ভালোমানুষ
Stories
ছিঃ, আমি নেহাত ভালোমানুষ।
কুসমি বললে, কী যে তুমি বল তার ঠিক নেই। তুমি যে ভালোমানুষ সেও কি বলতে হবে। কে না জানে, তুমি ও পাড়ার লোটনগুণ্ডার দলের সর্দার নও। ভালোমানুষ তুমি বল কাকে।
আরো দেখুন
শাস্তি
Stories
দুখিরাম রুই এবং ছিদাম রুই দুই ভাই সকালে যখন দা হাতে লইয়া জন খাটিতে বাহির হইল তখন তাহাদের দুই স্ত্রীর মধ্যে বকাবকি চেঁচামেচি চলিতেছে। কিন্তু প্রকৃতির অন্যান্য নানাবিধ নিত্য কলরবের ন্যায় এই কলহ-কোলাহলও পাড়াসুদ্ধ লোকের অভ্যাস হইয়া গেছে। তীব্র কণ্ঠস্বর শুনিবামাত্র লোকে পরস্পরকে বলে--'ওই রে বাধিয়া গিয়াছে,' অর্থাৎ যেমনটি আশা করা যায় ঠিক তেমনিটি ঘটিয়াছে, আজও স্বভাবের নিয়মের কোনোরূপ ব্যত্যয় হয় নাই। প্রভাতে পূর্বদিকে সূর্য উঠিলে যেমন কেহ তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করে না, তেমনি এই কুরিদের বাড়িতে দুই জায়ের মধ্যে যখন একটা হৈ-হৈ পড়িয়া যায় তখন তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করে না, তেমনি এই কুরিদের বাড়িতে দুই জায়ের মধ্যে যখন একটা হৈ-হৈ পড়িয়া যায় তখন তাহার কারণ নির্ণয়ের জন্য কাহারও কোনোরূপ কৌতূহলের উদ্রেক হয় না।
অবশ্য এই কোন্দল আন্দোলন প্রতিবেশীদের অপেক্ষা দুই স্বামীকে বেশি স্পর্শ করিত সন্দেহ নাই, কিন্তু সেটা তাহারা কোনোরূপ অসুবিধার মধ্যে গণ্য করিত না। তাহারা দুই ভাই যেন দীর্ঘ সংসারপথ একটা এক্কাগাড়িতে করিয়া চলিয়াছে, দুই দিকের দুই স্প্রিংবিহীন চাকার অবিশ্রাম ছড়ছড় খড়খড় শব্দটাকে জীবনরথযাত্রার একটা বিধিবিহিত নিয়মের মধ্যেই ধরিয়া লইয়াছে।
আরো দেখুন
187
Verses
মাটিতে দুর্ভাগার
     ভেঙেছে বাসা,
আকাশে সমুচ্চ করি
     গাঁথিছে আশা।
আরো দেখুন
কেন
Verses
     জ্যোতিষীরা বলে,
সবিতার আত্মদান-যজ্ঞের হোমাগ্নিবেদিতলে
     যে জ্যোতি উৎসর্গ হয় মহারুদ্রতপে
         এ বিশ্বের মন্দিরমণ্ডপে,
          অতিতুচ্ছ অংশ তার ঝরে
     পৃথিবীর অতিক্ষুদ্র মৃৎপাত্রের 'পরে।
         অবশিষ্ট অমেয় আলোকধারা
                   পথহারা,
              আদিম দিগন্ত হতে
         অক্লান্ত চলেছে ধেয়ে নিরুদ্দেশ স্রোতে।
     সঙ্গে সঙ্গে ছুটিয়াছে অপার তিমির-তেপান্তরে
     অসংখ্য নক্ষত্র হয়ে রশ্মিপ্লাবী নিরন্ত নির্ঝরে
                   সর্বত্যাগী অপব্যয়,
         আপন সৃষ্টির 'পরে বিধাতার নির্মম অন্যায়।
     কিংবা এ কি মহাকাল কল্পকল্পান্তের দিনে রাতে
     এক হাতে দান ক'রে ফিরে ফিরে নেয় অন্য হাতে।
         সঞ্চয়ে ও অপচয়ে যুগে যুগে কাড়াকাড়ি যেন--
                            কিন্তু, কেন।
     তার পরে চেয়ে দেখি মানুষের চৈতন্যজগতে
     ভেসে চলে সুখদুঃখ কল্পনাভাবনা কত পথে।
         কোথাও বা জ্ব'লে ওঠে জীবন-উৎসাহ,
              কোথাও বা সভ্যতার চিতাবহ্নিদাহ
         নিভে আসে নিঃস্বতার ভস্ম-অবশেষে।
                   নির্ঝর ঝরিছে দেশে দেশে--
     লক্ষ্যহীন প্রাণস্রোতে মৃত্যুর গহ্বরে ঢালে মহী
         বাসনার বেদনার অজস্র বুদ্বুদপুঞ্জ বহি।
                   কে তার হিসাব রাখে লিখি।
                   নিত্য নিত্য এমনি কি
              অফুরান আত্মহত্যা মানবসৃষ্টির
                        নিরন্তর প্রলয়বৃষ্টির
                               অশ্রান্ত প্লাবনে।
                           নিরর্থক হরণে ভরণে
                    মানুষের চিত্ত নিয়ে সারাবেলা
              মহাকাল করিতেছে দ্যূতখেলা
                            বাঁ হাতে দক্ষিণ হাতে যেন--
                                      কিন্তু, কেন।
     প্রথম বয়সে কবে ভাবনার কী আঘাত লেগে
                   এ প্রশ্নই মনে উঠেছিল জেগে--
              শুধায়েছি, এ বিশ্বের কোন্‌ কেন্দ্রস্থলে
                        মিলিতেছে প্রতি দণ্ডে পলে
                   অরণ্যের পর্বতের সমুদ্রের উল্লোল গর্জন,
                            ঝটিকার মন্দ্রস্বন,
                                        দিবসনিশার
         বেদনাবীণার তারে চেতনার মিশ্রিত ঝংকার,
                   পূর্ণ করি ঋতুর উৎসব
              জীবনের মরণের নিত্যকলরব,
                   আলোকের নিঃশব্দ চরণপাত
         নিয়ত স্পন্দিত করি দ্যুলোকের অস্তহীন রাত।
কল্পনায় দেখেছিনু, প্রতিধ্বনিমণ্ডল বিরাজে
         ব্রহ্মাণ্ডের অন্তরকন্দর-মাঝে।
                     সেথা বাঁধে বাসা
         চতুর্দিক হতে আসি জগতের পাখা-মেলা ভাষা।
সেথা হতে পুরানো স্মৃতিরে দীর্ণ করি
            সৃষ্টির আরম্ভবীজ লয় ভরি ভরি
         আপনার পক্ষপুটে ফিরে-চলা যত প্রতিধ্বনি।
                   অনুভব করেছি তখনি,
     বহু যুগযুগান্তের কোন্‌ এক বাণীধারা
                   নক্ষত্রে নক্ষত্রে ঠেকি পথহারা
         সংহত হয়েছে অবশেষে
                   মোর মাঝে এসে।
     প্রশ্ন মনে আসে আরবার,
         আবার কি ছিন্ন হয়ে যাবে সূত্র তার--
                   রূপহারা গতিবেগ প্রেতের জগতে
     চলে যাবে বহু কোটি বৎসরের শূন্য যাত্রাপথে?
                   উজাড় করিয়া দিবে তার
     পান্থের পাথেয়পত্র আপন স্বল্পায়ু বেদনার--
                   ভোজশেষে উচ্ছিষ্টের ভাঙা ভাণ্ড হেন?
                            কিন্তু, কেন।
আরো দেখুন
51
Verses
WHEN THEY came and clamoured and surrounded me they hid thee from
my sight.
I thought I would bring to thee my gifts last of all.
Now that the day has waned, and they have taken their dues and left me alone,
I see thee standing at the door.
But I find I have no gift remaining to give, and I hold both my hands up to thee.
আরো দেখুন
একটি চাউনি
Stories
গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে।
এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে।
আরো দেখুন
পূর্ণকাম
Verses
কীর্তনের সুর
সংসারে মন দিয়েছিনু, তুমি
          আপনি সে মন নিয়েছ।
সুখ বলে দুখ চেয়েছিনু, তুমি
          দুখ বলে সুখ দিয়েছ।
হৃদয় যাহার শতখানে ছিল
          শত স্বার্থের সাধনে,
তাহারে কেমনে কুড়ায়ে আনিলে,
          বাঁধিলে ভক্তিবাঁধনে!
সুখ সুখ করে দ্বারে দ্বারে মোরে
          কত দিকে কত খোঁজালে!
তুমি যে আমার কত আপনার
          এবার সে কথা বোঝালে।
করুণা তোমার কোন্‌ পথ দিয়ে
          কোথা নিয়ে যায় কাহারে!
সহসা দেখিনু নয়ন মেলিয়ে
          এনেছ তোমারি দুয়ারে।
আরো দেখুন
চিত্রকর
Stories
ময়মনসিংহ ইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে আমাদের গোবিন্দ এল কলকাতায়। বিধবা মায়ের অল্প কিছু সম্বল ছিল। কিন্তু, সব-চেয়ে তার বড়ো সম্বল ছিল নিজের অবিচলিত সংকল্পের মধ্যে। সে ঠিক করেছিল, 'পয়সা' করবই, সমস্ত জীবন উৎসর্গ করে দিয়ে।' সর্বদাই তার ভাষায় ধনকে সে উল্লেখ করত 'পয়সা' বলে। অর্থাৎ, তার মনে খুব একটা দর্শন স্পর্শন ঘ্রাণের যোগ্য প্রত্যক্ষ পদার্থ ছিল; তার মধ্যে বড়ো নামের মোহ ছিল না; অত্যন্ত সাধারণ পয়সা, হাটে হাটে হাতে হাতে ঘুরে ঘুরে ক্ষয়ে যাওয়া, মলিন হয়ে যাওয়া পয়সা, তাম্রগন্ধী পয়সা, কুবেরের আদিম স্বরূপ, যা রুপোয় সোনায় কাগজে দলিলে নানা মূর্তি পরিগ্রহ করে মানুষের মনকে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।
নানা বাঁকা পথের ভিতর দিয়ে নানা পঙ্কে আবিল হতে হতে আজ গোবিন্দ তার পয়সাপ্রবাহিণীর প্রশস্তধারার পাকা বাঁধানো ঘাটে এসে পৌঁচেছে। গানিব্যাগ্‌ওয়ালা বড়োসাহেব ম্যাক্‌ডুগালের বড়োবাবুর আসনে তার ধ্রুব প্রতিষ্ঠা। সবাই তাকে নাম দিয়েছিল ম্যাক্‌দুলাল।
আরো দেখুন
রবিবার
Stories
আমার গল্পের প্রধান মানুষটি প্রাচীন ব্রাহ্মণপণ্ডিত-বংশের ছেলে। বিষয়ব্যাপারে বাপ ওকালতি ব্যবসায়ে আঁটি পর্যন্ত পাকা, ধর্মকর্মে শাক্ত আচারের তীব্র জারক রসে জারিত। এখন আদালতে আর প্র্যাকটিস করতে হয় না। এক দিকে পূজা-অর্চনা আর-এক দিকে ঘরে বসে আইনের পরামর্শ দেওয়া, এই দুটোকে পাশাপাশি রেখে তিনি ইহকাল পরকালের জোড় মিলিয়ে অতি সাবধানে চলেছেন। কোনো দিকেই একটু পা ফসকায় না।
এইরকম নিরেট আচারবাঁধা সনাতনী ঘরের ফাটল ফুঁড়ে যদি দৈবাৎ কাঁটাওয়ালা নাস্তিক ওঠে গজিয়ে, তা হলে তার ভিত-দেয়াল-ভাঙা মন সাংঘাতিক ঠেলা মারতে থাকে ইঁটকাঠের প্রাচীন গাঁথুনির উপরে। এই আচারনিষ্ঠ বৈদিক ব্রাহ্মণের বংশে দুর্দান্ত কালাপাহাড়ের অভ্যুদয় হল আমাদের নায়কটিকে নিয়ে।
আরো দেখুন
পান্নালাল
Stories
দাদামশায়, তোমার পাগলের দলের মধ্যে পান্নালাল ছিল খুব নতুন রকমের।
জান, দিদি? তোমার পাগলরা প্রত্যেকেই নতুন, কারও সঙ্গে কারও মিল হয় না। যেমন তোমার দাদামশায়। বিধাতার নতুন পরীক্ষা। ছাঁচ তিনি ভেঙে ফেলেন। সাধারণ লোকের বুদ্ধিতে মিল হয়, অসাধারণ পাগলের মিল হয় না। তোমাকে একটা উদাহরণ দেখাই--
আরো দেখুন
ব্যবধান
Stories
সম্পর্ক মিলাইয়া দেখিতে গেলে বনমালী এবং হিমাংশুমালী উভয়ে মামাতো পিসতুতো ভাই; সেও অনেক হিসাব করিয়া দেখিলে তবে মেলে। কিন্তু ইহাদের দুই পরিবার বহুকাল হইতে প্রতিবেশী, মাঝে কেবল একটা বাগানের ব্যবধান, এইজন্য ইহাদের সম্পর্ক নিতান্ত নিকট না হইলেও ঘনিষ্ঠতার অভাব নাই।
বনমালী হিমাংশুর চেয়ে অনেক বড়ো। হিমাংশুর যখন দন্ত এবং বাক্যস্ফূর্তি হয় নাই, তখন বনমালী তাহাকে কোলে করিয়া এই বাগানে সকালে সন্ধ্যায় হাওয়া খাওয়াইয়াছে, খেলা করিয়াছে, কান্না থামাইয়াছে, ঘুম পাড়াইয়াছে এবং শিশুর মনোরঞ্জন করিবার জন্য পরিণতবুদ্ধি বয়স্ক লোকদিগকে সবেগে শিরশ্চালন, তারস্বরে প্রলাপভাষণ প্রভৃতি যে-সকল বয়সানুচিত চাপল্য এবং উৎকট উদ্যম প্রকাশ করিতে হয়, বনমালী তাহাও করিতে ত্রুটি করে নাই।
আরো দেখুন