দুরাশা
Stories
দার্জিলিঙে গিয়া দেখিলাম, মেঘে বৃষ্টিতে দশ দিক আচ্ছন্ন। ঘরের বাহির হইতে ইচ্ছা হয় না, ঘরের মধ্যে থাকিতে আরো অনিচ্ছা জন্মে।
হোটেলে প্রাতঃকালের আহার সমাধা করিয়া পায়ে মোটা বুট এবং আপাদমস্তক ম্যাকিন্টশ পরিয়া বেড়াইতে বাহির হইয়াছি। ক্ষণে ক্ষণে টিপ্‌ টিপ্‌ করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছে এবং সর্বত্র ঘন মেঘের কুজ্ঝটিকায় মনে হইতেছে, যেন বিধাতা হিমালয়পর্বতসুদ্ধ সমস্ত বিশ্বচিত্র রবার দিয়া ঘষিয়া ঘষিয়া মুছিয়া ফেলিবার উপক্রম করিয়াছেন।
আরো দেখুন
কর্মফল
Stories
আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন-- সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। 'এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।'
শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন।
আরো দেখুন
প্রাণমন
Stories
আমার জানলার সামনে রাঙা মাটির রাস্তা।
ওখান দিয়ে বোঝাই নিয়ে গোরুর গাড়ি চলে; সাঁওতাল মেয়ে খড়ের আঁটি মাথায় করে হাটে যায়, সন্ধ্যাবেলায় কলহাস্যে ঘরে ফেরে।
আরো দেখুন
পূজার সাজ
Verses
     আশ্বিনের মাঝামাঝি         উঠিল বাজনা বাজি,
                  পূজার সময় এল কাছে।
     মধু বিধু দুই ভাই            ছুটাছুটি করে তাই,
                  আনন্দে দু-হাত তুলি নাচে।
     পিতা বসি ছিল দ্বারে,        দুজনে শুধালো তারে,
                 "কী পোশাক আনিয়াছ কিনে।'
     পিতা কহে, "আছে আছে    তোদের মায়ের কাছে,
                 দেখিতে পাইবি ঠিক দিনে।'
     সবুর সহে না আর --         জননীরে বার বার
                  কহে, "মা গো, ধরি তোর পায়ে,
     বাবা আমাদের তরে           কী কিনে এনেছে ঘরে
                  একবার দে না মা, দেখায়ে।'
     ব্যস্ত দেখি হাসিয়া মা           দুখানি ছিটের জামা
                  দেখাইল করিয়া আদর।
     মধু কহে, "আর নেই?'      মা কহিল, "আছে এই
                  একজোড়া ধুতি ও চাদর।'
     রাগিয়া আগুন ছেলে,        কাপড় ধুলায় ফেলে
                  কাঁদিয়া কহিল, "চাহি না মা,
     রায়বাবুদের গুপি            পেয়েছে জরির টুপি,
                  ফুলকাটা সাটিনের জামা।'
     মা কহিল, "মধু, ছি ছি,    কেন কাঁদ মিছামিছি,
                  গরিব যে তোমাদের বাপ।
     এবার হয় নি ধান,           কত গেছে লোকসান,
                  পেয়েছেন কত দুঃখতাপ।
     তবু দেখো বহু ক্লেশে        তোমাদের ভালোবেসে
                  সাধ্যমত এনেছেন কিনে।
     সে জিনিস অনাদরে           ফেলিলি ধূলির 'পরে--
                  এই শিক্ষা হল এতদিনে।'
     বিধু বলে, "এ কাপড়         পছন্দ হয়েছে মোর,
                  এই জামা পরাস আমারে।'
     মধু শুনে আরো রেগে        ঘর ছেড়ে দ্রুতবেগে
                  গেল রায়বাবুদের দ্বারে।
     সেথা মেলা লোক জড়ো,       রায়বাবু ব্যস্ত বড়ো;
                  দালান সাজাতে গেছে রাত।
     মধু যবে এক কোণে           দাঁড়াইল ম্লান মনে
                  চোখে তাঁর পড়িল হঠাৎ।
     কাছে ডাকি স্নেহভরে        কহেন করুণ স্বরে
                  তারে দুই বাহুতে বাঁধিয়া,
     "কী রে মধু, হয়েছে কী।      তোরে যে শুক্‌নো দেখি।'
                 শুনি মধু উঠিল কাঁদিয়া,
     কহিল, "আমার তরে          বাবা আনিয়াছে ঘরে
                  শুধু এক ছিটের কাপড়।'
     শুনি রায়মহাশয়                হাসিয়া মধুরে কয়,
                  "সেজন্য ভাবনা কিবা তোর।'
     ছেলেরে ডাকিয়া চুপি          কহিলেন, "ওরে গুপি,
                  তোর জামা দে তুই মধুকে।'
     গুপির সে জামা পেয়ে          মধু ঘরে যায় ধেয়ে
                  হাসি আর নাহি ধরে মুখে।
     বুক ফুলাইয়া চলে --         সবারে ডাকিয়া বলে,
                  "দেখো কাকা! দেখো চেয়ে মামা!
     ওই আমাদের বিধু             ছিট পরিয়াছে শুধু,
                  মোর গায়ে সাটিনের জামা।'
     মা শুনি কহেন আসি           লাজে অশ্রুজলে ভাসি
                  কপালে করিয়া করাঘাত,
     "হই দুঃখী হই দীন             কাহারো রাখি না ঋণ,
                  কারো কাছে পাতি নাই হাত।
     তুমি আমাদেরই ছেলে         ভিক্ষা লয়ে অবহেলে
                  অহংকার কর ধেয়ে ধেয়ে!
     ছেঁড়া ধুতি আপনার            ঢের বেশি দাম তার
                  ভিক্ষা-করা সাটিনের চেয়ে।
     আয় বিধু, আয় বুকে,         চুমো খাই চাঁদমুখে,
                  তোর সাজ সব চেয়ে ভালো।
     দরিদ্র ছেলের দেহে             দরিদ্র বাপের স্নেহে
                  ছিটের জামাটি করে আলো।'
আরো দেখুন
শুভদৃষ্টি
Stories
কান্তিচন্দ্রের বয়স অল্প, তথাপি স্ত্রীবিয়োগের পর দ্বিতীয় স্ত্রীর অনুসন্ধানে ক্ষান্ত থাকিয়া পশুপক্ষী-শিকারেই মনোনিবেশ করিয়াছেন। দীর্ঘ কৃশ কঠিন লঘু শরীর, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, অব্যর্থ লক্ষ্য, সাজসজ্জায় পশ্চিমদেশীর মতো; সঙ্গে সঙ্গে কুস্তিগির হীরা সিং, ছক্কনলাল, এবং গাইয়ে বাজিয়ে খাঁসাহেব, মিঞাসাহেব অনেক ফিরিয়া থাকে; অকর্মণ্য অনুচর-পরিচরেরও অভাব নাই।
দুই-চারিজন শিকারী বন্ধুবান্ধব লইয়া অঘ্রানের মাঝামাঝি কান্তিচন্দ্র নৈদিঘির বিলের ধারে শিকার করিতে গিয়াছেন। নদীতে দুইটি বড়ো বোটে তাঁহাদের বাস, আরো  গোটা-তিনচার নৌকায় চাকরবাকরের দল গ্রামের ঘাট ঘিরিয়া বসিয়া আছে। গ্রামবধূদের জল তোলা, স্নান করা প্রায় বন্ধ। সমস্ত দিন বন্দুকের আওয়াজে জলস্থল কম্পমান, সন্ধ্যাবেলায় ওস্তাদি গলায় তানকর্তবে পল্লীর নিদ্রাতন্দ্রা তিরোহিত।
আরো দেখুন
ভালোমানুষ
Stories
ছিঃ, আমি নেহাত ভালোমানুষ।
কুসমি বললে, কী যে তুমি বল তার ঠিক নেই। তুমি যে ভালোমানুষ সেও কি বলতে হবে। কে না জানে, তুমি ও পাড়ার লোটনগুণ্ডার দলের সর্দার নও। ভালোমানুষ তুমি বল কাকে।
আরো দেখুন