নারীপ্রগতি
Verses
শুনেছিনু নাকি মোটরের তেল
পথের মাঝেই করেছিল ফেল,
তবু তুমি গাড়ি ধরেছ দৌড়ে--
হেন বীরনারী আছে কি গৌড়ে।
নারীপ্রগতির মহাদিনে আজি
নারীপদগতি জিনিল এ বাজি।
হায় কালিদাস, হায় ভবভূতি,
এই গতি আর এই-সব জুতি
তোমাদের গজগামিনীর দিনে
কবিকল্পনা নেয় নি তো চিনে;
কেনে নি ইস্‌টিশনের টিকেট;
হৃদয়ক্ষেত্রে খেলে নি ক্রিকেট;
চণ্ড বেগের ডাণ্ডাগোলায়--
তারা তো মন্দ-মধুর দোলায়
শান্ত মিলন-বিরহ-বন্ধে
বেঁধেছিল মন শিথিল ছন্দে।
রেলগাড়ি আর মোটরের যুগে
বহু অপঘাত চলিয়াছি ভুগে--
তাহারি মধ্যে এল সম্প্রতি
এ দুঃসাহস, এ তড়িৎগতি;
পুরুষেরে দিল দুর্দাম তাড়া,
দুর্বার তেজে নিষ্ঠুর নাড়া।
ভূকম্পনের বিগ্রহবতী
প্রলয়ধাতার নিগ্রহ অতি
বহন করিয়া এসেছে বঙ্গে
পাদুকামুখর চরণভঙ্গে।
সে ধ্বনি শুনিয়া পরলোকে বসি,
কবি কালিদাস, পড়িল কি খসি
উষ্ণীষ তব; দুরুদুরু বুকে
ছন্দ কিছু কি জুটিয়াছে মুখে।
একটি প্রশ্ন শুধাব এবার--
অকপটে তারি জবাব দেবার
আগে একবার ভেবে দেখো মনে,
উত্তর পেলে রাখিব গোপনে--
স্নিগ্ধচ্ছায়া ছিলে যে অতীতে
তেয়াগিয়া তাহা তড়িৎগতিতে
নিতে চাও কভু তীব্রভাষণ
আধুনিকাদের কবির আসন?
মেঘদূত ছেড়ে বিদ্যুৎ-দূত
লিখিতে পাবে কি ভাষা মজবুত।
আরো দেখুন
কাবুলিওয়ালা
Stories
আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেকসময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা পারি না। মিনি চুপ করিয়া থাকিলে এমনি অস্বাভাবিক দেখিতে হয় যে, সে আমার বেশিক্ষণ সহ্য হয় না। এইজন্য আমার সঙ্গে তাহার কথোপকথনটা কিছু উৎসাহের সহিত চলে।
সকালবেলায় আমার নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে হাত দিয়াছি এমনসময় মিনি আসিয়াই আরম্ভ করিয়া দিল, 'বাবা, রামদয়াল দরোয়ান কাককে কৌয়া বলছিল, সে কিচ্ছু জানে না। না?'
আরো দেখুন
পুরোনো বাড়ি
Stories
অনেক কালের ধনী গরিব হয়ে গেছে, তাদেরই ঐ বাড়ি।
দিনে দিনে ওর উপরে দুঃসময়ের আঁচড় পড়ছে।
আরো দেখুন
আপদ
Stories
সন্ধ্যার দিকে ঝড় ক্রমশ প্রবল হইতে লাগিল। বৃষ্টির ঝাপট, বজ্রের শব্দ এবং বিদ্যুতের ঝিকমিকিতে আকাশে যেন সুরাসুরের যুদ্ধ বাধিয়া গেল। কালো কালো মেঘগুলো মহাপ্রলয়ের জয়পতাকার মতো দিগ্‌বিদিকে উড়িতে আরম্ভ করিল, গঙ্গার এপারে ওপারে বিদ্রোহী ঢেউগুলো কলশব্দে নৃত্য জুড়িয়া দিল, এবং বাগানের বড়ো বড়ো গাছগুলো সমস্ত শাখা ঝট্‌পট্‌ করিয়া হাহুতাশ সহকারে দক্ষিণে বামে লুটোপুটি করিতে লাগিল।
তখন চন্দননগরের বাগানবাড়িতে একটি দীপালোকিত রুদ্ধকক্ষে খাটের সম্মুখবর্তী নীচের বিছানায় বসিয়া স্ত্রী-পুরুষে কথাবার্তা চলিতেছিল।
আরো দেখুন
38
Verses
এই যেন ভক্তের মন
      বট অশ্বত্থের বন।
রচে তার সমুদার কায়াটি,
      ধ্যানঘন গম্ভীর ছায়াটি,
মর্মরে বন্দনমন্ত্র জাগায় রে
      বৈরাগী কোন্‌ সমীরণ।
আরো দেখুন
শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
236
Verses
সফলতা লভি যবে
      মাথা করি নত,
জাগে মনে আপনার
      অক্ষমতা যত।
আরো দেখুন
দানপ্রতিদান
Stories
বড়োগিন্নি যে কথাগুলা বলিয়া গেলেন, তাহার ধার যেমন তাহার বিষও তেমনি। যে-হতভাগিনীর উপর প্রয়োগ করিয়া গেলেন, তাহার চিত্তপুত্তলি একেবারে জ্বলিয়া জ্বলিয়া লুটিতে লাগিল।
বিশেষত, কথাগুলা তাহার স্বামীর উপর লক্ষ্য করিয়া বলা-- এবং স্বামী রাধামুকুন্দ তখন রাত্রের আহার সমাপন করিয়া অনতিদূরে বসিয়া তাম্বুলের সহিত তাম্রকূটধূম সংযোগ করিয়া খাদ্যপরিপাকে প্রবৃত্ত ছিলেন। কথাগুলো শ্রুতিপথে প্রবেশ করিয়া তাঁহার পরিপাকের যে বিশেষ ব্যাঘাত করিল, এমন বোধ হইল না। অবিচলিত গাম্ভীর্যের সহিত তাম্রকূট নিঃশেষ করিয়া অভ্যাসমত যথাকালে শয়ন করিতে গেলেন।
আরো দেখুন
বলাই
Stories
মানুষের জীবনটা পৃথিবীর নানা জীবের ইতিহাসের নানা পরিচ্ছেদের উপসংহারে, এমন একটা কথা আছে। লোকালয়ে মানুষের মধ্যে আমরা নানা জীবজন্তুর প্রচ্ছন্ন পরিচয় পেয়ে থাকি, সে কথা জানা। বস্তুত আমরা মানুষ বলি সেই পদার্থকে যেটা আমাদের ভিতরকার সব জীবজন্তুকে মিলিয়ে এক করে নিয়েছে-- আমাদের বাঘ-গোরুকে এক খোঁয়াড়ে দিয়েছে পুরে, অহি-নকুলকে এক খাঁচায় ধরে রেখেছে। যেমন রাগিনী বলি তাকেই যা আপনার ভিতরকার সমুদয় সা-রে-গা-মা-গুলোকে সংগীত করে তোলে, তার পর থেকে তাদের আর গোলমাল করবার সাধ্য থাকে না। কিন্তু, সংগীতের ভিতরে এক-একটি সুর অন্য সকল সুরকে ছাড়িয়ে বিশেষ হয়ে ওঠে-- কোনোটাতে মধ্যম, কোনোটাতে কোমলগান্ধার, কোনোটাতে পঞ্চম।
আমার ভাইপো বলাই-- তার প্রকৃতিতে কেমন করে গাছপালার মূল সুরগুলোই হয়েছে প্রবল। ছেলেবেলা থেকেই চুপচাপ চেয়ে চেয়ে দেখাই তার অভ্যাস, নড়ে-চড়ে বেড়ানো নয়। পুবদিকের আকাশে কালো মেঘ স্তরে স্তরে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়ায়, ওর সমস্ত মনটাতে ভিজে হাওয়া যেন শ্রাবণ-অরণ্যের গন্ধ নিয়ে ঘনিয়ে ওঠে; ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ে, ওর সমস্ত গা যেন শুনতে পায় সেই বৃষ্টির শব্দ। ছাদের উপর বিকেল-বেলাকার রোদ্‌দুর পড়ে আসে, গা খুলে বেড়ায়; সমস্ত আকাশ থেকে যেন কী একটা সংগ্রহ করে নেয়। মাঘের শেষে আমের বোল ধরে, তার একটা নিবিড় আনন্দ জেগে ওঠে ওর রক্তের মধ্যে, একটা কিসের অব্যক্ত স্মৃতিতে; ফাল্গুনে পুষ্পিত শালবনের মতোই ওর অন্তর-প্রকৃতিটা চার দিকে বিস্তৃত হয়ে ওঠে, ভরে ওঠে, তাতে একটা ঘন রঙ লাগে। তখন ওর একলা বসে বসে আপন মনে কথা কইতে ইচ্ছে করে, যা-কিছু গল্প শুনেছে সব নিয়ে জোড়াতাড়া দিয়ে; অতি পুরানো বটের কোটরে বাসা বেঁধে আছে যে একজোড়া অতি পুরানো পাখি, বেঙ্গমা বেঙ্গমী, তাদের গল্প। ওই ড্যাবা-ড্যাবা-চোখ-মেলে-সর্বদা-তাকিয়ে-থাকা ছেলেটা বেশি কথা কইতে পারে না। তাই ওকে মনে মনে অনেক বেশি ভাবতে হয়। ওকে একবার পাহাড়ে নিয়ে গিয়েছিলুম। আমাদের বাড়ির সামনে ঘন সবুজ ঘাস পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে পর্যন্ত নেবে গিয়েছে, সেইটে দেখে আর ওর মন ভারি খুশি হয়ে ওঠে। ঘাসের আস্তরণটা একটা স্থির পদার্থ তা ওর মনে হয় না; ওর বোধ হয়, যেন ওই ঘাসের পুঞ্জ একটা গড়িয়ে-চলা খেলা, কেবলই গড়াচ্ছে; প্রায়ই তারই সেই ঢালু বেয়ে ও নিজেও গড়াত-- সমস্ত দেহ দিয়ে ঘাস হয়ে উঠত-- গড়াতে গড়াতে ঘাসের আগায় ওর ঘাড়ের কাছে সুড়সুড়ি লাগত আর ও খিলখিল করে হেসে উঠত।
আরো দেখুন
চোরাই ধন
Stories
মহাকাব্যের যুগে স্ত্রীকে পেতে হত পৌরুষের জোরে; যে অধিকারী সেই লাভ করত রমণীরত্ন। আমি লাভ করেছি কাপুরুষতা দিয়ে, সে-কথা আমার স্ত্রীর জানতে বিলম্ব ঘটেছিল। কিন্তু, সাধনা করেছি বিবাহের পরে; যাকে ফাঁকি দিয়ে চুরি করে পেয়েছি তার মূল্য দিয়েছি দিনে দিনে।
দাম্পত্যের স্বত্ব সাব্যস্ত করতে হয় প্রতিদিনই নতুন করে, অধিকাংশ পুরুষ ভুলে থাকে এই কথাটা। তারা গোড়াতেই কাস্টম্‌ হৌসে মাল খালাস করে নিয়েছে সমাজের ছাড়চিঠি দেখিয়ে, তার পর থেকে আছে বেপরোয়া। যেন পেয়েছে পাহারাওয়ালার সরকারি প্রতাপ, উপরওয়ালার দেওয়া তকমার জোরে; উর্দিটা খুলে নিলেই অতি অভাজন তারা।
আরো দেখুন
মালঞ্চ
Novels
পিঠের দিকে বালিশগুলো উঁচু-করা। নীরজা আধ-শোওয়া পড়ে আছে রোগ শয্যায়। পায়ের উপরে সাদা রেশমের চাদর টানা, যেন তৃতীয়ার ফিকে জ্যোৎস্না হালকা মেঘের তলায়। ফ্যাকাশে তার শাঁখের মতো রঙ, ঢিলে হয়ে পড়েছে চুড়ি, রোগা হাতে নীল শিরার রেখা, ঘনপক্ষ্ণ চোখের পল্লবে লেগেছে রোগের কালিমা।
মেঝে সাদা মারবেলে বাঁধানো, দেয়ালে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ছবি, ঘরে পালঙ্ক, একটি টিপাই, দুটি বেতের মোড়ার আর এক কোণে কাপড় ঝোলাবার আলনা ছাড়া অন্য কোনো আসবার নেই; এক কোণে পিতলের কলসীতে রজনীগন্ধার গুচ্ছ, তারই মৃদু গন্ধ বাঁধা পড়েছে ঘরের বন্ধ হাওয়ায়।
আরো দেখুন
শেষের কবিতা
Novels
অমিত রায় ব্যারিস্টার। ইংরেজি ছাঁদে রায় পদবী "রয়" ও "রে" রূপান্তর যখন ধারণ করলে তখন তার শ্রী গেল ঘুচে কিন্তু সংখ্যা হল বৃদ্ধি। এই কারণে, নামের অসামান্যতা কামনা করে অমিত এমন একটি বানান বানালে যাতে ইংরেজ বন্ধু ও বন্ধুনীদের মুখে তার উচ্চারণ দাঁড়িয়ে গেল-- অমিট রায়ে।
অমিতর বাপ ছিলেন দিগ্‌বিজয়ী ব্যারিস্টার। যে পরিমাণ টাকা তিনি জমিয়ে গেছেন সেটা অধস্তন তিন পুরুষকে অধঃপাতে দেবার পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু পৈতৃক সম্পত্তির সাংঘাতিক সংঘাতেও অমিত বিনা বিপত্তিতে এ যাত্রা টিঁকে গেল।
                         আনিলাম
               অপরিচিতের নাম
                                   ধরণীতে,
               পরিচিত জনতার সরণীতে।
                                   আমি আগন্তুক,
               আমি জনগণেশের প্রচণ্ড কৌতুক।
                                   খোলো দ্বার,
               বার্তা আনিয়াছি বিধাতার।
                         মহাকালেশ্বর
               পাঠায়েছে দুর্লক্ষ্য অক্ষর,
                         বল্‌ দুঃসাহসী কে কে
                         মৃত্যু পণ রেখে
               দিবি তার দুরূহ উত্তর।
               শুনিবে না।
                         মূঢ়তার সেনা
                                   করে পথরোধ।
                             ব্যর্থ ক্রোধ
                         হুংকারিয়া পড়ে বুকে,
                                   তরঙ্গের নিষ্ফলতা
                                            নিত্য যথা
                                   মরে মাথা ঠুকে
                                   শৈলতট-'পরে
                                            আত্মঘাতী দম্ভভরে।
                         পুষ্পমাল্য নাহি মোর, রিক্ত বক্ষতল,
                                   নাহি বর্ম অঙ্গদ কুণ্ডল।
                         শূন্য এ ললাটপট্টে লিখা।
                                   গূঢ় জয়টিকা।
                         ছিন্ন কন্থা দরিদ্রের বেশ।
                                   করিব নিঃশেষ
                                            তোমার ভাণ্ডার।
                                   খোলো খোলো দ্বার।
                                                অকস্মাৎ
                                   বাড়ায়েছি হাত,
                                            যা দিবার দাও অচিরাৎ।
                                  বক্ষ তব কেঁপে উঠে, কম্পিত অর্গল,
                                            পৃথ্বী টলমল।
                         ভয়ে আর্ত উঠিছে চীৎকারি
                                   দিগন্ত বিদারি,
                                            "ফিরে যা এখনি,
                                   রে দুর্দান্ত দুরন্ত ভিখারি,
                                            তোর কণ্ঠধ্বনি
                                   ঘুরি ঘুরি
                         নিশীথনিদ্রার বক্ষে হানে তীব্র ছুরি।"
                                   অস্ত্র আনো।
                         ঝঞ্ঝনিয়া আমার পঞ্জরে হানো।
                                   মৃত্যুরে মারুক মৃত্যু, অক্ষয় এ প্রাণ
                                            করি যাব দান।
                                          শৃঙ্খল জড়াও তবে,
                                   বাঁধো মোরে, খণ্ড খণ্ড হবে,
                                          মুহূর্তে চকিতে,
                                   মুক্তি তব আমারি মুক্তিতে।
                                            শাস্ত্র আনো।
                                        হানো মোরে, হানো।
                                            পণ্ডিতে পণ্ডিতে
                         ঊর্ধ্বস্বরে চাহিব খণ্ডিতে
                                            দিব্য বাণী।
                                            জানি জানি
                                            তর্কবাণ
                                   হয়ে যাবে খান খান।
                         মুক্ত হবে জীর্ণ বাক্যে আচ্ছন্ন দু চোখ--
                                   হেরিবে আলোক।
                                            অগ্নি জ্বালো।
                         আজিকার যাহা ভালো
                                   কল্য যদি হয় তাহা কালো,
                                    যদি তাহা ভস্ম হয়
                                           বিশ্বময়,
                                   ভস্ম হোক।
                                 দূর করো শোক।
                               মোর অগ্নিপরীক্ষায়
                         ধন্য হোক বিশ্বলোক অপূর্ব দীক্ষায়।
                                   আমার দুর্বোধ বাণী
                                 বিরুদ্ধ বুদ্ধির 'পরে মুষ্টি হানি
                                   করিবে তাহারে উচ্চকিত,
                                            আতঙ্কিত।
                                   উন্মাদ আমার ছন্দ
                                             দিবে ধন্দ
                                   শান্তিলুব্ধ মুমুক্ষুরে,
                                   ভিক্ষাজীর্ণ বুভুক্ষুরে।
                                      শিরে হস্ত হেনে
                                   একে একে নিবে মেনে
                                            ক্রোধে ক্ষোভে ভয়ে
                                                      লোকালয়ে
                                            অপরিচিতের জয়,
                                            অপরিচিতের পরিচয়--
                                                যে অপরিচিত
                                বৈশাখের রুদ্র ঝড়ে বসুন্ধরা করে আন্দোলিত,
                                              হানি বজ্রমুঠি
                                            মেঘের কার্পণ্য টুটি
                                            সংগোপন বর্ষণসঞ্চয়
                                   ছিন্ন ক'রে মুক্ত করে সর্বজগন্ময়॥
               পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি,
               আমরা দুজন চলতি হাওয়ার পন্থী।
                         রঙিন নিমেষ ধুলার দুলাল
                         পরানে ছড়ায় আবীর গুলাল,
                                   ওড়না ওড়ায় বর্ষার মেঘে
                                       দিগঙ্গনার নৃত্য;
                         হঠাৎ-আলোর ঝলকানি লেগে
                                ঝলমল করে চিত্ত।
               নাই আমাদের কনক-চাঁপার কুঞ্জ,
               বনবীথিকায় কীর্ণ বকুলপুঞ্জ।
                         হঠাৎ কখন সন্ধেবেলায়
                         নামহারা ফুল গন্ধ এলায়,
                         প্রভাতবেলায় হেলাভরে করে
                                   অরুণ মেঘেরে তুচ্ছ
                   উদ্ধত যত শাখার শিখরে
                         রডোডেনড্রনগুচ্ছ।
               নাই আমাদের সঞ্চিত ধনরত্ন,
               নাই রে ঘরের লালন ললিত যত্ন।
                         পথপাশে পাখি পুচ্ছ নাচায়,
                         বন্ধন তারে করি না খাঁচায়,
                                   ডানা-মেলে-দেওয়া মুক্তিপ্রিয়ের
                                           কূজনে দুজনে তৃপ্ত।
                             আমরা চকিত অভাবনীয়ের
                                   ক্কচিৎ-কিরণে দীপ্ত।
"For Gods sake, hold your tongue
        and let me love! "
                         দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর্‌।
                         ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।"
               রে অচেনা, মোর মুষ্টি ছাড়াবি কী করে,
                         যতক্ষণ চিনি নাই তোরে?
                                   কোন্‌ অন্ধক্ষণে
                                বিজড়িত তন্দ্রা-জাগরণে
                           রাত্রি যবে সবে হয় ভোর,
                                   মুখ দেখিলাম তোর।
               চক্ষু'পরে চক্ষু রাখি শুধালেম, কোথা সংগোপনে
                           আছ আত্মবিস্মৃতির কোণে।
                                   তোর সাথে চেনা
                                   সহজে হবে না--
                              কানে কানে মৃদুকণ্ঠে নয়।
                                   করে নেব জয়
                              সংশয়কুণ্ঠিত তোর বাণী--
                                   দৃপ্ত বলে লব টানি
                              শঙ্কা হতে, লজ্জা হতে, দ্বিধা দ্বন্দ্ব হতে
                                   নির্দয় আলোতে।
                              জাগিয়া উঠিবি অশ্রুধারে,
                              মুহূর্তে চিনিবি আপনারে,
                                   ছিন্ন হবে ডোর--
                               তোর মুক্তি দিয়ে তবে মুক্তি হবে মোর।
                                   "হে অচেনা,
                             দিন যায়, সন্ধ্যা হয়, সময় রবে না,
                                   তীব্র আকস্মিক
                                বাধা বন্ধ ছিন্ন করি দিক,
                         তোমারে চেনার অগ্নি দীপ্তশিখা উঠুক উজ্জ্বলি,
                                  দিব তাহে জীবন অঞ্জলি।"
                         হে মোর বন্যা, তুমি অনন্যা,
                         আপন স্বরূপে আপনি ধন্যা।"
"For Gods sake, hold your tongue
        and let me love! "
                         "ঝরনা, তোমার স্ফটিক জলের
                                   স্বচ্ছ ধারা--
                         তাহারি মাঝারে দেখে আপনারে
                                   সূর্য তারা।
               "আজি মাঝে মাঝে আমার ছায়ারে
               দুলায়ে খেলায়ো তারি এক ধারে,
               সে ছায়ারি সাথে হাসিয়া মিলায়ো
                         কলধ্বনি--
               দিয়ো তারে বাণী যে বাণী তোমার
                         চিরন্তনী।
               "আমার ছায়াতে তোমার হাসিতে
                         মিলিত ছবি,
               তাই নিয়ে আজি পরানে আমার
                         মেতেছে কবি।
               পদে পদে তব আলোর ঝলকে
               ভাষা আনে প্রাণে পলকে পলকে,
               মোর বাণীরূপ দেখিলাম আজি,
                         নির্ঝরিণী।
               তোমার প্রবাহে মনেরে জাগায়,
                         নিজেরে চিনি।"
                         পূর্ণপ্রাণে চাবার যাহা
                         রিক্ত হাতে চাস নে তারে;
                         সিক্ত চোখে যাস নে দ্বারে।
                         রত্নমালা আনবি যবে
                         মাল্যবদল তখন হবে,
                         পাতবি কি তোর দেবীর আসন
                         শূন্য ধুলায় পথের ধারে।
                         পুষ্প-উদার চৈত্রবনে
                         বক্ষে ধরিস নিত্যধনে
                         লক্ষ শিখায় জ্বলবে যখন
                         দীপ্ত প্রদীপ অন্ধকারে।
For we are bound where mariner has not yet dared to go,
And we will risk the ship, ourselves and all।
            আমরা যাব যেখানে কোনো
                যায় নি নেয়ে সাহস করি,
            ডুবি যদি তো ডুবি-না কেন--
                ডুবুক সবই, ডুবুক তরী।
                        O, what is this?
               Mysterious and uncapturable bliss
               That I have known, yet seems to be
               Simple as breath and easy as a smile,
                      And older than the earth।
                  একি রহস্য, একি আনন্দরাশি!
               জেনেছি তাহারে, পাই নি তবুও পেয়ে।
                    তবু সে সহজে প্রাণে উঠে নিশ্বাসি,
                    তবু সে সরল যেন রে সরল হাসি,
                         পুরানো সে যেন এই ধরণীর চেয়ে।
                    বিদ্যাপতি কহে, কৈসে গোঙায়বি
                        হরি বিনে দিন রাতিয়া।
                         চলি যবে গেলা যমপুরে
                         অকালে!
           "Blow gently over my garden
                     Wind of the southern sea
           In the hour my love cometh
                     And calleth me।
           চুমিয়া যেও তুমি
           আমার বনভূমি
                 দখিন-সাগরের সমীরণ,
           যে শুভখনে মম
           আসিবে প্রিয়তম,
                 ডাকিবে নাম ধরে অকারণ।"
         "মিতা, ত্বমসি মম জীবনং, ত্বমসি মম ভূষণং,
                   ত্বমসি মম ভবজলধিরত্নম্‌।"
               ছাদের উপরে বহিয়ো নীরবে
               ওগো দক্ষিণ-হাওয়া
               প্রেয়সীর সাথে যে নিমেষে হবে
               চারি চক্ষুতে চাওয়া।
                 "তোমারে দিই নি সুখ, মুক্তির নৈবেদ্য গেনু রাখি
                 রজনীর শুভ্র অবসানে। কিছু আর নাই বাকি,
                 নাইকো প্রার্থনা, নাই প্রতি মুহূর্তের দৈন্যরাশি,
                 নাই অভিমান, নাই দীন কান্না, নাই গর্ব-হাসি,
                 নাই পিছু ফিরে দেখা। শুধু সে মুক্তির ডালিখানি
                 ভরিয়া দিলাম আজি আমার মহৎ মৃত্যু আনি।"
                 সুন্দর, তুমি চক্ষু ভরিয়া
                           এনেছ  অশ্রুজল।
                 এনেছ তোমার বক্ষে ধরিয়া
                          দুঃসহ হোমানল।
                 দুঃখ যে তার উজ্জ্বল হয়ে উঠে,
                 মুগ্ধ প্রাণের আবেশ-বন্ধ টুটে।
                 এ তাপে শ্বসিয়া উঠে বিকশিয়া
                            বিচ্ছেদশতদল।"
                 "সুন্দরী তুমি শুকতারা
                       সুদূর শৈলশিখরান্তে,
                 শর্বরী যবে হবে সারা
                       দর্শন দিয়ো দিক্‌ভ্রান্তে।
                     ধরা যেথা অম্বরে মেশে
                          আমি আধো-জাগ্রত চন্দ্র।
                     আঁধারের বক্ষের 'পরে
                          আধেক আলোক-রেখা-রন্ধ্র।
                     আমার আসন রাখে পেতে
                          নিদ্রাগহন মহাশূন্য।
                     তন্ত্রী বাজাই স্বপনেতে
                          তন্দ্রা ঈষৎ করি ক্ষুণ্ণ।
                     মন্দচরণে চলি পারে,
                          যাত্রা হয়েছে মোর সাঙ্গ।
                     সুর থেমে আসে বারে বারে,
                          ক্লান্তিতে আমি অবশাঙ্গ।
                     সুন্দরী ওগো শুকতারা,
                          রাত্রি না যেতে এসো তূর্ণ
                     স্বপ্নে যে বাণী হল হারা
                          জাগরণে করো তারে পূর্ণ।
                     নিশীথের তল হতে তুলি
                          লহো তারে প্রভাতের জন্য।
                     আঁধারে নিজেরে ছিল ভুলি,
                          আলোকে তাহারে করো ধন্য।
                     যেখানে সুপ্তি হল লীনা,
                          যেথা বিশ্বের মহামন্দ্র,
                     অর্পিনু সেথা মোর বীণা
                          আমি আধো-জাগ্রত চন্দ্র।
                     "কত ধৈর্য ধরি
                 ছিলে কাছে দিবসশর্বরী।
                     তব পদ-অঙ্কনগুলিরে
                 কতবার দিয়ে গেছ মোর ভাগ্যপথের ধূলিরে।
                       আজ যবে
                 দূরে যেতে হবে
                     তোমারে করিয়া যাব দান
                       তব জয়গান।
                 কতবার ব্যর্থ আয়োজনে
                     এ জীবনে
                 হোমাগ্নি উঠে নি জ্বলি,
                     শূন্যে গেছে চলি
                 হতাশ্বাস ধূমের কুণ্ডলী।
                 কতবার ক্ষণিকের শিখা
                       আঁকিয়াছে ক্ষীণ টিকা
                     নিশ্চেতন নিশীথের ভালে।
                 লুপ্ত হয়ে গেছে তাহা চিহ্নহীন কালে।
                     এবার তোমার আগমন
                          হোমহুতাশন
                              জ্বেলেছে গৌরবে।
                          যজ্ঞ মোর ধন্য হবে।
                     আমার আহুতি দিনশেষে
                 করিলাম সমর্পণ তোমার উদ্দেশে।
                          লহো এ প্রণাম
                     জীবনের পূর্ণপরিণাম।
                              এ প্রণতি'পরে
                          স্পর্শ রাখো স্নেহভরে,
                     তোমার ঐশ্বর্য-মাঝে
                       সিংহাসন যেথায় বিরাজে
                          করিয়ো আহ্বান,
                       সেথা এ প্রণতি মোর পায় যেন স্থান।"
       তোমারে ছাড়িয়া যেতে হবে
          রাত্রি যবে
     উঠিবে উন্মনা হয়ে প্রভাতের রথচক্ররবে।
          হায় রে বাসরঘর,
    বিরাট বাহির সে যে বিচ্ছেদের দস্যু ভয়ংকর।
        তবু সে যতই ভাঙে-চোরে,
     মালাবদলের হার যত দেয় ছিন্ন ছিন্ন করে,
         তুমি আছ ক্ষয়হীন
           অনুদিন;
          তোমার উৎসব
      বিচ্ছিন্ন না হয় কভু, না হয় নীরব।
      কে বলে তোমারে ছেড়ে গিয়েছে যুগল
         শূন্য করি তব শয্যাতল।
         যায় নাই, যায় নাই,
     নব নব যাত্রী-মাঝে ফিরে ফিরে আসিছে তারাই
          তোমার আহ্বানে
        উদার তোমার দ্বার-পানে।
           হে বাসরঘর,
       বিশ্বে প্রেম মৃত্যুহীন, তুমিও অমর।
              Tender is the night
And haply the queen moon is on her throne।
           তব অন্তর্ধানপটে হেরি তব রূপ চিরন্তন।
           অন্তরে অলক্ষ্যলোকে তোমার অন্তিম আগমন।
               লভিয়াছি চিরস্পর্শমণি;
           আমার শূন্যতা তুমি পূর্ণ করি গিয়েছ আপনি।
           জীবন আঁধার হল, সেই ক্ষণে পাইনু সন্ধান
           সন্ধ্যার দেউলদীপ চিত্তের মন্দিরে তব দান।
               বিচ্ছেদের হোমবহ্নি হতে
           পূজামূর্তি ধরি প্রেম দেখা দিল দুঃখের আলোতে।
                                                            মিতা।
      কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও।
             তারি রথ নিত্যই উধাও
         জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন,
      চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন।
                 ওগো বন্ধু,
             সেই ধাবমান কাল
      জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেরি তার জাল--
             তুলে নিল দ্রুতরথে
      দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে
         তোমা হতে বহু দূরে।
             মনে হয়, অজস্র মৃত্যুরে
         পার হয়ে আসিলাম
      আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়--
         রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
             আমার পুরানো নাম।
         ফিরিবার পথ নাহি;
             দূর হতে যদি দেখ চাহি
                 পারিবে না চিনিতে আমায়।
                         হে বন্ধু, বিদায়।
      কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে
             বসন্তবাতাসে
      অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,
             ঝরা বকুলের কান্না ব্যথিবে আকাশ,
      সেই ক্ষণে খুঁজে দেখো--কিছু মোর পিছে রহিল সে
             তোমার প্রাণের প্রান্তে; বিস্মৃতিপ্রদোষে
                 হয়তো দিবে সে জ্যোতি,
      হয়তো ধরিবে কভু নাম-হারা স্বপ্নের মুরতি।
                 তবু সে তো স্বপ্ন নয়,
      সব-চেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়,
                 সে আমার প্রেম।
         তারে আমি রাখিয়া এলেম
      অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশে।
         পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে
             কালের যাত্রায়।
                 হে বন্ধু, বিদায়।
                  তোমার হয় নি কোনো ক্ষতি
   মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃতমুরতি
           যদি সৃষ্টি করে থাক, তাহারি আরতি
             হোক তব সন্ধ্যাবেলা,
                 পূজার সে খেলা
      ব্যাঘাত পাবে না মোর প্রত্যহের ম্লান স্পর্শ লেগে;
             তৃষার্ত আবেগ-বেগে
      ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোনো ফুল নৈবেদ্যের থালে।
             তোমার মানস-ভোজে সযত্নে সাজালে
      যে ভাবরসের পাত্র বাণীর তৃষায়,
             তার সাথে দিব না মিশায়ে
      যা মোর ধূলির ধন, যা মোর চক্ষের জলে ভিজে।
             আজো তুমি নিজে
             হয়তো-বা করিবে রচন
      মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন।
      ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়।
             হে বন্ধু, বিদায়।
             মোর লাগি করিয়ো না শোক,
      আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক।
             মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই--
      শূন্যেরে করিব পূর্ণ, এই ব্রত বহিব সদাই।
      উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে
             সেই ধন্য করিবে আমাকে।
             শুক্লপক্ষ হতে আনি
             রজনীগন্ধার বৃন্তখানি
                      যে পারে সাজাতে
             অর্ঘ্যথালা  কৃষ্ণপক্ষ রাতে,
             যে আমারে দেখিবারে পায়
                 অসীম ক্ষমায়
             ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি,
      এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।
                 তোমারে যা দিয়েছিনু তার
                 পেয়েছ নিঃশেষ অধিকার।
                 হেথা মোর তিলে তিলে দান,
      করুণ মুহূর্তগুলি গণ্ডূষ ভরিয়া করে পান
             হৃদয়-অঞ্জলি হতে মম।
                 ওগো তুমি নিরুপম,
                       হে ঐশ্বর্যবান,
             তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান--
                 গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
                       হে বন্ধু, বিদায়।
                                          বন্যা
আরো দেখুন