আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল
Songs
আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল,
শুধাইল না কেহ।
সে তো এল না, যারে সঁপিলাম
এই প্রাণ মন দেহ।
সে কি মোর তরে পথ চাহে,
সে কি বিরহ-গীত গাহে,
যার বাঁশরি-ধ্বনি শুনিয়ে
আমি ত্যজিলাম গেহ।
আরো দেখুন
অনধিকার প্রবেশ
Stories
একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল 'পারিব', আর-একটি বালক বলিল 'কখনোই পারিবে না'।
কাজটি শুনিতে সহজ অথচ করিতে কেন সহজ নহে তাহার বৃত্তান্ত আর-একটু বিস্তারিত করিয়া বলা আবশ্যক।
আরো দেখুন
কাবুলিওয়ালা
Stories
আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেকসময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা পারি না। মিনি চুপ করিয়া থাকিলে এমনি অস্বাভাবিক দেখিতে হয় যে, সে আমার বেশিক্ষণ সহ্য হয় না। এইজন্য আমার সঙ্গে তাহার কথোপকথনটা কিছু উৎসাহের সহিত চলে।
সকালবেলায় আমার নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে হাত দিয়াছি এমনসময় মিনি আসিয়াই আরম্ভ করিয়া দিল, 'বাবা, রামদয়াল দরোয়ান কাককে কৌয়া বলছিল, সে কিচ্ছু জানে না। না?'
আরো দেখুন
নির্ভয়
Verses
আমরা দুজনা স্বর্গ-খেলনা
       গড়িব না ধরণীতে,
মুগ্ধ ললিত অশ্রুগলিত গীতে।
       পঞ্চশরের বেদনামাধুরী দিয়ে
       বাসররাত্রি রচিব না মোরা প্রিয়ে;
ভাগ্যের পায়ে দুর্বলপ্রাণে
       ভিক্ষা না যেন যাচি।
কিছু নাই ভয়, জানি নিশ্চয়
       তুমি আছ, আমি আছি।
উড়াব ঊর্ধ্বে প্রেমের নিশান
       দুর্গম পথমাঝে
দুর্দম বেগে, দুঃসহতম কাজে।
       রুক্ষ দিনের দুঃখ পাই তো পাব,
       চাই না শান্তি, সান্ত্বনা নাহি চাব।
পাড়ি দিতে নদী হাল ভাঙে যদি,
       ছিন্ন পালের কাছি,
মৃত্যুর মুখে দাঁড়ায়ে জানিব--
       তুমি আছ, আমি আছি।
দুজনের চোখে দেখেছি জগৎ,
       দোঁহারে দেখেছি দোঁহে--
মরুপথতাপ দুজনে নিয়েছি সহে।
       ছুটি নি মোহন-মরীচিকা-পিছে-পিছে,
       ভুলাই নি মন সত্যেরে করি মিছে--
এই গৌরবে চলিব এ ভবে
       যতদিন দোঁহে বাঁচি।
এ বাণী, প্রেয়সী, হোক মহীয়সী--
       তুমি আছ, আমি আছি।
আরো দেখুন
নীলুবাবু বলে
Verses
  নীলুবাবু বলে, 'শোনো
              নেয়ামৎ দর্জি,
  পুরোনো ফ্যাশানটাতে
              নয় মোর মর্জি।'
  শুনে নিয়ামৎ মিঞা যতনে পঁচিশটে
  সম্মুখে ছিদ্র, বোতাম দিল পৃষ্ঠে।
লাফ দিয়ে বলে নীলু, 'এ কী আশ্চর্যি!'
ঘরের গৃহিণী কয়, 'রয় না তো ধর্যি।'
আরো দেখুন
গিন্নি
Stories
ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।
প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইত।
আরো দেখুন
ভাঙ্গা দেউলের দেবতা
Songs
                    ভাঙা দেউলের দেবতা,
          তব বন্দনা রচিতে, ছিন্না বীণার তন্ত্রী বিরতা ।
          সন্ধ্যাগগনে ঘোষে না শঙ্খ তোমার আরতিবারতা ।
          তব মন্দির স্থিরগম্ভীর, ভাঙা দেউলের দেবতা ।।
                    তব জনহীন ভবনে
          থেকে থেকে আসে ব্যাকুল গন্ধ নববসন্তপবনে ।
          যে ফুলে রচে নি পূজার অর্ঘ্য, রাখে নি ও রাঙা চরণে,
          সে ফুল ফোটার আসে সমাচার জনহীন ভাঙা ভবনে ।।
                    পূজাহীন তব পূজারি
          কোথা সারা দিন ফিরে উদাসীন কার প্রসাদের ভিখারি ।
          গোধূলিবেলায় বনের ছায়ায় চির-উপবাস-ভুখারি
          ভাঙা মন্দিরে আসে ফিরে ফিরে পূজাহীন তব পূজারি ।
                    ভাঙা দেউলের দেবতা,
          কত উৎসব হইল নীরব, কত পূজানিশা বিগতা ।
          কত বিজয়ায় নবীন প্রতিমা কত যায় কত কব তা—
          শুধু চিরদিন থাকে সেবাহীন ভাঙা দেউলের দেবতা ।।
আরো দেখুন
সম্পাদক
Stories
আমার স্ত্রী-বর্তমানে প্রভা সম্বন্ধে আমার কোনো চিন্তা ছিল না। তখন প্রভা অপেক্ষা প্রভার মাতাকে লইয়া কিছু অধিক ব্যস্ত ছিলাম।
তখন কেবল প্রভার খেলাটুকু হাসিটুকু দেখিয়া, তাহার আধো আধো কথা শুনিয়া এবং আদরটুকু লইয়াই তৃপ্ত থাকিতাম; যতক্ষণ ভালো লাগিত নাড়াচাড়া করিতাম, কান্না আরম্ভ করিলেই তাহার মার কোলে সমর্পণ করিয়া সত্বর অব্যাহতি লইতাম। তাহাকে যে বহু চিন্তা ও চেষ্টায় মানুষ করিয়া তুলিতে হইবে, এ-কথা আমার মনে আসে নাই।
আরো দেখুন