শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
কোন ভীরুকে ভয় দেখাবি
Songs
         কোন্‌ ভীরুকে ভয় দেখাবি,  আঁধার তোমার সবই মিছে।
         ভরসা কি মোর সামনে শুধু।  নাহয় আমায় রাখবি পিছে।।
         আমায় দূরে যেই তাড়াবি  সেই তো রে তোর কাজ বাড়াবি–
         তোমায় নীচে নামতে হবে  আমায় যদি ফেলিস নীচে।।
         যাচাই ক’রে নিবি মোরে  এই খেলা কি খেলবি ওরে।
  যে তোর  হাত জানে না, মারকে জানে,  ভয় লেগে রয় তাহার প্রাণে–
  যে তোর  মার ছেড়ে তোর হাতটি দেখে  আসল জানা সেই জানিছে।।
আরো দেখুন
264
Verses
THE LITTLE flower lies in the dust.
It sought the path of the butterfly.
আরো দেখুন
বাজিয়েছিলে বীণা তোমার
Verses
বাজিয়েছিলে বীণা তোমার
          দিই বা না দিই মন।
আজ প্রভাতে তারি ধ্বনি
          শুনি সকল ক্ষণ।
কত সুরের লীলা সে যে
দিনে রাত্রে উঠল বেজে,
জীবন আমার গানের মালা
          করেছ কল্পন।
আজ শরতের নীলাকাশে,
          আজ সবুজের খেলায়,
আজ বাতাসের দীর্ঘশ্বাসে,
          আজ চামেলির মেলায়--
কত কালের গাঁথা বাণী
আমার প্রাণের সে গানখানি
তোমার গলায় দোলে যেন
          করিনু দর্শন।
আরো দেখুন
মুসলমানীর গল্প
Stories
তখন অরাজকতার চরগুলো কণ্টকিত করে রেখেছিল রাষ্ট্রশাসন, অপ্রত্যাশিত অত্যাচারের অভিঘাতে দোলায়িত হত দিন রাত্রি। দুঃস্বপ্নের জাল জড়িয়েছিল জীবনযাত্রার সমস্ত ক্রিয়াকর্মে, গৃহস্থ কেবলই দেবতার মুখ তাকিয়ে থাকত, অপদেবতার কাল্পনিক আশঙ্কায় মানুষের মন থাকত আতঙ্কিত। মানুষ হোক আর দেবতাই হোক কাউকে বিশ্বাস করা কঠিন ছিল, কেবলই চোখের জলের দোহাই পাড়তে হত। শুভ কর্ম এবং অশুভ কর্মের পরিণামের সীমারেখা ছিল ক্ষীণ। চলতে চলতে পদে পদে মানুষ হোঁচট খেয়ে খেয়ে পড়ত দুর্গতির মধ্যে।
এমন অবস্থায় বাড়িতে রূপসী কন্যার অভ্যাগম ছিল যেন ভাগ্যবিধাতার অভিসম্পাত। এমন মেয়ে ঘরে এলে পরিজনরা সবাই বলত 'পোড়ারমুখী বিদায় হলেই বাঁচি'। সেই রকমেরই একটা আপদ এসে জুটেছিল তিন-মহলার তালুকদার বংশীবদনের ঘরে।
আরো দেখুন
অনধিকার প্রবেশ
Stories
একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল 'পারিব', আর-একটি বালক বলিল 'কখনোই পারিবে না'।
কাজটি শুনিতে সহজ অথচ করিতে কেন সহজ নহে তাহার বৃত্তান্ত আর-একটু বিস্তারিত করিয়া বলা আবশ্যক।
আরো দেখুন
33
Verses
কল্যাণীয়া
শ্রীমতী দেবরাণী দেবী
       যূগলমিলনমন্ত্রে নব স্বর্গলোক
       নবীন জীবনে তব আবির্ভূত হোক।
            কল্যাণের ধ্রুবতারা
            জাগুক নিমেষহারা
       থাক্‌ সেথা সমুজ্জ্বল প্রেমের আলোক।
নূতন সংসারখানি
          বিধাতার আশীর্বাণী
     বহন করুক নিত্য অভয় অশোক।
আরো দেখুন
তপস্বিনী
Stories
বৈশাখ প্রায় শেষ হইয়া আসিল। প্রথমরাত্রে গুমট গেছে, বাঁশগাছের পাতাটা পর্যন্ত নড়ে না, আকাশের তারাগুলো যেন মাথা-ধরার বেদনার মতো দব্‌ দব্‌ করিতেছে। রাত্রি তিনটের সময় ঝির্‌ঝির্‌ করিয়া একটুখানি বাতাস উঠিল। ষোড়শী শূন্য মেঝের উপর খোলা জানলার নীচে শুইয়া আছে, একটা কাপড়ে-মোড়া টিনের বাক্স তার মাথার বালিশ। বেশ বোঝা যায়, খুব উৎসাহের সঙ্গে সে কৃচ্ছসাধন করিতেছে।
প্রতিদিন ভোর চারটের সময় উঠিয়া স্নান সারিয়া ষোড়শী ঠাকুরঘরে গিয়া বসে। আহ্নিক করিতে বেলা হইয়া যায়। তার পরে বিদ্যারত্নমশায় আসেন; সেই ঘরে বসিয়াই তাঁর কাছে সে গীতা পড়ে। সংস্কৃত সে কিছু কিছু শিখিয়াছে। শঙ্করের বেদান্তভাষ্য এবং পাতঞ্জলদর্শন মূল গ্রন্থ হইতে পড়িবে, এই তার পণ। বয়স তার তেইশ হইবে।
আরো দেখুন
পুরোনো বাড়ি
Stories
অনেক কালের ধনী গরিব হয়ে গেছে, তাদেরই ঐ বাড়ি।
দিনে দিনে ওর উপরে দুঃসময়ের আঁচড় পড়ছে।
আরো দেখুন
আমারে তুমি অশেষ
Songs
আমারে তুমি অশেষ করেছ,     এমনি লীলা তব–
ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ    জীবন নব নব।।
    কত-যে গিরি কত-যে নদী -তীরে
    বেড়ালে বহি ছোটো এ বাঁশিটিরে,
    কত-যে তান বাজালে ফিরে ফিরে
          কাহারে তাহা কব।।
তোমারি ওই অমৃতপরশে     আমার হিয়াখানি
হারালো সীমা বিপুল হরষে,     উথলি উঠে বাণী।
    আমার শুধু একটি মুঠি ভরি
    দিতেছ দান দিবস-বিভাবরী–
    হল না সারা, কত-না যুগ ধরি
          কেবলই আমি লব।।
আরো দেখুন
The Patriot
Stories
I AM SURE that Chitragupta, who keeps strict record at the gate of Death, must have noted down in big letters accusations against me, which had escaped my attention altogether. On the other hand many of my sins, that have passed unnoticed by others, loom large in my own memory. The story of my transgression, that I am going to relate, belongs to the latter kind, and I hope that a frank confession of it, before it is finally entered in the Book of Doom, may lessen its culpability.
It all happened yesterday afternoon, on a day of festival for the Jains in our neighbourhood. I was going out with my wife, Kalika, to tea at the house of my friend Nayanmohan.
আরো দেখুন
দেওয়া নেওয়া ফিরিয়ে-দেওয়া
Songs
          দেওয়া নেওয়া ফিরিয়ে-দেওয়া তোমায় আমায়--
          জনম জনম এই চলেছে, মরণ কভু তারে থামায়?।
যখন    তোমার গানে আমি জাগি   আকাশে চাই তোমার লাগি,
আবার  একতারাতে আমার গানে মাটির পানে তোমায় নামায় ॥
ওগো,  তোমার সোনার আলোর ধারা, তার ধারি ধার--
আমার  কালো মাটির ফুল ফুটিয়ে শোধ করি তার।
আমার  শরৎরাতের শেফালিবন   সৌরভেতে মাতে যখন
তখন   পালটা সে তান লাগে তব শ্রাবণ-রাতের প্রেম-বরিষায় ॥    
আরো দেখুন