প্রশ্ন
Stories
শ্মাশান হতে বাপ ফিরে এল।
তখন সাত বছরের ছেলেটি-- গা খোলা, গলায় সোনার তাবিজ--একলা গলির উপরকার জানলার ধারে।
আরো দেখুন
মানভঞ্জন
Stories
রমানাথ শীলের ত্রিতল অট্টালিকায় সর্ব্বোচ্চ তলের ঘরে গোপীনাথ শীলের স্ত্রী গিরিবালা বাস করে। শয়নকক্ষের দক্ষিণ দ্বারের সম্মুখে ফুলের টবে গুটিকতক বেলফুল এবং গোলাপফুলের গাছ; ছাতটি উচ্চ প্রাচীর দিয়া ঘেরা-- বহিরদৃশ্য দেখিবার জন্য প্রাচীরের মাঝে মাঝে একটি করিয়া ইট ফাঁক দেওয়া আছে। শোবার ঘরে নানা বেশ এবং বিবেশ-বিশিষ্ট বিলাতি নারীমূর্তির বাঁধানো এন্‌গ্রেভিং টাঙানো রহিয়াছে; কিন্তু প্রবেশদ্বারের সম্মুখবর্তী বৃহৎ আয়নার উপরে ষোড়শী গৃহস্বামিনীর যে প্রতিবিম্বটি পড়ে তাহা দেয়ালের কোনো ছবি অপেক্ষা সৌন্দর্যে ন্যূন নহে।
গিরিবালার সৌন্দর্য অকস্মাৎ আলোকরশ্মির ন্যায়, বিস্ময়ের ন্যায়, নিদ্রাভঙ্গে চেতনার ন্যায়, একেবারে চকিতে আসিয়া আঘাত করে এবং এক আঘাতে অভিভূত করিয়া দিতে পারে। তাহাকে দেখিলে মনে হয়, ইহাকে দেখিবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না; চারি দিকে এবং চিরকাল যেরূপ দেখিয়া আসিতেছি এ একেবারে হঠাৎ তাহা হইতে অনেক স্বতন্ত্র।
আরো দেখুন
নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
খাতা
Stories
লিখিতে শিখিয়া অবধি উমা বিষম উপদ্রব আরম্ভ করিয়াছে। বাড়ির প্রত্যেক ঘরের দেয়ালে কয়লা দিয়া বাঁকা লাইন কাটিয়া বড়ো বড়ো কাঁচা অক্ষরে কেবলই লিখিতেছে--জল পড়ে, পাতা নড়ে।
তাহার বউঠাকুরানীর বালিশের নিচে 'হরিদাসের গুপ্তকথা' ছিল, সেটা সন্ধান করিয়া বাহির করিয়া তাহার পাতায় পাতায় পেনসিল দিয়া লিখিয়াছে--কালো জল, লাল ফুল।
আরো দেখুন
যায় দিন, শ্রাবণদিন
Songs
যায় দিন, শ্রাবণদিন যায়।
আঁধারিল মন মোর আশঙ্কায়,
মিলনের বৃথা প্রত্যাশায়   মায়াবিনী এই সন্ধ্যা ছলিছে॥
আসন্ন নির্জন রাতি,   হায়, মম পথ-চাওয়া বাতি
ব্যাকুলিছে শূন্যেরে কোন্‌ প্রশ্নে॥
দিকে দিকে কোথাও নাহি সাড়া,
ফিরে খ্যাপা হাওয়া গৃহছাড়া।
নিবিড়-তমিস্র-বিলুপ্ত-আশা   ব্যথিতা যামিনী খোঁজে ভাষা--
বৃষ্টিমুখরিত মর্মরছন্দে,   সিক্ত মালতীগন্ধে॥
আরো দেখুন
প্রতিবেশিনী
Stories
আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশ্রুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা।
তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না -- পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না।
আরো দেখুন
শেষ
Verses
থাকব না ভাই, থাকব না কেউ--
            থাকবে না ভাই কিছু।
সেই আনন্দে যাও রে চলে
            কালের পিছু পিছু।
অধিক দিন তো বইতে হয় না  
            শুধু একটি প্রাণ।
অনন্ত কাল একই কবি
            গায় না একই গান।
মালা বটে শুকিয়ে মরে--
            যে জন মালা পরে
সেও তো নয় অমর, তবে
            দুঃখ কিসের তরে?
                  থাকব না ভাই, থাকব না কেউ--
                        থাকবে না ভাই কিছু।
                  সেই আনন্দে যাও রে চলে
                         কালের পিছু পিছু।
সবই হেথায় একটা কোথাও
            করতে হয় রে শেষ,
গান থামিলে তাই তো কানে
            থাকে গানের রেশ।
কাটল বেলা সাধের খেলা
            সমাপ্ত হয় ব'লে
ভাব্‌নাটি তার মধুর থাকে
            আকুল অশ্রুজলে।
জীবন অস্ত যায় চলি, তাই
            রঙটি থাকে লেগে,
প্রিয়জনের মনের কোণে
            শরৎ-সন্ধ্যা-মেঘে।
                   থাকব না ভাই, থাকব না কেউ--
                         থাকবে না ভাই কিছু।
                   সেই আনন্দে যাও রে ধেয়ে
                         কালের পিছু পিছু।
ফুল তুলি তাই তাড়াতাড়ি
            পাছে ঝ'রেই পড়ে।
সুখ নিয়ে তাই কাড়াকাড়ি,
            পাছে যায় সে স'রে।
রক্ত নাচে দ্রুতচ্ছন্দে,
            চক্ষে তড়িৎ ভায়,
চুম্বনেরে কেড়ে নিতে
            অধর ধেয়ে যায়।
সমস্ত প্রাণ জাগে রে তাই,
            বক্ষ-দোলায় দোলে
বাসনাতে ঢেউ উঠে যায়
            মত্ত আকুল রোলে।
                 থাকব না ভাই, থাকব না কেউ
                        থাকবে না ভাই কিছু।
                 সেই আনন্দে চল্‌ রে ছুটে
                         কালের পিছু পিছু।
কোনো জিনিস চিনব যে রে,
            প্রথম থেকে শেষ,
নেব যে সব বুঝে প'ড়ে--
            নাই সে সময় লেশ।
জগৎটা যে জীর্ণ মায়া
            সেটা জানার আগে
সকল স্বপ্ন কুড়িয়ে নিয়ে
            জীবন-রাত্রি ভাগে।
ছুটি আছে শুধু দু দিন
            ভালোবাসবার মতো--
কাজের জন্যে জীবন হলে
            দীর্ঘজীবন হত।
                 থাকব না ভাই, থাকব না কেউ--
                       থাকবে না ভাই কিছু।
                 সেই আনন্দে চল্‌ রে ছুটে
                        কালের পিছু পিছু।
আজ তোমাদের যেমন জানছি
            তেমনি জানতে জানতে
ফুরায় যেন সকল জানা--
            যাই জীবনের প্রান্তে।
এই যে নেশা লাগল চোখে
            এইটুকু যেই ছোটে
অমনি যেন সময় আমার
            বাকি না রয় মোটে।
জ্ঞানের চক্ষু স্বর্গে গিয়ে
            যায় যদি যাক খুলি,
মর্তে যেন না ভেঙে যায়
            মিথ্যে মায়াগুলি।
               থাকব না ভাই, থাকব না কেউ
                       থাকবে না ভাই কিছু।
               সেই আনন্দে চল্‌ রে ধেয়ে
                       কালের পিছু পিছু।
আরো দেখুন