রাজটিকা
Stories
নবেন্দুশেখরের সহিত অরুণলেখার যখন বিবাহ হইল, তখন হোমধূমের অন্তরাল হইতে ভগবান প্রজাপতি ঈষৎ একটু হাস্য করিলেন। হায়, প্রজাপতির পক্ষে যাহা খেলা আমাদের পক্ষে তাহা সকল সময়ে কৌতুকের নহে।
নবেন্দুশেখরের পিতা পূর্ণেন্দুশেখর ইংরাজরাজ-সরকারে বিখ্যাত। তিনি এই ভবসমুদ্রে কেবলমাত্র দ্রুতবেগে সেলাম-চালনা দ্বারা রায়বাহাদুর পদবীর উৎতুঙ্গ মরুকূলে উত্তীর্ণ হইয়াছিলেন; আরো দুর্গমতর সম্মানপথের পাথেয় তাঁহার ছিল, কিন্তু পঞ্চান্ন বৎসর বয়ঃক্রমকালে অনতিদূরবর্তী রাজখেতাবের কুহেলিকাচ্ছন্ন গিরিচূড়ার প্রতি করুণ লোলুপ দৃষ্টি স্থিরনিবদ্ধ করিয়া এই রাজানুগৃহীত ব্যাক্তি অকস্মাৎ খেতাববর্জিত লোকে গমন করিলেন এবং তাঁহার বহু-সেলাম-শিথিল গ্রীবাগ্রন্থি শ্মশানশয্যায় বিশ্রাম লাভ করিল।
আরো দেখুন
ম্যানেজারবাবু
Stories
আজ তোমাকে যে গল্পটা বলব মনে করেছি সেটা তোমার ভালো লাগবে না।
তুমি বললেও ভালো লাগবে না কেন।
আরো দেখুন
দিনাবসান
Verses
বাঁশি যখন থামবে ঘরে,
                 নিববে দীপের শিখা,
           এই জনমের লীলার 'পরে
                 পড়বে যবনিকা,
           সেদিন যেন কবির তরে
           ভিড় না জমে সভার ঘরে,
           হয় না যেন উচ্চস্বরে
                 শোকের সমারোহ।
           সভাপতি থাকুন বাসায়,
           কাটান বেলা তাসে পাশায়,
           নাই-বা হল নানা ভাষায়
                 আহা উহু ওহো।
           নাই ঘনাল দল-বেদলের
                 কোলাহলের মোহ।
           আমি জানি মনে-মনে
                 সেঁউতি যূথী জবা
           আনবে ডেকে ক্ষণে ক্ষণে
                 কবির স্মৃতিসভা।
           বর্ষা-শরৎ-বসন্তেরি
           প্রাঙ্গণেতে আমায় ঘেরি
           যেথায় বীণা যেথায় ভেরি
                 বেজেছে উৎসবে,
           সেথায় আমার আসন-'পরে
           স্নিগ্ধশ্যামল সমাদরে
           আলিপনায় স্তরে স্তরে
                 আঁকন আঁকা হবে।
           আমার মৌন করবে পূর্ণ
                 পাখির কলরবে।
           জানি আমি এই বারতা
                 রইবে অরণ্যেতে --
           ওদের সুরে কবির কথা
                 দিয়েছিলেম গেঁথে।
           ফাগুনহাওয়ায় শ্রাবণধারে
           এই বারতাই বারে বারে
           দিক্‌বালাদের দ্বারে দ্বারে
                 উঠবে হঠাৎ বাজি।
           কভু করুণ সন্ধ্যামেঘে,
           কভু অরুণ-আলোক লেগে,
           এই বারতা উঠবে জেগে
                 রঙিন বেশে সাজি।
           স্মরণসভার আসন আমার
                 সোনায় দেবে মাজি।
           আমার স্মৃতি থাক্‌-না গাঁথা
                 আমার গীতি-মাঝে
           যেখানে ওই ঝাউয়ের পাতা
                 মর্মরিয়া বাজে।
           যেখানে ওই শিউলিতলে
           ক্ষণহাসির শিশির জ্বলে,
           ছায়া যেথায় ঘুমে ঢলে
                 কিরণকলামালী;
           যেথায় আমার কাজের বেলা
           কাজের বেশে করে খেলা,
           যেথায় কাজের অবহেলা
                 নিভৃতে দীপ জ্বালি
           নানা রঙের স্বপন দিয়ে
                 ভরে রূপের ডালি।
আরো দেখুন
চোখের বালি
Novels
বিনোদিনীর মাতা হরিমতি মহেন্দ্রের মাতা রাজলক্ষ্মীর কাছে আসিয়া ধন্না দিয়া পড়িল। দুইজনেই এক গ্রামের মেয়ে, বাল্যকালে একত্রে খেলা করিয়াছেন।
রাজলক্ষ্মী মহেন্দ্রকে ধরিয়া পড়িলেন, "বাবা মহিন, গরিবের মেয়েটিকে উদ্ধার করিতে হইবে। শুনিয়াছি মেয়েটি বড়ো সুন্দরী, আবার মেমের কাছে পড়াশুনাও করিয়াছে-- তোদের আজকালকার পছন্দর সঙ্গে মিলিবে।"
"চরণতরণী দে মা, তারিণী তারা।'
আরো দেখুন
হে সন্ন্যাসী, হিমগিরি
Songs
হে সন্ন্যাসী,
     হিমগিরি ফেলে   নীচে নেমে এলে   কিসের জন্য।
     কুন্দমালতী   করিছে মিনতি,   হও প্রসন্ন॥
          যাহা-কিছু ম্লান বিরস জীর্ণ   দিকে দিকে দিলে করি বিকীর্ণ।
          বিচ্ছেদভারে   বনচ্ছায়ারে   করে বিষণ্ন-- হও প্রসন্ন॥
     সাজাবে কি ডালা, গাঁথিবে কি মালা   মরণসত্রে!
     তাই উত্তরী   নিলে ভরি ভরি   শুকানো পত্রে?
          ধরণী যে তব তাণ্ডবে সাথি   প্রলয়বেদনা নিল বুকে পাতি।
          রুদ্র, এবারে বরবেশে তারে   করো গো ধন্য-- হও প্রসন্ন॥
আরো দেখুন
পরীর পরিচয়
Stories
রাজপুত্রের বয়স কুড়ি পার হয়ে যায়, দেশবিদেশ থেকে বিবাহের সম্বন্ধ আসে।
ঘটক বললে, 'বাহ্লীকরাজের মেয়ে রূপসী বটে, যেন সাদা গোলাপের পুষ্পবৃষ্টি।'
আরো দেখুন
যৌবন-স্বপ্ন
Verses
আমার যৌবন-স্বপ্নে যেন          ছেয়ে আছে বিশ্বের আকাশ।
ফুলগুলি গায়ে এসে পড়ে         রূপসীর পরশের মতো।
পরানে পুলক বিকাশিয়া          বহে কেন দক্ষিণা বাতাস
যেথা ছিল যত বিরহিণী           সকলের কুড়ায়ে নিশ্বাস!
বসন্তের কুসুমকাননে              গোলাপের আঁখি কেন নত?
জগতের যত লাজময়ী             যেন মোর আঁখির সকাশ
কাঁপিছে গোলাপ হয়ে এসে,      মরমের শরমে বিব্রত!
প্রতি নিশি ঘুমাই যখন            পাশে এসে বসে যেন কেহ,
সচকিত স্বপনের মতো           জাগরণে পলায় সলাজে।
যেন কার আঁচলের বায়           উষার পরশি যায় দেহ,
শত নূপুরের রুনুঝুনু            বনে যেন গুঞ্জরিয়া বাজে।
মদির প্রাণের ব্যাকুলতা           ফুটে ফুটে বকুল মুকুলে;
কে আমারে করেছে পাগল--     শূন্যে কেন চাই আঁখি তুলে!
যেন কোন্‌ উর্বশীর আঁখি         চেয়ে আছে আকাশের মাঝে!
আরো দেখুন
হৈমন্তী
Stories
কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন,মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই তাড়া।
আমি ছিলাম বর। সুতরাং, বিবাহসম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি, এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ, কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষ ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।
আরো দেখুন
মেঘদূত
Stories
মিলনের প্রথম দিনে বাঁশি কী বলেছিল।
সে বলেছিল, 'সেই মানুষ আমার কাছে এল যে মানুষ আমার দূরের।'
আরো দেখুন