অলস মনের আকাশেতে প্রদোষ যখন নামে, কর্মরথের ঘড়্ঘড়ানি যে-মুহূর্তে থামে, এলোমেলো ছিন্নচেতন টুকরো কথার ঝাঁক জানি নে কোন্ স্বপ্নরাজের শুনতে যে পায় ডাক, ছেড়ে আসে কোথা থেকে দিনের বেলার গর্ত-- কারো আছে ভাবের আভাস কারো বা নেই অর্থ-- ঘোলা মনের এই যে সৃষ্টি, আপন অনিয়মে ঝিঁঝির ডাকে অকারণের আসর তাহার জমে। একটুখানি দীপের আলো শিখা যখন কাঁপায় চার দিকে তার হঠাৎ এসে কথার ফড়িং ঝাঁপায়। পষ্ট আলোর সৃষ্টি-পানে যখন চেয়ে দেখি মনের মধ্যে সন্দেহ হয় হঠাৎ মাতন এ কি। বাইরে থেকে দেখি একটা নিয়ম-ঘেরা মানে, ভিতরে তার রহস্য কী কেউ তা নাহি জানে। খেয়াল-স্রোতের ধারায় কী সব ডুবছে এবং ভাসছে-- ওরা কী-যে দেয় না জবাব, কোথা থেকে আসছে। আছে ওরা এই তো জানি, বাকিটা সব আঁধার-- চলছে খেলা একের সঙ্গে আর-একটাকে বাঁধার। বাঁধনটাকেই অর্থ বলি, বাঁধন ছিঁড়লে তারা কেবল পাগল বস্তুর দল শূন্যেতে দিক্হারা।
যারে সে বেসেছে ভালো তারে সে কাঁদায়। নূতন ধাঁধায় ক্ষণে ক্ষণে চমকিয়া দেয় তারে, কেবলই আলো-আঁধারে সংশয় বাধায়; ছল-করা অভিমানে বৃথা সে সাধায়। সে কি শরতের মায়া উড়ো মেঘে নিয়ে আসে বৃষ্টিভরা ছায়া। অনুকূল চাহনির তলে কী বিদ্যুৎ ঝলে। কেন দয়িতের মিনতিকে অভাবিত উচ্চ হাস্যে উড়াইয়া দেয় দিকে দিকে। তার পরে আপনার নির্দয় লীলায় আপনি সে ব্যথা পায়, ফিরে যে গিয়েছে তারে ফিরায়ে ডাকিতে কাঁদে প্রাণ; আপনার অভিমানে করে খানখান। কেন তার চিত্তাকাশে সারা বেলা পাগল হাওয়ার এই এলোমেলো খেলা। আপনি সে পারে না বুঝিতে যেদিকে চলিতে চায় কেন তার চলে বিপরীতে। গভীর অন্তরে যেন আপনার অগোচরে আপনার সাথে তার কী আছে বিরোধ, অন্যেরে আঘাত করে আত্মঘাতী ক্রোধ; মুহূর্তেই বিগলিত করুণায় অপমানিতের পায় প্রাণমন দেয় ঢালি-- নাম কি হেঁয়ালী।