যদি তোর ভাবনা
Songs
যদি তোর   ভাবনা থাকে ফিরে যা-না।   তবে তুই   ফিরে যা-না।
              যদি তোর   ভয় থাকে তো করি মানা ॥
যদি তোর   ঘুম জড়িয়ে থাকে গায়ে   ভুলবি যে পথ পায়ে পায়ে,
যদি তোর   হাত কাঁপে তো নিবিয়ে আলো সবারে করবি কানা ॥
যদি তোর   ছাড়তে কিছু না চাহে মন   করিস ভারী বোঝা আপন--
তবে তুই   সইতে কভু পারবি নে রে   এ বিষম পথের টানা ॥
যদি তোর   আপনা হতে অকারণে   সুখ সদা না জাগে মনে
তবে তুই   তর্ক ক'রে সকল কথা করিবি নানাখানা ॥
আরো দেখুন
প্রজাপতির নির্বন্ধ
Novels
অক্ষয়কুমারের শ্বশুর হিন্দুসমাজে ছিলেন, কিন্তু তাঁহার চালচলন অত্যন্ত নব্য ছিল। মেয়েদের তিনি দীর্ঘকাল অবিবাহিত রাখিয়া লেখাপড়া শিখাইতেছিলেন। লোকে আপত্তি করিলে বলিতেন, আমরা কুলীন, আমাদের ঘরে তো চিরকালই এইরূপ প্রথা।
তাঁহার মৃত্যুর পর বিধবা জগত্তারিণীর ইচ্ছা, লেখাপড়া বন্ধ করিয়া মেয়েগুলির বিবাহ দিয়া নিশ্চিন্ত হন। কিন্তু তিনি ঢিলা প্রকৃতির স্ত্রীলোক, ইচ্ছা যাহা হয় তাহার উপায় অন্বেষণ করিয়া উঠিতে পারেন না। সময় যতই অতীত হইতে থাকে আর পাঁচজনের উপর দোষারোপ করিতে থাকেন।
কী জানি কী ভেবেছ মনে,
খুলে বলো ললনে!
কী কথা হায় ভেসে যায়
ওই ছলছল নয়নে!
পাছে চেয়ে বসে আমার মন
আমি তাই ভয়ে ভয়ে থাকি,
পাছে চোখে চোখে পড়ে বাঁধা
আমি তাই তো তুলি নে আঁখি।
বড়ো থাকি কাছাকাছি
তাই ভয়ে ভয়ে আছি।
নয়ন বচন কোথায় কখন বাজিলে বাঁচি না বাঁচি।
ওগো হৃদয়-বনের শিকারি!
মিছে তারে জালে ধরা যে তোমারি ভিখারি;
সহস্রবার পায়ের কাছে আপনি যে জন মরে আছে,
নয়নবাণের খোঁচা খেতে সে যে অনধিকারী।"
স্বয়ং বিশীর্ণদ্রুমপর্ণবৃত্তিতা
পরা হি কাষ্ঠা তপসস্তয়া পুনঃ।
তদপ্যপাকীর্ণমতঃ প্রিয়ংবদাং
বদন্ত্যপর্ণেতি চ তাং পুরাবিদঃ॥
আমি কেবল ফুল জোগাব
তোমার দুটি রাঙা হাতে,
বুদ্ধি আমার খেলে নাকো
পাহারা বা মন্ত্রণাতে।
দেখব কে তোর কাছে আসে!
তুই রবি একেশ্বরী, একলা আমি রইব পাশে।
তুমি আমায় করবে মস্ত লোক!
দেবে লিখে রাজার টিকে প্রসন্ন ওই চোখ!
অভয় দাও তো বলি আমার wish কী,
একটি ছটাক সোডার জলে পাকি তিন পোয়া হুইস্কি!
কত কাল রবে বলো ভারত রে
শুধু ডাল ভাত জল পথ্য করে।
দেশে অন্নজলের হল ঘোর অনটন,
ধরো হুইস্কি সোডা আর মুর্গিমটন।
যাও ঠাকুর চৈতন চুটকি নিয়া,
এসো দাড়ি নাড়ি কলিমদ্দি মিঞা!
যাও ঠাকুর চৈতন চুটকি নিয়া,
এসো দাড়ি নাড়ি কলিমদ্দি মিঞা!
চির-পুরানো চাঁদ!
চিরদিবস এমনি থেকো আমার এই সাধ।
পুরানো হাসি পুরানো সুধা, মিটায় মম পুরানো ক্ষুধা--
নূতন কোনো চকোর যেন পায় না পরসাদ!
কোপো যত্র ভ্রূকুটিরচনা নিগ্রহো যত্র মৌনং।
যত্রান্যোন্যস্মিতমনুনয় যত্র দৃষ্টিঃ প্রসাদঃ।
"পোড়া মনে শুধু পোড়া মুখখানি জাগে রে!
এত আছে লোক, তবু পোড়া চোখে
আর কেহ নাহি লাগে রে!
যারে মরণ দশায় ধরে
সে যে শতবার করে মরে।
পোড়া পতঙ্গ যত পোড়ে তত
আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সকলি ভুলেছে ভোলা মন
ভোলে নি ভোলে নি শুধু ওই চন্দ্রানন।
গান। পরজ
স্বর্গে তোমায় নিয়ে যাবে উড়িয়ে,
পিছে পিছে আমি চলব খুঁড়িয়ে।
ইচ্ছা হবে টিকির ডগা ধরে
গান। কাফি
কার হাতে যে ধরা দেব প্রাণ;
তাই ভাবতে বেলা অবসান।
ডান দিকেতে তাকাই যখন, বাঁয়ের লাগি কাঁদে রে মন
বাঁয়ের লাগি ফিরলে তখন দক্ষিণেতে পড়ে টান।
বিরহ-যামিনী কেমনে যাপিবে,
বিচ্ছেদতাপে যখন তাপিবে
এপাশ ওপাশ বিছানা মাপিবে,
মকরকেতনে কেবলি শাপিবে--
(সাড়ম্বরে)বাষ্পীয় শকটে চড়ি নারীচূড়ামণি
পুরবালা চলি যবে গেলা কাশীধামে
বিকালে, কহ হে দেবী অমৃতভাষিণী
কোন্‌ বরাঙ্গনে বরি বরমাল্যদানে
যাপিলা বিচ্ছেদমাস শ্যালীত্রয়ীশালী
শ্রীঅক্ষয়!
তুমি জান আমার গাছে ফল কেন না ফলে!
যেমনি ফুলটি ফুটে ওঠে আনি চরণতলে।
মুগ্ধস্নিগ্ধবিদগ্ধমধুরৈর্লালৈঃ কটাক্ষৈরলং
চেতঃ সম্প্রতি চন্দ্রচূড়চরণধ্যানামৃতে বর্ততে।
ইয়মধিকমনোজ্ঞা চাপ্‌ কানেনাপি তন্বী।
কিমিব হি মধুরাণাং মণ্ডনং নাকৃতীনাম॥
গান। ভৈরবী
ওগো দয়াময়ী চোর, এত দয়া মনে তোর!
বড়ো দয়া করে কণ্ঠে আমার জড়াও মায়ার ডোর!
বড়ো দয়া করে চুরি করে লও শূন্য হৃদয় মোর!
গান। বাহার
চলেছে ছুটিয়া পলাতকা হিয়া,
বেগে বহে শিরা ধমনী--
হায় হায় হায়, ধরিবারে তায়
পিছে পিছে ধায় রমণী।
বায়ুবেগভরে উড়ে অঞ্চল,
লটপট বেণী দুলে চঞ্চল--
এ কী রে রঙ্গ, আকুল-অঙ্গ
ছুটে কুরঙ্গগমনী!
গান। সিন্ধুকাফি
মনোমন্দিরসুন্দরী,
মণিমঞ্জীরগুঞ্জরী,
স্খলদঞ্চলা চলচঞ্চলা
অয়ি মঞ্জুলা মঞ্জরী।
রোষারুণরাগরঞ্জিতা
বঙ্কিম-ভুরু-ভঞ্জিতা,
গোপনহাস্য -কুটিল-আস্য
কপটকলহগঞ্জিতা।
সংকোচনত-অঙ্গিণী,
ভয়ভঙ্গুরভঙ্গিনী,
চকিতচপল নবকুরঙ্গ
যৌবনবনরঙ্গিণী।
অয়ি খল, ছলগুন্ঠিতা,
মধুকরভরকুন্ঠিতা,
লুব্ধপবন -ক্ষুব্ধ-লোভন
মল্লিকা অবলুন্ঠিতা।
চুম্বনধনবঞ্চিনী,
দুরূহগর্বমঞ্চিনী
রুদ্ধকোরক -সঞ্চিত-মধু
কঠিনকনককঞ্জিনী।
অলিন্দে কালিন্দীকমলসুরভৌ কুঞ্জবসতের্‌-
বসন্তীং বাসন্তীনবপরিমলোদ্‌গারচিকুরাং।
ত্বদুৎসঙ্গে লীনাং মদমুকুলিতাক্ষীং পুনরিমাং
কদাহং সেবিষ্যে কিসলয়কলাপব্যজনিনী।
কুঞ্জকুটিরের স্নিগ্ধ অলিন্দের 'পর
কালিন্দীকমলগন্ধ ছুটিবে সুন্দর।
লীনা রবে মদিরাক্ষী তব অঙ্কতলে,
বহিবে বাসন্তীবাস ব্যাকুল কুন্তলে।
তাঁহারে করিব সেবা, কবে হবে হায়--
কিশলয়-পাখাখানি দোলাইব গায়?
বীথীষু বীথীষু বিলাসিনীনাং
মুখানি সংবীক্ষ্য শুচিস্মিতানি
জালেষু জালেষু করং প্রসার্য
লাবণ্যভিক্ষামটতীব চন্দ্রঃ।
কুঞ্জ পথে পথে চাঁদ উঁকি দেয় আসি,
দেখে বিলাসিনীদের মুখভরা হাসি,
কর প্রসারণ করি ফিরে সে জাগিয়া
বাতায়নে বাতায়নে লাবণ্য মাগিয়া।
দিন গেল রে, ডাক দিয়ে নে পারের খেয়া,
চুকিয়ে হিসেব মিটিয়ে দে তোর দেয়া নেয়া।
নিশি না পোহাতে জীবনপ্রদীপ
জ্বালাইয়া যাও প্রিয়া,
তোমার অনল দিয়া।
কবে যাবে তুমি সমুখের পথে
দীপ্ত শিখাটি বাহি
আছি তাই পথ চাহি!
পুড়িবে বলিয়া রয়েছে আশায়
আমার নীরব হিয়া
আপন আঁধার নিয়া।
নিশি না পোহাতে জীবনপ্রদীপ
জ্বালাইয়া যাও প্রিয়া!
নিশি না পোহাতে জীবনপ্রদীপ
জ্বালাইয়া যাও প্রিয়া!
নিশি না পোহাতে জীবনপ্রদীপ
জ্বালাইয়া যাও প্রিয়া!
নিশি না পোহাতে জীবনপ্রদীপ
জ্বালাইয়া যাও প্রিয়া!
নিশি না পোহাতে জীবনপ্রদীপ
জ্বালাইয়া যাও প্রিয়া!
ওরে সাবধানী পথিক, বারেক
পথ ভুলে মর্‌ ফিরে।
খোলা আঁখি দুটো অন্ধ করে দে
আকুল আঁখির নীরে।
সে ভোলা পথের প্রান্তে রয়েছে
হারানো হিয়ার কুঞ্জ,
ঝরে পড়ে আছে কাঁটাতরুতলে
রক্তকুসুমপুঞ্জ--
সেথা দুই বেলা ভাঙা-গড়া খেলা
অকূলসিন্ধুতীরে।
ওরে সাবধানী পথিক, বারেক
পথ ভুলে মর্‌ ফিরে।
বরমসৌ দিবসো ন পুনর্নিশা
ননু নিশৈব বরং ন পুনর্দিনম্‌।
উভয়মেতদুপৈত্বথবা ক্ষয়ং
প্রিয়জনেন ন যত্র সমাগমঃ।
আসে তো আসুক রাতি, আসুক বা দিবা,
যায় যদি যাক নিরবধি।
তাহাদের যাতায়াতে আসে যায় কিবা
প্রিয় মোর নাহি আসে যদি।
মন্দং নিধেহি চরণৌ পরিধেহি নীলং
বাসঃ পিধেহি বলয়াবলিমঞ্চলেন।
মা জল্প সাহসিনি শারদচন্দ্রকান্ত-
দন্তাংশবস্তব তমাংসি সমাপয়ন্তি।
ধীরে ধীরে চলো তন্বী, পরো নীলাম্বর,
অঞ্চলে বাঁধিয়া রাখো কঙ্কণ মুখর।
কথাটি কোয়ো না, তব দন্ত-অংশুরুচি
পথের তিমিররাশি পাছে ফেলে মুছি।
কবীন্দ্রাণাং চেতঃকমলবনমালাতপরুচিং
ভজন্তে যে সন্তঃ কতিচিদরুণামেব ভবতীং
বিরিঞ্চিপ্রেয়স্যাস্তরুণতরশৃঙ্গারলহরীং
গভীরাভির্বাগ্‌ভির্বিদধাতি সভারঞ্জনময়ীম্‌।
In such a night as this,
When the sweet wind did gently kiss the trees,
And they did make no noise, in such a night
Troilus methinks mounted the Troyan walls
and sighed his soul toward the Grecian tents,
Where Cressid lay that night.
অপসরতি ন চক্ষুষো মৃগাক্ষী
রজনিরিয়ং চ ন যাতি নৈতি নিদ্রা।
চক্ষু'পরে মৃগাক্ষীর চিত্রখানি ভাসে--
রজনীও নাহি যায়, নিদ্রাও না আসে।
নিঃসীমশোভাসৌভাগ্যং নতাঙ্গ্যা নয়নদ্বয়ং
অন্যোহন্যালোকনানন্দবিরহাদিব চঞ্চলং--
আনতাঙ্গী বালিকার শোভাসৌভাগ্যের সার নয়নযুগল
না দেখিয়া পরস্পরে তাই কি বিরহভরে হয়েছে চঞ্চল?
প্রিয়চক্ষু-দেখাদেখি যে আনন্দ তাই সে কি খুঁজিছে চঞ্চল?
প্রিয়চক্ষু-দেখাদেখি যে আনন্দ তাই সে কি খুঁজিছে চঞ্চল?
হত্বা লোচনবিশিখৈর্গত্বা কতিচিৎ পদানি পদ্মাক্ষী
জীবতি যুবা ন বা কিং ভূয়ো ভূয়ো বিলোকয়তি।
বিঁধিয়া দিয়া আঁখিবাণে
যায় সে চলি গৃহপানে,
জনমে অনুশোচনা--
বাঁচিল কি না দেখিবারে
চায় সে ফিরে বারে বারে
কমলবরলোচনা!
লোচনে হরিণগর্বমোচনে
মা বিদূষয় নতাঙ্গি কজ্জলৈঃ।
সায়কঃ সপদি জীবহারকঃ
কিং পুনর্হি গরলেন লেপিতঃ?
হরিণগর্বমোচন লোচনে
কাজল দিয়ো না সরলে!
এমনি তো বাণ নাশ করে প্রাণ,
কী কাজ লেপিয়া গরলে?
তরী আমার হঠাৎ ডুবে যায়
কোন্‌ পাথারে কোন্‌ পাষাণের ঘায়।
নবীন তরী নতুন চলে,
দিই নি পাড়ি অগাধ জলে,
বাহি তারে খেলার ছলে কিনার-কিনারায়।
তরী আমার হঠাৎ ডুবে যায়।
ভেসেছিল স্রোতের ভরে,
একা ছিলেন কর্ণ ধ'রে--
লেগেছিল পালের 'পরে মধুর মৃদু বায়।
সুখে ছিলেম আপন মনে,
মেঘ ছিল না গগনকোণে--
লাগবে তরী কুসুমবনে ছিলেন সে আশায়।
তরী আমার হঠাৎ ডুবে যায়।
তরী আমার হঠাৎ ডুবে যায়
কোন্‌ পাথারে কোন্‌ পাষাণের ঘায়।
গান। পিলু
বিরহে মরিব বলে ছিল মনে পণ।
কে তোরা বাহুতে বাঁধি করিলি বারণ?
ভেবেছিনু অশ্রুজলে, ডুবিব অকূল তলে,
কাহার সোনার তরী করিল তারণ?
গান
অলকে কুসুম না দিয়ো,
শুধু শিথিলকবরী বাঁধিয়ো।
কাজলবিহীন সজলনয়নে
হৃদয়দুয়ারে ঘা দিয়ো।
আকুল আঁচলে পথিকচরণে
মরণের ফাঁদ ফাঁদিয়ো।
না করিয়া বাদ মনে যাহা সাধ
নিদয়া নীরবে সাধিয়ো।
কেন সারাদিন ধীরে ধীরে
বালু নিয়ে শুধু খেল তীরে!
চলে গেল বেলা, রেখে মিছে খেলা
ঝাঁপ দিয়ে পড়ো কালো নীরে।
অকূল ছানিয়ে যা পাস তা নিয়ে
হেসে কেঁদে চলো ঘরে ফিরে।
নাহি জানি মনে কী বাসিয়া
পথে বসে আছে কে আসিয়া।
কী কুসুমবাসে ফাগুনবাতাসে
হৃদয় দিতেছে উদাসিয়া।
চল্‌ ওরে এই খেপা বাতাসেই
সাথে নিয়ে সেই উদাসীরে।
সখা, কী মোর করমে লেখি!
তপত বলিয়া তপনে ডরিনু,
চাঁদের কিরণ দেখি!
গান
ভুলে ভুলে আজ ভুলময়!
ভুলের লতায় বাতাসের ভুলে
ফুলে ফুলে হোক ফুলময়!
আনন্দ-ঢেউ ভুলের সাগরে
উছলিয়া হোক কূলময়।
গতং তদ্‌গাম্ভীর্যং তটমপি চিতং জালিকশতৈঃ।
সখে হংসোত্তিষ্ঠ, ত্বরিতমমুতো গচ্ছ সরসঃ॥
সে গাম্ভীর্য গেল কোথা, নদীতটে হেরো হোথা
জালিকেরা জালে ফেলে ঘিরে--
সখে হংস, ওঠো ওঠো, সময় থাকিতে ছোটো
হেথা হতে মানসের তীরে।
অয়ি কুরঙ্গ তপোবনবিভ্রমাৎ
উপগতাসি কিরাতপুরীমিমাম্॥
সর্বস্তরতু দুর্গাণি সর্বো ভদ্রাণি পশ্যতু।
সর্বঃ কামানবাপ্নোতু সর্বঃ সর্বত্র নন্দতু॥
আরো দেখুন
ওরা অকারণে চঞ্চল
Songs
              ওরা   অকারণে চঞ্চল।
     ডালে ডালে   দোলে বায়ুহিল্লোলে   নব পল্লবদল॥
ছড়ায়ে ছড়ায়ে ঝিকিমিকি আলো
              দিকে দিকে ওরা   কী খেলা খেলালো,
     মর্মরতানে   প্রাণে ওরা   আনে   কৈশোরকোলাহাল॥
ওরা   কান পেতে শোনে   গগনে গগনে
              নীরবের কানাকানি,
                   নীলিমার কোন্‌ বাণী।
ওরা   প্রাণঝরনার উচ্ছল ধার,   ঝরিয়া ঝরিয়া বহে অনিবার,
          চির তাপসিনী ধরণীর ওরা   শ্যামশিখা হোমানল॥
আরো দেখুন
দর্পণ
Verses
দর্পণ লইয়া তারে কী প্রশ্ন শুধাও একমনে
হে সুন্দরী, কী সংশয় জাগে তব উদ্‌বিগ্ন নয়নে।
নিজেরে দেখিতে চাও বাহিরে রাখিয়া আপনারে
যেন আর কারো চোখে; আর কারো জীবনের দ্বারে
খুঁজিছ আপন স্থান। প্রেমের অর্ঘ্যের কোনো ত্রুটি
দেখ কি মুখের কোনোখানে। তাই তব আঁখিদুটি
নিজেরে কি করিছে ভর্ৎসনা। সাজায়ে লইয়া সর্বদেহে
স্বর্গের গর্বের ধন, তবে যেতে চাও তার গেহে?
জান না কি হে রমণী, দর্পণে যা দেখিছ তা ছায়া,
পার না রচিতে কভু তাই দিয়ে চিরস্থায়ী মায়া।
তিলোত্তমা অনুপমা সুরেন্দ্রের প্রমোদপ্রাঙ্গণে
কঙ্কণঝংকারে আর নৃত্যলোল নূপুরনিক্বণে
নাচিয়া বাহিরে চলে যায়। লয়ে আত্মনিবেদন
গৌরবে জিনিলা শচী ইন্দ্রলোকে নন্দন-আসন।
আরো দেখুন
হালদারগোষ্ঠী
Stories
এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না। অবস্থাও সচ্ছল, মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে, কিন্তু তবুও গোল বাধিল।
কেননা, সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত, একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না; যদি বা ঘটিত সেটাকে রবার দিয়া মুছিয়া সংশোধন করিলেই চলিয়া যাইত।
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
আরো-সত্য
Stories
দাদামশায়, সেদিন তুমি যে আরও-সত্যির কথা বলছিলে, সে কি কেবল পরীস্থানেই দেখা যায়।
আমি বললুম, তা নয় গো, এ পৃথিবীতেও তার অভাব নেই। তাকিয়ে দেখলেই হয়। তবে কিনা সেই দেখার চাউনি থাকা চাই।
আরো দেখুন
আহ্বানগীত
Verses
পৃথিবী জুড়িয়া বেজেছে বিষাণ,
    শুনিতে পেয়েছি ওই--
সবাই এসেছে লইয়া নিশান,
    কই রে বাঙালি কই।
সুগভীর স্বর কাঁদিয়া বেড়ায়
    বঙ্গসাগরের তীরে,
"বাঙালির ঘরে কে আছিস আয়"
    ডাকিতেছে ফিরে ফিরে।
ঘরে ঘরে কেন দুয়ার ভেজানো,
    পথে কেন নাই লোক,
সারা দেশ ব্যাপি মরেছে কে যেন--
    বেঁচে আছে শুধু শোক।
গঙ্গা বহে শুধু আপনার মনে,
    চেয়ে থাকে হিমগিরি,
রবি শশী উঠে অনন্ত গগনে
    আসে যায় ফিরি ফিরি।
কত-না সংকট, কত-না সন্তাপ
    মানবশিশুর তরে,
কত-না বিবাদ কত-না বিলাপ
    মানবশিশুর ঘরে।
কত ভায়ে ভায়ে নাহি যে বিশ্বাস,
    কেহ কারে নাহি মানে,
ঈর্ষা নিশাচরী ফেলিছে নিশ্বাস
    হৃদয়ের মাঝখানে।
হৃদয়ে লুকানো হৃদয়বেদনা,
    সংশয়-আঁধারে যুঝে,
কে কাহারে আজি দিবে গো সান্ত্বনা--
    কে দিবে আলয় খুঁজে।
মিটাতে হইবে শোক তাপ ত্রাস,
    করিতে হইবে রণ,
পৃথিবী হইতে উঠেছে উচ্ছ্বাস--
    শোনো শোনো সৈন্যগণ।
পৃথিবী ডাকিছে আপন সন্তানে,
    বাতাস ছুটেছে তাই--
গৃহ তেয়াগিয়া ভায়ের সন্ধানে
    চলিয়াছে কত ভাই।
বঙ্গের কুটিরে এসেছে বারতা,
    শুনেছে কি তাহা সবে।
জেগেছে কি কবি শুনাতে সে কথা
    জালদগম্ভীর রবে।
হৃদয় কি কারো উঠেছে উথলি।
    আঁখি খুলেছে কি কেহ।
ভেঙেছে কি কেহ সাধের পুতলি।
    ছেড়েছে খেলার গেহ?
কেন কানাকানি, কেন রে সংশয়।
    কেন মরো ভয়ে লাজে।
খুলে ফেলো দ্বার, ভেঙে ফেলো ভয়,
    চলো পৃথিবীর মাঝে।
ধরাপ্রান্তভাগে ধুলিতে লুটায়ে,
    জড়িমাজড়িত তনু,
আপনার মাঝে আপনি গুটায়ে
    ঘুমায় কীটের অণু।
চারি দিকে তার আপন উল্লাসে
    জগৎ ধাইছে কাজে,
চারি দিকে তার অনন্ত আকাশে
    স্বরগসংগীত বাজে।
চারি দিকে তার মানবমহিমা
    উঠিছে গগনপানে,
খুঁজিছে মানব আপনার সীমা
    অসীমের মাঝখানে।
সে কিছুই তার করে না বিশ্বাস,
    আপনারে জানে বড়ো--
আপনি গণিছে আপন নিশ্বাস,
    ধুলা করিতেছে জড়ো।
সুখ দুঃখ লয়ে অনন্ত সংগ্রাম,
    জগতের রঙ্গভূমি--
হেথায় কে চায় ভীরুর বিশ্রাম,
    কেন গো ঘুমাও তুমি।
ডুবিছ ভাসিছ অশ্রুর হিল্লোলে,
    শুনিতেছ হাহাকার--
তীর কোথা আছে দেখো মুখ তুলে,
    এ সমুদ্র করো পার।
মহা কলরবে সেতু বাঁধে সবে,
    তুমি এসো, দাও যোগ--
বাধার মতন জড়াও চরণ
    এ কী রে করম-ভোগ।
তা যদি না পারো সরো তবে সরো
    ছড়ে দাও তবে স্থান,
ধুলায় পড়িয়া মরো তবে মরো--
    কেন এ বিলাপগান!
ওরে চেয়ে দেখ্‌ মুখ আপনার,
    ভেবে দেখ্‌ তোরা কারা,
মানবের মতো ধরিয়া আকার,
    কেন রে কীটের পারা,
আছে ইতিহাস, আছে কুলমান,
    আছে মহত্ত্বের খনি--
পিতৃপিতামহ গেয়েছে যে গান
    শোন্‌ তার প্রতিধ্বনি।
খুঁজেছেন তাঁরা চাহিয়া আকাশে
    গ্রহতারকার পথ,
জগৎ ছাড়ায়ে অসীমের আশে
    উড়াতেন মনোরথ।
চাতকের মতো সত্যের লাগিয়া
    তৃষিত আকুল প্রাণে
দিবস রজনী ছিলেন জাগিয়া
    চাহিয়া বিশ্বের পানে।
তবে কেন সবে বধির হেথায়,
    কেন অচেতন প্রাণ,
বিফল উচ্ছ্বাসে কেন ফিরে যায়
    বিশ্বের আহ্বানগান!
মহত্ত্বের গাথা পশিতেছে কানে,
    কেন রে বুঝি নে ভাষা।
তীর্থযাত্রী যত পথিকের গানে
    কেন রে জাগে না আশা।
উন্নতির ধ্বজা উড়িছে বাতাসে,
    কেন রে নাচে না প্রাণ।
নবীন কিরণ ফুটেছে আকাশে
    কেন রে জাগে না গান।
কেন আছি শুয়ে, কেন আছি চেয়ে,
    পড়ে আছি মুখোমুখি--
মানবের স্রোত চলে গান গেয়ে,
    জগতের সুখে সুখী।
চলো দিবালোকে, চলো লোকালয়ে,
    চলো জনকোলাহলে--
মিশাব হৃদয় মানবহৃদয়ে
    অসীম আকাশতলে।
তরঙ্গ তুলিব তরঙ্গের 'পরে,
    নৃত্য গীত নব নব--
বিশ্বের কাহিনী কোটি কণ্ঠস্বরে
    এক-কণ্ঠ হয়ে কব।
মানবের সুখ মানবের আশা
    বাজিবে আমার প্রাণে,
শত লক্ষ কোটি মানবের ভাষা
    ফুটিবে আমার গানে।
মানবের কাজে মানবের মাঝে
    আমরা পাইব ঠাঁই,
বঙ্গের দুয়ারে তাই শিঙা বাজে--
    শুনিতে পেয়েছি ভাই।
মুছে ফেলো ধুলা, মুছ অশ্রুজল,
    ফেলো ভিখারির চীর--
পরো নব সাজ, ধরো নব বল,
    তোলো তোলো নত শির।
তোমাদের কাছে আজি আসিয়াছে
    জগতের নিমন্ত্রণ--
দীনহীন বেশ ফেলে যেয়ো পাছে,
    দাসত্বের আভরণ।
সভার মাঝারে দাঁড়াবে যখন,
    হাসিয়া চাহিবে ধীরে,
পুরব রবির হিরণ কিরণ
    পড়িবে তোমার শিরে।
বাঁধন টুটিয়া উঠিবে ফুটিয়া
    হৃদয়ের শতদল,
জগৎ-মাঝারে যাইবে লুটিয়া
    প্রভাতের পরিমল।
উঠ বঙ্গকবি, মায়ের ভাষায়
    মুমূর্ষুরে দাও প্রাণ,
জগতের লোক সুধার আশায়
    সে ভাষা করিবে পান।
চাহিবে মোদের মায়ের বদনে,
    ভাসিবে নয়নজলে--
বাঁধিবে জগৎ গানের বাঁধনে
    মায়ের চরণতলে।
বিশ্বের মাঝারে ঠাঁই নাই বলে
    কঁদিতেছে বঙ্গভূমি,
গান গেয়ে কবি জগতের তলে
    স্থান কিনে দাও তুমি।
এক বার কবি মায়ের ভাষায়
    গাও জগতের গান--
সকল জগৎ ভাই হয়ে যায়,
    ঘুচে যায় অপমান।
আরো দেখুন