সিদ্ধি
Stories
স্বর্গের অধিকারে মানুষ বাধা পাবে না, এই তার পণ। তাই, কঠিন সন্ধানে অমর হবার মন্ত্র সে শিখে নিয়েছে। এখন একলা বনের মধ্যে সেই মন্ত্র সে সাধনা করে।
বনের ধারে ছিল এক কাঠকুড়নি মেয়ে। সে মাঝে মাঝে আঁচলে ক'রে তার জন্যে ফল নিয়ে আসে, আর পাতার পাত্রে আনে ঝরনার জল।
আরো দেখুন
ওগো সাঁওতালি ছেলে
Songs
              ওগো সাঁওতালি ছেলে,
শ্যামল সঘন নববরষার কিশোর দূত কি এলে॥
ধানের ক্ষেতের পারে   শালের ছায়ার ধারে
বাঁশির সুরেতে   সুদূর দূরেতে   চলেছ হৃদয় মেলে॥
     পুবদিগন্ত দিল তব দেহে নীলিমলেখা,
          পীত ধড়াটিতে অরুণরেখা,
     কেয়াফুলখানি   কবে তুলে আনি
          দ্বারে মোর রেখে গেলে॥
আমার গানের হংসবলাকাপাঁতি
বাদল-দিনের তোমার মনের সাথি।
     ঝড়ে চঞ্চল তমালবনের প্রাণে
          তোমাতে আমাতে মিলিয়াছি একখানে,
              মেঘের ছায়ায় চলিয়াছি ছায়া ফেলে॥
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
সম্পত্তি-সমর্পণ
Stories
বৃন্দাবন কুণ্ড মহা ক্রুদ্ধ হইয়া আসিয়া তাহার বাপকে কহিল, "আমি এখনই চলিলাম।"
বাপ যজ্ঞনাথ কুণ্ড কহিলেন, "বেটা অকৃতজ্ঞ, ছেলেবেলা হইতে তোকে খাওয়াইতে পরাইতে যে ব্যয় হইয়াছে তাহার পরিশোধ করিবার নাম নাই, আবার তেজ দেখোনা।"
আরো দেখুন
বড়ো খবর
Stories
কুসমি বললে, তুমি যে বললে এখনকার কালের বড়ো বড়ো সব খবর তুমি আমাকে শোনাবে, নইলে আমার শিক্ষা হবে কী রকম ক'রে, দাদামশায়।
দাদামশায় বললে, বড়ো খবরের ঝুলি বয়ে বেড়াবে কে বলো, তার মধ্যে যে বিস্তর রাবিশ।
আরো দেখুন
কৃতঘ্ন শোক
Stories
ভোরবেলায় সে বিদায় নিলে।
আমার মন আমাকে বোঝাতে বসল, 'সবই মায়া।'
আরো দেখুন
পুরোনো বাড়ি
Stories
অনেক কালের ধনী গরিব হয়ে গেছে, তাদেরই ঐ বাড়ি।
দিনে দিনে ওর উপরে দুঃসময়ের আঁচড় পড়ছে।
আরো দেখুন
ভাইফোঁটা
Stories
শ্রাবণ মাসটা আজ যেন এক রাত্রে একেবারে দেউলে হইয়া গেছে। সমস্ত আকাশে কোথাও একটা ছেঁড়া মেঘের টুকরোও নাই।
আশ্চর্য এই যে, আমার সকালটা আজ এমন করিয়া কাটিতেছে। আমার বাগানের মেহেদি-বেড়ার প্রান্তে শিরীষগাছের পাতাগুলো ঝল্‌মল্‌ করিয়া উঠিতেছে, আমি তাহা তাকাইয়া দেখিতেছি। সর্বনাশের যে মাঝ-দরিয়ায় আসিয়া পৌঁছিয়াছি এটা যখন দূরে ছিল তখন ইহার কথা কল্পনা করিয়া কত শীতের রাত্রে সর্বাঙ্গে ঘাম দিয়াছে,কত গ্রীষ্মের দিনে হাত-পায়ের তেলো ঠাণ্ডা হিম হইয়া গেছে। কিন্তু আজ সমস্ত ভয়ভাবনা হইতে এমনি ছুটি পাইয়াছি যে, ঐ যে আতাগাছের ডালে একটা গিরগিটি স্থির হইয়া শিকার লক্ষ্য করিতেছে,সেটার দিকেও আমার চোখ রহিয়াছে।
আরো দেখুন
ম্যাজিশিয়ান
Stories
কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, শুনেছি এক সময়ে তুমি বড়ো বড়ো কথা নিয়ে খুব বড়ো বড়ো বই লিখেছিলে।
জীবনে অনেক দুষ্কর্ম করেছি, তা কবুল করতে হবে। ভারতচন্দ্র বলেছেন, সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর।
আরো দেখুন
সংযোজন - উৼসর্গ
Verses
বিজ্ঞানাচার্য শ্রীযুক্ত জগদীশচন্দ্র বসু
                                           করকমলেষু
বন্ধু, এ যে আমার লজ্জাবতী লতা
      কী পেয়েছে আকাশ হতে
      কী এসেছে বায়ুর স্রোতে
      পাতার ভাঁজে লুকিয়ে আছে
             সে যে প্রাণের কথা।
      যত্নভরে খুঁজে খুঁজে
      তোমায় নিতে হবে বুঝে,
      ভেঙে দিতে হবে যে তার
             নীরব ব্যাকুলতা।
      আমার       লজ্জাবতী লতা।
বন্ধু, সন্ধ্যা এল, স্বপনভরা
             পবন এরে চুমে।
      ডালগুলি সব পাতা নিয়ে
             জড়িয়ে এল ঘুমে।
      ফুলগুলি সব নীল নয়ানে
      চুপিচুপি আকাশপানে
      তারার দিকে চেয়ে চেয়ে
             কোন্‌ ধেয়ানে রতা।
      আমার       লজ্জাবতী লতা।
বন্ধু, আনো তোমার তড়িৎ-পরশ,
             হরষ দিয়ে দাও,
      করুণ চক্ষু মেলে ইহার
             মর্মপানে চাও।
      সারা দিনের গন্ধগীতি
      সারা দিনের আলোর স্মৃতি
      নিয়ে এ যে হৃদয়ভারে
             ধরায় অবনতা--
      আমার       লজ্জাবতী লতা।
বন্ধু,  তুমি জান ক্ষুদ্র যাহা
             ক্ষুদ্র তাহা নয়,
      সত্য যেথা কিছু আছে
      বিশ্ব সেথা রয়
      এই-যে মুদে আছে লাজে
      পড়বে তুমি এরি মাঝে--
      জীবনমৃত্যু রৌদ্রছায়া
             ঝটিকার বারতা।
      আমার       লজ্জাবতী লতা।
আরো দেখুন
প্রলাপ ৩
Verses
আয় লো প্রমদা! নিঠুর ললনে
          বার বার বল্‌ কী আর বলি!
মরমের তলে লেগেছে আঘাত
          হৃদয় পরাণ উঠেছে জ্বলি!
আর বলিব না এই শেষবার
          এই শেষবার বলিয়া লই
মরমের তলে জ্বলেছে আগুন
          হৃদয় ভাঙিয়া গিয়াছে সই!
পাষাণে গঠিত সুকুমার ফুল!
          হুতাশনময়ী দামিনী বালা!
অবারিত করি মরমের তল
          কহিব তোরে লো মরম জ্বালা!
কতবার তোরে কহেছি ললনে!
          দেখায়েছি খুলে হৃদয় প্রাণ!
মরমের ব্যথা,হৃদয়ের কথা,
          সে-সব কথায় দিস্‌ নি কান।
কতবার সখি বিজনে বিজনে
          শুনায়েছি তোরে প্রেমের গান,
প্রেমের আলাপক প্রেমের প্রলাপ
          সে-সব প্রলাপে দিস্‌ নি কান!
কতবার সখি! নয়নের জল
          করেছি বর্ষণ চরণতলে!
প্রতিশোধ তুই দিস্‌ নিকো তার
          শুধু এক ফোঁটা নয়নজলে!
শুধা ওলো বালা! নিশার আঁধারে
          শুধা ওলো সখি! আমার রেতে
আঁখিজল কত করেছে গোপন
          মর্ত্য পৃথিবীর নয়ন হতে!
শুধা ওলো বালা নিশার বাতাসে
          লুটিতে আসিয়া ফুলের বাস
হৃদয়ে বহন করেছে কিনা সে--
          নিরাশ প্রেমীর মরম শ্বাস!
সাক্ষী আছ ওগো তারকা চন্দ্রমা!
          কেঁদেছি যখন মরম শোকে--
হেসেছে পৃথিবী, হেসেছে জগৎ
          কটাক্ষ করিয়া হেসেছে লোকে!
সহেছি সে-সব তোর তরে সখি!
          মরমে মরমে জ্বলন্ত জ্বালা !
তুচ্ছ করিবারে পৃথিবী জগতে
          তোমারি তরে লো শিখেছি বালা!
মানুষের হাসি তীব্র বিষমাখা
          হৃদয় শোণিত করেছে ক্ষয়!
তোমারি তরে লো সহেছি সে-সব
          ঘৃণা উপহাস করেছি জয়!
কিনিতে হৃদয় দিয়েছি হৃদয়
          নিরাশ হইয়া এসেছি ফিরে;
অশ্রু মাগিবারে দিয়া অশ্রুজল
          উপেক্ষিত হয়ে এয়েছি ফিরে।
কিছুই চাহি নি পৃথিবীর কাছে-
          প্রেম চেয়েছিনু ব্যাকুল মনে।
সে বাসনা যবে হল না পূরণ
          চলিয়া যাইব বিজন বনে!
তোর কাছে বালা এই শেষবার
          ফেলিল সলিল ব্যাকুল হিয়া
ভিখারি হইয়া যাইব লো চলে
          প্রেমের আশায় বিদায় দিয়া !
সেদিন যখন ধন, যশ, মান,
          অরির চরণে দিলাম ঢালি
সেইদিন আমি ভেবেছিনু মনে
          উদাস হইয়া যাইব চলি।
তখনো হায় রে একটি বাঁধনে
          আবদ্ধ আছিল পরাণ দেহ।
সে দৃঢ় বাঁধন ভেবেছিনু মনে
          পারিবে না আহা ছিঁড়িতে কেহ!
আজ ছিঁড়িয়াছে, আজ ভাঙিয়াছে,
          আজ সে স্বপন গিয়াছে চলি।
প্রেম  ব্রত আজ করি উদ্‌যাপন
          ভিখারি হইয়া যাইব চলি!
পাষাণের পটে ও মূরতিখানি
          আঁকিয়া হৃদয়ে রেখেছি তুলি
গরবিনি! তোর ওই মুখখানি
          এ জনমে আর যাব না ভুলি!
মুছিতে নারিব এ জনমে আর
          নয়ন হইতে নয়নবারি
যতকাল ওই ছবিখানি তোর
          হৃদয়ে রহিবে হৃদয় ভরি।
কী করিব বালা মরণের জলে
          ওই ছবিখানি মুছিতে হবে!
পৃথিবীর লীলা ফুরাইবে আজ,
          আজিকে ছাড়িয়া যাইব ভবে!
এ ভাঙা হৃদয় কত সবে আর!
          জীর্ণ প্রাণ কত সহিবে জ্বালা!
মরণের জল ঢালিয়া অনলে
          হৃদয় পরাণ জুড়াল বালা!
তোরে সখি এত বাসিতাম ভালো
          খুলিয়া দেছিনু হৃদয়তল
সে-সব ভাবিয়া ফেলিবি না বালা
          শুধু এক ফোঁটা নয়ন জল?
আকাশ হইতে দেখি যদি বালা
          নিঠুর ললনে! আমার তরে
এক ফোঁটা আহা নয়নের জল
          ফেলিস্‌ কখনো বিষাদভরে!
সেই নেত্রজলে-- এক বিন্দু জলে
          নিভায়ে ফেলিব হৃদয় জ্বালা!
প্রদোষে বসিয়া প্রদোষ তারায়
          প্রেম গান সুখে করিব বালা!
আরো দেখুন
১৩৭
Verses
১৩৭
সোনার মুকুট ভাসাইয়া দাও
         সন্ধ্যা মেঘের তরীতে ।
যাও চলে রবি বেশভূষা খুলে
মরণমহেশ্বরের দেউলে
         নীরবে প্রণাম করিতে ॥  
আরো দেখুন