গিন্নি
Stories
ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।
প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইত।
আরো দেখুন
158
Verses
POWER TAKES as ingratitude the writhings of its victims.
আরো দেখুন
কর্তার ভূত
Stories
বুড়ো কর্তার মরণকালে দেশসুদ্ধ সবাই বলে উঠল, 'তুমি গেলে আমাদের কী দশা হবে।'
শুনে তারও মনে দুঃখ হল। ভাবলে, 'আমি গেলে এদের ঠাণ্ডা রাখবে কে।'
আরো দেখুন
দেশ দেশ নন্দিত করি
Songs
          দেশ দেশ নন্দিত করি মন্দ্রিত তব ভেরী
          আসিল যত বীরবৃন্দ আসন তব ঘেরি।
          দিন আগত ওই,   ভারত তবু কই?
          সে কি রহিল লুপ্ত আজি সব-জন পশ্চাতে?
          লউক বিশ্বকর্মভার মিলি সবার সাথে।
প্রেরণ কর' ভৈরব তব দুর্জয় আহ্বান হে,   জাগ্রত ভগবান হে ॥
          বিঘ্নবিপদ দুঃখদহন তুচ্ছ করিল যারা
          মৃত্যুগহন পার হইল, টুটিল মোহকারা।
          দিন আগত ওই,   ভারত তবু কই?
          নিশ্চল নিবীর্যবাহু কর্মকীর্তিহীনে
          ব্যর্থশক্তি নিরানন্দ জীবনধনদীনে
প্রাণ দাও, প্রাণ দাও, দাও দাও প্রাণ হে,   জাগ্রত ভগবান হে ॥
          নূতনযুগসূর্য উঠিল, ছুটিল তিমিররাত্রি,
          তব মন্দির-অঙ্গন ভরি মিলিল সকল যাত্রী।
          দিন আগত ওই,   ভারত তবু কই?
          গতগৌরব, হৃত-আসন, নতমস্তক লাজে--
          গ্লানি তার মোচন কর' নরসমাজমাঝে।
স্থান দাও, স্থান দাও, দাও দাও স্থান হে,   জাগ্রত ভগবান হে ॥
          জনগণপথ তব জয়রথচক্রমুখর আজি,
          স্পন্দিত করি দিগ্‌দিগন্ত উঠিল শঙ্খ বাজি।
          দিন আগত ওই,   ভারত তবু কই?
          দৈন্যজীর্ণ কক্ষ তার, মলিন শীর্ণ আশা,
          ত্রাসরুদ্ধ চিত্ত তার, নাহি নাহি ভাষা।
কোটিমৌনকণ্ঠপূর্ণ বাণী কর' দান হে,   জাগ্রত ভগবান হে ॥
          যারা তব শক্তি লভিল নিজ অন্তরমাঝে
          বর্জিল ভয়, অর্জিল জয়, সার্থক হল কাজে।
          দিন আগত ওই,   ভারত তবু কই?
          আত্ম-অবিশ্বাস তার নাশ' কঠিন ঘাতে,
          পুঞ্জিত অবসাদভার হান' অশনিপাতে।
ছায়াভয়চকিতমূঢ় করহ পরিত্রাণ হে,   জাগ্রত ভগবান হে ॥
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
ঠাকুরদা
Stories
নয়নজোড়ের জমিদারেরা এককালে বাবু বলিয়া বিশেষ বিখ্যাত ছিলেন। তখনকার কালের বাবুয়ানার আদর্শ বড়ো সহজ ছিল না। এখন যেমন রাজা-রায়বাহাদুর খেতাব অর্জন করিতে অনেক খানা নাচ ঘোড়দৌড় এবং সেলাম-সুপারিশের শ্রাদ্ধ করিতে হয়, তখনো সাধারণের নিকট হইতে বাবু উপাধি লাভ করিতে বিস্তর দুঃসাধ্য তপশ্চরণ করিতে হইত।
আমাদের নয়নজোড়ের বাবুরা পাড় ছিঁড়িয়া ফেলিয়া ঢাকাই কাপড় পরিতেন, কারণ পাড়ের কর্কশতায় তাঁহাদের সুকোমল বাবুয়ানা ব্যথিত হইত। তাঁহারা লক্ষ টাকা দিয়া বিড়ালশাবকের বিবাহ দিতেন এবং কথিত আছে, একবার কোনো উৎসব উপলক্ষে রাত্রিকে দিন করিবার প্রতিজ্ঞা করিয়া অসংখ্য দীপ জ্বলাইয়া সূর্যকিরণের অনুকরণে তাঁহারা সাচ্চা রুপার জরি উপর হইতে বর্ষণ করিয়াছিলেন।
আরো দেখুন
অস্পষ্ট
Stories
জানলার ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় সামনের বাড়ির জীবনযাত্রা। রেখা আর ছেদ, দেখা আর না-দেখা দিয়ে সেই ছবি আঁকা।
একদিন পড়ার বই পড়ে রইল, বনমালীর চোখ গেল সেই দিকে।
আরো দেখুন
ধর্মপ্রচার
Verses
(এই কবিতায় বর্ণিত ঘটনা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়! কলিকাতার এক বাসায়)
  ওই শোনো ভাই বিশু,
  পথে শুনি "জয় যিশু'!
কেমনে এ নাম করিব সহ্য
  আমরা আর্যশিশু!
  কূর্ম, কল্কি, স্কন্দ
  এখন করো তো বন্ধ।
যদি যিশু ভজে রবে না ভারতে
  পুরাণের নামগন্ধ।
  ওই দেখো ভাই, শুনি--
  যাজ্ঞবল্ক্য মুনি,
বিষ্ণু, হারীত, নারদ, অত্রি
  কেঁদে হল খুনোখুনি!
  কোথায় রহিল কর্ম,
  কোথা সনাতন ধর্ম!
সম্প্রতি তবু কিছু শোনা যায়
  বেদ-পুরাণের মর্ম!
  ওঠো, ওঠো ভাই, জাগো,
  মনে মনে খুব রাগো!
আর্যশাস্ত্র উদ্ধার করি,
  কোমর বাঁধিয়া লাগো!
কাছাকোঁচা লও আঁটি,
  হাতে তুলে লও লাঠি।
হিন্দুধর্ম করিব রক্ষা,
  খৃস্টানি হবে মাটি।
  কোথা গেল ভাই ভজা
  হিন্দুধর্মধ্বজা?
ষন্ডা ছিল সে, সে যদি থাকিত
  আজ হত দুশো মজা!
  এস মোনো, এস ভুতো,
  প'রে লও বুট জুতো।
পাদ্রি বেটার পা মাড়িয়ে দিয়ো
  পাও যদি কোনো ছুতো!
  আগে দেব দুয়ো তালি,
  তার পরে দেব গালি।
কিছু না বলিলে পড়িব তখন
  বিশ-পঁচিশ বাঙালি।
  তুমি আগে যেয়ো তেড়ে,
  আমি নেব টুপি কেড়ে।
গোলেমালে শেষে পাঁচজনে প'ড়ে
  মাটিতে ফেলিয়ো পেড়ে।
  কাঁচি দিয়ে তার চুল
  কেটে দেব বিলকুল।
কোটের বোতাম আগাগোড়া তার
  করে দেব নির্মূল।
তবে উঠ, সবে উঠ--
  বাঁধো কটি, আঁটো মুঠো!
দেখো, ভাই, যেন ভুলো না, অমনি
  সাথে নিয়ো লাঠি দুটো!
দলপতির শিষ ও গান:
     প্রাণসই রে,
মনোজ্বালা কারে কই রে!
কোমরে চাদর বাঁধিয়া, লাঠি হস্তে, মহোৎসাহে সকলের প্রস্থান।
পথে বিশু হারু মোনো ভুতোর সমাগম। গেরুয়াবস্ত্রাচ্ছাদিত অনাবৃতপদ
মুক্তিফৌজের প্রচারক:
ধন্য হউক তোমার প্রেম,
      ধন্য তোমার নাম,
ভুবন-মাঝারে হউক উদয়
      নূতন জেরুজিলাম।
ধরণী হইতে যাক ঘৃণাদ্বেষ,
      নিঠুরতা দূর হোক--
মুছে দাও, প্রভু, মানবের আঁখি,
      ঘুচাও মরণশোক।
তৃষিত যাহারা, জীবনের বারি
      করো তাহাদের দান।
দয়াময় যিশু, তোমার দয়ায়
      পাপীজনে করো ত্রাণ।
      "ওরে ভাই বিশু, এ কে,
      জুতো কোথা  এল রেখে!
গোরা বটে, তবু হতেছে ভরসা
      গেরুয়া বসন দেখে।'
"হারু, তবে তুই এগো!
      বল্‌-- বাছা, তুমি কে গো?
কিচিমিচি রাখো, খিদে পেয়েছে কি?
      দুটো কলা এনে দে গো!'
      বধির নিদয় কঠিন হৃদয়
      তারে প্রভু দাও কোল।
অক্ষম আমি কী করিতে পারি--
      "হরিবোল হরিবোল!'
      "আরে, রেখে দাও খৃস্ট!
      এখনি দেখাও পৃষ্ঠ!
দাঁড়ে উঠে চড়ো, পড়ো বাবা পড়ো
      হরে হরে হরে কৃষ্ট!'
তুমি যা সয়েছ তাহাই স্মরিয়া
      সহিব সকল ক্লেশ,
ক্রুস গুরুভার করিব বহন--
      "বেশ, বাবা, বেশ বেশ!'
দাও ব্যথা, যদি কারো মুছে পাপ
      আমার নয়ননীরে।
প্রাণ দিব, যদি এ জীবন দিলে
      পাপীর জীবন ফিরে।
আপনার জন,আপনার দেশ,
      হয়েছি সর্ব-ত্যাগী।
হৃদয়ের প্রেম সব ছেড়ে যায়
      তোমার প্রেমের লাগি।
সুখ, সভ্যতা, রমণীর প্রেম,
      বন্ধুর কোলাকুলি--
ফেলি দিয়া পথে তব মহাব্রত
      মাথায় লয়েছি তুলি।
এখনো তাদের ভুলিতে পারি নে,
      মাঝে মাঝে জাগে প্রাণে--
চিরজীবনের সুখবন্ধন
      সেই গৃহ-মাঝে টানে।
তখন তোমার রক্তসিক্ত
      ওই মুখপানে চাহি,
ও প্রেমের কাছে স্বদেশ বিদেশ
      আপনা ও পর নাহি।
ওই প্রেম তুমি করো বিতরণ
      আমার হৃদয় দিয়ে,
বিষ দিতে যারা এসেছে তাহরা
      ঘরে যাক সুধা নিয়ে।
পাপ লয়ে প্রাণে এসেছিল যারা
      তাহারা আসুক বুকে--
পড়ুক প্রেমের মধুর আলোক
      ভ্রূকুটিকুটিল মুখে!
"আর প্রাণে নাহি সহে,
      আর্যরক্ত দহে!'
"ওহে হারু, ওহে মাধু, লাঠি নিয়ে
      ঘা-কতক দাও তো হে!'
      "যদি চাস তুই ইষ্ট
      বল্‌ মুখে বল্‌ কৃষ্ট।'
ধন্য হউক তোমার নাম
      দয়াময় যিশুখৃস্ট!
"তবে রে! লাগাও লাঠি
      কোমরে কাপড় আঁটি।'
"হিন্দুধর্ম হউক রক্ষা
      খৃস্টানি হোক মাটি!'
প্রচারকের মাথায় লাঠি প্রহার। মাথা ফাটিয়া রক্তপাত। রক্ত মুছিয়া:
প্রভু তোমাদের করুন কুশল,
      দিন তিনি শুভমতি।
আমি তাঁর দীন অধম ভৃত্য,
      তিনি জগতের পতি।
      "ওরে শিবু, ওরে হারু,
      ওরে ননি, ওরে চারু,
তামাশা দেখার এই কি সময়--
      প্রাণে ভয় নেই কারু?'
"পুলিস আসিছে গুঁতা উঁচাইয়া,
      এইবেলা দাও দৌড়!'
"ধন্য হইল আর্য ধর্ম,
      ধন্য হইল গৌড়।'
    ঊর্ধ্বশ্বাসে পলায়ন।
    বাসায় ফিরিয়া:
সাহেব মেরেছি! বঙ্গবাসীর
      কলঙ্ক গেছে ঘুচি।
মেজবউ কোথা, ডেকে দাও তারে--
      কোথা ছোকা, কোথা লুচি!
এখনো আমার তপ্ত রক্ত
      উঠিতেছে উচ্ছ্বসি--
তাড়াতাড়ি আজ লুচি না পাইলে
      কী জানি কী ক'রে বসি!
স্বামী যবে এল যুদ্ধ সারিয়া
      ঘরে নেই লুচি ভাজা!
আর্যনারীর এ কেমন প্রথা,
      সমুচিত দিব সাজা।
যাজ্ঞবল্ক্য অত্রি হারীত
      জলে গুলে খেলে সবে--
মারধোর ক'রে হিন্দুধর্ম
      রক্ষা করিতে হবে।
কোথা পুরাতন পাতিব্রত্য,
      সনাতন লুচি ছোকা--
বৎসরে শুধু সংসারে আসে
      একখানি করে খোকা।
আরো দেখুন
হৈমন্তী
Stories
কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন,মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই তাড়া।
আমি ছিলাম বর। সুতরাং, বিবাহসম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি, এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ, কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষ ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।
আরো দেখুন