কেন মনে হয়-- তোমার এ গানখানি এখনি যে শোনালে তা নয়। বিশেষ লগ্নের কোনো চিহ্ন পড়ে নাই এর সুরে; শুধু এই মনে পড়ে, এই গানে দিগন্তের দূরে আলোর কাঁপনখানি লেগেছিল সন্ধ্যাতারকার সুগভীর স্তব্ধতায়,সে-স্পন্দন শিরায় আমার রাগিণীর চমকেতে রহি রহি বিচ্ছুরিছে আলো আজি দেয়ালির দিনে। আজো এই অন্ধকারে জ্বালো সেই সায়াহ্নের স্মৃতি, যে নিভৃতে নক্ষত্রসভায় নীহারিকা ভাষা তার প্রসারিল নিঃশব্দ প্রভায়-- যে-ক্ষণে তোমার স্বর জ্যোতির্লোকে দিতেছিল আনি অনন্তের-পথ-চাওয়া ধরিত্রীর সকরুণ বাণী। সেই স্মৃতি পার হয়ে মনে মোর এই প্রশ্ন লাগে, কালের-অতীত প্রান্তে তোমারে কি চিনিতাম আগে। দেখা হয়েছিল না কি কোনো-এক সংগীতের পথে অরূপের মন্দিরেতে অপরূপ ছন্দের জগতে।
একদা এ ভারতের কোন্ বনতলে কে তুমি মহান্ প্রাণ, কী আনন্দবলে উচ্চারি উঠিলে উচ্চে-- "শোনো বিশ্বজন, শোনো অমৃতের পুত্র যত দেবগণ দিব্যধামবাসী, আমি জেনেছি তাঁহারে, মহান্ত পুরুষ যিনি আঁধারের পারে জ্যোতির্ময়। তাঁরে জেনে, তাঁর পানে চাহি মৃত্যুরে লঙ্ঘিতে পারো, অন্য পথ নাহি।' আরবার এ ভারতে কে দিবে গো আনি সে মহা আনন্দমন্ত্র, সে উদাত্তবাণী সঞ্জীবনী, স্বর্গে মর্তে সেই মৃত্যুঞ্জয় পরম ঘোষণা, সেই একান্ত নির্ভয় অনন্ত অমৃতবার্তা। রে মৃত ভারত, শুধু সেই এক আছে, নাহি অন্য পথ।