88
Verses
MIGRATORY songs wing from my heart
and seek their nests in your voice of love.
আরো দেখুন
ভোলা
Verses
          হঠাৎ আমার হল মনে
শিবের জটার গঙ্গা যেন শুকিয়ে গেল অকারণে;--
          থামল তাহার হাস্য-উছল বাণী;
     থামল তাহার নৃত্য-নূপুর ঝরঝরানি;
সূর্য-আলোর সঙ্গে তাহার ফেনার কোলাকুলি,
        হাওয়ার সঙ্গে ঢেউয়ের দোলাদুলি
          স্তব্ধ হল এক নিমেষে
   বিজু যখন চলে গেল মরণপারের দেশে
          বাপের বাহুর বাঁধন কেটে।
মনে হল আমার ঘরের সকাল যেন মরেছে বুক ফেটে।
          ভোরবেলা তার বিষম গন্ডগোলে
ঘুম-ভাঙনের সাগরমাঝে আর কি তুফান তোলে।
               ছুটোছুটির উপদ্রবে
                   ব্যস্ত হত সবে,
হাঁ হাঁ করে ছুটে আসত "আরে আরে করিস কী তুই" ব'লে;
          ভূমিকম্পে গৃহস্থালি উঠত যেন টলে।
      আজ যত তার দস্যুপনা, যা-কিছু হাঁকডাক
   চাক-ভরা মৌমাছির মতো উড়ে গেছে শূন্য করে চাক।
                   আমার এ সংসারে
      অত্যাচারের সুধা-উৎস বন্ধ হয়ে গেল একেবারে;
                   তাই এ ঘরের প্রাণ
                        লোটায় ম্রিয়মাণ
               জল-পালানো দিঘির পদ্ম যেন।
খাট-পালঙ্ক শূন্যে চেয়ে শুধায় শুধু, "কেন, নাই সে কেন।"
          সবাই তারে দুষ্টু বলত, ধরত আমার দোষ,
      মনে করত শাসন বিনা বড়ো হলে ঘটাবে আপসোস।
                   সমুদ্র-ঢেউ যেমন বাঁধন টুটে
                   ফেনিয়ে গড়িয়ে গর্জে ছুটে
ফিরে ফিরে ফুলে ফুলে কূলে কূলে দুলে দুলে পড়ে লুটে লুটে
                       ধরার বক্ষতলে,
          দুরন্ত তার দুষ্টুমিটি তেমনি বিষম বলে
               দিনের মধ্যে সহস্রবার ক'রে
           বাপের বক্ষ দিত অসীম চঞ্চলতায় ভ'রে।
                বয়সের এই পর্দা-ঘেরা শান্ত ঘরে
আমার মধ্যে একটি সে কোন্‌ চির-বালক লুকিয়ে খেলা করে;
                   বিজুর হাতে পেলে নাড়া
                     সেই যে দিত সাড়া।
          সমান-বয়স ছিল আমার কোন্‌খানে তার সনে,
          সেইখানে তার সাথি ছিলেম সকল প্রাণে মনে।
          আমার বক্ষ সেইখানে এক-তালে,
     উঠত বেজে তারি খেলার অশান্ত গোলমালে।
বৃষ্টিধারা সাথে নিয়ে মোদের দ্বারে ঝড় দিত যেই হানা
          কাটিয়ে দিয়ে বিজুর মায়ের মানা
              অট্ট হেসে আমরা দোঁহে
      মাঠের মধ্যে ছুটে গেছি উদ্দাম বিদ্রোহে।
                   পাকা আমের কালে
               তারে নিয়ে বসে গাছের ডালে
     দুপুরবেলায় খেয়েছি আম করে কাড়াকাড়ি--
তাই দেখে সব পাড়ার লোকে বলে গেছে, "বিষম বাড়াবাড়ি।"
                  বারে বারে
আমার লেখার ব্যাঘাত হত, বিজুর মা তাই রেগে বলত তারে
          "দেখিস নে তোর বাবা আছেন কাজে?"
                   বিজু তখন লাজে
বাইরে চলে যেত। আমার দ্বিগুণ ব্যাঘাত হত লেখাপড়ায়;
     মনে হত, "টেবিলখানা কেউ কেন না নড়ায়।"
                   ভোর না হতে রাতি
সেদিন যখন বিজু গেল ছেড়ে খেলা, ছেড়ে খেলার সাথি,
          মনে হল এতদিনে বুড়োবয়সখানা
                    পুরল ষোলো আনা।
     কাজের ব্যাঘাত হবে না আর কোনোমতে,
          চলব এবার প্রবীণতার পাকা পথে,
               লক্ষ্য করে বৈতরণীর ঘাট,
গম্ভীরতার স্তম্ভিত ভার বহন করে প্রাণটা হবে কাঠ।
               সময় নষ্ট হবে না আর দিনে রাতে
দৌড়াবে মন লেখার খাতার শুকনো পাতে পাতে,--
               বৈঠকেতে চলবে না আলোচনা
          কেবলি সৎপরামর্শ কেবলি সদ্‌বিবেচনা।
          ঘরের সকল আকাশ ব্যেপে
দারুণ শূন্য রয়েছে মোর চৌকি-টেবিল চেপে।
          তাই সেখানে টিকতে নাহি পারি;
               বৈরাগ্যে মন ভারি,
          উঠোনেতে করছিনু পায়চারি।
          এমন সময় উঠল মাটি কেঁপে
হঠাৎ কে এক ঝড়ের মতো বুকের 'পরে পড়ল আমায় ঝেঁপে।
          চমক লাগল শিরে শিরে,
হঠাৎ মনে হল বুঝি বিজুই আমার এল আবার ফিরে।
          আমি শুধাই, "কে রে, কী রে।"
          "আমি ভোলা", সে শুধু এই কয়,
          এই যেন তার সকল পরিচয়,
                   আর-কিছু নেই বাকি।
আমি তখন অচেনারে দু-হাত দিয়ে বক্ষে চেপে রাখি,
          সে বললে "ঐ বাইরে তেঁতুলগাছে
             ঘুড়ি আমার আটকে আছে
                 ছাড়িয়ে দাও-না এসে।"
                   এই বলে সে
          হাত ধরে মোর চলল নিয়ে টেনে।
     ওরে ওরে এইমতো যার হাজার হুকুম মেনে
কেটেছিল নটা বছর, তারি হুকুম আজো মর্ত্যতলে
          ঘুরে বেড়ায় তেমনি নানান ছলে।
              ওরে ওরে বুঝে নিলেম আজ
                   ফুরোয় নি মোর কাজ।
আমার রাজা, আমার সখা, আমার বাছা আজো
                   কত সাজেই সাজো।
          নতুন হয়ে আমার বুকে এলে,
        চিরদিনের সহজ পথটি আপনি খুঁজে পেলে।
আবার আমার লেখার সময় টেবিল গেল নড়ে,
               আবার হঠাৎ উলটে প'ড়ে
                   দোয়াত হল খালি,
          খাতায় পাতায় ছড়িয়ে গেল কালি।
          আবার কুড়োই ঝিনুক শামুক নুড়ি
          গোলা নিয়ে আবার ছোঁড়াছুঁড়ি।
          আবার আমার নষ্ট সময় ভ্রষ্ট কাজে
               উলটপালট গন্ডগোলের মাঝে
                   ফেলাছড়া-ভাঙাচোরার 'পর
আমার প্রাণের চিরবালক নতুন করে বাঁধল খেলাঘর
          বয়সের এই দুয়ার পেয়ে খোলা।
               আবার বক্ষে লাগিয়ে দোলা
এল তার দৌরাত্ম্য নিয়ে এই ভুবনের চিরকালের ভোলা।
আরো দেখুন
রাসমণির ছেলে
Stories
কালীপদর মা ছিলেন রাসমণি-- কিন্তু তাঁহাকে দায়ে পড়িয়া বাপের পদ গ্রহণ করিতে হইয়াছিল। কারণ, বাপ মা উভয়েই মা হইয়া উঠিলে ছেলের পক্ষে সুবিধা হয় না। তাঁহার স্বামী ভবানীচরণ ছেলেকে একেবারেই শাসন করিতে পারেন না।
তিনি কেন এত বেশি আদর দেন তাহা জিজ্ঞাসা করিলে তিনি যে উত্তর দিয়া থাকেন তাহা বুঝিতে হইলে পূর্ব ইতিহাস জানা চাই।
আরো দেখুন
নিরাপদ নীচতা
Verses
তুমি নীচে পাঁকে পড়ি ছড়াইছ পাঁক,
যে জন উপরে আছে তারি তো বিপাক।
আরো দেখুন
কার মিলন চাও
Songs
          কার মিলন চাও বিরহী--
তাঁহারে কোথা খুঁজিছ ভব-অরণ্যে
কুটিল জটিল গহনে শান্তিসুখহীন ওরে মন ॥
দেখো দেখো রে চিত্তকমলে চরণপদ্ম বাজে-- হায়!
অমৃতজ্যোতি কিবা সুন্দর ওরে মন ॥
আরো দেখুন
সে
Stories
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য
করতলযুগলেষু
আরো দেখুন
মুকুট
Stories
ত্রিপুরার রাজা অমরমাণিক্যের কনিষ্ঠ পুত্র রাজধর সেনাপতি ইশা খাঁকে বলিলেন, "দেখো সেনাপতি, আমি বারবার বলিতেছি তুমি আমাকে অসম্মান করিয়ো না।"
পাঠান ইশা খাঁ কতকগুলি তীরের ফলা লইয়া তাহাদের ধার পরীক্ষা করিতেছিলেন। রাজধরের কথা শুনিয়া কিছুই বলিলেন না, কেবল মুখ তুলিয়া ভুরু উঠাইয়া একবার তাঁহার মুখের দিকে চাহিলেন। আবার তখনই মুখ নত করিয়া তীরের ফলার দিকে মনোযোগ দিলেন।
আরো দেখুন
অপরিচিতা
Stories
আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র। এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যের হিসাবে বড়ো, না গুণের হিসাবে। তবু ইহার একটু বিশেষ মূল্য আছে। ইহা সেই ফুলের মতো যাহার বুকের উপরে ভ্রমর আসিয়া বসিয়াছিল, এবং সেই পদক্ষেপের ইতিহাস তাহার জীবনের মাঝখানে ফলের মতো গুটি ধরিয়া উঠিয়াছে।
সেই ইতিহাসটুকু আকারে ছোটো, তাহাকে ছোটো করিয়াই লিখিব। ছোটোকে যাঁহারা সামান্য বলিয়া ভুল করেন না তাঁহারা ইহার রস বুঝিবেন।
আরো দেখুন
মুক্তকুন্তলা
Stories
আমার খুদে বন্ধুরা এসে হাজির তাদের নালিশ নিয়ে। বললে, দাদামশায় তুমি কি আমাদের ছেলেমানুষ মনে কর।
তা, ভাই, ঐ ভুলটাই তো করেছিলুম। আজকাল নিজেরই বয়েসটার ভুল হিসেব করতে শুরু করেছি।
আরো দেখুন
পণরক্ষা
Stories
বংশীবদন তাহার ভাই রসিককে যেমন ভালোবাসিত এমন করিয়া সচরাচর মাও ছেলেকে ভালোবাসিতে পারে না। পাঠশালা হইতে রসিকের আসিতে যদি কিছু বিলম্ব হইত তবে সকল কাজ ফেলিয়া সে তাহার সন্ধানে ছুটিত। তাহাকে না খাওয়াইয়া সে নিজে খাইতে পারিত না। রসিকের অল্প কিছু অসুখবিসুখ হইলেই বংশীর দুই চোখ দিয়া ঝর্‌ঝর্‌ করিয়া জল ঝরিতে থাকিত।
রসিক বংশীর চেয়ে ষোলো বছরের ছোটো। মাঝে যে কয়টি ভাইবোন জন্মিয়াছিল সবগুলিই মারা গিয়াছে। কেবল এই সব-শেষেরটিকে রাখিয়া, যখন রসিকের এক বছর বয়স, তখন তাহার মা মারা গেল এবং রসিক যখন তিন বছরের ছেলে তখন সে পিতৃহীন হইল। এখন রসিককে মানুষ করিবার ভার একা এই বংশীর উপর।
আরো দেখুন