আবার শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে, মেঘ-আঁচলে নিলে ঘিরে। সূর্য হারায়, হারায় তারা, আঁধারে পথ হয় যে হারা, ঢেউ দিয়েছে নদীর নীরে। সকল আকাশ, সকল ধরা, বর্ষণেরি বাণী-ভরা। ঝরঝর ধারায় মাতি বাজে আমার আঁধার রাতি, বাজে আমার শিরে শিরে।
বাঙাল যখন আসে মোর গৃহদ্বারে, নূতন লেখার দাবি লয়ে বারে বারে; আমি তাঁরে হেঁকে বলি সরোষ গলায়-- শেষ দাঁড়ি টানিয়াছি কাব্যের কলায়। মনে মনে হাসে, তবুও সে ফিরে ফিরে আসে। তারপর এ কী? সকালে উঠিয়া দেখি নির্লজ্জ লাইনগুলো যত বাহির হইয়া আসে গুহা হতে নির্ঝরের মতো। পশ্চিমবঙ্গের কবি দেখিলাম মোর বাঙালের মতো নাই জেদের অপ্রতিহত জোর।
আমি ভালোবাসি আমার নদীর বালুচর, শরৎকালে যে নির্জনে চকাচকীর ঘর। যেথায় ফুটে কাশ তটের চারি পাশ, শীতের দিনে বিদেশী সব হাঁসের বসবাস। কচ্ছপেরা ধীরে রৌদ্র পোহায় তীরে, দু-একখানি জেলের ডিঙি সন্ধেবেলায় ভিড়ে। আমি ভালোবাসি আমার নদীর বালুচর, শরৎকালে যে নির্জনে চকাচকীর ঘর। তুমি ভালোবাস তোমার ওই ও পারের বন, যেথায় গাঁথা ঘনচ্ছায়া পাতার আচ্ছাদন। যেথায় বাঁকা গলি নদীতে যায় চলি, দুই ধারে তার বেণুবনের শাখায় গলাগলি। সকাল-সন্ধেবেলা ঘাটে বধূর মেলা, ছেলের দলে ঘাটের জলে ভাসে ভাসায় ভেলা। তুমি ভালোবাস তোমার ওই ও পারের বন, যেথায় গাঁথা ঘনচ্ছায়া পাতার আচ্ছাদন। তোমার আমার মাঝখানেতে একটি বহে নদী, দুই তটেরে একই গান সে শোনায় নিরবধি। আমি শুনি শুয়ে বিজন বালু-ভুঁয়ে, তুমি শোন কাঁখের কলস ঘাটের 'পরে থুয়ে। তুমি তাহার গানে বোঝ একটা মানে, আমার কূলে আরেক অর্থ ঠেকে আমার কানে। তোমার আমার মাঝখানেতে একটি বহে নদী, দুই তটেরে একই গান সে শোনায় নিরবধি।