কাবুলিওয়ালা
Stories
আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেকসময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা পারি না। মিনি চুপ করিয়া থাকিলে এমনি অস্বাভাবিক দেখিতে হয় যে, সে আমার বেশিক্ষণ সহ্য হয় না। এইজন্য আমার সঙ্গে তাহার কথোপকথনটা কিছু উৎসাহের সহিত চলে।
সকালবেলায় আমার নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে হাত দিয়াছি এমনসময় মিনি আসিয়াই আরম্ভ করিয়া দিল, 'বাবা, রামদয়াল দরোয়ান কাককে কৌয়া বলছিল, সে কিচ্ছু জানে না। না?'
আরো দেখুন
কে দিল আবার
Songs
          কে দিল আবার আঘাত আমার দুয়ারে।
এ নিশীথকালে কে আসি দাঁড়ালে, খুঁজিতে আসিলে কাহারে॥
     বহুকাল হল বসন্তদিন    এসেছিল এক অতিথি নবীন,
          আকুল জীবন করিল মগন    অকূল পুলকপাথারে॥
আজি এ বরষা নিবিড়তিমির,    ঝরোঝরো জল, জীর্ণ কুটীর--
          বাদলের বায়ে প্রদীপ নিবায়ে    জেগে বসে আছি একা রে।
অতিথি অজানা, তব গীতসুর    লাগিতেছে কানে ভীষণমধুর--
          ভাবিতেছি মনে যাব তব সনে    অচেনা অসীম আঁধারে॥
আরো দেখুন
এ কী খেলা হে সুন্দরী
Songs
         এ কী খেলা হে সুন্দরী,
কিসের এ কৌতুক।
      দাও অপমান-দুখ--
মোরে নিয়ে কেন, কেন এ কৌতুক।
           নহে নহে, এ নহে কৌতুক।
      মোর অঙ্গের স্বর্ণ-অলংকার
      সঁপি দিয়া শৃঙ্খল তোমার
      নিতে পারি নিজ দেহে।
তব অপমানে মোর
অন্তরাত্মা আজি অপমানে মানে।
আরো দেখুন
125
Verses
   সেকালের জয়গৌরব খসি
         ধূলায় হতেছে ধূলি।
   একাল তা নিয়ে গড়িতেছে বসি
         আপন খেলেনাগুলি।
আরো দেখুন
রাজটিকা
Stories
নবেন্দুশেখরের সহিত অরুণলেখার যখন বিবাহ হইল, তখন হোমধূমের অন্তরাল হইতে ভগবান প্রজাপতি ঈষৎ একটু হাস্য করিলেন। হায়, প্রজাপতির পক্ষে যাহা খেলা আমাদের পক্ষে তাহা সকল সময়ে কৌতুকের নহে।
নবেন্দুশেখরের পিতা পূর্ণেন্দুশেখর ইংরাজরাজ-সরকারে বিখ্যাত। তিনি এই ভবসমুদ্রে কেবলমাত্র দ্রুতবেগে সেলাম-চালনা দ্বারা রায়বাহাদুর পদবীর উৎতুঙ্গ মরুকূলে উত্তীর্ণ হইয়াছিলেন; আরো দুর্গমতর সম্মানপথের পাথেয় তাঁহার ছিল, কিন্তু পঞ্চান্ন বৎসর বয়ঃক্রমকালে অনতিদূরবর্তী রাজখেতাবের কুহেলিকাচ্ছন্ন গিরিচূড়ার প্রতি করুণ লোলুপ দৃষ্টি স্থিরনিবদ্ধ করিয়া এই রাজানুগৃহীত ব্যাক্তি অকস্মাৎ খেতাববর্জিত লোকে গমন করিলেন এবং তাঁহার বহু-সেলাম-শিথিল গ্রীবাগ্রন্থি শ্মশানশয্যায় বিশ্রাম লাভ করিল।
আরো দেখুন
পাত্র ও পাত্রী
Stories
ইতিপূর্বে প্রজাপতি কখনো আমার কপালে বসেন নি বটে, কিন্তু একবার আমার মানসপদ্মে বসেছিলেন। তখন আমার বয়স ষোলো। তার পরে কাঁচা ঘুমে চমক লাগিয়ে দিলে যেমন ঘুম আর আসতে চায় না, আমার সেই দশা হল। আমার বন্ধুবান্ধবরা কেউ কেউ দারপরিগ্রহ ব্যাপারে দ্বিতীয়, এমন-কি তৃতীয় পক্ষে প্রোমোশন পেলেন; আমি কৌমার্যের লাস্ট বেঞ্চিতে বসে শূন্য সংসারের কড়িকাঠ গণনা করে কাটিয়ে দিলুম।
আমি চোদ্দ বছর বয়সে এনট্রেন্স পাস করেছিলুম। তখন বিবাহ কিম্বা এনট্রেন্স পরীক্ষায় বয়সবিচার ছিল না। আমি কোনোদিন পড়ার বই গিলি নি, সেইজন্যে শারীরিক বা মানসিক অজীর্ণ রোগে আমাকে ভুগতে হয় নি। ইঁদুর যেমন দাঁত বসাবার জিনিস পেলেই সেটাকে কেটে-কুটে ফেলে, তা সেটা খাদ্যই হোক আর অখাদ্যই হোক, শিশুকাল থেকেই তেমনি ছাপার বই দেখলেই সেটা পড়ে ফেলা আমার স্বভাব ছিল। সংসারে পড়ার বইয়ের চেয়ে না-পড়ার বইয়ের সংখ্যা ঢের বেশি, এইজন্য আমার পুঁথির সৌরজগতে স্কুল-পাঠ্য পৃথিবীর চেয়ে বেস্কুল-পাঠ্য সূর্য চোদ্দ লক্ষগুণে বড়ো ছিল। তবু, আমার সংস্কৃত-পণ্ডিতমশায়ের নিদারুণ ভবিষ্যদ্‌বাণী সত্ত্বেও, আমি পরীক্ষায় পাস করেছিলুম।
আরো দেখুন
দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন
6
Verses
অনেক মালা গেঁথেছি মোর
       কুঞ্জতলে,
সকালবেলার অতিথিরা
       পরল গলে।
সন্ধ্যেবেলা কে এল আজ
       নিয়ে ডালা!
গাঁথব কি হায় ঝরা পাতায়
       শুকনো মালা!
আরো দেখুন
ও আমার মন যখন জাগলি না রে
Verses
ও আমার        মন যখন জাগলি না রে
     তোর         মনের মানুষ এল দ্বারে।
         তার              চলে যাবার শব্দ শুনে
                            ভাঙল রে ঘুম--
         ও তোর           ভাঙল রে ঘুম অন্ধকারে।
            মাটির 'পরে আঁচল পাতি'
            একলা কাটে নিশীথ রাতি,
তার       বাঁশি বাজে আঁধার-মাঝে
                             দেখি না যে চক্ষে তারে।
ওরে       তুই যাহারে দিলি ফাঁকি
            খুঁজে তারে পায় কি আঁখি?
এখন       পথে ফিরে পাবি কি রে
                            ঘরের বাহির করলি যারে।
আরো দেখুন