কোন্ গহন অরণ্যে
Songs
কোন্‌   গহন অরণ্যে তারে এলেম হারায়ে
কোন্‌   দূর জনমের কোন্‌ স্মৃতিবিস্মৃতিছায়ে॥
    আজ    আলো-আঁধারে
    কখন্‌-বুঝি দেখি, কখন্‌ দেখি না তারে--
    কোন্‌   মিলনসুখের স্বপনসাগর এল পারায়ে॥
    ধরা-অধরার মাঝে
    ছায়ানটের রাগিণীতে   আমার বাঁশি বাজে।
         বকুলতলায় ছায়ার নাচন ফুলের গন্ধে মিশে
         জানি নে মন পাগল করে কিসে।
         কোন্‌ নটিনীর ঘূর্ণি-আঁচল   লাগে আমার গায়ে॥
আরো দেখুন
57
Verses
WHO IS SHE who dwells in my heart, the woman forlorn for ever?
I wooed her and I failed to win her.
I decked her with wreaths and sang in her praise.
A smile shone in her face for a moment, then it faded.
'I have no joy in thee,' she cried, the woman in sorrow.
I bought her jewelled anklets and fanned her with a fan gem-studded; I made her a bed on a bedstead of gold.
There flickered a gleam of gladness in her eyes, then it died.
'I have no joy in these,' she cried, the woman in sorrow.
I seated her upon a car of triumph and drove her from end to end of the earth.
Conquered hearts bowed down at her feet, and shouts of applause rang in the sky.
Pride shone in her eyes for a moment, then it was dimmed in tears.
'I have no joy in conquest,' she cried, the woman in sorrow.
I asked her, 'Tell me whom do you seek?'
She only said, 'I wait for him of the unknown name.'
Days pass by and she cries, 'When will my beloved come whom I know not, and be known to me for ever?'
আরো দেখুন
বউ-ঠাকুরানীর হাট
Novels
অন্তর্বিষয়ী ভাবের কবিত্ব থেকে বহির্বিষয়ী কল্পনালোকে একসময়ে মন যে প্রবেশ করলে, ইতস্তত ঘুরে বেড়াতে লাগল, এ বোধ হয় কৌতূহল থেকে।
প্রাচীর-ঘেরা মন বেরিয়ে পড়ল বাইরে, তখন সংসারের বিচিত্র পথে তার যাতায়াত আরম্ভ হয়েছে। এই সময়টাতে তার লেখনী গদ্যরাজ্যে নূতন ছবি নূতন নূতন অভিজ্ঞতা খুঁজতে চাইলে। তারই প্রথম প্রয়াস দেখা দিল বউ-ঠাকুরানীর হাট গল্পে-- একটা রোমান্টিক ভূমিকায় মানবচরিত্র নিয়ে খেলার ব্যাপারে, সেও অল্পবয়সেরই খেলা। চরিত্রগুলির মধ্যে যেটুকু জীবনের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে সেটা পুতুলের ধর্ম ছাড়িয়ে উঠতে পারে নি। তারা আপন চরিত্রবলে অনিবার্য পরিণামে চালিত নয়, তারা সাজানো জিনিস একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে। আজও হয়তো এই গল্পটার দিকে ফিরে চাওয়া যেতে পারে। এ যেন অশিক্ষিত আঙুলের আঁকা ছবি; সুনিশ্চিত মনের পাকা হাতের চিহ্ন পড়ে নি তাতে। কিন্তু আর্টের খেলাঘরে ছেলেমানুষিরও একটা মূল্য আছে। বুদ্ধির বাধাহীন পথে তার খেয়াল যা-তা কাণ্ড করতে বসে, তার থেকে প্রাথমিক মনের একটা কিছু কারিগরি বেরিয়ে পড়ে।
"বঁধুয়া অসময়ে কেন হে প্রকাশ?
সকলি যে স্বপ্ন বলে হতেছে বিশ্বাস।
চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে ছিলে,      সেথায় তো আদর মিলে?
এরি মধ্যে মিটিল কি প্রণয়েরি আশ?
এখনো তো রয়েছে রাত      এখনো হয় নি প্রভাত,
এখনো এ রাধিকার ফুরায় নি তো অশ্রুপাত।
চন্দ্রাবলীর কুসুমসাজ       এখনি কি শুকাল আজ?
চকোর হে, মিলাল কি সে চন্দ্রমুখের মধুর হাস?"
"আজ তোমারে দেখতে এলেম অনেক দিনের পরে।
ভয় নাইকো সুখে থাকো,
অধিক ক্ষণ থাকব নাকো।
আসিয়াছি দুদণ্ডেরি তরে।
দেখব শুধু মুখখানি
শুনব দুটি মধুর বাণী
আড়াল থেকে হাসি দেখে চলে যাব দেশান্তরে।"
"মলিন মুখে ফুটুক হাসি জুড়াক দু-নয়ন।"
"মলিন মুখে ফুটুক হাসি, জুড়াক দু-নয়ন।
মলিন বসন ছাড়ো সখী, পরো আভরণ।"
হাসিরে পায়ে ধরে রাখিবি কেমন করে,
হাসির সে প্রাণের সাধ ও অধরে খেলা করে।
"সারা বরষ দেখি নে মা, মা তুই আমার কেমনধারা,
নয়নতারা হারিয়ে আমার অন্ধ হল নয়নতারা।
এলি কি পাষাণী ওরে
দেখব তোরে আঁখি ভরে
কিছুতেই থামে না যে মা, পোড়া এ নয়নের ধারা।"
"কবরীতে ফুল শুকাল, কাননের ফুল ফুটল বনে,
দিনের আলো প্রকাশিল, মনের সাধ রহিল মনে।"
"ওরে, যেতে হবে, আর দেরি নাই,
পিছিয়ে পড়ে রবি কত, সঙ্গীরা তোর গেল সবাই।
আয় রে ভবের খেলা সেরে, আঁধার করে এসেছে রে,
(ওরে) পিছন ফিরে বারে বারে কাহার পানে চাহিস রে ভাই।
খেলতে এল ভবের নাটে, নতুন লোকে নতুন খেলা,
হেথা হতে আয় রে সরে, নইলে তোরে মারবে ঢেলা,
নামিয়ে দে রে প্রাণের বোঝা, আর এক দেশে চল্‌ রে সোজা,
(সেথা) নতুন করে বাঁধবি বাসা, নতুন খেলা খেলবি সে ঠাঁই।"
"আমার যাবার সময় হল,
আমায় কেন রাখিস ধরে,
চোখের জলের বাঁধন দিয়ে
বাঁধিস নে আর মায়াডোরে।
ফুরিয়েছে জীবনের ছুটি,
ফিরিয়ে নে তোর নয়ন দুটি,
নাম ধরে আর ডাকসি নে ভাই,
যেতে হবে ত্বরা করে।"
"ভিক্ষা যদি দিবে রাই,
(আমার) সোনা রুপায় কাজ নাই,
(আমি) প্রাণের দায়ে এসেছি হে,
মান রতন ভিক্ষা চাই।
আমিই শুধু রইনু বাকি।
যা ছিল তা গেল চলে, রইল যা তা কেবল ফাঁকি
আমার ব'লে ছিল যারা
আর তো তারা দেয় না সাড়া,
কোথায় তারা, কোথায় তারা? কেঁদে কেঁদে কারে ডাকি।
বল্‌ দেখি মা, শুধাই তোরে,
আমার কিছু রাখলি নে রে?
আমি কেবল আমায় নিয়ে কোন্‌ প্রাণেতে বেঁচে থাকি।
আমি শুধু রইনু বাকি।
যা ছিল তা গেল চলে,
রইল যা তা কেবল ফাঁকি।"
তাজবে তাজ নওবে নও।
আমি শুধু রইনু বাকি।
আর কি আমি ছাড়ব তোরে।
মন দিয়ে মন            নাই বা পেলেম
জোর করে রাখিব ধরে।
শূন্য করে হৃদয়-পুরী       প্রাণ যদি করিলে চুরি
তুমিই তবে থাকো সেথায়
শূন্য হৃদয় পূর্ণ করে।
আরো দেখুন
বঁধু, কোন্ আলো লাগল চোখে
Songs
   বঁধু,   কোন্‌ আলো লাগল চোখে!
                       বুঝি    দীপ্তিরূপে ছিলে সূর্যলোকে!
                             ছিল মন তোমারি প্রতীক্ষা করি
                             যুগে যুগে দিন রাত্রি ধরি,
                      ছিল মর্মবেদনাঘন অন্ধকারে,
                             জন্ম-জনম গেল বিরহশোকে।
                             অস্ফুটমঞ্জরী কুঞ্জবনে,
                             সংগীতশূন্য বিষণ্ন মনে
                      সঙ্গীরিক্ত চিরদুঃখরাতি
                             পোহাব কি নির্জনে শয়ন পাতি!
                             সুন্দর হে, সুন্দর হে,
                             বরমাল্যখানি তব আনো বহে,
                      অবগুণ্ঠনছায়া ঘুচায়ে দিয়ে
                             হেরো লজ্জিত স্মিতমুখ শুভ আলোকে॥
আরো দেখুন
মুসলমানীর গল্প
Stories
তখন অরাজকতার চরগুলো কণ্টকিত করে রেখেছিল রাষ্ট্রশাসন, অপ্রত্যাশিত অত্যাচারের অভিঘাতে দোলায়িত হত দিন রাত্রি। দুঃস্বপ্নের জাল জড়িয়েছিল জীবনযাত্রার সমস্ত ক্রিয়াকর্মে, গৃহস্থ কেবলই দেবতার মুখ তাকিয়ে থাকত, অপদেবতার কাল্পনিক আশঙ্কায় মানুষের মন থাকত আতঙ্কিত। মানুষ হোক আর দেবতাই হোক কাউকে বিশ্বাস করা কঠিন ছিল, কেবলই চোখের জলের দোহাই পাড়তে হত। শুভ কর্ম এবং অশুভ কর্মের পরিণামের সীমারেখা ছিল ক্ষীণ। চলতে চলতে পদে পদে মানুষ হোঁচট খেয়ে খেয়ে পড়ত দুর্গতির মধ্যে।
এমন অবস্থায় বাড়িতে রূপসী কন্যার অভ্যাগম ছিল যেন ভাগ্যবিধাতার অভিসম্পাত। এমন মেয়ে ঘরে এলে পরিজনরা সবাই বলত 'পোড়ারমুখী বিদায় হলেই বাঁচি'। সেই রকমেরই একটা আপদ এসে জুটেছিল তিন-মহলার তালুকদার বংশীবদনের ঘরে।
আরো দেখুন
নবীন অতিথি
Verses
গান
হে    নবীন অতিথি,
তুমি  নূতন কি তুমি চিরন্তন।
যুগে যুগে কোথা তুমি ছিলে সংগোপন।
যতনে কত কী আনি   বেঁধেছিনু গৃহখানি,
হেথা কে তোমারে বলো করেছিল নিমন্ত্রণ।
কত আশা ভালোবাসা গভীর হৃদয়তলে
ঢেকে রেখেছিনু বুকে, কত হাসি অশ্রুজলে!
একটি না কহি বাণী         তুমি এলে মহারানী,
কেমনে গোপনে মনে করিলে হে পদার্পণ।
আরো দেখুন
স্বর্ণমৃগ
Stories
আদ্যানাথ এবং বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী দুই শরিক। উভয়ের মধ্যে বৈদ্যনাথের অবস্থাই কিছু খারাপ। বৈদ্যনাথের বাপ মহেশচন্দ্রের বিষয়বুদ্ধি আদৌ ছিল না, তিনি দাদা শিবনাথের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করিয়া থাকিতেন। শিবনাথ ভাইকে প্রচুর স্নেহবাক্য দিয়া তৎপরিবর্তে তাঁহার বিষয়সম্পত্তি সমস্ত আত্মসাৎ করিয়া লন। কেবল খানকতক কোম্পানির কাগজ অবশিষ্ট থাকে। জীবনসমুদ্রে সেই কাগজ-কখানি বৈদ্যনাথের একমাত্র অবলম্বন।
শিবনাথ বহু অনুসন্ধানে তাঁহার পুত্র আদ্যানাথের সহিত এক ধনীর একমাত্র কন্যার বিবাহ দিয়া বিষয়বৃদ্ধির আর-একটি সুযোগ করিয়া রাখিয়াছিলেন। মহেশচন্দ্র একটি সপ্তকন্যাভারগ্রস্ত দরিদ্র ব্রাহ্মণের প্রতি দয়া করিয়া এক পয়সা পণ না লইয়া তাহার জ্যেষ্ঠা কন্যাটির সহিত পুত্রের বিবাহ দেন। সাতটি কন্যাকেই যে ঘরে লন নাই তাহার কারণ, তাঁহার একটিমাত্র পুত্র এবং ব্রাহ্মণও সেরূপ অনুরোধ করে নাই। তবে, তাহাদের বিবাহের উদ্দেশে সাধ্যাতিরিক্ত অর্থসাহায্য করিয়াছিলেন।
আরো দেখুন
অবারিত
Verses
              ওগো, তোরা বল্‌ তো এরে
                        ঘরে বলি কোন্‌ মতে।
  এরে       কে বেঁধেছে হাটের মাঝে
                        আনাগোনার পথে।
              আসতে যেতে বাঁধে তরী
                        আমারি এই ঘাটে,
              যে খুশি সেই আসে--আমার
                        এই ভাবে দিন কাটে।
              ফিরিয়ে দিতে পারি না যে
                        হায় রে--
              কী কাজ নিয়ে আছি, আমার
              বেলা বহে যায় যে, আমার
                        বেলা বহে যায় রে।
              পায়ের শব্দ বাজে তাদের,
                        রজনীদিন বাজে।
  ওগো,     মিথ্যে তাদের ডেকে বলি,
                        "তোদের চিনি না যে!'
              কাউকে চেনে পরশ আমার,
                        কাউকে চেনে ঘ্রাণ,
              কাউকে চেনে বুকের রক্ত,
                        কাউকে চেনে প্রাণ।
              ফিরিয়ে দিতে পারি না যে
                        হায় রে--
              ডেকে বলি, "আমার ঘরে
              যার খুশি সেই আয় রে, তোরা
                        যার খুশি সেই আয় রে।'
              সকালবেলায় শঙ্খ বাজে
                        পুবের দেবালয়ে--
   ওগো,    স্নানের পরে আসে তারা
                        ফুলের সাজি লয়ে।
              মুখে তাদের আলো পড়ে
                        তরুণ আলোখানি;
              অরুণ পায়ের ধুলোটুকু
                        বাতাস লহে টানি।
              ফিরিয়ে দিতে পারি না যে
                        হায় রে--
              ডেকে বলি, "আমার বনে
              তুলিবি ফুল আয় রে তোরা,
                        তুলিবি ফুল আয় রে।'
              দুপুরবেলা ঘণ্টা বাজে
                        রাজার সিংহদ্বারে।
  ওগো,     কী কাজ ফেলে আসে তারা
                        এই বেড়াটির ধারে।
              মলিনবরন মালাখানি
                        শিথিল কেশে সাজে,
              ক্লিষ্টকরুণ রাগে তাদের
                        ক্লান্ত বাঁশি বাজে।
              ফিরিয়ে দিতে পারি না যে
                        হায় রে--
              ডেকে বলি, "এই ছায়াতে
              কাটাবি দিন আয় রে তোরা,
                        কাটাবি দিন আয় রে।'
              রাতের বেলা ঝিল্লি ডাকে
                        গহন বনমাঝে।
   ওগো,    ধীরে ধীরে দুয়ারে মোর
                        কার সে আঘাত বাজে।
              যায় না চেনা মুখখানি তার,
                        কয় না কোনো কথা,
              ঢাকে তারে আকাশ-ভরা
                        উদাস নীরবতা।
              ফিরিয়ে দিতে পারি না যে
                      হায় রে--
              চেয়ে থাকি সে মুখ-পানে--
              রাত্রি বহে যায়, নীরবে
                      রাত্রি বহে যায় রে।
আরো দেখুন
রাজটিকা
Stories
নবেন্দুশেখরের সহিত অরুণলেখার যখন বিবাহ হইল, তখন হোমধূমের অন্তরাল হইতে ভগবান প্রজাপতি ঈষৎ একটু হাস্য করিলেন। হায়, প্রজাপতির পক্ষে যাহা খেলা আমাদের পক্ষে তাহা সকল সময়ে কৌতুকের নহে।
নবেন্দুশেখরের পিতা পূর্ণেন্দুশেখর ইংরাজরাজ-সরকারে বিখ্যাত। তিনি এই ভবসমুদ্রে কেবলমাত্র দ্রুতবেগে সেলাম-চালনা দ্বারা রায়বাহাদুর পদবীর উৎতুঙ্গ মরুকূলে উত্তীর্ণ হইয়াছিলেন; আরো দুর্গমতর সম্মানপথের পাথেয় তাঁহার ছিল, কিন্তু পঞ্চান্ন বৎসর বয়ঃক্রমকালে অনতিদূরবর্তী রাজখেতাবের কুহেলিকাচ্ছন্ন গিরিচূড়ার প্রতি করুণ লোলুপ দৃষ্টি স্থিরনিবদ্ধ করিয়া এই রাজানুগৃহীত ব্যাক্তি অকস্মাৎ খেতাববর্জিত লোকে গমন করিলেন এবং তাঁহার বহু-সেলাম-শিথিল গ্রীবাগ্রন্থি শ্মশানশয্যায় বিশ্রাম লাভ করিল।
আরো দেখুন