যা দিয়েছ আমার এ প্রাণ ভরি খেদ রবে না এখন যদি মরি। রজনীদিন কত দুঃখে সুখে কত যে সুর বেজেছে এই বুকে, কত বেশে আমার ঘরে ঢুকে কত রূপে নিয়েছ মন হরি, খেদ রবে না এখন যদি মরি। জানি তোমায় নিই নি প্রাণে বরি, পাই নি আমার সকল পূর্ণ কবে। যা পেয়েছি ভাগ্য বলে মানি, দিয়েছ তো তব পরশখানি, আছ তুমি এই জানা তো জানি-- যাব ধরি সেই ভরসার তরী। খেদ রবে না এখন যদি মরি।
ওই যে সৌন্দর্য লাগি পাগল ভুবন, ফুটন্ত অধরপ্রান্তে হাসির বিলাস, গভীরতিমিরমগ্ন আঁখির কিরণ, লাবণ্যতরঙ্গভঙ্গ গতির উচ্ছ্বাস, যৌবনললিতলতা বাহুর বন্ধন, এরা তো তোমারে ঘিরে আছে অনুক্ষণ-- তুমি কি পেয়েছ নিজ সৌন্দর্য-আভাস? মধুরাতে ফুলপাতে করিয়া শয়ন বুঝিতে পার কি নিজ মধু-আলিঙ্গন? আপনার প্রস্ফুটিত তনুর উল্লাস আপনারে করেছে কি মোহ-নিমগন? তবে মোরা কী লাগিয়া করি হা-হুতাশ। দেখো শুধু ছায়াখানি মেলিয়া নয়ন; রূপ নাহি ধরা দেয়-- বৃথা সে প্রয়াস।
রৌদ্রতাপ ঝাঁঝাঁ করে জনহীন বেলা দুপহরে। শূন্য চৌকির পানে চাহি, সেথায় সান্ত্বনালেশ নাহি। বুক ভরা তার হতাশের ভাষা যেন করে হাহাকার। শূন্যতার বাণী ওঠে করুণায় ভরা, মর্ম তার নাহি যায় ধরা। কুকুর মনিবহারা যেমন করুণ চোখে চায় অবুঝ মনের ব্যথা করে হায় হায়; কী হল যে, কেন হল, কিছু নাহি বোঝে-- দিনরাত ব্যর্থ চোখে চারি দিকে খোঁজে। চৌকির ভাষা যেন আরো বেশি করুণ কাতর, শূন্যতার মূক ব্যথা ব্যাপ্ত করে প্রিয়হীন ঘর।