নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
অধ্যাপক
Stories
কলেজে আমার সহপাঠীসম্প্রদায়ের মধ্যে আমার একটু বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। সকলেই আমাকে সকল বিষয়েই সমজদার বলিয়া মনে করিত।
ইহার প্রধান কারণ, ভুল হউক আর ঠিক হউক, সকল বিষয়েই আমার একটা মতামত ছিল। অধিকাংশ লোকেই হাঁ এবং না জোর করিয়া বলিতে পারে না, আমি সেটা খুব বলিতাম।
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
মুনশি
Stories
আচ্ছা দাদামশায়, তোমাদের সেই মুনশিজি এখন কোথায় আছেন।
এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব তার সময়টা বুঝি কাছে এসেছে, তবু হয়তো কিছুদিন সবুর করতে হবে।
আরো দেখুন
চোরাই ধন
Stories
মহাকাব্যের যুগে স্ত্রীকে পেতে হত পৌরুষের জোরে; যে অধিকারী সেই লাভ করত রমণীরত্ন। আমি লাভ করেছি কাপুরুষতা দিয়ে, সে-কথা আমার স্ত্রীর জানতে বিলম্ব ঘটেছিল। কিন্তু, সাধনা করেছি বিবাহের পরে; যাকে ফাঁকি দিয়ে চুরি করে পেয়েছি তার মূল্য দিয়েছি দিনে দিনে।
দাম্পত্যের স্বত্ব সাব্যস্ত করতে হয় প্রতিদিনই নতুন করে, অধিকাংশ পুরুষ ভুলে থাকে এই কথাটা। তারা গোড়াতেই কাস্টম্‌ হৌসে মাল খালাস করে নিয়েছে সমাজের ছাড়চিঠি দেখিয়ে, তার পর থেকে আছে বেপরোয়া। যেন পেয়েছে পাহারাওয়ালার সরকারি প্রতাপ, উপরওয়ালার দেওয়া তকমার জোরে; উর্দিটা খুলে নিলেই অতি অভাজন তারা।
আরো দেখুন
বন্ধু, কিসের তরে অশ্রু ঝরে
Songs
       বন্ধু ,  কিসের তরে অশ্রু ঝরে, কিসের লাগি দীর্ঘশ্বাস।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস।
              রিক্ত যারা সর্বহারা    সর্বজয়ী বিশ্বে তারা,
              গর্বময়ী ভাগ্যদেবীর নয়কো তারা ত্রীতদাস।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস ।।


              আমরা সুখের স্ফীত বুকের ছায়ার তলে নাহি চরি
              আমরা দুখের বক্র মুখের চক্র দেখে ভয় না করি।
              ভগ্ন ঢাকে যথাসাধ্য  বাজিয়ে যাব জয়বাদ্য,
              ছিন্ন আশার ধ্বজা তুলে ভিন্ন করব নীলাকাশ।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস।।


              হে অলক্ষ্মী, রুক্ষকেশী, তুমি দেবী অচঞ্চলা।
              তোমার রীতি সরল অতি, নাহি জানো ছলাকলা।
              জ্বালাও পেটে অগ্নিকণা  নাইকো তাহে প্রতারণা
              টানো যখন মরণ-ফাঁসি বল নাকো মিষ্টভাষ।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস।।


              ধরার যারা সেরা সেরা মানুষ তারা তোমার ঘরে।
              তাদের কঠিন শয্যাখানি তাই পেতেছ মোদের তরে ।।
              আমরা বরপুত্র তব    যাহাই দিবে তাহাই লব,
              তোমায় দিব ধন্যধ্বনি মাথায় বহি সর্বনাশ ।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস ।।


              যৌবরাজ্যে বসিয়ে দে মা, লক্ষ্মীছাড়ার সিংহাসনে ।
              ভাঙা কুলোয় করুক পাখা তোমার যত ভৃত্যগণে ।
              দগ্ধ ভালে প্রলয়শিখা   দিক্‌ মা, এঁকে তোমার টিকা,
              পরাও সজ্জা লজ্জাহারা— জীর্ণকন্থা ছিন্নবাস ।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস ।।


              লুকোক তোমার ডঙ্কা শুনে কপট সখার শূন্য হাসি ।
              পালাক ছুটে পুচ্ছ তুলে মিথ্যে চাটু মক্কা-কাশী ।
              আত্মপরের-প্রভেদ-ভোলা   জীর্ণ দুয়োর নিত্য খোলা,
              থাকবে তুমি থাকব আমি সমানভাবে বারো মাস ।
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস ।।


              শঙ্কা-তরাস লজ্জা-শরম চুকিয়ে দিলেম স্তুতি-নিন্দে ।
              ধুলো সে তোর পায়ের ধুলো তাই মেখেছি ভক্তবৃন্দে ।
              আশারে কই, ‘ঠাকুরানী,   তোমার খেলা অনেক জানি,
              যাহার ভাগ্যে সকল ফাঁকি তারেও ফাঁকি দিতে চাস।’
              হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস ।।


              মৃত্যু যেদিন বলবে ‘জাগো, প্রভাত হল তোমার রাতি’
              নিবিয়ে যাব আমার ঘরের চন্দ্র সূর্য দুটো বাতি ।
              আমরা দোঁহে ঘেঁষাঘেঁষি   চিরদিনের প্রতিবেশী,
              বন্ধুভাবে কণ্ঠে সে মোর জড়িয়ে দেবে বাহুপাশ—
              বিদায়কালে অদৃষ্টেরে করে যাব পরিহাস ।।
আরো দেখুন
দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন
দানপ্রতিদান
Stories
বড়োগিন্নি যে কথাগুলা বলিয়া গেলেন, তাহার ধার যেমন তাহার বিষও তেমনি। যে-হতভাগিনীর উপর প্রয়োগ করিয়া গেলেন, তাহার চিত্তপুত্তলি একেবারে জ্বলিয়া জ্বলিয়া লুটিতে লাগিল।
বিশেষত, কথাগুলা তাহার স্বামীর উপর লক্ষ্য করিয়া বলা-- এবং স্বামী রাধামুকুন্দ তখন রাত্রের আহার সমাপন করিয়া অনতিদূরে বসিয়া তাম্বুলের সহিত তাম্রকূটধূম সংযোগ করিয়া খাদ্যপরিপাকে প্রবৃত্ত ছিলেন। কথাগুলো শ্রুতিপথে প্রবেশ করিয়া তাঁহার পরিপাকের যে বিশেষ ব্যাঘাত করিল, এমন বোধ হইল না। অবিচলিত গাম্ভীর্যের সহিত তাম্রকূট নিঃশেষ করিয়া অভ্যাসমত যথাকালে শয়ন করিতে গেলেন।
আরো দেখুন
ধ্বংস
Stories
দিদি, তোমাকে একটা হালের খবর বলি।--
প্যারিস শহরের অল্প একটু দূরে ছিল তাঁর ছোটো বাসাটি। বাড়ির কর্তার নাম পিয়ের শোপ্যাঁ। তাঁর সারা জীবনের শখ ছিল গাছপালার জোড় মিলিয়ে, রেণু মিলিয়ে, তাদের চেহারা, তাদের রঙ, তাদের স্বাদ বদল ক'রে নতুন রকমের সৃষ্টি তৈরি করতে। তাতে কম সময় লাগত না। এক-একটি ফুলের ফলের স্বভাব বদলাতে বছরের পর বছর কেটে যেত। এ কাজে যেমন ছিল তাঁর আনন্দ তেমনি ছিল তাঁর ধৈর্য। বাগান নিয়ে তিনি যেন জাদু করতেন। লাল হত নীল, সাদা হত আলতার রঙ, আঁটি যেত উড়ে, খোসা যেত খ'সে। যেটা ফলতে লাগে ছ মাস তার মেয়াদ কমে হত দু মাস। ছিলেন গরিব, ব্যবসাতে সুবিধা করতে পারতেন না। যে করত তাঁর হাতের কাজের তারিফ তাকে দামি মাল অমনি দিতেন বিলিয়ে। যার মতলব ছিল দাম ফাঁকি দিতে সে এসে বলত, কী ফুল ফুটেছে আপনার সেই গাছটাতে, চার দিক থেকে লোক আসছে দেখতে, একেবারে তাক লেগে যাচ্ছে।
আরো দেখুন