নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
71
Verses
শান্তা, তুমি শান্তিনাশের ভয় দেখালে মোরে,
সই-করা নাম করবে আদায় ঝগড়া করার জোরে?
এই তো দেখি বঁটি হাতে শিউলিতলায় যাওয়া
আপনি যে ফুল ঝরিয়ে দিল শরৎপ্রাতের হাওয়া।
আরো দেখুন
দৃষ্টিদান
Stories
শুনিয়াছি, আজকাল অনেক বাঙালির মেয়েকে নিজের চেষ্টায় স্বামী সংগ্রহ করিতে হয়। আমিও তাই করিয়াছি, কিন্তু দেবতার সহায়তায়। আমি ছেলেবেলা হইতে অনেক ব্রত এবং অনেক শিবপূজা করিয়াছিলাম।
আমার আটবৎসর বয়স উত্তীর্ণ না হইতেই বিবাহ হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু পূর্বজন্মের পাপবশত আমি আমার এমন স্বামী পাইয়াও সম্পূর্ণ পাইলাম না। মা ত্রিনয়নী আমার দুইচক্ষু লইলেন। জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত স্বামীকে দেখিয়া লইবার সুখ দিলেন না।
আরো দেখুন
জগদীশচন্দ্র বসু
Verses
বিজ্ঞানলক্ষ্মীর প্রিয় পশ্চিম মন্দিরে
           দূর সিন্ধুতীরে
হে বন্ধু, গিয়েছ তুমি; জয়মাল্যখানি
          সেথা হতে আনি
দীনহীনা জননীর লজ্জানত শিরে
          পরাইছ ধীরে।
বিদেশের মহোজ্জ্বল-মহিমা-মণ্ডিত
          পণ্ডিতসভায়
বহু সাধুবাদধ্বনি নানা কণ্ঠরবে
          শুনেছ গৌরবে।
সে ধ্বনি গম্ভীরমন্দ্রে ছায় চারি ধার
          হয়ে সিন্ধু পার।
আজি মাতা পাঠাইছে--অশ্রুসিক্ত বাণী
          আশীর্বাদখানি
জগৎ-সভার কাছে অখ্যাত অজ্ঞাত
          কবিকণ্ঠে ভ্রাতঃ।
সে বাণী পশিবে শুধু তোমারি অন্তরে
          ক্ষীণ মাতৃস্বরে।
আরো দেখুন
প্রগতিসংহার
Stories
এই কলেজে ছেলেমেয়েদের মেলামেশা বরঞ্চ কিছু বাড়াবাড়ি ছিল। এরা প্রায় সবাই ধনী ঘরের--এরা পয়সার ফেলাছড়া করতে ভালোবাসে। নানা রকম বাজে খরচ করে মেয়েদের কাছে দরাজ হাতের নাম কিনত। মেয়েদের মনে ঢেউ তুলত, তারা বুক ফুলিয়ে বলত--'আমাদেরই কলেজের ছেলে এরা'। সরস্বতী পুজো তারা এমনি ধূম করে করত যে, বাজারে গাঁদা ফুলের আকাল পড়ে যেত। এ ছাড়া চোখটেপাটেপি ঠাট্টা তামাসা চলেইছে। এই তাদের মাঝখানে একটা সংঘ তেড়েফুঁড়ে উঠে মেলামেশা ছারখার করে দেবার জো করলে।
সংঘের হাল ধরে ছিল সুরীতি। নাম দিল 'নারীপ্রগতিসংঘ'। সেখানে পুরুষের ঢোকবার দরজা ছিল বন্ধ। সুরীতির মনের জোরের ধাক্কায় এক সময়ে যেন পুরুষ-বিদ্রোহের একটা হাওয়া উঠল। পুরুষরা যেন বেজাত, তাদের সঙ্গে জলচল বন্ধ। কদর্য তাদের ব্যায়ভার।
আরো দেখুন
108
Verses
তোমার সঙ্গে আমার মিলন
      বাধল কাছেই এসে।
তাকিয়ে ছিলেম আসন মেলে--
    অনেক দূরের থেকে এলে,
আঙিনাতে বাড়িয়ে চরণ
      ফিরলে কঠিন হেসে--
    তীরের হাওয়ায় তরী উধাও
      পারের নিরুদ্দেশে।
আরো দেখুন
ল্যাবরেটরি
Stories
নন্দকিশোর ছিলেন লণ্ডন য়ুনিভার্সিটি থেকে পাস করা এঞ্জিনীয়ার। যাকে সাধুভাষায় বলা যেতে পারে দেদীপ্যমান ছাত্র অর্থাৎ ব্রিলিয়ান্ট, তিনি ছিলেন তাই। স্কুল থেকে আরম্ভ করে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার তোরণে তোরণে ছিলেন পয়লা শ্রেণীর সওয়ারী।
ওঁর বুদ্ধি ছিল ফলাও, ওঁর প্রয়োজন ছিল দরাজ, কিন্তু ওঁর অর্থসম্বল ছিল আঁটমাপের।
আরো দেখুন
32
Verses
          আজ এই দিনের শেষে
সন্ধ্যা যে ওই মানিকখানি পরেছিল চিকন কালো কেশে
          গেঁথে নিলেম তারে
এই তো আমার বিনিসুতার গোপন গলার হারে।
     চক্রবাকের নিদ্রানীরব বিজন পদ্মাতীরে
     এই সে সন্ধ্যা ছুঁইয়ে গেল আমার নতশিরে
              নির্মাল্য তোমার
              আকাশ হয়ে পার;
          ওই যে মরি মরি
তরঙ্গহীন স্রোতের 'পরে ভাসিয়ে দিল তারার ছায়াতরী;
          ওই যে সে তার সোনার চেলি
              দিল মেলি
          রাতের আঙিনায়
          ঘুমে অলস কায়;
         ওই যে শেষে সপ্তঋষির ছায়াপথে
              কালো ঘোড়ার রথে
     উড়িয়ে দিয়ে আগুন-ধূলি নিল সে বিদায়;
একটি কেবল করুণ পরশ রেখে গেল একটি কবির ভালে;
তোমার ওই অনন্ত মাঝে এমন সন্ধ্যা হয় নি কোনোকালে,
              আর হবে না কভু।
              এমনি করেই প্রভু
          এক নিমেষের পত্রপুটে ভরি
চিরকালের ধনটি তোমার ক্ষণকালে লও যে নূতন করি।
আরো দেখুন
পরী
Stories
কুসমি বললে, তুমি বড্ড বানিয়ে কথা বল। একটা সত্যিকার গল্প শোনাও-না।
আমি বললুম, জগতে দুরকম পদার্থ আছে। এক হচ্ছে সত্য, আর হচ্ছে--আরও-সত্য। আমার কারবার আরও-সত্যকে নিয়ে।
আরো দেখুন
যদি এ আমার
Songs
          যদি এ আমার হৃদয়দুয়ার    বন্ধ রহে গো কভু
          দ্বার ভেঙে তুমি এসো মোর প্রাণে,    ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু ॥
যদি কোনো দিন এ বীণার তারে    তব প্রিয়নাম নাহি ঝঙ্কারে
          দয়া ক'রে তবু রহিয়ো দাঁড়ায়ে,    ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু ॥
যদি কোনো দিন তোমার আহ্বানে    সুপ্তি আমার চেতনা না মানে
          বজ্রবেদনে জাগায়ো আমারে,    ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু।
যদি কোনো দিন তোমার আসনে    আর-কাহারেও বসাই যতনে,
          চিরদিবসের হে রাজা আমার,    ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু ॥
আরো দেখুন