শোনো তাঁর সুধাবাণী শুভমুহূর্তে শান্তপ্রাণে-- ছাড়ো ছাড়ো কোলাহল, ছাড়ো রে আপন কথা ॥ আকাশে দিবানিশি উথলে সঙ্গীতধ্বনি তাঁহার, কে শুনে সে মধুবীণারব-- অধীর বিশ্ব শূন্যপথে হল বাহির ॥
ও জোনাকী, কী সুখে ওই ডানা দুটি মেলেছ। আঁধার সাঁঝে বনের মাঝে উল্লাসে প্রাণ ঢেলেছ॥ তুমি নও তো সূর্য, নও তো চন্দ্র, তোমার তাই ব'লে কি কম আনন্দ। তুমি আপন জীবন পূর্ণ ক'রে আপন আলো জ্বেলেছ॥ তোমার যা আছে তা তোমার আছে, তুমি নও গো ঋণী কারো কাছে, তোমার অন্তরে যে শক্তি আছে তারি আদেশ পেলেছ। তুমি আঁধার-বাঁধন ছাড়িয়ে ওঠ, তুমি ছোটো হয়ে নও গো ছোটো, জগতে যেথায় যত আলো সবায় আপন ক'রে ফেলেছ॥
আমায় থাকতে দে-না আপন-মনে। সেই চরণের পরশখানি মনে পড়ে ক্ষণে ক্ষণে॥ কথার পাকে কাজের ঘোরে ভুলিয়ে রাখে কে আর মোরে, তার স্মরণের বরণমালা গাঁথি বসে গোপন কোণে॥ এই-যে ব্যথার রতনখানি আমার বুকে দিল আনি এই নিয়ে আজ দিনের শেষে একা চলি তার উদ্দেশে। নয়নজলে সামনে দাঁড়াই, তারে সাজাই তারি ধনে॥