এ হতভাগারে ভালো কে বাসিতে চায়? সুখ-আশা থাকে যদি বেসো না আমায়! এ জীবন, অভাগার -- নয়ন সলিলধার বলো সখি কে সহিতে পারিবে তা হায়! এ ভগ্নপ্রাণের অতি বিষাদের গান বলো সখি কে শুনিতে পারে সারা প্রাণ গেছি ভুলে ভালোবাসা -- ছাড়িয়াছি সুখ-আশা ভালোবেসে কাজ নাই স্বজনি আমায়!
দীর্ঘ দুঃখরাত্রি যদি এক অতীতের প্রান্ততটে খেয়া তার শেষ করে থাকে, তবে নব বিস্ময়ের মাঝে বিশ্বজগতের শিশুলোকে জেগে ওঠে যেন সেই নূতন প্রভাতে জীবনের নূতন জিজ্ঞাসা। পুরাতন প্রশ্নগুলি উত্তর না পেয়ে অবাক্ বুদ্ধিরে যারা সদা ব্যঙ্গ করে, বালকের চিন্তাহীন লীলাচ্ছলে সহজ উত্তর তার পাই যেন মনে সহজ বিশ্বাসে-- যে বিশ্বাস আপনার মাঝে তৃপ্ত থাকে, করে না বিরোধ, আনন্দের স্পর্শ দিয়ে সত্যের প্রত্যয় দেয় এনে।
সে ছিল আরেক দিন এই তরী-'পরে, কন্ঠ তার পূর্ণ ছিল সুধাগীতিস্বরে। ছিল তার আঁখি দুটি ঘনপক্ষ্ণচ্ছায়, সজল মেঘের মতো ভরা করুণায়। কোমল হৃদয়খানি উদ্বেলিত সুখে, উচ্ছ্বসি উঠিত হাসি সরল কৌতুকে। পাশে বসি ব'লে যেত কলকণ্ঠকথা, কত কী কাহিনী তার কত আকুলতা! প্রত্যুষে আনন্দভরে হাসিয়া হাসিয়া প্রভাত-পাখির মতো জাগাত আসিয়া। স্নেহের দৌরাত্ম্য তার নির্ঝরের প্রায় আমারে ফেলিত ঘেরি বিচিত্র লীলায়। আজি সে অনন্ত বিশ্বে আছে কোন্খানে তাই ভাবিতেছি বসি সজলনয়ানে।