গলি
Stories
আমাদের এই শানবাঁধানো গলি, বারে বারে ডাইনে বাঁয়ে এঁকে বেঁকে একদিন কী যেন খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সে যে দিকেই যায় ঠেকে যায়। এ দিকে বাড়ি, ও দিকে বাড়ি, সামনে বাড়ি।
উপরের দিকে যেটুকু নজর চলে তাতে সে একখানি আকাশের রেখা দেখতে পায়-- ঠিক তার নিজেরই মতো সরু, তার নিজেরই মতো বাঁকা।
আরো দেখুন
বাঁশি
Stories
বাঁশির বাণী চিরদিনের বাণী--শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা, প্রতি দিনের মাটির বুক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশু নেমে এল মর্ত্যের ধূলি দিয়ে স্বর্গ-স্বর্গ খেলতে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শুনি আর মন যে কেমন করে বুঝতে পারি নে। সেই ব্যথাকে চেনা সুখদুঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজ্জ্বল, চেনা চোখের জলের চেয়ে সে গভীর।
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
18
Verses
THE NIGHT deepens and the dying flame flickers in the lamp.
        I forgot to notice when the evening-like a village girl who has filled her pitcher at the river a last time for that day-closed the door on her cabin.
        I was speaking to you, my love, with mind barely conscious of my voice-tell me, had it any meaning? Did it bring you any message from beyond life's borders?
For now, since my voice has ceased, I feel the night throbbing with thoughts that gaze in awe at the abyss of their dumbness.
আরো দেখুন
একটি দিন
Stories
মনে পড়ছে সেই দুপুরবেলাটি। ক্ষণে ক্ষণে বৃষ্টিধারা ক্লান্ত হয়ে আসে, আবার দমকা হাওয়া তাকে মাতিয়ে তোলে।
ঘরে অন্ধকার, কাজে মন যায় না। যন্ত্রটা হাতে নিয়ে বর্ষার গানে মল্লারের সুর লাগালেম।
আরো দেখুন
বৃষ্টি রৌদ্র
Verses
ঝুঁটি-বাঁধা ডাকাত সেজে
দল বেঁধে মেঘ চলেছে যে
          আজকে সারাবেলা।
কালো ঝাঁপির মধ্যে ভরে
সুর্যিকে নেয় চুরি করে,
          ভয়-দেখাবার খেলা।
বাতাস তাদের ধরতে মিছে
হাঁপিয়ে ছোটে পিছে পিছে,
          যায় না তাদের ধরা।
আজ যেন ওই জড়োসড়ো
আকাশ জুড়ে মস্ত বড়ো
          মন-কেমন-করা।
বটের ডালে ডানা-ভিজে
কাক বসে ওই ভাবছে কী যে,
          চড়ুইগুলো চুপ।
বৃষ্টি হয়ে গেছে ভোরে
শজনেপাতায় ঝরে ঝরে
          জল পড়ে টুপটুপ।
লেজের মধ্যে মাথা থুয়ে
খ্যাঁদন কুকুর আছে শুয়ে
          কেমন একরকম।
দালানটাতে ঘুরে ঘুরে
পায়রাগুলো কাঁদন-সুরে
          ডাকছে বকবকম।
কার্তিকে ঐ ধানের খেতে
ভিজে হাওয়া উঠল মেতে
          সবুজ ঢেউয়ের 'পরে।
পরশ লেগে দিশে দিশে
হিহি করে ধানের শিষে
          শীতের কাঁপন ধরে।
ঘোষাল-পাড়ার লক্ষ্মী বুড়ী
ছেঁড়া কাঁথায় মুড়িসুড়ি
          গেছে পুকুরপাড়ে,
দেখতে ভালো পায় না চোখে
বিড়বিড়িয়ে বকে বকে
          শাক তোলে, ঘাড় নাড়ে।
ঐ ঝমাঝম বৃষ্টি নামে
মাঠের পারে দূরের গ্রামে
          ঝাপসা বাঁশের বন।
গোরুটা কার থেকে থেকে
খোঁটায়-বাঁধা উঠছে ডেকে
          ভিজছে সারাক্ষণ।
গদাই কুমোর অনেক ভোরে
সাজিয়ে নিয়ে উঁচু ক'রে
          হাঁড়ির উপর হাঁড়ি
চলছে রবিবারের হাটে
গামছা মাথায় জলের ছাঁটে
          হাঁকিয়ে গোরুর গাড়ি।
বন্ধ আমার রইল খেলা,
ছুটির দিনে সারাবেলা
          কাটবে কেমন করে?
মনে হচ্ছে এমনিতরো
ঝরবে বৃষ্টি ঝরঝর
          দিনরাত্তির ধরে!
এমন সময় পুবের কোণে
কখন যেন অন্যমনে
          ফাঁক ধরে ঐ মেঘে,
মুখের চাদর সরিয়ে ফেলে
হঠাৎ চোখের পাতা মেলে
          আকাশ ওঠে জেগে।
ছিঁড়ে-যাওয়া মেঘের থেকে
পুকুরে রোদ পড়ে বেঁকে,
          লাগায় ঝিলিমিলি।
বাঁশবাগানের মাথায় মাথায়
তেঁতুলগাছের পাতায় পাতায়
          হাসায় খিলিখিলি।
হঠাৎ কিসের মন্ত্র এসে
ভুলিয়ে দিলে একনিমেষে
          বাদলবেলার কথা।
হারিয়ে-পাওয়া আলোটিরে
নাচায় ডালে ফিরে ফিরে
          বেড়ার ঝুমকোলতা।
উপর নিচে আকাশ ভরে
এমন বদল কেমন করে
          হয়, সে-কথাই ভাবি।
উলটপালট খেলাটি এই,
সাজের তো তার সীমানা নেই,
          কার কাছে তার চাবি?
এমন যে ঘোর মন-খারাপি
বুকের মধ্যে ছিল চাপি
          সমস্ত খন আজি
হঠাৎ দেখি সবই মিছে
নাই কিছু তার আগে পিছে
          এ যেন কার বাজি।
আরো দেখুন
শেষের রাত্রি
Stories
'মাসি !'
'ঘুমোও,যতীন,রাত হল যে ।'
আরো দেখুন
শ্যামলা
Verses
         যে-ধরণী ভালোবাসিয়াছি
তোমারে দেখিয়া ভাবি তুমি তারি আছ কাছাকাছি।
           হৃদয়ের বিস্তীর্ণ আকাশে
                 উন্মুক্ত বাতাসে
                       চিত্ত তব স্নিগ্ধ সুগভীর।
                     হে শ্যামলা, তুমি ধীর,
                  সেবা তব সহজ সুন্দর,
           কর্মেরে বেষ্টিয়া তব আত্মসমাহিত অবসর।
                মাটির অন্তরে
                      স্তরে স্তরে
                   রবিরশ্মি নামে পথ করি,
               তারি পরিচয় ফুটে দিবসশর্বরী
                   তরুলতিকায় ঘাসে,
                       জীবনের বিচিত্র বিকাশে।
           তেমনি প্রচ্ছন্ন তেজ চিত্ততলে তব
                 তোমার বিচিত্র চেষ্টা করে নব নব
                              প্রাণমূর্তিময়,
                       দেয় তারে যৌবন অক্ষয়।
    প্রতিদিবসের সব কাজে
সৃষ্টির প্রতিভা তব অক্লান্ত বিরাজে।
               তাই দেখি তোমার সংসার
         চিত্তের সজীব স্পর্শে সর্বত্র তোমার আপনার।
           আষাঢ়ের প্রথম বর্ষণে
    মাটির যে-গন্ধ উঠে সিক্ত সমীরণে,
               ভাদ্রে যে-নদীটি ভরা কূলে কূলে,
               মাঘের শেষে যে-শাখা গন্ধঘন আমের মুকুলে,
                   ধানের হিল্লোলে ভরা নবীন যে-খেত,
                       অশ্বত্থের কম্পিত সংকেত,
               আশ্বিনে শিউলিতলে পূজাগন্ধ যে স্নিগ্ধ ছায়ার,
                   জানি না এদের সাথে কী মিল তোমার।
               দেখি ব'সে জানালার ধারে--
                              প্রান্তরের পারে
                       নীলাভ নিবিড় বনে
                              শীতসমীরণে
                       চঞ্চল পল্লবঘন সবুজের 'পরে
                              ঝিলিমিলি করে
                       জনহীন মধ্যাহ্নের সূর্যের কিরণ,
                            তন্দ্রাবিষ্ট আকাশের স্বপ্নের মতন।
         দিগন্তে মন্থর মেঘ, শঙ্খচিল উড়ে যায় চলি
                  ঊর্ধ্বশূন্যে, কতমতো পাখির কাকলি,
                              পীতবর্ণ ঘাস
           শুষ্ক মাঠে, ধরণীর বনগন্ধি আতপ্ত নিঃশ্বাস
                 মৃদুমন্দ লাগে গায়ে, তখন সে-ক্ষণে
           অস্তিত্বের যে ঘনিষ্ঠ অনুভূতি ভরি উঠে মনে,
প্রাণের যে প্রশান্ত পূর্ণতা, লভি তাই
                   যখন তোমার কাছে যাই--
         যখন তোমারে হেরি
               রহিয়াছ আপনারে ঘেরি
                  গম্ভীর শান্তিতে,
                       স্নিগ্ধ সুনিস্তব্ধ চিতে,
         চক্ষে তব অন্তর্যামী দেবতার উদার প্রসাদ
                          সৌম্য আশীর্বাদ।
আরো দেখুন
ম্যানেজারবাবু
Stories
আজ তোমাকে যে গল্পটা বলব মনে করেছি সেটা তোমার ভালো লাগবে না।
তুমি বললেও ভালো লাগবে না কেন।
আরো দেখুন