আমায় থাকতে দে-না আপন-মনে। সেই চরণের পরশখানি মনে পড়ে ক্ষণে ক্ষণে॥ কথার পাকে কাজের ঘোরে ভুলিয়ে রাখে কে আর মোরে, তার স্মরণের বরণমালা গাঁথি বসে গোপন কোণে॥ এই-যে ব্যথার রতনখানি আমার বুকে দিল আনি এই নিয়ে আজ দিনের শেষে একা চলি তার উদ্দেশে। নয়নজলে সামনে দাঁড়াই, তারে সাজাই তারি ধনে॥
পূর্বাচলের পানে তাকাই অস্তাচলের ধারে আসি। ডাক দিয়ে যার সাড়া না পাই তার লাগি আজ বাজাই বাঁশি॥ যখন এ কূল যাব ছাড়ি পারের খেয়ায় দেব পাড়ি, মোর ফাগুনের গানের বোঝা বাঁশির সাথে যাবে ভাসি॥ সেই-যে আমার বনের গলি রঙিন ফুলে ছিল আঁকা সেই ফুলেরই ছিন্ন দলে চিহ্ন যে তার পড়ল ঢাকা। মাঝে মাঝে কোন্ বাতাসে চেনা দিনের গন্ধ আসে, হঠাৎ বুকে চমক লাগায় আধ-ভোলা সেই কান্নাহাসি॥