185
Verses
মনের আকাশে তার
      দিক্‌সীমানা বেয়ে
বিবাগি স্বপনপাখি
      চলিয়াছে ধেয়ে।
আরো দেখুন
উন্নতি
Verses
উপরে যাবার সিঁড়ি,
         তারি নীচে দক্ষিণের বারান্দায়
             নীলমণি মাস্টারের কাছে
                 সকালে পড়তে হত ইংলিশ রীডার।
  ভাঙা পাঁচিলের কাছে ছিল মস্ত তেঁতুলের গাছ।
                 ফল পাকবার বেলা।
ডালে ডালে ঝপাঝপ বাঁদরের হ'ত লাফালাফি।
      ইংরেজি বানান ছেড়ে দুই চক্ষু ছুটে যেত
             লেজ-দোলা বাঁদরের দিকে।
      সেই উপলক্ষে--
আমার বুদ্ধির সঙ্গে রাঙামুখো বাঁদরের
         নির্ভেদ নির্ণয় করে
             মাস্টার দিতেন কানমলা।
ছুটি হলে পরে
      শুরু হত আমার মাস্টারি
             উদ্ভিদ্‌-মহলে।
      ফলসা চালতা ছিল, ছিল সার-বাঁধা
             সুপুরির গাছ।
অনাহূত জন্মেছিল কী করে কুলের এক চারা
      বাড়ির গা ঘেঁষে;
  সেটাই আমার ছাত্র ছিল।
      ছড়ি দিয়ে মারতেম তাকে।
  বলতেম, "দেখ্‌ দেখি বোকা,
      উঁচু ফলসার গাছে ফল ধরে গেল--
কোথাকার বেঁটে কুল উন্নতির উৎসাহই নেই।'
      শুনেছি বাবার মুখে যত উপদেশ
তার মধ্যে বার বার "উন্নতি' কথাটা শোনা যেত।
         ভাঙা বোতলের ঝুড়ি বেচে
      শেষকালে কে হয়েছে লক্ষপতি ধনী
             সেই গল্প শুনে শুনে
উন্নতি যে কাকে বলে দেখেছি সুস্পষ্ট তার ছবি।
         বড়ো হওয়া চাই--
অর্থাৎ, নিতান্ত পক্ষে হতে হবে বাজিদপুরের
      ভজু মল্লিকের জুড়ি।
  ফলসার ফলে ভরা গাছ
বাগান-মহলে সেই ভজু মহাজন।
      চারাটাকে রোজ বোঝাতেম,
  ওরই মতো বড়ো হতে হবে।
কাঠি দিয়ে মাপি তাকে এবেলা ওবেলা--
      আমারি কেবল রাগ বাড়ে,
         আর কিছু বাড়ে না তো।
সেই কাঠি দিয়ে তাকে মারি শেষে সপাসপ্‌ জোরে--
      একটু ফলে নি তাতে ফল।
             কান-মলা যত দিই
         পাতাগুলো ম'লে ম'লে,
                 ততই উন্নতি তার কমে।
এ দিকে ছিলেন বাবা ইন্‌কম্‌-ট্যাক্সো-কালেক্টার,
         বদলি হলেন
             বর্ধমান ডিভিজনে।
      উচ্চ ইংরেজির স্কুলে পড়া শুরু করে
                 উচ্চতার পূর্ণ পরিণতি
                     কোলকাতা গিয়ে।
             বাবার মৃত্যুর পরে সেক্রেটারিয়েটে
                 উন্নতির ভিত্তি ফাঁদা গেল।
         বহুকষ্টে বহু ঋণ করে
                 বোনের দিয়েছি বিয়ে।
         নিজের বিবাহ প্রায় টার্মিনসে এল
                 আগামী ফাল্গুন মাসে নবমী তিথিতে।
      নববসন্তের হাওয়া ভিতরে বাইরে
             বইতে আরম্ভ হল যেই
                 এমন সময়ে, রিডাক্‌শান্‌।
             পোকা-খাওয়া কাঁচা ফল
                 বাইরেতে দিব্যি টুপ্‌টুপে,
                     ঝুপ্‌ করে খসে পড়ে
                         বাতাসের এক দমকায়,
                            আমার সে দশা।
      বসন্তের আয়োজনে যে একটু ত্রুটি হল
             সে কেবল আমারি কপালে।
      আপিসের লক্ষ্মী ফিরালেন মুখ,
         ঘরের লক্ষ্মীও
             স্বর্ণকমলের খোঁজে অন্যত্র হলেন নিরুদ্দেশ।
      সার্টিফিকেটের তাড়া হাতে,
         শুক্‌নো মুখ,
             চোখ গেছে বসে,
                 তুবড়ে গিয়েছে পেট,
                     জুতোটার তলা ছেঁড়া,
                         দেহের বর্ণের সঙ্গে চাদরের
                            ঘুচে গেছে বর্ণভেদ--
      ঘুরে মরি বড়োলোকদের দ্বারে।
                 এমন সময় চিঠি এল
                     ভজু মহাজন
                 দেনায় দিয়েছে ক্রোক ভিটেবাড়িখানা।
    বাড়ি গিয়ে উপরের ঘরে
জানলা খুলতে সেটা ডালে ঠেকে গেল।
        রাগ হল মনে--
ঠেলাঠেলি করে দেখি,
           আরে আরে ছাত্র যে আমার!
        শেষকালে বড়োই তো হল,
               উন্নতির প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিলে
        ভজু মল্লিকেরই মতো আমার দুয়ারে দিয়ে হানা।
আরো দেখুন
ইঁদুরের ভোজ
Stories
ছেলেরা বললে, ভারি অন্যায়, আমরা নতুন পণ্ডিতের কাছে কিছুতেই পড়ব না।
নতুন পণ্ডিতমশায় যিনি আসছেন তাঁর নাম কালীকুমার তর্কালঙ্কার।
আরো দেখুন
চার অধ্যায়
Novels
এলার মনে পড়ে তার জীবনের প্রথম সূচনা বিদ্রোহের মধ্যে। তার মা মায়াময়ীর ছিল বাতিকের ধাত, তাঁর ব্যবহারটা বিচার-বিবেচনার প্রশস্ত পথ ধরে চলতে পারত না। বেহিসাবি মেজাজের অসংযত ঝাপটায় সংসারকে তিনি যখন-তখন ক্ষুব্ধ করে তুলতেন, শাসন করতেন অন্যায় করে, সন্দেহ করতেন অকারণে। মেয়ে যখন অপরাধ অস্বীকার করত, ফস করে বলতেন, মিথ্যে কথা বলছিস। অথচ অবিমিশ্র সত্যকথা বলা মেয়ের একটা ব্যসন বললেই হয়। এজন্যেই সে শাস্তি পেয়েছে সব-চেয়ে বেশি। সকল রকম অবিচারের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতা তার স্বভাবে প্রবল হয়ে উঠেছে। তার মার কাছে মনে হয়েছে, এইটেই স্ত্রীধর্মনীতির বিরুদ্ধ।
একটা কথা সে বাল্যকাল থেকে বুঝেছে যে, দুর্বলতা অত্যাচারের প্রধান বাহন। ওদের পরিবারে যে-সকল আশ্রিত অন্নজীবী ছিল, যারা পরের অনুগ্রহ-নিগ্রহের সংকীর্ণ বেড়া-দেওয়া ক্ষেত্রের মধ্যে নিঃসহায়ভাবে আবদ্ধ তারাই কলুষিত করেছে ওদের পরিবারের আবহাওয়াকে, তারাই ওর মায়ের অন্ধ প্রভুত্বচর্চাকে বাধাবিহীন করে তুলেছে। এই অস্বাস্থ্যকর অবস্থার প্রতিক্রিয়ারূপেই ওর মনে অল্পবয়স থেকেই স্বাধীনতার আকাঙক্ষা এত দুর্দাম হয়ে উঠেছিল।
প্রহরশেষের আলোয় রাঙা
সেদিন চৈত্রমাস,
তোমার চোখে দেখেছিলাম
আমার সর্বনাশ।"
Upwards
Towards the peaks,
Towards the stars,
Towards the vast silence."
আরো দেখুন
ম্যানেজারবাবু
Stories
আজ তোমাকে যে গল্পটা বলব মনে করেছি সেটা তোমার ভালো লাগবে না।
তুমি বললেও ভালো লাগবে না কেন।
আরো দেখুন
শ্রাবণের পত্র
Verses
বন্ধু হে,
     পরিপূর্ণ বরষায়                       আছি তব ভরসায়,
           কাজকর্ম করো সায়, এস চট্‌পট্‌!
     শামলা আঁটিয়া নিত্য               তুমি কর ডেপুটিত্ব,
           একা প'ড়ে মোর চিত্ত করে ছট্‌ফট্‌।
     যখন যা সাজে ভাই                তখন করিবে তাই,
           কালাকাল মানা নাই কলির বিচার!
     শ্রাবণে ডেপুটিপনা                এ তো কভু নয় সনা-
           তন প্রথা, এ যে অনা-সৃষ্টি অনাচার।
     ছুটি লয়ে কোনোমতে            পোট্‌মাণ্টো তুলি রথে
           সেজেগুজে রেলপথে করো অভিসার।
     লয়ে দাড়ি লয়ে হাসি               অবতীর্ণ হও আসি,
           রুধিয়া জানালা শাসি বসি একবার।
     বজ্ররবে সচকিত                  কাঁপিবে গৃহের ভিত,
           পথে শুনি কদাচিৎ চক্র খড়্‌খড়্‌।
     হা রে রে ইংরাজ-রাজ,           এ সাধে হানিলি বাজ--
           শুধু কাজ, শুধু কাজ, শুধু ধড়্‌ফড়্‌।
     আমলা-শামলা-স্রোতে          ভাসাইলি এ ভারতে,
           যেন নেই ত্রিজগতে হাসি গল্প গান--
     নেই বাঁশি, নেই বঁধু,                নেই রে যৌবনমধু,
           মুছেছে পথিকবধূ সজল নয়ান।
     যেন রে শরম টুটে                  কদম্ব আর না ফুটে,
           কেতকী শিহরী উঠে করে না আকুল--
     কেবল জগৎটাকে                   জড়ায়ে সহস্র পাকে
           গবর্মেণ্ট পড়ে থাকে বিরাট বিপুল।
     বিষম রাক্ষস ওটা,            মেলিয়া আপিস-কোটা
           গ্রাস করে গোটা গোটা বন্ধুবান্ধবেরে--
বৃহৎ বিদেশে দেশে              কে কোথা তলায় শেষে
           কোথাকার সর্বনেশে সর্বিসের ফেরে।
     এ দিকে বাদর ভরা,                  নবীন শ্যামল ধরা,
           নিশিদিন জল-ঝরা সঘন গগন।
     এ দিকে ঘরের কোণে                বিরহিণী বাতায়নে,
           দিগন্তে তমালবনে নয়ন মগন।
     হেঁট মুণ্ড করি হেঁট               মিছে কর তফভঢ়তঢ়ন,
           খালি রেখে খালি পেট ভরিছ কাগজ।
     এ দিকে যে গোরা মিলে         কালা বন্ধু লুটে নিলে,
           তার বেলা কী করিলে নাই কোনো খোঁজ।
     দেখিছ না আঁখি খুলে               ম্যাঞ্চেস্ট্র লিভারপুলে
           দেশী শিল্প জলে গুলে করিল পভশভড়ব।
     "আষাঢ়ে গল্প' সে কই,            সেও বুঝি গেল ওই
           আমাদের নিতান্তই দেশের জিনিস।
     তুমি আছ কোথা গিয়া,         আমি আছি শূন্যহিয়া,
           কোথায় বা সে তাকিয়া শোকতাপহরা।
     সে তাকিয়া-- গল্পগীতি           সাহিত্যচর্চার স্মৃতি
           কত হাসি কত প্রীতি   কত তুলো   -ভরা!
     কোথায় সে যদুপতি,               কোথা মথুরার গতি,
           অথ, চিন্তা করি ইতি কুরু মনস্থির--
     মায়াময় এ জগৎ                     নহে সৎ নহে সৎ,
           যেন পদ্মপত্রবৎ, তদুপরি নীর।
     অতএব ত্বরা ক'রে                 উত্তর লিখিবে মোরে,
           সর্বদা নিকটে ঘোরে কাল সে করাল--
     ( সুধী তুমি ত্যজি নীর            গ্রহণ করিয়ো ক্ষীর )
           এই তত্ত্ব এ চিঠির জানিয়ো moral।
আরো দেখুন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
Stories
রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল, বড়ো বড়ো চোখ, শ্যামচিক্কণ ছিপ্‌ছিপে বালক। জাতিতে কায়স্থ। তাহার প্রভুরাও কায়স্থ। বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল।
সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে, স্কুল ছাড়িয়া কলেজে, অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্‌সেফিতে প্রবেশ করিয়াছে। রাইচরণ এখনো তাঁহার ভৃত্য।
আরো দেখুন
জয়পরাজয়
Stories
রাজকন্যার নাম অপরাজিতা। উদয়নারায়ণের সভাকবি শেখর তাঁহাকে কখনো চক্ষেও দেখেন নাই। কিন্তু যেদিন কোনো নূতন কাব্য রচনা করিয়া সভাতলে বসিয়া রাজাকে শুনাইতেন, সেদিন কণ্ঠস্বর ঠিক এতটা উচ্চ করিয়া পড়িতেন যাহাতে তাহা সেই সমুচ্চ গৃহের উপরিতলের বাতায়নবর্তিনী অদৃশ্য শ্রোত্রীগণের কর্ণপথে প্রবেশ করিতে পারে। যেন তিনি কোনো-এক অগম্য নক্ষত্রলোকের উদ্দেশে আপনার সংগীতোচ্ছ্বাস প্রেরণ করিতেন যেখানে জ্যোতিষ্ক-মণ্ডলীর মধ্যে তাঁহার জীবনের একটি অপরিচিত শুভগ্রহ অদৃশ্য মহিমায় বিরাজ করিতেছেন।
কখনো ছায়ার মতন দেখিতে পাইতেন, কখনো নূপুরশিঞ্জনের মতন শুনা যাইত; বসিয়া বসিয়া মনে মনে ভাবিতেন, সে কেমন দুইখানি চরণ যাহাতে সেই সোনার নূপুর বাঁধা থাকিয়া তালে তালে গান গাহিতেছে। সেই দুইখানি রক্তিম শুভ্র কোমল চরণতল প্রতি পদক্ষেপে কী সৌভাগ্য কী অনুগ্রহ কী করুণার মতো করিয়া পৃথিবীকে স্পর্শ করে। মনের মধ্যে সেই চরণদুটি প্রতিষ্ঠা করিয়া কবি অবসরকালে সেইখানে আসিয়া লুটাইয়া পড়িত এবং সেই নূপুরশিঞ্জনের সুরে আপনার গান বাঁধিত।
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
সতেরো বছর
Stories
আমি তার সতেরো বছরের জানা।
কত আসাযাওয়া, কত দেখাদেখি, কত বলাবলি; তারই আশেপাশে কত স্বপ্ন, কত অনুমান, কত ইশারা; তারই সঙ্গে সঙ্গে কখনো বা ভোরের ভাঙা ঘুমে শুকতারার আলো, কখনো বা আষাঢ়ের ভরসন্ধ্যায় চামেলিফুলের গন্ধ, কখনো বা বসন্তের শেষ প্রহরে ক্লান্ত নহবতের পিলুবারোয়াঁ; সতেরো বছর ধরে এই-সব গাঁথা পড়েছিল তার মনে।
আরো দেখুন
পায়ে চলার পথ
Stories
এই তো পায়ে চলার পথ।
এসেছে বনের মধ্যে দিয়ে মাঠে, মাঠের মধ্যে দিয়ে নদীর ধারে, খেয়াঘাটের পাশে বটগাছেরতলায়। তার পরে ও পারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে তিসির খেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে, পদ্মদিঘির পাড় দিয়ে, রথতলার পাশ দিয়ে কোন্‌ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁচেছে জানি নে।
আরো দেখুন