তরুণ প্রাতের অরুণ আকাশ শিশির-ছলোছলো, নদীর ধারের ঝাউগুলি ওই রৌদ্রে ঝলোমলো। এমনি নিবিড় ক'রে এরা দাঁড়ায় হৃদয় ভ'রে-- তাই তো আমি জানি বিপুল বিশ্বভুবনখানি অকুল-মানস-সাগর-জলে কমল টলোমলো। তাই তো আমি জানি-- আমি বাণীর সাথে বাণী, আমি গানের সাথে গান, আমি প্রাণের সাথে প্রাণ, আমি অন্ধকারের হৃদয়-ফাটা আলোক জ্বলোজ্বলো॥
মোদের যেমন খেলা তেমনি যে কাজ জানিস নে কি ভাই। তাই কাজকে কভু আমরা না ডরাই॥ খেলা মোদের লড়াই করা, খেলা মোদের বাঁচা মরা, খেলা ছাড়া কিছুই কোথাও নাই॥ খেলতে খেলতে ফুটেছে ফুল, খেলতে খেলতে ফল যে ফলে, খেলারই ঢেউ জলে স্থলে। ভয়ের ভীষণ রক্তরাগে খেলার আগুন যখন লাগে ভাঙাচোরা জ্ব'লে যে হয় ছাই॥
সেই তো আমি চাই-- সাধনা যে শেষ হবে মোর সে ভাবনা তো নাই ॥ ফলের তরে নয় তো খোঁজা, কে বইবে সে বিষম বোঝা-- যেই ফলে ফল ধুলায় ফেলে আবার ফুল ফুটাই ॥ এমনি ক'রে মোর জীবনে অসীম ব্যাকুলতা, নিত্য নূতন সাধনাতে নিত্যনূতন ব্যথা! পেলেই সে তো ফুরিয়ে ফেলি, আবার আমি দু হাত মেলি-- নিত্য দেওয়া ফুরায় না যে, নিত্য নেওয়া তাই ॥