মিথ্যে তুমি গাঁথলে মালা নবীন ফুলে, ভেবেছ কি কণ্ঠে আমার দেবে তুলে? দাও তো ভালোই, কিন্তু জেনো হে নির্মলে, আমার মালা দিয়েছি ভাই সবার গলে। যে-ক'টা ফুল ছিল জমা অর্ঘ্যে মম উদ্দেশেতে সবায় দিনু-- নমো নমঃ। কেউ বা তাঁরা আছেন কোথা কেউ জানে না, কারো বা মুখ ঘোমটা-আড়ে আধেক চেনা। কেউ বা ছিলেন অতীত কালে অবন্তীতে, এখন তাঁরা আছেন শুধু কবির গীতে। সবার তনু সাজিয়ে মাল্যে পরিচ্ছদে কহেন বিধি "তুভ্যমহং সম্প্রদদে'। হৃদয় নিয়ে আজ কি প্রিয়ে হৃদয় দেবে? হায় ললনা, সে প্রার্থনা ব্যর্থ এবে। কোথায় গেছে সেদিন আজি যেদিন মম তরুণ-কালে জীবন ছিল মুকুলসম, সকল শোভা সকল মধু গন্ধ যত বক্ষোমাঝে বন্ধ ছিল বন্দীমত। আজ যে তাহা ছড়িয়ে গেছে অনেক দূরে-- অনেক দেশে, অনেক বেশে, অনেক সুরে। কুড়িয়ে তারে বাঁধতে পারে একটিখানে এমনতরো মোহন-মন্ত্র কেই বা জানে! নিজের মন তো দেবার আশা চুকেই গেছে, পরের মনটি পাবার আশায় রইনু বেঁচে।
কত-না তুষারপুঞ্জ আছে সুপ্ত হয়ে অগ্রভেদী হিমাদ্রির সুদূর আলয়ে পাষাণপ্রাচীর-মাঝে। হে সিন্ধু মহান, তুমি তো তাদের কারে কর না আহ্বান আপন অতল হতে। আপনার মাঝে আছে তারা অবরুদ্ধ, কানে নাহি বাজে বিশ্বের সংগীত। প্রভাতের রৌদ্রকরে যে তুষার বয়ে যায়, নদী হয়ে ঝরে, বন্ধ টুটি ছুটি চলে,হে সিন্ধু মহান, সেও তো শোনে নি কভু তোমার আহ্বান। সে সুদূর গঙ্গোত্রীর শিখরচূড়ায় তোমার গম্ভীর গান কে শুনিতে পায়! আপন স্রোতের বেগে কী গভীর টানে তোমারে সে খুঁজে পায় সেই তাহা জানে।