প্রথম চিঠি
Stories
বধূর সঙ্গে তার প্রথম মিলন, আর তার পরেই সে এই প্রথম এসেছে প্রবাসে।
চলে যখন আসে তখন বধূর লুকিয়ে কান্নাটি ঘরের আয়নার মধ্যে দিয়ে চকিতে ওর চোখে পড়ল।
আরো দেখুন
বিপাশার তীরে ভ্রমিবারে যাই
Songs
        বিপাশার তীরে ভ্রমিবারে যাই,   প্রতিদিন প্রাতে দেখিবারে পাই
        লতা-পাতা-ঘেরা জানালা-মাঝারে   একটি মধুর মুখ ।।
        চারি দিকে তার ফুটে আছে ফুল— কেহ বা হেলিয়া পরশিছে চুল,
        দুয়েকটি শাখা কপাল ছুঁইয়া,   দুয়েকটি আছে কপোলে নুইয়া,
        কেহ বা এলায়ে চেতনা হারায়ে   চুমিয়া আছে চিবুক ।
        বসন্তপ্রভাতে লতার মাঝারে   মুখানি মধুর অতি—
        অধর-দুটির শাসন টুটিয়া   রাশি রাশি হাসি পড়িছে ফুটিয়া,
        দুটি আঁখি-’পরে মেলিছে মিশিছে   তরল চপল জ্যোতি ।।
আরো দেখুন
কী হল আমার!
Songs
কী হল আমার! বুঝি বা সখী,   হৃদয় আমার হারিয়েছি।
পথের মাঝেতে খেলাতে গিয়ে    হৃদয় আমার হারিয়েছি॥
প্রভাতকিরণে সকালবেলাতে
মন লয়ে, সখী, গেছিনু খেলাতে--
মন কুড়াইতে, মন ছড়াইতে,   মনের মাঝারে খেলি বেড়াইতে,
মনোফুল দলি চলি বেড়াইতে--
সহসা, সজনী, চেতনা পেয়ে
সহসা, সজনী, দেখিনু চেয়ে
রাশি রাশি ভাঙা হৃদয়-মাঝে   হৃদয় আমার হারিয়েছি॥
যদি কেহ, সখী, দলিয়া যায়,
তার 'পর দিয়া চলিয়া যায়--
শুকায়ে পড়িবে, ছিঁড়িয়া পড়িবে, দলগুলি তার ঝরিয়া পড়িবে--
যদি কেহ, সখী, দলিয়া যায়।
আমার কুসুমকোমল হৃদয়   কখনো সহে নি রবির কর,
আমার মনের কামিনীপাপড়ি   সহে নি ভ্রমরচরণভর।
চিরদিন, সখী, হাসিত খেলিত,
জোছনা-আলোকে নয়ন মেলিত--
সহসা আজ সে হৃদয় আমার   কোথায়, সজনী, হারিয়েছি॥
আরো দেখুন
আমি পথিক, পথ আমারি সাথি
Verses
আমি পথিক, পথ আমারি সাথি।
     দিন সে কাটায় গনি গনি
     বিশ্বলোকের চরণধ্বনি,
তারার আলোয় গায় সে সারা রাতি।
          কত যুগের রথের রেখা
          বক্ষে তাহার আঁকে লেখা,
          কত কালের ক্লান্ত আশা
     ঘুমায় তাহার ধুলায় আঁচল পাতি।
বাহির হলেম কবে সে নাই মনে।
     যাত্রা আমার চলার পাকে
     এই পথেরই বাঁকে বাঁকে
নূতন হল প্রতি ক্ষণে ক্ষণে।
         যত আশা পথের আশা,
         পথে যেতেই ভালোবাসা,
         পথে চলার নিত্যরসে
     দিনে দিনে জীবন ওঠে মাতি।
আরো দেখুন
অধরা মাধুরী ধরেছি
Songs
অধরা মাধুরী ধরেছি ছন্দোবন্ধনে।
     ও যে   সুদূর প্রাতের পাখি
          গাহে   সুদূর রাতের গান॥
              বিগত বসন্তের অশোকরক্তরাগে ওর   রঙিন পাখা,
                   তারি ঝরা ফুলের গন্ধ ওর   অন্তরে ঢাকা ॥
ওগো বিদেশিনী,
     তুমি ডাকো ওরে নাম ধরে,
              ও যে   তোমারি চেনা।
     তোমারি দেশের আকাশ ও যে জানে,   তোমার রাতের তারা,
              তোমারি বকুলবনের গানে ও দেয় সাড়া--
                   নাচে   তোমারি কঙ্কণেরই তালে॥
আরো দেখুন
গল্প
Stories
ছেলেটির যেমনি কথা ফুটল অমনি সে বললে, 'গল্প বলো।'
দিদিমা বলতে শুরু করলেন, 'এক রাজপুত্তুর, কোটালের পুত্তুর, সদাগরের পুত্তুর--'
আরো দেখুন
রবিবার
Stories
আমার গল্পের প্রধান মানুষটি প্রাচীন ব্রাহ্মণপণ্ডিত-বংশের ছেলে। বিষয়ব্যাপারে বাপ ওকালতি ব্যবসায়ে আঁটি পর্যন্ত পাকা, ধর্মকর্মে শাক্ত আচারের তীব্র জারক রসে জারিত। এখন আদালতে আর প্র্যাকটিস করতে হয় না। এক দিকে পূজা-অর্চনা আর-এক দিকে ঘরে বসে আইনের পরামর্শ দেওয়া, এই দুটোকে পাশাপাশি রেখে তিনি ইহকাল পরকালের জোড় মিলিয়ে অতি সাবধানে চলেছেন। কোনো দিকেই একটু পা ফসকায় না।
এইরকম নিরেট আচারবাঁধা সনাতনী ঘরের ফাটল ফুঁড়ে যদি দৈবাৎ কাঁটাওয়ালা নাস্তিক ওঠে গজিয়ে, তা হলে তার ভিত-দেয়াল-ভাঙা মন সাংঘাতিক ঠেলা মারতে থাকে ইঁটকাঠের প্রাচীন গাঁথুনির উপরে। এই আচারনিষ্ঠ বৈদিক ব্রাহ্মণের বংশে দুর্দান্ত কালাপাহাড়ের অভ্যুদয় হল আমাদের নায়কটিকে নিয়ে।
আরো দেখুন
তোতাকাহিনী
Stories
এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।
রাজা বলিলেন, 'এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।'
আরো দেখুন