নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
বিদূষক
Stories
কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনামানিকে হাতি বোঝাই হল।
দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন।
আরো দেখুন
বালক
Verses
বালক বয়স ছিল যখন, ছাদের কোণের ঘরে
                   নিঝুম দুইপহরে
                   দ্বারের 'পরে হেলিয়ে মাথা
                          মেঝে মাদুর পাতা,
                   একা একা কাটত রোদের বেলা--
       না মেনেছি পড়ার শাসন, না করেছি খেলা।
                 দূর আকাশে ডেকে যেত চিল,
       সিসুগাছের ডালপালা সব বাতাসে ঝিলমিল।
                 তপ্ত তৃষায় চঞ্চু করি ফাঁক
                 প্রাচীর-'পরে ক্ষণে ক্ষণে বসত এসে কাক।
                 চড়ুই পাখির আনাগোনা মুখর কলভাষা--
                 ঘরের মধ্যে কড়ির কোণে ছিল তাদের বাসা।
      ফেরিওয়ালার ডাক শোনা যায় গলির ওপার থেকে--
               দূরের ছাদে ঘুড়ি ওড়ায় সে কে।
                      কখন্‌ মাঝে-মাঝে
      ঘড়িওয়ালা কোন্‌ বাড়িতে ঘণ্টাধ্বনি বাজে।
সামনে বিরাট অজানিত, সামনে দৃষ্টি-পেরিয়ে-যাওয়া দূর
                বাজাত কোন্‌ ঘর-ভোলানো সুর।
                কিসের পরিচয়ের লাগি
আকাশ-পাওয়া উদাসী মন সদাই ছিল জাগি।
              অকারণের ভালোলাগা
অকারণের ব্যথায় মিলে গাঁথত স্বপন নাইকো গোড়া আগা।
              সাথিহীনের সাথি
মনে হত দেখতে পেতেম দিগন্তে নীল আসন ছিল পাতি।
সত্তরে আজ পা দিয়েছি আয়ুশেষের কূলে
               অন্তরে আজ জানলা দিলেম খুলে।
তেমনি আবার বালকদিনের মতো
       চোখ মেলে মোর সুদূর-পানে বিনা কাজে প্রহর হল গত।
                    প্রখর তাপের কাল,
              ঝরঝরিয়ে কেঁপে ওঠে শিরীষগাছের ডাল;
                    কুয়োর ধারে তেঁতুলতলায় ঢুকে
              পাড়ার কুকুর ঘুমিয়ে পড়ে ভিজে মাটির স্নিগ্ধ পরশসুখে।
              গাড়ির গোরু ক্ষণকালের মুক্তি পেয়ে ক্লান্ত আছে শুয়ে
                     জামের ছায়ার তৃণবিহীন ভুঁয়ে।
                     কাঁকর-পথের পারে
              শুকনো পাতার দৈন্য জমে গন্ধরাজের সারে।
                    চেয়ে আছি দু-চোখ দিয়ে সব-কিছুরে ছুঁয়ে,
                    ভাবনা আমার সবার মাঝে থুয়ে।
                    বালক যেমন নগ্ন-আবরণ,
                            তেমনি আমার মন
              ঐ কাননের সবুজ ছায়ায় এই আকাশের নীলে
                      বিনা বাধায় এক হয়ে যায় মিলে।
                      সকল জানার মাঝে
               চিরকালের না-জানা কার শঙ্খধ্বনি বাজে।
       এই ধরণীর সকল সীমায় সীমাহারার গোপন আনাগোনা
                    সেই আমারে করেছে আন্‌মনা।
আরো দেখুন
কী ভয় অভয়ধামে
Songs
কী ভয় অভয়ধামে, তুমি মহারাজা-- ভয় যায় তব নামে ॥
          নির্ভয়ে অযুত সহস্র লোক ধায় হে,
          গগনে গগনে সেই অভয়নাম গায় হে ॥
          তব বলে কর বলী যারে, কৃপাময়,
          লোকভয় বিপদ মৃত্যুভয় দূর হয় তার।
আশা বিকাশে, সব বন্ধন ঘুচে, নিত্য অমৃতরস পায় হে ॥
আরো দেখুন
ঘাটের কথা
Stories
পাষাণে ঘটনা যদি অঙ্কিত হইত তবে কতদিনকার কত কথা আমার সোপানে সোপানে পাঠ করিতে পারিতে। পুরাতন কথা যদি শুনিতে চাও, তবে আমার এই ধাপে বইস; মনোযোগ দিয়া জলকল্লোলে কান পাতিয়া থাকো, বহুদিনকার কত বিস্মৃত কথা শুনিতে পাইবে।
আমার আর-একদিনের কথা মনে পড়িতেছে। সেও ঠিক এইরূপ দিন। আশ্বিন মাস পড়িতে আর দুই-চারি দিন বাকি আছে। ভোরের বেলায় অতি ঈষৎ মধুর নবীন শীতের বাতাস নিদ্রোত্থিতের দেহে নূতন প্রাণ আনিয়া দিতেছে। তরু-পল্লব অমনি একটু একটু শিহরিয়া উঠিতেছে।
আরো দেখুন
রানী, তোর ঠোঁট দুটি মিঠি
Verses
রানী, তোর ঠোঁট দুটি মিঠি
রানী, তোর মধুখানা দিঠি
রানী, তুই মণি তুই ধন,
তোর কথা ভাবি সারাক্ষণ।
দীর্ঘ সন্ধ্যা কাটে কী করিয়া?
সাধ যায় তোর কাছে গিয়া
চুপিচাপি বসি এক ভিতে
ছোটোছোটো সেই ঘরটিতে।
ছোটো হাতখানি হাতে করে
অধরেতে রেখে দিই ধরে।
ভিজাই ফেলিয়া আঁখিজল
ছোট সে কোমল করতল।
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
123
Verses
THE BIRD thinks it is an act of kindness to give the fish a lift in the air.
আরো দেখুন