গতি আমার এসে ঠেকে যেথায় শেষে অশেষ সেথা খোলে আপন দ্বার। যেথা আমার গান হয় গো অবসান সেথা গানের নীরব পারাবার। যেথা আমার আঁখি আঁধারে যায় ঢাকি অলখ-লোকের আলোক সেথা জ্বলে। বাইরে কুসুম ফুটে ধুলায় পড়ে টুটে, অন্তরে তো অমৃত-ফল ফলে। কর্ম বৃহৎ হয়ে চলে যখন বয়ে তখন সে পায় বৃহৎ অবকাশ। যখন আমার আমি ফুরায়ে যায় থামি তখন আমার তোমাতে প্রকাশ।
আমার আর হবে না দেরি-- আমি শুনেছি ওই বাজে তোমার ভেরী। তুমি কি নাথ, দাঁড়িয়ে আছ আমার যাবার পথে। মনে হয় যে ক্ষণে ক্ষণে মোর বাতায়ন হতে তোমায় যেন হেরি-- আমার আর হবে না দেরি। আমার কাজ হয়েছে সারা, এখন প্রাণে বাঁশি বাজায় সন্ধ্যাতারা। দেবার মতো যা ছিল মোর নাই কিছু আর হাতে, তোমার আশীর্বাদের মালা নেব কেবল মাথে আমার ললাট ঘেরি-- এখন আর হবে না দেরি।