মেঘ ও রৌদ্র
Stories
পূর্বদিনে বৃষ্টি হইয়া গিয়াছে। আজ ক্ষান্তবর্ষণ প্রাতঃকালে ম্লান রৌদ্র ও খণ্ড মেঘে মিলিয়া পরিপক্কপ্রায় আউশ ধানের ক্ষেত্রের উপর পর্যায়ক্রমে আপন আপন সুদীর্ঘ তুলি বুলাইয়া যাইতেছিল; সুবিস্তৃত শ্যাম চিত্রপট একবার আলোকের স্পর্শে উজ্জ্বল পাণ্ডুবর্ণ ধারণ করিতেছিল আবার পরক্ষণেই ছায়াপ্রলেপে গাঢ় স্নিগ্ধতায় অঙ্কিত হইতেছিল।
যখন সমস্ত আকাশরঙ্গভূমিতে মেঘ এবং রৌদ্র, দুইটি মাত্র অভিনেতা, আপন আপন অংশ অভিনয় করিতেছিল তখন নিম্নে সংসাররঙ্গভূমিতে কত স্থানে কত অভিনয় চলিতেছিল তাহার আর সংখ্যা নাই।
আরো দেখুন
বন্ধু, কিসের তরে অশ্রু ঝরে
Songs
       বন্ধু ,  কিসের তরে অশ্রু ঝরে, কিসের লাগি দীর্ঘশ্বাস।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস।
              রিক্ত যারা সর্বহারা    সর্বজয়ী বিশ্বে তারা,
              গর্বময়ী ভাগ্যদেবীর নয়কো তারা ত্রীতদাস।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস ।।


              আমরা সুখের স্ফীত বুকের ছায়ার তলে নাহি চরি
              আমরা দুখের বক্র মুখের চক্র দেখে ভয় না করি।
              ভগ্ন ঢাকে যথাসাধ্য  বাজিয়ে যাব জয়বাদ্য,
              ছিন্ন আশার ধ্বজা তুলে ভিন্ন করব নীলাকাশ।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস।।


              হে অলক্ষ্মী, রুক্ষকেশী, তুমি দেবী অচঞ্চলা।
              তোমার রীতি সরল অতি, নাহি জানো ছলাকলা।
              জ্বালাও পেটে অগ্নিকণা  নাইকো তাহে প্রতারণা
              টানো যখন মরণ-ফাঁসি বল নাকো মিষ্টভাষ।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস।।


              ধরার যারা সেরা সেরা মানুষ তারা তোমার ঘরে।
              তাদের কঠিন শয্যাখানি তাই পেতেছ মোদের তরে ।।
              আমরা বরপুত্র তব    যাহাই দিবে তাহাই লব,
              তোমায় দিব ধন্যধ্বনি মাথায় বহি সর্বনাশ ।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস ।।


              যৌবরাজ্যে বসিয়ে দে মা, লক্ষ্মীছাড়ার সিংহাসনে ।
              ভাঙা কুলোয় করুক পাখা তোমার যত ভৃত্যগণে ।
              দগ্ধ ভালে প্রলয়শিখা   দিক্‌ মা, এঁকে তোমার টিকা,
              পরাও সজ্জা লজ্জাহারা— জীর্ণকন্থা ছিন্নবাস ।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস ।।


              লুকোক তোমার ডঙ্কা শুনে কপট সখার শূন্য হাসি ।
              পালাক ছুটে পুচ্ছ তুলে মিথ্যে চাটু মক্কা-কাশী ।
              আত্মপরের-প্রভেদ-ভোলা   জীর্ণ দুয়োর নিত্য খোলা,
              থাকবে তুমি থাকব আমি সমানভাবে বারো মাস ।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস ।।


              শঙ্কা-তরাস লজ্জা-শরম চুকিয়ে দিলেম স্তুতি-নিন্দে ।
              ধুলো সে তোর পায়ের ধুলো তাই মেখেছি ভক্তবৃন্দে ।
              আশারে কই, ‘ঠাকুরানী,   তোমার খেলা অনেক জানি,
              যাহার ভাগ্যে সকল ফাঁকি তারেও ফাঁকি দিতে চাস।’
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস ।।


              মৃত্যু যেদিন বলবে ‘জাগো, প্রভাত হল তোমার রাতি’
              নিবিয়ে যাব আমার ঘরের চন্দ্র সূর্য দুটো বাতি ।
              আমরা দোঁহে ঘেঁষাঘেঁষি   চিরদিনের প্রতিবেশী,
              বন্ধুভাবে কণ্ঠে সে মোর জড়িয়ে দেবে বাহুপাশ—
              বিদায়কালে অদৃষ্টেরে করে যাব পরিহাস ।।
আরো দেখুন
জননীর দ্বারে আজি
Songs
জননীর দ্বারে আজি ওই শুন গো শঙ্খ বাজে।
থেকো না থেকো না, ওরে ভাই, মগন মিথ্যা কাজে ॥
     অর্ঘ্য ভরিয়া আনি ধরো গো পূজার থালি,
     রতনপ্রদীপখানি যতনে আনো গো জ্বালি,
     ভরি লয়ে দুই পাণি বহি আনো ফুলডালি,
              মার আহ্বানবাণী রটাও ভুবনমাঝে ॥
আজি প্রসন্ন পবনে নবীন জীবন ছুটিছে।
আজি প্রফুল্ল কুসুমে নব সুগন্ধ উঠিছে।
     আজি উজ্জ্বল ভালে তোলো উন্নত মাথা,
     নবসঙ্গীততালে গাও গম্ভীর গাথা,
     পরো মাল্য কপালে নবপল্লব-গাঁথা,
              শুভ সুন্দর কালে সাজো সাজো নব সাজে ॥
আরো দেখুন
বাণী
Stories
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে আকাশের মেঘ নামে, মাটির কাছে ধরা দেবে ব'লে। তেমনি কোথা থেকে মেয়েরা আসে পৃথিবীতে বাঁধা পড়তে।
তাদের জন্য অল্প জায়গার জগৎ, অল্প মানুষের। ঐটুকুর মধ্যে আপনার সবটাকে ধরানো চাই-- আপনার সব কথা, সব ব্যথা, সব ভাবনা। তাই তাদের মাথায় কাপড়, হাতে কাঁকন, আঙিনায় বেড়া। মেয়েরা হল সীমাস্বর্গের ইন্দ্রাণী।
আরো দেখুন
কর্মফল
Stories
আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন-- সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। 'এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।'
শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন।
আরো দেখুন
একটা আষাঢ়ে গল্প
Stories
দূর সমুদ্রের মধ্যে একটা দ্বীপ। সেখানে কেবল তাসের সাহেব, তাসের বিবি, টেক্কা এবং গোলামের বাস। দুরি তিরি হইতে নহলা-দহলা পর্যন্ত আরো অনেক-ঘর গৃহস্থ আছে কিন্তু তাহারা উচ্চজাতীয় নহে।
টেক্কা সাহেব গোলাম এই তিনটেই প্রধান বর্ণ, নহলা-দহলারা অন্ত্যজ-- তাহাদের সহিত এক পঙ্‌ক্তিতে বসিবার যোগ্য নহে।
আরো দেখুন
দেখো চেয়ে দেখো ওই কে আসিছে
Songs
দেখো চেয়ে, দেখো ঐ কে আসিছে!
চাঁদের আলোতে কার হাসি হাসিছে।
হৃদয়-দুয়ার খুলিয়ে দাও, প্রাণের মাঝারে তুলিয়ে লও,
ফুলগন্ধ সাথে তার সুবাস ভাসিছে।
আরো দেখুন
27
Verses
দেহে আর মনে প্রাণে হয়ে একাকার
একি অপরূপ লীলা এ অঙ্গে আমার!
একি জ্যোতি, একি ব্যোম দীপ্ত দীপ-জ্বালা
দিন আর রজনীর চিরনাট্যশালা!
একি শ্যাম বসুন্ধরা, সমুদ্রে চঞ্চল,
পর্বতে কঠিন, তরুপল্লবে কোমল,
অরণ্যে আঁধার! একি বিচিত্র বিশাল
অবিশ্রাম রচিতেছে সৃজনের জাল
আমার ইন্দ্রিয়যন্ত্রে ইন্দ্রজালবৎ!
প্রত্যেক প্রাণীর মাঝে প্রকাণ্ড জগৎ।
তোমারি মিলনশয্যা, হে মোর রাজন্‌,
ক্ষুদ্র এ আমার মাঝে অনন্ত আসন
অসীম বিচিত্রকান্ত। ওগো বিশ্বভূপ,
দেহে মনে প্রাণে আমি একি অপরূপ!
আরো দেখুন
একটি চাউনি
Stories
গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে।
এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে।
আরো দেখুন
খাতা
Stories
লিখিতে শিখিয়া অবধি উমা বিষম উপদ্রব আরম্ভ করিয়াছে। বাড়ির প্রত্যেক ঘরের দেয়ালে কয়লা দিয়া বাঁকা লাইন কাটিয়া বড়ো বড়ো কাঁচা অক্ষরে কেবলই লিখিতেছে--জল পড়ে, পাতা নড়ে।
তাহার বউঠাকুরানীর বালিশের নিচে 'হরিদাসের গুপ্তকথা' ছিল, সেটা সন্ধান করিয়া বাহির করিয়া তাহার পাতায় পাতায় পেনসিল দিয়া লিখিয়াছে--কালো জল, লাল ফুল।
আরো দেখুন
এখনো ঘোর
Songs
এখনো ঘোর ভাঙে না তোর যে, মেলে না তোর আঁখি,
কাঁটার বনে ফুল ফুটেছে রে  জানিস নে তুই তা কি।
ওরে অলস,   জানিস নে তুই তা কি?
জাগো এবার জাগো,     বেলা কাটাস না গো॥
কঠিন পথের শেষে    কোথায়   অগম বিজন দেশে
ও সেই    বন্ধু আমার একলা আছে গো,  দিস নে তারে ফাঁকি॥
প্রথম রবির তাপে    নাহয়     শুষ্ক গগন কাঁপে,
নাহয়     দগ্ধ বালু তপ্ত আঁচলে    দিক চারি দিক ঢাকি--
পিপাসাতে    দিক চারি দিক ঢাকি।
মনের মাঝে চাহি   দেখ্‌ রে      আনন্দ কি নাহি।
পথে    পায়ে পায়ে দুখের বাঁশরি    বাজবে তোরে ডাকি--
মধুর সুরে    বাজবে তোরে ডাকি॥
আরো দেখুন