যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
Stories
এক সময় যজ্ঞেশ্বরের অবস্থা ভালোই ছিল। এখন প্রাচীন ভাঙা কোঠাবাড়িটাকে সাপব্যাঙ-বাদুড়ের হস্তে সমর্পণ করিয়া খোড়ো ঘরে ভগবদগীতা লইয়া কালযাপন করিতেছেন।
এগারো বৎসর পূর্বে তাঁহার মেয়েটি যখন জন্মিয়াছিল তখন বংশের সৌভাগ্যশশী কৃষ্ণপক্ষের শেষকলায় আসিয়া ঠেকিয়াছে। সেইজন্য সাধ করিয়া মেয়ের নাম রাখিয়াছিলেন কমলা। ভাবিয়াছিলেন, যদি এই কৌশলে ফাঁকি দিয়া চঞ্চলা লক্ষ্মীকে কন্যারূপে ঘরে ধরিয়া রাখিতে পারেন। লক্ষ্মী সে ফন্দিতে ধরা দিলেন না, কিন্তু মেয়েটির মুখে নিজের শ্রী রাখিয়া গেলেন। বড়ো সুন্দরী মেয়ে।
আরো দেখুন
দালিয়া
Stories
পরাজিত শা সুজা ঔরঞ্জীবের ভয়ে পলায়ন করিয়া আরাকান-রাজের আতিথ্য গ্রহণ করেন। সঙ্গে তিন সুন্দরী কন্যা ছিল। আরাকান-রাজের ইচ্ছা হয়, রাজপুত্রদের সহিত তাহাদের বিবাহ দেন। সেই প্রস্তাবে শা সুজা নিতান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করাতে একদিন রাজার আদেশে তাঁহাকে ছলক্রমে নৌকাযোগে নদীমধ্যে লইয়া নৌকা ডুবাইয়া দিবার চেষ্টা করা হয়। সেই বিপদের সময় কনিষ্ঠা বালিকা আমিনাকে পিতা স্বয়ং নদীমধ্যে নিক্ষেপ করেন। জ্যেষ্ঠা কন্যা আত্মহত্যা করিয়া মরে। এবং সুজার একটি বিশ্বাসী কর্মচারী রহমত আলি জুলিখাকে লইয়া সাঁতার দিয়া পালায়, এবং সুজা যুদ্ধ করিতে করিতে মরেন।
আমিনা খরস্রোতে প্রবাহিত হইয়া দৈবক্রমে অনতিবিলম্বে এক ধীবরের জালে উদ্‌ধৃত হয় এবং তাহারই গৃহে পালিত হইয়া বড়ো হইয়া উঠে।
আরো দেখুন
শ্যামলা
Verses
হে শ্যামলা, চিত্তের গহনে আছ চুপ,
          মুখে তব সুদূরের রূপ
                   পড়িয়াছে ধরা
সন্ধ্যার আকাশসম সকল-চঞ্চল চিন্তা-হরা।
          আঁকা দেখি দৃষ্টিতে তোমার
                   সমুদ্রের পরপার,
গোধূলিপ্রান্তরপ্রান্তে ঘন কালো রেখাখানি;
          অধরে তোমার বীণাপাণি
                   রেখে দিয়ে বীণা তাঁর
নিশীথের রাগিণীতে দিতেছেন নিঃশব্দ ঝংকার।
                   অগীত সে সুর
মনে এনে দেয় কোন্‌ হিমাদ্রীর শিখরে সুদূর
          হিমঘন তপস্যায় স্তব্ধলীন
             নির্ঝরের ধ্যান বাণীহীন।
                   জলভারনত মেঘে
          তমালবনের 'পরে আছে লেগে
               সকরুণ ছায়া সুগম্ভীর--
তোমার ললাট-'পরে সেই মায়া রহিয়াছে স্থির।
ক্লান্ত-অশ্রু রাধিকার বিরহের স্মৃতির গভীরে
স্বপ্নময়ী যে যমুনা বহে ধীরে
          শান্তধারা
      কলশব্দহারা
তাহারই বিষাদ কেন
          অতল গাম্ভীর্য ল'য়ে তোমার মাঝারে হেরি যেন।
শ্রাবণে অপরাজিতা, চেয়ে দেখি তারে
আঁখি ডুবে যায় একেবারে--
         ছোটো পত্রপুটে তার নীলিমা করেছে ভরপুর,
                   দিগন্তের শৈলতটে অরণ্যের সুর
              বাজে তাহে, সেই দূর আকাশের বাণী
         এনেছে আমার চিত্তে তোমার নির্বাক মুখখানি।
আরো দেখুন
মীনু
Stories
মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব।
বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, 'এও বাঁচে কি না-বাঁচে।'
আরো দেখুন
একটি চাউনি
Stories
গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে।
এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে।
আরো দেখুন
কৃতার্থ
Verses
এখনো ভাঙে নি ভাঙে নি মেলা
            নদীর তীরের মেলা।
এ শুধু আষাঢ়-মেঘের আঁধার,
            এখনো রয়েছে বেলা।
ভেবেছিনু দিন মিছে গোঙালেম,
যাহা ছিল বুঝি সবই খোয়ালেম,
আছে আছে তবু, আছে ভাই, কিছু
            রয়েছে বাকি।
আমারো ভাগ্যে আজ ঘটে নাই
            কেবলি ফাঁকি।
বেচিবার যাহা বেচা হয়ে গেছে
            কিনিবার যাহা কেনা,
আমি তো চুকিয়ে দিয়েছি নিয়েছি
            সকল পাওনা দেনা।
দিন না ফুরাতে ফিরিব এখন--
প্রহরী চাহিছ পসরার পণ?
ভয় নাই ওগো, আছে আছে, কিছু
            রয়েছে বাকি।
আমারো ভাগ্যে ঘটে নি ঘটে নি
            কেবলি ফাঁকি।
কখন বাতাস মাতিয়া আবার
            মাথায় আকাশ ভাঙে!
কখন সহসা নামিবে বাদল,
            তুফান উঠিবে গাঙে!
তাই ছুটাছুটি চলিয়াছে ধেয়ে--
পারানির কড়ি চাহ তুমি নেয়ে?
কিসের ভাবনা, আছে আছে, কিছু
            রয়েছে বাকি।
আমারো ভাগ্যে ঘটে নি ঘটে নি
            কেবলি ফাঁকি।
ধান-খেত বেয়ে বাঁকা পথখানি,
            গিয়েছে গ্রামের পারে।
বৃষ্টি আসিতে দাঁড়ায়েছিলেম
            নিরালা কুটিরদ্বারে।
থামিল বাদল, চলিনু এবার--
হে দোকানি, চাও মূল্য তোমার?
ভয় নাই ভাই, আছে আছে, কিছু
            রয়েছে বাকি।
আমারো ভাগ্যে ঘটে নি ঘটে নি
            সকলি ফাঁকি।
পথের প্রান্তে বটের তলায়
            বসে আছ এইখানে--
হায় গো ভিখারি, চাহিছ কাতরে
            আমারো মুখের পানে!
ভাবিতেছ মনে বেচা-কেনা সেরে
কত লাভ করে চলিয়াছে কে রে!
আছে আছে বটে, আছে ভাই, কিছু
            রয়েছে বাকি।
আমারো ভাগ্যে ঘটে নি ঘটে নি
            সকলি ফাঁকি।
আঁধার রজনী, বিজন এ পথ,
            জোনাকি চমকে গাছে।
কে তুমি আমার সঙ্গ ধরেছ,
            নীরবে চলেছ পাছে?
এ ক'টি কড়ির মিছে ভার বওয়া,
তোমাদের প্রথা কেড়েকুড়ে লওয়া--
হবে না নিরাশ, আছে আছে, কিছু
            রয়েছে বাকি।
আমারো ভাগ্যে ঘটে নি ঘটে নি
            কেবলি ফাঁকি।
নিশি দু-পহর, পঁহুছিনু ঘর
            দু-হাত রিক্ত করি,
তুমি আছ একা সজলনয়নে
            দাঁড়ায়ে দুয়ার ধরি।
চোখে ঘুম নাই, কথা নাই মুখে,
ভীতপাখিসম এলে মোর বুকে--
আছে আছে বিধি, এখনো অনেক
            রয়েছে বাকি।
আমারো ভাগ্যে ঘটে নি ঘটে নি
            সকলি ফাঁকি।
আরো দেখুন
জীবনে আমার যত
Songs
          জীবনে আমার যত আনন্দ পেয়েছি দিবস-রাত
          সবার মাঝারে আজিকে তোমারে স্মরিব জীবননাথ ॥
যে দিন তোমার জগত নিরখি   হরষে পরান উঠেছে পুলকি
          সে দিন আমার নয়নে হয়েছে তোমার নয়নপাত ॥
          বারে বারে তুমি আপনার হাতে স্বাদে সৌরভে গানে
          বাহির হইতে পরশ করেছ অন্তরমাঝখানে।
পিতা মাতা ভ্রাতা সব পরিবার,  মিত্র আমার, পুত্র আমার,
                   সকলের সাথে প্রবেশি হৃদয়ে
                             তুমি আছ মোর সাথ ॥
আরো দেখুন
পট
Stories
যে শহরে অভিরাম দেবদেবীর পট আঁকে, সেখানে কারো কাছে তার পূর্বপরিচয় নেই। সবাই জানে, সে বিদেশী, পট আঁকা তার চিরদিনের ব্যাবসা।
সে মনে ভাবে, 'ধনী ছিলেম, ধন গিয়েছে, হয়েছে ভালো। দিনরাত দেবতার রূপ ভাবি, দেবতার প্রসাদে খাই, আর ঘরে ঘরে দেবতার প্রতিষ্ঠা করি। আমার এই মান কে কাড়তে পারে।'
আরো দেখুন
চন্দনী
Stories
জানোই তো সেদিন কী কাণ্ড। একেবারে তলিয়ে গিয়েছিলেম আর-কি, কিন্তু তলায় কোথায় যে ফুটো হয়েছে তার কোনো খবর পাওয়া যায় নি। না মাথা ধরা, না মাথা ঘোরা, না গায়ে কোথাও ব্যথা, না পেটের মধ্যে একটুও খোঁচাখুঁচির তাগিদ। যমরাজার চরগুলি খবর আসার সব দরজাগুলো বন্ধ করে ফিস্‌ ফিস্‌ ক'রে মন্ত্রণা করছিল। এমন সুবিধে আর হয় না! ডাক্তারেরা কলকাতায় নব্বই মাইল দূরে। সেদিনকার এই অবস্থা।
সন্ধে হয়ে এসেছে। বারান্দায় বসে আছি। ঘন মেঘ ক'রে এল। বৃষ্টি হবে বুঝি। আমার সভাসদ্‌রা বললে, ঠাকুরদা, একসময় শুনেছি তুমি মুখে মুখে গল্প ব'লে শোনাতে, এখন শোনাও না কেন।
আরো দেখুন