গেল গো-- ফিরিল
Songs
                   গেল গো--
     ফিরিল না, চাহিল না, পাষাণ সে।
কথাটিও কহিল না, চলে গেল গো ॥
     না যদি থাকিতে চায়   যাক যেথা সাধ যায়,
একেলা আপন-মনে   দিন কি কাটিবে না।
     তাই হোক, হোক তবে--
         আর তারে সাধিব না ॥
আরো দেখুন
খাতা
Stories
লিখিতে শিখিয়া অবধি উমা বিষম উপদ্রব আরম্ভ করিয়াছে। বাড়ির প্রত্যেক ঘরের দেয়ালে কয়লা দিয়া বাঁকা লাইন কাটিয়া বড়ো বড়ো কাঁচা অক্ষরে কেবলই লিখিতেছে--জল পড়ে, পাতা নড়ে।
তাহার বউঠাকুরানীর বালিশের নিচে 'হরিদাসের গুপ্তকথা' ছিল, সেটা সন্ধান করিয়া বাহির করিয়া তাহার পাতায় পাতায় পেনসিল দিয়া লিখিয়াছে--কালো জল, লাল ফুল।
আরো দেখুন
তপস্বিনী
Stories
বৈশাখ প্রায় শেষ হইয়া আসিল। প্রথমরাত্রে গুমট গেছে, বাঁশগাছের পাতাটা পর্যন্ত নড়ে না, আকাশের তারাগুলো যেন মাথা-ধরার বেদনার মতো দব্‌ দব্‌ করিতেছে। রাত্রি তিনটের সময় ঝির্‌ঝির্‌ করিয়া একটুখানি বাতাস উঠিল। ষোড়শী শূন্য মেঝের উপর খোলা জানলার নীচে শুইয়া আছে, একটা কাপড়ে-মোড়া টিনের বাক্স তার মাথার বালিশ। বেশ বোঝা যায়, খুব উৎসাহের সঙ্গে সে কৃচ্ছসাধন করিতেছে।
প্রতিদিন ভোর চারটের সময় উঠিয়া স্নান সারিয়া ষোড়শী ঠাকুরঘরে গিয়া বসে। আহ্নিক করিতে বেলা হইয়া যায়। তার পরে বিদ্যারত্নমশায় আসেন; সেই ঘরে বসিয়াই তাঁর কাছে সে গীতা পড়ে। সংস্কৃত সে কিছু কিছু শিখিয়াছে। শঙ্করের বেদান্তভাষ্য এবং পাতঞ্জলদর্শন মূল গ্রন্থ হইতে পড়িবে, এই তার পণ। বয়স তার তেইশ হইবে।
আরো দেখুন
সংস্কার
Stories
চিত্রগুপ্ত এমন অনেক পাপের হিসাব বড়ো অক্ষরে তাঁর খাতায় জমা করেন যা থাকে পাপীর নিজের অগোচরে। তেমনি এমন পাপও ঘটে যাকে আমিই চিনি পাপ বলে, আর-কেউ না। যেটার কথা লিখতে বসেছি সেটা সেই জাতের। চিত্রগুপ্তের কাছে জবাবদিহি করবার পূর্বে আগে-ভাগে কবুল করলে অপরাধের মাত্রাটা হাল্‌কা হবে।
ব্যাপারটা ঘটেছিল কাল শনিবার দিনে। সেদিন আমাদের পাড়ায় জৈনদের মহলে কী একটা পরব ছিল। আমার স্ত্রী কলিকাকে নিয়ে মোটরে করে বেরিয়েছিলুম-- চায়ের নিমন্ত্রণ ছিল বন্ধু নয়নমোহনের বাড়িতে।
আরো দেখুন
45
Verses
অত          চুপি চুপি কেন কথা কও
        ওগো   মরণ, হে মোর মরণ।
অতি ধীরে এসে কেন চেয়ে রও,
     ওগো   একি প্রণয়েরি ধরন।
যবে     সন্ধ্যাবেলায় ফুলদল
     পড়ে    ক্লান্ত বৃন্তে নমিয়া,
যবে          ফিরে আসে গোঠে গাভীদল
     সারা    দিনমান মাঠে ভ্রমিয়া,
তুমি         পাশে আসি বস অচপল
     ওগো   অতি মৃদুগতি-চরণ।
আমি        বুঝি না যে কী যে কথা কও
     ওগো   মরণ, হে মোর মরণ।
হায়    এমনি করে কি, ওগো চোর,
     ওগো   মরণ, হে মোর মরণ,
চোখে বিছাইয়া দিবে ঘুমঘোর
     করি     হৃদিতলে অবতরণ।
তুমি         এমনি কি ধীরে দিবে দোল
     মোর    অবশ বক্ষশোণিতে।
কানে        বাজাবে ঘুমের কলরোল
     তব         কিঙ্কিণি-রণরণিতে?
শেষে        পসারিয়া তব হিম-কোল
     মোরে   স্বপনে করিবে হরণ?
আমি        বুঝি না যে কেন আস-যাও
     ওগো   মরণ, হে মোর মরণ।
কহ    মিলনের এ কি রীতি এই
     ওগো   মরণ, হে মোর মরণ।
তার         সমারোহভার কিছু নেই--
     নেই     কোনো মঙ্গলাচরণ?
তব          পিঙ্গলছবি মহাজট
     সে কি  চূড়া করি বাঁধা হবে না।
তব    বিজয়োদ্ধত ধ্বজপট
     সে কি     আগে-পিছে কেহ ববে না।
তব    মশাল-আলোকে নদীতট
     আঁখি    মেলিবে না রাঙাবরন?
ত্রাসে        কেঁপে উঠিবে না ধরাতল
     ওগো   মরণ,হে মোর মরণ?
যবে          বিবাহে চলিলা বিলোচন
     ওগো   মরণ, হে মোর মরণ,
তাঁর         কতমতো ছিল আয়োজন,
     ছিল     কতশত উপকরণ।
তাঁর         লটপট করে বাঘছাল
     তাঁর     বৃষ রহি রহি গরজে,
তাঁর         বেষ্টন করি জটাজাল
     যত     ভুজঙ্গদল তরজে।
তাঁর         ববম্‌ববম্‌ বাজে গাল,
     দোলে  গলায় কপালাভরণ,
তাঁর         বিষাণে ফুকারি উঠে তান
     ওগো   মরণ, হে মোর মরণ।
শুনি        শ্মশানবাসীর কলকল
     ওগো  মরণ, হে মোর মরণ,
সুখে       গৌরীর আঁখি ছলছল,
     তাঁর   কাঁপিছে নিচোলাবরণ।
তাঁর        বাম আঁখি ফুরে থরথর,
     তাঁর   হিয়া দুরুদুরু দুলিছে,
তাঁর        পুলকিত তনু জরজর,
     তাঁর   মন আপনারে ভুলিছে।
তাঁর        মাতা কাঁদে শিরে হানি কর
     খেপা  বরেরে করিতে বরণ,
তাঁর        পিতা মনে মানে পরমাদ
     ওগো  মরণ, হে মোর মরণ।
তুমি        চুরি করি কেন এস চোর
     ওগো      মরণ, হে মোর মরণ।
শুধু    নীরবে কখন নিশি-ভোর,
     শুধু    অশ্রু-নিঝর-ঝরন।
তুমি        উৎসব করো সারারাত
     তব         বিজয়শঙ্খ বাজায়ে।
মোরে     কেড়ে লও তুমি ধরি হাত
     নব         রক্তবসনে সাজায়ে।
তুমি        কারে করিয়ো না দৃক্‌পাত,
     আমি     নিজে লব তব শরণ
যদি        গৌরবে মোরে লয়ে যাও
     ওগো      মরণ, হে মোর মরণ।
যদি        কাজে থাকি আমি গৃহমাঝ
     ওগো      মরণ, হে মোর মরণ,
তুমি        ভেঙে দিয়ো মোর সব কাজ,
     কোরো    সব লাজ অপহরণ।
যদি          স্বপনে মিটায়ে সব সাধ
     আমি       শুয়ে থাকি সুখশয়নে,
যদি          হৃদয়ে জড়ায়ে অবসাদ
     থাকি       আধজাগরূক নয়নে,
তবে         শঙ্খে তোমার তুলো নাদ
     করি        প্রলয়শ্বাস ভরণ--
আমি        ছুটিয়া আসিব ওগো নাথ,
     ওগো        মরণ, হে মোর মরণ।
আমি        যাব যেথা তব তরী রয়
     ওগো       মরণ, হে মোর মরণ,
যেথা         অকূল হইতে বায়ু বয়
     করি        আঁধারের অনুসরণ।
যদি          দেখি ঘনঘোর মেঘোদয়
     দূর      ঈশানের কোণে আকাশে,
যদি          বিদ্যুৎফণী জ্বালাময়
     তার        উদ্যত ফণা বিকাশে,
আমি        ফিরিব না করি মিছা ভয়--
     আমি       করিব নীরবে তরণ
সেই         মহাবরষার রাঙা জল
     ওগো       মরণ, হে মোর মরণ।
আরো দেখুন
করুণা
Stories
গ্রামের মধ্যে অনুপকুমারের ন্যায় ধনবান আর কেহই ছিল না। অতিথিশালানির্মাণ, দেবালয়প্রতিষ্ঠা, পুষ্করিণীখনন প্রভৃতি নানা সৎকর্মে তিনি ধনব্যয় করিতেন। তাঁহার সিন্ধুক-পূর্ণ টাকা ছিল, দেশবিখ্যাত যশ ছিল ও রূপবতী কন্যা ছিল। সমস্ত যৌবনকাল ধন উপার্জন করিয়া অনুপ বৃদ্ধ বয়সে বিশ্রাম করিতেছিলেন। এখন কেবল তাঁহার একমাত্র ভাবনা ছিল যে, কন্যার বিবাহ দিবেন কোথায়। সৎপাত্র পান নাই ও বৃদ্ধ বয়সে একমাত্র আশ্রয়স্থল কন্যাকে পরগৃহে পাঠাইতে ইচ্ছা নাই--তজ্জন্যও আজ কাল করিয়া আর তাঁহার দুহিতার বিবাহ হইতেছে না।
সঙ্গিনী-অভাবে করুণার কিছুমাত্র কষ্ট হইত না। সে এমন কাল্পনিক ছিল, কল্পনার স্বপ্নে সে সমস্ত দিন-রাত্রি এমন সুখে কাটাইয়া দিত যে, মুহূর্তমাত্রও তাহাকে কষ্ট অনুভব করিতে হয় নাই। তাহার একটি পাখি ছিল, সেই পাখিটি হাতে করিয়া অন্তঃপুরের পুষ্করিণীর পাড়ে কল্পনার রাজ্য নির্মাণ করিত। কাঠবিড়ালির পশ্চাতে পশ্চাতে ছুটাছুটি করিয়া, জলে ফুল ভাসাইয়া, মাটির শিব গড়িয়া, সকাল হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটাইয়া দিত। এক-একটি গাছকে আপনার সঙ্গিনী ভগ্নী কন্যা বা পুত্র কল্পনা করিয়া তাহাদের সত্য-সত্যই সেইরূপ যত্ন করিত, তাহাদিগকে খাবার আনিয়া দিত, মালা পরাইয়া দিত, নানাপ্রকার আদর করিত এবং তাদের পাতা শুকাইলে, ফুল ঝরিয়া পড়িলে, অতিশয় ব্যথিত হইত। সন্ধ্যাবেলা পিতার নিকট যা-কিছু গল্প শুনিত, বাগানে পাখিটিকে তাহাই শুনানো হইত। এইরূপে করুণা তাহার জীবনের প্রত্যুষকাল অতিশয় সুখে আরম্ভ করিয়াছিল। তাহার পিতা ও প্রতিবাসীরা মনে করিতেন যে, চিরকালই বুঝি ইহার এইরূপে কাটিয়া যাইবে।
আরো দেখুন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
Stories
রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল, বড়ো বড়ো চোখ, শ্যামচিক্কণ ছিপ্‌ছিপে বালক। জাতিতে কায়স্থ। তাহার প্রভুরাও কায়স্থ। বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল।
সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে, স্কুল ছাড়িয়া কলেজে, অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্‌সেফিতে প্রবেশ করিয়াছে। রাইচরণ এখনো তাঁহার ভৃত্য।
আরো দেখুন
The Parrot`s Training
Stories
ONCE UPON A time there was a bird. It was ignorant. It sang all right, but never recited scriptures. It hopped pretty frequently, but lacked manners.
Said the Raja to himself: ‘Ignorance is costly in the long run. For fools consume as much food as their betters, and yet give nothing in return.’
আরো দেখুন