প্রতিবেশিনী
Stories
আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশ্রুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা।
তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না -- পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না।
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন
কথিকা
Stories
এবার মনে হল, মানুষ অন্যায়ের আগুনে আপনার সমস্ত ভাবী কালটাকে পুড়িয়ে কালো করে দিয়েছে, সেখানে বসন্ত কোনোদিন এসে আর নতুন পাতা ধরাতে পারবে না।
মানুষ অনেক দিন থেকে একখানি আসন তৈরি করছে। সেই আসনই তাকে খবর দেয় যে, তার দেবতা আসবেন, তিনি পথে বেরিয়েছেন।
আরো দেখুন
The Parrot`s Training
Stories
ONCE UPON A time there was a bird. It was ignorant. It sang all right, but never recited scriptures. It hopped pretty frequently, but lacked manners.
Said the Raja to himself: ‘Ignorance is costly in the long run. For fools consume as much food as their betters, and yet give nothing in return.’
আরো দেখুন
আবার
Verses
তুমি কেন আসিলে হেথায়
এ আমার সাধের আবাসে?
এ আলয়ে যে নিবাসী থাকে,
এ আলয়ে যে অতিথি আসে,
সবাই আমার সখা,    সবাই আমার বঁধু,
          সবারেই আমি ভালোবাসি,
          তারাও আমারে ভালোবাসে--
          তুমি তবে কেন এলে হেথা
          এ আমার সাধের আবাসে?
          এ আমার প্রেমের আলয়,
          এ মোর স্নেহের নিকেতন;
          বেছে বেছে কুসুম তুলিয়া
          রচিয়াছি কোমল আসন।
          কেহ হেথা নাইকো নিষ্ঠুর,
          কিছু হেথা নাইকো কঠিন,
          কবিতা আমার প্রণয়িনী
          এইখানে আসে প্রতিদিন।
সমীর কোমল-মন      আসে হেথা অনুক্ষণ,
          যখনি সে পায় অবকাশ
যখনি প্রভাত ফুটে,   যখনি সে জেগে উঠে,
          ছুটিয়া সে আসে মোর পাশে;
দুই বাহু প্রসারিয়া          আমারে বুকেতে নিয়া
          কত শত বারতা শুধায়,
          সখা মোর প্রভাতের বায়।
আকাশেতে তুলে আঁখি               বাতায়নে বসে থাকি
          নিশি যবে পোহায়-পোহায়;
উষার আলোকে হারা    সখী মোর শুকতারা
          আমার এ মুখপানে চায়।
নীরবে চাহিয়া রহে,   নীরব নয়নে কহে,
          "সখা, আজ বিদায়, বিদায়।"
          ধীরে ধীরে সন্ধ্যার বাতাস
          প্রতিদিন আসে মোর পাশ।
দেখে, আমি বাতায়নে,          অশ্রু ঝরে দু নয়নে,
          ফেলিতেছি দুখের নিশ্বাস।
          অতি ধীরে আলিঙ্গন করে,
          কথা কহে সকরুণ স্বরে,
          কানে কানে বলে, "হায় হায়।"
কোমল কপোল দিয়া     কপোল চুম্বন করি
          অশ্রু বিন্দু সুধীরে শুকায়।
          সবাই আমার মন বুঝে,
          সবাই আমার দুঃখ জানে,
          সবাই করুণ আঁখি মেলি
          চেয়ে থাকে এই মুখপানে।
          যে কেহ আমার ঘরে আসে
          সবাই আমারে ভালোবাসে--
          তবে কেন তুমি এলে হেথা
          এ আমার সাধের আবাসে?
ফেরো ফেরো, ও নয়নরসহীন ও বয়ন
          আনিয়ো না এ মোর আলয়ে,
আমরা সখারা মিলি    আছি হেথা নিরিবিলি
          আপনার মনোদুঃখ লয়ে।
          এমনি হয়েছে শান্ত মন,
          ঘুচেছে দুঃখের কঠোরতা;
          ভালো লাগে বিহঙ্গের গান,
          ভালো লাগে তটিনীর কথা।
          ভালো লাগে কাননে দেখিতে
          বসন্তের কুসুমের মেলা,
          ভালো লাগে সারাদিন বসে
          দেখিতে মেঘের ছেলেখেলা।
          এইরূপে সায়াহ্নের কোলে
          রচেছি গোধূলি-নিকেতন,
          দিবসের অবসান-কালে
          পশে হেথা রবির কিরণ।
          আসে হেথা অতি দূর হতে
          পাখিদের বিরামের তান,
          ম্রিয়মাণ সন্ধ্যা-বাতাসের
          থেকে থেকে মরণের গান।
          পরিশ্রান্ত অবশ পরানে
          বসিয়া রয়েছি এইখানে।
যাও মোরে যাও ছেড়ে   নিয়ো না নিয়ো না কেড়ে,
          নিয়ো না নিয়ো না মন মোর;
সখাদের কাছ হতে    ছিনিয়া নিয়ো না মোরে,
          ছিঁড়ো না এ প্রণয়ের ডোর।
আবার হারাই যদি     এই গিরি, এই নদী,
          মেঘ বায়ু কানন নির্ঝর,
আবার স্বপন ছুটে          একেবারে যায় টুটে
          এ আমার গোধূলির ঘর।
আবার আশ্রয়হারা,          ঘুরে ঘুরে হই সারা
          ঝটিকার মেঘখণ্ড-সম,
দুঃখের বিদ্যুৎ-ফণা     ভীষণ ভুজঙ্গ এক
          পোষণ করিয়া বক্ষে মম--
তাহা হলে এ জনমে,          নিরাশ্রয়ে এ জীবনে
          ভাঙা ঘর আর গড়িবে না,
          ভাঙা হৃদয় আর জুড়িবে না!
          কাল সবে গড়েছি আলয়,
          কাল সবে জুড়েছি হৃদয়;
          আজি তা দিয়ো না যেন ভেঙে,
          রাখো তুমি রাখো এ বিনয়ে।
আরো দেখুন
দৃষ্টিদান
Stories
শুনিয়াছি, আজকাল অনেক বাঙালির মেয়েকে নিজের চেষ্টায় স্বামী সংগ্রহ করিতে হয়। আমিও তাই করিয়াছি, কিন্তু দেবতার সহায়তায়। আমি ছেলেবেলা হইতে অনেক ব্রত এবং অনেক শিবপূজা করিয়াছিলাম।
আমার আটবৎসর বয়স উত্তীর্ণ না হইতেই বিবাহ হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু পূর্বজন্মের পাপবশত আমি আমার এমন স্বামী পাইয়াও সম্পূর্ণ পাইলাম না। মা ত্রিনয়নী আমার দুইচক্ষু লইলেন। জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত স্বামীকে দেখিয়া লইবার সুখ দিলেন না।
আরো দেখুন
আঘাত করে নিলে জিনে
Verses
আঘাত করে নিলে জিনে,
কাড়িলে মন দিনে দিনে।
            সুখের বাধা ভেঙে ফেলে
            তবে আমার প্রাণে এলে,
        বারে বারে মরার মুখে
                 অনেক দুখে নিলাম চিনে।
তুফান দেখে ঝড়ের রাতে
ছেড়েছি হাল তোমার হাতে।
     বাটের মাঝে হাটের মাঝে
     কোথাও আমায় ছাড়লে না যে,
যখন আমার সব বিকালো
         তখন আমায় নিলে কিনে।
আরো দেখুন
ঘরে বাইরে
Novels
মা গো, আজ মনে পড়ছে তোমার সেই সিঁথের সিঁদুর, চওড়া সেই লাল-পেড়ে শাড়ি, সেই তোমার দুটি চোখ-- শান্ত, স্নিগ্ধ, গভীর। সে যে দেখেছি আমার চিত্তাকাশে ভোরবেলাকার অরুণরাগরেখার মতো। আমার জীবনের দিন যে সেই সোনার পাথেয় নিয়ে যাত্রা করে বেরিয়েছিল। তার পরে? পথে কালো মেঘ কি ডাকাতের মতো ছুটে এল? সেই আমার আলোর সম্বল কি এক কণাও রাখল না? কিন্তু জীবনের ব্রাহ্মমুহূর্তে সেই-যে উষাসতীর দান, দুর্যোগে সে ঢাকা পড়ে, তবু সে কি নষ্ট হবার?
আমাদের দেশে তাকেই বলে সুন্দর যার বর্ণ গৌর। কিন্তু যে আকাশ আলো দেয় সে যে নীল। আমার মায়ের বর্ণ ছিল শামলা, তাঁর দীপ্তি ছিল পুণ্যের। তাঁর রূপ রূপের গর্বকে লজ্জা দিত।
এসো পাপ, এসো সুন্দরী!
তব চুম্বন-অগ্নি-মদিরা রক্তে ফিরুক সঞ্চরি।
অকল্যাণের বাজুক শঙ্খ,
ললাটে, লেপিয়া দাও কলঙ্ক,
নির্লাজ কালো কলুষপঙ্ক
    বুকে দাও প্রলয়ংকরী!
      রাই আমার    চলে যেতে ঢলে পড়ে।
               অগাধ জলের মকর যেমন,
                         ও তার    চিটে চিনি জ্ঞান নেই!
ভরা বাদর, মাহ ভাদর,
শূন্য মন্দির মোর!
ভরা বাদর, মাহ ভাদর,
শূন্য মন্দির মোর!
ভরা বাদর, মাহ ভাদর,
শূন্য মন্দির মোর!
ভরা বাদর, মাহ ভাদর,
শূন্য মন্দির মোর!
বিদ্যাপতি কহে কৈসে গোয়াঁয়বি
হরি বিনে দিনরাতিয়া?
আমার নিকড়িয়া রসের রসিক কানন ঘুরে ঘুরে
      নিকড়িয়া বাঁশের বাঁশি বাজায় মোহন সুরে।
আমার ঘর বলে, তুই কোথায় যাবি,
বাইরে গিয়ে সব খোয়াবি--
আমার প্রাণ বলে, তোর যা আছে সব
যাক-না উড়ে পুড়ে।
ওগো,যায় যদি তো যাক-না চুকে,
সব হারাব হাসিমুখে,
আমি এই চলেছি মরণসুধা
নিতে পরান পূরে।
ওগো, আপন যারা কাছে টানে
এ রস তারা কেই বা জানে,
আমার বাঁকা পথের বাঁকা সে যে
ডাক দিয়েছে দূরে।
এবার বাঁকার টানে সোজার বোঝা
পড়ুক ভেঙে-চুরে।
যখন দেখা দাও নি, রাধা, তখন বেজেছিল বাঁশি।
এখন চোখে চোখে চেয়ে সুর যে আমার গেল ভাসি।
তখন নানা তানের ছলে
ডাক ফিরেছে জলে স্থলে,
এখন আমার সকল কাঁদা রাধার রূপে উঠল হাসি।
বঁধুর লাগি কেশে আমি পরব এমন ফুল
স্বর্গে মর্তে তিন ভুবনে নাইকো যাহার মূল।
বাঁশির ধ্বনি হাওয়ায় ভাসে,
সবার কানে বাজবে না সে--
দেখ্‌ লো চেয়ে যমুনা ওই ছাপিয়ে গেল কূল।
She should never have looked at me,
If she meant I should not love her!
There are plenty... men you call such,
I suppose... she may discover
All her soul to, if she pleases,
And yet leave much as she found them:
But I'm not so, and she knew it
When she fixed me, glancing round them.
আমায় ভালো বাসবে না সে এই যদি তার ছিল জানা,
তবে কি তার উচিত ছিল আমার-পানে দৃষ্টি হানা?
তেমন-তেমন অনেক মানুষ আছে তো এই ধরাধামে
(যদিচ ভাই, আমি তাদের গণি নেকো মানুষ নামে)--
যাদের কাছে সে যদি তার খুলে দিত প্রাণের ঢাকা,
তবু তারা রইত খাড়া যেমন ছিল তেমনি ফাঁকা।
আমি তো নই তাদের মতন সে কথা সে জানত মনে
যখন মোরে বাঁধল ধ'রে বিদ্ধ ক'রে নয়নকোণে।
মধুঋতু নিত্য হয়ে রইল তোমার মধুর দেশে।
যাওয়া-আসার কান্নাহাসি হাওয়ায় সেথা বেড়ায় ভেসে।
যার যে জনা সেই শুধু যায়, ফুল ফোটা তো ফুরোয় না হায়--
ঝরবে যে ফুল সেই কেবলি ঝরে পড়ে বেলাশেষে।
যখন আমি ছিলেম কাছে তখন কত দিয়েছি গান;
এখন আমার দূরে যাওয়া, এরও কি গো নাই কোনো দান?
পুষ্পবনের ছায়ায় ঢেকে এই আশা তাই গেলেম রেখে--
আগুন-ভরা ফাগুনকে তোর কাঁদায় যেন আষাঢ় এসে॥
আরো দেখুন
দুর্বুদ্ধি
Stories
ভিটা ছাড়িতে হইল। কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না, আভাস দিব মাত্র।
আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার, পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি। যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত অপেক্ষা কম ছিল না, সুতরাং নর ও নারায়ণের দ্বারা মানুষের যত বিবিধ রকমের পীড়া ঘটিতে পারে তাহা আমার সুগোচর ছিল। যেমন মণির দ্বারা বলয়ের এবং বলয়ের দ্বারা মণির শোভা বৃদ্ধি হয় তেমনি আমার মধ্যস্থতায় দারোগার এবং দারোগার মধ্যস্থতায় আমার উত্তরোত্তর আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটিতেছিল।
আরো দেখুন
মেঘলা দিনে
Stories
রোজই থাকে সমস্তদিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সেদিনকার কাজে, সেদিনকার আলাপে সেদিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।
আজ সকালবেলা মেঘের স্তবকে স্তবকে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে, ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত শেষ করে দেওয়া যায় না।
আরো দেখুন