বিদূষক
Stories
কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনামানিকে হাতি বোঝাই হল।
দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন।
আরো দেখুন
ঠাকুরদা
Stories
নয়নজোড়ের জমিদারেরা এককালে বাবু বলিয়া বিশেষ বিখ্যাত ছিলেন। তখনকার কালের বাবুয়ানার আদর্শ বড়ো সহজ ছিল না। এখন যেমন রাজা-রায়বাহাদুর খেতাব অর্জন করিতে অনেক খানা নাচ ঘোড়দৌড় এবং সেলাম-সুপারিশের শ্রাদ্ধ করিতে হয়, তখনো সাধারণের নিকট হইতে বাবু উপাধি লাভ করিতে বিস্তর দুঃসাধ্য তপশ্চরণ করিতে হইত।
আমাদের নয়নজোড়ের বাবুরা পাড় ছিঁড়িয়া ফেলিয়া ঢাকাই কাপড় পরিতেন, কারণ পাড়ের কর্কশতায় তাঁহাদের সুকোমল বাবুয়ানা ব্যথিত হইত। তাঁহারা লক্ষ টাকা দিয়া বিড়ালশাবকের বিবাহ দিতেন এবং কথিত আছে, একবার কোনো উৎসব উপলক্ষে রাত্রিকে দিন করিবার প্রতিজ্ঞা করিয়া অসংখ্য দীপ জ্বলাইয়া সূর্যকিরণের অনুকরণে তাঁহারা সাচ্চা রুপার জরি উপর হইতে বর্ষণ করিয়াছিলেন।
আরো দেখুন
শুভদৃষ্টি
Stories
কান্তিচন্দ্রের বয়স অল্প, তথাপি স্ত্রীবিয়োগের পর দ্বিতীয় স্ত্রীর অনুসন্ধানে ক্ষান্ত থাকিয়া পশুপক্ষী-শিকারেই মনোনিবেশ করিয়াছেন। দীর্ঘ কৃশ কঠিন লঘু শরীর, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, অব্যর্থ লক্ষ্য, সাজসজ্জায় পশ্চিমদেশীর মতো; সঙ্গে সঙ্গে কুস্তিগির হীরা সিং, ছক্কনলাল, এবং গাইয়ে বাজিয়ে খাঁসাহেব, মিঞাসাহেব অনেক ফিরিয়া থাকে; অকর্মণ্য অনুচর-পরিচরেরও অভাব নাই।
দুই-চারিজন শিকারী বন্ধুবান্ধব লইয়া অঘ্রানের মাঝামাঝি কান্তিচন্দ্র নৈদিঘির বিলের ধারে শিকার করিতে গিয়াছেন। নদীতে দুইটি বড়ো বোটে তাঁহাদের বাস, আরো  গোটা-তিনচার নৌকায় চাকরবাকরের দল গ্রামের ঘাট ঘিরিয়া বসিয়া আছে। গ্রামবধূদের জল তোলা, স্নান করা প্রায় বন্ধ। সমস্ত দিন বন্দুকের আওয়াজে জলস্থল কম্পমান, সন্ধ্যাবেলায় ওস্তাদি গলায় তানকর্তবে পল্লীর নিদ্রাতন্দ্রা তিরোহিত।
আরো দেখুন
5
Verses
FOR ONCE BE careless, timid traveller, and utterly lose your way; wide-awake though you are, be like broad daylight enticed by and netted in mist.
        Do not shun the garden of Lost Hearts waiting at the end of the wrong road, where the grass is strewn with wrecked red flowers, and disconsolate water heaves in the troubled sea.
        Long have you watched over the store gathered by weary years. Let it be stripped, with nothing remaining but the desolate triumph of losing all.
আরো দেখুন
একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প
Stories
গল্প বলিতে হইবে। কিন্তু আর তো পারি না। এখন এই পরিশ্রান্ত অক্ষম ব্যক্তিটিকে ছুটি দিতে হইবে।
এ পদ আমাকে কে দিল বলা কঠিন। ক্রমে ক্রমে একে একে তোমরা পাঁচজন আসিয়া আমার চারিদিকে কখন জড়ো হইলে, এবং কেন যে তোমরা আমাকে এত অনুগ্রহ করিলে এবং আমার কাছে এত প্রত্যাশা করিলে, তাহা বলা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য। অবশ্যই সে তোমাদের নিজগুণে; শুভাদৃষ্টক্রমে আমার প্রতি সহসা তোমাদের অনুগ্রহ উদয় হইয়াছিল। এবং যাহাতে সে অনুগ্রহ রক্ষা হয় সাধ্যমতো সে চেষ্টার ত্রুটি হয় নাই।
আরো দেখুন
রাজটিকা
Stories
নবেন্দুশেখরের সহিত অরুণলেখার যখন বিবাহ হইল, তখন হোমধূমের অন্তরাল হইতে ভগবান প্রজাপতি ঈষৎ একটু হাস্য করিলেন। হায়, প্রজাপতির পক্ষে যাহা খেলা আমাদের পক্ষে তাহা সকল সময়ে কৌতুকের নহে।
নবেন্দুশেখরের পিতা পূর্ণেন্দুশেখর ইংরাজরাজ-সরকারে বিখ্যাত। তিনি এই ভবসমুদ্রে কেবলমাত্র দ্রুতবেগে সেলাম-চালনা দ্বারা রায়বাহাদুর পদবীর উৎতুঙ্গ মরুকূলে উত্তীর্ণ হইয়াছিলেন; আরো দুর্গমতর সম্মানপথের পাথেয় তাঁহার ছিল, কিন্তু পঞ্চান্ন বৎসর বয়ঃক্রমকালে অনতিদূরবর্তী রাজখেতাবের কুহেলিকাচ্ছন্ন গিরিচূড়ার প্রতি করুণ লোলুপ দৃষ্টি স্থিরনিবদ্ধ করিয়া এই রাজানুগৃহীত ব্যাক্তি অকস্মাৎ খেতাববর্জিত লোকে গমন করিলেন এবং তাঁহার বহু-সেলাম-শিথিল গ্রীবাগ্রন্থি শ্মশানশয্যায় বিশ্রাম লাভ করিল।
আরো দেখুন
পায়ে চলার পথ
Stories
এই তো পায়ে চলার পথ।
এসেছে বনের মধ্যে দিয়ে মাঠে, মাঠের মধ্যে দিয়ে নদীর ধারে, খেয়াঘাটের পাশে বটগাছেরতলায়। তার পরে ও পারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে তিসির খেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে, পদ্মদিঘির পাড় দিয়ে, রথতলার পাশ দিয়ে কোন্‌ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁচেছে জানি নে।
আরো দেখুন
নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
নববঙ্গদম্পতির প্রেমালাপ
Verses
বাসরশয়নে
বর।     জীবনে জীবন         প্রথম মিলন,
            সে সুখের কোথা তুলা নাই।
       এস, সব ভুলে     আজি আঁখি তুলে
            শুধু দুঁহু দোঁহা মুখ চাই।
       মরমে মরমে        শরমে ভরমে
            জোড়া লাগিয়াছে এক ঠাঁই।
       যেন এক মোহে    ভুলে আছি দোঁহে,
            যেন এক ফুলে মধু খাই।
       জনম অবধি         বিরহে দগধি
            এ পরান হয়ে ছিল ছাই--
       তোমার অপার         প্রেমপারাবার,
            জুড়াইতে আমি এনু তাই।
       বলো একবার,         "আমিও তোমার,
            তোমা ছাড়া কারে নাহি চাই।"
       ওঠ কেন, ওকি,       কোথা যাও সখী?
               সরোদনে
কনে।       আইমার কাছে শুতে যাই!
               দু-দিন পরে
বর।     কেন সখী, কোণে কাঁদিছ বসিয়া
              চোখে কেন জল পড়ে?
       উষা কি তাহার     শুকতারা-হারা,
              তাই কি শিশির ঝরে?
       বসন্ত কি নাই,      বনলক্ষ্মী তাই
              কাঁদিছে আকুল স্বরে?
       উদাসিনী স্মৃতি   কাঁদিছে কি বসি
              আশার সমাধি-'পরে?
       খ'সে-পড়া তারা       করিছে কি শোক
              নীল আকাশের তরে?
       কী লাগি কাঁদিছ?
কনে।                         পুষি মেনিটিরে
              ফেলিয়া এসেছি ঘরে।
               অন্দরের বাগানে
বর।  কী করিছ বনে          শ্যামল শয়নে
              আলো করে বসে তরুমূল?
       কোমল কপোলে          যেন নানা ছলে
              উড়ে এসে পড়ে এলোচুল।
       পদতল দিয়া               কাঁদিয়া কাঁদিয়া
              বহে যায় নদী কুলুকুল্‌।
       সারা দিনমান               শুনি সেই গান
            তাই বুঝি আঁখি ঢুলুঢুল্‌।
       আঁচল ভরিয়া             মরমে মরিয়া
            পড়ে আছে বুঝি ঝুরো ফুল?
       বুঝি মুখ কার          মনে পড়ে, আর
            মালা গাঁথিবারে হয় ভুল?
       কার কথা বলি         বায়ু পড়ে ঢলি,
            কানে দুলাইয়া যায় দুল?
       গুন্‌ গুন্‌ ছলে          কার নাম বলে
            চঞ্চল যত অলিকুল?
       কানন নিরালা,           আঁখি হাসি-ঢালা,
            মন সুখস্মৃতি-সমাকুল--
       কী করিছ বনে             কুঞ্জভবনে?
কনে।           খেতেছি বসিয়া টোপাকুল।
বর।      আসিয়াছি কাছে            মনে যাহা আছে
            বলিবারে চাহি সমুদয়।
       আপনার ভার            বহিবারে আর
            পারে না ব্যাকুল এ হৃদয়।
       আজি মোর মন        কী জানি কেমন,
            বসন্ত আজি মধুময়,
       আজি প্রাণ খুলে              মালতীমুকুলে
            বায়ু করে যায় অনুনয়।
       যেন আঁখি দুটি         মোর পানে ফুটি
            আশা-ভরা দুটি কথা কয়,
       ও হৃদয় টুটে              যেন প্রেম উঠে
            নিয়ে আধো-লাজ আধো-ভয়।
       তোমার লাগিয়া           পরান জাগিয়া
            দিবসরজনী সারা হয়,
       কোন্‌ কাজে তব              দিবে তার সব
            তারি লাগি যেন চেয়ে রয়।
       জগৎ ছানিয়া        কী দিব আনিয়া
            জীবন যৌবন করি ক্ষয়?
       তোমা তরে, সখী,        বলো করিব কী?
কনে।           আরো কুল পাড়ো গোটা ছয়।
বর।     তবে যাই সখী,          নিরাশাকাতর
            শূন্য জীবন নিয়ে।
       আমি চলে গেলে         এক ফোঁটা জল
            পড়িবে কি আঁখি দিয়ে?
       বসন্তবায়ু            মায়ানিশ্বাসে
            বিরহ জ্বালাবে হিয়ে?
       ঘুমন্তপ্রায়              আকাঙ্খা যত
            পরানে উঠিবে জিয়ে?
       বিষাদিনী বসি          বিজন বিপিনে
            কী করিবে তুমি প্রিয়ে?
       বিরহের বেলা      কেমনে কাটিবে?
কনে।         দেব পুতুলের বিয়ে।
আরো দেখুন
হৈমন্তী
Stories
কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন,মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই তাড়া।
আমি ছিলাম বর। সুতরাং, বিবাহসম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি, এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ, কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষ ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।
আরো দেখুন
বোষ্টমী
Stories
আমি লিখিয়া থাকি অথচ লোকরঞ্জন আমার কলমের ধর্ম নয়, এইজন্য লোকেও আমাকে সদাসর্বদা যে রঙে রঞ্জিত করিয়া থাকে তাহাতে কালির ভাগই বেশি। আমার সম্বন্ধে অনেক কথাই শুনিতে হয়; কপালক্রমে সেগুলি হিতকথা নয়, মনোয়ারী তো নহেই।
শরীরে যেখানটায় ঘা পড়িতে থাকে সে জায়গাটা যত তুচ্ছই হোক সমস্ত দেহটাকে বেদনার জোরে সেই ছাড়াইয়া যায়। সে লোক গালি খাইয়া মানুষ হয়, সে আপনার স্বভাবকে যেন ঠেলিয়া একঝোঁকা হইয়া পড়ে। আপনার চারি দিককে ছাড়াইয়া আপনাকেই কেবল তাহার মনে পড়ে-- সেটা আরামও নয়, কল্যাণও নয়। আপনাকে ভোলাটাই তো স্বস্তি।
আরো দেখুন