যেথায় থাকে সবার অধম
Songs
      যেথায় থাকে সবার অধম দীনের হতে দীন
          সেইখানে যে চরণ তোমার রাজে
      সবার পিছে, সবার নীচে, সব-হারাদের মাঝে॥
যখন তোমায় প্রণাম করি আমি,    প্রণাম আমার কোন্‌খানে যায় থামি,
      তোমার চরণ যেথায় নামে অপমানের তলে
          সেথায় আমার প্রণাম নামে না যে
      সবার পিছে, সবার নীচে, সব-হারাদের মাঝে॥
      অহংকার তো পায় না নাগাল যেথায় তুমি ফের
          রিক্তভূষণ দীনদরিদ্র সাজে
      সবার পিছে, সবার নীচে, সব-হারাদের মাঝে॥
ধনে মানে যেথায় আছে ভরি    সেথায় তোমার সঙ্গ আশা করি,
      সঙ্গী হয়ে আছ যেথায় সঙ্গিহীনের ঘরে
          সেথায় আমার হৃদয় নামে না যে
      সবার পিছে, সবার নীচে, সব-হারাদের মাঝে॥
আরো দেখুন
কথিকা
Stories
এবার মনে হল, মানুষ অন্যায়ের আগুনে আপনার সমস্ত ভাবী কালটাকে পুড়িয়ে কালো করে দিয়েছে, সেখানে বসন্ত কোনোদিন এসে আর নতুন পাতা ধরাতে পারবে না।
মানুষ অনেক দিন থেকে একখানি আসন তৈরি করছে। সেই আসনই তাকে খবর দেয় যে, তার দেবতা আসবেন, তিনি পথে বেরিয়েছেন।
আরো দেখুন
ইচ্ছাপূরণ
Stories
সুবলচন্দ্রের ছেলেটির নাম সুশীলচন্দ্র। কিন্তু সকল সময়ে নামের মতো মানুষটি হয় না। সেইজন্যই সুবলচন্দ্র কিছু দুর্বল ছিলেন এবং সুশীলচন্দ্র বড়ো শান্ত ছিলেন না।
ছেলেটি পাড়াসুদ্ধ লোককে অস্থির করিয়া বেড়াইত, সেইজন্য বাপ মাঝে মাঝে শাসন করিতে ছুটিতেন; কিন্তু বাপের পায়ে ছিল বাত, আর ছেলেটি হরিণের মতো দৌড়িতে পারিত; কাজেই কিল চড়-চাপড় সকল সময় ঠিক জায়গায় গিয়া পড়িত না। কিন্তু সুশীলচন্দ্র দৈবাৎ যেদিন ধরা পড়িতেন সেদিন তাঁহার আর রক্ষা থাকিত না।
আরো দেখুন
তপস্বিনী
Stories
বৈশাখ প্রায় শেষ হইয়া আসিল। প্রথমরাত্রে গুমট গেছে, বাঁশগাছের পাতাটা পর্যন্ত নড়ে না, আকাশের তারাগুলো যেন মাথা-ধরার বেদনার মতো দব্‌ দব্‌ করিতেছে। রাত্রি তিনটের সময় ঝির্‌ঝির্‌ করিয়া একটুখানি বাতাস উঠিল। ষোড়শী শূন্য মেঝের উপর খোলা জানলার নীচে শুইয়া আছে, একটা কাপড়ে-মোড়া টিনের বাক্স তার মাথার বালিশ। বেশ বোঝা যায়, খুব উৎসাহের সঙ্গে সে কৃচ্ছসাধন করিতেছে।
প্রতিদিন ভোর চারটের সময় উঠিয়া স্নান সারিয়া ষোড়শী ঠাকুরঘরে গিয়া বসে। আহ্নিক করিতে বেলা হইয়া যায়। তার পরে বিদ্যারত্নমশায় আসেন; সেই ঘরে বসিয়াই তাঁর কাছে সে গীতা পড়ে। সংস্কৃত সে কিছু কিছু শিখিয়াছে। শঙ্করের বেদান্তভাষ্য এবং পাতঞ্জলদর্শন মূল গ্রন্থ হইতে পড়িবে, এই তার পণ। বয়স তার তেইশ হইবে।
আরো দেখুন
বনে বনে সবে মিলে
Songs
           বনে বনে সবে মিলে চল হো! চল হো!
           ছুটে আয়, শিকারে কে রে যাবি আয়!
                 এমন রজনী বহে যায় রে!
           ধনু বাণ বল্লম লয়ে হাতে
                আয়, আয়, আয়, আয় রে!
                বাজা শিঙ্গা ঘন ঘন--
                শব্দে কাঁপিবে বন,
                আকাশ ফেটে যাবে,
                চমকিবে পশু পাখী সবে,
                ছুটে যাবে কাননে কাননে--
                চারি দিক ঘিরে যাব পিছে পিছে
                হোঃ হোঃ হোঃ হোঃ!
আরো দেখুন
প্রতিবেশিনী
Stories
আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশ্রুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা।
তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না -- পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না।
আরো দেখুন
স্ত্রীর পত্র
Stories
শ্রীচরণকমলেষু
আজ পনেরো বছর আমাদের বিবাহ হয়েছে,আজ পর্যন্ত তোমাকে চিঠি লিখি নি। চিরদিন কাছেই পড়ে আছি -- মুখের কথা অনেক শুনেছ, আমিও শুনেছি;চিঠি লেখবার মতো ফাঁকটুকু পাওয়া যায় নি।
আরো দেখুন
গানের খেয়া
Verses
যে গান আমি গাই
      জানি নে সে
          কার উদ্দেশে।
যবে জাগে মনে
       অকারণে
          চপল হাওয়া
       সুর যায় ভেসে
          কার উদ্দেশে।
ঐ মুখে চেয়ে দেখি,
       জানি নে তুমিই সে কি
অতীত কালের মূরতি এসেছ
          নতুন কালের বেশে।
     কভু জাগে মনে,
যে আসে নি এ জীবনে
          ঘাট খুঁজি খুঁজি
গানের খেয়া সে মাগিতেছে বুঝি
          আমার তীরেতে এসে।
আরো দেখুন
আহ্বান
Verses
জ্বেলে দিয়ে যাও সন্ধ্যাপ্রদীপ
          বিজন ঘরের কোণে।
নামিল শ্রাবণ, কালো ছায়া তার
          ঘনাইল বনে বনে।
     বিস্ময় আনো ব্যগ্র হিয়ার পরশ-প্রতীক্ষায়
         সজল পবনে নীল বসনের চঞ্চল কিনারায়,
                 দুয়ার-বাহির হতে আজি ক্ষণে ক্ষণে
     তব কবরীর করবীমালার বারতা আসুক মনে।
               বাতায়ন হতে উৎসুক দুই আঁখি
         তব মঞ্জীর-ধ্বনি পথ বেয়ে
               তোমারে কি যায় ডাকি।
                কম্পিত এই মোর বক্ষের ব্যথা
         অলকে তোমার আনে কি চঞ্চলতা
                বকুলবনের মুখরিত সমীরণে।
আরো দেখুন
ভালোমানুষ
Stories
ছিঃ, আমি নেহাত ভালোমানুষ।
কুসমি বললে, কী যে তুমি বল তার ঠিক নেই। তুমি যে ভালোমানুষ সেও কি বলতে হবে। কে না জানে, তুমি ও পাড়ার লোটনগুণ্ডার দলের সর্দার নও। ভালোমানুষ তুমি বল কাকে।
আরো দেখুন
স্বর্গ-মর্ত
Stories
গান
মাটির প্রদীপখানি আছে
আরো দেখুন
পরিশিষ্ট
Stories
(ছোটো গল্প)
সাহিত্যে বড়ো গল্প ব'লে যে-সব প্রগল্‌ভ বাণীবাহন দেখা যায় তারা প্রাক্‌ভূতাত্ত্বিক যুগের প্রাণীদের মতো-- তাদের প্রাণের পরিমাণ যত দেহের পরিমাণ তার চার গুণ, তাদের লেজটা কলেবরের অত্যুক্তি।
আরো দেখুন