মেঘের মধ্যে মা গো, যারা থাকে তারা আমায় ডাকে, আমায় ডাকে। বলে, "আমরা কেবল করি খেলা, সকাল থেকে দুপুর সন্ধেবেলা। সোনার খেলা খেলি আমরা ভোরে, রুপোর খেলা খেলি চাঁদকে-ধরে।' আমি বলি, "যাব কেমন করে।' তারা বলে, "এসো মাঠের শেষে। সেইখানেতে দাঁড়াবে হাত তুলে, আমরা তোমায় নেব মেঘের দেশে।' আমি বলি, "মা যে আমার ঘরে বসে আছে চেয়ে আমার তরে, তারে ছেড়ে থাকব কেমন করে।' শুনে তারা হেসে যায় মা, ভেসে। তার চেয়ে মা আমি হব মেঘ; তুমি যেন হবে আমার চাঁদ-- দু হাত দিয়ে ফেলব তোমায় ঢেকে, আকাশ হবে এই আমাদের ছাদ। ঢেউয়ের মধ্যে মা গো যারা থাকে, তারা আমায় ডাকে, আমায় ডাকে। বলে, "আমরা কেবল করি গান সকাল থেকে সকল দিনমান।' তারা বলে, "কোন্ দেশে যে ভাই, আমরা চলি ঠিকানা তার নাই।' আমি বলি, "কেমন করে যাই।' তারা বলে, "এসো ঘাটের শেষে। সেইখানেতে দাঁড়াবে চোখ বুজে, আমরা তোমায় নেব ঢেউয়ের দেশে।' আমি বলি, "মা যে চেয়ে থাকে, সন্ধে হলে নাম ধরে মোর ডাকে, কেমন ক'রে ছেড়ে থাকব তাকে।' শুনে তারা হেসে যায় মা, ভেসে। তার চেয়ে মা, আমি হব ঢেউ, তুমি হবে অনেক দূরের দেশ। লুটিয়ে আমি পড়ব তোমার কোলে, কেউ আমাদের পাবে না উদ্দেশ।
প্রেম এসেছিল, চলে গেল সে যে খুলি দ্বার-- আর কভু আসিবে না। বাকি আছে শুধু আরেক অতিথি আসিবার, তারি সাথে শেষ চেনা। সে আসি প্রদীপ নিবাইয়া দিবে এক দিন, তুলি লবে মোরে রথে-- নিয়ে যাবে মোরে গৃহ হতে কোন্ গৃহহীন গ্রহতারকার পথে। ততকাল আমি একা বসি রব খুলি দ্বার, কাজ করি লব শেষ। দিন হবে যবে আরেক অতিথি আসিবার পাবে না সে বাধালেশ। পূজা-আয়োজন সব সারা হবে একদিন, প্রস্তুত হয়ে রব-- নীরবে বাড়ায়ে বাহু-দুটি সেই গৃহহীন অতিথিরে বরি লব। যে জন আজিকে ছেড়ে চলে গেল খুলি দ্বার সেই বলে গেল ডাকি, "মোছো আঁখিজল, আরেক অতিথি আসিবার এখনো রয়েছে বাকি।' সেই বলে গেল, "গাঁথা সেরে নিয়ো একদিন জীবনের কাঁটা বাছি, নবগৃহ-মাঝে বহি এনো, তুমি গৃহহীন, পূর্ণ মালিকাগাছি।'