হায়, হায় রে, হায় পরবাসী
Songs
                   হায় হায় রে হায় পরবাসী,
                  হায় গৃহছাড়া উদাসী।
      অন্ধ অদৃষ্টের আহ্বানে
কোথা   অজানা অকূলে চলেছিস ভাসি।
            শুনিতে কি পাস দূর আকাশে
      কোন্‌ বাতাসে সর্বনাশার বাঁশি।
ওরে, নির্মম ব্যাধ যে গাঁথে
                  মরণের ফাঁসি।
      রঙিন মেঘের তলে
গোপন অশ্রুজলে
      বিধাতার দারুণ বিদ্রূপবজ্রে
            সঞ্চিত নীরব অট্টহাসি॥
আরো দেখুন
কথা কোস নে লো রাই
Songs
     কথা     কোস্‌ নে লো রাই, শ্যামের বড়াই বড়ো বেড়েছে ।
             কে জানে ও কেমন ক’রে মন কেড়েছে ।।
             শুধু ধীরে বাজায় বাঁশি,  শুধু হাসে মধুর হাসি—
             গোপিনীদের হৃদয় নিয়ে তবে ছেড়েছে ।।
আরো দেখুন
ভাইফোঁটা
Stories
শ্রাবণ মাসটা আজ যেন এক রাত্রে একেবারে দেউলে হইয়া গেছে। সমস্ত আকাশে কোথাও একটা ছেঁড়া মেঘের টুকরোও নাই।
আশ্চর্য এই যে, আমার সকালটা আজ এমন করিয়া কাটিতেছে। আমার বাগানের মেহেদি-বেড়ার প্রান্তে শিরীষগাছের পাতাগুলো ঝল্‌মল্‌ করিয়া উঠিতেছে, আমি তাহা তাকাইয়া দেখিতেছি। সর্বনাশের যে মাঝ-দরিয়ায় আসিয়া পৌঁছিয়াছি এটা যখন দূরে ছিল তখন ইহার কথা কল্পনা করিয়া কত শীতের রাত্রে সর্বাঙ্গে ঘাম দিয়াছে,কত গ্রীষ্মের দিনে হাত-পায়ের তেলো ঠাণ্ডা হিম হইয়া গেছে। কিন্তু আজ সমস্ত ভয়ভাবনা হইতে এমনি ছুটি পাইয়াছি যে, ঐ যে আতাগাছের ডালে একটা গিরগিটি স্থির হইয়া শিকার লক্ষ্য করিতেছে,সেটার দিকেও আমার চোখ রহিয়াছে।
আরো দেখুন
১৬১
Verses
১৬১
লিলি,তোমারে গেঁথেছি হারে,আপন বলে চিনি,
         তবুও তুমি রবে কি বিদেশিনী॥    
আরো দেখুন
বিরহীর পত্র
Verses
     হয় কি না হয় দেখা, ফিরি কি না ফিরি,
          দূরে গেলে এই মনে হয়;
     দুজনার মাঝখানে অন্ধকারে ঘিরি
          জেগে থাকে সতত সংশয়।
     এত লোক, এত জন, এত পথ, গলি,
          এমন বিপুল এ সংসার--
     ভয়ে ভয়ে হাতে হাতে বেঁধে বেঁধে চলি
          ছাড়া পেলে কে আর কাহার।
     তারায় তারায় সদা থাকে চোখে চোখে
          অন্ধকারে অসীম গগনে।
     ভয়ে ভয়ে অনিমেষে কম্পিত আলোকে
          বাঁধা থাকে নয়নে নয়নে।
               চৌদিকে অটল স্তব্ধ সুগভীর রাত্রি,
                   তরুহীন মরুময় ব্যোম--
     মুখে মুখে চেয়ে তাই চলে যত যাত্রী
          চলে গ্রহ রবি তারা সোম।
     নিমেষের অন্তরালে কী আছে কে জানে,
          নিমেষে অসীম পড়ে ঢাকা--
     অন্ধ কাল তুরঙ্গম রাশ নাহি মানে
          বেগে ধায় অদৃষ্টের চাকা।
     কাছে কাছে পাছে পাছে চলিবারে চাই,
          জেগে জেগে দিতেছি পাহারা,
     একটু এসেছে ঘুম--চমকি তাকাই
          গেছে চলে কোথায় কাহারা!
     ছাড়িয়ে চলিয়া গেলে কাঁদি তাই একা
          বিরহের সমুদ্রের তীরে।
     অনন্তের মাঝখানে দুদন্ডের দেখা
          তাও কেন রাহু এসে ঘিরে।
     মৃত্যু যেন মাঝে মাঝে দেখা দিয়ে যায়,
          পাঠায় সে বিরহের চর।
     সকলেই চলে যাবে, পড়ে রবে হায়
          ধরণীর শূন্য খেলাঘর।
     গ্রহ তারা ধূমকেতু কত রবি শশী,
          শূন্য ঘেরি জগতের ভিড়,
     তারি মাঝে যদি ভাঙে, যদি যায় খসি
          আমাদের দুদন্ডের নীড়--
     কোথায় কে হারাইব--কোন্‌ রাত্রিবেলা
          কে কোথায় হইব অতিথি।
     তখন কি মনে রবে দুদিনের খেলা,
          দরশের পরশের স্মৃতি!
     তাই মনে ক'রে কি রে চোখে জল আসে
          একটুকু চোখের আড়ালে!
     প্রাণ যারে প্রাণের অধিক ভালোবাসে
          সেও কি রবে না এক কালে!
     আশা নিয়ে এ কি শুধু খেলাই কেবল--
          সুখ দুঃখ মনের বিকার!
     ভালোবাসা কাঁদে, হাসে, মোছে অশ্রুজল,
          চায়, পায়, হারায় আবার।
আরো দেখুন
জীবিত ও মৃত
Stories
রানীহাটের জমিদার শারদাশংকরবাবুদের বাড়ির বিধবা বধূটির পিতৃকুলে কেহ ছিল না; সকলেই একে একে মারা গিয়াছে। পতিকুলেও ঠিক আপনার বলিতে কেহ নাই, পতিও নাই পুত্রও নাই। একটি ভাশুরপো, শারদাশংকরের ছোটো ছেলেটি, সেই তাহার চক্ষের মণি। সে জন্মিবার পর তাহার মাতার বহুকাল ধরিয়া শক্ত পীড়া হইয়াছিল, সেইজন্য এই বিধবা কাকি কাদম্বিনীই তাহাকে মানুষ করিয়াছে। পরের ছেলে মানুষ করিলে তাহার প্রতি প্রাণের টান আরো যেন বেশি হয়, কারণ তাহার উপরে অধিকার থাকে না; তাহার উপরে কোনো সামাজিক দাবি নাই, কেবল স্নেহের দাবি-- কিন্তু কেবলমাত্র স্নেহ সমাজের সমক্ষে আপনার দাবি কোনো দলিল অনুসারে সপ্রমাণ করিতে পারে না এবং চাহেও না, কেবল অনিশ্চিত প্রাণের ধনটিকে দ্বিগুণ ব্যাকুলতার সহিত ভালোবাসে।
বিধবার সমস্ত রুদ্ধ প্রীতি এই ছেলেটির প্রতি সিঞ্চন করিয়া একদিন শ্রাবণের রাত্রে কাদম্বিনীর অকস্মাৎ মৃত্যু হইল। হঠাৎ কী কারণে তাহার হৃৎস্পন্দন স্তব্ধ হইয়া গেল-- সময় জগতের আর-সর্বত্রই চলিতে লাগিল, কেবল সেই স্নেহকাতর ক্ষুদ্র কোমল বক্ষটির ভিতর সময়ের ঘড়ির কল চিরকালের মতো বন্ধ হইয়া গেল।
আরো দেখুন
দীনা
Verses
তোমারে সম্পূর্ণ জানি হেন মিথ্যা কখনো কহি নি,
     প্রিয়তম, আমি বিরহিণী
          পরিপূর্ণ মিলনের মাঝে।
              মোর স্পর্শে বাজে
     যে-তন্ত্রটি তোমার বীণায়,
তাহারি পঞ্চম স্বরে তোমারে কি নিঃশেষে চিনায়
              তোমার বসন্তরাগে,
     নিদ্রাহীন রজনীর পরজে বেহাগে।
     সে তন্ত্র সোনার বটে-- বিভাসে ললিতে
          যে কথা সে চেয়েছে বলিতে
     তাইতে হয়েছে পূর্ণ এ আমার জীবন-অঞ্জলি।
          তবু সত্য করে বলি,
              ব্যথা লাগে বুকে
          যখন সহসা আসি তোমার সম্মুখে
              নিভৃত তোমার ঘরে
          স্বপ্নভাঙা প্রথম প্রহরে--
              যখন জাগে নি পাখি, রক্তিম আকাশে
     আসন্ন অরণ্যগাথা নব সূর্যোদয়-আশে
              রয়েছে স্তম্ভিত,
পিঙ্গল আভায় দীপ্ত জটা-বিলম্বিত
          অরুণ সন্ন্যাসী
করজোড়ে আছে স্থির আলোকপ্রত্যাশী--
তখন তোমার মুখ চেয়ে দেখিয়াছি ভয়ে ভয়ে,
          জেনেছি হৃদয়ে
              তুমিই অচেনা।
          কোনো দিন ফুরাবে না
পরিচয়; তোমারে বুঝিব আমি করি না সে আশা,
কথায় যা বল নাই, আমি-যে জানি না তার ভাষা।
ভয় হয় পাছে
     যে-সম্পদ চেয়েছিলে মোর কাছে
সে-যে মোর নাই, তাই শেষে পড়ে ধরা,
দেখ দূর হতে এসে জলাশয়ে জল নাই ভরা।
     তখন নিয়ো না যেন অপরাধ মোর,
          হোয়ো না কঠোর।
তুমি যদি মুগ্ধ মনে ভুলে থাক, তবু
গভীর দীনতা মোর গোপন করি নি আমি কভু।
     মোর দ্বারে যবে এলে অন্যমনা
সে কি মোর কিছু নিয়ে পুরাতে কামনা।
নহে নহে, হে রাজন, তোমার অনেক ধন আছে,
     তাই তুমি আস মোর কাছে
দেবার আনন্দ তব পূর্ণ করিবার লাগি;
যদি তাই পূর্ণ হয়, তবে আমি নহি তো অভাগী।
আরো দেখুন
আগমনী
Stories
আয়োজন চলেইছে। তার মাঝে একটুও ফাঁক পাওয়া যায় না যে ভেবে দেখি, কিসের আয়োজন।
তবুও কাজের ভিড়ের মধ্যে মনকে এক-একবার ঠেলা দিয়ে জিজ্ঞাসা করি, 'কেউ আসবে বুঝি?'
আরো দেখুন
সতেরো বছর
Stories
আমি তার সতেরো বছরের জানা।
কত আসাযাওয়া, কত দেখাদেখি, কত বলাবলি; তারই আশেপাশে কত স্বপ্ন, কত অনুমান, কত ইশারা; তারই সঙ্গে সঙ্গে কখনো বা ভোরের ভাঙা ঘুমে শুকতারার আলো, কখনো বা আষাঢ়ের ভরসন্ধ্যায় চামেলিফুলের গন্ধ, কখনো বা বসন্তের শেষ প্রহরে ক্লান্ত নহবতের পিলুবারোয়াঁ; সতেরো বছর ধরে এই-সব গাঁথা পড়েছিল তার মনে।
আরো দেখুন
ফেল
Stories
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না।
নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য।
আরো দেখুন