শোনো শোনো আমাদের ব্যথা দেবদেব, প্রভু, দয়াময়— আমাদের ঝরিছে নয়ন, আমাদের ফাটিছে হৃদয় ।। চিরদিন আঁধার না রয়— রবি উঠে, নিশি দূর হয়— এ দেশের মাথার উপরে এ নিশীথ হবে না কি ক্ষয় । চিরদিন ঝরিবে নয়ন ? চিরদিন ফাটিবে হৃদয় ?। মরমে লুকানো কত দুখ, ঢাকিয়া রয়েছি ম্লান মুখ— কাঁদিবার নাই অবসর— কথা নাই, শুধু ফাটে বুক । সঙ্কোচে ম্রিয়মাণ প্রাণ, দশ দিশি বিভীষিকাময়— হেন হীন দীনহীন দেশে বুঝি তব হবে না আলয় । চিরদিন ঝরিবে নয়ন, চিরদিন ফাটিবে হৃদয় ।। কোনো কালে তুলিব কি মাথা । জাগিবে কি অচেতন প্রাণ । ভারতের প্রভাতগগনে উঠিবে কি তব জয়গান । আশ্বাসবচন কোনো ঠাঁই কোনোদিন শুনিতে না পাই— শুনিতে তোমার বাণী তাই মোরা সবে রয়েছি চাহিয়া । বলো, প্রভু, মুছিবে এ আঁখি, চিরদিন ফাটিবে না হিয়া ।।
কুসুমে কুসুমে চরণচিহ্ন দিয়ে যাও, শেষে দাও মুছে। ওহে চঞ্চল, বেলা না যেতে খেলা কেন তব যায় ঘুচে॥ চকিত চোখের অশ্রুসজল বেদনায় তুমি ছুঁয়ে ছুঁয়ে চল-- কোথা সে পথের শেষ কোন্ সুদূরের দেশ সবাই তোমায় তাই পুছে॥ বাঁশরির ডাকে কুঁড়ি ধরে শাখে, ফুল যবে ফোটে নাই দেখা। তোমার লগন যায় সে কখন, মালা গেঁথে আমি রই একা। "এসো এসো এসো' আঁখি কয় কেঁদে। তৃষিত বক্ষ বলে "রাখি বেঁধে' যেতে যেতে, ওগো প্রিয়, কিছু ফেলে রেখে দিয়ো ধরা দিতে যদি নাই রুচে॥