বর্ষ গেল, বৃথা গেল
Songs
        বর্ষ গেল, বৃথা গেল, কিছুই করি নি হায়--
        আপন শূন্যতা লয়ে জীবন বহিয়া যায় ॥
তবু তো আমার কাছে           নব রবি উদিয়াছে,
        তবু তো জীবন ঢালি বহিছে নবীন বায় ॥
        বহিছে বিমল উষা তোমার আশিসবাণী,
        তোমার করুণাসুধা হৃদয়ে দিতেছে আনি।
রেখেছ জগতপুরে,              মোরে তো ফেল নি দূরে,
        অসীম আশ্বাসে তাই পুলকে শিহরে কায় ॥
আরো দেখুন
প্রথম শোক
Stories
বনের ছায়াতে যে পথটি ছিল সে আজ ঘাসে ঢাকা।
সেই নির্জনে হঠাৎ পিছন থেকে কে বলে উঠল, 'আমাকে চিনতে পার না?'
আরো দেখুন
রবিবার
Stories
আমার গল্পের প্রধান মানুষটি প্রাচীন ব্রাহ্মণপণ্ডিত-বংশের ছেলে। বিষয়ব্যাপারে বাপ ওকালতি ব্যবসায়ে আঁটি পর্যন্ত পাকা, ধর্মকর্মে শাক্ত আচারের তীব্র জারক রসে জারিত। এখন আদালতে আর প্র্যাকটিস করতে হয় না। এক দিকে পূজা-অর্চনা আর-এক দিকে ঘরে বসে আইনের পরামর্শ দেওয়া, এই দুটোকে পাশাপাশি রেখে তিনি ইহকাল পরকালের জোড় মিলিয়ে অতি সাবধানে চলেছেন। কোনো দিকেই একটু পা ফসকায় না।
এইরকম নিরেট আচারবাঁধা সনাতনী ঘরের ফাটল ফুঁড়ে যদি দৈবাৎ কাঁটাওয়ালা নাস্তিক ওঠে গজিয়ে, তা হলে তার ভিত-দেয়াল-ভাঙা মন সাংঘাতিক ঠেলা মারতে থাকে ইঁটকাঠের প্রাচীন গাঁথুনির উপরে। এই আচারনিষ্ঠ বৈদিক ব্রাহ্মণের বংশে দুর্দান্ত কালাপাহাড়ের অভ্যুদয় হল আমাদের নায়কটিকে নিয়ে।
আরো দেখুন
কোন্‌ আলোতে প্রাণের প্রদীপ
Verses
কোন্‌ আলোতে প্রাণের প্রদীপ
       জ্বালিয়ে তুমি ধরায় আস।
সাধক ওগো, প্রেমিক ওগো,
       পাগল ওগো, ধরায় আস।
                    এই   অকুল সংসারে
       দুঃখ-আঘাত তোমার প্রাণে বীণা ঝংকারে।
                    ঘোরবিপদ-মাঝে
       কোন্‌ জননীর মুখের হাসি দেখিয়া হাস।
       তুমি        কাহার সন্ধানে
সকল সুখে আগুন জ্বেলে বেড়াও কে জানে।
       এমন        ব্যাকুল করে
কে তোমারে কাঁদায় যারে ভালোবাস।
                    তোমার     ভাবনা কিছু নাই--
       কে যে তোমার সাথের সাথি ভাবি মনে তাই।
                    তুমি   মরণ ভুলে
       কোন্‌ অনন্ত প্রাণসাগরে আনন্দে ভাস।
আরো দেখুন
ক্ষমিতে পারিলাম না যে
Songs
         ক্ষমিতে পারিলাম না যে
      ক্ষমো হে মম দীনতা,
            পাপীজনশরণ প্রভু।
মরিছে তাপে মরিছে লাজে
      প্রেমের বলহীনতা--
            ক্ষমো হে মম দীনতা,
                  পাপীজনশরণ প্রভু।
      প্রিয়ারে নিতে পারি নি বুকে,
            প্রেমেরে আমি হেনেছি,
      পাপীরে দিতে শাস্তি শুধু
            পাপেরে ডেকে এনেছি।
জানি গো তুমি ক্ষমিবে তারে
      যে অভাগিনী পাপের ভারে
            চরণে তব বিনতা।
            ক্ষমিবে না, ক্ষমিবে না
      আমার ক্ষমাহীনতা,
            পাপীজনশরণ প্রভু॥
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
ডিটেকটিভ
Stories
আমি পুলিসের ডিটেকটিভ কর্মচারী।  আমার জীবনের দুটিমাত্র লক্ষ্য ছিল-- আমার স্ত্রী এবং আমার ব্যবসায়। পূর্বে একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যে ছিলাম, সেখানে আমার স্ত্রীর প্রতি সমাদরের অভাব হওয়াতেই আমি দাদার সঙ্গে ঝগড়া করিয়া বাহির হইয়া আসি। দাদাই উপার্জন করিয়া আমাকে পালন করিতেছিলেন, অতএব সহসা সস্ত্রীক তাঁহার আশ্রয় ত্যাগ করিয়া আসা আমার পক্ষে দুঃসাহসের কাজ হইয়াছিল।
কিন্তু কখনো নিজের উপরে আমার বিশ্বাসের ত্রুটি ছিল না। আমি নিশ্চয় জানিতাম, সুন্দরী স্ত্রীকে যেমন বশ করিয়াছি বিমুখ অদৃষ্টলক্ষ্মীকেও তেমনি বশ করিতে পারিব। মহিমচন্দ্র এ সংসারে পশ্চাতে পড়িয়া থাকিবে না।
আরো দেখুন
পরী
Stories
কুসমি বললে, তুমি বড্ড বানিয়ে কথা বল। একটা সত্যিকার গল্প শোনাও-না।
আমি বললুম, জগতে দুরকম পদার্থ আছে। এক হচ্ছে সত্য, আর হচ্ছে--আরও-সত্য। আমার কারবার আরও-সত্যকে নিয়ে।
আরো দেখুন
উপসংহার
Stories
ভোজরাজের দেশে যে মেয়েটি ভোরবেলাতে দেবমন্দিরে গান গাইতে যায় সে কুড়িয়ে-পাওয়া মেয়ে।
আচার্য বলেন, 'একদিন শেষরাত্রে আমার কানে একখানি সুর লাগল। তার পরে সেইদিন যখন সাজি নিয়ে পারুলবনে ফুল তুলতে গেছি তখন এই মেয়েটিকে ফুলগাছতলায় কুড়িয়ে পেলেম।'
আরো দেখুন