বোষ্টমী
Stories
আমি লিখিয়া থাকি অথচ লোকরঞ্জন আমার কলমের ধর্ম নয়, এইজন্য লোকেও আমাকে সদাসর্বদা যে রঙে রঞ্জিত করিয়া থাকে তাহাতে কালির ভাগই বেশি। আমার সম্বন্ধে অনেক কথাই শুনিতে হয়; কপালক্রমে সেগুলি হিতকথা নয়, মনোয়ারী তো নহেই।
শরীরে যেখানটায় ঘা পড়িতে থাকে সে জায়গাটা যত তুচ্ছই হোক সমস্ত দেহটাকে বেদনার জোরে সেই ছাড়াইয়া যায়। সে লোক গালি খাইয়া মানুষ হয়, সে আপনার স্বভাবকে যেন ঠেলিয়া একঝোঁকা হইয়া পড়ে। আপনার চারি দিককে ছাড়াইয়া আপনাকেই কেবল তাহার মনে পড়ে-- সেটা আরামও নয়, কল্যাণও নয়। আপনাকে ভোলাটাই তো স্বস্তি।
আরো দেখুন
সন্ধ্যা ও প্রভাত
Stories
এখানে নামল সন্ধ্যা। সূর্যদেব, কোন্‌ দেশে, কোন্‌ সমুদ্রপারে, তোমার প্রভাত হল।
অন্ধকারে এখানে কেঁপে উঠছে রজনীগন্ধা, বাসরঘরের দ্বারের কাছে অবগুণ্ঠিতা নববধূর মতো; কোন্‌খানে ফুটল ভোরবেলাকার কনকচাঁপা।
আরো দেখুন
17
Verses
কখন ঘুমিয়েছিনু,
জেগে উঠে দেখিলাম--
কমলালেবুর ঝুড়ি
পায়ের কাছেতে
কে গিয়েছে রেখে।
কল্পনায় ডানা মেলে
অনুমান ঘুরে ঘুরে ফিরে
একে একে নানা স্নিগ্ধ নামে।
স্পষ্ট জানি না'ই জানি,
এক অজানারে লয়ে
নানা নাম মিলিল আসিয়া
নানা দিক হতে।
এক নামে সব নাম সত্য হয়ে উঠি
দানের ঘটায়ে দিল
পূর্ণ সার্থকতা।
আরো দেখুন
তোতাকাহিনী
Stories
এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।
রাজা বলিলেন, 'এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।'
আরো দেখুন
সখিরে-- পীরিত বুঝবে কে
Songs
সখিরে-- পীরিত বুঝবে কে?
অঁধার হৃদয়ক দুঃখ কাহিনী
          বোলব, শুনবে কে?
রাধিকার অতি অন্তর বেদন
          কে বুঝবে অয়ি সজনী
কে বুঝবে সখি রোয়ত রাধা
          কোন দুখে দিন রজনী?
কলঙ্ক রটায়ব জনি সখি রটাও
         কলঙ্ক নাহিক মানি,
সকল তয়াগব লভিতে শ্যামক
          একঠো আদর বাণী।
মিনতি করিলো সখি শত শত বার, তু
          শ্যামক না দিহ গারি,
শীল মান কুল, অপনি সজনি হম
          চরণে দেয়নু ডারি।
সখিলো--
বৃন্দাবনকো দুরুজন মানুখ
          পিরীত নাহিক জানে,
বৃথাই নিন্দা কাহ রটায়ত
          হমার শ্যামক নামে?
কলঙ্কিনী হম রাধা, সখিলো
          ঘৃণা করহ জনি মনমে
ন আসিও তব্‌ কবহু সজনিলো
          হমার অঁধা ভবনমে।
কহে ভানু অব-- বুঝবে না সখি
          কোহি মরমকো বাত,
বিরলে শ্যামক কহিও বেদন
          বৃক্ষে রাখয়ি মাথ।
আরো দেখুন
আমি সংসারে মন দিয়েছিনু, তুমি
Songs
  আমি  সংসারে মন দিয়েছিনু, তুমি আপনি সে মন নিয়েছ।
  আমি  সুখ ব’লে দুখ চেয়েছিনু, তুমি দুখ ব’লে সুখ দিয়েছ।
           ( দয়া ক’রে দুখ দিলে আমায়, দয়া ক’রে। )
       হৃদয় যাহার শতখানে ছিল শত স্বার্থের সাধনে 
       তাহারে কেমনে কুড়ায়ে আনিলে, বাঁধিলে ভক্তিবাঁধনে।
          ( কুড়ায়ে এনে, শতখান হতে কুড়ায়ে এনে,
               ধুলা হতে তারে কুড়ায়ে এনে। ) 
       সুখ সুখ ক’রে দ্বারে দ্বারে মোরে কত দিকে কত খোঁজালে,
       তুমি যে আমার কত আপনার এবার সে কথা বোঝালে। 
          ( বুঝায়ে দিলে, হৃদয়ে আসি বুঝায়ে দিলে,
               তুমি কে হও আমার বুঝায়ে দিলে। ) 
       করুণা তোমার কোন্‌ পথ দিয়ে কোথা নিয়ে যায় কাহারে,
       সহসা দেখিনু নয়ন মেলিয়ে–এনেছ তোমারি দুয়ারে।
       ( আমি না জানিতে, কোথা দিয়ে আমায় এনেছ
                       আমি না জানিতে। )
আরো দেখুন
দেনাপাওনা
Stories
পাঁচ ছেলের পর যখন এক কন্যা জন্মিল তখন বাপমায়ে অনেক আদর করিয়া তাহার নাম রাখিল নিরুপমা। এ গোষ্ঠীতে এমন শৌখিন নাম ইতিপূর্বে কখনো শোনা যায় নাই। প্রায় ঠাকুরদেবতার নামই প্রচলিত ছিল-- গণেশ, কার্তিক, পার্বতী, তাহার উদাহরণ।
এখন নিরুপমার বিবাহের প্রস্তাব চলিতেছে। তাহার পিতা রামসুন্দর মিত্র অনেক খোঁজ করেন কিন্তু পাত্র কিছুতেই মনের মতন হয় না। অবশেষে মস্ত এক রায়বাহাদুরের ঘরের একমাত্র ছেলেকে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছেন। উক্ত রায়বাহাদুরের পৈতৃক বিষয়-আশয় যদিও অনেক হ্রাস হইয়া আসিয়াছে কিন্তু বনেদি ঘর বটে।
আরো দেখুন
মীনু
Stories
মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব।
বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, 'এও বাঁচে কি না-বাঁচে।'
আরো দেখুন
শক্তিরূপে হেরো
Songs
          শক্তিরূপে হেরো, তাঁর,
          আনন্দিত, অতন্দ্রিত,
              ভূর্লোকে ভূবর্লোকে--
          বিশ্বকাজে, চিত্তমাঝে
              দিনে রাতে।
          জাগো রে জাগো জাগো
              উৎসাহে উল্লাসে--
          পরান বাঁধো রে মরণহরণ
              পরমশক্তি-সাথে ॥
          শ্রান্তি আলস বিষাদ
          বিলাস দ্বিধা বিবাদ
              দূর করো রে।
চলো রে-- চলো রে কল্যাণে,
চলো রে অভয়ে, চলো রে আলোকে,
                   চলো বলে।
দুখ শোক পরিহরি মিলো রে নিখিলে
                   নিখিলনাথে ॥
আরো দেখুন
22
Verses
     এ অসীম গগনের তীরে
          মৃৎকণা জানি ধরণীরে।
আরো দেখুন