ত্যাগ
Stories
ফাল্গুনের প্রথম পূর্ণিমায় আম্রমুকুলের গন্ধ লইয়া নব বসন্তের বাতাস বহিতেছে। পুষ্করিণীতীরের একটি পুরাতন লিচুগাছের ঘন পল্লবের মধ্য হইতে একটি নিদ্রাহীন অশ্রান্ত পাপিয়ার গান মুখুজ্যেদের বাড়ির একটি নিদ্রাহীন শয়নগৃহের মধ্যে গিয়া প্রবেশ করিতেছে। হেমন্ত কিছু চঞ্চলভাবে কখনো তার স্ত্রীর একগুচ্ছ চুল খোঁপা হইতে বিশ্লিষ্ট করিয়া লইয়া আঙুলে জড়াইতেছে, কখনো তাহার বালাতে চুড়িতে সংঘাত করিয়া ঠুং ঠুং শব্দ করিতেছে, কখনো তাহার মাথার ফুলের মালাটা টানিয়া স্বস্থানচ্যুত করিয়া তাহার মুখের উপর আনিয়া ফেলিতেছে। সন্ধ্যাবেলাকার নিস্তব্ধ ফুলের গাছটিকে সচেতন করিয়া তুলিবার জন্য বাতাস যেমন একবার এপাশ হইতে একবার ওপাশ হইতে একটু-আধটু নাড়াচাড়া করিতে থাকে, হেমন্তের কতকটা সেই ভাব।
কিন্তু কুসুম সম্মুখের চন্দ্রালোকপ্লাবিত অসীম শূন্যের মধ্যে দুই নেত্রকে নিমগ্ন করিয়া দিয়া স্থির হইয়া বসিয়া আছে। স্বামীর চাঞ্চল্য তাহাকে স্পর্শ করিয়া প্রতিহত হইয়া ফিরিয়া যাইতেছে। অবশেষে হেমন্ত কিছু অধীরভাবে কুসুমের দুই হাত নাড়া দিয়া বলিল, 'কুসুম, তুমি আছ কোথায়? তোমাকে যেন একটা মস্ত দুরবীন কষিয়া বিস্তর ঠাহর করিয়া বিন্দুমাত্র দেখা যাইবে এমনি দূরে গিয়া পড়িয়াছ। আমার ইচ্ছা, তুমি আজ একটু কাছাকাছি এসো। দেখো দেখি কেমন চমৎকার রাত্রি।'
আরো দেখুন
হায় রে, হায় রে নূপুর
Songs
      হায় রে, হায় রে, নূপুর
তার   করুণ চরণ ত্যজিলি, হারালি
      কলগুঞ্জনসুর।
নীরব ক্রন্দনে বেদনাবন্ধনে
      রাখিলি ধরিয়া বিরহ ভরিয়া
            স্মরণ সুমধুর।
তার   কোমল-চরণ-স্মরণ সুমধুর।
তোর   ঝংকারহীন ধিক্কারে কাঁদে
            প্রাণ মম নিষ্ঠুর॥
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
7
Verses
      শুন সখি, বাজত বাঁশি
গভীর রজনী, উজল কুঞ্জপথ,
      চন্দ্রম ডারত হাসি।
দক্ষিণপবনে কম্পিত তরুগণ,
      তম্ভিত যমুনাবারি,
কুসুমসুবাস উদাস ভইল, সখি,
      উদাস হৃদয় হমারি।
বিগলিত মরম, চরণ খলিতগতি,
      শরম ভরম গয়ি দূর,
নয়ন বারিভর, গরগর অন্তর,
      হৃদয় পুলকপরিপূর।
কহ সখি, কহ সখি, মিনতি রাখ সখি,
      সো কি হমারই শ্যাম?
মধুর কাননে মধুর বাঁশরি
      বজায় হমারি নাম?
কত কত যুগ সখি, পুণ্য করনু হম,
      দেবত করনু ধেয়ান,
তব ত মিলল সখি, শ্যামরতন মম,
      শ্যাম পরানক প্রাণ।
           শ্যাম রে,
শুনত শুনত তব মোহন বাঁশি,
      জপত জপত তব নামে,
সাধ ভইল ময় দেহ ডুবায়ব
      চাঁদউজল যমুনামে!
"চলহ তুরিত গতি শ্যাম চকিত অতি,
      ধরহ সখীজন হাত,
নীদমগন মহী, ভয় ডর কছু নহি,
      ভানু চলে তব সাথ।'
আরো দেখুন
শেষের রাত্রি
Stories
'মাসি !'
'ঘুমোও,যতীন,রাত হল যে ।'
আরো দেখুন
কাবুলিওয়ালা
Stories
আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেকসময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা পারি না। মিনি চুপ করিয়া থাকিলে এমনি অস্বাভাবিক দেখিতে হয় যে, সে আমার বেশিক্ষণ সহ্য হয় না। এইজন্য আমার সঙ্গে তাহার কথোপকথনটা কিছু উৎসাহের সহিত চলে।
সকালবেলায় আমার নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে হাত দিয়াছি এমনসময় মিনি আসিয়াই আরম্ভ করিয়া দিল, 'বাবা, রামদয়াল দরোয়ান কাককে কৌয়া বলছিল, সে কিচ্ছু জানে না। না?'
আরো দেখুন
বাঁশি
Stories
বাঁশির বাণী চিরদিনের বাণী--শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা, প্রতি দিনের মাটির বুক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশু নেমে এল মর্ত্যের ধূলি দিয়ে স্বর্গ-স্বর্গ খেলতে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শুনি আর মন যে কেমন করে বুঝতে পারি নে। সেই ব্যথাকে চেনা সুখদুঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজ্জ্বল, চেনা চোখের জলের চেয়ে সে গভীর।
আরো দেখুন
মনে করি এইখানে শেষ
Verses
মনে করি এইখানে শেষ
      কোথা বা হয় শেষ
আবার তোমার সভা থেকে
      আসে যে আদেশ।
                    নূতন গানে নূতন রাগে
                    নূতন করে হৃদয় জাগে,
                    সুরের পথে কোথা যে যাই
                           না পাই সে উদ্দেশ।
সন্ধ্যাবেলার সোনার আভায়
      মিলিয়ে নিয়ে তান
পূরবীতে শেষ করেছি
      যখন আমার গান--
                    নিশীথ রাতের গভীর সুরে
                    আবার জীবন উঠে পুরে,
                    তখন আমার নয়নে আর
                           রয় না নিদ্রালেশ।
আরো দেখুন
মেঘ ও রৌদ্র
Stories
পূর্বদিনে বৃষ্টি হইয়া গিয়াছে। আজ ক্ষান্তবর্ষণ প্রাতঃকালে ম্লান রৌদ্র ও খণ্ড মেঘে মিলিয়া পরিপক্কপ্রায় আউশ ধানের ক্ষেত্রের উপর পর্যায়ক্রমে আপন আপন সুদীর্ঘ তুলি বুলাইয়া যাইতেছিল; সুবিস্তৃত শ্যাম চিত্রপট একবার আলোকের স্পর্শে উজ্জ্বল পাণ্ডুবর্ণ ধারণ করিতেছিল আবার পরক্ষণেই ছায়াপ্রলেপে গাঢ় স্নিগ্ধতায় অঙ্কিত হইতেছিল।
যখন সমস্ত আকাশরঙ্গভূমিতে মেঘ এবং রৌদ্র, দুইটি মাত্র অভিনেতা, আপন আপন অংশ অভিনয় করিতেছিল তখন নিম্নে সংসাররঙ্গভূমিতে কত স্থানে কত অভিনয় চলিতেছিল তাহার আর সংখ্যা নাই।
আরো দেখুন