কী সুর বাজে
Songs
কী সুর বাজে আমার প্রাণে   আমিই জানি, মনই জানে॥
     কিসের লাগি সদাই জাগি,   কাহার কাছে কী ধন মাগি--
                        তাকাই কেন পথের পানে॥
দ্বারের পাশে প্রভাত আসে,   সন্ধ্যা নামে বনের বাসে।
     সকাল-সাঁঝে বাঁশি বাজে,   বিকল করে সকল কাজে--
                        বাজায় কে যে কিসের তানে॥
আরো দেখুন
ঘরে বাইরে
Novels
মা গো, আজ মনে পড়ছে তোমার সেই সিঁথের সিঁদুর, চওড়া সেই লাল-পেড়ে শাড়ি, সেই তোমার দুটি চোখ-- শান্ত, স্নিগ্ধ, গভীর। সে যে দেখেছি আমার চিত্তাকাশে ভোরবেলাকার অরুণরাগরেখার মতো। আমার জীবনের দিন যে সেই সোনার পাথেয় নিয়ে যাত্রা করে বেরিয়েছিল। তার পরে? পথে কালো মেঘ কি ডাকাতের মতো ছুটে এল? সেই আমার আলোর সম্বল কি এক কণাও রাখল না? কিন্তু জীবনের ব্রাহ্মমুহূর্তে সেই-যে উষাসতীর দান, দুর্যোগে সে ঢাকা পড়ে, তবু সে কি নষ্ট হবার?
আমাদের দেশে তাকেই বলে সুন্দর যার বর্ণ গৌর। কিন্তু যে আকাশ আলো দেয় সে যে নীল। আমার মায়ের বর্ণ ছিল শামলা, তাঁর দীপ্তি ছিল পুণ্যের। তাঁর রূপ রূপের গর্বকে লজ্জা দিত।
এসো পাপ, এসো সুন্দরী!
তব চুম্বন-অগ্নি-মদিরা রক্তে ফিরুক সঞ্চরি।
অকল্যাণের বাজুক শঙ্খ,
ললাটে, লেপিয়া দাও কলঙ্ক,
নির্লাজ কালো কলুষপঙ্ক
    বুকে দাও প্রলয়ংকরী!
      রাই আমার    চলে যেতে ঢলে পড়ে।
               অগাধ জলের মকর যেমন,
                         ও তার    চিটে চিনি জ্ঞান নেই!
ভরা বাদর, মাহ ভাদর,
শূন্য মন্দির মোর!
ভরা বাদর, মাহ ভাদর,
শূন্য মন্দির মোর!
ভরা বাদর, মাহ ভাদর,
শূন্য মন্দির মোর!
ভরা বাদর, মাহ ভাদর,
শূন্য মন্দির মোর!
বিদ্যাপতি কহে কৈসে গোয়াঁয়বি
হরি বিনে দিনরাতিয়া?
আমার নিকড়িয়া রসের রসিক কানন ঘুরে ঘুরে
      নিকড়িয়া বাঁশের বাঁশি বাজায় মোহন সুরে।
আমার ঘর বলে, তুই কোথায় যাবি,
বাইরে গিয়ে সব খোয়াবি--
আমার প্রাণ বলে, তোর যা আছে সব
যাক-না উড়ে পুড়ে।
ওগো,যায় যদি তো যাক-না চুকে,
সব হারাব হাসিমুখে,
আমি এই চলেছি মরণসুধা
নিতে পরান পূরে।
ওগো, আপন যারা কাছে টানে
এ রস তারা কেই বা জানে,
আমার বাঁকা পথের বাঁকা সে যে
ডাক দিয়েছে দূরে।
এবার বাঁকার টানে সোজার বোঝা
পড়ুক ভেঙে-চুরে।
যখন দেখা দাও নি, রাধা, তখন বেজেছিল বাঁশি।
এখন চোখে চোখে চেয়ে সুর যে আমার গেল ভাসি।
তখন নানা তানের ছলে
ডাক ফিরেছে জলে স্থলে,
এখন আমার সকল কাঁদা রাধার রূপে উঠল হাসি।
বঁধুর লাগি কেশে আমি পরব এমন ফুল
স্বর্গে মর্তে তিন ভুবনে নাইকো যাহার মূল।
বাঁশির ধ্বনি হাওয়ায় ভাসে,
সবার কানে বাজবে না সে--
দেখ্‌ লো চেয়ে যমুনা ওই ছাপিয়ে গেল কূল।
She should never have looked at me,
If she meant I should not love her!
There are plenty... men you call such,
I suppose... she may discover
All her soul to, if she pleases,
And yet leave much as she found them:
But I'm not so, and she knew it
When she fixed me, glancing round them.
আমায় ভালো বাসবে না সে এই যদি তার ছিল জানা,
তবে কি তার উচিত ছিল আমার-পানে দৃষ্টি হানা?
তেমন-তেমন অনেক মানুষ আছে তো এই ধরাধামে
(যদিচ ভাই, আমি তাদের গণি নেকো মানুষ নামে)--
যাদের কাছে সে যদি তার খুলে দিত প্রাণের ঢাকা,
তবু তারা রইত খাড়া যেমন ছিল তেমনি ফাঁকা।
আমি তো নই তাদের মতন সে কথা সে জানত মনে
যখন মোরে বাঁধল ধ'রে বিদ্ধ ক'রে নয়নকোণে।
মধুঋতু নিত্য হয়ে রইল তোমার মধুর দেশে।
যাওয়া-আসার কান্নাহাসি হাওয়ায় সেথা বেড়ায় ভেসে।
যার যে জনা সেই শুধু যায়, ফুল ফোটা তো ফুরোয় না হায়--
ঝরবে যে ফুল সেই কেবলি ঝরে পড়ে বেলাশেষে।
যখন আমি ছিলেম কাছে তখন কত দিয়েছি গান;
এখন আমার দূরে যাওয়া, এরও কি গো নাই কোনো দান?
পুষ্পবনের ছায়ায় ঢেকে এই আশা তাই গেলেম রেখে--
আগুন-ভরা ফাগুনকে তোর কাঁদায় যেন আষাঢ় এসে॥
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
68
Verses
যুগল প্রাণের মিলনের পরে
         পুণ্য অমৃত-বৃষ্টি
মঙ্গল-দানে করুক মধুর
         নবজীবনের সৃষ্টি।
প্রেমরহস্যসন্ধান-পথে যাত্রী
মধুময় হোক তোমাদের দিন রাত্রি,
নামুক দোঁহার শুভদৃষ্টিতে
         বিধাতার শুভদৃষ্টি।
আরো দেখুন
কর্মফল
Stories
আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন-- সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। 'এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।'
শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন।
আরো দেখুন
74
Verses
THE FLOWER which is single
need not envy the thorns
that are numerous.
আরো দেখুন
মুনশি
Stories
আচ্ছা দাদামশায়, তোমাদের সেই মুনশিজি এখন কোথায় আছেন।
এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব তার সময়টা বুঝি কাছে এসেছে, তবু হয়তো কিছুদিন সবুর করতে হবে।
আরো দেখুন
মেঘ ও রৌদ্র
Stories
পূর্বদিনে বৃষ্টি হইয়া গিয়াছে। আজ ক্ষান্তবর্ষণ প্রাতঃকালে ম্লান রৌদ্র ও খণ্ড মেঘে মিলিয়া পরিপক্কপ্রায় আউশ ধানের ক্ষেত্রের উপর পর্যায়ক্রমে আপন আপন সুদীর্ঘ তুলি বুলাইয়া যাইতেছিল; সুবিস্তৃত শ্যাম চিত্রপট একবার আলোকের স্পর্শে উজ্জ্বল পাণ্ডুবর্ণ ধারণ করিতেছিল আবার পরক্ষণেই ছায়াপ্রলেপে গাঢ় স্নিগ্ধতায় অঙ্কিত হইতেছিল।
যখন সমস্ত আকাশরঙ্গভূমিতে মেঘ এবং রৌদ্র, দুইটি মাত্র অভিনেতা, আপন আপন অংশ অভিনয় করিতেছিল তখন নিম্নে সংসাররঙ্গভূমিতে কত স্থানে কত অভিনয় চলিতেছিল তাহার আর সংখ্যা নাই।
আরো দেখুন
সাঁওতাল মেয়ে
Verses
যায় আসে সাঁওতাল মেয়ে
             শিমূলগাছের তলে কাঁকরবিছানো পথ বেয়ে।
        মোটা শাড়ি আঁট করে ঘিরে আছে তনু কালো দেহ।
                বিধাতার ভোলা-মন কারিগর কেহ
             কোন্‌ কালো পাখিটিরে গড়িতে গড়িতে
                 শ্রাবণের মেঘে ও তড়িতে
                      উপাদান খুঁজি
                 ওই নারী রচিয়াছে বুঝি।
                      ওর দুটি পাখা
                 ভিতরে অদৃশ্য আছে ঢাকা,
             লঘু পায়ে মিলে গেছে চলা আর ওড়া।
        নিটোল দু হাতে তার সাদারাঙা কয় জোড়া
                      গালা-ঢালা চুড়ি,
                 মাথায় মাটিতে-ভরা ঝুড়ি,
                 যাওয়া-আসা করে বারবার।
                   আঁচলে প্রান্ত তার
                      লাল রেখা দুলাইয়া
        পলাশের স্পর্শমায়া আকাশেতে দেয় বুলাইয়া।
                 পউষের পালা হল শেষ,
        উত্তর বাতাসে লাগে দক্ষিণের ক্বচিৎ আবেশ।
                 হিমঝুরি শাখা-'পরে
             চিকন চঞ্চল পাতা ঝলমল করে
                 শীতের রোদ্‌দুরে।
        পাণ্ডুনীল আকাশেতে চিল উড়ে যায় বহুদূরে।
             আমলকীলতা ছেয়ে খসে পড়ে ফল,
                 জোটে সেথা ছেলেদের দল।
        আঁকাবাঁকা বনপথে আলোছায়া-গাঁথা,
             অকস্মাৎ ঘুরে ঘুরে ওড়ে ঝরা পাতা
                 সচকিত হাওয়ার খেয়ালে।
                      ঝোপের আড়ালে
                 গলাফোলা গিরগিটি স্তব্ধ আছে ঘাসে।
        ঝুড়ি নিয়ে বারবার সাঁওতাল মেয়ে যায় আসে।
                 আমার মাটির ঘরখানা
আরম্ভ হয়েছে গড়া, মজুর জুটেছে তার নানা।
   ধীরে ধীরে ভিত তোলে গেঁথে
        রৌদ্রে পিঠ পেতে।
           মাঝে মাঝে
   সুদূরে রেলের বাঁশি বাজে;
প্রহর চলিয়া যায়, বেলা পড়ে আসে,
ঢং ঢং ঘন্টাধ্বনি জেগে ওঠে দিগন্ত-আকাশে।
        আমি দেখি চেয়ে,
ঈষৎ সংকোচে ভাবি--এ কিশোরী মেয়ে
পল্লীকোণে যে ঘরের তরে
করিয়াছে প্রস্ফুটিত দেহে ও অন্তরে
   নারীর সহজ শক্তি আত্মনিবেদনপরা
        শুশ্রূষার স্নিগ্ধসুধা-ভরা,
আমি তারে লাগিয়েছি কেনা কাজে করিতে মজুরি--
   মূল্যে যার অসম্মান সেই শক্তি করি চুরি
        পয়সার দিয়ে সিঁধকাঠি।
সাঁওতাল মেয়ে ওই ঝুড়ি ভরে নিয়ে আসে মাটি।
আরো দেখুন
109
Verses
লিখন দিয়ে স্মৃতিরে কি
            রাখবে চিরদিন?
লিখন রবে, স্মৃতি হবে
            কোন্‌ আঁধারে লীন।
পাখির সময় হলে সে কি
            মান্‌বে খাঁচার মানা--
রইবে না সে, রবে কেবল
            লোহার খাঁচাখানা।
আরো দেখুন