সন্ধ্যা ও প্রভাত
Stories
এখানে নামল সন্ধ্যা। সূর্যদেব, কোন্‌ দেশে, কোন্‌ সমুদ্রপারে, তোমার প্রভাত হল।
অন্ধকারে এখানে কেঁপে উঠছে রজনীগন্ধা, বাসরঘরের দ্বারের কাছে অবগুণ্ঠিতা নববধূর মতো; কোন্‌খানে ফুটল ভোরবেলাকার কনকচাঁপা।
আরো দেখুন
হালদারগোষ্ঠী
Stories
এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না। অবস্থাও সচ্ছল, মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে, কিন্তু তবুও গোল বাধিল।
কেননা, সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত, একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না; যদি বা ঘটিত সেটাকে রবার দিয়া মুছিয়া সংশোধন করিলেই চলিয়া যাইত।
আরো দেখুন
মেঘলা দিনে
Stories
রোজই থাকে সমস্তদিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সেদিনকার কাজে, সেদিনকার আলাপে সেদিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।
আজ সকালবেলা মেঘের স্তবকে স্তবকে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে, ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত শেষ করে দেওয়া যায় না।
আরো দেখুন
তোমার দ্বারে কেন আসি
Songs
তোমার দ্বারে কেন আসি ভুলেই যে যাই,   কতই কী চাই--
         দিনের শেষে ঘরে এসে লজ্জা যে পাই ॥
   সে-সব চাওয়া সুখে দুখে   ভেসে বেড়ায় কেবল মুখে,
                     গভীর বুকে
      যে চাওয়াটি গোপন তাহার কথা যে নাই ॥
         বাসনা সব বাঁধন যেন কুঁড়ির গায়ে--
         ফেটে যাবে, ঝরে যাবে দখিন-বায়ে।
একটি চাওয়া ভিতর হতে    ফুটবে তোমার ভোর-আলোতে
                     প্রাণের স্রোতে--
         অন্তরে সেই গভীর আশা বয়ে বেড়াই ॥
আরো দেখুন
মুক্তকুন্তলা
Stories
আমার খুদে বন্ধুরা এসে হাজির তাদের নালিশ নিয়ে। বললে, দাদামশায় তুমি কি আমাদের ছেলেমানুষ মনে কর।
তা, ভাই, ঐ ভুলটাই তো করেছিলুম। আজকাল নিজেরই বয়েসটার ভুল হিসেব করতে শুরু করেছি।
আরো দেখুন
গুপ্তধন
Stories
অমাবস্যার নিশীথ রাত্রি। মৃত্যুঞ্জয় তান্ত্রিক মতে তাহাদের বহুকালের গৃহদেবতা জয়কালীর  পূজায় বসিয়াছে। পূজা সমাধা করিয়া যখন  উঠিল তখন  নিকটস্থ  আমবাগান হইতে প্রত্যুষের প্রথম কাক ডাকিল।
মৃত্যুঞ্জয়  পশ্চাতে ফিরিয়া  চাহিয়া দেখিলেন মন্দিরের দ্বার রূদ্ধ রহিয়াছে।  তখন সে একবার দেবীর চরণতলে মস্তক  ঠেকাইয়া তাঁহার  আসন সরাইয়া দিল।  সেই আসনের নীচে হইতে  একটি  কাঁঠালকাঠের বাক্স  বাহির হইল।  পৈতায়  চাবি  বাঁধা  ছিল।  সেই চাবি লাগাইয়া  মৃত্যুঞ্জয়  বাক্সটি খুলিল।   খুলিবামাত্রই  চমকিয়া  উঠিয়া  মাথায়ে  করাঘাত করিল।
আরো দেখুন
বিদূষক
Stories
কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনামানিকে হাতি বোঝাই হল।
দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন।
আরো দেখুন
বাণী
Stories
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে আকাশের মেঘ নামে, মাটির কাছে ধরা দেবে ব'লে। তেমনি কোথা থেকে মেয়েরা আসে পৃথিবীতে বাঁধা পড়তে।
তাদের জন্য অল্প জায়গার জগৎ, অল্প মানুষের। ঐটুকুর মধ্যে আপনার সবটাকে ধরানো চাই-- আপনার সব কথা, সব ব্যথা, সব ভাবনা। তাই তাদের মাথায় কাপড়, হাতে কাঁকন, আঙিনায় বেড়া। মেয়েরা হল সীমাস্বর্গের ইন্দ্রাণী।
আরো দেখুন
তুমি আমায় করবে মস্ত লোক
Songs
                  তুমি আমায় করবে মস্ত লোক—
                      দেবে লিখে রাজার টিকে
                          প্রসন্ন ওই চোখ ।।
আরো দেখুন
দুর্বোধ
Verses
অধ্যাপকমশায় বোঝাতে গেলেন নাটকটার অর্থ,
      সেটা হয়ে উঠল বোধের অতীত।
          আমার সেই নাটকের কথা বলি।--
      বইটার নাম "পত্রলেখা',
               নায়ক তার কুশলসেন।
          নবনীর কাছে বিদায় নিয়ে সে গেল বিলেতে।
               চার বছর পরে ফিরে এসে হবে বিয়ে।
                    নবনী কাঁদল উপুড় হয়ে বিছানায়,
          তার মনে হল, এ যেন চার বছরের মৃতুদণ্ড।
নবনীকে কুশলের প্রয়োজন ছিল না ভালোবাসার পথে,
   প্রয়োজন ছিল সুগম করতে বিলাত-যাত্রার পথ।
           সে কথা জানত নবনী,
সে পণ করেছিল হৃদয় জয় করবে প্রাণপণ সাধনায়।
          কুশল মাঝে মাঝে
রুচিতে বুদ্ধিতে উঁচট খেয়ে ওকে হঠাৎ বলেছে রূঢ় কথা,
            ও সয়েছে চুপ করে;
      মেনে নিয়েছে নিজেকে অযোগ্য বলে,
            ওর নালিশ নিজেরই উপরে।
ভেবেছিল দীনা বলেই একদিন হবে ওর জয়,
    ঘাস যেমন দিনে দিনে নেয় ঘিরে কঠোর পাহাড়কে।
         এ যেন ছিল ওর ভালোবাসার শিল্পরচনা,
নির্দয় পাথরটাকে ভেঙে ভেঙে রূপ আবাহন করা
      ব্যথিত বক্ষের নিরন্তর আঘাতে।
আজ নবনীর সেই দিনরাতের আরাধনার ধন গেল দূরে।
      ওর দুঃখের থালাটি ছিল অশ্রু-ভেজা অর্ঘ্যে ভরা,
আজ থেকে দুঃখ রইবে কিন্তু দুঃখের নৈবেদ্য রইবে না।
এখন ওদের সম্বন্ধের পথ রইল
শুধু এ পারে ও পারে চিঠি লেখার সাঁকো বেয়ে।
কিন্তু নবনী তো সাজিয়ে লিখতে জানে না মনের কথা,
   ও কেবল যত্নের স্বাদ লাগাতে জানে সেবাতে,
         অর্‌কিডের চমক দিয়ে যেতে ফুলদানির 'পরে
                   কুশলের চোখের আড়ালে,
         গোপনে বিছিয়ে আসতে
                 নিজের-হাতে-কাজ-করা আসন
                         যেখানে কুশল পা রাখে।
কুশল ফিরল দেশে,
     বিয়ের দিন করল স্থির।
  আঙটি এনেছে বিলেত থেকে,
              গেল সেটা পরাতে;
  গিয়ে দেখে ঠিকানা না রেখেই নবনী নিরুদ্দেশ।
            তার ডায়ারিতে আছে লেখা,
       "যাকে ভালোবেসেছি সে ছিল অন্য মানুষ,
            চিঠিতে যার প্রকাশ, এ তো সে নয়।"
                 এ দিকে কুশলের বিশ্বাস
                       তার চিঠিগুলি গদ্যে মেঘদূত,
                          বিরহীদের চিরসম্পদ।
                       আজ সে হারিয়েছে প্রিয়াকে,
            কিন্তু মন গেল না চিঠিগুলি হারাতে --
      ওর মমতাজ পালালো, রইল তাজমহল।
নাম লুকিয়ে ছাপালো চিঠি "উদ্‌ভ্রান্তপ্রেমিক' আখ্যা দিয়ে
                 নবনীর চরিত্র নিয়ে
            বিশ্লেষণ ব্যাখ্যা হয়েছে বিস্তর।
কেউ বলেছে, বাঙালির মেয়েকে
              লেখক এগিয়ে নিয়ে চলেছে
      ইবসেনের মুক্তিবাণীর দিকে --
                  কেউ বলেছে রসাতলে।
      অনেকে এসেছে আমার কাছে জিজ্ঞাসা নিয়ে;
            আমি বলেছি, " আমি কী জানি।"
         বলেছি, " শাস্ত্রে বলে, দেবা ন জানন্তি।"
                 পাঠকবন্ধু বলেছে,
        "নারীর প্রসঙ্গে না হয় চুপ করলেম
            হতবুদ্ধি দেবতারই মতো,
                  কিন্তু পুরুষ?
         তারও কি অজ্ঞাতবাস চিররহস্যে।
    ও মানুষটা হঠাৎ পোষ মানলে কোন্‌ মন্ত্রে।"
আমি বলেছি,
"মেয়েই হোক আর পুরুষই হোক; স্পষ্ট নয় কোনো পক্ষই;
     যেটুকু সুখ দেয় বা দুঃখ দেয় স্পষ্ট কেবল সেইটুকুই।
                      প্রশ্ন কোরো না,
                          পড়ে দেখো কী বলছে কুশল।"
    কুশল বলে, "নবনী চার বছর ছিল দৃষ্টির বাইরে,
          যেন নেমে গেল সৃষ্টির বাইরেতেই;
               ওর মাধুর্যটুকুই রইল মনে,
                   আর সব-কিছু হল গৌণ।
    সহজ হয়েছে ওকে সুন্দর ছাঁদে চিঠি লিখতে।
         অভাব হয়েছে, করেছি দাবি --
            ওর ভালোবাসার উপর অবাধ ভরসা
                       মনকে করেছে রসসিক্ত, করেছে গর্বিত।
প্রত্যেক চিঠিতে আপন ভাষায় ভুলিয়েছি আপনারই মন।
            লেখার উত্তাপে ঢালাই করা অলংকার
ওর স্মৃতির মূর্তিটিকে সাজিয়ে তুলেছে দেবীর মতো।
            ও হয়েছে নূতন রচনা।
এই জন্যেই খ্রীষ্টান শাস্ত্রে বলে,
            সৃষ্টির আদিতে ছিল বাণী।"
পাঠকবন্ধু আবার জিগেস করেছে,
   "ও কি সত্যি বললে,
            না, এটা নাটকের নায়কগিরি?"
                 আমি বলেছি, "আমি কী জানি।"
আরো দেখুন
53
Verses
জীবন-স্রোতে ঢেউয়ের 'পরে
            কোন্‌-আলো ওই বেড়ায় দুলে?
ক্ষণে ক্ষণে দেখি যে তাই
            বসে বসে বিজন কূলে।
ভাসে তবু যায় না ভেসে,
হাসে আমার কাছে এসে,
দু-হাত বাড়াই ঝাঁপ দিতে চাই
            মনে করি আনব তুলে।
শান্ত হ রে শান্ত হ মন,
            ধরতে গেলে দেয় না ধরা--
নয় সে মণি নয় সে মানিক
            নয় সে কুসুম ঝরে-পড়া।
দূরে কাছে আগে পাছে,
মিলিয়ে আছে ছেয়ে আছে,
জীবন হতে ছানিয়ে তারে
            তুলতে গেলে মরবি ভুলে।
আরো দেখুন