বদনাম
Stories
ক্রিং ক্রিং ক্রিং সাইকেলের আওয়াজ; সদর দরজার কাছে লাফ দিয়ে নেমে পড়লেন ইন্‌স্‌পেক্টার বিজয়বাবু। গায়ে ছাঁটা কোর্তা, কোমরে কোমরবন্ধ, হাফ-প্যাণ্টপরা, চলনে কেজো লোকের দাপট। দরজার কড়া নাড়া দিতেই গিন্নি এসে খুলে দিলেন।
ইন্‌স্‌পেক্টার ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই ঝংকার দিয়ে উঠলেন--'এমন করে তো আর পারি নে, রাত্তিরের পর রাত্তির খাবার আগলে রাখি! তুমি কত চোর ডাকাত ধরলে, সাধু সজ্জনও বাদ গেল না, আর ঐ একটা লোক অনিল মিত্তিরের পিছন পিছন তাড়া করে বেড়াচ্ছ, সে থেকে থেকে তোমার সামনে এসে নাকের উপর বুড়ো আঙুল নাড়া দিয়ে কোথায় দৌড় মারে তার ঠিকানা নেই। দেশসুদ্ধ লোক তোমার এই দশা দেখে হেসে খুন, এ যেন সার্কাসের খেলা হচ্ছে।'
আরো দেখুন
নামঞ্জুর গল্প
Stories
আমাদের আসর জমেছিল পোলিটিক্যাল লঙ্কাকাণ্ডের পালায়। হাল আমলের উত্তরকাণ্ডে আমরা সম্পূর্ণ ছুটি পাই নি বটে, কিন্তু গলা ভেঙেছে; তা ছাড়া সেই অগ্নিদাহের খেলা বন্ধ।
বঙ্গভঙ্গের রঙ্গভূমিতে বিদ্রোহীর অভিনয় শুরু হল। সবাই জানেন, এই নাট্যের পঞ্চম অঙ্কের দৃশ্য আলিপুর পেরিয়ে পৌঁছল আণ্ডামানের সমুদ্রকূলে। পারানির পাথেয় আমার যথেষ্ট ছিল, তবু গ্রহের গুণে এপারের হাজতেই আমার ভোগসমাপ্তি। সহযোগীদের মধ্যে ফাঁসিকাঠ পর্যন্ত যাদের সর্বোচ্চ প্রোমোশন হয়েছিল, তাদের প্রণাম করে আমি পশ্চিমের এক শহরের কোণে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় পসার জমিয়ে তুললেম।
আরো দেখুন
চতুরঙ্গ
Novels
আমি পাড়াগাঁ হইতে কলিকাতায় আসিয়া কালেজে প্রবেশ করিলাম। শচীশ তখন বি. এ. ক্লাসে পড়িতেছে। আমাদের বয়স প্রায় সমান হইবে।
শচীশকে দেখিলে মনে হয় যেন একটা জ্যোতিষ্ক-- তার চোখ জ্বলিতেছে; তার লম্বা সরু আঙুলগুলি যেন আগুনের শিখা; তার গায়ের রঙ যেন রঙ নহে, তাহা আভা। শচীশকে যখন দেখিলাম অমনি যেন তার অন্তরাত্মাকে দেখিতে পাইলাম; তাই একমুহূর্তে তাহাকে ভালোবাসিলাম।
আরো দেখুন
মাতাল
Verses
বুঝি রে,
     চাঁদের কিরণ পান ক'রে ওর ঢুলু ঢুলু দুটি আঁখি,
              কাছে ওর যেয়ো না,
              কথাটি শুধায়ো না,
     ফুলের গন্ধে মাতাল হয়ে বসে আছে একাকী।
ঘুমের মতো মেয়েগুলি
      চোখের কাছে দুলি দুলি
বেড়ায় শুধু নূপুর রনরনি।
      আধেক মুদি আঁখির পাতা,
      কার সাথে যে কচ্ছে কথা,
শুনছে কাহার মৃদু মধুর ধ্বনি।
      অতি সুদূর পরীর দেশে--
      সেখান থেকে বাতাস এসে
কানের কাছে কাহিনী শুনায়।
      কত কী যে মোহের মায়া,
      কত কী যে আলোক ছায়া,
প্রাণের কাছে স্বপন ঘনায়।
      কাছে ওর যেয়ো না,
      কথাটি শুধায়ো না,
ঘুমের মেয়ে তরাস পেয়ে যাবে,
      মৃদু প্রাণে প্রমাদ গণি
     নূপুরগুলি রনরনি
চাঁদের আলোয় কোথায় কে লুকাবে।
      চলো দূরে নদীর তীরে,
      বসে সেথায় ধীরে ধীরে
একটি শুধু বাঁশরি বাজাও।
      আকাশেতে হাসবে বিধু,
      মধুকন্ঠে মৃদু মৃদু
একটি শুধু সুখেরই গান গাও।
      দূর হতে আসিয়া কানে
      পশিবে সে প্রাণের প্রাণে
স্বপনেতে স্বপন ঢালিয়ে।
ছায়াময়ী মেয়েগুলি
    গানের স্রোতে দুলি দুলি,
বসে রবে গালে হাত দিয়ে।
    গাহিতে গাহিতে তুমি বালা
    গেঁথে রাখো মালতীর মালা।
ও যখন ঘুমাইবে, গলায় পরায়ে দিবে
    স্বপনে মিশিবে ফুলবাস।
ঘুমন্ত মুখের 'পরে চেয়ে থেকো প্রেমভরে
    মুখেতে ফুটিবে মৃদু হাস।
আরো দেখুন
প্রশ্ন
Stories
শ্মাশান হতে বাপ ফিরে এল।
তখন সাত বছরের ছেলেটি-- গা খোলা, গলায় সোনার তাবিজ--একলা গলির উপরকার জানলার ধারে।
আরো দেখুন
বাঁশি
Stories
বাঁশির বাণী চিরদিনের বাণী--শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা, প্রতি দিনের মাটির বুক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশু নেমে এল মর্ত্যের ধূলি দিয়ে স্বর্গ-স্বর্গ খেলতে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শুনি আর মন যে কেমন করে বুঝতে পারি নে। সেই ব্যথাকে চেনা সুখদুঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজ্জ্বল, চেনা চোখের জলের চেয়ে সে গভীর।
আরো দেখুন
গুপ্তিপাড়ায় জন্ম তাহার
Verses
গুপ্তিপাড়ায় জন্ম তাহার;
     নিন্দাবাদের দংশনে
অভিমানে মরতে গেল
     মোগলসরাই জংসনে।
কাছা কোঁচা ঘুচিয়ে গুপি
ধরল ইজের, পরল টুপি,
দু হাত দিয়ে লেগে গেল
     কোফ্‌তা-কাবাব-ধ্বংসনে।
         গুরুপুত্র সঙ্গে ছিল--
     বললে তারে, 'অংশ নে।'
আরো দেখুন
কথিকা
Stories
এবার মনে হল, মানুষ অন্যায়ের আগুনে আপনার সমস্ত ভাবী কালটাকে পুড়িয়ে কালো করে দিয়েছে, সেখানে বসন্ত কোনোদিন এসে আর নতুন পাতা ধরাতে পারবে না।
মানুষ অনেক দিন থেকে একখানি আসন তৈরি করছে। সেই আসনই তাকে খবর দেয় যে, তার দেবতা আসবেন, তিনি পথে বেরিয়েছেন।
আরো দেখুন
176
Verses
THE WATER in a vessel is sparkling; the water in the sea is dark.
The small truth has words that are clear; the great truth has great silence.
আরো দেখুন