দেহে আর মনে প্রাণে হয়ে একাকার একি অপরূপ লীলা এ অঙ্গে আমার! একি জ্যোতি, একি ব্যোম দীপ্ত দীপ-জ্বালা দিন আর রজনীর চিরনাট্যশালা! একি শ্যাম বসুন্ধরা, সমুদ্রে চঞ্চল, পর্বতে কঠিন, তরুপল্লবে কোমল, অরণ্যে আঁধার! একি বিচিত্র বিশাল অবিশ্রাম রচিতেছে সৃজনের জাল আমার ইন্দ্রিয়যন্ত্রে ইন্দ্রজালবৎ! প্রত্যেক প্রাণীর মাঝে প্রকাণ্ড জগৎ। তোমারি মিলনশয্যা, হে মোর রাজন্, ক্ষুদ্র এ আমার মাঝে অনন্ত আসন অসীম বিচিত্রকান্ত। ওগো বিশ্বভূপ, দেহে মনে প্রাণে আমি একি অপরূপ!
এ কথা সে কথা মনে আসে, বর্ষাশেষে শরতের মেঘ যেন ফিরিছে বাতাসে। কাজের বাঁধনহারা শূন্যে করে মিছে আনাগোনা; কখনো রুপালি আঁকে, কখনো ফুটায়ে তোলে সোনা। অদ্ভুত মূর্তি সে রচে দিগন্তের কোণে, রেখার বদল করে পুনঃ পুনঃ যেন অন্যমনে। বাষ্পের সে শিল্পকাজ যেন আনন্দের অবহেলা-- কোনোখানে দায় নেই, তাই তার অর্থহীন খেলা। জাগার দায়িত্ব আছে, কাজ নিয়ে তাই ওঠাপড়া। ঘুমের তো দায় নেই, এলোমেলো স্বপ্ন তাই গড়া। মনের স্বপ্নের ধাত চাপা থাকে কাজের শাসনে, বসিতে পায় না ছুটি স্বরাজ-আসনে। যেমনি সে পায় ছাড়া খেয়ালে খেয়ালে করে ভিড়, স্বপ্ন দিয়ে রচে যেন উড়ুক্ষু পাখির কোন্ নীড়। আপনার মাঝে তাই পেতেছি প্রমাণ-- স্বপ্নের এ পাগলামি বিশ্বের আদিম উপাদান। তাহারে দমনে রাখে, ধ্রুব করে সৃষ্টির প্রণালী কর্তৃত্ব প্রচণ্ড বলশালী। শিল্পের নৈপুণ্য এই উদ্দামেরে শৃঙ্খলিত করা, অধরাকে ধরা।