নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
সমস্যাপূরণ
Stories
ঝিঁকড়কোটার কৃষ্ণগোপাল সরকার জ্যেষ্ঠপুত্রের প্রতি জমিদারি এবং সংসারের ভার দিয়া কাশী চলিয়া গেলেন। দেশের যত অনাথ দরিদ্র লোক তাঁহার জন্য হাহাকার করিয়া কাঁদিতে লাগিল। এমন বদান্যতা, এমন ধর্মনিষ্ঠতা কলিযুগে দেখা যায় না, এই কথা সকলেই বলিতে লাগিল।
তাঁহার পুত্র বিপিনবিহারী আজকালকার একজন সুশিক্ষিত বি-এ। দাড়ি রাখেন, চশমা পরেন, কাহারও সহিত বড়ো একটা মিশেন না। অতিশয় সচ্চরিত্র-- এমন কি, তামাকটি পর্যন্ত খান না, তাস পর্যন্ত খেলেন না। অত্যন্ত ভালোমানুষের মতো চেহারা, কিন্তু লোকটা ভারি কড়াক্কড়।
আরো দেখুন
শনির দশা
Verses
       আধবুড়ো ঐ মানুষটি মোর   নয় চেনা--
       একলা বসে ভাবছে কিংবা    ভাবছে না,
              মুখ দেখে ওর সেই কথাটাই ভাবছি,
              মনে মনে আমি যে ওর মনের মধ্যে নাবছি।
       বুঝিবা ওর মেঝোমেয়ে পাতা ছয়েক ব'কে
       মাথার দিব্যি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল ওকে।
              উমারানীর বিষম স্নেহের শাসন,
         জানিয়েছিল, চতুর্থীতে খোকার অন্নপ্রাসন--
              জিদ ধরেছে, হোক-না যেমন ক'রেই
         আসতে হবে শুক্রবার কি শনিবারের ভোরেই।
                   আবেদনের পত্র একটি লিখে
              পাঠিয়েছিল বুড়ো তাদের কর্তাবাবুটিকে।
                   বাবু বললে, "হয় কখনো তা কি,
         মাসকাবারের ঝুড়িঝুড়ি হিসাব লেখা বাকি,
              সাহেব শুনলে আগুন হবে চটে,
                   ছুটি নেবার সময় এ নয় মোটে।'
                মেয়ের দুঃখ ভেবে
         বুড়ো বারেক ভেবেছিল কাজে জবাব দেবে।
         সুবুদ্ধি তার কইল কানে রাগ গেল যেই থামি,
         আসন্ন পেন্‌সনের আশা ছাড়াটা পাগলামি।
         নিজেকে সে বললে, "ওরে, এবার না হয় কিনিস
         ছোটোছেলের মনের মতো একটা-কোনো জিনিস।'
         যেটার কথাই ভেবে দেখে দামের কথায় শেষে
                     বাধায় ঠেকে এসে।
       কেইবা জানবে দামটা যে তার কত,
    বাইরে থেকে ঠিক দেখাবে খাঁটি রুপোর মতো।
    এমনি করে সংশয়ে তার কেবলই মন ঠেলে,
    হাঁ-না নিয়ে ভাব্‌নাস্রোতে জোয়ার-ভাঁটা খেলে।
       রোজ সে দেখে টাইম্‌টেবিলখানা,
    ক'দিন থেকে ইস্‌টিশনে প্রত্যহ দেয় হানা।
       সামনে দিয়ে যায় আসে রোজ মেল,
            গাড়িটা তার প্রত্যহ হয় ফেল।
         চিন্তিত ওর মুখের ভাবটা দেখে
    এমনি একটা ছবি মনে নিয়েছিলেম এঁকে।
                   কৌতূহলে শেষে
    একটুখানি উসখুসিয়ে একটুখানি কেশে,
            শুধাই তারে ব'সে তাহার কাছে,
"কী ভাবতেছেন, বাড়িতে কি মন্দ খবর আছে।"
       বললে বুড়ে, "কিচ্ছুই নয়, মশায়,
            আসল কথা, আছি শনির দশায়।
    তাই ভাবছি কী করা যায় এবার
ঘৌড়দৌড়ে দশটি টাকা বাজি ফেলে দেবার।
    আপনি বলুন, কিনব টিকিট আজ কি।"
         আমি বললেম, "কাজ কী।"
       রাগে বুড়োর গরম হল মাথা;
    বললে, "থামো, ঢের দেখেছি পরামর্শদাতা!
কেনার সময় রইবে না আর আজিকার এই দিন বই!
কিনব আমি, কিনব আমি, যে ক'রে হোক কিনবই।"
আরো দেখুন
স্বর্গ-মর্ত
Stories
গান
মাটির প্রদীপখানি আছে
আরো দেখুন
দিদি
Stories
পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, 'এমন স্বামীর মুখে আগুন।'
শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিলেন-- স্বামীজাতির মুখে চুরটের আগুন ছাড়া অন্য কোনো প্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না।
আরো দেখুন
একটি ক্ষুদ্র পুরাতন গল্প
Stories
গল্প বলিতে হইবে। কিন্তু আর তো পারি না। এখন এই পরিশ্রান্ত অক্ষম ব্যক্তিটিকে ছুটি দিতে হইবে।
এ পদ আমাকে কে দিল বলা কঠিন। ক্রমে ক্রমে একে একে তোমরা পাঁচজন আসিয়া আমার চারিদিকে কখন জড়ো হইলে, এবং কেন যে তোমরা আমাকে এত অনুগ্রহ করিলে এবং আমার কাছে এত প্রত্যাশা করিলে, তাহা বলা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য। অবশ্যই সে তোমাদের নিজগুণে; শুভাদৃষ্টক্রমে আমার প্রতি সহসা তোমাদের অনুগ্রহ উদয় হইয়াছিল। এবং যাহাতে সে অনুগ্রহ রক্ষা হয় সাধ্যমতো সে চেষ্টার ত্রুটি হয় নাই।
আরো দেখুন
কর্মফল
Stories
আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন-- সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। 'এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।'
শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন।
আরো দেখুন
দুর্বুদ্ধি
Stories
ভিটা ছাড়িতে হইল। কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না, আভাস দিব মাত্র।
আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার, পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি। যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত অপেক্ষা কম ছিল না, সুতরাং নর ও নারায়ণের দ্বারা মানুষের যত বিবিধ রকমের পীড়া ঘটিতে পারে তাহা আমার সুগোচর ছিল। যেমন মণির দ্বারা বলয়ের এবং বলয়ের দ্বারা মণির শোভা বৃদ্ধি হয় তেমনি আমার মধ্যস্থতায় দারোগার এবং দারোগার মধ্যস্থতায় আমার উত্তরোত্তর আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটিতেছিল।
আরো দেখুন
স্ত্রীর পত্র
Stories
শ্রীচরণকমলেষু
আজ পনেরো বছর আমাদের বিবাহ হয়েছে,আজ পর্যন্ত তোমাকে চিঠি লিখি নি। চিরদিন কাছেই পড়ে আছি -- মুখের কথা অনেক শুনেছ, আমিও শুনেছি;চিঠি লেখবার মতো ফাঁকটুকু পাওয়া যায় নি।
আরো দেখুন
আষাঢ়সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল
Verses
আষাঢ়সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল,
গেল রে দিন বয়ে।
বাঁধনহারা বৃষ্টিধারা
             ঝরছে রয়ে রয়ে।
                    একলা বসে ঘরের কোণে
                    কী ভাবি যে আপন-মনে,
                    সজল হাওয়া যূথীর বনে
                                 কী কথা যায় কয়ে।
                    বাঁধনহারা বৃষ্টিধারা
                                 ঝরছে রয়ে রয়ে।
হৃদয়ে আজ ঢেউ দিয়েছে,
             খুঁজে না পাই কূল;
সৌরভে প্রাণ কাঁদিয়ে তুলে
             ভিজে বনের ফুল।
                    আঁধার রাতে প্রহরগুলি
                    কোন্‌ সুরে আজ ভরিয়ে তুলি,
                    কোন্‌ ভুলে আজ সকল ভুলি
                                 আছি আকুল হয়ে।
বাঁধনহারা বৃষ্টিধারা
                                 ঝরছে রয়ে রয়ে।
আরো দেখুন