আমার নিকড়িয়া-রসের রসিক
Songs
আমার নিকড়িয়া-রসের রসিক কানন ঘুরে ঘুরে
নিকড়িয়া বাঁশের বাঁশি বাজায় মোহন সুরে ।
আমার ঘর বলে, ‘তুই কোথায় যাবি, বাইরে গিয়ে সব খোয়াবি !’
আমার প্রাণ বলে, ‘তোর যা আছে সব যাক্‌-না উড়ে পুড়ে ।’
ওগো, যায় যদি তো যাক্‌-না চুকে, সব হারাব হাসিমুখে–
আমি এই চলেছি মরণসুধা নিতে পরান পূরে ।
ওগো, আপন যারা কাছে টানে এ রস তারা কেই বা জানে–
আমার বাঁকা পথের বাঁকা সে যে ডাক দিয়েছে দূরে ।
এবার বাঁকার টানে সোজার বোঝা পড়ুক ভেঙে-চুরে।।
আরো দেখুন
ঘাটের কথা
Stories
পাষাণে ঘটনা যদি অঙ্কিত হইত তবে কতদিনকার কত কথা আমার সোপানে সোপানে পাঠ করিতে পারিতে। পুরাতন কথা যদি শুনিতে চাও, তবে আমার এই ধাপে বইস; মনোযোগ দিয়া জলকল্লোলে কান পাতিয়া থাকো, বহুদিনকার কত বিস্মৃত কথা শুনিতে পাইবে।
আমার আর-একদিনের কথা মনে পড়িতেছে। সেও ঠিক এইরূপ দিন। আশ্বিন মাস পড়িতে আর দুই-চারি দিন বাকি আছে। ভোরের বেলায় অতি ঈষৎ মধুর নবীন শীতের বাতাস নিদ্রোত্থিতের দেহে নূতন প্রাণ আনিয়া দিতেছে। তরু-পল্লব অমনি একটু একটু শিহরিয়া উঠিতেছে।
আরো দেখুন
প্রথম শোক
Stories
বনের ছায়াতে যে পথটি ছিল সে আজ ঘাসে ঢাকা।
সেই নির্জনে হঠাৎ পিছন থেকে কে বলে উঠল, 'আমাকে চিনতে পার না?'
আরো দেখুন
চোরাই ধন
Stories
মহাকাব্যের যুগে স্ত্রীকে পেতে হত পৌরুষের জোরে; যে অধিকারী সেই লাভ করত রমণীরত্ন। আমি লাভ করেছি কাপুরুষতা দিয়ে, সে-কথা আমার স্ত্রীর জানতে বিলম্ব ঘটেছিল। কিন্তু, সাধনা করেছি বিবাহের পরে; যাকে ফাঁকি দিয়ে চুরি করে পেয়েছি তার মূল্য দিয়েছি দিনে দিনে।
দাম্পত্যের স্বত্ব সাব্যস্ত করতে হয় প্রতিদিনই নতুন করে, অধিকাংশ পুরুষ ভুলে থাকে এই কথাটা। তারা গোড়াতেই কাস্টম্‌ হৌসে মাল খালাস করে নিয়েছে সমাজের ছাড়চিঠি দেখিয়ে, তার পর থেকে আছে বেপরোয়া। যেন পেয়েছে পাহারাওয়ালার সরকারি প্রতাপ, উপরওয়ালার দেওয়া তকমার জোরে; উর্দিটা খুলে নিলেই অতি অভাজন তারা।
আরো দেখুন
বিচারক
Stories
অনেক অবস্থান্তরের পর অবশেষে গতযৌবনা ক্ষীরোদা যে পুরুষের আশ্রয় প্রাপ্ত হইয়াছিল সেও যখন তাহাকে জীর্ণ বস্ত্রের ন্যায় পরিত্যাগ করিয়া গেল, তখন অন্নমুষ্টির জন্য দ্বিতীয় আশ্রয় অন্বেষণের চেষ্টা করিতে তাহার অত্যন্ত ধিক্‌কার বোধ হইল।
যৌবনের শেষে শুভ্র শরৎকালের ন্যায় একটি গভীর প্রশান্ত প্রগাঢ় সুন্দর বয়স আসে যখন জীবনের ফল ফলিবার এবং শস্য পাকিবার সময়। তখন আর উদ্দাম যৌবনের বসন্তচঞ্চলতা শোভা পায় না। ততদিনে সংসারের মাঝখানে আমাদের ঘর বাঁধা একপ্রকার সাঙ্গ হইয়া গিয়াছে; অনেক ভালোমন্দ, অনেক সুখদুঃখ, জীবনের মধ্যে পরিপাক প্রাপ্ত হইয়া অন্তরের মানুষটিকে পরিণত করিয়া তুলিয়াছে; আমাদের আয়ত্তের অতীত কুহকিনী দুরাশার কল্পনালোক হইতে সমস্ত উদ্‌ভ্রান্ত বাসনাকে প্রত্যাহরণ করিয়া আপন ক্ষুদ্র ক্ষমতার গৃহপ্রাচীরমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি; তখন নূতন প্রণয়ের মুগ্ধদৃষ্টি আর আকর্ষণ করা যায় না, কিন্তু পুরাতন লোকের কাছে মানুষ আরো প্রিয়তর হইয়া উঠে। তখন যৌবনলাবণ্য অল্পে অল্পে বিশীর্ণ হইয়া আসিতে থাকে, কিন্তু জরাবিহীন অন্তরপ্রকৃতি বহুকালের সহবাসক্রমে মুখে চক্ষে যেন স্ফুটতর রূপে অঙ্কিত হইয়া যায়, হাসিটি দৃষ্টিপাতটি কণ্ঠস্বরটি ভিতরকার মানুষটির দ্বারা ওতপ্রোত হইয়া উঠে। যাহা-কিছু পাই নাই তাহার আশা ছাড়িয়া, যাহারা ত্যাগ করিয়া গিয়াছে তাহাদের জন্য শোক সমাপ্ত করিয়া, যাহারা বঞ্চনা করিয়াছে তাহাদিগকে ক্ষমা করিয়া-- যাহারা কাছে আসিয়াছে, ভালোবাসিয়াছে, সংসারের সমস্ত ঝড়ঝঞ্ঝা শোকতাপ বিচ্ছেদের মধ্যে যে কয়টি প্রাণী নিকটে অবশিষ্ট রহিয়াছে তাহাদিগকে বুকের কাছে টানিয়া লইয়া সুনিশ্চিত সুপরীক্ষিত চিরপরিচিতগণের প্রীতিপরিবেষ্টনের মধ্যে নিরাপদ নীড় রচনা করিয়া তাহারই মধ্যে সমস্ত চেষ্টার অবসান এবং সমস্ত আকাঙক্ষার পরিতৃপ্তি লাভ করা যায়। যৌবনের সেই স্নিগ্ধ সায়াহ্নে জীবনের সেই শান্তিপর্বেও যাহাকে নূতন সঞ্চয়, নূতন পরিচয়, নূতন বন্ধনের বৃথা আশ্বাসে নূতন চেষ্টায় ধাবিত হইতে হয়-- তখনো যাহার বিশ্রামের জন্য শয্যা রচিত হয় নাই, যাহার গৃহপ্রত্যাবর্তনের জন্য সন্ধ্যাদীপ প্রজ্জ্বলিত হয় নাই, সংসারে তাহার মতো শোচনীয় আর কেহ নাই।
আরো দেখুন
3
Verses
হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে,
    কন্ঠে বিমলিন মালা।
বিরহবিষে দহি বহি গল রয়নী,
   নহি নহি আওল কালা।
বুঝনু বুঝনু সখি বিফল বিফল সব,
    বিফল এ পীরিতি লেহা --
বিফল রে এ মঝু জীবন যৌবন,
    বিফল রে এ মঝু দেহা!
চল সখি গৃহ চল, মুঞ্চ নয়ন-জল,
    চল সখি চল গৃহকাজে,
   মালতিমালা রাখহ বালা,
   ছি ছি সখি মরু মরু লাজে।
সখি লো দারুণ আধিভরাতুর
    এ তরুণ যৌবন মোর,
সখি লো দারুণ প্রণয়হলাহল
    জীবন করল অঘোর।
তৃষিত প্রাণ মম দিবসযামিনী
    শ্যামক দরশন আশে,
আকুল জীবন থেহ ন মানে,
   অহরহ জ্বলত হুতাশে।
  সজনি, সত্য কহি তোয়,
খোয়াব কব হম শ্যামক প্রেম
    সদা ডর লাগয়ে মোয়।
হিয়ে হিয়ে অব রাখত মাধব,
  সো দিন আসব সখি রে,
বাত ন বোলবে, বদন ন হেরবে,
   মরিব হলাহল ভখি রে।
ঐস বৃথা ভয় না কর বালা,
     ভানু নিবেদয় চরণে,
     সুজনক পীরিতি নৌতুন নিতি নিতি,
    নহি টুটে জীবন-মরণে।
আরো দেখুন
সবার মাঝারে তোমারে স্বীকার
Songs
          সবার মাঝারে তোমারে স্বীকার করিব হে।
          সবার মাঝারে তোমারে হৃদয়ে বরিব হে ॥
          শুধু আপনার মনে নয়,    আপন ঘরের কোণে নয়,
শুধু আপনার রচনার মাঝে নহে-- তোমার মহিমা যেথা উজ্জ্বল রহে
          সেই সবা-মাঝে তোমারে স্বীকার করিব হে।
          দ্যুলোকে ভূলোকে তোমারে হৃদয়ে বরিব হে ॥
          সকলই তেয়াগি তোমারে স্বীকার করিব হে।
          সকলই গ্রহণ করিয়া তোমারে বরিব হে।
          কেবলই তোমার স্তবে নয়,      শুধু সঙ্গীতরবে নয়,
শুধু নির্জনে ধ্যানের আসনে নহে-- তব সংসার যেথা জাগ্রত রহে,
          কর্মে সেথায় তোমারে স্বীকার করিব হে।
          প্রিয়ে অপ্রিয়ে তোমারে হৃদয়ে বরিব হে ॥
          জানি না বলিয়া তোমারে স্বীকার করিব হে।
          জানি ব'লে, নাথ, তোমারে হৃদয়ে বরিব হে।
          শুধু জীবনের সুখে নয়,     শুধু প্রফুল্লমুখে নয়,
শুধু সুদিনের সহজ সুযোগে নহে-- দুখশোক যেথা আঁধার করিয়া রহে
          নত হয়ে সেথা তোমারে স্বীকার করিব হে।
          নয়নের জলে তোমারে হৃদয়ে বরিব হে ॥
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
প্রতিবেশিনী
Stories
আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশ্রুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা।
তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না -- পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না।
আরো দেখুন
পাছে চেয়ে বসে আমার মন
Songs
                   পাছে  চেয়ে বসে আমার মন,
               আমি   তাই ভয়ে ভয়ে থাকি ।
                   পাছে  চোখে চোখে পড়ে বাঁধা,
               আমি   তাই তো তুলি নে আঁখি।।
আরো দেখুন
ফেল
Stories
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না।
নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য।
আরো দেখুন