অস্পষ্ট
Stories
জানলার ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় সামনের বাড়ির জীবনযাত্রা। রেখা আর ছেদ, দেখা আর না-দেখা দিয়ে সেই ছবি আঁকা।
একদিন পড়ার বই পড়ে রইল, বনমালীর চোখ গেল সেই দিকে।
আরো দেখুন
বনে এমন ফুল
Songs
বনে এমন ফুল ফুটেছে,
মান ক'রে থাকা আজ কি সাজে।
মান অভিমান ভাসিয়ে দিয়ে
চলো চলো কুঞ্জমাঝে॥
আজ   কোকিলে গেয়েছে কুহু   মুহুর্‌মুহু,
কাননে ওই বাঁশি বাজে।
মান ক'রে থাকা আজ কি সাজে॥
আজ   মধুরে মিশাবি মধু,   পরানবঁধু
চাঁদের আলোয় ওই বিরাজে।
মান ক'রে থাকা আজ কি সাজে॥
আরো দেখুন
সন্ন্যাসী যে জাগিল
Songs
সন্ন্যাসী যে জাগিল ওই, জাগিল ওই, জাগিল!
     হাস্য-ভরা দখিন-বায়ে   অঙ্গ হতে দিল উড়ায়ে
শ্মশানচিতাভস্মরাশি-- ভাগিল কোথা ভাগিল।
     মানসলোকে শুভ্র আলো   চূর্ণ হয়ে রঙ জাগালো,
মদির রাগ লাগিল তারে-- হৃদয়ে তার লাগিল॥
     আয় রে তোরা, আয় রে তোরা, আয় রে--
          রঙের ধারা ওই-যে বহে যায় রে॥
          রঙের ঝড় উচ্ছ্বসিল গগনে,
রঙের ঢেউ রসের স্রোতে মাতিয়া ওঠে সঘনে--
          ডাকিল বান আজি সে কোন্‌ কোটালে।
নাকাড়া বাজে কানাড়া বাজে বাঁশিতে--
          কান্নাধারা মিলিয়া গেছে হাসিতে--
              প্রাণের মাঝে ফোয়ারা তার ছোটালে।
এসেছে হাওয়া বাণীতে দোল-দোলানো,   এসেছে পথ-ভোলানো--
     এসেছে ডাক ঘরের দ্বার-খোলানো ॥
          আয় রে তোরা, আয় রে তোরা, আয় রে--
              রঙের ধারা ওই-যে বহে যায় রে॥
উদয়রবি যে রাঙা রঙ রাঙায়ে   পূর্বাচলের দিয়েছে ঘুম ভাঙায়ে
          অস্তরবি সে রাঙা রসে রসিল--
                   চিরপ্রাণের বিজয়বাণী ঘোষিল।
অরুণবীণা যে সুর দিল রণিয়া   সন্ধ্যাকাশে সে সুর উঠে ঘনিয়া
     নীরব নিশীথিনীর বুকে নিখিল ধ্বনি ধ্বনিয়া।
          আয় রে তোরা, আয় রে তোরা, আয় রে--
                   বাঁধন-হারা রঙের ধারা ওই-যে বহে যায় রে॥
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন
73
Verses
সায়াহ্নে রবির কর পড়িল গগন নীলিমায়
মহীরে আশিসবাণী লিখি দিল ললাটসীমায়।
আরো দেখুন
উড়িয়ে ধ্বজা
Songs
          উড়িয়ে ধ্বজা অভ্রভেদী রথে
          ওই-যে তিনি, ওই-যে বাহির পথে ॥
আয় রে ছুটে, টানতে হবে রশি--
ঘরের কোণে রইলি কোথায় বসি!
ভিড়ের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে গিয়ে
                   ঠাঁই ক'রে তুই নে রে কোনোমতে ॥
          কোথায় কী তোর আছে ঘরের কাজ
          সে-সব কথা ভুলতে হবে আজ।
টান্‌ রে দিয়ে সকল চিত্তকায়া,
টান্‌ রে ছেড়ে তুচ্ছ প্রাণের মায়া,
চল্‌ রে টেনে আলোয় অন্ধকারে
                   নগর-গ্রামে অরণ্যে পর্বতে ॥
          ওই-যে চাকা ঘুরছে রে ঝন্‌ঝনি,
          বুকের মাঝে শুনছ কি সেই ধ্বনি?
রক্তে তোমার দুলছে না কি প্রাণ?
গাইছে না মন মরণজয়ী গান?
আকাঙক্ষা তোর বন্যাবেগের মতো
          ছুটছে না কি বিপুল ভবিষ্যতে?।
আরো দেখুন
পাত্র ও পাত্রী
Stories
ইতিপূর্বে প্রজাপতি কখনো আমার কপালে বসেন নি বটে, কিন্তু একবার আমার মানসপদ্মে বসেছিলেন। তখন আমার বয়স ষোলো। তার পরে কাঁচা ঘুমে চমক লাগিয়ে দিলে যেমন ঘুম আর আসতে চায় না, আমার সেই দশা হল। আমার বন্ধুবান্ধবরা কেউ কেউ দারপরিগ্রহ ব্যাপারে দ্বিতীয়, এমন-কি তৃতীয় পক্ষে প্রোমোশন পেলেন; আমি কৌমার্যের লাস্ট বেঞ্চিতে বসে শূন্য সংসারের কড়িকাঠ গণনা করে কাটিয়ে দিলুম।
আমি চোদ্দ বছর বয়সে এনট্রেন্স পাস করেছিলুম। তখন বিবাহ কিম্বা এনট্রেন্স পরীক্ষায় বয়সবিচার ছিল না। আমি কোনোদিন পড়ার বই গিলি নি, সেইজন্যে শারীরিক বা মানসিক অজীর্ণ রোগে আমাকে ভুগতে হয় নি। ইঁদুর যেমন দাঁত বসাবার জিনিস পেলেই সেটাকে কেটে-কুটে ফেলে, তা সেটা খাদ্যই হোক আর অখাদ্যই হোক, শিশুকাল থেকেই তেমনি ছাপার বই দেখলেই সেটা পড়ে ফেলা আমার স্বভাব ছিল। সংসারে পড়ার বইয়ের চেয়ে না-পড়ার বইয়ের সংখ্যা ঢের বেশি, এইজন্য আমার পুঁথির সৌরজগতে স্কুল-পাঠ্য পৃথিবীর চেয়ে বেস্কুল-পাঠ্য সূর্য চোদ্দ লক্ষগুণে বড়ো ছিল। তবু, আমার সংস্কৃত-পণ্ডিতমশায়ের নিদারুণ ভবিষ্যদ্‌বাণী সত্ত্বেও, আমি পরীক্ষায় পাস করেছিলুম।
আরো দেখুন
জয়পরাজয়
Stories
রাজকন্যার নাম অপরাজিতা। উদয়নারায়ণের সভাকবি শেখর তাঁহাকে কখনো চক্ষেও দেখেন নাই। কিন্তু যেদিন কোনো নূতন কাব্য রচনা করিয়া সভাতলে বসিয়া রাজাকে শুনাইতেন, সেদিন কণ্ঠস্বর ঠিক এতটা উচ্চ করিয়া পড়িতেন যাহাতে তাহা সেই সমুচ্চ গৃহের উপরিতলের বাতায়নবর্তিনী অদৃশ্য শ্রোত্রীগণের কর্ণপথে প্রবেশ করিতে পারে। যেন তিনি কোনো-এক অগম্য নক্ষত্রলোকের উদ্দেশে আপনার সংগীতোচ্ছ্বাস প্রেরণ করিতেন যেখানে জ্যোতিষ্ক-মণ্ডলীর মধ্যে তাঁহার জীবনের একটি অপরিচিত শুভগ্রহ অদৃশ্য মহিমায় বিরাজ করিতেছেন।
কখনো ছায়ার মতন দেখিতে পাইতেন, কখনো নূপুরশিঞ্জনের মতন শুনা যাইত; বসিয়া বসিয়া মনে মনে ভাবিতেন, সে কেমন দুইখানি চরণ যাহাতে সেই সোনার নূপুর বাঁধা থাকিয়া তালে তালে গান গাহিতেছে। সেই দুইখানি রক্তিম শুভ্র কোমল চরণতল প্রতি পদক্ষেপে কী সৌভাগ্য কী অনুগ্রহ কী করুণার মতো করিয়া পৃথিবীকে স্পর্শ করে। মনের মধ্যে সেই চরণদুটি প্রতিষ্ঠা করিয়া কবি অবসরকালে সেইখানে আসিয়া লুটাইয়া পড়িত এবং সেই নূপুরশিঞ্জনের সুরে আপনার গান বাঁধিত।
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
দালিয়া
Stories
পরাজিত শা সুজা ঔরঞ্জীবের ভয়ে পলায়ন করিয়া আরাকান-রাজের আতিথ্য গ্রহণ করেন। সঙ্গে তিন সুন্দরী কন্যা ছিল। আরাকান-রাজের ইচ্ছা হয়, রাজপুত্রদের সহিত তাহাদের বিবাহ দেন। সেই প্রস্তাবে শা সুজা নিতান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করাতে একদিন রাজার আদেশে তাঁহাকে ছলক্রমে নৌকাযোগে নদীমধ্যে লইয়া নৌকা ডুবাইয়া দিবার চেষ্টা করা হয়। সেই বিপদের সময় কনিষ্ঠা বালিকা আমিনাকে পিতা স্বয়ং নদীমধ্যে নিক্ষেপ করেন। জ্যেষ্ঠা কন্যা আত্মহত্যা করিয়া মরে। এবং সুজার একটি বিশ্বাসী কর্মচারী রহমত আলি জুলিখাকে লইয়া সাঁতার দিয়া পালায়, এবং সুজা যুদ্ধ করিতে করিতে মরেন।
আমিনা খরস্রোতে প্রবাহিত হইয়া দৈবক্রমে অনতিবিলম্বে এক ধীবরের জালে উদ্‌ধৃত হয় এবং তাহারই গৃহে পালিত হইয়া বড়ো হইয়া উঠে।
আরো দেখুন
কেন গান শুনাই
Verses
          এসো সখি, এসো মোর কাছে,
                   কথা এক শুধাবার আছে!
          চেয়ে তব মুখপানে ব'সে এই ঠাঁই--
          প্রতিদিন যত গান তোমারে শুনাই,
          বুঝিতে কি পার সখি কেন যে তা গাই?
          শুধু কি তা পশে কানে? কথাগুলি তার
          কোথা হতে উঠিতেছে ভাবো একবার?
                   বুঝ না কি হৃদয়ের
                             কোন্‌খানে শেল ফুটে
                   তবে প্রতি কথাগুলি
                             আর্তনাদ করি উঠে!
          যখন নয়নে উঠে বিন্দু অশ্রুজল,
          তখন কি তাই তুই দেখিস কেবল?
দেখ না কি কী সমুদ্র হৃদয়েতে উথলিছে,
শুধু কণামাত্র তার আঁখিপ্রান্তে বিগলিছে!
          যখন একটি শুধু উঠে রে নিশ্বাস,
          তখন কি তাই শুধু শুনিবারে পাস?
শুনিস না কী ঝটিকা হৃদয়ে বেড়ায় ছুটে
          একটি উচ্ছ্বাস শুধু বাহিরেতে ফুটে!
          যে কথাটি বলি আমি শোনো শুধু তাই?
          শোনো না কি যত কথা বলা হইল না?
                   যত কথা বলিবারে চাই?
               আমি কি শুনাই গান
               ভালো মন্দ করিতে বিচার?
          যবে এ নয়ন হতে বহে অশ্রুধার--
               শুধু কি রে দেখিবি তখন
          সে অশ্রু উজ্জ্বল কি না হীরার মতন?
আমার এ গান তোরে যখন শুনাই
নিন্দা বা প্রশংসা আমি কিছু নাহি চাই--
                   যে হৃদি দিয়েছি তোরে
          তাই তোরে দেখাবারে চাই,
          তারি ভাষা বুঝাবারে চাই,
          তারি ব্যথা জানাবারে চাই,
                   আর কিবা চাই?
          সেই হৃদি দেখিলি যখন,
          তারি ভাষা বুঝিলি যখন,
          তারি ব্যথা জানিলি যখন
  তখন একটি বিন্দু অশ্রুবারি চাই!
          (আর কিবা চাই! )
          আয় সখি কাছে মোর আয়,
          কথা এক শুধাব তোমায়--
  এত গান শুনালেম এত অনুরাগে
          কথা তার বুকে কি লো লাগে?
          একটি নিশ্বাস কি লো জাগে?
  কথা শুধু শুনিয়া কি যাস?
          ভালো মন্দ বুঝিস কেবল?
          প্রাণের ভিতর হতে
          উঠে না একটি অশ্রুজল?
আরো দেখুন