তারাপ্রসন্নের কীর্তি
Stories
লেখকজাতির প্রকৃতি অনুসারে তারাপ্রসন্ন কিছু লাজুক এবং মুখচোরা ছিলেন। লোকের কাছে বাহির হইতে গেলে তাঁহার সর্বনাশ উপস্থিত হইত। ঘরে বসিয়া কলম চালাইয়া তাঁহার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, পিঠ একটু কুঁজা, সংসারের অভিজ্ঞতা অতি অল্প। লৌকিকতার বাঁধি বোলসকল সহজে তাঁহার মুখে আসিত না, এইজন্য গৃহদুর্গের বাহিরে তিনি আপনাকে কিছুতেই নিরাপদ মনে করিতেন না।
লোকেও তাঁহাকে একটা উজবুক রকমের মনে করিত এবং লোকেরও দোষ দেওয়া যায় না। মনে করো, প্রথম পরিচয়ে একটি পরম ভদ্রলোক উচ্ছ্বসিত কন্ঠে তারাপ্রসন্নকে বলিলেন, "মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হয়ে যে কী পর্যন্ত আনন্দ লাভ করা গেল, তা একমুখে বলতে পারি নে"-- তারাপ্রসন্ন নিরুত্তর হইয়া নিজের দক্ষিণ করতল বিশেষ মনোযোগপূর্বক নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। হঠাৎ সে নীরবতার অর্থ এইরূপ মনে হয়, "তা, তোমার আনন্দ হয়েছে সেটা খুব সম্ভব বটে, কিন্তু আমার-যে আনন্দ হয়েছে এমন মিথ্যা কথাটা কী করে মুখে উচ্চারণ করব তাই ভাবছি।"
আরো দেখুন
সতেরো বছর
Stories
আমি তার সতেরো বছরের জানা।
কত আসাযাওয়া, কত দেখাদেখি, কত বলাবলি; তারই আশেপাশে কত স্বপ্ন, কত অনুমান, কত ইশারা; তারই সঙ্গে সঙ্গে কখনো বা ভোরের ভাঙা ঘুমে শুকতারার আলো, কখনো বা আষাঢ়ের ভরসন্ধ্যায় চামেলিফুলের গন্ধ, কখনো বা বসন্তের শেষ প্রহরে ক্লান্ত নহবতের পিলুবারোয়াঁ; সতেরো বছর ধরে এই-সব গাঁথা পড়েছিল তার মনে।
আরো দেখুন
এস' এস' বসন্ত,
Songs
এস'     এস' বসন্ত, ধরাতলে--
আন'    মুহু মুহু নব তান, আন' নব প্রাণ, নব গান।
আন'    গন্ধমদভরে অলস সমীরণ।
আন'    বিশ্বের অন্তরে অন্তরে নিবিড় চেতনা।
আন'    নব উল্লাসহিল্লোল,
আন'    আন' আনন্দছন্দের হিন্দোলা ধরাতলে।
ভাঙ'    ভাঙ' বন্ধনশৃঙ্খল।
আন'    আন' উদ্দীপ্ত প্রাণের বেদনা ধরাতলে।
এস'    থরথর-কম্পিত    মর্মরমুখরিত    নবপল্লবপুলকিত
ফুল-   আকুল মালতীবল্লিবিতানে-- সুখছায়ে মধুবায়ে।
এস'     বিকশিত উন্মুখ,    এস' চিরউৎসুক    নন্দনপথচিরযাত্রী।
এস'     স্পন্দিত নন্দিত চিত্তনিলয়ে    গানে গানে, প্রাণে প্রাণে।
এস'     অরুণচরণ কমলবরন তরুণ উষার কোলে।
এস'    জ্যোৎস্নাবিবশ নিশীথে,    কলকল্লোল তটিনী-তীরে,
সুখ-    সুপ্ত সরসী-নীরে। এস' এস'।
এস'    তড়িৎ-শিখা-সম ঝঞ্ঝাচরণে    সিন্ধুতরঙ্গদোলে।
এস'    জাগরমুখর প্রভাতে।
এস'   নগরে প্রান্তরে বনে।
এস'    কর্মে বচনে মনে। এস' এস'।
এস'    মঞ্জীরগুঞ্জর চরণে।
এস'    গীতমুখর কলকণ্ঠে।
এস'    মঞ্জুল মল্লিকামাল্যে।
এস'    কোমল কিশলয়বসনে।
এস'    সুন্দর, যৌবনবেগে।
এস'    দৃপ্ত বীর, নব তেজে।
ওহে    দুর্মদ, করো জয়যাত্রা,
চল'     জরাপরাভব-সমরে
        পবনে কেশররেণু ছড়ায়ে,
        চঞ্চল কুন্তল উড়ায়ে॥
আরো দেখুন
চিত্রকর
Stories
ময়মনসিংহ ইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে আমাদের গোবিন্দ এল কলকাতায়। বিধবা মায়ের অল্প কিছু সম্বল ছিল। কিন্তু, সব-চেয়ে তার বড়ো সম্বল ছিল নিজের অবিচলিত সংকল্পের মধ্যে। সে ঠিক করেছিল, 'পয়সা' করবই, সমস্ত জীবন উৎসর্গ করে দিয়ে।' সর্বদাই তার ভাষায় ধনকে সে উল্লেখ করত 'পয়সা' বলে। অর্থাৎ, তার মনে খুব একটা দর্শন স্পর্শন ঘ্রাণের যোগ্য প্রত্যক্ষ পদার্থ ছিল; তার মধ্যে বড়ো নামের মোহ ছিল না; অত্যন্ত সাধারণ পয়সা, হাটে হাটে হাতে হাতে ঘুরে ঘুরে ক্ষয়ে যাওয়া, মলিন হয়ে যাওয়া পয়সা, তাম্রগন্ধী পয়সা, কুবেরের আদিম স্বরূপ, যা রুপোয় সোনায় কাগজে দলিলে নানা মূর্তি পরিগ্রহ করে মানুষের মনকে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।
নানা বাঁকা পথের ভিতর দিয়ে নানা পঙ্কে আবিল হতে হতে আজ গোবিন্দ তার পয়সাপ্রবাহিণীর প্রশস্তধারার পাকা বাঁধানো ঘাটে এসে পৌঁচেছে। গানিব্যাগ্‌ওয়ালা বড়োসাহেব ম্যাক্‌ডুগালের বড়োবাবুর আসনে তার ধ্রুব প্রতিষ্ঠা। সবাই তাকে নাম দিয়েছিল ম্যাক্‌দুলাল।
আরো দেখুন
43
Verses
DYING, YOU have left behind you the great sadness of the Eternal in my life. You have painted my thought's horizon with the sunset colours of your departure, leaving a track of tears across the earth to love's heaven.
Clasped in your dear arms, life and death united in me in a marriage bond.
I think I can see you watching there in the balcony with your lamp lighted, where the end and the beginning of all things meet My world went hence through the doors that you opened-you holding the cup of death to my lips, filling it with life from your own.
আরো দেখুন
আরো-সত্য
Stories
দাদামশায়, সেদিন তুমি যে আরও-সত্যির কথা বলছিলে, সে কি কেবল পরীস্থানেই দেখা যায়।
আমি বললুম, তা নয় গো, এ পৃথিবীতেও তার অভাব নেই। তাকিয়ে দেখলেই হয়। তবে কিনা সেই দেখার চাউনি থাকা চাই।
আরো দেখুন
নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
একটি নমস্কারে
Songs
     একটি নমস্কারে, প্রভু, একটি নমস্কারে
     সকল দেহ লুটিয়ে পড়ুক তোমার এ সংসারে ॥
ঘন শ্রাবণমেঘের মতো       রসের ভারে নম্র নত
     একটি নমস্কারে, প্রভু, একটি নমস্কারে
     সমস্ত মন পড়িয়া থাক্‌ তব ভবনদ্বারে ॥
নানা সুরের আকুল ধারা       মিলিয়ে দিয়ে আত্মহারা
     একটি নমস্কারে, প্রভু, একটি নমস্কারে
     সমস্ত গান সমাপ্ত হোক নীরব পারাবারে।
হংস যেমন মানসযাত্রী        তেমনি সারা দিবসরাত্রি
     একটি নমস্কারে, প্রভু, একটি নমস্কারে
     সমস্ত প্রাণ উড়ে চলুক মহামরণ-পারে ॥
আরো দেখুন
অতিথি
Stories
কাঁঠালিয়ার জমিদার মতিলালবাবু নৌকা করিয়া সপরিবারে স্বদেশে যাইতেছিলেন। পথের মধ্যে মধ্যাহ্নে নদীতীরের এক গঞ্জের নিকট নৌকা বাঁধিয়া পাকের আয়োজন করিতেছেন এমন সময় এক ব্রাহ্মণবালক আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, 'বাবু, তোমরা যাচ্ছ কোথায়?'
প্রশ্নকর্তার বয়স পনেরো-ষোলোর অধিক হইবে না।
আরো দেখুন
উজ্জ্বলে ভয় তার
Verses
উজ্জ্বলে ভয় তার,
       ভয় মিট্‌মিটেতে,
ঝালে তার যত ভয়
       তত ভয় মিঠেতে।
ভয় তার পশ্চিমে,
       ভয় তার পূর্বে,
যে দিকে তাকায় ভয়
       সাথে সাথে ঘুরবে।
ভয় তার আপনার
       বাড়িটার ইঁটেতে,
ভয় তার অকারণে
       অপরের ভিটেতে।
ভয় তার বাহিরেতে,
       ভয় তার অন্তরে,
ভয় তার ভূত-প্রেতে,
       ভয় তার মন্তরে।
দিনের আলোতে ভয়
       সামনের দিঠেতে,
রাতের আঁধারে ভয়
       আপনারি পিঠেতে।
আরো দেখুন
সুয়োরানীর সাধ
Stories
সুয়োরানীর বুঝি মরণকাল এল।
তার প্রাণ হাঁপিয়ে উঠছে, তার কিছুই ভালো লাগছে না। বদ্দি বড়ি নিয়ে এল। মধু দিয়ে মেড়ে বললে, 'খাও।' সে ঠেলে ফেলে দিলে।
আরো দেখুন