সুভা
Stories
মেয়েটির নাম যখন সুভাষিণী রাখা হইয়াছিল তখন কে জানিত সে বোবা হইবে। তাহার দুটি বড়ো বোনকে সুকেশিনী সুহাসিনী নাম দেওয়া হইয়াছিল, তাই মিলের অনুরোধে তাহার বাপ ছোটো মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখে। এখন সকলে তাহাকে সংক্ষেপে সুভা বলে।
দস্তুরমত অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বড়ো দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া গেছে, এখন ছোটোটি পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করিতেছে।
আরো দেখুন
ঘোড়া
Stories
সৃষ্টির কাজ প্রায় শেষ হয়ে যখন ছুটির ঘণ্টা বাজে ব'লে, হেনকালে ব্রহ্মার মাথায় একটা ভাবোদয় হল।
ভাণ্ডারীকে ডেকে বললেন, 'ওহে ভাণ্ডারী, আমার কারখানাঘরে কিছু কিছু পঞ্চভূতের জোগাড় করে আনো, আর-একটা নতুন প্রাণী সৃষ্টি করব।'
আরো দেখুন
কথিকা
Stories
এবার মনে হল, মানুষ অন্যায়ের আগুনে আপনার সমস্ত ভাবী কালটাকে পুড়িয়ে কালো করে দিয়েছে, সেখানে বসন্ত কোনোদিন এসে আর নতুন পাতা ধরাতে পারবে না।
মানুষ অনেক দিন থেকে একখানি আসন তৈরি করছে। সেই আসনই তাকে খবর দেয় যে, তার দেবতা আসবেন, তিনি পথে বেরিয়েছেন।
আরো দেখুন
অযোগ্যের উপহাস
Verses
নক্ষত্র খসিল দেখি দীপ মরে হেসে।
বলে, এত ধুমধাম, এই হল শেষে!
রাত্রি বলে, হেসে নাও, বলে নাও সুখে,
যতক্ষণ তেলটুকু নাহি যায় চুকে।
আরো দেখুন
আরেক দিন
Verses
  স্পষ্ট মনে জাগে,
                তিরিশ বছর আগে
তখন আমার বয়স পঁচিশ-- কিছুকালের তরে
এই দেশেতেই এসেছিলেম, এই বাগানের ঘরে।
            সূর্য যখন নেমে যেত নীচে
       দিনের শেষে ওই পাহাড়ে পাইনশাখার পিছে,
             নীল শিখরের আগায় মেঘে মেঘে
             আগুনবরন কিরণ রইত লেগে,
       দীর্ঘ ছায়া বনে বনে এলিয়ে যেত পর্বতে পর্বতে--
         সামনেতে ওই কাঁকর-ঢালা পথে
            দিনের পরে দিনে
ডাক-পিয়নের পায়ের ধ্বনি নিত্য নিতেম চিনে।
         মাসের পরে মাস গিয়েছে, তবু
         একবারো তার হয় নি কামাই কভু।
আজও তেমনি সূর্য ডোবে সেইখানেতেই এসে
      পাইন-বনের শেষে,
         সুদূর শৈলতলে
      সন্ধ্যাছায়ার ছন্দ বাজে ঝরনাধারার জলে,
      সেই সেকালের মতোই তেমনিধারা
         তারার পরে তারা
            আলোর মন্ত্র চুপি চুপি শুনায় কানে পর্বতে পর্বতে;
            শুধু আমার কাঁকর-ঢালা পথে
                 বহুকালের চেনা
        ডাক-পিয়নের পায়ের ধ্বনি একদিনও বাজবে না।
আজকে তবু কী প্রত্যাশা জাগল আমার মনে,--
          চলতে চলতে গেলেম অকারণে
ডাকঘরে সেই মাইল-তিনেক দূরে।
     দ্বিধা ভরে মিনিট কুড়িক এ-দিক ও-দিক ঘুরে
           ডাকবাবুদের কাছে
     শুধাই এসে, "আমার নামে চিঠিপত্তর আছে?'
           জবাব পেলেম,"কই, কিছু তো নেই।'
     শুনে তখন নতশিরে আপন-মনেতেই
           অন্ধকারে ধীরে ধীরে
     আসছি যখন শূন্য আমার ঘরের দিকে ফিরে,
           শুনতে পেলেম পিছন দিকে
     করুণ গলায় কে অজানা বললে হঠাৎ কোন্‌ পথিকে,--
           "মাথা খেয়ো, কাল কোরো না দেরি।'
     ইতিহাসের বাকিটুকু আঁধার দিল ঘেরি।
বক্ষে আমার বাজিয়ে দিল গভীর বেদনা সে
       পঁচিশ বছর-বয়স-কালের ভুবনখানির একটি দীর্ঘশ্বাসে,
       যে-ভুবনে সন্ধ্যাতারা শিউরে যেত ওই পাহাড়ের দূরে
কাঁকর-ঢালা পথের 'পরে ডাক-পিয়নের পদধ্বনির সুরে।
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
জয়পরাজয়
Stories
রাজকন্যার নাম অপরাজিতা। উদয়নারায়ণের সভাকবি শেখর তাঁহাকে কখনো চক্ষেও দেখেন নাই। কিন্তু যেদিন কোনো নূতন কাব্য রচনা করিয়া সভাতলে বসিয়া রাজাকে শুনাইতেন, সেদিন কণ্ঠস্বর ঠিক এতটা উচ্চ করিয়া পড়িতেন যাহাতে তাহা সেই সমুচ্চ গৃহের উপরিতলের বাতায়নবর্তিনী অদৃশ্য শ্রোত্রীগণের কর্ণপথে প্রবেশ করিতে পারে। যেন তিনি কোনো-এক অগম্য নক্ষত্রলোকের উদ্দেশে আপনার সংগীতোচ্ছ্বাস প্রেরণ করিতেন যেখানে জ্যোতিষ্ক-মণ্ডলীর মধ্যে তাঁহার জীবনের একটি অপরিচিত শুভগ্রহ অদৃশ্য মহিমায় বিরাজ করিতেছেন।
কখনো ছায়ার মতন দেখিতে পাইতেন, কখনো নূপুরশিঞ্জনের মতন শুনা যাইত; বসিয়া বসিয়া মনে মনে ভাবিতেন, সে কেমন দুইখানি চরণ যাহাতে সেই সোনার নূপুর বাঁধা থাকিয়া তালে তালে গান গাহিতেছে। সেই দুইখানি রক্তিম শুভ্র কোমল চরণতল প্রতি পদক্ষেপে কী সৌভাগ্য কী অনুগ্রহ কী করুণার মতো করিয়া পৃথিবীকে স্পর্শ করে। মনের মধ্যে সেই চরণদুটি প্রতিষ্ঠা করিয়া কবি অবসরকালে সেইখানে আসিয়া লুটাইয়া পড়িত এবং সেই নূপুরশিঞ্জনের সুরে আপনার গান বাঁধিত।
আরো দেখুন