ফেল
Stories
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না।
নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য।
আরো দেখুন
পরিণয়মঙ্গল
Verses
হৈমন্তী দেবী ও অমিয়চন্দ্র চক্রবর্তীর পরিণয়-উপলক্ষে
উত্তরে দুয়াররুদ্ধ হিমানীর কারাদুর্গতলে
প্রাণের উৎসবলক্ষ্মী বন্দী ছিল তন্দ্রার শৃঙ্খলে।
যে নীহারবিন্দু ফুল ছিঁড়ি তার স্বপ্নমন্ত্রপাশ
কঠিনের মরুবক্ষে মাধুরীর আনিল আশ্বাস,
হৈমন্তী নিঃশব্দে কবে গেঁথেছে তাহারি শুভ্রমালা
নিভৃত গোপন চিত্তে; সেই অর্ঘ্যে পূর্ণ করি ডালা
লাবণ্যনৈবেদ্যখানি দক্ষিণসমুদ্র-উপকূলে
এনেছে অরণ্যচ্ছায়ে, যেথায় অগণ্য ফুলে ফুলে
রবির সোহাগগর্ব বর্ণগন্ধমধুরসধারে
বৎসরের ঋতুপাত্র উচ্ছলিয়া দেয় বারে বারে।
বিস্ময়ে ভরিল মন, এ কী এ প্রেমের ইন্দ্রজাল,
কোথা করে অন্তর্ধান মুহূর্তে দুস্তর অন্তরাল, --
দক্ষিণপবনসখা উৎকণ্ঠিত বসন্ত কেমনে
হৈমন্তীর কণ্ঠ হতে বরমাল্য নিল শুভক্ষণে।
আরো দেখুন
৫২
Verses
৫২
যবে কাজ করি
            প্রভু দেয় মোরে মান।
যবে গান করি
            ভালোবাসে ভগবান॥    
আরো দেখুন
সুসময়
Verses
বৈশাখী ঝড় যতই আঘাত হানে
      সন্ধ্যা-সোনার ভাণ্ডারদ্বার-পানে,
           দস্যুর বেশে যতই করে সে দাবি
           কুণ্ঠিত মেঘ হারায় সোনার চাবি,
      গগন সঘন অবগুন্ঠন টানে।
      "খোলো খোলো মুখ' বনলক্ষ্মীরে ডাকে,
      নিবিড় ধুলায় আপনি তাহারে ঢাকে।
           "আলো দাও' হাঁকে, পায় না কাহারো সাড়া,
           আঁধার বাড়ায়ে বেড়ায় লক্ষ্মীছাড়া,
      পথ সে হারায় আপন ঘূর্ণিপাকে।
      তার পরে যবে শিউলিফুলের বাসে
      শরৎলক্ষ্মী শুভ্র আলোয় ভাসে,
           নদীর ধারায় নাই মিছে মত্ততা,
           কুন্দকলির স্নিগ্ধশীতল কথা,
      মৃদু উচ্ছ্বাস মর্মরে ঘাসে ঘাসে, --
      শিশির যখন বেণুর পাতার আগে
      রবির প্রসাদ নীরব চাওয়ায় মাগে,
           সবুজ খেতের নবীন ধানের শিষে
           ঢেউ খেলে যায় আলোকছায়ায় মিশে,
      গগনসীমায় কাশের কাঁপন লাগে, --
      হঠাৎ তখন সূর্যডোবার কালে
      দীপ্তি লাগায় দিক্‌ললনার ভালে;
           মেঘ ছেঁড়ে তার পর্দা আঁধার-কালো,
           কোথায় সে পায় স্বর্গলোকের আলো,
      চরম খনের পরম প্রদীপ জ্বালে।
আরো দেখুন
ঘাটের কথা
Stories
পাষাণে ঘটনা যদি অঙ্কিত হইত তবে কতদিনকার কত কথা আমার সোপানে সোপানে পাঠ করিতে পারিতে। পুরাতন কথা যদি শুনিতে চাও, তবে আমার এই ধাপে বইস; মনোযোগ দিয়া জলকল্লোলে কান পাতিয়া থাকো, বহুদিনকার কত বিস্মৃত কথা শুনিতে পাইবে।
আমার আর-একদিনের কথা মনে পড়িতেছে। সেও ঠিক এইরূপ দিন। আশ্বিন মাস পড়িতে আর দুই-চারি দিন বাকি আছে। ভোরের বেলায় অতি ঈষৎ মধুর নবীন শীতের বাতাস নিদ্রোত্থিতের দেহে নূতন প্রাণ আনিয়া দিতেছে। তরু-পল্লব অমনি একটু একটু শিহরিয়া উঠিতেছে।
আরো দেখুন
এসো গো নূতন
Songs
              এসো গো নূতন জীবন।
এসো গো কঠোর নিঠুর নীরব,   এসো গো ভীষণ শোভন॥
     এসো অপ্রিয় বিরস তিক্ত,   এসো গো অশ্রুসলিলসিক্ত,
     এসো গো ভূষণবিহীন রিক্ত,   এসো গো চিত্তপাবন॥
থাক্‌ বীণাবেণু, মালতীমালিকা   পূর্ণিমানিশি, মায়াকুহেলিকা--
     এসো গো প্রখর হোমানলশিখা   হৃদয়শোণিতপ্রাশন।
     এসো গো পরমদুঃখনিলয়,   আশা-অঙ্কুর করহ বিলয়--
     এসো সংগ্রাম, এসো মহাজয়,   এসো গো মরণসাধন॥
আরো দেখুন
শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
প্রগতিসংহার
Stories
এই কলেজে ছেলেমেয়েদের মেলামেশা বরঞ্চ কিছু বাড়াবাড়ি ছিল। এরা প্রায় সবাই ধনী ঘরের--এরা পয়সার ফেলাছড়া করতে ভালোবাসে। নানা রকম বাজে খরচ করে মেয়েদের কাছে দরাজ হাতের নাম কিনত। মেয়েদের মনে ঢেউ তুলত, তারা বুক ফুলিয়ে বলত--'আমাদেরই কলেজের ছেলে এরা'। সরস্বতী পুজো তারা এমনি ধূম করে করত যে, বাজারে গাঁদা ফুলের আকাল পড়ে যেত। এ ছাড়া চোখটেপাটেপি ঠাট্টা তামাসা চলেইছে। এই তাদের মাঝখানে একটা সংঘ তেড়েফুঁড়ে উঠে মেলামেশা ছারখার করে দেবার জো করলে।
সংঘের হাল ধরে ছিল সুরীতি। নাম দিল 'নারীপ্রগতিসংঘ'। সেখানে পুরুষের ঢোকবার দরজা ছিল বন্ধ। সুরীতির মনের জোরের ধাক্কায় এক সময়ে যেন পুরুষ-বিদ্রোহের একটা হাওয়া উঠল। পুরুষরা যেন বেজাত, তাদের সঙ্গে জলচল বন্ধ। কদর্য তাদের ব্যায়ভার।
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন