ক্ষমা কর মোরে তাত, আমি যে পাতকী ঘোর, না জেনে হয়েছি দোষী, মার্জ্জনা নাহি কি মোর! ও! সহে না যাতনা আর, শান্তি পাইব কোথায়-- তুমি কৃপা না করিলে নাহি যে কোন উপায়! আমি দীন হীন অতি-- ক্ষম ক্ষম কাতরে, প্রভু হে, করহ ত্রাণ এ পাপের পাথারে। কাফি-- আড়াঠেকা
ওহে জীবনবল্লভ, ওহে সাধনদুর্লভ, আমি মর্মের কথা অন্তরব্যথা কিছুই নাহি কব– শুধু জীবন মন চরণে দিনু বুঝিয়া লহো সব। ( দিনু চরণতলে– কথা যা ছিল দিনু চরণতলে– প্রাণের বোঝা বুঝে লও, দিনু চরণতলে। ) আমি কী আর কব।।
এই সংসারপথসঙ্কট অতি কন্টকময় হে, আমি নীরবে যাব হৃদয়ে লয়ে প্রেমমুরতি তব। ( নীরবে যাব– পথের কাঁটা মানব না, নীরবে যাব। হৃদয়ব্যথায় কাঁদব না, নীরবে যাব। ) আমি কী আর কব।।
আমি সুখদুখ সব তুচ্ছ করিনু প্রিয়-অপ্রিয় হে– তুমি নিজ হাতে যাহা সঁপিবে তাহা মাথায় তুলিয়া লব। ( আমি মাথায় লব– যাহা দিবে তাই মাথায় লব– সুখ দুখ তব পদধূলি ব’লে মাথায় লব। ) আমি কী আর কব।।
অপরাধ যদি ক’রে থাকি পদে, না করো যদি ক্ষমা, তবে পরানপ্রিয় দিয়ো হে দিয়ো বেদনা নব নব। ( দিয়ো বেদনা– যদি ভালো বোঝ দিয়ো বেদনা– বিচারে যদি দোষী হই দিয়ো বেদনা। ) আমি কী আর কব।।
তবু ফেলো না দূরে, দিবসশেষে ডেকে নিয়ো চরণে– তুমি ছাড়া আর কী আছে আমার ! মৃত্যু-আঁধার ভব। ( নিয়ো চরণে– ভবের খেলা সারা হলে নিয়ো চরণে– দিন ফুরাইলে, দীননাথ, নিয়ো চরণে। ) আমি কী আর কব।।
অশ্রুভরা বেদনা দিকে দিকে জাগে। আজি শ্যামল মেঘের মাঝে বাজে কার কামনা ॥ চলিছে ছুটিয়া অশান্ত বায়, ক্রন্দন কার তার গানে ধ্বনিছে-- করে কে সে বিরহী বিফল সাধনা ॥