সুয়োরানীর সাধ
Stories
সুয়োরানীর বুঝি মরণকাল এল।
তার প্রাণ হাঁপিয়ে উঠছে, তার কিছুই ভালো লাগছে না। বদ্দি বড়ি নিয়ে এল। মধু দিয়ে মেড়ে বললে, 'খাও।' সে ঠেলে ফেলে দিলে।
আরো দেখুন
বাউল
Verses
                   দূরে অশথতলায়
পুঁতির           কণ্ঠিখানি গলায়
          বাউল            দাঁড়িয়ে কেন আছ?
                   সামনে আঙিনাতে
তোমার          একতারাটি হাতে
          তুমি              সুর লাগিয়ে নাচ!
                   পথে করতে খেলা
আমার           কখন হল বেলা
          আমায়           শাস্তি দিল তাই।
                   ইচ্ছে হোথায় নাবি
কিন্তু              ঘরে বন্ধ চাবি
          আমার           বেরোতে পথ নাই।      
                   বাড়ি ফেরার তরে
তোমায়          কেউ না তাড়া করে
          তোমার          নাই কোনো পাঠশালা।
                   সমস্ত দিন কাটে
তোমার          পথে ঘাটে মাঠে
          তোমার          ঘরেতে নেই তালা।
                   তাই তো তোমার নাচে
আমার           প্রাণ যেন ভাই বাঁচে,
          আমার           মন যেন পায় ছুটি,
                   ওগো তোমার নাচে
যেন              ঢেউয়ের দোলা আছে,
          ঝড়ে              গাছের লুটোপুটি।
                   অনেক দূরের দেশ
আমার           চোখে লাগায় রেশ,
          যখন              তোমায় দেখি পথে।
                   দেখতে পায় যে মন
যেন              নাম-না-জানা বন
          কোন্‌             পথহারা পর্বতে।
                   হঠাৎ মনে লাগে,
যেন              অনেক দিনের আগে,
          আমি             অমনি ছিলেম ছাড়া।
                   সেদিন গেল ছেড়ে,
আমার                     পথ নিল কে কেড়ে,
          আমার            হারাল একতারা।
                   কে নিল গো টেনে,
আমায়           পাঠশালাতে এনে,
          আমার           এল গুরুমশায়।
                   মন সদা যার চলে
যত               ঘরছাড়াদের দলে
          তারে        ঘরে কেন বসায়?
                   কও তো আমায়, ভাই,
তোমার          গুরুমশায় নাই?
          আমি             যখন দেখি ভেবে
                   বুঝতে পারি খাঁটি,
তোমার          বুকের একতারাটি,
          তোমায়          ঐ তো পড়া দেবে।
                   তোমার কানে কানে
ওরি              গুনগুনানি গানে
          তোমায়          কোন্‌ কথা যে কয়!
                   সব কি তুমি বোঝ?
তারি             মানে যেন খোঁজ
          কেবল            ফিরে' ভুবনময়।
                   ওরি কাছে বুঝি
আছে             তোমার নাচের পুঁজি,
          তোমার          খেপা পায়ের ছুটি?
                   ওরি সুরের বোলে
তোমার          গলার মালা দোলে,
          তোমার          দোলে মাথার ঝুঁটি।
                   মন যে আমার পালায়
তোমার          একতারা-পাঠশালায়,
          আমায়           ভুলিয়ে দিতে পার?
                   নেবে আমায় সাথে?
এ-সব            পণ্ডিতেরি হাতে
          আমায়           কেন সবাই মার?
                   ভুলিয়ে দিয়ে পড়া
আমায়           শেখাও সুরে-গড়া
          তোমার          তালা-ভাঙার পাঠ।
                   আর কিছু না চাই,
যেন              আকাশখানা পাই,
          আর              পালিয়ে যাবার মাঠ।
                   দূরে কেন আছ?
দ্বারের            আগল ধরে নাচ,
          বাউল            আমারি এইখানে।
                   সমস্ত দিন ধরে
যেন              মাতন ওঠে ভরে
          তোমার          ভাঙন-লাগা গানে।
আরো দেখুন
পট
Stories
যে শহরে অভিরাম দেবদেবীর পট আঁকে, সেখানে কারো কাছে তার পূর্বপরিচয় নেই। সবাই জানে, সে বিদেশী, পট আঁকা তার চিরদিনের ব্যাবসা।
সে মনে ভাবে, 'ধনী ছিলেম, ধন গিয়েছে, হয়েছে ভালো। দিনরাত দেবতার রূপ ভাবি, দেবতার প্রসাদে খাই, আর ঘরে ঘরে দেবতার প্রতিষ্ঠা করি। আমার এই মান কে কাড়তে পারে।'
আরো দেখুন
31
Verses
THE GENERAL came before the silent and angry King and saluting him said: 'The village is punished, the men are stricken to dust, and the women cower in their unlit homes afraid to weep aloud.
        The High Priest stood up and blessed the King and cried: 'God's mercy is ever upon you.'
        The Clown, when he heard this, burst out laughing and startled the court. The King's frown darkened.
        'The honour of the throne,' said the minister, 'is upheld by the King's prowess and the blessing of Almighty God.'
Louder laughed the Clown, and the King growled,-'Unseemly mirth!'
        'God has showered many blessings upon your head,' said the Clown; 'the one he bestowed on me was the gift of laughter.'
        'This gift will cost you your life,' said the King, gripping his sword with his right hand.
        Yet the Clown stood up and laughed till he laughed no more.
A shadow of dread fell upon the Court, for they heard that laughter echoing in the depth of God's silence.
আরো দেখুন
The Parrot`s Training
Stories
ONCE UPON A time there was a bird. It was ignorant. It sang all right, but never recited scriptures. It hopped pretty frequently, but lacked manners.
Said the Raja to himself: ‘Ignorance is costly in the long run. For fools consume as much food as their betters, and yet give nothing in return.’
আরো দেখুন
সদর ও অন্দর
Stories
বিপিনকিশোর ধনীগৃহে জন্মিয়াছিলেন, সেইজন্যে ধন যে পরিমাণে ব্যয় করিতে জানিতেন তাহার অর্ধেক পরিমাণেও উপার্জন করিতে শেখেন নাই। সুতরাং যে গৃহে জন্ম সে গৃহে দীর্ঘকাল বাস করা ঘটিল না।
সুন্দর সুকুমারমূর্তি তরুণ যুবক, গানবাজনায় সিদ্ধহস্ত, কাজকর্মে নিরতিশয় অপটু; সংসারের পক্ষে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। জীবনযাত্রার পক্ষে জগন্নাথদেবের রথের মতো অচল; যেরূপ বিপুল আয়োজনে চলিতে পারেন সেরূপ আয়োজন সম্প্রতি বিপিনকিশোরের আয়ত্তাতীত।
আরো দেখুন
পত্র
Verses
শ্রীমতী ইন্দিরা প্রাণাধিকাসু
স্টীমার । খুলনা
মাগো আমার লক্ষ্ণী,
মনিষ্যি না পক্ষী!
এই ছিলেম তরীতে,
কোথায় এনু ত্বরিতে!
কাল ছিলেম খুলনায়,
তাতে তো আর ভুল নাই,
কলকাতায় এসেছি সদ্য,
বসে বসে লিখছি পদ্য।
তোদের ফেলে সারাটা দিন
          আছি অমন এক রকম,
খোপে বসে পায়রা যেন
          করছি কেবল বক্‌বকম!
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
          মেঘ করেছে আকাশে,
উষার রাঙা মুখখানি গো
          কেমন যেন ফ্যাকাশে!
বাড়িতে যে কেউ কোথা নেই
          দুয়োরগুলো ভেজানো,
ঘরে ঘরে খুঁজে বেড়াই
          ঘরে আছে কে যেন!
পক্ষীটি সেই ঝুপসি হয়ে
          ঝিমচ্ছে রে খাঁচাতে,
ভুলে গেছে নেচে নেচে
          পুচ্ছটি তার নাচাতে।
ঘরের কোণে আপন মনে
          শূন্য পড়ে বিছেনা,
কাহার তরে কেঁদে মরে
          সে কথাটা মিছে না!
বইগুলো সব ছড়িয়ে প'ড়ে
          নাম লেখা তায় কার গো!
এমনি তারা রবে কি রে
          খুলবে না কেউ আর গো!
এটা আছে সেটা আছে
          অভাব কিছুই নেই তো,
স্মরণ করে দেয় রে যারে
          থাকে নাতো সেই তো!
বাগানে ওই দুটো গাছে
          ফুল ফুটেছে রাশি রাশি,
ফুলের গন্ধে মনে পড়ে
          ফুল কে আমায় দিত মেলা,
বিছেনায় কার মুখটি দেখে
          সকাল হত সকালবেলা!
জল থেকে তুই আসবি কবে
          মাটির লক্ষ্ণী মাটিতে
ঠাকুরবাবুর ছয় নম্বর
          জোড়াসাঁকোর বাটীতে!
ইস্টিম ওই রে ফুরিয়ে এল
          নোঙর তবে ফেলি অদ্য।
অবিদিত নেই তো তোমার
          রবিকাকা কুঁড়ের হদ্দ!
আজকে নাকি মেঘ করেছে
          ঠেকছে কেমন ফাঁকা-ফাঁকা,
তাই খানিকটা ফোঁসফোঁসিয়ে
          বিদায় হল--
                             রবিকাকা।
আরো দেখুন
15
Verses
অসুস্থ শরীরখানা
কোন্‌ অবরুদ্ধ ভাষা করিছে বহন,
বাণীর ক্ষীণতা
মুহ্যমান আলোকেতে রচিতেছে অস্পষ্টের কারা।
নির্ঝর যখন ছোটে পরিপূর্ণ বেগে
বহুদূর দুর্গমেরে করিবারে জয়--
গর্জন তাহার
অস্বীকার করি চলে গুহার সংকীর্ণ আত্মীয়তা,
ঘোষণা করিতে থাকে নিখিল বিশ্বের অধিকার।
বলহারা ধারা তার মৃদু হয় যবে
বৈশাখের শীর্ণ শুষ্কতায়--
হারায় আপন মন্দ্রধ্বনি,
কৃশতম হয়ে আসে আপনার কাছে
আপনার পরিচয়।
খণ্ড খণ্ড কুণ্ড-মাঝে
ক্লান্ত তার গতিস্রোত লীন হয়ে থাকে।
তেমনি আমার রুগ্ন বাণী
স্পর্ধা হারায়েছে তার,
শক্তি নাই জীবনের সঞ্চিত গ্লানিরে
ধিক্কার দিবার।
আত্মগত ক্লিষ্ট জীবনের কুহেলিকা
তাহার বিশ্বের দৃষ্টি করিছে হরণ।
হে প্রভাতসূর্য,
আপনার শুভ্রতম রূপ
তোমার জ্যোতির কেন্দ্রে হেরিব উজ্জ্বল,
প্রভাতধ্যানেরে মোর সেই শক্তি দিয়ে
করো আলোকিত;
দুর্বল প্রাণের দৈন্য
হিরণ্‌ময় ঐশ্বর্যে তোমার
দূর করি দাও,
পরাভূত রজনীর অপমান-সহ।
আরো দেখুন
মোর পথিকেরে বুঝি
Songs
মোর    পথিকেরে বুঝি এনেছ এবার   মোর   করুণ রঙিন পথ!
          এসেছে এসেছে আহা   অঙ্গনে এসেছে, মোর   দুয়ারে লেগেছে রথ ॥
সে যে   সাগরপারের বাণী   মোর   পরানে দিয়েছে আনি, আহা
তার         আঁখির তারায় যেন গান গায় অরণ্যপর্বত ॥
          দুঃখসুখের এ পারে, ও পারে, দোলায় আমার মন--
          কেন অকারণ অশ্রুসলিলে ভরে যায় দু'নয়ন।
ওগো    নিদারুণ পথ, জানি-- জানি   পুন নিয়ে যাবে টানি, আহা,   তারে--
          চিরদিন মোর যে দিল ভরিয়া যাবে সে স্বপনবৎ ॥
আরো দেখুন
বাণী
Stories
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে আকাশের মেঘ নামে, মাটির কাছে ধরা দেবে ব'লে। তেমনি কোথা থেকে মেয়েরা আসে পৃথিবীতে বাঁধা পড়তে।
তাদের জন্য অল্প জায়গার জগৎ, অল্প মানুষের। ঐটুকুর মধ্যে আপনার সবটাকে ধরানো চাই-- আপনার সব কথা, সব ব্যথা, সব ভাবনা। তাই তাদের মাথায় কাপড়, হাতে কাঁকন, আঙিনায় বেড়া। মেয়েরা হল সীমাস্বর্গের ইন্দ্রাণী।
আরো দেখুন