প্রভু, আজি তোমার দক্ষিণ হাত রেখো না ঢাকি। এসেছি তোমারে, হে নাথ, পরাতে রাখী। যদি বাঁধি তোমার হাতে পড়ব বাঁধা সবার সাথে, যেখানে যে আছে কেহই রবে না বাকি। আজি যেন ভেদ নাহি রয় আপনা পরে, তোমায় যেন এক দেখি হে বাহিরে ঘরে। তোমার সাথে যে বিচ্ছেদে ঘুরে বেড়াই কেঁদে কেঁদে, ক্ষণেক-তরে ঘুচাতে তাই তোমারে ডাকি।
আমি বেসেছিলেম ভালো সকল দেহে মনে এই ধরণীর ছায়া আলো আমার এ জীবনে। সেই-যে আমার ভালোবাসা লয়ে আকুল অকূল আশা ছড়িয়ে দিল আপন ভাষা আকাশনীলিমাতে। রইল গভীর সুখে দুখে, রইল সে-যে কুঁড়ির বুকে ফুল-ফোটানোর মুখে মুখে ফাগুনচৈত্ররাতে। রইল তারি রাখী বাঁধা ভাবী কালের হাতে।
জীবনের সিংহদ্বারে পশিনু যে ক্ষণে এ আশ্চর্য সংসারের মহানিকেতনে, সে ক্ষণ অজ্ঞাত মোর। কোন্ শক্তি মোরে ফুটাইল এ বিপুল রহস্যের ক্রোড়ে অর্ধরাত্রে মহারণ্যে মুকুলের মতো? তবু তো প্রভাতে শির করিয়া উন্নত যখনি নয়ন মেলি নিরখিনু ধরা কনককিরণ-গাঁথা নীলাম্বর-পরা। নিরখিনু সুখে-দুঃখে-খচিত সংসার, তখনি অজ্ঞাত এই রহস্য অপার নিমেষেই মনে হল মাতৃবক্ষসম নিতান্তই পরিচিত, একান্তই মম। রূপহীন জ্ঞানাতীত ভীষণ শকতি ধরেছে আমার কাছে জননী-মুরতি।