তোতাকাহিনী
Stories
এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।
রাজা বলিলেন, 'এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।'
আরো দেখুন
প্রশ্ন
Stories
শ্মাশান হতে বাপ ফিরে এল।
তখন সাত বছরের ছেলেটি-- গা খোলা, গলায় সোনার তাবিজ--একলা গলির উপরকার জানলার ধারে।
আরো দেখুন
নিদ্রা-ব্যাপার কেন
Verses
       নিদ্রা-ব্যাপার কেন
                 হবেই অবাধ্য,
       চোখ-চাওয়া ঘুম হোক
                 মানুষের সাধ্য--
এম.এস্‌সি বিভাগের ব্রিলিয়ান্‌ট্‌ ছাত্র
এই নিয়ে সন্ধান করে দিনরাত্র,
     বাজায় পাড়ার কানে
              নানাবিধ বাদ্য,
     চোখ-চাওয়া ঘটে তাহে,
              নিদ্রার শ্রাদ্ধ।
আরো দেখুন
রাসমণির ছেলে
Stories
কালীপদর মা ছিলেন রাসমণি-- কিন্তু তাঁহাকে দায়ে পড়িয়া বাপের পদ গ্রহণ করিতে হইয়াছিল। কারণ, বাপ মা উভয়েই মা হইয়া উঠিলে ছেলের পক্ষে সুবিধা হয় না। তাঁহার স্বামী ভবানীচরণ ছেলেকে একেবারেই শাসন করিতে পারেন না।
তিনি কেন এত বেশি আদর দেন তাহা জিজ্ঞাসা করিলে তিনি যে উত্তর দিয়া থাকেন তাহা বুঝিতে হইলে পূর্ব ইতিহাস জানা চাই।
আরো দেখুন
দেনাপাওনা
Stories
পাঁচ ছেলের পর যখন এক কন্যা জন্মিল তখন বাপমায়ে অনেক আদর করিয়া তাহার নাম রাখিল নিরুপমা। এ গোষ্ঠীতে এমন শৌখিন নাম ইতিপূর্বে কখনো শোনা যায় নাই। প্রায় ঠাকুরদেবতার নামই প্রচলিত ছিল-- গণেশ, কার্তিক, পার্বতী, তাহার উদাহরণ।
এখন নিরুপমার বিবাহের প্রস্তাব চলিতেছে। তাহার পিতা রামসুন্দর মিত্র অনেক খোঁজ করেন কিন্তু পাত্র কিছুতেই মনের মতন হয় না। অবশেষে মস্ত এক রায়বাহাদুরের ঘরের একমাত্র ছেলেকে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছেন। উক্ত রায়বাহাদুরের পৈতৃক বিষয়-আশয় যদিও অনেক হ্রাস হইয়া আসিয়াছে কিন্তু বনেদি ঘর বটে।
আরো দেখুন
বদনাম
Stories
ক্রিং ক্রিং ক্রিং সাইকেলের আওয়াজ; সদর দরজার কাছে লাফ দিয়ে নেমে পড়লেন ইন্‌স্‌পেক্টার বিজয়বাবু। গায়ে ছাঁটা কোর্তা, কোমরে কোমরবন্ধ, হাফ-প্যাণ্টপরা, চলনে কেজো লোকের দাপট। দরজার কড়া নাড়া দিতেই গিন্নি এসে খুলে দিলেন।
ইন্‌স্‌পেক্টার ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই ঝংকার দিয়ে উঠলেন--'এমন করে তো আর পারি নে, রাত্তিরের পর রাত্তির খাবার আগলে রাখি! তুমি কত চোর ডাকাত ধরলে, সাধু সজ্জনও বাদ গেল না, আর ঐ একটা লোক অনিল মিত্তিরের পিছন পিছন তাড়া করে বেড়াচ্ছ, সে থেকে থেকে তোমার সামনে এসে নাকের উপর বুড়ো আঙুল নাড়া দিয়ে কোথায় দৌড় মারে তার ঠিকানা নেই। দেশসুদ্ধ লোক তোমার এই দশা দেখে হেসে খুন, এ যেন সার্কাসের খেলা হচ্ছে।'
আরো দেখুন
247
Verses
সোনায় রাঙায় মাখামাখি,
রঙের বাঁধন কে দেয় রাখি
      পথিক রবির স্বপন ঘিরে।
পেরোয় যখন তিমিরনদী
তখন সে রঙ মিলায় যদি
      প্রভাতে পায় আবার ফিরে।
অস্ত-উদয়-রথে-রথে
যাওয়া-আসার পথে পথে
      দেয় সে আপন আলো ঢালি।
পায় সে ফিরে মেঘের কোণে,
পায় ফাগুনের পারুলবনে
      প্রতিদানের রঙের ডালি।
আরো দেখুন
অসম্ভব কথা
Stories
এক যে ছিল রাজা।
তখন ইহার বেশি কিছু জানিবার আবশ্যক ছিল না। কোথাকার রাজা, রাজার নাম কী, এ সকল প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিয়া গল্পের প্রবাহ রোধ করিতাম না। রাজার নাম শিলাদিত্য কি শালিবাহন, কাশী কাঞ্চি কনোজ কোশল অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গের মধ্যে ঠিক কোন্‌খানটিতে তাঁহার রাজত্ব, এ সকল ইতিহাস-ভূগোলের তর্ক আমাদের কাছে নিতান্তই তুচ্ছ ছিল,-- আসল যে-কথাটি শুনিলে অন্তর পুলকিত হইয়া উঠিত এবং সমস্ত হৃদয় একমুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুদ্বেগে চুম্বকের মতো আকৃষ্ট হইত সেটি হইতেছে-- এক যে ছিল রাজা।
আরো দেখুন
পরীর পরিচয়
Stories
রাজপুত্রের বয়স কুড়ি পার হয়ে যায়, দেশবিদেশ থেকে বিবাহের সম্বন্ধ আসে।
ঘটক বললে, 'বাহ্লীকরাজের মেয়ে রূপসী বটে, যেন সাদা গোলাপের পুষ্পবৃষ্টি।'
আরো দেখুন
আকাশের চাঁদ
Verses
          হাতে তুলে দাও আকাশের চাঁদ--
                এই হল তার বুলি।
         দিবস রজনী যেতেছে বহিয়া,
                কাঁদে সে দু হাত তুলি।
         হাসিছে আকাশ, বহিছে বাতাস,
                পাখিরা গাহিছে সুখে।
         সকালে রাখাল চলিয়াছে মাঠে,
                বিকালে ঘরের মুখে।
         বালক বালিকা ভাই বোনে মিলে
                খেলিছে আঙিনা-কোণে,
         কোলের শিশুরে হেরিয়া জননী
                হাসিছে আপন মনে।
         কেহ হাটে যায় কেহ বাটে যায়
                চলেছে যে যার কাজে--
         কত জনরব কত কলরব
                উঠিছে আকাশমাঝে।
         পথিকেরা এসে তাহারে শুধায়,
                "কে তুমি কাঁদিছ বসি।'
         সে কেবল বলে নয়নের জলে,
                "হাতে পাই নাই শশী।'
         সকালে বিকালে ঝরি পড়ে কোলে
                অযাচিত ফুলদল,
         দখিন সমীর বুলায় ললাটে
                দক্ষিণ করতল।
         প্রভাতের আলো আশিস-পরশ
                করিছে তাহার দেহে,
         রজনী তাহারে বুকের আঁচলে
                ঢাকিছে নীরব স্নেহে।
         কাছে আসি শিশু মাগিছে আদর
                কণ্ঠ জড়ায়ে ধরি,
         পাশে আসি যুবা চাহিছে তাহারে
                লইতে বন্ধু করি।
         এই পথে গৃহে কত আনাগোনা,
                কত ভালোবাসাবাসি,
         সংসারসুখ কাছে কাছে তার
                কত আসে যায় ভাসি,
         মুখ ফিরাইয়া সে রহে বসিয়া,
                কহে সে নয়নজলে,
         "তোমাদের আমি চাহি না কারেও,
                শশী চাই করতলে।'
         শশী যেথা ছিল সেথাই রহিল,
                সেও ব'সে এক ঠাঁই।
         অবশেষে যবে জীবনের দিন
                আর বেশি বাকি নাই,
         এমন সময়ে সহসা কী ভাবি
                চাহিল সে মুখ ফিরে
         দেখিল ধরণী শ্যামল মধুর
                সুনীল সিন্ধুতীরে।
         সোনার ক্ষেত্রে কৃষাণ বসিয়া
                কাটিতেছে পাকা ধান,
         ছোটো ছোটো তরী পাল তুলে যায়,
                মাঝি বসে গায় গান।
         দূরে মন্দিরে বাজিছে কাঁসর,
                বধূরা চলেছে ঘাটে,
         মেঠো পথ দিয়ে গৃহস্থ জন
                আসিছে গ্রামের হাটে।
         নিশ্বাস ফেলি রহে আঁখি মেলি,
                কহে ম্রিয়মাণ মন,
         "শশী নাহি চাই যদি ফিরে পাই
                 আর বার এ জীবন।'
         দেখিল চাহিয়া জীবনপূর্ণ
                সুন্দর লোকালয়
         প্রতি দিবসের হরষে বিষাদে
                চির-কল্লোলময়।
         স্নেহসুধা লয়ে গৃহের লক্ষ্মী
                ফিরিছে গৃহের মাঝে,
         প্রতি দিবসেরে করিছে মধুর
                প্রতি দিবসের কাজে।
         সকাল বিকাল দুটি ভাই আসে
                ঘরের ছেলের মতো,
         রজনী সবারে কোলেতে লইছে
                নয়ন করিয়া নত।
         ছোটো ছোটো ফুল, ছোটো ছোটো হাসি,
                ছোটো কথা, ছোটো সুখ,
         প্রতি নিমেষের ভালোবাসাগুলি,
                ছোটো ছোটো হাসিমুখ
         আপনা-আপনি উঠিছে ফুটিয়া
                মানবজীবন ঘিরি,
         বিজন শিখরে বসিয়া সে তাই
                দেখিতেছে ফিরি ফিরি।
         দেখে বহুদূরে ছায়াপুরী-সম
                অতীত জীবন-রেখা,
         অস্তরবির সোনার কিরণে
                নূতন বরনে লেখা।
         যাহাদের পানে নয়ন তুলিয়া
                চাহে নি কখনো ফিরে,
         নবীন আভায় দেখা দেয় তারা
                স্মৃতিসাগরের তীরে।
         হতাশ হৃদয়ে কাঁদিয়া কাঁদিয়া
                পুরবীরাগিণী বাজে,
         দু-বাহু বাড়ায়ে ফিরে যেতে চায়
                ওই জীবনের মাঝে।
         দিনের আলোক মিলায়ে আসিল
                তবু পিছে চেয়ে রহে--
         যাহা পেয়েছিল তাই পেতে চায়
                তার বেশি কিছু নহে।
         সোনার জীবন রহিল পড়িয়া
                কোথা সে চলিল ভেসে।
         শশীর লাগিয়া কাঁদিতে গেল কি
                রবিশশীহীন দেশে।
আরো দেখুন