যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক
Songs
     যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক,    আমি তোমায় ছাড়ব না মা!
                        আমি    তোমার চরণ--
মা গো, আমি   তোমার চরণ করব শরণ,   আর কারো ধার ধারব না মা ॥
          কে বলে তোর দরিদ্র ঘর,    হৃদয় তোর রতনরাশি--
আমি    জানি গো তার মূল্য জানি,   পরের আদর কাড়ব না মা ॥
     মানের আশে দেশবিদেশে   যে মরে সে মরুক ঘুরে--
তোমার   ছেঁড়া কাঁথা আছে পাতা,   ভুলতে সে যে পারব না মা!
     ধনে মানে লোকের টানে     ভুলিয়ে নিতে চায় যে আমায়--
ও মা,    ভয় যে জাগে শিয়র-বাগে,কারো কাছেই হারব না মা ॥
আরো দেখুন
ইঁদুরের ভোজ
Stories
ছেলেরা বললে, ভারি অন্যায়, আমরা নতুন পণ্ডিতের কাছে কিছুতেই পড়ব না।
নতুন পণ্ডিতমশায় যিনি আসছেন তাঁর নাম কালীকুমার তর্কালঙ্কার।
আরো দেখুন
অপরিচিতা
Stories
আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র। এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যের হিসাবে বড়ো, না গুণের হিসাবে। তবু ইহার একটু বিশেষ মূল্য আছে। ইহা সেই ফুলের মতো যাহার বুকের উপরে ভ্রমর আসিয়া বসিয়াছিল, এবং সেই পদক্ষেপের ইতিহাস তাহার জীবনের মাঝখানে ফলের মতো গুটি ধরিয়া উঠিয়াছে।
সেই ইতিহাসটুকু আকারে ছোটো, তাহাকে ছোটো করিয়াই লিখিব। ছোটোকে যাঁহারা সামান্য বলিয়া ভুল করেন না তাঁহারা ইহার রস বুঝিবেন।
আরো দেখুন
দেখ চেয়ে দেখ তোরা জগতের উত্সব
Songs
             দেখ্‌ চেয়ে দেখ্‌ তোরা জগতের উৎসব। 
             শোন্‌ রে অনন্তকাল উঠে জয়-জয় রব।। 
        জগতের যত কবি                   গ্রহ তারা শশী রবি 
             অনন্ত আকাশে ফিরি গান গাহে নব নব। 
             কী সৌন্দর্য অনুপম না জানি দেখেছে তারা,
             না জানি করেছে পান কী মহা অমৃতধারা। 
        না জানি কাহার কাছে           ছুটে তারা চলিয়াছে–
             আনন্দে ব্যাকুল যেন হয়েছে নিখিল ভব। 
             দেখ্‌ রে আকাশে চেয়ে, কিরণে কিরণময়।
             দেখ্‌ রে জগতে চেয়ে, সৌন্দর্যপ্রবাহ বয়।
        আঁখি মোর কার দিকে         চেয়ে আছে অনিমিখে–
             কী কথা জাগিছে প্রাণে কেমনে প্রকাশি কব।।
আরো দেখুন
ঠাকুরদা
Stories
নয়নজোড়ের জমিদারেরা এককালে বাবু বলিয়া বিশেষ বিখ্যাত ছিলেন। তখনকার কালের বাবুয়ানার আদর্শ বড়ো সহজ ছিল না। এখন যেমন রাজা-রায়বাহাদুর খেতাব অর্জন করিতে অনেক খানা নাচ ঘোড়দৌড় এবং সেলাম-সুপারিশের শ্রাদ্ধ করিতে হয়, তখনো সাধারণের নিকট হইতে বাবু উপাধি লাভ করিতে বিস্তর দুঃসাধ্য তপশ্চরণ করিতে হইত।
আমাদের নয়নজোড়ের বাবুরা পাড় ছিঁড়িয়া ফেলিয়া ঢাকাই কাপড় পরিতেন, কারণ পাড়ের কর্কশতায় তাঁহাদের সুকোমল বাবুয়ানা ব্যথিত হইত। তাঁহারা লক্ষ টাকা দিয়া বিড়ালশাবকের বিবাহ দিতেন এবং কথিত আছে, একবার কোনো উৎসব উপলক্ষে রাত্রিকে দিন করিবার প্রতিজ্ঞা করিয়া অসংখ্য দীপ জ্বলাইয়া সূর্যকিরণের অনুকরণে তাঁহারা সাচ্চা রুপার জরি উপর হইতে বর্ষণ করিয়াছিলেন।
আরো দেখুন
পুরুষের বিদ্যা করেছিনু শিক্ষা
Songs
       পুরুষের বিদ্যা করেছিনু শিক্ষা
                         লভি নাই মনোহরণের দীক্ষা--
                                        কুসুমধনু,
                          অপমানে লাঞ্ছিত তরুণ তনু।
                               অর্জুন ব্রহ্মচারী
                          মোর মুখে হেরিল না নারী,
                               ফিরাইল, গেল ফিরে।
                                    দয়া করো অভাগীরে--
                               শুধু এক বরষের জন্যে
                                    পুষ্পলাবণ্যে
                               মোর দেহ পাক্‌ তব স্বর্গের মূল্য
                                    মর্তে অতুল্য॥
আরো দেখুন
শুভদৃষ্টি
Stories
কান্তিচন্দ্রের বয়স অল্প, তথাপি স্ত্রীবিয়োগের পর দ্বিতীয় স্ত্রীর অনুসন্ধানে ক্ষান্ত থাকিয়া পশুপক্ষী-শিকারেই মনোনিবেশ করিয়াছেন। দীর্ঘ কৃশ কঠিন লঘু শরীর, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, অব্যর্থ লক্ষ্য, সাজসজ্জায় পশ্চিমদেশীর মতো; সঙ্গে সঙ্গে কুস্তিগির হীরা সিং, ছক্কনলাল, এবং গাইয়ে বাজিয়ে খাঁসাহেব, মিঞাসাহেব অনেক ফিরিয়া থাকে; অকর্মণ্য অনুচর-পরিচরেরও অভাব নাই।
দুই-চারিজন শিকারী বন্ধুবান্ধব লইয়া অঘ্রানের মাঝামাঝি কান্তিচন্দ্র নৈদিঘির বিলের ধারে শিকার করিতে গিয়াছেন। নদীতে দুইটি বড়ো বোটে তাঁহাদের বাস, আরো  গোটা-তিনচার নৌকায় চাকরবাকরের দল গ্রামের ঘাট ঘিরিয়া বসিয়া আছে। গ্রামবধূদের জল তোলা, স্নান করা প্রায় বন্ধ। সমস্ত দিন বন্দুকের আওয়াজে জলস্থল কম্পমান, সন্ধ্যাবেলায় ওস্তাদি গলায় তানকর্তবে পল্লীর নিদ্রাতন্দ্রা তিরোহিত।
আরো দেখুন