শত শত লোক চলে শত শত পথে। তারি মাঝে কোথা কোন্ রথে সে আসিছে যার আজি নব অভ্যুদয়। দিক্লক্ষ্মী গাহিল না জয়; আজও রাজটিকা ললাটে হল না তার লিখা। নাই অস্ত্র, নাই সৈন্যদল, অস্ফুট তাহার বাণী, কণ্ঠে নাহি বল। সে কি নিজে জানে আসিছে সে কী লাগিয়া, আসে কোন্খানে! যুগের প্রচ্ছন্ন আশা করিছে রচনা তার অভ্যর্থনা কোন্ ভবিষ্যতে-- কোন্ অলক্ষিত পথে আসিতেছে অর্ঘ্যভার! আকাশে ধ্বনিছে বারম্বার-- "মুখ তোলো, আবরণ খোলো হে বিজয়ী, হে নির্ভীক, হে মহাপথিক-- তোমার চরণক্ষেপ পথে পথে দিকে দিকে মুক্তির সংকেতচিহ্ন যাক লিখে লিখে।'
তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে। মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায় একেবারে উড়ে যায়; কোথা পাবে পাখা সে? তাই তো সে ঠিক তার মাথাতে গোল গোল পাতাতে ইচ্ছাটি মেলে' তার,-- মনে মনে ভাবে, বুঝি ডানা এই, উড়ে যেতে মানা নেই বাসাখানি ফেলে তার। সারাদিন ঝরঝর থত্থর কাঁপে পাতা-পত্তর, ওড়ে যেন ভাবে ও, মনে মনে আকাশেতে বেড়িয়ে তারাদের এড়িয়ে যেন কোথা যাবে ও। তার পরে হাওয়া যেই নেমে যায়, পাতা-কাঁপা থেমে যায়, ফেরে তার মনটি যেই ভাবে, মা যে হয় মাটি তার ভালো লাগে আরবার পৃথিবীর কোণটি।