যেমন ঝড়ের পরে আকাশের বক্ষতল করে অবারিত উদয়াচলের জ্যোতিঃপথ গভীর নিস্তব্ধ নীলিমায়, তেমনি জীবন মোর মুক্ত হোক অতীতের বাষ্পজাল হতে, সদ্যনব জাগরণ দিক শঙ্খধ্বনি এ জন্মের নবজন্মদ্বারে। প্রতীক্ষা করিয়া আছি-- আলো হতে মুছে যাক রঙের প্রলেপ, ঘুচে যাক ব্যর্থ খেলা আপনারে খেলেনা করিয়া, নিরাসক্ত ভালোবাসা আপন দাক্ষিণ্য হতে শেষ মূল্য পায় যেন তার। আয়ুস্রোতে ভাসি যবে আঁধারে আলোতে, তীরে তীরে অতীত কীর্তির পানে ফিরে ফিরে না যেন তাকাই; সুখে দুঃখে নিরন্তর লিপ্ত হয়ে আছে যে আপনা আপন-বাহিরে তারে স্থাপন করিতে যেন পারি, সংসারের শতলক্ষ ভাসমান ঘটনার সমান শ্রেণীতে, নিঃশঙ্ক নিস্পৃহ চোখে দেখি যেন তারে অনাত্মীয় নির্বাসনে। এই শেষ কথা মোর, সম্পূর্ণ করুক মোর পরিচয় অসীম শুভ্রতা।
তোমার ঘরের সিঁড়ি বেয়ে যতই আমি নাবছি। আমায় মনে আছে কি না ভয়ে ভয়ে ভাবছি। কথা পাড়তে গিয়ে দেখি, হাই তুললে দুটো; বললে উসুখুসু করে, "কোথায় গেল নুটো।" ডেকে তারে বলে দিলে, "ড্রাইভারকে বলিস, আজকে সন্ধ্যা নটার সময় যাব মেট্রোপলিস।" কুকুরছানার ল্যাজটা ধরে করলে নাড়াচাড়া; বললে আমায়, "ক্ষমা করো, যাবার আছে তাড়া।" তখন পষ্ট বোঝা গেল, নেই মনে আর নেই। আরেকটা দিন এসেছিল একটা শুভক্ষণেই-- মুখের পানে চাইতে তখন, চোখে রইত মিষ্টি; কুকুরছানার ল্যাজের দিকে পড়ত নাকো দৃষ্টি। সেই সেদিনের সহজ রঙটা কোথায় গেল ভাসি; লাগল নতুন দিনের ঠোঁটে রুজ-মাখানো হাসি। বটসুদ্ধ পা-দুখানা তুলে দিলে সোফায়; ঘাড় বেঁকিয়ে ঠেসেঠুসে ঘা লাগালে খোঁপায়। আজকে তুমি শুকনো ডাঙায় হালফ্যাশানের কূলে, ঘাটে নেমে চমকে উঠি এই কথাটাই ভুলে। এবার বিদায় নেওয়াই ভালো, সময় হল যাবার-- ভুলেছ যে ভুলব যখন আসব ফিরে আবার।