যে তোমারে দূরে রাখি নিত্য ঘৃণা করে, হে মোর স্বদেশ, মোরা তারি কাছে ফিরি সম্মানের তরে পরি তারি বেশ। বিদেশী জানে না তোরে অনাদরে তাই করে অপমান, মোরা তারি পিছে থাকি যোগ দিতে চাই আপন সন্তান। তোমার যা দৈন্য, মাতঃ, তাই ভূষা মোর কেন তাহা ভুলি? পরধনে ধিক্ গর্ব, করি করজোড় ভরি ভিক্ষাঝুলি! পুণ্যহস্তে শাক-অন্ন তুলে দাও পাতে তাই যেন রুচে, মোটা বস্ত্র বুনে দাও যদি নিজহাতে তাহে লজ্জা ঘুচে। সেই সিংহাসন--যদি অঞ্চলটি পাত, কর স্নেহ দান। যে তোমারে তুচ্ছ করে সে আমারে, মাতঃ, কী দিবে সম্মান!
হেলাফেলা সারাবেলা এ কী খেলা আপন-সনে! এই বাতাসে ফুলের বাসে মুখখানি কার পড়ে মনে! আঁখির কাছে বেড়ায় ভাসি কে জানে গো কাহার হাসি! দুটি ফোঁটা নয়নসলিল রেখে যায় এই নয়ন কোণে। কোন্ ছায়াতে কোন্ উদাসী দূরে বাজায় অলস বাঁশি, মনে হয় কার মনের বেদন কেঁদে বেড়ায় বাঁশির গানে। সারা দিন গাঁথি গান কারে চাহে, গাহে প্রাণ, তরুতলের ছায়ার মতন বসে আছি ফুলবনে।