যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে সহস্র শৈবালদাম বাঁধে আসি তারে; যে জাতি জীবনহারা অচল অসাড় পদে পদে বাঁধে তারে জীর্ণ লোকাচার। সর্বজন সর্বক্ষণ চলে যেই পথে তৃণগুল্ম সেথা নাহি জন্মে কোনোমতে; যে জাতি চলে না কভু তারি পথ-'পরে তন্ত্র-মন্ত্র-সংহিতায় চরণ না সরে।
ওরা যায়, এরা করে বাস; অন্ধকার উত্তর বাতাস বহিয়া কত-না হা-হুতাশ ধূলি আর মানুষের প্রাণ উড়াইয়া করিছে প্রয়াণ। আঁধারেতে রয়েছি বসিয়া; একই বায়ু যেতেছে শ্বসিয়া মানুষের মাথার উপরে, অরণ্যের পল্লবের স্তরে। যে থাকে সে গেলদের কয়, "অভাগা, কোথায় পেলি লয়। আর না শুনিবি তুই কথা, আর হেরিবি তরুলতা, চলেছিস মাটিতে মিশিতে, ঘুমাইতে আঁধার নিশীথে।' যে যায় সে এই বলে যায়, "তোদের কিছুই নাই হায়, অশ্রুজল সাক্ষী আছে তায়। সুখ যশ হেথা কোথা আছে সত্য যা তা মৃতদেরি কাছে। জীব, তোরা ছায়া, তোরা মৃত, আমরাই জীবন্ত প্রকৃত।'