ম্যাজিশিয়ান
Stories
কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, শুনেছি এক সময়ে তুমি বড়ো বড়ো কথা নিয়ে খুব বড়ো বড়ো বই লিখেছিলে।
জীবনে অনেক দুষ্কর্ম করেছি, তা কবুল করতে হবে। ভারতচন্দ্র বলেছেন, সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর।
আরো দেখুন
প্রশ্ন
Stories
শ্মাশান হতে বাপ ফিরে এল।
তখন সাত বছরের ছেলেটি-- গা খোলা, গলায় সোনার তাবিজ--একলা গলির উপরকার জানলার ধারে।
আরো দেখুন
সংস্কার
Stories
চিত্রগুপ্ত এমন অনেক পাপের হিসাব বড়ো অক্ষরে তাঁর খাতায় জমা করেন যা থাকে পাপীর নিজের অগোচরে। তেমনি এমন পাপও ঘটে যাকে আমিই চিনি পাপ বলে, আর-কেউ না। যেটার কথা লিখতে বসেছি সেটা সেই জাতের। চিত্রগুপ্তের কাছে জবাবদিহি করবার পূর্বে আগে-ভাগে কবুল করলে অপরাধের মাত্রাটা হাল্‌কা হবে।
ব্যাপারটা ঘটেছিল কাল শনিবার দিনে। সেদিন আমাদের পাড়ায় জৈনদের মহলে কী একটা পরব ছিল। আমার স্ত্রী কলিকাকে নিয়ে মোটরে করে বেরিয়েছিলুম-- চায়ের নিমন্ত্রণ ছিল বন্ধু নয়নমোহনের বাড়িতে।
আরো দেখুন
রাজরানী
Stories
কাল তোমার ভালো লাগে নি চণ্ডীকে নিয়ে বকুনি। ও একটা ছবি মাত্র। কড়া কড়া লাইনে আঁকা, ওতে রস নাই। আজ তোমাকে কিছু বলব, সে সত্যিকার গল্প।
কুসমি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই বলো। তুমি তো সেদিন বললে, বরাবর মানুষ সত্যি খবর দিয়ে এসেছে গল্পের মধ্যে মুড়ে। একেবারে ময়রার দোকান বানিয়ে রেখেছে। সন্দেশের মধ্যে ছানাকে চেনাই যায় না।
আরো দেখুন
82
Verses
চাঁদেরে করিতে বন্দী
      মেঘ করে অভিসন্ধি,
           চাঁদ বাজাইল মায়াশঙ্খ।
মন্ত্রে কালি হল গত,
      জ্যোৎস্নার ফেনার মতো
           মেঘ ভেসে চলে অকলঙ্ক।
আরো দেখুন
পয়লা আশ্বিন
Verses
হিমের শিহর লেগেছে আজ মৃদু হাওয়ায়
           আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।
    ভোরবেলাকার চাঁদের আলো
           মিলিয়ে আসে শ্বেতকরবীর রঙে।
শিউলিফুলের নিশ্বাস বয়
        ভিজে ঘাসের 'পরে,
    তপস্বিনী উষার পরা পুজোর চেলির
           গন্ধ যেন
               আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।
পুব আকাশে শুভ্র আলোর শঙ্খ বাজে--
    বুকের মধ্যে শব্দ যে তার
        রক্তে লাগায় দোলা।
    কত যুগের কত দেশের বিশ্ববিজয়ী
           মৃত্যুপথে ছুটেছিল
               অমর প্রাণের অসাধ্য সন্ধানে।
    তাদেরই সেই বিজয়শঙ্খ
           রেখে গেছে অরব ধ্বনি
               শিশির-ধোওয়া রোদে।
        বাজল রে আজ বাজল রে তার
                   ঘর-ছাড়ানো ডাক
               আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।
ধনের বোঝা, খ্যাতির বোঝা, দুর্ভাবনার বোঝা
           ধুলোয় ফেলে দিয়ে
        নিরুদ্‌বেগে চলেছিল জটিল সংকটে।
           ললাট তাদের লক্ষ্য ক'রে
               পঙ্কপিণ্ড হেনেছিল
           দুর্জনেরা মলিন হাতে;
        নেমেছিল উল্কা আকাশ থেকে,
           পায়ের তলায় নীরস নিঠুর পথ
        তুলেছিল গুপ্ত ক্ষুদ্র কুটিল কাঁটা।
    পায় নি আরাম, পায় নি বিরাম,
           চায় নি পিছন ফিরে;
        তাদেরই সেই শুভ্রকেতনগুলি
               ওই উড়েছে শরৎপ্রাতের মেঘে
                   আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।
ভয় কোরো না, লোভ কোরো না, ক্ষোভ কোরো না,
               জাগো আমার মন--
        গান জাগিয়ে চলো সমুখ-পথে
    যেখানে ওই কাশের চামর দোলে
           নবসূর্যোদয়ের দিকে।
               নৈরাশ্যের নখর হতে
    রক্ত-ঝরা আপ্‌নাকে আজ ছিন্ন করে আনো
আশার মোহ-শিকড়গুলো উপড়ে দিয়ে যাও--
           লালসাকে দলো পায়ের তলায়।
    মৃত্যুতোরণ যখন হবে পার
পরাজয়ের গ্লানিভরে মাথা তোমার না হয় যেন নত।
        ইতিহাসের আত্মজয়ী বিশ্ববিজয়ী
    তাদের মাভৈঃ বাণী বাজে নীরব নির্ঘোষণে
               নির্মল এই শরৎ-রৌদ্রালোকে
                       আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।
আরো দেখুন
গলি
Stories
আমাদের এই শানবাঁধানো গলি, বারে বারে ডাইনে বাঁয়ে এঁকে বেঁকে একদিন কী যেন খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সে যে দিকেই যায় ঠেকে যায়। এ দিকে বাড়ি, ও দিকে বাড়ি, সামনে বাড়ি।
উপরের দিকে যেটুকু নজর চলে তাতে সে একখানি আকাশের রেখা দেখতে পায়-- ঠিক তার নিজেরই মতো সরু, তার নিজেরই মতো বাঁকা।
আরো দেখুন
উদ্ধার
Stories
গৌরী প্রাচীন ধনীবংশের পরমাদরে পালিতা সুন্দরী কন্যা। স্বামী পরেশ হীনাবস্থা হইতে সম্প্রতি নিজের উপার্জনে কিঞ্চিৎ অবস্থার উন্নতি করিয়াছে; যতদিন তাঁহার দৈন্য ছিল ততদিন কন্যার কষ্ট হইবে ভয়ে শ্বশুর শাশুড়ি স্ত্রীকে তাঁহার বাড়িতে পাঠান নাই। গৌরী বেশ-একটু বয়স্থা হইয়াই পতিগৃহে আসিয়াছিল।
বোধ করি এই-সকল কারণেই পরেশ সুন্দরী যুবতী স্ত্রীকে সম্পূর্ণ নিজের আয়ত্তগম্য বলিয়া বোধ করিতেন না এবং বোধ করি সন্দিগ্ধ স্বভাব তাঁহার একটা ব্যাধির মধ্যে।
আরো দেখুন
করুণা
Stories
গ্রামের মধ্যে অনুপকুমারের ন্যায় ধনবান আর কেহই ছিল না। অতিথিশালানির্মাণ, দেবালয়প্রতিষ্ঠা, পুষ্করিণীখনন প্রভৃতি নানা সৎকর্মে তিনি ধনব্যয় করিতেন। তাঁহার সিন্ধুক-পূর্ণ টাকা ছিল, দেশবিখ্যাত যশ ছিল ও রূপবতী কন্যা ছিল। সমস্ত যৌবনকাল ধন উপার্জন করিয়া অনুপ বৃদ্ধ বয়সে বিশ্রাম করিতেছিলেন। এখন কেবল তাঁহার একমাত্র ভাবনা ছিল যে, কন্যার বিবাহ দিবেন কোথায়। সৎপাত্র পান নাই ও বৃদ্ধ বয়সে একমাত্র আশ্রয়স্থল কন্যাকে পরগৃহে পাঠাইতে ইচ্ছা নাই--তজ্জন্যও আজ কাল করিয়া আর তাঁহার দুহিতার বিবাহ হইতেছে না।
সঙ্গিনী-অভাবে করুণার কিছুমাত্র কষ্ট হইত না। সে এমন কাল্পনিক ছিল, কল্পনার স্বপ্নে সে সমস্ত দিন-রাত্রি এমন সুখে কাটাইয়া দিত যে, মুহূর্তমাত্রও তাহাকে কষ্ট অনুভব করিতে হয় নাই। তাহার একটি পাখি ছিল, সেই পাখিটি হাতে করিয়া অন্তঃপুরের পুষ্করিণীর পাড়ে কল্পনার রাজ্য নির্মাণ করিত। কাঠবিড়ালির পশ্চাতে পশ্চাতে ছুটাছুটি করিয়া, জলে ফুল ভাসাইয়া, মাটির শিব গড়িয়া, সকাল হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটাইয়া দিত। এক-একটি গাছকে আপনার সঙ্গিনী ভগ্নী কন্যা বা পুত্র কল্পনা করিয়া তাহাদের সত্য-সত্যই সেইরূপ যত্ন করিত, তাহাদিগকে খাবার আনিয়া দিত, মালা পরাইয়া দিত, নানাপ্রকার আদর করিত এবং তাদের পাতা শুকাইলে, ফুল ঝরিয়া পড়িলে, অতিশয় ব্যথিত হইত। সন্ধ্যাবেলা পিতার নিকট যা-কিছু গল্প শুনিত, বাগানে পাখিটিকে তাহাই শুনানো হইত। এইরূপে করুণা তাহার জীবনের প্রত্যুষকাল অতিশয় সুখে আরম্ভ করিয়াছিল। তাহার পিতা ও প্রতিবাসীরা মনে করিতেন যে, চিরকালই বুঝি ইহার এইরূপে কাটিয়া যাইবে।
আরো দেখুন
বিদেশী ফুল
Verses
          হে বিদেশী ফুল, যবে আমি পুছিলাম--
                                      "কী তোমার নাম',
          হাসিয়া দুলালে মাথা, বুঝিলাম তরে
                                      নামেতে কী হবে।
                             আর কিছু নয়,
                   হাসিতে তোমার পরিচয়।
   হে বিদেশী ফুল, যবে তোমারে বুকের কাছে ধরে
                      শুধালেম "বলো বলো মোরে
                                      কোথা তুমি থাকো',
হাসিয়া দুলালে মাথা, কহিলে "জানি না, জানি নাকো'।
                                      বুঝিলাম তবে
                                      শুনিয়া কী হবে
                             থাকো কোন্‌ দেশে।
                   যে তোমারে বোঝে ভালোবেসে
                             তাহার হৃদয়ে তব ঠাঁই,
                                      আর কোথা নাই।
হে বিদেশী ফুল, আমি কানে কানে শুধানু আবার,
                                         "ভাষা কী তোমার।'
                                      হাসিয়া দুলালে শুধু মাথা,
                                      চারি দিকে মর্মরিল পাতা।
                             আমি কহিলাম, "জানি, জানি,
                                                সৌরভের বাণী
                             নীরবে জানায় তব আশা।
নিশ্বাসে ভরেছে মোর সেই তব নিশ্বাসের ভাষা।'
হে বিদেশী ফুল, আমি যেদিন প্রথম এনু ভোরে
                             শুধালেম, "চেন তুমি মোরে?'
হাসিয়া দুলালে মাথা, ভাবিলাম তাহে একরতি
                                      নাহি কারো ক্ষতি।
          কহিলাম, "বোঝ নি কি তোমার পরশে
                   হৃদয় ভরেছে মোর রসে।
          কেউ বা আমারে চেনে এর চেয়ে বেশি,
                   হে ফুল বিদেশী।'
হে বিদেশী ফুল, যবে তোমারে শুধাই "বলো দেখি
                             মোরে ভুলিবে কি',
হাসিয়া দুলাও মাথা; জানি জানি মোরে ক্ষণে ক্ষণে
                             পড়িবে যে মনে।
                             দুই দিন পরে
                      চলে যাব দেশান্তরে,
তখন দূরের টানে স্বপ্নে আমি হব তব চেনা--
                                      মোরে ভুলিবে না।
আরো দেখুন