বন্দী হয়ে আছ তুমি সুমধুর স্নেহে অয়ি গৃহলক্ষ্মী, এই করুণক্রন্দন এই দুঃখদৈন্যে-ভরা মানবের গেহে। তাই দুটি বাহু'পরে সুন্দরবন্ধন সোনার কঙ্কণ দুটি বহিতেছে দেহে শুভচিহ্ন, নিখিলের নয়ননন্দন। পুরুষের দুই বাহু কিণাঙ্ক-কঠিন সংসারসংগ্রামে, সদা বন্ধনবিহীন; যুন্ধ-দ্বন্দ্ব যত কিছু নিদারুণ কাজে বহ্নিবাণ বজ্রসম সর্বত্র স্বাধীন। তুমি বদ্ধ স্নেহ-প্রেম-করুণার মাঝে-- শুধু শুভকর্ম, শুধু সেবা নিশিদিন। তোমার বাহুতে তাই কে দিয়াছে টানি, দুইটি সোনার গণ্ডি, কাঁকন দুখানি।
পাছে দেখি তুমি আস নি, তাই আধেক আঁখি মুদিয়ে চাই, ভয়ে চাই নে ফিরে। আমি দেখি যেন আপন-মনে পথের শেষে দূরের বনে আসছ তুমি ধীরে। যেন চিনতে পারি সেই অশান্ত তোমার উত্তরীয়ের প্রান্ত ওড়ে হাওয়ার 'পরে। আমি একলা বসে মনে গণি শুনছি তোমার পদধ্বনি মর্মরে মর্মরে। ভোরে নয়ন মেলে অরুণরাগে যখন আমার প্রাণে জাগে অকারণের হাসি, যখন নবীন তৃণে লতায় গাছে কোন্ জোয়ারের স্রোতে নাচে সবুজ সুধারাশি-- যখন নব মেঘের সজল ছায়া যেন রে কার মিলন-মায়া ঘনায় বিশ্ব জুড়ে, যখন পুলকে নীল শৈল ঘেরি বেজে ওঠে কাহার ভেরী, ধ্বজা কাহার উড়ে-- তখন মিথ্যা সত্য কেই-বা জানে, সন্দেহ আর কেই-বা মানে, ভুল যদি হয় হোক! ওগো, জানি না কি আমার হিয়া কে ভুলালো পরশ দিয়া, কে জুড়ালো চোখ। সে কি তখন আমি ছিলেম একা, কেউ কি মোরে দেয় নি দেখা। কেউ আসে নাই পিছে? তখন আড়াল হতে সহাস আঁখি আমার মুখে চায় নি নাকি। এ কি এমন মিছে।