গিন্নি
Stories
ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।
প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইত।
আরো দেখুন
অবেলায় যদি এসেছ
Songs
অবেলায় যদি এসেছ আমার বনে          দিনের বিদায়ক্ষণে
গেয়ো না, গেয়ো না চঞ্চল গান ক্লান্ত এ সমীরণে
          ঘন বকুলের ম্লান বীথিকায়
         শীর্ণ যে ফুল ঝ'রে ঝ'রে যায়
তাই দিয়ে হার কেন গাঁথ হায়, লাজ বাসি তায় মনে।
চেয়ো না, চেয়ো না মোর দীনতায়        হেলায় নয়ন-কোণে॥
এসো এসো কাল রজনীর অবসানে         প্রভাত-আলোর দ্বারে।
যেয়ো না, যেয়ো না অকালে হানিয়া      সকালে কলিকারে।
          এসো এসো যদি কভু সুসময়
নিয়ে আসে তার ভরা সঞ্চয়,
চিরনবীনের যদি ঘটে জয়--সাজি ভরা হয় ধনে।
       নিয়ো না, নিয়ো না মোর পরিচয়
              এ ছায়ার আবরণে॥
আরো দেখুন
রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
Stories
যাহারা বলে, গুরুচরণের মৃত্যুকালে তাঁহার দ্বিতীয় পক্ষের সংসারটি অন্তঃপুরে বসিয়া তাস খেলিতেছিলেন, তাহারা বিশ্বনিন্দুক, তাহারা তিলকে তাল করিয়া তোলে। আসলে গৃহিণী তখন এক পায়ের উপর বসিয়া দ্বিতীয় পায়ের হাঁটু চিবুক পর্যন্ত উত্থিত করিয়া কাঁচা তেঁতুল, কাঁচা লঙ্কা এবং চিংড়িমাছের ঝালচচ্চড়ি দিয়া অত্যন্ত মনোযোগের সহিত পান্তাভাত খাইতেছিলেন। বাহির হইতে যখন ডাক পড়িল, তখন স্তূপাকৃতি চর্বিত ডাঁটা এবং নিঃশেষিত অন্নপাত্রটি ফেলিয়া গম্ভীরমুখে কহিলেন, "দুটো পান্তাভাত-যে মুখে দেব, তারও সময় পাওয়া যায় না।"
এ দিকে ডাক্তার যখন জবাব দিয়া গেল তখন গুরুচরণের ভাই রামকানাই রোগীর পার্শ্বে বসিয়া ধীরে ধীরে কহিলেন, "দাদা, যদি তোমার উইল করিবার ইচ্ছা থাকে তো বলো!" গুরুচরণ ক্ষীণস্বরে বলিলেন, "আমি বলি, তুমি লিখিয়া লও।" রামকানাই কাগজকলম লইয়া প্রস্তুত হইলেন। গুরুচরণ বলিয়া গেলেন, "আমার স্থাবর অস্থাবর সমস্ত বিষয়সম্পত্তি আমার ধর্মপত্নী শ্রীমতী বরদাসুন্দরীকে দান করিলাম।" রামকানাই লিখিলেন- কিন্তু লিখিতে তাঁহার কলম সরিতেছিল না। তাঁহার বড়ো আশা ছিল, তাঁহার একমাত্র পুত্র নবদ্বীপ অপুত্রক জ্যাঠামহাশয়ের সমস্ত বিষয়সম্পত্তির অধিকারী হইবে। যদিও দুই ভাইয়ে পৃথগন্ন ছিলেন, তথাপি এই আশায় নবদ্বীপের মা নবদ্বীপকে কিছুতেই চাকরি করিতে দেন নাই-- এবং সকাল-সকাল বিবাহ দিয়াছিলেন, এবং শত্রুর মুখে ভস্ম নিক্ষেপ করিয়া বিবাহ নিষ্ফল হয় নাই। কিন্তু তথাপি রামকানাই লিখিলেন এবং সই করিবার জন্য কলমটা দাদার হাতে দিলেন। গুরুচরণ নির্জীব হস্তে যাহা সই করিলেন, তাহা কতকগুলা কম্পিত বক্ররেখা কি তাঁহার নাম, বুঝা দুঃসাধ্য।
আরো দেখুন
7
Verses
অন্ধকারের পার হতে আনি
      প্রভাতসূর্য মন্দ্রিল বাণী,
           জাগালো বিচিত্রেরে
      এক আলোকের আলিঙ্গনের ঘেরে।
আরো দেখুন
22
Verses
IS IT THE Destroyer who comes?
For the boisterous sea of tears heaves in the flood-tide of pain.
The crimson clouds run wild in the wind lashed by lightning, and the thundering laughter of the Mad is over the sky.
Life sits in the chariot crowned by Death.
Bring out your tribute to him of all that you have.
Do not hug your savings to your heart, do not look behind,
Bend your head at his feet, trailing your hair in the dust.
Take to the road from this moment.
For the lamp is blown out and the house is desolate.
The storm winds scream through your doors, the walls are rocking, and the call comes from the land of dimness beyond your ken.
Hide not your face in terror; tears are in vain; your door chains have snapped.
Run out for your voyage to the end of all joys and sorrows.
Let your steps be the steps of a desperate dance.
Sing 'Victory to Life in Death.'
Accept your destiny, O Bride!
Put on your red robe to follow through the darkness the torchlight of the Bridegroom!
আরো দেখুন
আমার মন, যখন
Songs
আমার       মন, যখন জাগলি না রে
ও তোর          মনের মানুষ এল দ্বারে।
তার              চলে যাওয়ার শব্দ শুনে ভাঙল রে ঘুম--
ও তোর          ভাঙল রে ঘুম অন্ধকারে ॥
মাটির 'পরে আঁচল পাতি         একলা কাটে নিশীথরাতি।
তার         বাঁশি বাজে আঁধার-মাঝে,   দেখি না যে চক্ষে তারে ॥
ওরে,   তুই যাহারে দিলি ফাঁকি   খুঁজে তারে পায় কি আঁখি?
এখন    পথে ফিরে পাবি কি রে   ঘরের বাহির করলি যারে?।
আরো দেখুন
কার হাতে যে
Songs
         কার হাতে যে ধরা দেব হায়
তাই    ভাবতে আমার বেলা যায়।
ডান দিকেতে তাকাই যখন       বাঁয়ের লাগি কাঁদে রে মন--
বাঁয়ের দিকে ফিরলে তখন       দখিন ডাকে 'আয় রে আয়'॥
আরো দেখুন
কর্তার ভূত
Stories
বুড়ো কর্তার মরণকালে দেশসুদ্ধ সবাই বলে উঠল, 'তুমি গেলে আমাদের কী দশা হবে।'
শুনে তারও মনে দুঃখ হল। ভাবলে, 'আমি গেলে এদের ঠাণ্ডা রাখবে কে।'
আরো দেখুন
হে মোর দেবতা
Verses
       হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ
       কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান।
             আমার নয়নে তোমার বিশ্বছবি
             দেখিয়া লইতে সাধ যায় তব কবি,
             আমার মুগ্ধ শ্রবণে নীরব রহি
                 শুনিয়া লইতে চাহ আপনার গান।
              হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ
              কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান।
                আমার চিত্তে তোমার সৃষ্টিখানি
               রচিয়া তুলিছে বিচিত্র এক বাণী।
                 তারি সাথে প্রভু মিলিয়া তোমার প্রীতি
                 জাগায়ে তুলিছে আমার সকল গীতি,
                 আপনারে তুমি দেখিছ মধুর রসে
                    আমার মাঝারে নিজেরে করিয়া দান।
                হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ
                কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান।
আরো দেখুন
প্রথম শোক
Stories
বনের ছায়াতে যে পথটি ছিল সে আজ ঘাসে ঢাকা।
সেই নির্জনে হঠাৎ পিছন থেকে কে বলে উঠল, 'আমাকে চিনতে পার না?'
আরো দেখুন