মুক্তি
Stories
বিরহিণী তার ফুলবাগানের এক ধারে বেদী সাজিয়ে তার উপর মূর্তি গড়তে বসল। তার মনের মধ্যে যে মানুষটি ছিল বাইরে তারই প্রতিরূপ প্রতিদিন একটু একটু করে গড়ে, আর চেয়ে চেয়ে দেখে, আর ভাবে, আর চোখ দিয়ে জল পড়ে।
কিন্তু, যে রূপটি একদিন তার চিত্তপটে স্পষ্ট ছিল তার উপরে ক্রমে যেন ছায়া পড়ে আসছে। রাতের বেলাকার পদ্মের মতো স্মৃতির পাপড়িগুলি অল্প অল্প করে যেন মুদে এল।
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
ক্ষুধিত পাষাণ
Stories
আমি এবং আমার আত্মীয় পূজার ছুটিতে দেশভ্রমণ সারিয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিতেছিলাম, এমন সময় রেলগাড়িতে বাবুটির সঙ্গে দেখা হয়। তাঁহার বেশভূষা দেখিয়া প্রথমটা তাঁহাকে পশ্চিমদেশীয় মুসলমান বলিয়া ভ্রম হইয়াছিল। তাঁহার কথাবার্তা শুনিয়া আরো ধাঁধা লাগিয়া যায়। পৃথিবীর সকল বিষয়েই এমন করিয়া আলাপ করিতে লাগিলেন, যেন তাঁহার সহিত প্রথম পরামর্শ করিয়া বিশ্ববিধাতা সকল কাজ করিয়া থাকেন। বিশ্বসংসারের ভিতরে ভিতরে যে এমন-সকল অশ্রুতপূর্ব নিগূঢ় ঘটনা ঘটিতেছিল, রুশিয়ানরা যে এতদূর অগ্রসর হইয়াছে, ইংরাজদের যে এমন-সকল গোপন মতলব আছে, দেশীয় রাজাদের মধ্যে যে একটা খিচুড়ি পাকিয়া উঠিয়াছে, এ-সমস্ত কিছুই না জানিয়া আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হইয়া ছিলাম। আমাদের নবপরিচিত আলাপটি ঈষৎ হাসিয়া কহিলেন: There happen more things in heaven and earth, Horatio, than are reported in your newspapers।আমরা এই প্রথম ঘর ছাড়িয়া বাহির হইয়াছি, সুতরাং লোকটির রকমসকম দেখিয়া অবাক হইয়া গেলাম। লোকটা সামান্য উপলক্ষে কখনো বিজ্ঞান বলে, কখনো বেদের ব্যাখ্যা করে, আবার হঠাৎ কখনো পার্সি বয়েত আওড়াইতে থাকে। বিজ্ঞান বেদ এবং পার্সিভাষায় আমাদের কোনোরূপ অধিকার না থাকাতে তাঁহার প্রতি আমাদের ভক্তি উত্তরোত্তর বাড়িতে লাগিল। এমন-কি, আমার থিয়সফিস্ট্‌ আত্মীয়টির মনে দৃঢ় বিশ্বাস হইল যে, আমাদের এই সহযাত্রীর সহিত কোনো এক রকমের অলৌকিক ব্যাপারের কিছু-একটা যোগ আছে; কোনো একটা অর্পূব ম্যাগ্‌নেটিজ্‌ম্‌ অথবা দৈবশক্তি, অথবা সূক্ষ্ণ শরীর, অথবা ঐ ভাবের একটা-কিছু। তিনি এই অসামান্য লোকের সমস্ত সামান্য কথাও ভক্তিবিহ্বল মুগ্ধভাবে শুনিতেছিলেন এবং গোপনে নোট করিয়া লইতেছিলেন; আমার ভাবে বোধ হইল, অসামান্য ব্যক্তিটিও গোপনে তাহা বুঝিতে পারিয়াছিলেন এবং কিছু খুশি হইয়াছিলেন।
গাড়িটি আসিয়া জংশনে থামিলে আমরা দ্বিতীয় গাড়ির অপেক্ষায় ওয়েটিংরুমে সমবেত হইলাম। তখন রাত্রি সাড়ে দশটা। পথের মধ্যে একটা কী ব্যাঘাত হওয়াতে গাড়ি অনেক বিলম্বে আসিবে শুনিলাম। আমি ইতিমধ্যে টেবিলের উপর বিছানা পাতিয়া ঘুমাইব স্থির করিয়াছি, এমন সময়ে সেই অসামান্য ব্যক্তিটি নিম্নলিখিত গল্প ফাঁদিয়া বসিলেন। সে রাত্রে আমার আর ঘুম হইল না।
আরো দেখুন
নিশি না পোহাতে
Songs
নিশি না পোহাতে জীবনপ্রদীপ জ্বালাইয়া যাও প্রিয়া,
             তোমার অনল দিয়া ॥
কবে যাবে তুমি সমুখের পথে দীপ্ত শিখাটি বাহি
             আছি তাই পথ চাহি।
পুড়িবে বলিয়া রয়েছে আশায় আমার নীরব হিয়া
             আপন আঁধার নিয়া ॥
আরো দেখুন
অনবসর
Verses
ছেড়ে গেলে হে চঞ্চলা,
     হে পুরাতন সহচরী!
ইচ্ছা বটে বছর কতক
     তোমার জন্য বিলাপ করি,
সোনার স্মৃতি গড়িয়ে তোমার
     বসিয়ে রাখি চিত্ততলে,
একলা ঘরে সাজাই তোমায়
     মাল্য গেঁথে অশ্রুজলে--
              নিদেন কাঁদি মাসেকখানেক
                   তোমায় চির-আপন জেনেই--
              হায় রে আমার হতভাগ্য!
                   সময় যে নেই, সময় যে নেই।
বর্ষে বর্ষে বয়স কাটে,
     বসন্ত যায় কথায় কথায়,
বকুলগুলো দেখতে দেখতে
     ঝ'রে পড়ে যথায় তথায়,
মাসের মধ্যে বারেক এসে
     অস্তে পালায় পূর্ণ-ইন্দু,
শাস্ত্রে শাসায় জীবন শুধু
     পদ্মপত্রে শিশিরবিন্দু--
              তাঁদের পানে তাকাব না
                   তোমায় শুধু আপন জেনেই
              সেটা বড়োই বর্বরতা--
                   সময় যে নেই, সময় যে নেই ।
এসো আমার শ্রাবণ-নিশি,
     এসো আমার শরৎলক্ষ্ণী,
এসো আমার বসন্তদিন
     লয়ে তোমার পুষ্পপক্ষী,
তুমি এসো, তুমিও এসো,
     তুমি এসো, এবং তুমি,
প্রিয়ে, তোমরা সবাই জান
     ধরণীর নাম মর্তভূমি--
              যে যায় চলে বিরাগভরে
                   তারেই শুধু আপন জেনেই
              বিলাপ করে কাটাই, এমন
                   সময় যে নেই, সময় যে নেই।
ইচ্ছে করে বসে বসে
     পদ্যে লিখি গৃহকোণায়
"তুমিই আছ জগৎ জুড়ে'--
     সেটা কিন্তু মিথ্যে শোনায়।
ইচ্ছে করে কোনোমতেই
     সান্ত্বনা আর মান্‌ব না রে,
এমন সময় নতুন আঁখি
     তাকায় আমার গৃহদ্বারে--
              চক্ষু মুছে দুয়ার খুলি
                   তারেই শুধু আপন জেনেই,
              কখন তবে বিলাপ করি?
                   সময় যে নেই, সময় যে নেই।
আরো দেখুন
একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে
Songs
                 একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে 
                       রাজার দোহাই দিয়ে 
                 এ যুগে তারাই জন্ম নিয়েছে আজি,
                 মন্দিরে তারা এসেছে ভক্ত সাজি–
                       ঘাতক সৈন্যে ডাকি 
                       ‘মারো মারো’ ওঠে হাঁকি ।
                 গর্জনে মিশে পূজামন্ত্রের স্বর–
                 মানবপুত্র তীব্র ব্যথায় কহেন, হে ঈশ্বর !
                 এ পানপাত্র নিদারুণ বিষে ভরা 
                 দূরে ফেলে দাও, দূরে ফেলে দাও ত্বরা ।।
আরো দেখুন
চণ্ডী
Stories
দিদি, তুমি বোধ হয় ও পাড়ার চণ্ডীবাবুকে জান?
জানি নে! তিনি যে ডাকসাইটে নিন্দুক।
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন