পরীর পরিচয়
Stories
রাজপুত্রের বয়স কুড়ি পার হয়ে যায়, দেশবিদেশ থেকে বিবাহের সম্বন্ধ আসে।
ঘটক বললে, 'বাহ্লীকরাজের মেয়ে রূপসী বটে, যেন সাদা গোলাপের পুষ্পবৃষ্টি।'
আরো দেখুন
তারাপ্রসন্নের কীর্তি
Stories
লেখকজাতির প্রকৃতি অনুসারে তারাপ্রসন্ন কিছু লাজুক এবং মুখচোরা ছিলেন। লোকের কাছে বাহির হইতে গেলে তাঁহার সর্বনাশ উপস্থিত হইত। ঘরে বসিয়া কলম চালাইয়া তাঁহার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, পিঠ একটু কুঁজা, সংসারের অভিজ্ঞতা অতি অল্প। লৌকিকতার বাঁধি বোলসকল সহজে তাঁহার মুখে আসিত না, এইজন্য গৃহদুর্গের বাহিরে তিনি আপনাকে কিছুতেই নিরাপদ মনে করিতেন না।
লোকেও তাঁহাকে একটা উজবুক রকমের মনে করিত এবং লোকেরও দোষ দেওয়া যায় না। মনে করো, প্রথম পরিচয়ে একটি পরম ভদ্রলোক উচ্ছ্বসিত কন্ঠে তারাপ্রসন্নকে বলিলেন, "মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হয়ে যে কী পর্যন্ত আনন্দ লাভ করা গেল, তা একমুখে বলতে পারি নে"-- তারাপ্রসন্ন নিরুত্তর হইয়া নিজের দক্ষিণ করতল বিশেষ মনোযোগপূর্বক নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। হঠাৎ সে নীরবতার অর্থ এইরূপ মনে হয়, "তা, তোমার আনন্দ হয়েছে সেটা খুব সম্ভব বটে, কিন্তু আমার-যে আনন্দ হয়েছে এমন মিথ্যা কথাটা কী করে মুখে উচ্চারণ করব তাই ভাবছি।"
আরো দেখুন
দালিয়া
Stories
পরাজিত শা সুজা ঔরঞ্জীবের ভয়ে পলায়ন করিয়া আরাকান-রাজের আতিথ্য গ্রহণ করেন। সঙ্গে তিন সুন্দরী কন্যা ছিল। আরাকান-রাজের ইচ্ছা হয়, রাজপুত্রদের সহিত তাহাদের বিবাহ দেন। সেই প্রস্তাবে শা সুজা নিতান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করাতে একদিন রাজার আদেশে তাঁহাকে ছলক্রমে নৌকাযোগে নদীমধ্যে লইয়া নৌকা ডুবাইয়া দিবার চেষ্টা করা হয়। সেই বিপদের সময় কনিষ্ঠা বালিকা আমিনাকে পিতা স্বয়ং নদীমধ্যে নিক্ষেপ করেন। জ্যেষ্ঠা কন্যা আত্মহত্যা করিয়া মরে। এবং সুজার একটি বিশ্বাসী কর্মচারী রহমত আলি জুলিখাকে লইয়া সাঁতার দিয়া পালায়, এবং সুজা যুদ্ধ করিতে করিতে মরেন।
আমিনা খরস্রোতে প্রবাহিত হইয়া দৈবক্রমে অনতিবিলম্বে এক ধীবরের জালে উদ্‌ধৃত হয় এবং তাহারই গৃহে পালিত হইয়া বড়ো হইয়া উঠে।
আরো দেখুন
সওগাত
Stories
পুজোর পরব কাছে। ভাণ্ডার নানা সামগ্রীতে ভরা। কত বেনারসি কাপড়, কত সোনার অলংকার; আর ভাণ্ড ভ'রে ক্ষীর দই, পাত্র ভ'রে মিষ্টান্ন।
মা সওগাত পাঠাচ্ছেন।
আরো দেখুন
হে মোর দেবতা
Verses
       হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ
       কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান।
             আমার নয়নে তোমার বিশ্বছবি
             দেখিয়া লইতে সাধ যায় তব কবি,
             আমার মুগ্ধ শ্রবণে নীরব রহি
                 শুনিয়া লইতে চাহ আপনার গান।
              হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ
              কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান।
                আমার চিত্তে তোমার সৃষ্টিখানি
               রচিয়া তুলিছে বিচিত্র এক বাণী।
                 তারি সাথে প্রভু মিলিয়া তোমার প্রীতি
                 জাগায়ে তুলিছে আমার সকল গীতি,
                 আপনারে তুমি দেখিছ মধুর রসে
                    আমার মাঝারে নিজেরে করিয়া দান।
                হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ
                কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান।
আরো দেখুন
গুপ্তধন
Stories
অমাবস্যার নিশীথ রাত্রি। মৃত্যুঞ্জয় তান্ত্রিক মতে তাহাদের বহুকালের গৃহদেবতা জয়কালীর  পূজায় বসিয়াছে। পূজা সমাধা করিয়া যখন  উঠিল তখন  নিকটস্থ  আমবাগান হইতে প্রত্যুষের প্রথম কাক ডাকিল।
মৃত্যুঞ্জয়  পশ্চাতে ফিরিয়া  চাহিয়া দেখিলেন মন্দিরের দ্বার রূদ্ধ রহিয়াছে।  তখন সে একবার দেবীর চরণতলে মস্তক  ঠেকাইয়া তাঁহার  আসন সরাইয়া দিল।  সেই আসনের নীচে হইতে  একটি  কাঁঠালকাঠের বাক্স  বাহির হইল।  পৈতায়  চাবি  বাঁধা  ছিল।  সেই চাবি লাগাইয়া  মৃত্যুঞ্জয়  বাক্সটি খুলিল।   খুলিবামাত্রই  চমকিয়া  উঠিয়া  মাথায়ে  করাঘাত করিল।
আরো দেখুন
দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন
কে আমারে যেন
Songs
     কে আমারে যেন এনেছে ডাকিয়া,   এসেছি ভুলে।
     তবু একবার  চাও মুখপানে    নয়ন তুলে।
দেখি ও নয়নে নিমেষের তরে    সে দিনের ছায়া পড়ে কি না পড়ে,
          সজল আবেগে আঁখিপাতা-দুটি    পড়ে কি ঢুলে।
          ক্ষণেকের তরে ভুল ভাঙায়ো না,   এসেছি ভুলে।
     ব্যথা দিয়ে কবে কথা কয়েছিলে    পড়ে না মনে,
     দূরে থেকে কবে ফিরে গিয়েছিলে    নাই স্মরণে।
শুধু মনে পড়ে হাসিমুখখানি,    লাজে বাধো-বাধো সোহাগের বাণী,
          মনে পড়ে সেই হৃদয় উছাস    নয়নকূলে।
          তুমি যে ভুলেছ ভুলে গেছি,  তাই    এসেছি ভুলে॥
     কাননের ফুল এরা তো ভোলে নি,    আমরা ভুলি।
     এই তো ফুটেছে পাতায় পাতায়   কামিনীগুলি।
চাঁপা কোথা হতে এনেছে ধরিয়া     অরুণকিরণ কোমল করিয়া,
          বকুল ঝরিয়া মরিবারে চায়    কাহার চুলে।
          কেহ ভোলে কেউ ভোলে না যে, তাই    এসেছি ভুলে॥
     এমন করিয়া কেমনে কাটিবে    মাধবীরাতি।
     দখিনবাতাসে কেহ নাহি পাশে    সাথের সাথি।
চারি দিক হতে বাঁশি শোনা যায়,    সুখে আছে যারা তারা গান গায়--
          আকুল বাতাসে, মদির সুবাসে,    বিকচ ফুলে,
          এখনো কি কেঁদে চাহিবে না কেউ    আসিলে ভুলে।
আরো দেখুন
মরি লো মরি
Songs
মরি লো মরি,     আমায়     বাঁশিতে ডেকেছে কে॥
          ভেবেছিলেম ঘরে রব, কোথাও যাব না--
ওই-যে     বাহিরে বাজিল বাঁশি, বলো কী করি॥
          শুনেছি কোন্‌ কুঞ্জবনে যমুনাতীরে
     সাঁঝের বেলায় বাজে বাঁশি ধীর সমীরে--
ওগো, তোরা জানিস যদি    আমায়    পথ বলে দে॥
              দেখি গে তার মুখের হাসি,
তারে        ফুলের মালা পরিয়ে আসি,
তারে        বলে আসি 'তোমার বাঁশি
     আমার     প্রাণে বেজেছে'॥
আরো দেখুন
সম্পাদক
Stories
আমার স্ত্রী-বর্তমানে প্রভা সম্বন্ধে আমার কোনো চিন্তা ছিল না। তখন প্রভা অপেক্ষা প্রভার মাতাকে লইয়া কিছু অধিক ব্যস্ত ছিলাম।
তখন কেবল প্রভার খেলাটুকু হাসিটুকু দেখিয়া, তাহার আধো আধো কথা শুনিয়া এবং আদরটুকু লইয়াই তৃপ্ত থাকিতাম; যতক্ষণ ভালো লাগিত নাড়াচাড়া করিতাম, কান্না আরম্ভ করিলেই তাহার মার কোলে সমর্পণ করিয়া সত্বর অব্যাহতি লইতাম। তাহাকে যে বহু চিন্তা ও চেষ্টায় মানুষ করিয়া তুলিতে হইবে, এ-কথা আমার মনে আসে নাই।
আরো দেখুন
মুক্তকুন্তলা
Stories
আমার খুদে বন্ধুরা এসে হাজির তাদের নালিশ নিয়ে। বললে, দাদামশায় তুমি কি আমাদের ছেলেমানুষ মনে কর।
তা, ভাই, ঐ ভুলটাই তো করেছিলুম। আজকাল নিজেরই বয়েসটার ভুল হিসেব করতে শুরু করেছি।
আরো দেখুন
মেঘলা দিনে
Stories
রোজই থাকে সমস্তদিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সেদিনকার কাজে, সেদিনকার আলাপে সেদিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।
আজ সকালবেলা মেঘের স্তবকে স্তবকে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে, ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত শেষ করে দেওয়া যায় না।
আরো দেখুন