75
Verses
আমার সকল অঙ্গে তোমার পরশ
লগ্ন হয়ে রহিয়াছে রজনী-দিবস
প্রাণেশ্বর, এই কথা নিত্য মনে আনি
রাখিব পবিত্র করি মোর তনুখানি।
মনে তুমি বিরাজিছ, হে পরম জ্ঞান,
এই কথা সদা স্মরি মোর সর্বধ্যান
সর্বচিন্তা হতে আমি সর্বচেষ্টা করি
সর্বমিথ্যা রাখি দিব দূরে পরিহরি।
হৃদয়ে রয়েছে তব অচল আসন
এই কথা মনে  রেখে করিব শাসন
সকল কুটিল দ্বেষ, সর্ব অমঙ্গল--
প্রেমেরে রাখিব করি প্রস্ফুট নির্মল।
সর্ব কর্মে তব শক্তি এই জেনে সার
করিব সকল কর্মে তোমারে প্রচার।
আরো দেখুন
বাচস্পতি
Stories
দাদামশায়, তুমি তোমার চার দিকে যেসব পাগলের দল জমিয়েছিলে, গুণ হিসেব ক'রে তাদের বুঝি সব নম্বর দিয়ে রেখেছিলে?
হ্যাঁ, তা করতে হয়েছে বই-কি। কম তো জমে নি।
আরো দেখুন
পোস্টমাস্টার
Stories
প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্টমাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্টআপিস স্থাপন করাইয়াছে।
আমাদের পোস্টমাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যে-রকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্টমাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহার ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে।
আরো দেখুন
বড়ো খবর
Stories
কুসমি বললে, তুমি যে বললে এখনকার কালের বড়ো বড়ো সব খবর তুমি আমাকে শোনাবে, নইলে আমার শিক্ষা হবে কী রকম ক'রে, দাদামশায়।
দাদামশায় বললে, বড়ো খবরের ঝুলি বয়ে বেড়াবে কে বলো, তার মধ্যে যে বিস্তর রাবিশ।
আরো দেখুন
ত্যাগ
Stories
ফাল্গুনের প্রথম পূর্ণিমায় আম্রমুকুলের গন্ধ লইয়া নব বসন্তের বাতাস বহিতেছে। পুষ্করিণীতীরের একটি পুরাতন লিচুগাছের ঘন পল্লবের মধ্য হইতে একটি নিদ্রাহীন অশ্রান্ত পাপিয়ার গান মুখুজ্যেদের বাড়ির একটি নিদ্রাহীন শয়নগৃহের মধ্যে গিয়া প্রবেশ করিতেছে। হেমন্ত কিছু চঞ্চলভাবে কখনো তার স্ত্রীর একগুচ্ছ চুল খোঁপা হইতে বিশ্লিষ্ট করিয়া লইয়া আঙুলে জড়াইতেছে, কখনো তাহার বালাতে চুড়িতে সংঘাত করিয়া ঠুং ঠুং শব্দ করিতেছে, কখনো তাহার মাথার ফুলের মালাটা টানিয়া স্বস্থানচ্যুত করিয়া তাহার মুখের উপর আনিয়া ফেলিতেছে। সন্ধ্যাবেলাকার নিস্তব্ধ ফুলের গাছটিকে সচেতন করিয়া তুলিবার জন্য বাতাস যেমন একবার এপাশ হইতে একবার ওপাশ হইতে একটু-আধটু নাড়াচাড়া করিতে থাকে, হেমন্তের কতকটা সেই ভাব।
কিন্তু কুসুম সম্মুখের চন্দ্রালোকপ্লাবিত অসীম শূন্যের মধ্যে দুই নেত্রকে নিমগ্ন করিয়া দিয়া স্থির হইয়া বসিয়া আছে। স্বামীর চাঞ্চল্য তাহাকে স্পর্শ করিয়া প্রতিহত হইয়া ফিরিয়া যাইতেছে। অবশেষে হেমন্ত কিছু অধীরভাবে কুসুমের দুই হাত নাড়া দিয়া বলিল, 'কুসুম, তুমি আছ কোথায়? তোমাকে যেন একটা মস্ত দুরবীন কষিয়া বিস্তর ঠাহর করিয়া বিন্দুমাত্র দেখা যাইবে এমনি দূরে গিয়া পড়িয়াছ। আমার ইচ্ছা, তুমি আজ একটু কাছাকাছি এসো। দেখো দেখি কেমন চমৎকার রাত্রি।'
আরো দেখুন
পরিণাম
Verses
ভৈরবী । ঝাঁপতাল
জানি হে, যবে প্রভাত হবে, তোমার কৃপা-তরণী
      লইবে মোরে ভব-সাগর-কিনারে।
করি না ভয়, তোমারি জয় গাহিয়া যাব চলিয়া,
      দাঁড়াব আমি তব অমৃত-দুয়ারে।
জানি হে, তুমি যুগে যুগে তোমার বাহু ঘেরিয়া
      রেখেছ মোরে তব অসীম ভুবনে--
জনম মোরে দিয়েছ তুমি আলোক হতে আলোকে,
      জীবন হতে নিয়েছ নবজীবনে।
জানি হে নাথ, পুণ্যপাপে হৃদয় মোর সতত
      শয়ান আছে তব নয়ান-সমুখে--
আমার হাতে তোমার হাত রয়েছে দিন-রজনী
      সকল পথে-বিপথে সুখে-অসুখে।
জানি হে জানি, জীবন মম বিফল কভু হবে না,
      দিবে না ফেলি বিনাশভয়পাথারে--
এমন দিন আসিবে যবে করুণাভরে আপনি
      ফুলের মতো তুলিয়া লবে তাহারে।
আরো দেখুন
বিদূষক
Stories
কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনামানিকে হাতি বোঝাই হল।
দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন।
আরো দেখুন
ব্যবধান
Stories
সম্পর্ক মিলাইয়া দেখিতে গেলে বনমালী এবং হিমাংশুমালী উভয়ে মামাতো পিসতুতো ভাই; সেও অনেক হিসাব করিয়া দেখিলে তবে মেলে। কিন্তু ইহাদের দুই পরিবার বহুকাল হইতে প্রতিবেশী, মাঝে কেবল একটা বাগানের ব্যবধান, এইজন্য ইহাদের সম্পর্ক নিতান্ত নিকট না হইলেও ঘনিষ্ঠতার অভাব নাই।
বনমালী হিমাংশুর চেয়ে অনেক বড়ো। হিমাংশুর যখন দন্ত এবং বাক্যস্ফূর্তি হয় নাই, তখন বনমালী তাহাকে কোলে করিয়া এই বাগানে সকালে সন্ধ্যায় হাওয়া খাওয়াইয়াছে, খেলা করিয়াছে, কান্না থামাইয়াছে, ঘুম পাড়াইয়াছে এবং শিশুর মনোরঞ্জন করিবার জন্য পরিণতবুদ্ধি বয়স্ক লোকদিগকে সবেগে শিরশ্চালন, তারস্বরে প্রলাপভাষণ প্রভৃতি যে-সকল বয়সানুচিত চাপল্য এবং উৎকট উদ্যম প্রকাশ করিতে হয়, বনমালী তাহাও করিতে ত্রুটি করে নাই।
আরো দেখুন
মৌলানা জিয়াউদ্দীন
Verses
কখনো কখনো কোনো অবসরে
          নিকটে দাঁড়াতে এসে;
"এই যে' বলেই তাকাতেম মুখে,
          "বোসো' বলিতাম হেসে।
দু-চারটে হত সামান্য কথা,
          ঘরের প্রশ্ন কিছু,
গভীর হৃদয় নীরবে রহিত
          হাসিতামাশার পিছু।
কত সে গভীর প্রেম সুনিবিড়,
          অকথিত কত বাণী,
চিরকাল-তরে গিয়েছ যখন
          আজিকে সে কথা জানি।
প্রতি দিবসের তুচ্ছ খেয়ালে
          সামান্য যাওয়া-আসা,
সেটুকু হারালে কতখানি যায়
          খুঁজে নাহি পাই ভাষা।
তব জীবনের বহু সাধনার
          যে পণ্যভারে ভরি
মধ্যদিনের বাতাসে ভাসালে
          তোমার নবীন তরী,
যেমনি তা হোক মনে জানি তার          
          এতটা মূল্য নাই
যার বিনিময়ে পাবে তব স্মৃতি
          আপন নিত্য ঠাঁই--
সেই কথা স্মরি বার বার আজ
          লাগে ধিক্‌কার প্রাণে--
অজানা জনের পরম মূল্য
          নাই কি গো কোনোখানে।
এ অবহেলার বেদনা বোঝাতে
          কোথা হতে খুঁজে আনি
ছুরির আঘাত যেমন সহজ
          তেমন সহজ বাণী।
কারো কবিত্ব, কারো বীরত্ব,
          কারো অর্থের খ্যাতি--
কেহ-বা প্রজার সুহৃদ্‌ সহায়,
          কেহ-বা রাজার জ্ঞাতি--
তুমি আপনার বন্ধুজনেরে
          মাধুর্যে দিতে সাড়া,
ফুরাতে ফুরাতে রবে তবু তাহা
          সকল খ্যাতির বাড়া।
ভরা আষাঢ়ের যে মালতীগুলি
          আনন্দমহিমায়
আপনার দান নিঃশেষ করি
          ধুলায় মিলায়ে যায়--
আকাশে আকাশে বাতাসে তাহারা
          আমাদের চারি পাশে
তোমার বিরহ ছড়ায়ে চলেছে
          সৌরভনিশ্বাসে।
আরো দেখুন
বধূ
Verses
"বেলা যে পড়ে এল,     জলকে চল্‌!"--
    পুরানো সেই সুরে         কে যেন ডাকে দূরে,
      কোথা সে ছায়া সখী,      কোথা সে জল!
      কোথা সে বাঁধা ঘাট,      অশথ-তল!
    ছিলাম আনমনে       একেলা গৃহকোণে,
      কে যেন ডাকিল রে    "জলকে চল্‌"।
      কলসী লয়ে কাঁখে     পথ সে বাঁকা,
    বামেতে মাঠ শুধু            সদাই করে ধুধু,
      ডাহিনে বাঁশবন       হেলায়ে শাখা।
    দিঘির কালো জলে          সাঁঝের আলো ঝলে,
      দু ধারে ঘন বন        ছায়ায় ঢাকা।
    গভীর থির নীরে           ভাসিয়া যাই ধীরে,
      পিক কুহরে তীরে       অমিয়-মাখা।
    পথে আসিতে ফিরে,         আঁধার তরুশিরে
      সহসা দেখি চাঁদ     আকাশে আঁকা।
      অশথ উঠিয়াছে    প্রাচীর টুটি,
        সেখানে ছুটিতাম    সকালে উঠি।
শরতে ধরাতলে     শিশিরে ঝলমল,
      করবী থোলো থোলো    রয়েছে ফুটি।
    প্রাচীর বেয়ে বেয়ে      সবুজে ফেলে ছেয়ে
      বেগুনি-ফুলে-ভরা   লতিকা দুটি।
    ফাটলে দিয়ে আঁখি     আড়ালে বসে থাকি,
      আঁচল পদতলে   পড়েছে লুটি।
      মাঠের পরে মাঠ,   মাঠের শেষে
      সুদূর গ্রামখানি    আকাশে মেশে।
    এ ধারে পুরাতন     শ্যামল তালবন
      সঘন সারি দিয়ে    দাঁড়ায় ঘেঁষে।
    বাঁধের জলরেখা      ঝলসে যায় দেখা,
      জটলা করে তীরে    রাখাল এসে।
    চলেছে পথখানি       কোথায় নাহি জানি,
      কে জানে কত শত     নূতন দেশে।
      হায় রে রাজধানী     পাষাণ-কায়া!
    বিরাট মুঠিতলে       চাপিছে দৃঢ়বলে,
      ব্যাকুল বালিকারে    নাহিকো মায়া!
    কোথা সে খোলা মাঠ,      উদার পথঘাট,
      পাখির গান কই,    বনের ছায়া!
      কে যেন চারি দিকে     দাঁড়িয়ে আছে,
      খুলিতে নারি মন     শুনিবে পাছে।
    হেথায় বৃথা কাঁদা,        দেয়ালে পেয়ে বাধা
      কাঁদন ফিরে আসে     আপন-কাছে।
      আমার আঁখিজল       কেহ না বোঝে,
      অবাক্‌ হয়ে সবে      কারণ খোঁজে।
    "কিছুতে নাহি তোষ,     এ তো বিষম দোষ
      গ্রাম্য বালিকার       স্বভাব ও যে।
স্বজন প্রতিবেশী       এত যে মেশামেশি,
      ও কেন কোণে বসে    নয়ন বোজে?"
      কেহ বা দেখে মুখ    কেহ বা দেহ;
      কেহ বা ভালো বলে,    বলে না কেহ।
    ফুলের মালাগাছি       বিকাতে আসিয়াছি,
      পরখ করে সবে,   করে না স্নেহ।
      সবার মাঝে আমি     ফিরি একেলা।
      কেমন করে কাটে     সারাটা বেলা!
    ইঁটের 'পরে ইঁট,        মাঝে মানুষ-কীট--
      নাইকো ভালোবাসা,     নাইকো খেলা।
      কোথায় আছ তুমি    কোথায় মা গো,
      কেমনে ভুলে তুই    আছিস হাঁগো।
    উঠিলে নব শশী,       ছাদের 'পরে বসি
      আর কি রূপকথা     বলিবি না গো!
    হৃদয়বেদনায়              শূন্য বিছানায়
      বুঝি মা, আঁখিজলে     রজনী জাগো,
    কুসুম তুলি লয়ে           প্রভাতে শিবালয়ে
      প্রবাসী তনয়ার     কুশল মাগো।
      হেথাও ওঠে চাঁদ    ছাদের পারে,
      প্রবেশ মাগে আলো     ঘরের দ্বারে।
    আমারে খুঁজিতে সে         ফিরিছে দেশে দেশে,
      যেন সে ভালোবেসে     চাহে আমারে।
      নিমেষতরে তাই     আপনা ভুলি
      ব্যাকুল ছুটে যাই      দুয়ার খুলি।
    অমনি চারি ধারে         নয়ন উঁকি মারে,
      শাসন ছুটে আসে      ঝটিকা তুলি।
দেবে না ভালোবাসা,      দেবে না আলো।
      সদাই মনে হয়          আঁধার ছায়াময়
    দিঘির সেই জল    শীতল কালো,
      তাহারি কোলে গিয়ে     মরণ ভালো।
    ডাক্‌ লো ডাক্‌ তোরা,   বল্‌ লো বল্‌--
      "বেলা যে পড়ে এল,  জলকে চল্‌।"
    কবে পড়িবে বেলা,    ফুরাবে সব খেলা,
      নিবাবে সব জ্বালা     শীতল জল,
      জানিস যদি কেহ     আমায় বল্‌।
আরো দেখুন