বাঁশি
Stories
বাঁশির বাণী চিরদিনের বাণী--শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা, প্রতি দিনের মাটির বুক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশু নেমে এল মর্ত্যের ধূলি দিয়ে স্বর্গ-স্বর্গ খেলতে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শুনি আর মন যে কেমন করে বুঝতে পারি নে। সেই ব্যথাকে চেনা সুখদুঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজ্জ্বল, চেনা চোখের জলের চেয়ে সে গভীর।
আরো দেখুন
ম্যাজিশিয়ান
Stories
কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, শুনেছি এক সময়ে তুমি বড়ো বড়ো কথা নিয়ে খুব বড়ো বড়ো বই লিখেছিলে।
জীবনে অনেক দুষ্কর্ম করেছি, তা কবুল করতে হবে। ভারতচন্দ্র বলেছেন, সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর।
আরো দেখুন
ব্যবধান
Stories
সম্পর্ক মিলাইয়া দেখিতে গেলে বনমালী এবং হিমাংশুমালী উভয়ে মামাতো পিসতুতো ভাই; সেও অনেক হিসাব করিয়া দেখিলে তবে মেলে। কিন্তু ইহাদের দুই পরিবার বহুকাল হইতে প্রতিবেশী, মাঝে কেবল একটা বাগানের ব্যবধান, এইজন্য ইহাদের সম্পর্ক নিতান্ত নিকট না হইলেও ঘনিষ্ঠতার অভাব নাই।
বনমালী হিমাংশুর চেয়ে অনেক বড়ো। হিমাংশুর যখন দন্ত এবং বাক্যস্ফূর্তি হয় নাই, তখন বনমালী তাহাকে কোলে করিয়া এই বাগানে সকালে সন্ধ্যায় হাওয়া খাওয়াইয়াছে, খেলা করিয়াছে, কান্না থামাইয়াছে, ঘুম পাড়াইয়াছে এবং শিশুর মনোরঞ্জন করিবার জন্য পরিণতবুদ্ধি বয়স্ক লোকদিগকে সবেগে শিরশ্চালন, তারস্বরে প্রলাপভাষণ প্রভৃতি যে-সকল বয়সানুচিত চাপল্য এবং উৎকট উদ্যম প্রকাশ করিতে হয়, বনমালী তাহাও করিতে ত্রুটি করে নাই।
আরো দেখুন
মুক্তি
Verses
বাজিরাও পেশোয়ার অভিষেক হবে
                       কাল সকালে।
     কীর্তনী এসেছে  গ্রামের থেকে,
           মন্দিরে ছিল না তার স্থান।
    সে বসেছে অঙ্গনের এক কোণে
           পিপুল গাছের তলায়।
একতারা বাজায় আর কেবল সে ফিরে ফিরে বলে,
    "ঠাকুর, তোমায় কে বসালো
           কঠিন সোনার সিংহাসনে।'
    রাত তখন দুই প্রহর,
           শুক্লপক্ষের চাঁদ গেছে অস্তে।
        দূরে রাজবাড়ির তোরণে
           বাজছে শাঁখ শিঙে জগঝম্প,
               জ্বলছে প্রদীপের মালা।
কীর্তনী গাইছে,
        "তমালকুঞ্জে বনের পথে
           শ্যামল ঘাসের কান্না এলেম শুনে,
    ধুলোয় তারা ছিল যে কান পেতে,
           পায়ের চিহ্ন বুকে পড়বে আঁকা
                       এই ছিল প্রত্যাশা।'
    আরতি হয়ে গেছে সারা--
           মন্দিরের দ্বার তখন বন্ধ,
        ভিড়ের লোক গেছে রাজবাড়িতে।
               কীর্তনী আপন মনে গাইছে--
           "প্রাণের ঠাকুর,
এরা কি পাথর গেঁথে তোমায় রাখবে বেঁধে।
        তুমি যে স্বর্গ ছেড়ে নামলে ধুলোয়
           তোমার পরশ আমার পরশ
               মিলবে ব'লে।'
        সেই পিপুল-তলার অন্ধকারে
একা একা গাইছিল কীর্তনী,
        আর শুনছিল আরেকজনা গোপনে--
           বাজিরাও পেশোয়া।
শুনুছিল সে--
"তুমি আমায় ডাক দিয়েছ আগল-দেওয়া ঘরের থেকে,
    আমায় নিয়ে পথের পথিক হবে।
        ঘুচবে তোমার নির্বাসনের ব্যথা,
           ছাড়া পাবে হৃদয়-মাঝে।
    থাক্‌ গে ওরা পাথরখানা নিয়ে
           পাথরের বন্দীশালায়
        অহংকারের-কাঁটার-বেড়া-ঘেরা।'
রাত্রি প্রভাত হল।
শুকতারা অরুণ-আলোয় উদাসী।
    তোরণদ্বারে বাজল বাঁশি বিভাসে ললিতে।
           অভিষেকের স্নান হবে,
    পুরোহিত এল তীর্থবারি নিয়ে।
    রাজবাড়ির ঠাকুরঘর শূন্য।
        জ্বলছে দীপশিখা,
    পূজার উপচার পড়ে আছে--
        বাজিরাও পেশোয়া গেছে চলে
           পথের পথিক হয়ে।
আরো দেখুন
কে আমারে যেন
Songs
     কে আমারে যেন এনেছে ডাকিয়া,   এসেছি ভুলে।
     তবু একবার  চাও মুখপানে    নয়ন তুলে।
দেখি ও নয়নে নিমেষের তরে    সে দিনের ছায়া পড়ে কি না পড়ে,
          সজল আবেগে আঁখিপাতা-দুটি    পড়ে কি ঢুলে।
          ক্ষণেকের তরে ভুল ভাঙায়ো না,   এসেছি ভুলে।
     ব্যথা দিয়ে কবে কথা কয়েছিলে    পড়ে না মনে,
     দূরে থেকে কবে ফিরে গিয়েছিলে    নাই স্মরণে।
শুধু মনে পড়ে হাসিমুখখানি,    লাজে বাধো-বাধো সোহাগের বাণী,
          মনে পড়ে সেই হৃদয় উছাস    নয়নকূলে।
          তুমি যে ভুলেছ ভুলে গেছি,  তাই    এসেছি ভুলে॥
     কাননের ফুল এরা তো ভোলে নি,    আমরা ভুলি।
     এই তো ফুটেছে পাতায় পাতায়   কামিনীগুলি।
চাঁপা কোথা হতে এনেছে ধরিয়া     অরুণকিরণ কোমল করিয়া,
          বকুল ঝরিয়া মরিবারে চায়    কাহার চুলে।
          কেহ ভোলে কেউ ভোলে না যে, তাই    এসেছি ভুলে॥
     এমন করিয়া কেমনে কাটিবে    মাধবীরাতি।
     দখিনবাতাসে কেহ নাহি পাশে    সাথের সাথি।
চারি দিক হতে বাঁশি শোনা যায়,    সুখে আছে যারা তারা গান গায়--
          আকুল বাতাসে, মদির সুবাসে,    বিকচ ফুলে,
          এখনো কি কেঁদে চাহিবে না কেউ    আসিলে ভুলে।
আরো দেখুন
ললাটের লিখন
Stories
ছেলেবেলায় পৃথ্বীশের ডান দিকের কপালে চোট লেগেছিল ভুরুর মাঝখান থেকে উপর পর্যন্ত। সেই আঘাতে ডান চোখটাও সংকুচিত। পৃথ্বীশকে ভালো দেখতে কি না সেই প্রশ্নের উত্তরটা কাটা দাগের অবিচারে সম্পূর্ণ হতে পারল না। অদৃষ্টের এই লাঞ্ছনাকে এত দিন থেকে প্রকাশ্যে পৃথ্বীশ বহন করে আসছে তবুও দাগও যেমন মেলায় নি তেমনি ঘোচে নি তার সংকোচ। নতুন কারো সঙ্গে পরিচয় হবার উপলক্ষে প্রত্যেকবার ধিক্‌কারটা জেগে ওঠে মনে। কিন্তু বিধাতাকে গাল দেবার অধিকার তার নেই। তার রচনার ঐশ্বর্যকে বন্ধুরা স্বীকার করছে প্রচুর প্রশংসায়, শত্রুরা নিন্দাবাক্যের নিরন্তর কটুক্তিতে। লেখার চারি দিকে ভিড় জমছে। দু টাকা আড়াই টাকা দামের বইগুলো ছড়িয়ে পড়ছে ঘরে ঘরে। সম্পাদকরা তার কলমের প্রসাদ ছুটোছাঁটা যা-ই পায় কিছুই ছাড়ে না। পাঠিকারা বলে, পৃথ্বীশবাবু মেয়েদের মন ও চরিত্র যেমন আশ্চর্য বোঝেন ও বর্ণনা করেন এমন সাধ্য নেই আর কোনো লেখকের। পুরুষ-বন্ধুরা বলে, ওর লেখায় মেয়েদের এত-যে স্তুতিবাদ সে কেবল হতভাগার ভাঙা কপালের দোষে। মুখশ্রী যদি অক্ষুণ্ন হত তা হলে মেয়েদের সম্বন্ধে সত্য কথা বাধত না মুখে। মুখের চেহারা বিপক্ষতা করায় মুখের অত্যুক্তিকে সহায় করেছে মনোহরণের অধ্যবসায়।
শ্রীমতী বাঁশরি সরকার ব্যারিস্টারি চক্রের মেয়ে-- বাপ ব্যারিস্টার, ভাইরা ব্যারিস্টার। দু বার গেছে য়ুরোপে ছুটি উপলক্ষে। সাজে সজ্জায় ভাষায় ভঙ্গিতে আছে আধুনিক যুগের সুনিপুণ উদ্দামতা। রূপসী বলতে যা বোঝায় তা নয়, কিন্তু আকৃতিটা যেন ফ্রেঞ্চ পালিশ দিয়ে ঝকঝকে করা।
আরো দেখুন
ল্যাবরেটরি
Stories
নন্দকিশোর ছিলেন লণ্ডন য়ুনিভার্সিটি থেকে পাস করা এঞ্জিনীয়ার। যাকে সাধুভাষায় বলা যেতে পারে দেদীপ্যমান ছাত্র অর্থাৎ ব্রিলিয়ান্ট, তিনি ছিলেন তাই। স্কুল থেকে আরম্ভ করে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার তোরণে তোরণে ছিলেন পয়লা শ্রেণীর সওয়ারী।
ওঁর বুদ্ধি ছিল ফলাও, ওঁর প্রয়োজন ছিল দরাজ, কিন্তু ওঁর অর্থসম্বল ছিল আঁটমাপের।
আরো দেখুন
ছিলে কোথা বলো
Songs
ছিলে কোথা বলো,কত কী যে হল
        জান না কি তা? হায় হায়, আহা!
মানদায়ে যায় যায় বাসবের প্রাণ— 
        এখানে কী কর, তুমি ফুলশর
           তারে গিয়ে করো ত্রাণ।।
আরো দেখুন
30
Verses
সৃষ্টির চলেছে খেলা
চারি দিক হতে শত ধারে
কালের অসীম শূন্য পূর্ণ করিবারে।
সম্মুখে যা কিছু ঢালে পিছনে তলায় বারে বারে;
নিরন্তর লাভ আর ক্ষতি,
তাহাতেই দেয় তারে গতি।
কবির ছন্দের খেলা সেও থাকি থাকি
নিশ্চিহ্ন কালের গায়ে ছবি আঁকা-আঁকি।
কাল যায়, শূন্য থাকে বাকি।
এই আঁকা-মোছা নিয়ে কাব্যের সচল মরীচিকা
ছেড়ে দেয় স্থান,
পরিবর্তমান
জীবনযাত্রার করে চলমান টীকা।
মানুষ আপন-আঁকা কালের সীমায়
সান্ত্বনা রচনা করে অসীমের মিথ্যা মহিমায়,
ভুলে যায় কত-না যুগের বাণীরূপ
ভূমিগর্ভে বহিতেছে নিঃশব্দের নিষ্ঠুর বিদ্রূপ।
আরো দেখুন
পারবি না কি
Songs
       পারবি না কি যোগ দিতে এই ছন্দে রে,
              খসে যাবার ভেসে যাবার
                    ভাঙবারই আনন্দে রে।
                    পাতিয়া কান শুনিস না যে
                    দিকে দিকে গগনমাঝে
                    মরণবীণায় কী সুর বাজে
                           তপন-তারা-চন্দ্রে রে
                     জ্বালিয়ে আগুন ধেয়ে ধেয়ে
                           জ্বলবারই আনন্দে রে।
পাগল-করা গানের তানে
ধায় যে কোথা কেই-বা জানে,
চায় না ফিরে পিছন-পানে
       রয় না বাঁধা বন্ধে রে
লুটে যাবার ছুটে যাবার
       চলবারই আনন্দে রে।
              সেই আনন্দ-চরণপাতে
              ছয় ঋতু যে নৃত্যে মাতে,
              প্লাবন বহে যায় ধরাতে
                    বরন গীতে গন্ধে রে
              ফেলে দেবার ছেড়ে দেবার
                    মরবারই আনন্দে রে।
আরো দেখুন
বিদূষক
Stories
কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনামানিকে হাতি বোঝাই হল।
দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন।
আরো দেখুন
কামনা করি একান্তে
Songs
              কামনা করি একান্তে
     হউক বরষিত নিখিল বিশ্বে সুখ শান্তি ॥
পাপতাপ হিংসা শোক   পাসরে সকল লোক,
              সকল প্রাণী পায় কূল
     সেইসব তব তাপিতশরণ অভয়চরণপ্রান্তে ॥
আরো দেখুন