ভেবেছি কাহারো সাথে মিশিব না আর কারো কাছে বর্ষিব না অশ্রুবারিধার। মানুষ পরের দুখে, করে শুধু উপহাস জেনেছি, দেখেছি তাহা শত শত বার যাহাদের মুখ আহা একটু মলিন হলে যন্ত্রণায় ফেটে যায় হৃদয় আমার তারাই -- তারাই যদি এত গো নিষ্ঠুর হল তবে আমি হতভাগ্য কী করিব আর! সত্য তুমি হও সাক্ষী, ধর্ম তুমি জেনো ইহা ঈশ্বর! তুমিই শুন প্রতিজ্ঞা আমার। যার তরে কেঁদে মরি, সেই যদি উপহাসে তবে মানুষের সাথে মিশিব না আর।
নদীর পালিত এই জীবন আমার। নানা গিরিশিখরের দান নাড়ীতে নাড়ীতে তার বহে, নানা পলিমাটি দিয়ে ক্ষেত্র তার হয়েছে রচিত, প্রাণের রহস্যরস নানা দিক হতে শস্যে শস্যে লভিল সঞ্চার। পূর্বপশ্চিমের নানা গীতস্রোতজালে ঘেরা তার স্বপ্ন জাগরণ। যে নদী বিশ্বের দূতী দূরকে নিকটে আনে, অজানার অভ্যর্থনা নিয়ে আসে ঘরের দুয়ারে। সে আমার রচেছিল জন্মদিন-- চিরদিন তার স্রোতে বাঁধন-বাহিরে মোর চলমান বাসা ভেসে চলে তীর হতে তীরে। আমি ব্রাত্য, আমি পথচারী, অবারিত আতিথ্যের অন্নে পূর্ণ হয়ে ওঠে বারে বারে নির্বিচারে মোর জন্মদিবসের থালি।