঘন বনতলে,
এসো কবি, এসো, মালা পরো,   বাঁশি ধরো--
          হোক গানে গানে বিনিময়॥
আরো দেখুন
হৈমন্তী
Stories
কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন,মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই তাড়া।
আমি ছিলাম বর। সুতরাং, বিবাহসম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি, এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ, কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষ ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।
আরো দেখুন